Pages

Showing posts with label Dhaka. Show all posts
Showing posts with label Dhaka. Show all posts

Monday, March 4, 2013

চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখার গুজব

চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখার গুজব



রোববার মাঝরাতে চাঁদের গায়ে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিকৃতি দেখা গেছে বলে গতকাল গুজব ছিল দেশের বিভিন্ন স্থানে। সকাল থেকেই মানুষের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনে, মেসেজের মাধ্যমে এবং ফেসবুকেও ছড়ানো হয় এই গুজব। বগুড়ার মসজিদ থেকেও প্রচার করা হয় এই
তথ্য। চাঁদে সাঈদীর ছবি দেখা গেছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় গতকাল বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সহিংসতায় জড়ায়। হরতালের পক্ষে পিকেটিংয়েও অংশ নেয়। এ কারণে বগুড়ায় সকাল থেকে কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়ও এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামে এমন গুজব শুনে।
এদিকে আলেমরা জানিয়েছেন, এ ধরনের গুজব বা প্রচারণা সত্য বলে মনে করা ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের বিরোধী। যারা এমন গুজব সত্য বলে মনে করবেন তারা বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবেন।

কনডেম সেলে সাঈদীর দিনলিপি


কনডেম সেলে সাঈদীর দিনলিপি


ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বিমর্ষ জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী দৈনিক পত্রিকাও পড়ছেন না। সারাক্ষণ চিন্তা করেন, তসবিহ জপেন। আদালতে ফাঁসির রায় হওয়ার আগেও তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন, সে সময় পত্রিকা পড়তেন, আচরণও অনেকটা স্বাভাবিক ছিল, নিরাপত্তা প্রহরীদের নাগালে পেলে আলাপ জমাতেন, কথা বলতেন। কিন্তু বদলে গেছেন ২৮শে ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ে তার ফাঁসির দণ্ডাদেশ হওয়ার পর থেকে। মামলার রায়ের দিন থেকে তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না, নিরাপত্তা প্রহরীদের সঙ্গেও কথা বলছেন না।
তিনি খুবই বিমর্ষ, চিন্তিত, সারাক্ষণ চুপচাপ থাকছেন, নিয়মিত নামাজ পড়ছেন, তসবিহ জপছেন। চুল-দাড়িতে নিয়মিত মেহেদি ব্যবহার করলেও এখন সেটাও করছেন না।
কোন আত্মীয়-স্বজনও তার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি, পরিবারের কেউ আসেন নি জেলগেটে, সাক্ষাতের অনুমতিও চাননি। কয়েদির পোশাক পরেই কেন্দ্রীয় কারাগারের ৮ ফুট বাই ৮ ফুট কনডেম সেলে বসবাস করছেন তিনি। জেল কোডের বিধান অনুসারে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামিদের কোন কাজ দেয়া হয় না, সে কারণে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও কোন কাজ দেয়া হয়নি। জেলের বাইরে থেকে তার নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদির মধ্যে ব্রাশ, টুথপেস্ট, তেল, সাবান নেয়ার অনুমতি আছে সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জেল গেটে তার নামে টাকাও জমা আছে। সূত্রমতে মামলার রায়ের পর তিনি নিত্য ব্যবহার্য ওই সব দ্রব্যের কিছু নেননি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন ২৩ জন ফাঁসির আসামি। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, মহিলা ৫ জন। ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের খাবার দেয়া হয় অন্যান্য সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মতোই। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকেও সে ভাবেই খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর খাবার দেয়া হয় চিকিৎসকের পরীক্ষার পর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিদিন খাবারের জন্য বরাদ্দ আছে তিন বেলা ১২ ছটাক চাল ও আটা। সকালে দেয়া হয় আটার রুটি, দুপুর ও রাতে ভাত। প্রতিদিন ডাল এক বেলা, সবজি দুই বেলা, যেদিন দুপুরে মাছ সেদিন রাতে দেয়া হয় মাংস আবার দুপুরে মাংস দেয়া হলে রাতে মাছ। তিনি জানান, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জন্য বাইরের কোন খাবার দেয়ার অনুমতি নেই। জেলের খাবারই তাকে খেতে হয়। সূত্রমতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যে সব দৈনিক পত্রিকা সরবরাহ করা হয় ওই সব পত্রিকার মধ্য থেকে যে কোন একটি পত্রিকা নিজের টাকায় পড়তে পারবেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মামলার রায় হওয়ার পর তিনি কোন পত্রিকা পড়ছেন না।
যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামিদের মধ্যে একমাত্র দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীই আছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। গোলাম আযম ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আছেন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী আছেন কাশিমপুরে কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ১-এ। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ইউনিট ২-তে আছেন জামায়াত নেতা কামরুজ্জামান ও মীর কাশেম আলী।

Thursday, February 28, 2013

কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই


কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই

কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই

বস্তির কুঁড়ে ঘরের বাসিন্দা মর্জিনা। তার একমাত্র মেয়ে জুলেখা। ৫ সন্তানের মধ্যে সে ছোট। বড়ই ইচ্ছে ছিল একটু ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দেবেন। এ জন্য অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা না করিয়ে কষ্টে উপার্জিত ৭৫ হাজার টাকা ঘরে জমিয়ে ছিলেন। মার্চ মাসে মেয়েকে স্বামীর ঘরে তুলে দেবেন। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ড মর্জিনা পরিবারের সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। মা ও মেয়ের আহাজারিতে বস্তির আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তাদের দৃষ্টিতে ভাসছে কেবল আগুনের ধ্বংসাত্মক চিহ্ন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তির অন্য পরিবারে বইছে কান্নার রোল। শ’ শ’ হতদরিদ্র অসহায় মানুষ তাদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কল্যাণপুর নতুন বাজার বস্তিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় শতাধিক কাঁচা ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার ১০টি ইউনিট সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় র‌্যাব, পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ বস্তিবাসীদের জানমাল উদ্ধার করে। লুটপাটের আশঙ্কায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। ৭ নম্বর বস্তির সব ঘর ভস্মীভূত এবং ১ নম্বর বস্তির কিছু ঘর পুড়ে গেছে। বস্তির ৪০টি দোকান ঘর ও গোডাউনসহ দেড় শতাধিক কাঁচাঘর ভস্মীভূত হয়েছে। বস্তিবাসী অনেকে অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে দেরি হয়েছে। তারা যখন এসে পৌঁছেছে তখন আগুন বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহাবুব বলেন, সংবাদ পেয়ে ছুটে আসতে কোন বিলম্ব হয়নি। রাস্তায় জ্যাম ছিল। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের সদস্যরা ৪৫ মিনিটে পুরো বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অন্যথায় আগুন পুরো বস্তির ঘরগুলো গ্রাস করতে পারতো। আগুনের সূত্রপাত প্রসঙ্গে বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি রান্না ঘরের লাকড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কল্যাণলপুর নতুন বাজার ৭ নম্বর বস্তির একটি ঘর থেকে হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া উঠতে থাকে। বাতাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুনের কুণ্ডলি বড় হয়ে বস্তিতে ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। কিছু সময়ের মধ্যে আগুন একের পরে এক বস্তির বিভিন্ন ঘর গ্রাস করে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ১ নম্বর বস্তির ঘরগুলোতে। এ সময় বস্তির বেশির ভাগ নারী-পুরুষ কাজে বাইরে ছিলেন। সংবাদ পেয়ে তারা ছুটে আসেন। আগুনের থেকে তাড়াহুড়া করে বেরুতে গিয়ে এবং মালামাল উদ্ধার করার সময় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আগুন লাগার সংবাদে বস্তির পাশের র‌্যাব-৪ ক্যাম্প সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। তারা বস্তিবাসীর সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করেন।

Sunday, February 17, 2013

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার


জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। শাহবাগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীজুড়ে বিস্তার করা হয়েছে নিরাপত্তার জাল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার। রায়ট কার ও টিয়ারশেল গান নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ। প্রস্তুত রাখা
হয়েছে এলিট ফোর্স সোয়াত টিম। বসানো হয়েছে অতিরিক্ত কন্ট্রোল রুম। ঢাকা মোট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বাঁচাতে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা এখন মরিয়া। অব্যাহতভাবে তারা চালিয়ে যাচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। তারা শাহবাগ স্কয়ারেও হামলা চালাতে পারে বলে আগাম তথ্য পেয়েছি। এ কারণে শাহবাগসহ রাজধানীজুড়ে নতুন ছক অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
ডিএমপি হেড কোয়ার্টার সূত্র জানায়, সম্ভাব্য অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে রাজধানীতে ১০ হাজার পোশাকধারী এবং ১ হাজার রিজার্ভ ফোর্সসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় ১৫ হাজার সদস্য কাজ করছে। টহলে রয়েছে র‌্যাবের প্রায় ২ হাজার সদস্য। দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, ডিবি পুলিশ এবং বোম ডিস্পোজাল টিম রাস্তায় ওয়ার্মআপ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখা যায়- নয়া পল্টন, মতিঝিল, কাওরানবাজার, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মহাখালী, মিরপুর-১০, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর মোড়, যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অধিকতর তৎপর র‌্যাব-পুলিশের সদস্যদের। স্পটে স্পটে কাজ করছে থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান, ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জামায়াত-শিবিরের প্রধান টার্গেট পুলিশ। তবে নিজ দলের নেতাদের বাঁচাতে তারা যে কোন ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। শাহবাগে হামলার আশঙ্কাকে আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তাই সেখানে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো রাজধানীকেই আমরা ওয়াচের মধ্যে রেখেছি। চোরাগোপ্তা হামলার কারণে কখনও কখনও আমরা আগে থেকে হামলার বিষয়ে ধারণা পাচ্ছি না। তবে হামলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, জামায়াতের যে কোন নাশকতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত। তারা যাতে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কোন ধরনের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে পুলিশের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করেছি। বাড়তি ফোর্স নিয়োজিত করেছি। শাহবাগ কেন্দ্রিক পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে কন্ট্রোল রুম। টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি সিসি ক্যামেরা। প্রবেশপথগুলোতে দেয়া হয়েছে আর্চওয়ে। বড় বড় ভবনগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে। শাহবাগ ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ডিবি ও সোয়াতকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

Saturday, February 16, 2013

চিটাগাং-রাজশাহীর ফাইনাল আজ

চিটাগাং-রাজশাহীর ফাইনাল আজ


অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সেমিতে এসেছে চিটাগাং কিংস। গত আসরে শেষ মুহূর্তে সেমিফাইনালে খেলতে না পারা চিটাগাং কিংস আজ ফাইনালে ওঠার প্রথম ধাপ টপকাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুরন্ত রাজশাহীর। দুরন্ত রাজশাহীর এটি দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল। কাগজে-কলমে অনেক শক্তিশালী দল নিয়েও চট্টগ্রাম হোঁচট খেতে খেতেই আগায়। তবে ১২ ম্যাচে ছয়টি জিতেছে আর ছয়টি হেরেছে। তবে দুরন্ত রাজশাহীর কপালটা ভাল-মন্দের মিশেল। একেবারে দুর্বল দল না হলেও তারা প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিল আসর থেকে। কিন্তু শেষ দুই দিনে বরিশালের হার আর জিতের কারণে ভাগ্য বদলে যায় তাদের। পয়েন্ট ১২ ম্যাচে ১০। বরিশাল আর রংপুরের পয়েন্টও সমান ছিল। কিন্তু বাইলজ অনুসারে তিন দলের নিজেদের লড়াইয়ে বেশি জেতার সুবাদে দুরন্ত রাজশাহী সেমিতে খেলার সুযোগ পায়। কে না চায় ফাইনালে খেলতে। এই দু’দলও মরিয়া। কিন্তু আজই তার ফয়সালা নয়। হারলে বিদায়টা নিশ্চিত, তবে ফাইনালে খেলাটা নিশ্চিত করতে, খেলতে হবে আরেক ম্যাচ। গতকালের পরাজিত দল সিলেটের বিরুদ্ধে তাদের মাঠে নামতে হবে আগামীকাল। আজ সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। দুরন্ত রাজশাহীর সফল ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক জহুরুল নিজেও মানছেন এটা তাদের ভাগ্যে পাওয়া সুযোগ। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের হারানোর কিছুই নেই। তাই এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।’ মজার ব্যাপার হলো- দ্বিতীয় আসরে এ দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল তাদের প্রথম ম্যাচে। কম রানের সেই ম্যাচে দুই রানে জয় পেয়েছিল রাজশাহী। তবে দ্বিতীয় দেখায় দুরন্ত রাজশাহীকে ৩৩ রানে হারিয়ে চিটাগাং কিংস প্রতিশোধ নিয়ে সমান হয়।
চিটাগাং কিংসের জন্য একটি ধাক্কাও আছে আজ। তাদের জয়ের পথ দেখানো অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর চলে গেছেন দেশে। তাই এই জায়গাটাকে শূন্যস্থান বলে মানছেন দলের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি বলেন, ‘আসলে টেইলরের চলে যাওয়া আমাদের জন্য শূন্যস্থানই। এটা পূরণ হওয়ার না। তবে জ্যাকব ওরাম তার কাজটা করবে। আমরা ক্রিকেটারদের উপর ভরসা আছে। তারা চাইলে সবই সম্ভব।’ টেইলর চলে যাওয়ায় এখন আবার মাহমুদুল্লাহই দলের নেতৃত্বে ফিরতে পারেন বলে দলের পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে দুরন্ত রাজশাহীর অধিনায়ক শ্রীলঙ্কার কাপুগেদারাকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা। অসুস্থ থাকায় গতকাল তিনি মাঠেই আসেননি। তবে তিনি খেলতে পারবেন কিনা আজ মাঠে নামার আগে চূড়ান্ত হবে। তবে অন্যতম তারকা তামিম ইকবালও দলে থাকছেন না। হাতের ইনজুরির কারণে তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে দুই সপ্তাহ। তবে তারা এ ম্যাচের জন্য নতুন কোন বিদেশী ক্রিকেটারও আনছে না। পুরনো দলের উপরই ভরসা আছে বলে জানিয়েছেন দলের মালিক মুশফিকুর রহমান মোহন।
খেলা শুরু সন্ধ্যা ৬টায়
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে

Thursday, February 14, 2013

সেমিতে চিটাগং বিপদে রাজশাহী

সেমিতে চিটাগং বিপদে রাজশাহী

 


শেষ ম্যাচে চিটাগং কিংসের সঙ্গে ৩৩ রানে হেরে গেল দুরন্ত রাজশাহী। আর এতেই দুরন্ত পড়ে যায় ঝুলন্ত সমীকরণে। তবে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে নিশ্চিন্তে শেষ চার নিশ্চিত করেছে চিটাগং কিংস। গতকাল দুরন্তকে দিনের শেষ ম্যাচে বরিশালের জয়-পরাজয়ে ওপর তাকিয়ে থাকতে হয়েছে। সিলেটের সঙ্গে শেষ ম্যাচে বরিশাল হারলে দুরন্তর জন্য শেষ চারে উঠার সুযোগ বেঁচে থাকবে। আর বরিশাল জিতে গেলে বাদ পড়ে যাবে রাজশাহী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরিশাল-সিলেটের ম্যাচ চলছিল। এই পর্যন্ত ১২টি ম্যাচে ৫ জয়ে দুরন্ত রাজশাহীর পয়েন্ট ১০। বরিশালের হাতে আছে দুটি ম্যাচ। তাদের ৯ ম্যাচে ৪ জয়ে পয়েন্ট ৮। আজ তারা মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্সের। যদি রংপুরের সঙ্গে বরিশাল হারলেও রাজশাহী বাদ পড়ছে। আর যদি জিতে সেই ক্ষেত্রে রাজশাহীর জন্য থাকছে সুযোগ। রংপুরের পয়েন্ট এখনও ১১ ম্যাচে ১০ যদি। তাই আজ বরিশাল হেরে গেলে তিন দলের পয়েন্ট সমান হবে। তখন রানরেটে সুযোগ থাকছে দুরন্ত রাজশাহীর। তবে গতকালের ম্যাচে বরিশাল জয় পেলে তখন শেষ দল হিসেবে আজ সেমির লড়াইয়ে নামবে রংপুর-বরিশাল।
দুরন্ত রাজশাহী ১৯৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ১৬০ রান তুলতে সক্ষম হয়। দুই ওপেনার চালর্স কভেন্ট্রি ও সাইমন ক্যাটিচ ২৯ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যে দ্রুতই ১৫ বলে ২৪ রান তুলে আউট হন কভেন্ট্রি। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন শ্রীলঙ্কার দিলশান মুনাভিরা ও ক্যাটিচ। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৫ রানে মুনাভীরার বিদায়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী। এর পর উইকেটে এসেই মারমুখী ব্যাট চালান জিয়াউর রহমান। ২টি করে চার ও ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করা জিয়াউরকে বোল্ড করে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার শন টেইট। শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন ক্যাটিচ। সে সুবাদে ২০ ওভারে তাদের ইনিংস থামে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানে। কিংসের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন টেইট ও রুবেল হোসেন।
এর আগে টস জিতেই ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন রাজশাহীর অধিনায়ক চামারা কাপুগেদেরা। শুরুতেই নাঈম ইসলামকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিয়ে রাজশাহীকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার মনির হোসেন। তবে রাজশাহীর সাফল্যকে ম্লান করার জন্য জুটি বাঁধেন ইংল্যান্ডের জেসন রয় ও জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর। দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন তারা। তবে দলীয় ৭৬ রানে টেইলরকে ফিরিয়ে দিয়ে চিটাগং কিংসের রানের গতি থামান রাজশাহীর মুক্তার আলী। ২টি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে ৩০ রান করে থামেন টেইলর। টেইলরের বিদায়ের পর রয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধতে ক্রিজে আসেন নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডেসকাট। দ্রুত উইকেটে সেট হয়ে রাজশাহীর মারমুখী মেজাজে দু’জনই পেয়ে যান ফিফটির স্বাদ। রয় ৩৫ বলে এবং ডেসকাট ৩২ বলে রাখেন ফিফটি করেন। তবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার মারে ৫৫ বলে ৯২ রানে অপরাজিত থাকেন জেসন। আর শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৯ বলে ৬৫ রান করেন ডেসকাট। রাজশাহীর পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মনির হোসেন ও মুক্তার আলি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: রাজশাহী (ফিল্ডিং)
চিটাগং কিংস: ২০ ওভারে ১৯৩/৩; (রয় ৯২*, ডেসকাট ৬৫, টেইলর ৩০; মনির ১/৩০)।
দুরন্ত রাজশাহী: ২০ ওভারে ১৬০/৮; (ক্যাটিচ ৫৩, মুনাভিরা ৩৫, জিয়াউর ২৬; রুবেল ২/২৩, টেইট ২/৩৫)।
ফল: চিটাগং ৩৩ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: জেসন রয়
আজকের খেলা

ম্যাচ: বরিশাল-রংপুর
সময়: দুরপুর সাড়ে তিনটা
ম্যাচ:ঢাকা-চিটাগং
সময়: সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
ভেন্যু: মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়াম

Sunday, February 10, 2013

দুর্দশা কাটছে না বরিশালের

দুর্দশা কাটছে না বরিশালের


বিপিএলে নিজেদের আগের আট ম্যাচে জয় মাত্র তিনটিতে। মিরপুরে আজ শনিবার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে ম্যাচেও দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বরিশাল বার্নার্স।
ঢাকার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রান তুলতে সক্ষম হয় বরিশাল। সংগ্রহটাই বলে দেয়, নাটকীয় কিছু না ঘটলে আরেকটি হার সইতে হবে ব্রাড হজের দলকে।
ব্যাট হাতে বরিশালের হয়ে সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন আজহার মাহমুদ। তাঁর সংগ্রহ ৩০ রান। এ ছাড়া সাব্বির রহমান ১৮, ফারভিজ মাহারুফ ১৫, ব্রাড হজ ১২ ও অলক কাপালি ১০ রান করেন। ঢাকার হয়ে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আলফনসো টমাস ও ক্রিস লিডল প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
দলের রান ১০১। জিততে আর চাই আর মাত্র ১৪ রান। এ সময় বল হাতে এলেন শুভাগত হোম চৌধুরী। সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং-ঝড় থামাতে বরিশাল বার্নার্সের দলনায়ক আনলেন তাঁকে। শুভাগত অধিনায়কের সিদ্ধান্তের প্রতিদান দিলেন সাকিবকে নাজমুল ইসলামের দুর্দান্ত এক ক্যাচে আউট করে। কিন্তু সাকিব সাজঘরে ফিরলেন বটে, ততক্ষণেই ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। ৩১ বলে সাত চার ও এক ছয়ে সাকিব করেছেন ৫৪ রান। ওপেনার দিলশান ৩৯ বলে সাত চারে ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে ৯ উইকেটে ১১৪ রান তোলে বরিশাল।
সাকিব-দিলশানের ৯২ রানে জুটির ওপর ভর করে আট উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে ঢাকা। এ জয়ে নয় খেলায় ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে উঠল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সমান পয়েন্ট হলে রানরেটে দুয়ে সিলেট রয়্যালস।
বিপিএলে বরিশাল নিজেদের আগের আট ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। মিরপুরে আজ শনিবার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে ম্যাচেও দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।
ঢাকার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রান তুলতে সক্ষম হয় বরিশাল। সংগ্রহটাই বলে দেয়, নাটকীয় কিছু না ঘটলে আরেকটি হার সইতে হবে ব্রাড হজের দলকে।
ব্যাট হাতে বরিশালের হয়ে সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন আজহার মাহমুদ। তাঁর সংগ্রহ ৩০ রান। এ ছাড়া সাব্বির রহমান ১৮, ফারভিজ মাহারুফ ১৫, ব্রাড হজ ১২ ও অলক কাপালি ১০ রান করেন। ঢাকার হয়ে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আলফনসো টমাস ও ক্রিস লিডল প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান।

Saturday, February 9, 2013

খেলোয়াড় বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়

বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়


ক্রিকেটারদের বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো দুরন্ত রাজশাহী গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত খেলায় পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে থাকা খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের কাছে ৭ উইকেটে হেরে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এ খেলায় হার জিতকে ছাপিয়ে যায় দুরন্ত রাজশাহীর বিদেশিদের খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা।

রাজশাহী শেষ পর্যন্ত পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে সক্ষম হলেও খেলা শুরুর ২০ মিনিট আগে বিদেশিরা খেলতে রাজি হচ্ছিল না। বিদেশি ক্রিকেটাররা পাওনা অর্থ অনাদায়ে খেলতে অসম্মতি জানালেও পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপে মাঠে নামে। এ ঘটনা পুরো বিপিএলের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কেননা বিপিএল শেষের পথে অথচ এখনো বিদেশিরা প্রথম কিস্তির টাকাই পায়নি। তাই কাল রাজশাহী সাত বিদেশি এক প্রকার বেঁকেই বসে। খেলা শেষে দলের নিয়মিত অধিনায়ক চামারা কাপুগেদারা এর ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, 'বিপিএল শেষের পথে অথচ আমরা যারা বিদেশি আছি তারা কোন টাকা-পয়সাই পায়নি। তাই আজ (কাল) আমরা সিদ্ধান্ত নেই টাকা না পেলে মাঠে নামবো না। পরে বিসিবি চেয়ারম্যান আমাদেরকে মূল বিষয়টি জানিয়েছেন। তাই পরে মাঠে নেমেছি'।

খেলোয়াড়দের কিস্তির প্রথম অংশের টাকা বিপিএল শুরুর সময় দেয়ার কথা থাকলেও ফ্রাঞ্চাইজিরা সময়মত বিসিবির কাছে সেই টাকা জমা দেয়নি। ফলে খেলোয়াড়রাও সময়মত টাকা পায়নি। তবে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে- এই আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত বিদেশিরা মাঠে নামে। কিন্তু আধ ঘন্টার এই নাটকের জন্য দলের পারফর্মেন্সও খারাপ হয়েছে। যদিও কাপুগেদারা সেটি মানতে নারাজ, 'আমি মনে করি না এই ঘটনা ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। আশা করছি পরের ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা দুর্দান্তভাবে ফিরে আসবে'। ঘটনাবহুল এ খেলায় খুলনার অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিসও উঠে আসেন আলোচনায়। কেননা কাল তিনি নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে খুলনাকে নেতৃত্ব দেননি। বরং রিকি ওয়েসেলসকে দায়িত্ব দিয়ে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান নাফিস এবং ভারমুক্ত এই ব্যাটসম্যান এবারের বিপিএলের তৃতীয় ফিফটি করেন। কাল খেলা শেষে নাফিস বলেন, 'আমি মাঠে আসার সময় টিম ম্যানেজম্যান্টকে ফোনে বলেছি আর অধিনায়কত্ব করতে চাই না। ম্যাচ জিততে হলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত নৈপুণ্য অনেক বেশি দরকার। আমি অধিনায়কত্ব ছেড়ে নিজের মত খেলার চেষ্টা করবো'। এবারের বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান নাফিসের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে তোলা ৭৭ রানের ইনিংস। ফলে রাজশাহীর ১৩৮ রানের জবাবে নাফিস, শ্রীলংকান জিহান মুবারক (২৭ বলে ৩০) ও ট্রেভিস ব্রিট (২৬ বলে ২৩) মিলে চার বল বাকি থাকতে খুলনাকে জিতিয়ে দেন সাত উইকেটে। নাফিস নিজের ব্যাটিং নিয়ে বলেন, 'আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম পর্ব খেলিনি। তখন নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্যারের কাছে অনেক কিছু শিখেছি। ওটাই আমার কাজে দিয়েছে। মূলত তখন থেকে আমার ব্যাটিং অনেক উন্নত হয়েছে'।

কালকের এ জয়ের পর খুলনার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে দশ খেলায় ৬ পয়েন্ট। শেষ চারের স্বপ্ন নষ্ট হয়েছে গত ম্যাচেই। তাই বিপিএলটা জয় দিয়ে শেষ করতে চান নাফিস। এদিকে খুলনার আশা না থাকলেও শেষ চারে যাওয়ার ভালো সুযোগ অপেক্ষা করছে দশ খেলা শেষে সমানসংখ্যক পয়েন্ট পাওয়া রাজশাহীর সামনে। মুক্তার আলির ৩০ বলে ৪১ রান, শেষ পর্যন্ত দলকে ১৩৮ রানের সম্মানজনক স্কোর এনে দিয়েছে। নইলে দলটি এক পর্যায়ে ৮৪ রানে ছয় উইকেট খুইয়ে বসেছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দুরন্ত রাজশাহী- ২০ ওভারে ১৩৮/৯ (মুক্তার অপ: ৪১, আরভিন ২৩, কাপুগদোরা ১৮, সান্তোকি ৩/১৮, সাঞ্জামুল ২/১৫, নুর ২/২১)।

খুলনা রয়েল বেঙ্গলস- ১৯.২ ওভারে ১৪০/৩ (নাফিস ৭১, মুবারক অপ: ৩০, ব্রিট ২৩, এডমন্ডসন ২/২৯)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহরিয়ার নাফিস।

ফল: খুলনা রয়েল বেঙ্গলস জয়ী ৭ উইকেটে।

Wednesday, February 6, 2013

বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ঢাকার

বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ঢাকার


বিপিএলে প্রথম আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের করা ২০৮ রান ছিল সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। দ্বিতীয় আসরে গ্ল্যাডিয়েটর্সের ব্যাটিং আরও দূর্দান্ত। এরই মধ্যে তারা তিনবার ২’শ ছাড়িয়েছে। গতকাল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স রেকর্ডটাই বদলে দিয়েছে। তাদের চার উইকেটে করা ২১৭ রান শুধু এই আসরে নয়, দুই আসরেরই দলীয় সর্বোচ্চ। এবার খুলনার বিপক্ষে ২০৪/৪ রান, এরপর এই রংপুর বিপক্ষেই তারা করে ২০২/৫ রান। তবে এ আসরে ঢাকার রেকর্ড ভেঙ্গে ২১৩ রান করে দুরন্ত রাজশাহী। ওই ম্যাচে ২০৯ রান করে বরিশাল বার্নার্স। গতকাল ক্রিকেটার আনামুল হক বিজয়ের দ্বিতীয় ফিফটিতে ভর করে ঢাকা ২’শ ছাড়ানো স্কোর গড়ে। বিজয় ৬টি চার ও ৫টি ছয়ের মারে ৮৩ রানে আউট হন। তার সঙ্গে ইনজুরি থেকে ফেরা সাকিব করেন ৪২ রান। সাকিব ২৪ বলে ৪২ রান করে আউট হলেও ২২ বলে ৪২ করে অপরাজিত থাকেন স্টিভেন্স। দু’জনই দু’টি করে ছক্কা হাঁকান।

Tuesday, January 29, 2013

‘শিবির দেখলেই গুলি’

‘শিবির দেখলেই গুলি’


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শিবির কর্মীদের দেখা মাত্র পুলিশকে গুলির নির্দেশ দিয়েছেন। আইজিপির সামনেই তিনি এ নির্দেশ দেন। গতকাল দুপুরে শিবিরের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে দেখতে যান পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার। তার সঙ্গে ছিলেন ডিএমপির কমিশনার বেনজির আহমেদ। তিনি হাসপাতালের তিন নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কনস্টেবল মোকলেছুর রহমানের খোঁজখবর নেয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘অস্ত্র ছিল না, গুলি করতে পারোনি? এখন থেকে শিবির দেখামাত্র গুলি করবা।’
এরপর চার নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পায়ে আঘাত পাওয়া কনস্টেবল জিয়াউরকে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পায়ের আঘাত সুস্থ হয়ে উঠে ওদের পা ভেঙে দিবা। উল্লেখ্য, গতকাল সকালে থেকে রাজধানীর দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, স্টেডিয়াম এলাকা, জিরো পয়েন্ট ও সচিবালয় এলাকায় শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
এতে মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হায়াতুজ্জামান, পেট্রোল ইন্সপেক্টর সানোয়ার, অপারেশন অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, সার্জেন্ট গোলাম সারোয়ারসহ ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, পুলিশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কারণে শিবিরকর্মীরা তাদের বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। হামলা চালিয়ে যে নাশকতা চালানো হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ সময় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক আবু মুসা মোহম্মাদ ফকরুল ইসলাম, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Sunday, January 20, 2013

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে পেশাদার অপরাধীরা

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে পেশাদার অপরাধীরা

সরকারের শেষ সময়ে এসে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় শতাধিক পেশাদার অপরাধী কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাস ধরে কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পর্কে ভাটা পড়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে নজরদারি।

গত তিন বছর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসীদের তালিকা ধরে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কারাবন্দি পেশাদার অপরাধীদের মুক্তির বিষয়টি মনিটর করছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে এমনটি হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় গত ছয় মাসে মাদারীপুরের পেশাদার অপহরণকারী ও খুনি হাকিম, পুলিশ শাহীন গ্রুপের মজিবর পেশাদার অপহরণকারী টিঅ্যান্ডটি কলোনির শাওন, ছিনতাইকারী রমজান ও সুমন,যাত্রাবাড়ীর সানডে গ্রুপের ছিনতাইকারী আলী, ধোলাইপাড়ের ছোট হান্নু, কারা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক কার্যালয় সূত্র বলছেন, পুরান ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকায় সানডে গ্রুপের ছিনতাইকারীদের বিচরণ, এদের হোতা আলী। এই দলটি মূলত রোববারে ছিনতাই করে। শুক্র ও শনিবার ব্যংক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা রোববার সকালে দুইদিনের ব্যবসার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যায়। এ সময়ই তাদের শিকার বানায় এই দলটি। আলীর গ্রেফতারের পর এই ধরনের ছিনতাই প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। এখন আলীসহ আরো ডজনখানেক পেশাদার ছিনতাইকারী মুক্তি পেয়েছেন। এরাই পরে বিভিন্ন বড় সন্ত্রাসীর দলে যোগ দিয়ে চুক্তিতে খুন, চাঁদাবাজি করে থাকে।

জানা গেছে, সরকারের একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী জামিন পেতে সন্ত্রাসীদের জন্য সুপারিশ করছেন। আরেকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী কারা কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে ত্বরান্বিত মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। আবার কিছু সন্ত্রাসী ডিবির চোখ ফাঁকি দিতে কারাগার বদল করে ঢাকার বাইরের কারাগারে চলে যাচ্ছেন।

কারাবিধি অনুযায়ী কারাবন্দিদের নিজ জেলার কারাগারে স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে।সন্ত্রাসীরা সেই বিধির সুযোগ নিয়ে কারাবাস শেষে ঢাকার বাইরের কারাগার থেকে নির্বিঘে বের হয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন কারা মহাপরিদর্শকও।

Tuesday, January 15, 2013

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’

‘সীমান্তে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়’


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ পিএসসিজি বলেছেন, সীমান্তে হত্যা কোনভাবেই
গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে কোন বাংলাদেশী নিহত হলে প্রতিবারই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। এ হত্যা বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকেও জোরালে পদক্ষেপ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সীমান্তের অধিবাসীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সীমারেখার কতগুলো নিয়ম আছে। আইনের প্রতি সকলেরই শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। যে কোন সীমান্তে ১৫০ গজের মধ্যে যাওয়ার নিয়ম নেই। আর সামপ্রতিক (১লা ও ২রা জানুয়ারি) ইন্সিডেন্ট (হত্যাকাণ্ড) যেগুলো ঘটেছে বেশির ভাগই ‘ক্রসিং বর্ডার’-এর কারণে ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার। রাজধানীর পিলখানার সদর দপ্তরের মিডিয়া কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্ডারের ওই পাড়ে যখন ঘটনা ঘটে আমাদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তারা তখন তাদের মত করে বক্তব্য দেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। খুব জোরালোভাবে এর প্রতিবাদও আমরা জানিয়েছি। কিন্তু সেটা (হত্যাকাণ্ড) জিরো লেভেলে আসছে না। এটা দুঃখজনক। তিনি জানান, আত্মরক্ষার্থে উভয় পক্ষই গুলি চালাতে পারে। তবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি না হলে সীমান্তের দুঃখজনক ঘটনা বাড়বে। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, পিলখানায় রক্তাক্ত বিদ্রোহের চার বছর পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। ওই বিদ্রোহের পর পিলখানা ও দেশের অন্যান্য স্থানে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দপ্তরে নিরাপত্তার জন্য যে সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাসায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সমপ্রতি তাদেরও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আজিজ আহমেদ বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পরপর বিভিন্ন জায়গায় আমার সঙ্গে সেনাসদস্যরা গেলেও এখন আর তারা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, গত ৫ই ডিসেম্বর বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেন আজিজ আহমেদ। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় পিলখানায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদেরও গত ৩১ ডিসেম্বর প্রত্যাহার করে নেয়া হয় বলে জানান তিনি। মহাপরিচালক বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের যেসব মামলা চলছে সেগুলোতে আমরা শুধু প্রশাসনিক সহায়তা দিচ্ছি। বিচারে খালাসপ্রাপ্তরা আবারও বাহিনীতে ফিরে এসেছে এবং স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালনও করছে। ইতিমধ্যে ওই বিদ্রোহের ঘটনায় সারা দেশে বিজিবি আইনে করা মামলাগুলোর বিচার শেষ হয়েছে। আর বিদ্রোহের সময় হত্যার ঘটনায় প্রচলিত আইনে মামলার কার্যক্রম চলছে। সীমান্তরক্ষা বাহিনীর চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর খুব শিগগিরই চালু হবে জানিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আগামী ২০শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী এই আঞ্চলিক সদর দপ্তরগুলো উদ্বোধন করবেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সরাইল, চট্টগ্রাম, রংপুর ও যশোরে এই চারটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, বিজিবিকে আরও আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে ১২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টারের জায়গায় ১৬টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার করা হবে। মোট ৫৪টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ঢাকায় ২টি ও ঢাকার বাইরে ব্যাটালিয়ন হবে ৫২টি। এগুলো ছাড়াও রাইফেল সিকিউরিটি ইউনিট, ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশন, সিগন্যাল সেক্টর, আইসিটি ব্যাটালিয়নকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিজিবি’র মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে কাউন্টার পয়েন্টে যেসব বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন তাদের, এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে যথাসময়ে ও দ্রুত যাওয়ার জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ১৭০০ মোটরসাইকেল দেয়া হবে। এতে করে টহলে সুবিধা বাড়বে। তাতে সীমান্তে চোরাচালান রোধ করা যাবে। মহাপরিচালক জানান, বিজিবি বিওপিতে সদস্যদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি, ৬৫টি সোলার সিষ্টেম এবং প্রায় প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহ, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের বিচারের বিষয়ে মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ইতিমধ্যে কোন ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই বিজিবির নিজস্ব আইনে বিদ্রোহের বিচার সম্পন্ন করেছি। আমাদের ধারণা এ বিষয়ে কারও বিরূপ ধারণা নেই। জাতির কাছেও তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। যারা এই মামলায় খালাস পেয়েছে তারা ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে কাজে যোগ দিয়েছে। বিজিবির প্রচলিত সব সুযোগ সুবিধাও তারা পাচ্ছে এবং পাবে। এখন ৮৪৭ জনের বিচার হবে বিদ্রোহে হত্যা সহ অন্যান্য অপরাধের জন্য। এর বিচার হবে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে। তিনি বলেন, বিচারিক বিষয় যেহেতু সময় নির্ধারণ করে হয় না, তাই কবে নাগাদ তা শুরু ও শেষ হবে তা বুঝবে দেশের আদালত। কিন্তু এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি কোন নিরপরাধ লোক সাজা পাবে না। বিচারকাজে প্রশাসনিক সহযোগিতা ও তথ্যবহুল প্রমাণ দরকার উল্লেখ করে বিজিবি’র মহাপরিচালক বরাবরের মতো সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাইদ খান, উপমহাপরিচালক বিজিবি (যোগাযোগ) কর্নেল খোন্দকার ওবায়দুল আহসান প্রমুখ।

Monday, January 14, 2013

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য

জেরিনের মৃত্যু নানা রহস্য


মেডিকেল কলেজছাত্রী মুন জেরিনা আরবিন ওরফে জেরিনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। জেরিনের স্বজনদের দাবি, জেরিনকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রেমিক স্মরণের হাতেই খুন হয়েছে জেরিন। অন্যদিকে পুলিশের হাতে আটক কাজী স্মরণের দাবি, রেল লাইন ধরে হাঁটার সময় দুর্ঘটনায় জেরিনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছে। তদন্তকারী সংস্থা রেলওয়ে থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, এ মৃত্যু নানা রহস্যের তৈরি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার হিসাব মিলছে না। এ কারণে জেরিনের প্রেমিক স্মরণকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার বাদী জেরিনের খালু হারুনুর রশীদ। রহস্য উদঘাটনের জন্য স্মরণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে কানাডার নাগরিক জেরিনের এমন মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান দূতাবাস উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি টিম গতকাল ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দূতাবাসের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, জেরিন কানাডার নাগরিক। তার পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওদিকে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে কানাডাপ্রবাসী পিতা মীর কায়কোবাদ ও মাতা কানাডার ওন্টারিও থেকে বাংলাদেশে রওনা দিয়েছেন। তাদের মেয়ের লাশ শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। এর আগে গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে জেরিনের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
জেরিনের স্বজনরা জানান, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে জেরিন সবার বড়। পরিবারের সব সদস্য কানাডায় থাকলেও জেরিন ঢাকাতেই পড়াশোনা করছিলেন। রাজধানীর উত্তরা উইমেন মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন ওই কলেজের হোস্টেলে। জেরিনের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ২০০৬ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ফেসবুকের ব্যক্তিগত পেজ খোলেন জেরিন। ওই দিনই বাংলাদেশী যুবক মহীউদ্দীন স্মরণ ওরফে কাজী স্মরণ ইংল্যান্ড প্রবাসী পরিচয়ে জেরিনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। জেরিন বন্ধু তালিকায় গ্রহণ করেন তাকে। এরপর প্রায় প্রতিদিনই তাদের মধ্যে কথোপকথন চলে। ব্যক্তিগত আলাপচারিতার ফাঁকে ফাঁকে পারিবারিক খোঁজ-খবর নেন উভয়ে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সেই সূত্র ধরে উভয় পরিবারে ঘনিষ্ঠতাও বাড়তে থাকে। স্মরণের মা দাবি করেন, ঘটনার আগে ১১ই জানুয়ারি জেরিন দক্ষিণ খান থানাধীন চালবন এলাকায় তাদের বাসায় গিয়েছিলেন। দুপুরের খাবার খেয়ে দীর্ঘক্ষণ গল্প করেছিলেন। পরে হোস্টেলে চলে যান। তিনি বলেন, আমার ছেলে ইংল্যান্ড থেকে বিবিএ পাস করেছে। বর্তমানে একটি কল সেন্টারে চাকরি করছে। জেরিনের মাতার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। শিগগিরই দেশে ফিরে উনারা পারিবারিকভাবে আংটি পরাবেন বলে জানিয়েছিলেন।
জেরিনকে সন্দেহ করতো: কারণে-অকারণে জেরিনকে সন্দেহ করতো স্মরণ। কোথায় যায়, কার সঙ্গে কথা বলে, এমনকি ফেসবুকে তার বন্ধু তালিকা নিয়েও তাদের মধ্যে একাধিকবার মনোমালিন্য হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩১শে ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইটে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল। জেরিনের কলেজ সূত্র জানায়, সমপ্রতি কে বা কারা স্মরণকে বলেছিল, তোর কানাডিয়ান প্রেমিকা (জেরিন) তোকে শুধু ব্যবহার করছে। সিঁড়ি হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। পড়াশোনা শেষ হলেই অন্য ছেলে নিয়ে চম্পট দেবে। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সহপাঠীদের ধারণা, জেরিনকে ডেকে নিয়ে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। পরে রেল লাইনে ট্রেনের ধাক্কার নাটক সাজিয়েছে।
পুলিশের সন্দেহ: এদিকে জেরিনের মাথার পেছনে একটি আঘাত দেখে পুলিশের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তদন্ত সূত্র জানায়, জেরিন হেড ইনজুরিতে মারা গেছে। ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেলে মৃতের শরীরে আরও আঘাত থাকার কথা। এছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ টুকরা টুকরা হওয়ার কথা। কিন্তু জেরিনের মাথা ছাড়া অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ওদিকে দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনাস্থল নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে স্মরণ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তারা দু’জন দুই পথে হাঁটছিলেন। একবার বলেছেন, বিশ্বরোড দিয়ে উত্তরা যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সামনে দিয়ে ঢাকাগামী একটি ট্রেন জেরিনকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। আবার বলেছে, রেডিসন হোটেলের পেছন দিকে রেল লাইনের দু’পাশে দু’জন দাঁড়িয়েছিলেন। তবে কেন দু’পাশে দু’জন ছিলেন সে সম্পর্কে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া ট্রেন ধাক্কা দেয়ার আগে তিনি কেন বাঁচাতে যাননি সে প্রশ্নও এড়িয়ে যান। আহত অবস্থায় কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নথিপত্রে স্মরণ নিজেকে জেরিনের স্বামী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিয়ের কথা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে জেরিন ও স্মরণের ফেসবুক পেজে উল্লেখ আছে, ‘উই গট মেরিড’। বিয়ের তারিখ ২২শে মে ২০০৮। জেরিনের ফেসবুকের ফ্রেন্ডশিপ অপশনে ২০১২ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর লেখা হয়েছে, ইন রিলেশনশিপ উইথ কাজী স্মরণ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, জেরিনের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি তার শরীরে। এ কারণে গ্রেপ্তারকৃত স্মরণের শনাক্ত করা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে সে একেকবার একেক জায়গা দেখিয়েছে।
রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া: রেললাইনে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করেছিলেন মেডিকেল কলেজের ছাত্রী জেরিন ও তার প্রেমিক স্মরণ। ঝগড়ার এক পর্যায়ে জেরিনকে বিমানবন্দরগামী ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিআরপি থানার এসআই আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী জেরিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
জেরিনের খালু শামীম পারভেজ বলেন, জন্মসূত্রেই জেরিন কানাডার নাগরিক। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন তার ছোটবেলা থেকেই। তবে কানাডার মেডিকেল কলেজে চান্স না পেয়ে গত বছর সে বাংলাদেশে আসে। ভর্তি হয় উত্তরার উইমেন্স মেডিকেল কলেজে। সে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলেই থাকতো। তিনি আরও বলেন, জেরিনের একজন সহপাঠীর চাচাতো ভাই স্মরণ। এই সুবাদেই সম্প্রতি স্মরণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে স্মরণ মাদকাসক্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারার পর সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। দু’দিন আগে জেরিন রামপুরাস্থ তার খালুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। স্মরণই তাকে চাপ প্রয়োগ করে বাসা থেকে বের করে নিয়ে আসে। পরে সে জেরিনের খালাতো ভাই আদিবকে ফোন করে জানায় জেরিন বাস এক্সিডেন্টে আহত হয়েছে। জন্মের পর জেরিন সর্বপ্রথম বাংলাদেশে আসে ১৯৯৪ সালে। গত বছরই সে দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশে এসেছে। কানাডার টরেন্টোর ক্রিসেন্ট টাউন স্কুলেই সে লেখাপড়া করতো। এজন্য এর আগে জেরিনের সঙ্গে তার পরিচয়ের কোন সুযোগই ছিল না। স্মরণ অবশ্যই জেরিনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছিল। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অবশ্যই সে স্বীকার করবে। গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর বিশ্বরোড এলাকার রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় জেরিনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

Friday, January 11, 2013

বড় লোক হওয়ার জন্য ৫শ' টাকার চাকু! মিরপুরে নারী আইনজীবীর হত্যা :দুই আসামি গ্রেফতার

বড় লোক হওয়ার জন্য ৫শ' টাকার চাকু!

মিরপুরে নারী আইনজীবীর হত্যা :দুই আসামি গ্রেফতার


স্বপ্ন বড় লোক হবার। এজন্য গার্মেন্টসে চাকরি দিয়ে শুরু। না সেখানেও ফলাফল শূন্য। এরপর গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা। এবার চেষ্টা কোন বিত্তবানের বাড়ি দারেয়ান হওয়া অথবা প্রাইভেটকার চালকের চাকরি। সফল হয়নি। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানিতে গার্ডের চাকরি জোটে। আর সিকিউরিটি কোম্পানিতেই পরিচয় সমমনা যুবক রবিনের সঙ্গে। তারা কোম্পানি মালিককে অনুরোধ করে একই বাড়িতে দায়িত্ব নেয়। এরপর পরিকল্পনা শুরু করে টার্গেট পূরণে। প্রথম পরিকল্পনা ছিল প্রাইভেট চুরির। ব্যাটে বলে তা মেলেনি। এরপর টার্গেট করে ডাকাতির। ডাকাতির জন্য প্রয়োজন অস্ত্র। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করাও দুঃসাধ্য। এ অবস্থায় নিরাপত্তা (গার্ড রুম) রুমের সিলিং ফ্যান বিক্রি করে ৫শ টাকা দিয়ে কেনে অত্যাধুনিক চাকু। আর তা দিয়ে প্রথম অভিযান শুরু করে গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে। বাড়ির তিন তলার বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শিক্ষক মাহবুব-ই-সাত্তারের ফ্ল্যাটে। হত্যা করে তার স্ত্রীকে। লুট করে ২০ হাজার টাকা ও ৫শ ডলারসহ অন্যান্য মালামাল। নিজের সম্পর্কে এভাবে বক্তব্য দেয় আইনজীবী রওশন আক্তার খুনের ঘটনায় জড়িত রাসেল ওরফে সাকিব। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দুইটি টিম বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে সাকিব ও তার সহকর্মী সোলায়মান ওরফে রবিন ওরফে তাজুলকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা করে। ডিবি পুলিশ গতকাল তাদের ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর শেলটেক টিউলিপ ভবনের তিন তলার একটি ফ্ল্যাটে খুন হন আইনজীবী রওশন আক্তার। রবিন ও রাসেল ঐ বাড়ির নিরাপত্তা কর্মী ।

ডিসি ডিবি (উত্তর) মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা অল্প সময় বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রথমে গাড়ি চুরি করার পরিকল্পনা করেছিল। গাড়ি চুরিতে ব্যর্থ হয়ে তারা স্বর্ণ ও টাকা লুটের জন্য হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে মৌচাকে সিকিউরিটি নিয়োগকারী একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের কাছে ১০ হাজার টাকা জমা রেখে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি নেয়। শেলটেক টিউলিফ ভবন ফ্ল্যাটের ফ্ল্যাট মালিক সমিতি নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই না করে এমিকন সিকিউরিটি কোম্পানি হতে সিকিউরিটি ভাড়া করেছিল।

ডিবি এডিসি মশিউর রহমান বলেন, রবিন ও রাসেল গত ১০ ডিসেম্বর সিকিউরিটি কোম্পানির পক্ষ থেকে শেলটেক টিউলিপ এপার্টমেন্টে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পায়। এরপরই তারা এপার্টমেন্টের কোন ফ্ল্যাটে চুরির পরিকল্পনা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিতায় গত ১৮ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত নেয় আইনজীবী রওশন আক্তার ফ্ল্যাটে চুরি করার। পরিকল্পনা মোতাবেক গার্ড রুমের সিলিং ফ্যান বিক্রি করে ৫০০ টাকা দিয়ে চাকু কেনে। ঘটনার দিন সকালেই রওশন আক্তারের স্বামী ও ডাক্তার মেয়ে বাসা থেকে বের হন। এ সুযোগে তারা রওশন আক্তারের ফ্ল্যাটে গিয়ে কলিংবেল টেপে। দরজা খোলেন রওশন আক্তার।

দরজা খোলার পরপরই তারা ভেতরে ঢোকে। রবিন বালিশের কভার দিয়ে রওশনের মুখ চেপে ধরে। আর রাসেল চাকু দিয়ে ভয় দেখায়। এ অবস্থায় তারা দুজনে মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙ্গে ২০ হাজার টাকা, ৫শ মার্কিন ডলার, কয়েকটি ঘড়ি, কয়েকটি স্বাক্ষর করা ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে গার্ড রুমে যায়।

তিনি আরও বলেন, হত্যার এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে রাসেলের হাত কেটে যায়। তারা নীচে এসে গার্ড রুম থেকে একটি ছেঁড়া লুঙ্গির অংশ দিয়ে হাত বাঁধার সময় নীচের গাড়ির একজন চালক তা দেখে ফেলে। এ সময় চালক তাদের জিজ্ঞাসা করে, 'কী হয়েছে'? তখন রাসেল ও সোলায়মান জানায়, তারা উপরে খেলতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছে। এর কিছু সময় পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও আবু তোরাব বুধবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন লামা এলাকায় এবং ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সোলায়মান ওরফে রবিন ওরফে তাজুল (১৯) ও রাসেল ওরফে সাকিবকে গ্রেফতার করেন।