Pages

Thursday, February 28, 2013

কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই


কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই

কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই

বস্তির কুঁড়ে ঘরের বাসিন্দা মর্জিনা। তার একমাত্র মেয়ে জুলেখা। ৫ সন্তানের মধ্যে সে ছোট। বড়ই ইচ্ছে ছিল একটু ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দেবেন। এ জন্য অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা না করিয়ে কষ্টে উপার্জিত ৭৫ হাজার টাকা ঘরে জমিয়ে ছিলেন। মার্চ মাসে মেয়েকে স্বামীর ঘরে তুলে দেবেন। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ড মর্জিনা পরিবারের সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। মা ও মেয়ের আহাজারিতে বস্তির আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তাদের দৃষ্টিতে ভাসছে কেবল আগুনের ধ্বংসাত্মক চিহ্ন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তির অন্য পরিবারে বইছে কান্নার রোল। শ’ শ’ হতদরিদ্র অসহায় মানুষ তাদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কল্যাণপুর নতুন বাজার বস্তিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় শতাধিক কাঁচা ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার ১০টি ইউনিট সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় র‌্যাব, পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ বস্তিবাসীদের জানমাল উদ্ধার করে। লুটপাটের আশঙ্কায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। ৭ নম্বর বস্তির সব ঘর ভস্মীভূত এবং ১ নম্বর বস্তির কিছু ঘর পুড়ে গেছে। বস্তির ৪০টি দোকান ঘর ও গোডাউনসহ দেড় শতাধিক কাঁচাঘর ভস্মীভূত হয়েছে। বস্তিবাসী অনেকে অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে দেরি হয়েছে। তারা যখন এসে পৌঁছেছে তখন আগুন বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহাবুব বলেন, সংবাদ পেয়ে ছুটে আসতে কোন বিলম্ব হয়নি। রাস্তায় জ্যাম ছিল। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের সদস্যরা ৪৫ মিনিটে পুরো বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অন্যথায় আগুন পুরো বস্তির ঘরগুলো গ্রাস করতে পারতো। আগুনের সূত্রপাত প্রসঙ্গে বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি রান্না ঘরের লাকড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কল্যাণলপুর নতুন বাজার ৭ নম্বর বস্তির একটি ঘর থেকে হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া উঠতে থাকে। বাতাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুনের কুণ্ডলি বড় হয়ে বস্তিতে ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। কিছু সময়ের মধ্যে আগুন একের পরে এক বস্তির বিভিন্ন ঘর গ্রাস করে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ১ নম্বর বস্তির ঘরগুলোতে। এ সময় বস্তির বেশির ভাগ নারী-পুরুষ কাজে বাইরে ছিলেন। সংবাদ পেয়ে তারা ছুটে আসেন। আগুনের থেকে তাড়াহুড়া করে বেরুতে গিয়ে এবং মালামাল উদ্ধার করার সময় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আগুন লাগার সংবাদে বস্তির পাশের র‌্যাব-৪ ক্যাম্প সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। তারা বস্তিবাসীর সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করেন।

Wednesday, February 27, 2013

গুগল সায়েন্স ফেয়ার ২০১৩

গুগল সায়েন্স ফেয়ার ২০১৩


'গুগল' নামটির সাথে এই প্রযুক্তির বিশ্বে কাউকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। প্রযুক্তি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবদান রেখে বিশ্বকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে এই টেক জায়ান্ট। তবে কেবল নিজেরাই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে না, বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিতে যাদের আগ্রহ এবং প্রতিভা রয়েছে, তাদের প্রতিভা এবং মেধার স্বাক্ষরকে বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতেও কাজ করে যাচ্ছে তারা। কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে গুগল গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারেও আয়োজন করেছে 'গুগল সায়েন্স ফেয়ার ২০১৩'। ৩১ জানুয়ারি থেকে এই প্রতিযোগিতায় প্রকল্প জমা দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। চলবে এপ্রিলের শেষ দিন পর্যন্ত। গুগল সায়েন্স ফেয়ারের এই প্রতিযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাচ্ছেন তরিকুর রহমান সজীব

টেক জায়ান্ট গুগল তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী দিয়ে ক্রমশই বিশ্বকে সমৃদ্ধ করে যাচ্ছে। তবে কেবল নিজেদের উদ্ভাবনী নিয়েই বসে নেই গুগল। অন্যদের প্রতিভা আর মেধাও যাতে গোটা বিশ্বকে সমৃদ্ধ করতে পারে, তা নিয়েও তারা কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে গুগল কয়েক বছর ধরে আয়োজন করে যাচ্ছে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তি নিয়ে এক বিশেষ প্রতিযোগিতা। সারা বিশ্বের ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই প্রতিযোগিতা। চলতি বছরেও কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার নাম 'গুগল সায়েন্স ফেয়ার'। সার্বিকভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন দিককে ১১টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এসব ক্যাটাগরির যেকোনো একটিতে নতুন কোনো উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে একটি প্রকল্প জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এই প্রতিযোগিতায়। আর সেই সাথে প্রকল্পটি প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হলে থাকছে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সার্নে কাজ করার সুযোগ। তার সাথে শিক্ষাবৃত্তি এবং আরও নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা তো রয়েছেই। আমাদের দেশের কিশোর-কিশোরীদের জন্যও উন্মুক্ত রয়েছে এই প্রতিযোগিতা। তাদের জন্যই এই লেখায় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

প্রতিযোগিতার সাধারণ তথ্য

কিশোর-কিশোরীদের জন্যই এই সায়েন্স ফেয়ারের আয়োজন করেছে গুগল। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আগ্রহীদের বয়সসীমা ১৩ বছর থেকে ১৮ বছর। অর্থাত্, যাদের জন্ম ১৯৯৪ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে, কেবল তারাই অংশ নিতে পারবে এই প্রতিযোগিতায়। ব্যক্তিগত এবং দলগতভাবে অংশ নেওয়া যাবে এই প্রতিযোগিতায়। আমেরিকা, এশিয়া প্যাসিফিক এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য—এ তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতার প্রথম পর্যায়ে প্রতি অঞ্চল থেকে তিনটি বয়সভিত্তিক দলে ১০টি করে মোট ৯০টি দলকে নির্বাচিত করা হবে আঞ্চলিক ফাইনালিস্ট হিসেবে। এরপর ওই ৯০টি প্রকল্প থেকে নির্বাচিত করা হবে ১৫টি ফাইনালিস্ট দল। এই ১৫টি ফাইনালিস্ট দলের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচনের প্রতিযোগিতা। বয়সের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের বিভক্ত করা হয়েছে তিনটি গ্রুপে। ১৩ থেকে ১৪, ১৫ থেকে ১৬ এবং ১৭ থেকে ১৮ বছরের তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিযোগীরা অংশ নেবে এখানে। যেকেউ ব্যক্তিগতভাবে একাই অংশ নিতে পারবে এতে। আবার দলগতভাবেও অংশ নিতে পারবে। দলের সদস্য সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ তিনজন। আর সেক্ষেত্রে দলের সদস্যদের মধ্যে যার বয়স বেশি হবে, তার বয়স অনুযায়ীই নির্ধারিত হবে বয়সের গ্রুপ। অঞ্চল এবং বয়সের গ্রুপ মিলিয়ে যে ১৫টি প্রকল্পকে চূড়ান্ত হিসেবে নির্বাচন করা হবে, সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে গুগল'র সদর দপ্তরে সে প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে সরাসরি বিচারকদের সামনে। সেখান থেকেই বাছাই করা হবে তিনটি সেরা প্রকল্প।

প্রকল্প জমা দেওয়ার জন্য করণীয়

প্রাথমিকভাবে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাইলে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে বাসায় বসেই অংশ নেওয়া যাবে এই প্রতিযোগিতায়। যে প্রকল্প বা উদ্ভাবন বা ধারণা নিয়ে প্রতিযোগী অংশ নিতে চায়, তার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র তৈরি করতে হবে। আর সেটি আপলোড করে দিতে হবে গুগল সায়েন্স ফেয়ারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে। http://google.com/sciencefair ওয়েব লিংকে গেলেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভিডিওটি আপলোড করা যাবে। ভিডিও'র দৈর্ঘ্য অবশ্য হতে হবে সর্বোচ্চ ২ মিনিট। যাদের ভিডিও ২ মিনিটের চাইতে বেশি হবে, তাদের ভিডিওর প্রথম ২ মিনিটই কেবল প্রতিযোগিতার জন্য বিবেচনা করা হবে। বাকী অংশ বিবেচনা করা হবে না। ভিডিও চিত্রের বদলে অবশ্য প্রজেক্ট সামারি স্লাইডশো জমা দিলেও চলবে। সে ক্ষেত্রে স্লাইডশোতে সর্বোচ্চ স্লাইড হবে ২০টি। এ ক্ষেত্রেও যাদের স্লাইড সংখ্যা ২০টির বেশি হবে, তাদের ক্ষেত্রে কেবল প্রথম ২০টি স্লাইডকেই বিবেচনা করা হবে প্রতিযোগিতার জন্য। এই ২ মিনিটের ভিডিও কিংবা ২০টি স্লাইডের মধ্যে প্রকল্পের বিস্তারিত সব তথ্য সংযোজন করতে হবে। এর আগে অবশ্য প্রতিযোগীদের প্রয়োজন হবে একটি গুগল অ্যাকাউন্ট। https://accounts.google.com/NewAccount লিংক থেকে বিনামূল্যেই গুগল অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যাবে।

প্রতিযোগিতার বিষয়

আগেই বলা হয়েছে, সর্বমোট ১১টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু। বিষয়গুলো হচ্ছে—কম্পিউটার বিজ্ঞান ও গণিত, পৃথিবী এবং পরিবেশ বিজ্ঞান, আচরণ ও সামাজিক বিজ্ঞান, প্রাণী ও উদ্ভিদ, শক্তি ও মহাবিশ্ব, আবিষ্কার ও উদ্ভাবন, পদার্থ, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, খাদ্য বিজ্ঞান এবং বিদ্যুত্ ও ইলেকট্রনিক্স। এসব বিষয়ের যেকোনো একটি বিষয়েই প্রকল্প জমা দেওয়া যাবে। একজন প্রতিযোগী প্রতিযোগিতায় কেবল একটি প্রকল্পেই অংশ নিতে পারবে। কেউ যদি একাধিক প্রকল্পে অংশ নিয়ে থাকে, তবে তার জমা দেওয়া প্রথম প্রকল্পটিই কেবল বিবেচনা করা হবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, এই প্রতিযোগিতার জন্য এমন কোনো প্রকল্প নিয়ে কাজ করা যাবে না যাতে কোনো মানুষ বা জন্তুর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হয়। পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো পরীক্ষাও চালানো যাবে না।

যা থাকবে প্রকল্পে

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাইলে যে প্রকল্প জমা দিতে হবে, তাতে ৮টি অংশ থাকতে হবে। এই অংশগুলোর প্রথমেই থাকবে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ। এখানে এই প্রকল্পে কোন বিষয়গুলো থাকবে, প্রকল্পটি কী নিয়ে; তা সংক্ষেপে তুলে ধরতে হবে। দ্বিতীয় অংশে থাকবে প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী বা অংশগ্রহণকারীদের তথ্য। এককভাবে অংশ নিলে নিজের তথ্য এবং দলগতভাবে অংশ নিলে দলের সকল সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্য সংযুক্ত করতে হবে এখানে। তৃতীয় অংশে থাকবে প্রশ্ন বা প্রস্তাবনা। যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, কিংবা কোন সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে, তা জানাতে হবে এখানে। প্রকল্পের চতুর্থ অংশে থাকবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট গবেষণার তথ্য। প্রকল্পের প্রস্তাবনা বা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে কী পড়ালেখা করা হয়েছে এবং তা প্রকল্পটিকে কীভাবে সহায়তা করছে, তা উল্লেখ করতে হবে এখানে। পঞ্চম অংশে থাকবে এই প্রকল্পে যে পরীক্ষণ করা হয়েছে, তার বিববরণ। আলোচ্য সমস্যার যে সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটাই বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে হবে এই অংশে। ষষ্ঠ অংশে থাকবে পরীক্ষণের ফলাফল। প্রকল্পের বিভিন্ন পরীক্ষণে যে ধরনের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, সেই ফলাফলকে ব্যাখ্যা করতে হবে এই অংশে। সপ্তম অংশে থাকবে উপসংহার বা রিপোর্ট। গোটা প্রকল্পের বিভিন্ন পরীক্ষণ থেকে সমস্যার সমাধান হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরতে হবে এই অংশে। সবশেষে থাকবে নির্ঘণ্ট, যেখানে পুরো প্রকল্পে যেসব রেফারেন্স বা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে তার তথ্য এবং কৃতজ্ঞতা স্বীকার।

সাধারণ নিয়মাবলী

এই প্রতিযোগিতায় প্রকল্প জমা দিতে হলে বেশ কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, যেসব তথ্য বা উপাত্ত ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়ে গেছে বা সকলের মধ্যে বিদ্যমান, সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। অবৈধ কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করা যাবে না। প্রাণীর ওপর পরীক্ষা চালালে সেটা এমন পরিবেশে করতে হবে, যেখানে পরিবেশ প্রাণীর আচরণে প্রভাব ফেলবে না। কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না। কেবল তা-ই নয়, অন্যের মেধাস্বত্ব ভঙ্গ করে এমন কোনো উপাদানও ব্যবহার করা যাবে না। সায়েন্স ফেয়ারের ওয়েবসাইটেই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

বিচারে যা বিবেচ্য

প্রতিটি প্রকল্পকে ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে বিচার করা হবে। এর মধ্যে সারসংক্ষেপ অংশের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪০ নম্বর। এর বাইরে প্রতিযোগীদের তথ্য, প্রশ্ন বা প্রস্তাবনা এবং উপসংহার বা রিপোর্ট অংশের প্রতিটির জন্য রয়েছে ২০ নম্বর। নম্বর বিভাজনকে মাথায় রেখেই তাই প্রকল্প জমা দিতে হবে।

পুরস্কার

এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রকল্পগুলোর জন্য রয়েছে প্রচুর পুরস্কার। বয়সভিত্তিক তিনটি ক্যাটাগরিতে রয়েছে তিনটি পুরস্কার, যার মধ্যে একটিকে বিবেচনা করা হবে গ্র্যান্ড পুরস্কার হিসেবে। গ্র্যান্ড পুরস্কার বিজয়ীর জন্য রয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির পক্ষ থেকে একটি ভ্রমণের সুযোগ; গুগল'র পক্ষ থেকে শিক্ষাবৃত্তি; গুগল, লেগো বা সার্নে শিক্ষাভ্রমণ; একটি লেগো প্রাইজ এবং বিজয়ীর স্কুলের জন্য থাকবে সায়েন্টিফিক আমেরিকানের আর্কাইভে অ্যাকসেস। অন্য বিজয়ীদের জন্যও রয়েছে একই ধরনের পুরস্কার। এ ছাড়া ফাইনালিস্ট ১৫ প্রকল্পের জন্যও রয়েছে পুরস্কার।

সাঁকোতে সাবধান

সাঁকোতে সাবধান


প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জোটের নেতাদের অতিকথনে। তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মিডিয়া ও দলীয় নেতাদের সামনে সংযত হয়ে বক্তব্য দিতে। বলেছেন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অতিকথা অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে সরকারকে। তাই যে কোন বিষয়ে কথা বলতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে এমন উস্কানিমূলক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে তাই। ২৫শে ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি আরও বলেছেন, আমাদের পক্ষে আগ বাড়িয়ে কিছু করা বা বলা ঠিক হবে না। আপনাদের আগ বাড়ানো বক্তব্যকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতিপক্ষরা। দয়া করে ওই ধরনের বক্তব্য দিয়ে সাহায্য করবেন না উস্কানিতে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর সজাগ দৃষ্টি, রাজনৈতিক মনোভাব ও সরকারি অবস্থান স্পষ্ট। তিনি চাইছেন উদ্ভূত অবস্থার শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্থাৎ পরিস্থিতি যেন ঘোলাটে না হয়ে ওঠে, সরকারকে যেন বিব্রত না হতে হয়। শাহবাগ চত্বরের তরুণ-যুব সমাজের মৌলবাদমুক্ত অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জাগরণ-আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে সরকার, সংসদ, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, বেশির ভাগ বিরোধী দল ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সবাই। আন্দোলনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিকে যথোচিত উদ্যোগ-কার্যক্রমও নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢুকে পড়ে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং একটি অকথ্য ব্লগ। দ্রুত পালটে যেতে থাকে পরিস্থিতি। তারপর ইস্যু হয়ে ওঠে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ বনাম নাস্তিক্যবাদ। তারপর মহানবীর অবমাননা বনাম জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনারের অবমাননা। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে এখন। এ অবস্থান মরিয়া। ঘৃণা-বিদ্বেষ-আক্রোশ-আক্রমণ এখন স্থান করে নিয়েছে মুখের ভাষায়। সমবেত হামলায়। স্থান অদল বদল করে নিচ্ছে রাজনীতি ও নাশকতা। রক্ত ঝরছে, স্বজনহারাদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে আকাশ। হিন্দুস্থান টাইমস লিখেছে, গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে।
শান্তিভূমি পুণ্যভূমি বাংলাদেশ আবার যুদ্ধভূমি? তাহলে কোথায় সেই শুভবুদ্ধি? সোমবারের ওই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদকে। তিনি জানেন, এই আলোচনার পথই একমাত্র পথ। এ পথেই সমাধান ঘটতে পারে বিরোধ, বিবাদ, বিভ্রান্তির।
কিন্তু সবাই কি তা জানেন? বা সবাই কি তা চান?
বিভাজিত জাতির উন্নতি কঠিন জেনেও আমরা বিভাজিত। এ বিভাজন এখন তীব্র। সবাই জানেন বিচারক, শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিকরা যদি দলীয় হয়ে যান তাহলে দেশের মানুষের দাঁড়াবার আর জায়গা থাকে না, তারপরও আমাদের অনেকের চলন বলন কাজকর্ম তো দলীয় কর্মীদের চেয়েও উগ্র আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। এর অবসান কোথায়?
প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের খবর ‘মন্ত্রীদের অতিকথনে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে ছাপা হয়েছে মানবজমিন-এ। খবরটির লিঙ্ক ফেসবুক-এ দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই মন্তব্য আসে এক স্নেহভাজন কবি-সাংবাদিকের, ‘চ্যানেলগুলোর... বন্ধ হবে এতে? মন্ত্রীদের ক্যামেরা-প্রীতি থাকবে না... বলেন কি?’
প্রশ্নটি মিডিয়ার প্রতি। কারণ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সে। কিন্তু এ সঙ্কটকালে কি হতাশার কারণ হয়ে উঠছে তার ভূমিকা? আসলে আমাদের দেশে কি ভূমিকা নেয় মিডিয়া? স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিজের যে ভূমিকা বেছে নেয় মিডিয়া আসলে তার ওপরই নির্ভর করে সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা। সে কি সমাজের নেতা? নাকি সংস্কারক? পরিবর্তনের অনুঘটক? নাকি খবর ও মতামতের বাহক মাত্র? বার্তাবাহক হিসেবেও কি সে স্বাধীন নাকি অভ্যন্তরীণ বা বহিঃস্থ চাপ বা শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?
যা-ই হোন, দয়া করে সাঁকো নাড়তে বলবেন না কাউকে।

Thursday, February 21, 2013

২০ বছর পর চীনকে হারালো বাংলাদেশ

২০ বছর পর চীনকে হারালো বাংলাদেশ


ওয়ার্ল্ড হকি লীগের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৫ নম্বরে থাকা আইরিশদের বিপক্ষে ২-৫ গোলে হেরে হতাশায় ডুবেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কাল আবার আশার আলো জাগিয়ে তুললেন জিমি-চয়নরা। গতকাল ভারতের ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়ামে তারা ৩-২ গোলে হারালো ২২ ধাপ এগিয়ে থাকা চীনকে। বাংলাদেশের মামুনুর রহমান চয়ন, মইনুল ইসলাম কৌশিক এবং পুষ্কর খীসা মিমো একটি করে গোল করেন।
সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে জাপানের হিরোশিমায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ হকিতে চীনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। গতকাল ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার (পিসি) থেকে মামুনুর রহমান চয়ন স্কুপ করে গোল আদায় করে নেন (১-০)। ১১ মিনিটে চীনের না ইউবো গোল দিলে খেলা সমতায় ফেরে (১-১)। ২৭ মিনিটে চীনের অধিনায়ক জিমি পিসি থেকে গোল করলে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় চীন। ৩৪ মিনিটে ফিল্ড থেকে মইনুল ইসলাম কৌশিক গোল করে খেলায় ফের সমতা আনেন (২-২)। পরে ম্যাচের ৫০ মিনিটে পুষ্কর খীসা মিমো গোল করলে ৩-২ গোলের জয় পায় বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশের চেয়ে ৪ ধাপ এগিয়ে থাকা ওমানের সঙ্গে খেলবে জাহিদ বাহিনী। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে চারটায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টেন স্পোর্টস।

অমর একুশে আজ

অমর একুশে আজ


আজ মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাঙালি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিয়েছিল যেদিন, তা-ই একুশে ফেব্রুয়ারি। এ দিনের ইতিহাস, মুখের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো রাজপথের ইতিহাস। প্রাণ দিয়ে সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল বাংলার সূর্যসন্তান, ভাষাসৈনিকেরা। এদিন এখন শুধু বাঙালির নয়। সবার জন্য পালনীয়। ১৯৫২-এর এদিনে জীবন দিয়েছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। আজ তার ৬১তম বার্ষিকী। তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি শুরু হলো বাঙালির। আজ একুশের প্রথম প্রহর থেকে শহীদদের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি নিয়ে শহীদ মিনারে সমবেত সবাই। মধ্য রাতেই শুরু হয়েছে সে জমায়েত। কেবল বাংলাদেশে নয়। বিশ্বের সব প্রান্তে আজ পালিত হবে বীরের রক্তস্রোত আর মায়ের অশ্রুভেজা অমর একুশে।
৬১ বছর আগের এই দিনে বাংলার সংগ্রামী ছেলেরা যে ত্যাগ ও গৌরবগাথা রচনা করেছিলেন তারই পথ ধরে আমরা মুখোমুখি হই স্বাধীনতা সংগ্রামে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাভ করি লাল সবুজের পতাকা। বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয়ে আসছে দিনটি। এবারও বিশ্বের সব ক’টি দেশে পালিত হবে মহান একুশে। মহান ভাষা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। মধ্যরাতে একুশের প্রথম প্রহরে পুরো জাতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ভাষাশহীদদের। সারা দেশের সব রাস্তার শেষ ঠিকানা ছিল শহীদ মিনার। লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি?’ একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান। এরপর একে একে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ঢাকা সিটি মেয়র, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, তিন বাহিনীর প্রধান শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় শহীদ মিনার। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হয় স্মৃতির মিনার।
শহীদ মিনারে যাওয়ার পথ
ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজিমপুর কবরস্থান ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাতায়াতের জন্য একটি রুটম্যাপ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু রাস্তা নিরাপত্তার জন্য বন্ধ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একুশে উদযাপন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি এটি প্র্রণয়ন করে। ১. পুরানো হাইকোর্টের সামনের রাস্তা দিয়ে দোয়েল ক্রসিং, বাংলা একাডেমী, টিএসসি মোড়, উপাচার্য ভবনের পাশ দিয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড়, নিউ মার্কেট-ক্রসিং পার হয়ে আজিমপুর কবরস্থানের উত্তর দিকের গেইট দিয়ে কবরস্থানে প্রবেশ করবেন এবং শহীদদের কবর জিয়ারতের পর আজিমপুর গোরস্তানের মূল গেইট (দক্ষিণ দিকের) দিয়ে বের হয়ে আজিমপুর সড়ক হয়ে পলাশী মোড় ও ফুলার রোড মোড় হয়ে অর্থাৎ সলিমুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হলের সামনে দিয়ে শহীদ মিনারে যাবেন। ২. গোরস্তানে না গিয়ে বিকল্প পথে যারা শহীদ মিনারে যেতে চান তারা ভিসি ভবন পার হয়ে নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি মোড় থেকে বাম দিকের রাস্তা দিয়ে (জহুরুল হক হলের পশ্চিমের রাস্তা) সলিমুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা হয়ে শহীদ মিনারে যেতে পারবেন। ৩. নিউ মার্কেট ক্রসিং থেকে হোম ইকোনমিক্স ও ইডেন কলেজের সামনের রাস্তা দিয়েও আজিমপুর (বেবী আইসক্রিম) মোড়, পলাশী মোড় হয়ে সলিমুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা হয়ে শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে। ৪. চাঁনখার পুল এলাকা থেকে বকশীবাজার মোড় হয়ে বুয়েটের দক্ষিণ পাশের রাস্তা দিয়েও পলাশী মোড় হয়ে সলিমুল্লাহ হল ও জগন্নাথ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে যাওয়া যাবে।
যেসব রাস্তা বন্ধ থাকবে
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য টিএসসি মোড় থেকে জগন্নাথ হলের পূর্ব পাশের রাস্তা অর্থাৎ শিব বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে শহীদ মিনারে ও মেডিকেল কলেজে যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া ভিসি ভবন গেট থেকে ফুলার রোড মোড় পর্যন্ত রাস্তা এবং চাঁনখার পুল থেকে কার্জন হল পর্যন্ত রাস্তা জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠের সামনের রাস্তা দিয়ে দোয়েল চত্বর ও পেছনের রাস্তা দিয়ে চাঁনখার পুল হয়ে শুধুমাত্র প্রস্থান করা যাবে, শহীদ মিনারের দিকে আসা যাবে না।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ঢাকা
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় গতকাল বিকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ছিল পর্যাপ্ত নিরাপত্তায় ঢাকা। মিনারমুখী সব রাস্তায় ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সতর্ক পাহারা। তাদের সঙ্গে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের কয়েক হাজার সদস্য। সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার ছাড়া কোন গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলী বলেন, অমর একুশে উদযাপনের জন্য শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। র‌্যাব পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
নানা কর্মসূচি: দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি।
ইতিহাসের পাতা থেকে
১৯৫২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত বাঙালি রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে হরতালের প্রস্তুতি চলতে থাকে। সরকার ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টায় একটানা এক মাসের জন্য ঢাকা জেলার সর্বত্র হরতাল, সভা, মিছিলের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে। এসব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছাত্ররা দলে দলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জমায়েত হয়। ঐতিহাসিক আমতলায় ছাত্রদের সভা থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিকল্পনা করা হয়, চারজন চারজন করে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার। ছাত্ররা মিছিল শুরু করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাকে তুলতে থাকে। বেলা তিনটায় গণপরিষদের অধিবেশনের আগেই শুরু হয়ে যায় ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ। বিকাল চারটায় পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রদের ওপর গুলি চালায়। বুলেট কেড়ে নেয় জব্বার ও রফিকের প্রাণ। গুলিবিদ্ধ আবুল বরকত রাত পৌনে আটটায় হাসপাতালে মারা যান। তাদের মৃত্যু সংবাদে বাংলা ভাষার প্রাণের দাবি সারা দেশে স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই একুশে ফেব্রুয়ারি অমর ভাষা দিবস হিসেবে পালনের রেওয়াজ চালু হয়। সারা দেশে তৈরি হয় অসংখ্য শহীদ মিনার।
প্রেসিডেন্টের বাণী: মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান তার বাণীতে বলেন, ভাষা আন্দোলন কেবলই আমাদের মাতৃভাষার দাবি আদায় করেনি, বরং তা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটায় এবং স্বাধিকার অর্জনে বিপুলভাবে উদ্বুদ্ধ করে। বাঙালি অর্জন করে মাতৃভাষার অধিকার। ভাষা আন্দোলন আমাদের নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির লালনসহ সামনে এগিয়ে যাওয়ার অফুরন্ত প্রেরণা যোগায়, অন্যায়-অবিচার ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে উজ্জীবিত করে। তিনি বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করে চলে। পৃথিবীর বর্ণাঢ্য ভাষা ও সংস্কৃতির বহমান ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে লুপ্তপ্রায় ভাষা ও সংস্কৃতিকে রক্ষায় বিশ্ববাসী আরও অবদান রাখবেন বলে আমার বিশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী: পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহান একুশে বাঙালির জীবনে শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। আজ তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ১৯৩টি দেশের মানুষের প্রাণের অনুরণিত হয়। সারা বিশ্বের সকল নাগরিকের সত্য ও ন্যায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণার উৎস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

Wednesday, February 20, 2013

দ্বিতীয় শিরোপাও ঢাকার

দ্বিতীয় শিরোপাও ঢাকার


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এর দ্বিতীয় আসরেও শিরোপা জিতলো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। ফাইনালে তারা চিটাগং কিংসকে হারিয়েছে ৪৩ রানে। সাকলাইন সজীবের অসাধারন ক্যাচ ৪৪ করেই সাজঘরে ফেরত গিয়েছিলেণ চিটাগং কিংসের অধিনায়ক মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। পরের বলেই তাসকিনকে বোল্ড করেন থমাস। এতেই দ্বিতীয় শিরোপার পথে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। পরের ওভারে ১২৭ রানের মাথায় রুবেল হোসেন রান আউট হলে টানা দ্বিতীয় বারের মতো মাশরাফির হাতে উঠে বিপিএলের শিরোপা। রিয়াদ ২৮ বলে চিটাগং কিংসের পক্ষে সর্বাধিক ৪৪ রান করেন। এছাড়া জেশন রয় করেন ৪০ রান। ঢাকার মোশারফ হোসেন রুবেল ও থমাস ৩ তিনটি কওে উইকেট দখল করেন। এর আগে এন ামুলের ৫৮ ও সাকিবের ৪১ রানে ১৭২ রানের স্কোর করে ঢাকা।

Tuesday, February 19, 2013

চ্যাম্পিয়ন হতেই ঢাকা আজ মাঠে নামবে

চ্যাম্পিয়ন হতেই ঢাকা আজ মাঠে নামবে


বিপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। দ্বিতীয় আসরেও চ্যাম্পিয়ন মাঠে নামবে। আজ গ্ল্যাডিয়েটর্স চ্যম্পিয়ন হবে বলে বিশ্বাস করেন দলটির মালিক সেলিম চৌধুরী। দ্বিতীয় আসরে প্রথম ম্যাচ তারা মুখোমুখি হয় খুলনা রয়েল বেঙ্গলের। আর প্রথম ম্যাচেই তারা জয় দিয়ে শুরু করেছিল। এরপর লীগ পর্বে তারা ১২টি ম্যাচে ৯টিতে জয় তুলে নিয়েছে। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে শেষ করে লীগপর্ব। এরপর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা গেইল ঝড়ে নাটকীয় জয় তুলে নেয়। আর দ্বিতীয় আসরে নিশ্চিত করে ফাইনাল। আজ তাদের শেষ অগ্নিপরীক্ষা। আজ প্রতিপক্ষ যেই হোক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই তাদের লড়াই। ফাইনালের লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে দল নিয়ে সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘দলে কোন ইনজুরি সমস্যা নেই। সবাই শতভাগ ফিট আছেন। আর আমি দলের ক্রিকেটারদের উপর বেশ বিশ্বাস রাখি যে তারা মাঠে নিজেদের শত ভাগ উজাড় করে দিবে। তবে ম্যাচের ফলাফল যাই হোক আমি আশা করবো ম্যাচটি যেন উপভোগ্য হয়।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই তারকা ক্রিকেটার ক্রিস গেইল ও কাইরণ পোলার্ড দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন রেস-টু ফাইনালে। সেখানে গেইল ঝড়ো সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের জন্য জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। তবে গেইল একটি ম্যাচ খেলে চলে গেছেন, আছেন পোলার্ড। ঢাকার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে যুক্ত হয়েছিলেন লুক রাইট। তিনি তিনটি ম্যাচে একটি ফিফটি হাঁকিয়ে ৭৮ রান করে চলে যান নিজ দেশে। তিনি আজ আবারও দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন শেষ ম্যাচে। বিদেশী ব্যাটিং শক্তির মধ্যে আরও আছেন স্টিভেন্স ও দিলসান। স্টিভেন্স ব্যাট হাতে ৯ ম্যাচে করেছেন ৩০৩ রান। ব্যাটিংয়ে ঢাকার দেশীয় ভরসা বলতে মো. আশরাফুল, আনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান। এর মধ্যে একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আশরাফুল এখনও ৩৫৭ রান করে ঢাকার সেরা ব্যাটসম্যান। এছাড়াও আনামুলও ১২ ম্যাচে করেছেন ২৯৮ রান। ঢাকার অন্যতম দেশী তারকার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও আছেন ফর্মে। ১১ ম্যাচে করেছেন ২৮৮ রান। হাঁকিয়েছেন ২টি ফিফটি। আর বল হাতে নিয়েছেন ১৫টি উইকেট। ঢাকার পেস বোলিংয়ে আছেন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার সঙ্গে আছেন আলফানসো থমাস। তিনি ১১ ম্যাচে ১৭টি উইকেট নিয়ে ঢাকার সেরা বোলার। আর বোলিংয়ে আরেক শক্তি দেশী ক্রিকেটার মোশারফ রুবেল। তিনি নিয়েছেন ১৪টি উইকেট। ক্রিস গেইল চলে গেছেন। তাকে ছাড়া বলা চলে সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে যে দলটি রেস-টু ফাইনালে লড়াই করেছে সেখানে তেমন কোন পরিবর্তন হবে না। দলের অধিনায়ক নিয়ে সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘মাশরাফির উপরই আমরা আস্থা রেখেছি। তাকে দল গঠনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। সব কিছুতেই তার মতামতই আগে থাকবে।’

রাজীব খুনের পর তিনটি ফোন একসঙ্গে বন্ধ হয়

রাজীব খুনের পর তিনটি ফোন একসঙ্গে বন্ধ হয়

ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন ওরফে শুভ হত্যাকাণ্ডের ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনটি মোবাইল ফোন একযোগে বন্ধ হয়ে যায়। ওই নম্বরগুলোর অবস্থান ছিল হত্যাকাণ্ডস্থলের আশপাশে। গতকাল থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ওই নম্বর ব্যবহারকারীদের হন্য হয়ে খুঁজছে। গোয়েন্দারা জানান, ওইদিন রাত ৮টা ৪৪ মিনিট থেকে রাজীবের বাসার সামনে তিনটি নতুন মোবাইল নম্বরের খোঁজ পায়। রাত ৯টা ১৪ মিনিটের পর থেকে সেই তিনটি মোবাইল নম্বর বন্ধ হয়ে যায়। তবে এখনও রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। জানতে পারেনি খুনের মোটিভ। হত্যাকাণ্ডের চারদিন পর গতকাল রাতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ নিহত রাজীবের স্ত্রী আনিকা ব্রোজিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তদন্ত সূত্রমতে, রাজীব নিহতের পর পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত ছিলেন আনিকা। একারণে তাকে ডাকা হয়নি। খুনের রহস্য উদঘাটনে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এ ধারণা থেকেই গোয়েন্দারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে কি ধরনের তথ্য পেয়েছেন তা জানাননি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনায় রাজীবকে খুন করা হয়েছে। খুনের পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে করা হয়েছে। খুনের পর রাজীবের দুই বান্ধবীসহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় তার পাঁচ বান্ধবীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে ১৩, ১৪ ও ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাজীবের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। রাজীবের অবস্থান এবং ওই তিনদিন কাদের সঙ্গে রাজীবের কথা হয়েছে এবিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সন্দেহভাজন অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোনের ভয়েস রেকর্ড সংগ্রহ করছে পুলিশ। এইসব ভয়েস রেকর্ড যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান জানান, পেশাদার কিলার রাজীবকে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, কোন উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অতীতে উগ্র মৌলবাদীদের হাতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজীবের হত্যার মিল রয়েছে বলে তিনি জানান।
গোয়েন্দা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নিহত রাজীব ব্লগ লিখতেন। ব্লগে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে অনেক লেখা রয়েছে। এছাড়া, ইসলাম ও হযরত মুহম্মদ (সা.) কে উদ্দেশ্য করে তিনি কিছু ব্লগ লেখেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ব্লগে এইসব লেখালেখির জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি দুপুর থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত রাজীব শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে অবস্থান করেন। এরপর দুই ঘণ্টার জন্য ধানমন্ডি গিয়েছিলেন। ধানমন্ডি থেকে ফিরে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রজন্ম চত্বরে অবস্থান করে রাজীব পল্লবীর বাসায় ফিরে যান। ১৪ই ফেব্রুয়ারি রাজীব প্রজন্ম চত্বরে আসেননি। পরের দিন বিকাল ৩টা পর্যন্ত রাজীব তার পলাশ নগরের বাসায় ছিলেন। এসময় তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তানজিলাও সঙ্গে ছিলেন। এরপর রাজীব তার বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাইশটাকি এলাকাসহ আশপাশে ঘোরাফেরা করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বান্ধবী তানজিলাকে সঙ্গে নিয়ে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে পল্লবীর নিজের বাসার কাছাকাছি আসেন। তানজিলা চলে গেলে রাত ৮টা ৫৮ মিনিটে রাজীব আরেক বান্ধবী রাফির সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাসার সামনে রাস্তায় চলে আসেন। রাত ৮টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সে বান্ধবী রাফির সঙ্গে কথা বলেন। সেটাই ছিল ফোনে রাজীবের শেষ কথা বলা। গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, এরপরই সে হামলার শিকার হয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাত ৮টা ৪৪ মিনিট থেকে রাজীবের বাসার সামনে তিনটি নতুন মোবাইল নম্বরের খোঁজ পাওয়া যায়। রাত ৯টা ১৪ মিনিটের পর থেকে সেই তিনটি মোবাইল নম্বর বন্ধ হয়ে যায়। ওই তিন মোবাইল ফোনের গ্রাহককে খুঁজছে পুলিশ। রাত ১০টায় রাজীবের মোবাইলে একটি এসএমএস পাঠায় তানজিলা। এসএমএসটি ছিল- ‘দাদা বাসায় গেছো?’ সে সময় তানজিলার অবস্থান ছিল মিরপুর-২ এলাকায়।
গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পল্লবীর ৫৬/৩ পলাশনগরের নিজ বাসার পাশেই নির্মমভাবে খুন হন ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার।

Sunday, February 17, 2013

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার


জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। শাহবাগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীজুড়ে বিস্তার করা হয়েছে নিরাপত্তার জাল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার। রায়ট কার ও টিয়ারশেল গান নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ। প্রস্তুত রাখা
হয়েছে এলিট ফোর্স সোয়াত টিম। বসানো হয়েছে অতিরিক্ত কন্ট্রোল রুম। ঢাকা মোট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বাঁচাতে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা এখন মরিয়া। অব্যাহতভাবে তারা চালিয়ে যাচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। তারা শাহবাগ স্কয়ারেও হামলা চালাতে পারে বলে আগাম তথ্য পেয়েছি। এ কারণে শাহবাগসহ রাজধানীজুড়ে নতুন ছক অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
ডিএমপি হেড কোয়ার্টার সূত্র জানায়, সম্ভাব্য অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে রাজধানীতে ১০ হাজার পোশাকধারী এবং ১ হাজার রিজার্ভ ফোর্সসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় ১৫ হাজার সদস্য কাজ করছে। টহলে রয়েছে র‌্যাবের প্রায় ২ হাজার সদস্য। দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, ডিবি পুলিশ এবং বোম ডিস্পোজাল টিম রাস্তায় ওয়ার্মআপ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখা যায়- নয়া পল্টন, মতিঝিল, কাওরানবাজার, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মহাখালী, মিরপুর-১০, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর মোড়, যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অধিকতর তৎপর র‌্যাব-পুলিশের সদস্যদের। স্পটে স্পটে কাজ করছে থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান, ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জামায়াত-শিবিরের প্রধান টার্গেট পুলিশ। তবে নিজ দলের নেতাদের বাঁচাতে তারা যে কোন ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। শাহবাগে হামলার আশঙ্কাকে আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তাই সেখানে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো রাজধানীকেই আমরা ওয়াচের মধ্যে রেখেছি। চোরাগোপ্তা হামলার কারণে কখনও কখনও আমরা আগে থেকে হামলার বিষয়ে ধারণা পাচ্ছি না। তবে হামলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, জামায়াতের যে কোন নাশকতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত। তারা যাতে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কোন ধরনের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে পুলিশের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করেছি। বাড়তি ফোর্স নিয়োজিত করেছি। শাহবাগ কেন্দ্রিক পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে কন্ট্রোল রুম। টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি সিসি ক্যামেরা। প্রবেশপথগুলোতে দেয়া হয়েছে আর্চওয়ে। বড় বড় ভবনগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে। শাহবাগ ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ডিবি ও সোয়াতকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় লেখা স্টিকার থাকছে না

নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় লেখা স্টিকার থাকছে না


জামায়াত-শিবিরের সম্ভাব্য আক্রমণ বা তাণ্ডব থেকে নিরাপদ থাকতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে সচিবালয়ের বাইরে অবস্থিত সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। তাদের চিঠি পেয়ে নিরাপত্তা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা। ওদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের গাড়িতে সচিবালয়ের ‘যানবাহন প্রবেশপত্র’ রাখলেও ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ লেখা স্টিকার খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজকালের মধ্যে তারা গাড়িতে থাকা ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ লেখা স্টিকার খুলে ফেলবেন। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ বিষয়ে সতর্ক করে চিঠি দিতে যাচ্ছেন তারা। সচিবালয়ে প্রবেশ করা গাড়িগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। সচিবালয়ে প্রবেশকারী গাড়ি নিচে কোন বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করছে কিনা তা কম্পিউটারের মাধ্যমে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অফিস করেন এমন দিনে বা অন্যান্য দিনেও থাকছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ নিজেদের নিরাপত্তা দুর্বলতার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে এর অফিসটি ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অবস্থিত। সরকারি পর্যায়ে মালয়েশিয়াতে জনশক্তি পাঠানোর জন্য তৈরী কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের কার্যক্রম এ ভবন থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণসহ জনশক্তি বিষয়ক নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদি এ ভবন থেকে করা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররাফ হোসেন প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অফিস করে সব কাজ দেখভাল করছেন। তিনি সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রীও বটে। এমন অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ ভবন অনেকটা অরক্ষিত। অন্য আর দুই মন্ত্রণালয়ও সচিবালয়ের বাইরে থাকায় তাদের নিরাপত্তা দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছে। তারা বলেছেন, সহসাই এসব ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যেসব অধ্যাদেশ অবৈধ হয়ে গেছে ওই সব অধ্যাদেশ পুনরায় আইনে পরিণত করার বিষয়ে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমেদের সভাপতিত্বে আইন সংশোধন সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্টিকার তুলে ফেলা সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখার এক সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জামায়াত শিবিরের আক্রমণের প্রধান টার্গেট পুলিশ এবং সরকারি গাড়ি। এরই মধ্যে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ কারণে এখনই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এরপরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোন গাড়িতে মন্ত্রণালয়ের নাম লেখা সংবলিত স্টিকার রাখা যাবে না। যেসব গাড়িতে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ লেখা স্টিকার রয়েছে তা তুলে ফেলতে হবে। একই সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কোথাও আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচয় গোপন রাখার জন্য বলা হয়েছে। ওদিকে সতর্ক বার্তা যাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে। এ সপ্তাহেই সতর্ক বার্তাটি পাঠাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব থেকে সরকারি গাড়ি রক্ষা করতে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গাড়িও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি তৈরির প্রক্রিয়া করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা (কেপিআই) বিবেচনায় সচিবালয়ের নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন এনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ম্যানুয়াল নিরাপত্তার বদলে অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়) হয়েছে। সচিবালয়ের নিরাপত্তা সরঞ্জামের তালিকায় যোগ হয়েছে আন্ডার ভেহিক্যাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম, এক্সপ্লোসিভ ডিটেক্টরসহ অনেক আধুনিক মানের যন্ত্রপাতি। গাড়ির মধ্যে কোন আগ্নেয়ান্ত্র বা বোমা থাকলে এসব যন্ত্রপাতি দিয়ে তা সহজেই ধরা যাবে। গাড়ি ছাড়া যেসব দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করছেন তাদের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র অটোমেটিক সিস্টেমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এজন্য বিপুল সংখ্যক ব্যাগ স্ক্যানার, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও এক্সপ্লোসিভ ডিটেক্টর কেনা হয়েছে। এখন নতুন পথে দর্শনার্থী প্রবেশসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রবেশ করছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশে ঝামেলা পোহাতে হলেও নিরাপত্তা নিয়ে কোন ছাড় দিচ্ছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সিলেটে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭, আজ হরতাল


সিলেটে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭, আজ হরতাল

 


পুলিশ ও শিবিরের ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে শনিবার নগরীর মীরবক্সটুলা, নয়া সড়ক ও চৌহাট্টা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১১ জন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে শিবিরকর্মী আলী আজকর রাহাতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দুপুরে তাকে এয়ার কপ্টার যোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক গুলি, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এ সময় উত্তেজিত শিবিরকর্মীরা ৫টি যানবাহন ভাঙচুর ছাড়াও দোকানপাটে হামলা চালায়। ঘটনার পর পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ জনকে আটক করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে আজ সিলেট জেলায় সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত হরতাল ডেকেছে ছাত্রশিবির। কক্সবাজারে পুলিশ ও জামায়াত সংঘর্ষের পর থেকে সিলেটের ছাত্রশিবিরের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সকাল থেকে শিবিরকর্মীরা নগরীর কয়েকটি এলাকায় মিছিল বের করার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে নগরীর শিবির অধ্যুষিত এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। বেলা পৌনে ১১টায় ছাত্রশিবিরের কয়েক শ’ সদস্য নগরীর মীরবক্সটুলা, মানিকপীর রোড, কাজিটুলা এলাকা থেকে একযোগে মিছিল বের করে। এ সময় নয়াসড়ক এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। মিছিল বের করার পরপরই পুলিশ সদস্য ভাগ হয়ে তিনটি মিছিলে বাধা দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিবিরকর্মীরা মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। মীরবক্সটুলা থেকে বের হওয়া শিবিরের মিছিলটি চৌহাট্টা অভিমুখে আসে। একদল পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইটপাটকেল ছোড়ে। লাঠিসোটা হাতে থাকা শিবিরকর্মীরা চৌহাট্টা এলাকায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় শিবিরকর্মীরা মীরবক্সটুলা এলাকায় যায়। এ সময় তারা ফের পুলিশের মুখোমুখি হলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন শিবিরকর্মী আহত হয়। ওদিকে, মানিকপীর রোড থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নগরীর নয়াসড়ক এলাকায় পৌঁছলে তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। ওখানে সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে। কাজিটুলা থেকে বের হওয়া মিছিলের সঙ্গে নয়াসড়ক এলাকায় পুলিশের সংঘর্ষ হয়। তবে প্রায় আধাঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলার উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়। শতাধিক শিবিরকর্মী পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় তারা পুলিশকে ইটপাটকেল ও ককটেল ছুড়লে পুলিশের ট্রাফিক এসি রাজীব ও কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমানসহ ১১ জন পুলিশ সদস্য আহত। পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছিল। আর পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পরপরই পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে ছাত্রশিবির কর্মী আলী আজকর রাহাতসহ ৭ জন। দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ করতে করতে শিবিরকর্মীরা নয়াসড়ক এলাকা থেকে কাজিটুলা, মানিকপুর রোড ও জেল রোড দিয়ে চলে যায়। জামায়াতের সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ ৭ শিবিরকর্মীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজসহ বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের অস্ত্রোপচার হয়েছে। এছাড়া অন্য আহতদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। গুরুতর আহত শিবিরকর্মী রাহাতকে প্রথমে উইমেন্সে এবং পরে ইবনে সিনার নেয়া হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে অস্ত্রোপচার করা হলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। বিকালে এয়ার কপ্টার যোগে তাকে ঢাকায় নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। রাহাত সিলেট মদনমোহন শিবিরের নেতা। সে মহানগর শিবিরের সহকারী ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক। তার বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বলে জানা গেছে। সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা নগরীর চৌহাট্টা, হাওয়াপাড়া গলির মুখ, মীরবক্সটুলা নয়া সড়ক এলাকায় ৫টি যানবাহন ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে রাস্তার পাশে থাকা দোকানপাটেও হামলা চালানো হয়। এতে তটস্থ এলাকার মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে দেন। সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজসহ তিনটি ক্লিনিকের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে, সংঘর্ষের সময় আহত হন পুলিশের এসি ট্রাফিক রাজীব ও কোতোয়ালি পুলিশের ওসি আতাউর রহমানসহ ১১ জন। এর মধ্যে এসি রাজীবসহ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান জানিয়েছেন, শিবিরকর্মীরা হাতে লাঠিসোটা নিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় পুলিশ প্রায় ২৫ জনের মতো আটক করেছে। এর মধ্যে যারা শিবির কর্মী তাদের চিহ্নিত করে অন্যদের ছেড়ে দেয়া হবে। সিলেট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিকালে মানবজমিনকে জানান, পুলিশ সংঘর্ষকালে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ছুড়েছে। আর যাদের আটক করা হয়েছে তাদের ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ আজাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ নয়াসড়ক, চৌহাট্টা ও কাজিটুলা এলাকায় অভিয়ান অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, নয়াসড়ক এলাকায় সংঘর্ষকালে শিবিরকর্মীরা নগরীর সুবিদ বাজার এলাকায় মিছিল করেছে। তবে পুলিশ আসার আগেই তারা মিছিল শেষ করে চলে যায়। ওই মিছিলটি রাজারগলি এলাকা থেকে বের হয়েছিল বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। একই সময়ে সিলেট এমসি কলেজের সামনে থেকে শিবিরকর্মীরা অপর আরেকটি মিছিল বের করার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষকালে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ওই এলাকায় যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। এদিকে, পুলিশের গুলিতে শিবিরকর্মী রাহাত গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার খবর দক্ষিণ সুরমায় পৌঁছা মাত্র ওখানে শিবিরকর্মীরা বিক্ষোভ করার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যাওয়ার আগেই বিক্ষোভকারীরা চলে যায়।

Saturday, February 16, 2013

চিটাগাং-রাজশাহীর ফাইনাল আজ

চিটাগাং-রাজশাহীর ফাইনাল আজ


অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সেমিতে এসেছে চিটাগাং কিংস। গত আসরে শেষ মুহূর্তে সেমিফাইনালে খেলতে না পারা চিটাগাং কিংস আজ ফাইনালে ওঠার প্রথম ধাপ টপকাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুরন্ত রাজশাহীর। দুরন্ত রাজশাহীর এটি দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল। কাগজে-কলমে অনেক শক্তিশালী দল নিয়েও চট্টগ্রাম হোঁচট খেতে খেতেই আগায়। তবে ১২ ম্যাচে ছয়টি জিতেছে আর ছয়টি হেরেছে। তবে দুরন্ত রাজশাহীর কপালটা ভাল-মন্দের মিশেল। একেবারে দুর্বল দল না হলেও তারা প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিল আসর থেকে। কিন্তু শেষ দুই দিনে বরিশালের হার আর জিতের কারণে ভাগ্য বদলে যায় তাদের। পয়েন্ট ১২ ম্যাচে ১০। বরিশাল আর রংপুরের পয়েন্টও সমান ছিল। কিন্তু বাইলজ অনুসারে তিন দলের নিজেদের লড়াইয়ে বেশি জেতার সুবাদে দুরন্ত রাজশাহী সেমিতে খেলার সুযোগ পায়। কে না চায় ফাইনালে খেলতে। এই দু’দলও মরিয়া। কিন্তু আজই তার ফয়সালা নয়। হারলে বিদায়টা নিশ্চিত, তবে ফাইনালে খেলাটা নিশ্চিত করতে, খেলতে হবে আরেক ম্যাচ। গতকালের পরাজিত দল সিলেটের বিরুদ্ধে তাদের মাঠে নামতে হবে আগামীকাল। আজ সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। দুরন্ত রাজশাহীর সফল ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক জহুরুল নিজেও মানছেন এটা তাদের ভাগ্যে পাওয়া সুযোগ। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের হারানোর কিছুই নেই। তাই এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।’ মজার ব্যাপার হলো- দ্বিতীয় আসরে এ দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল তাদের প্রথম ম্যাচে। কম রানের সেই ম্যাচে দুই রানে জয় পেয়েছিল রাজশাহী। তবে দ্বিতীয় দেখায় দুরন্ত রাজশাহীকে ৩৩ রানে হারিয়ে চিটাগাং কিংস প্রতিশোধ নিয়ে সমান হয়।
চিটাগাং কিংসের জন্য একটি ধাক্কাও আছে আজ। তাদের জয়ের পথ দেখানো অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর চলে গেছেন দেশে। তাই এই জায়গাটাকে শূন্যস্থান বলে মানছেন দলের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি বলেন, ‘আসলে টেইলরের চলে যাওয়া আমাদের জন্য শূন্যস্থানই। এটা পূরণ হওয়ার না। তবে জ্যাকব ওরাম তার কাজটা করবে। আমরা ক্রিকেটারদের উপর ভরসা আছে। তারা চাইলে সবই সম্ভব।’ টেইলর চলে যাওয়ায় এখন আবার মাহমুদুল্লাহই দলের নেতৃত্বে ফিরতে পারেন বলে দলের পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে দুরন্ত রাজশাহীর অধিনায়ক শ্রীলঙ্কার কাপুগেদারাকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা। অসুস্থ থাকায় গতকাল তিনি মাঠেই আসেননি। তবে তিনি খেলতে পারবেন কিনা আজ মাঠে নামার আগে চূড়ান্ত হবে। তবে অন্যতম তারকা তামিম ইকবালও দলে থাকছেন না। হাতের ইনজুরির কারণে তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে দুই সপ্তাহ। তবে তারা এ ম্যাচের জন্য নতুন কোন বিদেশী ক্রিকেটারও আনছে না। পুরনো দলের উপরই ভরসা আছে বলে জানিয়েছেন দলের মালিক মুশফিকুর রহমান মোহন।
খেলা শুরু সন্ধ্যা ৬টায়
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে

Thursday, February 14, 2013

সেমিতে চিটাগং বিপদে রাজশাহী

সেমিতে চিটাগং বিপদে রাজশাহী

 


শেষ ম্যাচে চিটাগং কিংসের সঙ্গে ৩৩ রানে হেরে গেল দুরন্ত রাজশাহী। আর এতেই দুরন্ত পড়ে যায় ঝুলন্ত সমীকরণে। তবে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে নিশ্চিন্তে শেষ চার নিশ্চিত করেছে চিটাগং কিংস। গতকাল দুরন্তকে দিনের শেষ ম্যাচে বরিশালের জয়-পরাজয়ে ওপর তাকিয়ে থাকতে হয়েছে। সিলেটের সঙ্গে শেষ ম্যাচে বরিশাল হারলে দুরন্তর জন্য শেষ চারে উঠার সুযোগ বেঁচে থাকবে। আর বরিশাল জিতে গেলে বাদ পড়ে যাবে রাজশাহী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরিশাল-সিলেটের ম্যাচ চলছিল। এই পর্যন্ত ১২টি ম্যাচে ৫ জয়ে দুরন্ত রাজশাহীর পয়েন্ট ১০। বরিশালের হাতে আছে দুটি ম্যাচ। তাদের ৯ ম্যাচে ৪ জয়ে পয়েন্ট ৮। আজ তারা মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্সের। যদি রংপুরের সঙ্গে বরিশাল হারলেও রাজশাহী বাদ পড়ছে। আর যদি জিতে সেই ক্ষেত্রে রাজশাহীর জন্য থাকছে সুযোগ। রংপুরের পয়েন্ট এখনও ১১ ম্যাচে ১০ যদি। তাই আজ বরিশাল হেরে গেলে তিন দলের পয়েন্ট সমান হবে। তখন রানরেটে সুযোগ থাকছে দুরন্ত রাজশাহীর। তবে গতকালের ম্যাচে বরিশাল জয় পেলে তখন শেষ দল হিসেবে আজ সেমির লড়াইয়ে নামবে রংপুর-বরিশাল।
দুরন্ত রাজশাহী ১৯৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ১৬০ রান তুলতে সক্ষম হয়। দুই ওপেনার চালর্স কভেন্ট্রি ও সাইমন ক্যাটিচ ২৯ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যে দ্রুতই ১৫ বলে ২৪ রান তুলে আউট হন কভেন্ট্রি। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন শ্রীলঙ্কার দিলশান মুনাভিরা ও ক্যাটিচ। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৫ রানে মুনাভীরার বিদায়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী। এর পর উইকেটে এসেই মারমুখী ব্যাট চালান জিয়াউর রহমান। ২টি করে চার ও ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করা জিয়াউরকে বোল্ড করে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার শন টেইট। শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন ক্যাটিচ। সে সুবাদে ২০ ওভারে তাদের ইনিংস থামে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানে। কিংসের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন টেইট ও রুবেল হোসেন।
এর আগে টস জিতেই ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন রাজশাহীর অধিনায়ক চামারা কাপুগেদেরা। শুরুতেই নাঈম ইসলামকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিয়ে রাজশাহীকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার মনির হোসেন। তবে রাজশাহীর সাফল্যকে ম্লান করার জন্য জুটি বাঁধেন ইংল্যান্ডের জেসন রয় ও জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর। দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন তারা। তবে দলীয় ৭৬ রানে টেইলরকে ফিরিয়ে দিয়ে চিটাগং কিংসের রানের গতি থামান রাজশাহীর মুক্তার আলী। ২টি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে ৩০ রান করে থামেন টেইলর। টেইলরের বিদায়ের পর রয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধতে ক্রিজে আসেন নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডেসকাট। দ্রুত উইকেটে সেট হয়ে রাজশাহীর মারমুখী মেজাজে দু’জনই পেয়ে যান ফিফটির স্বাদ। রয় ৩৫ বলে এবং ডেসকাট ৩২ বলে রাখেন ফিফটি করেন। তবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার মারে ৫৫ বলে ৯২ রানে অপরাজিত থাকেন জেসন। আর শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৯ বলে ৬৫ রান করেন ডেসকাট। রাজশাহীর পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মনির হোসেন ও মুক্তার আলি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: রাজশাহী (ফিল্ডিং)
চিটাগং কিংস: ২০ ওভারে ১৯৩/৩; (রয় ৯২*, ডেসকাট ৬৫, টেইলর ৩০; মনির ১/৩০)।
দুরন্ত রাজশাহী: ২০ ওভারে ১৬০/৮; (ক্যাটিচ ৫৩, মুনাভিরা ৩৫, জিয়াউর ২৬; রুবেল ২/২৩, টেইট ২/৩৫)।
ফল: চিটাগং ৩৩ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: জেসন রয়
আজকের খেলা

ম্যাচ: বরিশাল-রংপুর
সময়: দুরপুর সাড়ে তিনটা
ম্যাচ:ঢাকা-চিটাগং
সময়: সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
ভেন্যু: মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়াম

Sunday, February 10, 2013

দুর্দশা কাটছে না বরিশালের

দুর্দশা কাটছে না বরিশালের


বিপিএলে নিজেদের আগের আট ম্যাচে জয় মাত্র তিনটিতে। মিরপুরে আজ শনিবার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে ম্যাচেও দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বরিশাল বার্নার্স।
ঢাকার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রান তুলতে সক্ষম হয় বরিশাল। সংগ্রহটাই বলে দেয়, নাটকীয় কিছু না ঘটলে আরেকটি হার সইতে হবে ব্রাড হজের দলকে।
ব্যাট হাতে বরিশালের হয়ে সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন আজহার মাহমুদ। তাঁর সংগ্রহ ৩০ রান। এ ছাড়া সাব্বির রহমান ১৮, ফারভিজ মাহারুফ ১৫, ব্রাড হজ ১২ ও অলক কাপালি ১০ রান করেন। ঢাকার হয়ে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আলফনসো টমাস ও ক্রিস লিডল প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
দলের রান ১০১। জিততে আর চাই আর মাত্র ১৪ রান। এ সময় বল হাতে এলেন শুভাগত হোম চৌধুরী। সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং-ঝড় থামাতে বরিশাল বার্নার্সের দলনায়ক আনলেন তাঁকে। শুভাগত অধিনায়কের সিদ্ধান্তের প্রতিদান দিলেন সাকিবকে নাজমুল ইসলামের দুর্দান্ত এক ক্যাচে আউট করে। কিন্তু সাকিব সাজঘরে ফিরলেন বটে, ততক্ষণেই ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। ৩১ বলে সাত চার ও এক ছয়ে সাকিব করেছেন ৫৪ রান। ওপেনার দিলশান ৩৯ বলে সাত চারে ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে ৯ উইকেটে ১১৪ রান তোলে বরিশাল।
সাকিব-দিলশানের ৯২ রানে জুটির ওপর ভর করে আট উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে ঢাকা। এ জয়ে নয় খেলায় ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে উঠল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সমান পয়েন্ট হলে রানরেটে দুয়ে সিলেট রয়্যালস।
বিপিএলে বরিশাল নিজেদের আগের আট ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। মিরপুরে আজ শনিবার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে ম্যাচেও দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।
ঢাকার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রান তুলতে সক্ষম হয় বরিশাল। সংগ্রহটাই বলে দেয়, নাটকীয় কিছু না ঘটলে আরেকটি হার সইতে হবে ব্রাড হজের দলকে।
ব্যাট হাতে বরিশালের হয়ে সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন আজহার মাহমুদ। তাঁর সংগ্রহ ৩০ রান। এ ছাড়া সাব্বির রহমান ১৮, ফারভিজ মাহারুফ ১৫, ব্রাড হজ ১২ ও অলক কাপালি ১০ রান করেন। ঢাকার হয়ে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আলফনসো টমাস ও ক্রিস লিডল প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান।

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা হলে আমি সাক্ষ্য দেবো’

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা হলে আমি সাক্ষ্য দেবো’


সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, এ বিচারের দাবিতে গণজাগরণ শুরু হয়েছে শাহবাগের প্রতিবাদের মাধ্যমে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে রাজাকারদের ফাঁসি দেয়া যায় না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজাকার উল্লেখ করে আগামীকালের (আজকের) মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বর্তমান স্বরাষ্টমন্ত্রী যুদ্ধের সময় পাকিস্তান প্রশাসনের পক্ষে কাজ করেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিচার হলে আমি নিজে সাক্ষ্য দেবো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয় উল্লেখ করে বীরউত্তম খেতাব পাওয়া এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, একজনের অপরাধ কম তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে আর আরেকজনের অপরাধ বেশি, তাকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন। এটা আপস হয়েছে।
গতকাল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে উদ্বোধনী ও সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চত্বরে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, বঙ্গবীরের স্ত্রী বেগম নাসরিন সিদ্দিকী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি (জেপি)’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতীয় পার্টি (জাপা)’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগকে দাওয়াত দিলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধি উপস্থিত হননি বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, জামায়াতে ইসলাম যদি মনে করে তারা পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলাম, তাহলে বাংলাদেশে তাদের ঠাঁই নাই। তারা ঘাতক। আর যদি দলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হয় তাহলে তাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য মাঠে নামতে হবে। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব ইসলামী দলই জামায়াত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাহবাগের সমাবেশ যদি নিরপেক্ষ হয় আমি সঙ্গে আছি। আর যদি আওয়ামী লীগের হয়, আমি এ সমাবেশকে ঘৃণা করি। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজাকাদের ফাঁসি আমিও চাই। কিন্তু এক রাজাকারের ফাঁসি আরেক রাজাকার দিতে পারে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে কেউ যোগদান করলে হয় মুক্তিযোদ্ধা আর অন্য দলে যোগ দিলে হয় রাজাকার। বড় দুটি দল দেশের রাজনীতি ধ্বংস করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের যুবকরা শাহবাগে প্রতিবাদ করতে নেমেছে। তাদেরকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সরকার প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এটাকে আওয়ামীকরণ করার চেষ্টা চলছে। দলীয়করণ করলে ভবিষ্যতে মুশকিলে পড়তে হবে। ভুল করবেন। তিনি বলেন, যে রায় হয়েছে তাতে জনগণ সন্তুষ্ট নয়। দলীয় সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবেন না। জাতীয় নেতৃবৃন্দকে এক সঙ্গে বসে একটা সমাধান করতে হবে।
কাউন্সিলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মহাজোট সরকারকে বিতাড়িত করতে এখন একটি জাতীয় ঐক্যের দরকার। বৃহৎ জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে হবে। বুলেটে নয়, ব্যালটে এ সরকারকে পরাজিত করতে হবে। আ স ম আবদুর রব বলেন, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হচ্ছে। বিশেষ একটা গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের শক্তি কুক্ষিগত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শাহবাগের আন্দোলনের ফসল কেউ নিজের ঘরে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য সচেতন থাকতে হবে ব্যক্তি ও দলের প্রতি। চোরাবালিতে যেন এ আন্দোলন হারিয়ে না যায়। যারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদের বাংলাদেশের ঠাঁই নাই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে করতে হবে। তিনি বলেন, বৃটিশ আইন দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে না। নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও আইন পরিবর্তন করতে হবে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমাদের মুক্তি দিতে পারে না। দুটি দল বাদে বাকি সব দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাদের নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি খুব হিসাবি দল। হিসাব করে চলে। তারা সাপও মারে না লাঠিও ছাড়ে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগও এদেশে কোন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল নয়। যদি পক্ষের দল হতো তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে হাস্যকর রায় আসতো না।

পাসপোর্টে পুলিশি ভেরিফিকেশন থাকছে না

পাসপোর্টে পুলিশি ভেরিফিকেশন থাকছে না


পাসপোর্ট ইস্যুতে পুলিশি ভেরিফিকেশন থাকছে না। হয়রানি বন্ধে ও সময়ক্ষেপণের কারণে এ শর্ত বাতিল করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে এলাকার মেম্বার বা পৌর কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়রের প্রত্যয়নপত্র গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে- সঠিক ঠিকানা বা নাগরিকদের প্রত্যয়নের জন্য আবেদন ফরমে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিআইএন নম্বর সংযুক্ত করতে হয়। আবেদন ফরমটি সরকার নির্ধারিত দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা কর্মকর্তা দ্বারা ছবিসহ প্রত্যয়ন করতে হয়। এসব তথ্য দেয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের কোনও প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে না। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংসদে জানানো হয়, পাসপোর্টের জন্য ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এটা শেষ হলে পুলিশি যাচাইয়ের দরকার হবে না। এদিকে ৩রা ফেব্রুয়ারি পুলিশি যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করতে সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উত্থাপন করা হয়। এমপি রফিকুল ইসলাম সংসদে নোটিস দেন। এতে বলা হয়, পুলিশ প্রতিবেদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় চাকরি চিকিৎসা, পড়ালেখা ইত্যাদিসহ বিভিন্ন উদ্দেশে বিদেশে গমনেচ্ছুক পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অভিযোগ আছে- সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা উপজেলা হেডকোয়ার্টারের বসেই ভেরিফিকেশন রিপোর্ট তৈরি করেন। এ ক্ষেত্রে কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও আছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী বা বিদেশে চাকরি নিয়ে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা ও লেখাপড়ার জন্য দ্রুত বিদেশে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই চরম ভোগান্তির শিকার হন। বহু মানুষ অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। প্রতি উপজেলায় একজন মাত্র পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে সত্যিকার ভেরিফিকেশন অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মন্ত্রণালয়-কমিটি চিঠি চালাচালি: এর আগে বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় কমিটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচলি হয়। উপস্থাপন করা হয় যুক্তি-পাল্টা যুক্তি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটি পুলিশি যাচাইয়ে আপত্তি জানিয়ে বলে, পুলিশের তদন্তর চেয়ে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধির অঙ্গীকারনামা অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ও শ্রেয়। বর্তমানে অনেক অবৈধ পাসপোর্ট রয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, পাসপোর্ট সংক্রান্তে পুলিশের ভেরিফিকেশন পদ্ধতি বাতিল করা হলে অবৈধভাবে পাসপোর্ট নেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষণ্ন হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিধি অনুযায়ী সরজমিন অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাসপোর্ট আবেদনকারীর জন্ম তারিখ, পেশা, পিতামাতা সংক্রান্ত তথ্য, বৈবাহিক অবস্থা, আবেদনকারী কালো তালিকাভুক্ত কি না, তার আগের পাসপোর্ট সংক্রান্তে তথ্য গোপন করেছেন কি না ইত্যাদি। এসব তথ্য যাচাই করে আবেদনকারীর অনুকূলে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট অফিসে পাঠানো হয়। এতে আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রথমবার একজন নাগরিক পাসপোর্ট আবেদন করলে পুলিশ ভেরিফিকেশন করে। কিন্তু সমর্পণ বা সারেন্ডার পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না। এতে প্রথমবার পাসপোর্ট ইস্যু করার সময় ভেরিফিকেশন না করা হলে একজন আবেদনকারী ভুয়া তথ্য সরবরাহ করে বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট গ্রহণ করলে এ নিয়ে যাচাই-বাছাই করার সুযোগ থাকে না। পরে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। মন্ত্রণালয় তাদের সুপারিশে জানিয়েছে, সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রচলিত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা যেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের ওই যুক্তি ধোপে টিকছে না।

Saturday, February 9, 2013

খেলোয়াড় বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়

বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়


ক্রিকেটারদের বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো দুরন্ত রাজশাহী গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত খেলায় পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে থাকা খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের কাছে ৭ উইকেটে হেরে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এ খেলায় হার জিতকে ছাপিয়ে যায় দুরন্ত রাজশাহীর বিদেশিদের খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা।

রাজশাহী শেষ পর্যন্ত পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে সক্ষম হলেও খেলা শুরুর ২০ মিনিট আগে বিদেশিরা খেলতে রাজি হচ্ছিল না। বিদেশি ক্রিকেটাররা পাওনা অর্থ অনাদায়ে খেলতে অসম্মতি জানালেও পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপে মাঠে নামে। এ ঘটনা পুরো বিপিএলের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কেননা বিপিএল শেষের পথে অথচ এখনো বিদেশিরা প্রথম কিস্তির টাকাই পায়নি। তাই কাল রাজশাহী সাত বিদেশি এক প্রকার বেঁকেই বসে। খেলা শেষে দলের নিয়মিত অধিনায়ক চামারা কাপুগেদারা এর ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, 'বিপিএল শেষের পথে অথচ আমরা যারা বিদেশি আছি তারা কোন টাকা-পয়সাই পায়নি। তাই আজ (কাল) আমরা সিদ্ধান্ত নেই টাকা না পেলে মাঠে নামবো না। পরে বিসিবি চেয়ারম্যান আমাদেরকে মূল বিষয়টি জানিয়েছেন। তাই পরে মাঠে নেমেছি'।

খেলোয়াড়দের কিস্তির প্রথম অংশের টাকা বিপিএল শুরুর সময় দেয়ার কথা থাকলেও ফ্রাঞ্চাইজিরা সময়মত বিসিবির কাছে সেই টাকা জমা দেয়নি। ফলে খেলোয়াড়রাও সময়মত টাকা পায়নি। তবে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে- এই আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত বিদেশিরা মাঠে নামে। কিন্তু আধ ঘন্টার এই নাটকের জন্য দলের পারফর্মেন্সও খারাপ হয়েছে। যদিও কাপুগেদারা সেটি মানতে নারাজ, 'আমি মনে করি না এই ঘটনা ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। আশা করছি পরের ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা দুর্দান্তভাবে ফিরে আসবে'। ঘটনাবহুল এ খেলায় খুলনার অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিসও উঠে আসেন আলোচনায়। কেননা কাল তিনি নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে খুলনাকে নেতৃত্ব দেননি। বরং রিকি ওয়েসেলসকে দায়িত্ব দিয়ে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান নাফিস এবং ভারমুক্ত এই ব্যাটসম্যান এবারের বিপিএলের তৃতীয় ফিফটি করেন। কাল খেলা শেষে নাফিস বলেন, 'আমি মাঠে আসার সময় টিম ম্যানেজম্যান্টকে ফোনে বলেছি আর অধিনায়কত্ব করতে চাই না। ম্যাচ জিততে হলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত নৈপুণ্য অনেক বেশি দরকার। আমি অধিনায়কত্ব ছেড়ে নিজের মত খেলার চেষ্টা করবো'। এবারের বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান নাফিসের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে তোলা ৭৭ রানের ইনিংস। ফলে রাজশাহীর ১৩৮ রানের জবাবে নাফিস, শ্রীলংকান জিহান মুবারক (২৭ বলে ৩০) ও ট্রেভিস ব্রিট (২৬ বলে ২৩) মিলে চার বল বাকি থাকতে খুলনাকে জিতিয়ে দেন সাত উইকেটে। নাফিস নিজের ব্যাটিং নিয়ে বলেন, 'আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম পর্ব খেলিনি। তখন নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্যারের কাছে অনেক কিছু শিখেছি। ওটাই আমার কাজে দিয়েছে। মূলত তখন থেকে আমার ব্যাটিং অনেক উন্নত হয়েছে'।

কালকের এ জয়ের পর খুলনার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে দশ খেলায় ৬ পয়েন্ট। শেষ চারের স্বপ্ন নষ্ট হয়েছে গত ম্যাচেই। তাই বিপিএলটা জয় দিয়ে শেষ করতে চান নাফিস। এদিকে খুলনার আশা না থাকলেও শেষ চারে যাওয়ার ভালো সুযোগ অপেক্ষা করছে দশ খেলা শেষে সমানসংখ্যক পয়েন্ট পাওয়া রাজশাহীর সামনে। মুক্তার আলির ৩০ বলে ৪১ রান, শেষ পর্যন্ত দলকে ১৩৮ রানের সম্মানজনক স্কোর এনে দিয়েছে। নইলে দলটি এক পর্যায়ে ৮৪ রানে ছয় উইকেট খুইয়ে বসেছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দুরন্ত রাজশাহী- ২০ ওভারে ১৩৮/৯ (মুক্তার অপ: ৪১, আরভিন ২৩, কাপুগদোরা ১৮, সান্তোকি ৩/১৮, সাঞ্জামুল ২/১৫, নুর ২/২১)।

খুলনা রয়েল বেঙ্গলস- ১৯.২ ওভারে ১৪০/৩ (নাফিস ৭১, মুবারক অপ: ৩০, ব্রিট ২৩, এডমন্ডসন ২/২৯)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহরিয়ার নাফিস।

ফল: খুলনা রয়েল বেঙ্গলস জয়ী ৭ উইকেটে।

Friday, February 8, 2013

আবারও রংপুর রাইডার্সকে হারাল সিলেট রয়্যালস

আবারও রংপুর রাইডার্সকে হারাল সিলেট রয়্যালস


বিপিএলের ১৯তম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল সিলেট রয়্যালস। আজ দ্বিতীয়বারের মতো এই নবাগত দলটিকে হারের স্বাদ দিয়েছে মুশফিকুর রহিমের দল। ১৯৮ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ১ ওভার হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় সিলেট। এই জয় দিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানটা বেশ ভালোমতোই ধরে রাখল তারা।
জয়ের জন্য ১৯৮ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ঝড়োগতিতেই শুরু করেছিলেন সিলেটের দুই বিদেশী ওপেনার শিবনারায়ন চন্দরপল ও পল স্টার্লিং। প্রথম ২৬ বলে তাঁরা যোগ করেছিলেন ৪৮ রান। পঞ্চম ওভারে ২০ রান করে আউট হন স্টার্লিং। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে ঝড়ো ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন চন্দরপল। মাত্র ২৩ বলে তাঁরা সংগ্রহ করেন ৪৫ রান। নবম ওভারের প্রথম বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান চন্দরপল যখন সাজঘরে ফেরেন তখন দলীয় স্কোরবোর্ডে জমা হয়ে গিয়েছিল ৯৩ রান। ২৯ বলে ৫১ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলে আউট হন চন্দরপল। দুই ওভার পরে নাজমুল হক মিলনও সাজঘরে ফিরলে জয়ের আশা খানিকটা কমে যায় সিলেটের। তবে তারপরও দারুণ ব্যাটিং করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ১৬তম ওভারে মুশফিক সাজঘরের পথ ধরলে তীরে এসে তরী ডোবার আশঙ্কায় দুলতে থাকে সিলেট শিবির। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক মুশফিক। তবে শেষপর্যায়ে মমিনুল হক ও এলটন চিগুম্বুরার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সিলেট। মমিনুল ২৩ ও চিগুম্বুরা ২৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

Wednesday, February 6, 2013

স্বর্ণের সৃষ্টিতে ব্যাকটেরিয়া!

স্বর্ণের সৃষ্টিতে ব্যাকটেরিয়া!

সেই অনাদিকাল থেকেই মানুষের কাছে অত্যন্ত দামি এক ধাতু হিসেবে কদর রয়েছে স্বর্ণের। কিন্তু ভূগর্ভ থেকে খনিজ সম্পদ হিসেবে উত্তোলিত স্বর্ণ আসলে ঠিক কী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বর্ণ হয়ে ওঠে তা পৃথিবীর মানুষের কাছে এখনও অনেকটা রহস্যের মতোই রয়ে গেছে। আর রহস্যময় এই জগতের মাঝে এবার কিছুটা হলেও আলোর সন্ধান পেয়েছেন কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। মূলত খনিজ হিসেবে আহোরিত স্বর্ণপিণ্ডের মাঝে অতিমাত্রায় ব্যকটেরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা করতে যেয়েই ভূগর্ভে স্বর্ণের আয়ন থেকে স্বর্ণপিণ্ডের উদ্ভবে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা খুঁজে পেয়েছেন এই গবেষকরা। তাদের মতে পানিতে দ্রবীভূত স্বর্ণের আয়নকে পরিবর্তিত করতে ডেলফসিয়া অ্যাসিডোভোরানস নামের বিশেষ এক ধরনের ব্যকটেরিয়ার ভূমিকা থাকতে পারে। গবেষণাগারে দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ ও ফলাফল বিশে¬ষণে এই গবেষকরা দেখতে পান, এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া ভূগর্ভে স্বর্ণের আয়নের সংস্পর্শে আসার পর বিশেষ এক ধরনের উপাদান নিঃসরণ করে। মূলত স্বর্ণের আয়নে যে বিষাক্ত উপাদান থাকে তা থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই ডেলফসিয়া অ্যাসিডোভোরানস জাতের এই ব্যাকটেরিয়ারা বিশেষ এই উপাদানটির নিঃসরণ ঘটায়। এর ফলে এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার চারপাশে এক ধরনের বর্ম তৈরি হয়। এতে একদিকে যেমন ব্যাকটেরিয়াগুলো রক্ষা পায় অন্যদিকে এই একই উপাদান স্বর্ণের বিষাক্ত আয়নকেও স্বর্ণকণায় রূপান্তরিত করে। পরবর্তী সময়ে ভূপৃষ্ঠের চাপ ও অন্যান্য নানা অনুঘটকের প্রভাবে এই স্বর্ণকণা থেকে সৃষ্টি হয় স্বর্ণপিণ্ডের। কাজেই স্রেফ রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু ভেবে যারা এতদিন ধরে ব্যাকটেরিয়াকে শুধু আপদ বলেই ভেবেছেন এবার স্বর্ণের সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার বিষয়টি স্বীকৃত হলে সেই ব্যাকটেরিয়ার কোনো কোনো প্রজাতিকে হয়তো মানুষ সমীহের চোখেও দেখবে।

বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ঢাকার

বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ঢাকার


বিপিএলে প্রথম আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের করা ২০৮ রান ছিল সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। দ্বিতীয় আসরে গ্ল্যাডিয়েটর্সের ব্যাটিং আরও দূর্দান্ত। এরই মধ্যে তারা তিনবার ২’শ ছাড়িয়েছে। গতকাল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স রেকর্ডটাই বদলে দিয়েছে। তাদের চার উইকেটে করা ২১৭ রান শুধু এই আসরে নয়, দুই আসরেরই দলীয় সর্বোচ্চ। এবার খুলনার বিপক্ষে ২০৪/৪ রান, এরপর এই রংপুর বিপক্ষেই তারা করে ২০২/৫ রান। তবে এ আসরে ঢাকার রেকর্ড ভেঙ্গে ২১৩ রান করে দুরন্ত রাজশাহী। ওই ম্যাচে ২০৯ রান করে বরিশাল বার্নার্স। গতকাল ক্রিকেটার আনামুল হক বিজয়ের দ্বিতীয় ফিফটিতে ভর করে ঢাকা ২’শ ছাড়ানো স্কোর গড়ে। বিজয় ৬টি চার ও ৫টি ছয়ের মারে ৮৩ রানে আউট হন। তার সঙ্গে ইনজুরি থেকে ফেরা সাকিব করেন ৪২ রান। সাকিব ২৪ বলে ৪২ রান করে আউট হলেও ২২ বলে ৪২ করে অপরাজিত থাকেন স্টিভেন্স। দু’জনই দু’টি করে ছক্কা হাঁকান।

Tuesday, February 5, 2013

বিপিএলে লড়াইয়ে টিকে থাকল বরিশাল

বিপিএলে লড়াইয়ে টিকে থাকল বরিশাল


পয়েন্ট তালিকার সবচেয়ে নিচের দুইটি দল বরিশাল বার্নার্স ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস আজ মুখোমুখি হয়েছিল একেবারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে। শেষ চারে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়টা খুবই প্রয়োজন ছিল দুই দলেরই। আর এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন বরিশালের ক্রিকেটারেরা। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আজহার মেহমুদের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরমেন্সের ওপর ভর করে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় বরিশাল। বল হাতে ৩ উইকেট শিকারের পর ব্যাট হাতেও ৫২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন আজহার। বরিশালের অধিনায়ক ব্রাড হজ করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান।
আজকের এই হারের ফলে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণটা জটিল হয়ে গেল খুলনার। ৮ ম্যাচ শেষে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে আছে শাহরীয়ার নাফীসের দল। নিজেদের বাকি চারটি ম্যাচে তো জিততেই হবে, সেই সঙ্গে নির্ভর করতে হবে অনেক রকম যদি-কিন্তুর উপর। অন্যদিকে ৮ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনো লড়াইয়ে টিকে থাকার আশা টিকিয়ে রাখল বরিশাল।
জয়ের জন্য ১৪৬ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোভাবে করতে পারেননি খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের ব্যাটসম্যানেরা। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৫ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেছেন জো ডেনলি ও সাব্বির রহমান। তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান আজহার ও ব্রাড হজ। ১৪তম ওভারের শেষ বলে হজ যখন আউট হন তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ১৮ রান। ৪৭ বলে ৬৩ রানের চমৎকার এক অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেছেন হজ।

ট্রান্সফরমার চুরির নেপথ্যে ৭৫ চোর

ট্রান্সফরমার চুরির নেপথ্যে ৭৫ চোর

ট্রান্সফরমার চুরির নেপথ্যে সক্রিয় পাঁচ গ্রুপের ৭৫ চোর। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তাদের বিচরণ। চলে প্রভাবশালী এক নেতার পৃষ্ঠপোষকতায়। ট্রান্সফরমারের খোঁজ পেলেই ওই চোরের দল ট্রাক নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। চুরি শেষে গাজীপুরের চোরাই কারখানায় গলিয়ে তা কেজি দরে বিক্রি করে দেয়। গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সংঘবদ্ধ ট্রান্সফরমার চোরদের এমন সিন্ডিকেট শনাক্ত করেছে। আবিষ্কার করেছে চোরাই ট্রান্সফরমারের একটি গোপন কারখানা। সেখান থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৯টি ট্রান্সফরমার ও বিপুল পরিমাণ ইলেক্ট্রিক সামগ্রী জব্দ করেছে। আটক করেছে ওই কারখানার দুই কর্মচারীকে। তারা হচ্ছে- জুয়েল (২৮) ও আনোয়ার (৩৫)। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (পশ্চিম) মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির সংঘবদ্ধ চোরের দল ধরতে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছি। হাতেনাতে ধরতে গিয়ে একজন সাহসী অফিসার হারিয়েছি। তা সত্ত্বেও তদন্তে সাফল্য এসেছে। দুর্ধর্ষ চোর সিন্ডিকেট শনাক্ত করতে পেরেছি। এছাড়া, গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি এলাকায় একটি গোপন কারখানা শনাক্ত করা হয়েছে। ওই কারখানায় ৯টি ট্রান্সফরমারসহ বিপুল পরিমাণ চোরাই ইলেকট্রিক সামগ্রী পাওয়া গেছে। তদন্ত সূত্রমতে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, টঙ্গী, মুন্সীগঞ্জ, সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রত্যেকটি চুরির কৌশল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এগুলো একই সিন্ডিকেটের কারসাজি। এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা। সংস্কারবাদী হিসেবে সমালোচনা আছে তার নামে। তার নিয়ন্ত্রণেই গাজীপুর ও কোনাবাড়ি এলাকার ওই গোপন ট্রান্সফরমারের কারখানা গড়ে উঠেছে। এ কারখানায় চোরাই ট্রান্সফরমার গলিয়ে বিভিন্ন উপাদান আলাদা করা হয়। পরে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। গোয়েন্দারা জানান, ওই গডফাদারের পৃষ্ঠপোষকতায় অন্ততপক্ষে ৭৫ জন চোরের তালিকা পাওয়া গেছে। এরা ৫টি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিদিন ৫টি ট্রাক নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বেরিয়ে পড়ে। কোন এলাকায় ট্রান্সফরমার আছে, কোনটি চুরি করা সহজ হবে- তা আগে থেকেই রেকি করে নেয়। পরে নির্ধারিত সময়ে চুরির অপারেশন শুরু করে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, চুরির আগে চোরের দল ট্রাকে কাঠের গুঁড়া, রড, ইটপাথর ও বিভিন্ন অস্ত্র মজুত রাখে। যে ট্রান্সফরমার চুরি করবে, ঠিক তার নিচেই ট্রাকটি রেখে দেয়। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই ট্রান্সফরমার খুলে ট্রাকের ওপর বসিয়ে টান মেরে চলে যায়। সূত্রমতে, এই কৌশলে গত তিন মাসে প্রায় তিন শ’ ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ বিদ্যুৎ অফিসে জমা পড়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক জুয়েল ও আনোয়ার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা বেতনভোগী। প্রতিদিনই তাদের কারখানায় ২-৩টি করে ট্রান্সফরমার আসে। সেগুলো তারা হিট দিয়ে বিভিন্ন পার্টস আলাদা করে রাখে। পরে তাদের মালিকের তত্ত্বাবধানে সেগুলো বিভিন্ন ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। সূত্র জানায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে কারখানার চোরের দল দু’একটি ট্রান্সফরমারের বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখে। ধরা পড়লেই ওই কাগজপত্র দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়। এছাড়া, ওই প্রভাবশালী নেতার এপিএস ফোন করে অল্প সময়েই সব কিছু ম্যানেজ করে ফেলে। এতে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারাও সন্দেহ করতে পারেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোস্তফা বলেন, চোরাই ট্রান্সফরমার সন্দেহে একটি ট্রাক আটক করেছিলাম। পরে কাগজপত্র দেখিয়ে সেগুলো ছাড়া পেয়েছে। উপর থেকে নির্দেশ ছিল- কাগজপত্র থাকলে হয়রানি না করতে। গত ৩রা ফেব্রুয়ারি ভোরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় সংঘবদ্ধ ট্রান্সফরমার চোরদের ধরতে গিয়ে ডিবি পুলিশের এসআই শরীফুল ইসলাম চোরদের হামলায় নিহত হন। এরপর থেকেই ওই চোর চক্রের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. মশিউর রহমান বলেন, চোরদের কাউকে ছাড়বো না, সে যে দলেরই হোক। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Monday, February 4, 2013

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১



জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর সীমান্তে গত শনিবার রাতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বোমা হামলা ও গুলিতে ৩ জন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী আহত হয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। একই সময়ে বিএসএফ অপর একজন গরু ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। এ সময় ভারতে নিখোঁজ পিতা-পুত্র দুইজন ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) পক্ষ হতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর সীমান্তের ৬৩ নং মেইন পিলারের নিকট দিয়ে গরু আনতে গত শনিবার রাতে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করলে টহলরত ভারতের পুটিখালী ক্যাম্পের বিএসএফ ৩টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি ছোঁড়ে। বোমা আঘাত ও গুলিতে সাইদুর রহমান, কামাল উদ্দিন ও শুকুর আলী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এ সময় একই সীমান্তের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকা হতে অপর গরু ব্যবসায়ী মুকুলকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। ভারতের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকার লালুপুর মাঠ হতে এলাকাবাসী গুলিবিদ্ধ শুকুর আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, নিখোঁজ পিতা-পুত্র সলিম ও খায়রুল গতকাল দুপুরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। আহতরা পুলিশী ভয়ে ও গ্রেফতার এড়াতে পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার অজ্ঞাতস্থানে গিয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিজিবি চুয়াডাঙ্গাস্থ ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ হতে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল ডিবি কর্মকর্তার

মুন্সীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রাণ গেল ডিবি কর্মকর্তার


আগেই তথ্য ছিল দুর্বৃত্তরা বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করে ট্রাকে করে পালাচ্ছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যরা তাদের ধরতে মাইক্রোবাসে করে পিছু নেন। বার বার নির্দেশ সংকেত দিয়েও কোনভাবেই ট্রাকটি থামাতে পারছিলেন না তারা। একপর্যায়ে জীবন বাজি রেখে ট্রাকে ওঠার চেষ্টা করেন ডিবি কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শরিফুল ইসলাম খান (৩৮)। তিনি চালককে ট্রাক থামাতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ট্রাকে থাকা অপর এক দুর্বৃত্ত ভারী লোহার দণ্ড দিয়ে তাকে আঘাত করে। দ্রুতগতিতে ছুটে চলা ট্রাক থেকে রাস্তায় ছিঁটকে পড়েন শরিফুল। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে দুর্বৃত্তদের ধরার জন্য পিছু নেয়া ডিবি সদস্যরা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন ওই ট্রাকের চালক শিপন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোররাতে মুন্সিগঞ্জ গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান জানান, তারা আগেই জানতে পারেন দুর্বৃত্তরা ডেমরার সারুলিয়া এলাকা থেকে ভোররাতে বিদ্যুতের একটি চোরাই ট্রান্সফরমার ট্রাকে করে নিয়ে যাবে। এ অবস্থায় ডিবি পুলিশ দুটি মাইক্রোবাসে করে ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। ট্রাকটি দেখা মাত্রই ডিবি পুলিশ সেটিকে থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা ট্রাক না থামিয়ে উপর থেকে ডিবি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করতে থাকে। এ পর্যায়ে ট্রাকটি সামনে থাকা অপর একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। তখন সাব-ইন্সপেক্টর শরিফুল দৌড়ে ট্রাকের বাম পাশের দরজার হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে পড়েন এবং চালককে ট্রাক থামাতে বলেন। কিন্তু চালক না থামিয়ে ট্রাকের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। এ অবস্থায় এক দুর্বৃত্ত ভারী লোহার দণ্ড দিয়ে আঘাত করলে ছিঁটকে রাস্তায় পড়ে যান শরিফুল।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার পর ডিবি পুলিশের গুলিতে ট্রাক চালক শিপন গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পলাতক অপর দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দিন খান জানান, কিছু কাঠের গুঁড়ির বস্তা ও একটি ট্রান্সফরমারসহ ট্রাকটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শরিফুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে। সেখানে যোহরের নামাজের পর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের আইজি হাছান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) শহীদুল হক, ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা । জানাজা শেষে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, শরিফুল একজন সাহসী পুলিশ অফিসার ছিলেন। সাহসিকতার জন্য তিনি একাধিকবার পুলিশের বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোয়েন্দা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চন্দনগাতি গ্রামে। তার পিতা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ খান। স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে রাজধানীর দক্ষিণ গোরানে বসবাস করতেন শরিফুল। শরিফুলের স্ত্রী জেসমিন বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। ১৯৯৯ সালের ৫ আগস্ট কনস্টেবল পদে পুলিশ বাহিনীতে চাকরি নেন শরিফুল। ২০১০ সালে তিনি সাব-ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান। শরিফুল মারা যাওয়ার খবর পৌঁছালে তার গ্রামের বাড়িতে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পুত্র শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার পিতা। বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার মা। শেষ খরব পাওয়া পর্যন্ত শরিফুলের লাশ চন্দনগাতি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

Sunday, February 3, 2013

নয়া লেবাসে এমএলএম ব্যবসা

নয়া লেবাসে এমএলএম ব্যবসা


বাহারি সব নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার আবারও নয়া ফাঁদ পেতেছে বেশ কয়েকটি এমএলএম কোম্পানি। খোদ রাজধানী শহরে বসেই ওই প্রতারণার জাল পাতা হচ্ছে দেশব্যাপী। এবার মাত্র ৫ মাসে দ্বিগুণ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাঠে কর্মী নামানো হয়েছে। সূত্রমতে ইতিমধ্যে এরাও হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। সরজমিনে অনুসন্ধানকালে দেখা গেছে, রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির রেস্টুরেন্টে বসে কাজ করছে দু’টি কোম্পানি, পুরানা পল্টন কেন্দ্রিক একটি, উত্তরা এলাকায় তিনটি এবং বনানীতে একটি প্রতারক চক্র। গোয়েন্দা সূত্রমতে বিগত তিন বছরে দেশের দেড় কোটি গ্রাহকের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ৬২টি এমএলএম কোম্পানি। গোয়েন্দাদের রিপোর্টে হাতিয়ে নেয়া টাকার পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা বলা হলেও প্রতারিত গ্রাহকদের মতে হাতিয়ে নেয়া টাকার পরিমাণ কম করে হলেও ২৫ হাজার কোটি টাকা। গত বছর ডিসেম্বর মাসে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এমএলএম কোম্পানিগুলোর একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায় দেশে ৬২টি এমএলএম কোম্পানি বছরে দ্বিগুণ লাভ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের প্রায় দেড় কোটি গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই ৬২টি এমএলএম কোম্পানির মধ্যে একমাত্র ডেসটিনি’র গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। ওই সব প্রতারক এমএলএম কোম্পানিগুলো হচ্ছে-গ্লোবাল নিউওয়ে প্রাঃ লিমিটেড, ইউনিপেটুইউ, ইউনিগেটওয়ে, ডেসটিনি ২০০০ লিঃ, ভিসার‌্যাব, মানিসুইম, রেভনেক্স, স্পিক এশিয়া, লিনাক্স, টিভিআই, ইউনাইকো, এম স্টার, এমওয়ে, গুগল ইডুকেশন, মিটস আইটি ডেভেলপমেন্ট, ভাইভ মাউন্টেন, জুরতি, স্কাই ল্যান্সর, টাইমটু পেমেন্ট, রিসওডালন্ড, ক্রিয়েশন, ডায়মন্ড ফরেক্স, ইউনি ফরেক্স, ইউনোব্যান, এ্যাসিনিটি গ্রো, মাইকোব্রিফ, পারফেক্ট রিস, গেইনপ্লাস, ডিসিএল, মাইক্রোডেট টেকনোলজি, দি ব্লু, ওসানা, ইউনাইডেট ফরেক্স, ইস্কোপবিডি, সার্ভে ওয়ার্ল্ড, ডোল্যান্‌চার, বিডিএফ, ক্লিকটুপে, পিক এশিয়া অনলাইন, মা, যুবক, রুটস, ফাইন্যান্স, র‌্যাবন এক্স, পলিকম, ইজেন্ট ইন্টারন্যাশনাল, ল’ এ্যাট ভিশন, ইউনি গেটওয়ে।
সরকারি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ৬২টি প্রতারক এমএলএম কোম্পানিকে প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এ পর্যন্ত সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে মাত্র যুবক, ডেসটিনি ও ইউনিপেটুইউ’র কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে দেখা যায় বাহারি সকল নামের ওই সব এমএলএম কোম্পানির বেশির ভাগের উৎপত্তিস্থল দেশের বাইরে। অনলাইন ভিত্তিক প্রতারণার কাজে বাইরের কোন দেশের নিয়ন্ত্রিত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। দেখা গেছে, প্রতারক প্রতিষ্ঠান ইউনিপেটুইউ’র নিয়ন্ত্রণ ছিল মালয়েশিয়ার কয়েক ব্যক্তির হাতে। গ্লোবাল নিউওয়ে নিয়ন্ত্রণ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক কানাডিয়ান নাগরিক ও এক শ্রীলঙ্কার নাগরিক। বাংলাদেশ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া ওই সব এমএলএম কোম্পানিগুলোর টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে। কি পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে সরকারের কাছে তার সঠিক কোন পরিমাণ না থাকলেও গ্রাহকদের সূত্রে জানা গেছে, ইউনিপেটুইউ’র বেশির ভাগ টাকা পাচার করা হয়েছে মালয়েশিয়াতে, গ্লোবাল নিউওয়ের টাকা চলে যাচ্ছে কানাডায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডেসিটিনি’র বিপুল অঙ্কের টাকা পাচার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, কানাডা, হংকং ও সিঙ্গাপুরে। ওই সব দেশের ব্যাংকগুলোতে ডেসটিনি ও ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিনের নামে একাধিক ব্যাংক একাউন্টের সন্ধান পেয়েছে দুদক। সিঙ্গাপুরে ২টি ব্যাংক একাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে রফিকুল আমিনের ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত আছে ৬৪, ৫৮১ সিঙ্গাপুরি ডলার এবং ডেসটিনি’র নামে একাউন্ট খুলে রাখা হয়েছে ১৩ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার। হংকংয়ের একটি ব্যাংকে ডেসটিনি’র এমডি রফিকুল আমিনের নামে আছে বাংলাদেশের মুদ্রায় ৫০ কোটি টাকা। বেস্ট এভিয়েশনের নামে একাউন্ট খুলে রফিকুল আমিন ফ্রান্সের একটি ব্যাংকে রেখেছেন ৮৪ হাজার ৬শ’ ইউরো। এছাড়াও দুদক কানাডার কনস্কোভশিয়ার ব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের জেপি মরগান পেজ ব্যাংকে রফিকুল আমিনের নামে অর্থের সন্ধান পেয়েছে দুদক। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনে করছেন ৬২টি এমএলএম কোম্পানির হাতিয়ে নেয়া টাকার পুরোটাই হয়তো বিদেশে পাচার করা হয়েছে, ব্যাপক অনুসন্ধান করলে হয়তো সেটা বের করা সম্ভব।
দেশের দেড় কোটি গ্রাহকের ওই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে ওই প্রতারক কোম্পানিগুলোর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির প্রতারকরা নতুন লেবাসে আবার দেশব্যাপী প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। নতুন লেবাসে ওই সব এমএলএম কোম্পানিগুলো হচ্ছে ইউনি ফরেক্স, গ্লোবাল নিউওয়ে, টু পার্সেন্ট ইউনি ফরেক্স, পিপি মেঘা, বুলিস ট্রেড ও জাস্ট বিল পেইড ও বি ব্লু। মাত্র ৫ মাসে বিনিয়োগকৃত টাকার দ্বিগুণ লাভ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা নয়া ফাঁদ পেতেছে। রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি অভিজাত খাবার হোটেলে দিন-রাত বসে ইউনি ফরেক্স এমএলএম কোম্পানি পরিচালনা করছে জাহিদ নামের এক যুবক। ওই যুবক এক সময়ে কাজ করতো ইউনিপেটুইউ’র দালাল হিসেবে। পুরানা পল্টনে তারা একটি অফিসও ভাড়া নিয়েছে। অফিস ডেকোরেশনের কাজ চলছে। মোবাইল ফোনে সারা দেশের ইউনিপেটুইউ’র কর্মীদের আবার গোছানো হচ্ছে মাত্র ৫ মাসে দ্বিগুণ লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। গ্লোবাল নিউওয়ে পরিচালনা করছে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান ও এক শ্রীলঙ্কার নাগরিক। রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যান বাড়িতে বিশাল আলিশান ভবনের দু’টি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে চলছে তাদের অফিস। রাজধানীর পান্থপথের বসুন্ধরা সিটির দু’টি রেস্টুরেন্টে বসে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে টু পার্সেন্ট ইউনি ফরেক্স ও বি ব্লু নামের দু’টি এমএলএম প্রতারক প্রতিষ্ঠান। বি ব্লু কোম্পানির কর্ণধার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন মিঠু নামের এক যুবক এবং টু পার্সেন্ট ইউনি ফরেক্সের দেশীয় প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছে আফিস নামের এক যুবক। তাদের সূত্রে জানা গেছে, মাত্র তিন মাসে দ্বিগুণ লাভ দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ইতিমধ্যেই তাদের বেশ কিছু গ্রাহক জুটে গেছে। যদিও তারা জানান, অন্য কোম্পানির মতো তারা প্রতারক নন, গ্রাহকের টাকায় ব্যবসা করেই তারা গ্রাহকদের লাভ সহ টাকা ফেরত দিতে পারবেন। নতুন লেবাসে প্রতারক ব্যবসায় নাম লেখানো এমএলএম কোম্পানি বুলিস ট্রেড পিপি মেঘার এমডি বলে পরিচয় দেয়া এমএ মাসুম ও নাকিব হাসান দু’জনই তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় উত্তরা এলাকায় বলে জানান। আপাত অফিসের ঠিকানা প্রকাশ করা নিষেধ বলে জানান। সূত্রমতে নতুন লেবাসে এমএলএম কোম্পানি চালু করা ওই দুই যুবক একসময়ে কাজ করতো জিজিএন নামের একটি এমএলএম কোম্পানিতে। জিজিএন প্রতারণা করে চলে যাওয়ার পর তারা কাজ করতো নিউওয়েতে সেখান থেকে ইউনিপেটুইউতে। এখন তারা নতুন লেবাসে নতুন নামে শুরু করেছে এমএলএম ব্যবসা। সরকারের কোন দপ্তরের অনুমোদনহীন ও সকল প্রতারক প্রতিষ্ঠান যে আবারও সর্বনাশা খেলায় নেমেছে সে খবর রাখে না সরকারের কোন বিভাগ।

মার্চ মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার

মার্চ মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার


চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনিশ্চয়তায় পড়া পদ্মা সেতুর কাজ শিগগিরই শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, নিজেদের টাকায় হবে সেতু নির্মাণের কাজ। কেউ আসুক বা না আসুক, তার জন্য আর কোন অপেক্ষা নয়। কোন দাতা সংস্থা আসলে ভালো। না আসলে চলতি বছরের আগামী মার্চ মাসেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের দরপত্রের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা এখন সরকারের চ্যালেঞ্জ। শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে ১৭তম কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট আন্তঃক্লাব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কাস্টম ক্রীড়া পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠান শেষে মুহিতকে ঘিরে ধরেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পত্রিকার সাংবাদিকরা। এই সময় তাদের কাছে পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনার কথা জানান তিনি। মিডিয়ার কর্মীরা তার কাছে এই নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, বহু নাটকীয়তার পর গত শুক্রবার বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি তাদের ওয়েবসাইটে এই নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা বলেছে, এই মুহূর্তে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে তাদেরও। এর ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে দেশের আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ। পদ্মা সেতুর কাজের প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে- গতকাল এই বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন অর্থমন্ত্রী। এরপর ভেবে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য এই মাস শেষে বৈঠকে বসবো। তারপর সেখানেই সব কিছু চূড়ান্ত করবো। বলতে পারেন মার্চ মাসের মধ্যেই টেন্ডার কল করা হবে। এরপর আরও ৪৫ দিন থাকবে যারা আসতে চায়। তাদের কাগজপত্র বাছাইয়ের জন্য নিজেরা ১৫/২০ দিন সময় নেবো। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায় পদ্মা সেতুর কাজ ২/৩ মাসের মধ্যে শুরু করতে পারবো।’ ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আপত্তির পর নতুন করে কি ভাবছে সরকার-এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক নিয়ে আমাদের আর কোন ভাবনা নেই। তারা যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই আমরা কাজ করেছি। একবার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে সেটাও খতিয়ে দেখেছি। এখন তাদেরকে না জানিয়ে দেয়ার পর কেউ যদি আসতে চায় তাহলে ভালো।’ এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করার যে আগ্রহ ছিল তা আপাতত আর নেই। এই বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, আমরা ক্ষমতায় এসে এই সেতুর কাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যেভাবে গড়িমসি করছে তাতে নির্বাচনের আগে তা শুরু করা নিয়ে সবাইকে অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে।’
তিনি এডিবি, জাইকাসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘কেউ যদি আসে তাহলে আমাদের আপত্তি থাকবে না। তবে না এলেও নিজেরাই সেতুর কাজ শুরু করবো। নিজেদের টাকা দিয়ে করবো। আগে কাজটা শুরু করা দরকার। এই সিদ্ধান্ত ভালো হলো না খারাপ তা পরে ভেবে দেখা যাবে।’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে বক্তব্য দেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। তিনি বর্তমান সরকারের আমলে রাজস্ব আদায় অতীতের চেয়ে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন।

নীতিমালা প্রস্তুত- বৈধ হচ্ছে পুলিশের ডোনেশন বাণিজ্য

নীতিমালা প্রস্তুত- বৈধ হচ্ছে পুলিশের ডোনেশন বাণিজ্য


বৈধ হচ্ছে পুলিশের ডোনেশন বাণিজ্য। এতদিন ডোনেশন নেয়া ছিল রেওয়াজ। এবার আইনি কাঠামোর মধ্যে তা আনা হচ্ছে। এ নিয়ে খসড়া নীতিমালাও তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই তা চূড়ান্ত করা হবে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খসড়াটি তৈরি করেছে। এতে ২টি কমিটির মাধ্যমে ডোনেশন নেয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক ৫ সদস্যর কমিটি প্রথমে ডোনেশন দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রতিবেদন দেবে। পরে ডোনেশন গ্রহণ অনুমোদন নামের আরও একটি কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে সমপ্রতি এ নীতিমালা উপস্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুলিশ ডোনেশন হিসেবে গাড়ি, আসবাবপত্র কিংবা অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে থাকে। এদিকে ডোনেশন নেয়ার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- পুলিশ বিভাগে মোট জনবল প্রায় ১ দশমিক ৫ লাখ এর বেশি। বিগত ৪ বছরে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে আনুমানিক ৩০ হাজার নতুন জনবল অন্তর্ভুক্ত হলেও সে অনুযায়ী যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধ পায়নি। বাংলাদেশ পুলিশের সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে গতিশীলতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে কোন ঘটনা সংঘটনের আগে অথবা ঘটনা পরবর্তী সময়ে ন্যূনতম সময়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি জনমনে আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কে ইতিবাচক নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। আর পুলিশ সদস্যদের এ গতিশীলতা নিশ্চিতকরণে যানবাহনের কোন বিকল্প নেই। এতে বলা হয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে যানবাহনে তীব্র সঙ্কট বিদ্যমান, কাজেই আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার স্বার্থে বিভিন্ন সময় পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক ডোনেশনের গাড়ি নেয়া হয়। যেহেতু সম্পূর্ণ সরকারি কাজে এবং কেবলমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থেই এ রূপ ডোনেশনের গাড়ি ব্যবহার করা হয়, কাজেই এক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে।
ডোনেশন নীতিমালায় যা আছে
নীতিমালায় আটটি ধারার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ১ম, ডোনেশনের গাড়ি গ্রহণ সংক্রান্তে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক ন্যূনতম ৫ সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। ২য়, বাংলাদেশ পুলিশের যে কোন ইউনিট কর্তৃক ডোনেশন গ্রহণের প্রস্তাবনা ওই কমিটি কর্তৃক পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষা করা হবে। ৩য়, গঠিত কমিটি কোন প্রস্তাবনাপ্রাপ্ত হয়ে ওই প্রস্তাবনার গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেশ করবে। ওই প্রতিবেদনে ডোনেশনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বিশেষ করে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম, ঋণ সংক্রান্ত তথ্য, ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য, স্থানীয় এলাকায় ভাবমূর্তি এবং ডোনেশনের প্রস্তাবনার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের কার্যক্ষেত্রে কোন নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে কিনা এতদ্‌সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক ডোনেশন গ্রহণের পক্ষে বা বিপক্ষে সুস্পষ্ট মতামত প্রদান করবেন। ৪র্থ, ডোনেশন গ্রহণ অনুমোদন সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যেতে পারে। ৫ম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক একই উদ্দেশ্যে গঠিত কমিটির কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবনা যাচাই-বাছাই পূর্বক এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। ৬ষ্ঠ, ডোনেশন গ্রহণের পক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রাপ্ত হলে এ জাতীয় যানবাহনের পৃথক তালিকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক সংরক্ষণ করা হবে। ৭ম, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কর্তৃক প্রেরিত //টিওঅ্যান্ডই-এর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত অনুমোদনকালে ডোনেশনকৃত যানবাহনের সঙ্গে টিওঅ্যান্ডই// অন্তর্ভুক্ত নতুন যানবাহন সমন্বয় করা হবে। এবং ৮ম, ডোনেশনকৃত যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, ব্যবহার, মেরামত, সংরক্ষণ, দুর্ঘটনা, আর্থিক সংশ্লেষ এবং অকেজোকরণে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
ডোনেশন বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্ব
এর আগে গত বছরের ২৮শে আগস্ট বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটিতে বিরোধ দেখা দেয়। সংসদীয় কমিটি ডোনেশন নেয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ওই বৈঠকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন ও মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার পক্ষে মত দেন। তাদের যুক্তি ছিল- ডোনেশন নেয়া বন্ধ হলে পুলিশি তৎপরতায় ভাটা পড়বে। একই সঙ্গে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করাও বাধাগ্রস্ত হবে। বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পুলিশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের ডোনেশন নিয়ে থাকে। এটা অনুচিত। এতে অনেক আইন ভঙ্গকারী বিনিময়ে পুলিশের কাছ থেকে সুবিধা পেয়ে থাকেন। নামে ডোনেশন হলেও পরে বিষয়টি ঘুষ হিসেবে দেখা দেয়। তাই এখনই এটা বন্ধ করা উচিত। সভাপতির এ বক্তব্যর পরই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এখনই এটা বন্ধ করা উচিত হবে না। পুলিশের নানা সমস্যা রয়েছে। সীমাবদ্ধতাও অনেক। ডোনেশন হিসেবে অনেকেই গাড়ি, আসবাবপত্র কিংবা অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে থাকেন। এগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ নিয়ে কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য যুক্তি-পাল্টা যুক্তি দেখান। এ প্রসঙ্গে আইজিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সমর্থন করেন। পরে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার পরামর্শ দেয়া হয়। সংসদীয় কমিটি তাদের পরামর্শে বলে, অভিযুক্ত কিংবা অভিযোগকারী কারও কাছ থেকে কোন ধরনের ডোনেশন নেয়া যাবে না। এ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য জাতীয় পার্টি দলীয় এমপি মুজিবুল হক মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্টমন্ত্রী ভিন্ন মত দিয়েছেন। তবে কমিটির সদস্যরা আলোচনা শেষে আইনি কাঠামোর মধ্যে পুলিশের ডোনেশন নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এখন যেভাবে ডোনেশন নেয়া হচ্ছে তা মোটেই আইনসিদ্ধ নয় বলে জানান তিনি।