Pages

Showing posts with label WALMART. Show all posts
Showing posts with label WALMART. Show all posts

Friday, January 18, 2013

তৈরী পোশাকের বিদেশী ক্রেতাদের তীব্র সমালোচনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

তৈরী পোশাকের বিদেশী ক্রেতাদের তীব্র সমালোচনায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট


বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের বিদেশী ক্রেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। ক্রেতারা তাদের আচরণবিধি রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার জন্য এ সমালোচনা করা হয়। সমবেদনা জানানো হয় তাজরিন গার্মেন্ট ও ২০০৬ সাল থেকে এ যাবৎ বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি। গার্মেন্টে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা না হলে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি না করতে আহ্বান জানানো হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। গার্মেন্টে পোশাক তৈরির আগে যেভাবে জিন্স থেকে ধুলাবালি ও ময়লা পরিষ্কার করা হয় তার সব পন্থা বাংলাদেশ সরকারের বন্ধ করা উচিত বলে দাবি করা হয়েছে। আশুলিয়ায় তাজরিন গার্মেন্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার এ আলোচনা করা হয় ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে। আলোচনায় অংশ নেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন সদস্য। এ সময় জিইউই/এনজিএল নামের পার্লামেন্টারি গ্রুপের সদস্য পল মারফি নিজস্ব আচরণবিধি রক্ষায় ইউরোপীয় বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার নিন্দা জানান। ওই গ্রুপের নিজস্ব ওয়েবপেইজে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিতর্কের সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাজরিন ফ্যাশন্স লিমিটেডে অযৌক্তিক যে ১১২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। একই রকম সমবেদনা জানাই ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত আরও প্রায় ৭০০ নিহত শ্রমিকের পরিবারের প্রতি। তিনি এসব প্রাণহানির জন্য দায়ী করেন কারখানা মালিকদের। পাশাপাশি তিনি ইউরোপীয় বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকেও সমান দায়ী করেন। তিনি বাংলাদেশের এসব কারখানাকে ‘মৃত্যুফাঁদের কারখানা’ বলে অভিহিত করেন। পল মারফি বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ তৈরী পোশাকের রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। শুধু ২০১১ সালে এ দেশ তৈরী পোশাক রপ্তানি করে আয় করেছে ১৯০০ কোটি ডলার। এ দেশ থেকে টমি হিলফিগার, গ্যাপ, কেলভিন ক্লেইন, এইচঅ্যান্ডএম এবং ওয়াল-মার্টের মতো নামী ব্রান্ডের প্রতিষ্ঠান পোশাক কিনেছে। এদেশে শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তাদের দৈনিক আয় ১ দশমিক ২৫ ডলার। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মোট শ্রমিকের শতকরা ৮৫ ভাগই নারী। তাদের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৩৭ ডলার। তাদেরকে কোন শ্রমিক ইউনিয়ন করতে দেয়া হয় না।
শ্রমিক ইউনিয়ন করা থেকে তাদেরকে বিরত রাখতে শক্তি প্রয়োগ করা হয়। পল মারফি ডেনিম জিন্স তৈরির সময়কার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জিন্সের কাপড় থেকে পোশাক তৈরির সময় তা থেকে যে বালুকণা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শ্রমিকরা গ্রহণ করেন তা থেকে তারা সিলিকোসিস ও ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। এসব শ্রমিককে এমন বালুকণা ও কারখানার ধুলোবালি গ্রহণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে পরিবেশগত কারণে। আইরিশ ওই এমপি আরও বলেন, পোশাক তৈরির আগে তা থেকে ধুলোবালি পরিষ্কারের যে পদ্ধতি (স্যান্ডব্লাস্টিং) আছে তার সব রকম প্রক্রিয়া বাংলাদেশ সরকারের বন্ধ করে দেয়া উচিত। যারা সিলিকোসিস (বালু-ধুলোকণা থেকে সৃষ্ট রোগবিশেষ)-এ আক্রান্ত তাদের জন্য সামাজিক ও চিকিৎসা সহায়তার সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, যেসব কারখানায় ধুলোবালি বিমুক্ত করার জন্য শ্রমিকরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন সেখান থেকে ধুলোবালিমুক্ত জিন্সের কাপড় রপ্তানি অবশ্যই বাতিল করতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন একটি প্রস্তাবনা বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানোর জন্য খসড়া করা হয়েছে। ওই খসড়ার ওপর গতকাল ভোট হওয়ার কথা।

Tuesday, January 1, 2013

বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

বিজিএমইএ’র তদন্ত- তাজরিনে আগুন অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায়

গত মাসে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনস লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনায় ঘটেছে বলে মনে করছে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাইরের কোন  ইন্ধন এর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। বিজিএমইএ’র গঠিত নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করে এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ওই কারখানার কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী ‘পরিকল্পনায়’ জড়িত। তাদের আইনের আওতায় আনার সুপারিশ করছি। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই অগ্নিকাণ্ডকে ‘নাশকতা’ উল্লেখ করে, যদিও তারা জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারেনি। গত ২৪শে নভেম্বর আশুলিয়ার ওই কারখানায় আগুন লেগে অন্তত ১১১ জন নিহত হন। পরদিন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ১১ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি (অর্থ) এসএম মান্নান কচি।
বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ঘটনায় আহত শ্রমিক কর্মচারীসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলে যে সাক্ষ্য প্রমাণ আমরা নিয়েছি, তা বিশ্লেষণ করে একটি পরিকল্পিত ঘটনার ইংগিত পাওয়া গেছে, যা আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাজরিন কারখানার নিচতলায় যদি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত গুদাম না থাকত, অথবা গুদামের চারপাশ যদি দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকত এবং ভবনের প্রতিটি সিঁড়ি যদি কারখানার বাইরে এসে শেষ হতো, তাহলে হতাহতের সংখ্যা এতো বেশি হতো না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও ওই ভবনের নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনার জন্য মালিকপক্ষেরও চরম অবহেলা ছিল, যার দায় মালিকপক্ষ কোনভাবেই এড়াতে পারে না।
তাজরিনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের পক্ষ থেকেও আলাদা কমিটি করা হয়।

Friday, December 28, 2012

হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ

হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ


সাভারে হলমার্কের দখলে থাকা প্রায় ১০ একর সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ একর ৬৫ শতাংশ সম্পত্তিতে থাকা বহুতল ভবনসহ ৮টি আধাপাকা ভবন ভেঙে দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম হোসেনের নেতৃত্ব এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর রাশেদ, হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হক, হলমার্ক ডেইরি ফার্মের ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন এবং শিল্প ও থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম হোসেন জানান, হলমার্কের কম্পাউন্ডের মধ্যে প্রায় ১০ একর সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে এক একর ৬৫ শতাংশের ওপর একটি চারতলা ভবন ও সাতটি আধাপাকা ঘর করে সেখানে বিশাল আকৃতির কারখানা ও গুদাম করা হয়েছে। এসব স্থাপনা ধ্বংস করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্যই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রায় ৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে স্টাইল ফ্যাশন ও একটি গুদাম ঘর বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়া হয়। স্মার্ট স্টাইল ফ্যাশন নামের চার তলা ভবনটি ভেকুর সাহায্যে জানালা ও দেয়ালের সামান্য অংশ এবং অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে। তাদের দখলে থাকা সরকারি সড়ক থেকে গেটে ভেঙে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হলমার্কের মূল ফটকে সরকারি জমি দখল করে নিরাপত্তারক্ষীদের একটি কক্ষ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি আরও আগে উদ্ধার কেন করেননি- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আগে হলমার্কের ভেতরে প্রবেশ অনেক কঠিন ছিল। গত ২৪শে জানুয়ারি সরকারি জমি উদ্ধার করতে এসে এসি (ল্যান্ড)সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা লাঞ্ছিত হয়েছিলেন।
এদিকে পুলিশের উপস্থিতিতে মাথায় লাল ফিতা বাধা প্রায় ৫০ জনের মতো শ্রমিক স্থাপনা উচ্ছেদে কাজ করেছে। তবে অভিযানে কেউ বাধা দেয়নি বা আপত্তি তোলেনি।
অনিয়মের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপ আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী জেসমিন ইসলাম ও ভায়রা তুষার আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক একেএম আজিজুর রহমানসহ চার কর্মকর্তাকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
হলমার্কে লুটপাট: হলমার্ক কারখানার নিরাপত্তার জন্য সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাভার থানাকে অনেক আগেই চিঠি দিলেও ভেতরে ভেতরে রাতের আঁধারে লুটপাট চলছে- এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারখানার কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে রাতের আঁধারে গরু বের করে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি চারটি গরু বের করে বিক্রি করাকালে স্থানীয় জনতা একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া কারখানার ভেতরে বিভিন্ন কক্ষে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান হলমার্ক গ্রুপের জন্য ‘যথেষ্ট’ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। তবে বিভিন্ন মালামাল লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বড় প্রতিষ্ঠানে নজরদারি করা কঠিন কাজ। তাছাড়া লুটপাট হয়েছে বলে তার জানা নেই বলে জানান।
এদিকে হলমার্কের মালিক তানভীর মাহমুদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় ১৫টি মামলা ২৪টি সাধারন ডায়েরি রয়েছে। এর আগে ৩রা নভেম্বর হলমার্কের কম্পাউন্ডের ভেতরে ৩৮ শতাংশ সম্পত্তি মেজর জেনারেল (অব.) সাফায়েতুল ইসলাম, মেজর (অব.) খলিল-বিন-ওয়াহিদ ও উইং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান দাবি করে স্থানীয় ভূমিদস্যু ওহাব মিয়ার নেতৃত্বে ২৫-৩০ যুবক সীমানা প্রাচীর ভেঙে দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। তখন পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা চলে যায়।
ওই সম্পত্তির মালিক দাবিদার উইং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান জানান, গত দুই বছর আগে তারা তিনজনে মিলে স্থানীয় লাল মিয়ার কাছ থেকে কান্দিবলিয়ারপুর মৌজার এসএ-৩২, আরএস-১২, খতিয়ান এসএ-১০৮ ও আরএস-৭৭ দাগে ৩৮ শতাংশ জমি বায়নানামা করেন। জমিটি এতদিন হলমার্কের কম্পাউন্ডের ভেতরে হলমার্কের দখলে ছিল। ছয় মাস আগে সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে তা রেজিস্ট্রি করা হয়।
ভূমি ও সাব রেজিস্ট্রার অফিস জড়িত: হলমার্ক দুর্নীতির সঙ্গে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিস, ফুলবাড়ীয়া ভূমি অফিস জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলোচিত হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে স্থানীয় ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের যোগসাজশ থাকার প্রমাণ পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র বদলি করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, এর আগেও সিরাজুল ইসলাম বদলি হলে তা ঠেকাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করেছে হলমার্ক কর্তৃপক্ষ। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি এর আগে বলেছিলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সঙ্গে হলমার্কের মালিকের কখনও দেখা হয়নি। তার সঙ্গে কোন রকম সম্পর্কও আমার নেই। আবার উল্টো হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে জমির খাজনা না দেয়ার কথাও বলেন। তবে হলমার্কের কতটুকু জমি রয়েছে তা-ও তিনি কাগজপত্রে দেখাতে না পারলেও কমপক্ষে ২০০ একর জমি রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, শুধু ৪ শতাংশ জমি হলমার্কের নামে খারিজ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক আমজাদ হোসেন সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগসাজশ করে জাল কাগজপত্র তৈরি করে দিতেন হলমার্কের মালিককে। দুদকের মামলায় হলমার্কের মালিক তানভীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দলিল লেখক আমজাদ হোসেন আত্মগোপনে রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।
যে ভাবে উত্থান সাভারে: গত ৩০ বছর আগে হেমায়েতপুরের নন্দখালী এলাকায় প্রায় সোয়া ৬শ’ পাখি জমির ওপর জনতা হাউজিং লিমিটেড নামে একটি আবাসিক প্রকল্প গড়ে ওঠে। হাউজিংয়র নকশা বা লে-আউট প্ল্যান অনুসারে ৩, ৫ ও ৮ কাঠার ২১৮৪টি প্লট বিভিন্ন পেশার লোকজনের কাছে বিক্রি করলেও প্রায় সব প্লটই খালি পড়েছিল।
২০০৬ সালে হলমার্র্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ প্রকল্প এলাকার পাশে দু’টি প্লট কিনে একটিতে তৈরি পোশাক কারখানা এবং অন্যটিতে গরুর খামার প্রতিষ্ঠা করেন। জনতা হাউজিং প্রকল্পের ভেতরে ৮ পাখি জমিতে একটি লেক, দু’টি বড় পুকুর, কিছু জলাভূমি, বহু গাছপালা ও খোলা জমি ছিল। সম্প্রতি হলমার্ক গ্রুপ ওই প্রকল্প এলাকায় কয়েকটি প্লট কিনে এবং আশপাশের প্রায় শতাধিক প্লট নানাভাবে প্রভাব সৃষ্টি করে এবং ভয় দেখিয়ে দখল করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর হলমার্ক গ্রুপ পোশাক রপ্তানিতে জাতীয় পদক পাওয়ার পর থেকেই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর পরেই হলমার্ক গ্রুপ সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিমন্ত্রণ করে এবং প্রায় ২০ হাজার শ্রমিককে ভূরিভোজ করায়। তখন ওই অতিথিদের বরণ করতে ৮-১০টি তোরণ নির্মাণও করা হয়েছিল।

Wednesday, December 19, 2012

ওয়াল-মার্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ওয়াল-মার্টের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


নিজেদের কার্যপরিধি বৃদ্ধির জন্য তৈরী পোশাকের বড় ক্রেতা ওয়াল-মার্ট স্টোরস ইনকরপোরেশনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মেক্সিকোর কর্মকর্তাদের বিপুল অঙ্কের ঘুষ দিয়েছে। তারা নিজেদের পছন্দমতো স্থানে নতুন নতুন স্টোর খোলার জন্য এ ঘুষ দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে সোমবার। এতে বলা হয়, মেক্সিকোতে এরকম ১৯টি স্টোর খোলার জন্য ওয়াল-মার্টের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ওয়ালমেক্স স্থানীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছে। গত এপ্রিলে নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম রিপোর্ট করে যে, ওয়ালমেক্সের এ রকম দুর্নীতির একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত আন্তর্জাতিকভাবে বাধাগ্রস্ত করে ওয়াল মার্ট। গত মাসের শেষের দিকে মেক্সিকোর দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা বলে যে, তারা মেক্সিকোতে ওয়াল-মার্টের অনুমোদন পাওয়ার পেছনে কোন অনিয়ম খুঁজে পায়নি। কিন্তু তখনও দুটি অডিট চলছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস তার নতুন রিপোর্টে ওয়াল মেক্সের অর্থ দেয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওয়াল মেক্স মেক্সিকোতে নতুন স্টোর খোলার জন্য আইনি বিষয় ও পরিবেশগত ছাড়পত্র পেতে অর্থ দিয়েছে। তবে বেশির ভাগ দৃষ্টি পড়েছে মেক্সিকো শহরের উত্তরে প্রাচীন শহর তোতিহুয়াকানের কাছে একটি স্টোর নির্মাণের দিকে। ওই শহর থেকে এক মাইলেরও কম দূরত্বে একটি ওয়ারহাউজ নির্মাণের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিল ওয়ালমেক্স ২০০৪ সালে। তখন এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয়। ওদিকে সোমবার রাতে ওয়াল-মার্টের মুখপাত্র ডেভিড তোভার একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তারা যাচাই-বাছাই করছেন। তিনি বলেন, এ অভিযোগ নিয়ে আমরা এখনও তদন্ত করছি। এখনও তা শেষ হয়নি। ওয়াল-মার্ট এ জন্য আইন মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে কাজ করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা ও মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ওদিকে মেক্সিকোর এটর্নি জেনারেল অফিস থেকে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক টাইমসে গত এপ্রিলে প্রথম এ বিষয়ক রিপোর্ট দেখার পর একটি তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রসিকিউটররা এতে অভিযোগ গঠন করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ হাতে পাননি। ওই তদন্ত কয়েক মাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ঘুষের অভিযোগে রিপোর্ট করলেও মোট কি পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে তা জানাতে পারেনি। তবে তারা কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর তোতিহুয়াকানের কাছে একটি স্টোর নির্মাণ করতে ওয়াল-মার্ট ২ লাখ ২১ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বাসিলিকা ডি গুয়াডালুপেতে একটি স্টোর প্রতিষ্ঠায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ডলার ঘুষ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।