Pages

Showing posts with label FIRE. Show all posts
Showing posts with label FIRE. Show all posts

Thursday, February 28, 2013

কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই


কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই

কল্যাণপুরে বস্তির ১৫০ ঘর পুড়ে ছাই

বস্তির কুঁড়ে ঘরের বাসিন্দা মর্জিনা। তার একমাত্র মেয়ে জুলেখা। ৫ সন্তানের মধ্যে সে ছোট। বড়ই ইচ্ছে ছিল একটু ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দেবেন। এ জন্য অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা না করিয়ে কষ্টে উপার্জিত ৭৫ হাজার টাকা ঘরে জমিয়ে ছিলেন। মার্চ মাসে মেয়েকে স্বামীর ঘরে তুলে দেবেন। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ড মর্জিনা পরিবারের সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। মা ও মেয়ের আহাজারিতে বস্তির আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তাদের দৃষ্টিতে ভাসছে কেবল আগুনের ধ্বংসাত্মক চিহ্ন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তির অন্য পরিবারে বইছে কান্নার রোল। শ’ শ’ হতদরিদ্র অসহায় মানুষ তাদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কল্যাণপুর নতুন বাজার বস্তিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় শতাধিক কাঁচা ঘর ভস্মীভূত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার ১০টি ইউনিট সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় র‌্যাব, পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশ বস্তিবাসীদের জানমাল উদ্ধার করে। লুটপাটের আশঙ্কায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। ৭ নম্বর বস্তির সব ঘর ভস্মীভূত এবং ১ নম্বর বস্তির কিছু ঘর পুড়ে গেছে। বস্তির ৪০টি দোকান ঘর ও গোডাউনসহ দেড় শতাধিক কাঁচাঘর ভস্মীভূত হয়েছে। বস্তিবাসী অনেকে অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে দেরি হয়েছে। তারা যখন এসে পৌঁছেছে তখন আগুন বিভিন্ন ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহাবুব বলেন, সংবাদ পেয়ে ছুটে আসতে কোন বিলম্ব হয়নি। রাস্তায় জ্যাম ছিল। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের সদস্যরা ৪৫ মিনিটে পুরো বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অন্যথায় আগুন পুরো বস্তির ঘরগুলো গ্রাস করতে পারতো। আগুনের সূত্রপাত প্রসঙ্গে বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি রান্না ঘরের লাকড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কল্যাণলপুর নতুন বাজার ৭ নম্বর বস্তির একটি ঘর থেকে হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া উঠতে থাকে। বাতাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুনের কুণ্ডলি বড় হয়ে বস্তিতে ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। কিছু সময়ের মধ্যে আগুন একের পরে এক বস্তির বিভিন্ন ঘর গ্রাস করে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ১ নম্বর বস্তির ঘরগুলোতে। এ সময় বস্তির বেশির ভাগ নারী-পুরুষ কাজে বাইরে ছিলেন। সংবাদ পেয়ে তারা ছুটে আসেন। আগুনের থেকে তাড়াহুড়া করে বেরুতে গিয়ে এবং মালামাল উদ্ধার করার সময় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। আগুন লাগার সংবাদে বস্তির পাশের র‌্যাব-৪ ক্যাম্প সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। তারা বস্তিবাসীর সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করেন।

Tuesday, January 1, 2013

বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

গত মাসে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনস লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায় ঘটেছে বলে মনে করছে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাইরের কোন  ইন্ধন এর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। বিজিএমইএ’র গঠিত নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ওই কারখানার কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী ‘পরিকল্পনায়’ জড়িত। তাদের আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করছি। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই অগ্নিকাণ্ডকে ‘নাশকতা’ উল্লেখ করে, যদিও তারা জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারেনি। গত ২৪শে নভেম্বর আশুলিয়ার ওই কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১১১ জন নিহত হন। পরদিন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ১১ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি (অর্থ) এসএম মান্নান কচি।
বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ঘটনায় আহত শ্রমিক কর্মচারীসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলে যে সাক্ষ্য প্রমাণ আমরা নিয়েছি, তা বিশ্লেষণ করে একটি পরিকল্পিত ঘটনার ইংগিত পাওয়া গেছে, যা আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাজরিন কারখানার নিচতলায় যদি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত গুদাম না থাকত, অথবা গুদামের চারপাশ যদি দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকত এবং ভবনের প্রতিটি সিঁড়ি যদি কারখানার বাইরে এসে শেষ হতো, তাহলে হতাহতের সংখ্যা এতো বেশি হতো না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই ভবনের নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনার জন্য মালিকপক্ষেরও চরম অবহেলা ছিল, যার দায় মালিকপক্ষ কোনভাবেই এড়াতে পারে না।
তাজরিনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের পক্ষ থেকেও আলাদা কমিটি করা হয়।

Monday, October 29, 2012

ফতুল্লায় গার্মেন্টসে আগুন, আহত ১০

ফতুল্লায় গার্মেন্টসে আগুন, আহত ১০

 নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নয়ামাটি কুতুবাইল এলাকায় একটি রফতানিমুখী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট সাত ঘণ্টা চেষ্টার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ফতুল্লার ইউরো টেক্স লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের ডাইং সেকশন থেকে রোববার রাত দুইটায় আগুন লাগে। ডাইং সেকশনে থাকা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তে  আগুন চারদিকে  ছড়িয়ে পড়ে। এতে ডাইং সেকশন সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

পরে আগুন এক তলার বিদ্যুতের মোটা ক্যাবল দিয়ে গার্মেন্টসে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসব ফ্লোরে গার্মেন্টসের বিপুল পরিমাণ শিপমেন্টের মালের কার্টন, কাটিং, ফিনিশিং সেকশন ও গোডাউন ছিল।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি ফায়ার স্টেশনের দশটি ইউনিটের শতাধিক কর্মী সাত ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, কাপড় ও মেশিন পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ দশজন আহত হয়েছেন। আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মালিকপক্ষ ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

এ ব্যাপারে ইউরো টেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শহিদুল ইসলাম জানান, গার্মেন্টস কারখানাটি ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ নিয়েছে। গার্মেন্টসটি প্রায় একশ কোটি টাকার প্রকল্প। আগুনে এর বেশির ভাগই পুড়ে গেছে।


ঢাকা বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. জহিরুল আমিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের দশটি ইউনিট প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্তসাপেক্ষ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বলা যাবে।