Pages

Showing posts with label Bangladesh-India Border Murder. Show all posts
Showing posts with label Bangladesh-India Border Murder. Show all posts

Monday, February 4, 2013

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১

জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে আহত ৩, আটক ১



জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর সীমান্তে গত শনিবার রাতে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বোমা হামলা ও গুলিতে ৩ জন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী আহত হয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। একই সময়ে বিএসএফ অপর একজন গরু ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। এ সময় ভারতে নিখোঁজ পিতা-পুত্র দুইজন ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) পক্ষ হতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হরিহরনগর সীমান্তের ৬৩ নং মেইন পিলারের নিকট দিয়ে গরু আনতে গত শনিবার রাতে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করলে টহলরত ভারতের পুটিখালী ক্যাম্পের বিএসএফ ৩টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় ও গুলি ছোঁড়ে। বোমা আঘাত ও গুলিতে সাইদুর রহমান, কামাল উদ্দিন ও শুকুর আলী মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এ সময় একই সীমান্তের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকা হতে অপর গরু ব্যবসায়ী মুকুলকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। ভারতের ভাজনঘাট ফার্ম এলাকার লালুপুর মাঠ হতে এলাকাবাসী গুলিবিদ্ধ শুকুর আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এদিকে অপর একটি সূত্র জানায়, নিখোঁজ পিতা-পুত্র সলিম ও খায়রুল গতকাল দুপুরে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। আহতরা পুলিশী ভয়ে ও গ্রেফতার এড়াতে পার্শ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলার অজ্ঞাতস্থানে গিয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিজিবি চুয়াডাঙ্গাস্থ ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ হতে বিএসএফকে প্রতিবাদ জানিয়ে চিঠি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

Tuesday, January 29, 2013

সিলেট সীমান্ত থেকে ৪ বাংলাদেশীকে অপহরণ করেছে বিএসএফ

সিলেট সীমান্ত থেকে ৪ বাংলাদেশীকে অপহরণ করেছে বিএসএফ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত থেকে চার বাংলাদেশীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বিএসএফ। গতকাল বিকালে সীমান্ত এলাকায় পায়চারী করার সময় তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় বিজিবি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। বিএসএফ পতাকা বৈঠকে সাড়া দিলেও গতকাল রাত পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় লোকজন জানান, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আলেম মাওলানা হাবিব আল জালাল ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিতে সোনারহাট সীমান্তের ভাদেশ্বর গ্রামে আসেন। গতকাল বিকালে স্থানীয় ভাদেশ্বর গ্রামের যুবক সোহেল আহমদ, নাজমুল ইসলাম, মাওলানা হাবিব আল জালালসহ চারজন সোনার হাট ও কলুমছড়া সীমান্ত ফাঁড়ির মধ্যবর্তী স্থানে পায়চারী করছিলেন। এ সময় সীমান্তের ওপার থেকে বিএসএফ জওয়ানরা এসে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিজিবির ৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল শফিউল আযম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আজ বৈঠক হবে। স্থানীয় লোকজন জানান, মাওলানা হাবিব সহ চার জন পায়চারী করার সময় ভুলক্রমে জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঢুকে পড়লে তাদের ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

Tuesday, January 15, 2013

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ পিএসসিজি বলেছেন, সীমান্তে হত্যা কোনভাবেই
গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে কোন বাংলাদেশী নিহত হলে প্রতিবারই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। এ হত্যা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকেও জোরালে পদক্ষেপ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সীমান্তের অধিবাসীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সীমারেখার কতগুলো নিয়ম আছে। আইনের প্রতি সকলেরই শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। যে কোন সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে যাওয়ার নিয়ম নেই। আর সামপ্রতিক (১লা ও ২রা জানুয়ারি) ইন্সিডেন্ট (হত্যাকাণ্ড) যেগুলো ঘটেছে বেশির ভাগই ‘ক্রসিং বর্ডার’-এর কারণে ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার। রাজধানীর পিলখানার সদর দপ্তরের মিডিয়া কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্ডারের ওই পাড়ে যখন ঘটনা ঘটে আমাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারা তখন তাদের মত করে বক্তব্য দেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। খুব জোরালোভাবে এর প্রতিবাদও আমরা জানিয়েছি। কিন্তু সেটা (হত্যাকাণ্ড) জিরো লেভেলে আসছে না। এটা দুঃখজনক। তিনি জানান, আত্মরক্ষার্থে উভয় পক্ষই গুলি চালাতে পারে। তবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি না হলে সীমান্তের দুঃখজনক ঘটনা বাড়বে। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহের চার বছর পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। ওই বিদ্রোহের পর পিলখানা ও দেশের অন্যান্য স্থানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দপ্তরে নিরাপত্তার জন্য যে সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাসায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সমপ্রতি তাদেরও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আজিজ আহমেদ বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপর বিভিন্ন জায়গায় আমার সঙ্গে সেনাসদস্যরা গেলেও এখন আর তারা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ৫ই ডিসেম্বর বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন আজিজ আহমেদ। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পিলখানায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদেরও গত ৩১ ডিসেম্বর প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের যেসব মামলা চলছে সেগুলোতে আমরা শুধু প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছি। বিচারে খালাসপ্রাপ্তরা আবারও বাহিনীতে ফিরে এসেছে এবং স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনও করছে। ইতিমধ্যে ওই বিদ্রোহের ঘটনায় সারা দেশে বিজিবি আইনে করা মামলাগুলোর বিচার শেষ হয়েছে। আর বিদ্রোহের সময় হত্যার ঘটনায় প্রচলিত আইনে মামলার কার্যক্রম চলছে। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর খুব শিগগিরই চালু হবে জানিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আগামী ২০শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই আঞ্চলিক সদর দপ্তরগুলো উদ্বোধন করবেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল, চট্টগ্রাম, রংপুর ও যশোরে এই চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, বিজিবিকে আরও আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে ১২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টারের জায়গায় ১৬টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার করা হবে। মোট ৫৪টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ঢাকায় ২টি ও ঢাকার বাইরে ব্যাটালিয়ন হবে ৫২টি। এগুলো ছাড়াও রাইফেল সিকিউরিটি ইউনিট, ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন, সিগন্যাল সেক্টর, আইসিটি ব্যাটালিয়নকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে কাউন্টার পয়েন্টে যেসব বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন তাদের, এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে যথাসময়ে ও দ্রুত যাওয়ার জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৭০০ মোটরসাইকেল দেয়া হবে। এতে করে টহলে সুবিধা বাড়বে। তাতে সীমান্তে চোরাচালান রোধ করা যাবে। মহাপরিচালক জানান, বিজিবি বিওপিতে সদস্যদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি, ৬৫টি সোলার সিষ্টেম এবং প্রায় প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহ, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের বিচারের বিষয়ে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে কোন ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই বিজিবির নিজস্ব আইনে বিদ্রোহের বিচার সম্পন্ন করেছি। আমাদের ধারণা এ বিষয়ে কারও বিরূপ ধারণা নেই। জাতির কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। যারা এই মামলায় খালাস পেয়েছে তারা ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছে। বিজিবির প্রচলিত সব সুযোগ সুবিধাও তারা পাচ্ছে এবং পাবে। এখন ৮৪৭ জনের বিচার হবে বিদ্রোহে হত্যা সহ অন্যান্য অপরাধের জন্য। এর বিচার হবে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে। তিনি বলেন, বিচারিক বিষয় যেহেতু সময় নির্ধারণ করে হয় না, তাই কবে নাগাদ তা শুরু ও শেষ হবে তা বুঝবে দেশের আদালত। কিন্তু এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি কোন নিরপরাধ লোক সাজা পাবে না। বিচারকাজে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও তথ্যবহুল প্রমাণ দরকার উল্লেখ করে বিজিবি’র মহাপরিচালক বরাবরের মতো সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাইদ খান, উপমহাপরিচালক বিজিবি (যোগাযোগ) কর্নেল খোন্দকার ওবায়দুল আহসান প্রমুখ।