Pages

Showing posts with label DUDOK. Show all posts
Showing posts with label DUDOK. Show all posts

Friday, January 18, 2013

দুই কারণে আসামি হচ্ছেন আবুল হোসেন

দুই কারণে আসামি হচ্ছেন আবুল হোসেন


দুই কারণে আসামি হচ্ছেন সৈয়দ আবুল হোসেন। শেষ পর্যন্ত এজাহারে আগত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন আবুল হাসান চৌধুরীও। এমন তথ্যই পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার সিঁড়ি ধরেই নাম থাকছে আবুল হাসানের। সৈয়দ আবুল হোসেনকে পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় আসামি করা না হলে বিশ্বব্যাংকের বিদায় অনেকটা নিশ্চিতই বলা যায়। অন্যদিকে আবুল হোসেনকে আসামি করা হলেও বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। এখন আবুল হোসেনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে দুদক। আবুল হোসেনকে আসামি করা না করা নিয়ে বিশ্বব্যাংক ফিরে গেলে পুরো দায় দুদকের ঘাড়ে পড়বে এবং চরম ভাবে দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করছেন দুদকের ঊর্ধ্বতন মহল। দুদকের ওই মহলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলায় সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলার আসামি করার ক্ষেত্রে দুদক এক ধাপ এগিয়ে আছে এজাহারে তাদের নাম উল্লেখ করে। এখন অধিকতর তদন্তে তারা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন- এমন আসামি হওয়ার নজির দুদকে অনেক আছে। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান একাধিকবার বলেছেন, মামলা দায়ের করার সময় সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণাদি হাতে ছিল না, এখন তদন্তে প্রমাণাদি পাওয়া গেলে তিনি আসামি হবেন। সূত্রমতে সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো দু’টি বড় প্রমাণ এখন দুদকের নাগালে। রমেশ সাহার ডায়েরি ও এসএনসি লাভালিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৈয়দ আবুল হোসেনের বৈঠক সংক্রান্ত বিষয়ে সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার বক্তব্য। পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার সূত্রপাত এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ সাহার ডায়েরি থেকে। ওই ডায়েরিতে মিনিস্টার ও সেক্রেটারি শব্দগুলোর পাশে ঘুষের পার্সেন্টেজ উল্লেখ করা আছে। কানাডিয়ান পুলিশের জব্দ করা ওই ডায়েরির পাশাপাশি ঘুষের প্রমাণ হিসেবে কানাডিয়ান আদালতে দেয়া রমেশ সাহার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আছে। এতদিন রমেশ সাহার ডায়েরি দুদকের কাছে ছিল না। বিশ্বব্যাংক বা কানাডিয়ান পুলিশ সেগুলো সরবরাহ করেনি। সূত্রমতে অতি সমপ্রতি কানাডিয়ান রয়েল পুলিশ এক চিঠি মারফত দুদককে জানিয়েছে তারা রমেশ সাহার ডায়েরি সহ রমেশ সাহার আদালতের কাগজপত্র দুদকে সরবরাহ করবে। রমেশ সাহার ডায়েরিতে পরিষ্কার ভাবেই মিনিস্টার শব্দ লেখা আছে, এটা সৈয়দ আবুল হোসেনের সংশ্লিষ্টতার একটি বড় ধরনের প্রমাণ। এছাড়া, ঘুষ দিয়ে কানাডিয়ান আদালতে দেয়া রমেশ সাহার বক্তব্যও পাওয়া যাবে। অন্যদিকে ঢাকাতে সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার মধ্যস্থতায় সৈয়দ আবুল হোসেনের সঙ্গে এসএনসি লাভালিন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক প্যানেলের ভাষ্য অনুসারে ওই বৈঠকেই ঘুষ লেনদেনের ফয়সালা হয়েছিল। একটি সূত্র জানিয়েছে, মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সে সময়ের যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের অংশগ্রহণের বিষয়টি দুদককে নিশ্চিত করেছেন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া নিজেই দুদকে দেয়া তার বক্তব্যে। এসএনসি লাভালিনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিতেই ফেঁসে যাচ্ছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীও।
সূত্রমতে সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন প্রমাণ হিসেবে দুদকের নাগালে। এছাড়াও বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল শুরু থেকেই বলে আসছে বাংলাদেশের প্রশাসনিক পদ্ধতিতে মন্ত্রীই হচ্ছেন প্রধান। প্রধান ব্যক্তি দায় এড়াতে পারেন না।

Friday, January 4, 2013

কোকো’র পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুদক

কোকো’র পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুদক


বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র সিঙ্গাপুরে পাচার করা টাকার লভ্যাংশ ফেরত এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। লভ্যাংশের ১৫ লাখ টাকা দুদক একাউন্টে জমা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের একাধিক কর্মকর্তা। টাকা দুদক একাউন্টে জমা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানও। তবে তিনি কত টাকা জমা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, ‘টাকা জমা হয়েছে কিন্তু কত টাকা জমা হয়েছে তা আমি বলতে পারবো না।’ ২০১২ সালের ২২শে নভেম্বর দুদক কোকো’র পাচার করা ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার দেশে ফেরত আনে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ওই টাকার পরিমাণ ১৩ কোটি টাকা। লভ্যাংশের ওই টাকা সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এসে জমা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান আগেই জানিয়েছেন ওই টাকা তারা দুর্নীতি প্রতিরোধের কাজে ব্যয় করবেন।
জোট সরকারের আমলে ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে কোকো অবৈধভাবে সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ-এর মাধ্যমে ওই টাকা পাচার করেন।

Friday, December 28, 2012

হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ

হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ


সাভারে হলমার্কের দখলে থাকা প্রায় ১০ একর সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ একর ৬৫ শতাংশ সম্পত্তিতে থাকা বহুতল ভবনসহ ৮টি আধাপাকা ভবন ভেঙে দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম হোসেনের নেতৃত্ব এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর রাশেদ, হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হক, হলমার্ক ডেইরি ফার্মের ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন এবং শিল্প ও থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম হোসেন জানান, হলমার্কের কম্পাউন্ডের মধ্যে প্রায় ১০ একর সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে এক একর ৬৫ শতাংশের ওপর একটি চারতলা ভবন ও সাতটি আধাপাকা ঘর করে সেখানে বিশাল আকৃতির কারখানা ও গুদাম করা হয়েছে। এসব স্থাপনা ধ্বংস করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্যই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রায় ৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে স্টাইল ফ্যাশন ও একটি গুদাম ঘর বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়া হয়। স্মার্ট স্টাইল ফ্যাশন নামের চার তলা ভবনটি ভেকুর সাহায্যে জানালা ও দেয়ালের সামান্য অংশ এবং অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে। তাদের দখলে থাকা সরকারি সড়ক থেকে গেটে ভেঙে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হলমার্কের মূল ফটকে সরকারি জমি দখল করে নিরাপত্তারক্ষীদের একটি কক্ষ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি আরও আগে উদ্ধার কেন করেননি- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আগে হলমার্কের ভেতরে প্রবেশ অনেক কঠিন ছিল। গত ২৪শে জানুয়ারি সরকারি জমি উদ্ধার করতে এসে এসি (ল্যান্ড)সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা লাঞ্ছিত হয়েছিলেন।
এদিকে পুলিশের উপস্থিতিতে মাথায় লাল ফিতা বাধা প্রায় ৫০ জনের মতো শ্রমিক স্থাপনা উচ্ছেদে কাজ করেছে। তবে অভিযানে কেউ বাধা দেয়নি বা আপত্তি তোলেনি।
অনিয়মের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপ আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী জেসমিন ইসলাম ও ভায়রা তুষার আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক একেএম আজিজুর রহমানসহ চার কর্মকর্তাকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
হলমার্কে লুটপাট: হলমার্ক কারখানার নিরাপত্তার জন্য সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাভার থানাকে অনেক আগেই চিঠি দিলেও ভেতরে ভেতরে রাতের আঁধারে লুটপাট চলছে- এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারখানার কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে রাতের আঁধারে গরু বের করে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি চারটি গরু বের করে বিক্রি করাকালে স্থানীয় জনতা একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া কারখানার ভেতরে বিভিন্ন কক্ষে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান হলমার্ক গ্রুপের জন্য ‘যথেষ্ট’ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। তবে বিভিন্ন মালামাল লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বড় প্রতিষ্ঠানে নজরদারি করা কঠিন কাজ। তাছাড়া লুটপাট হয়েছে বলে তার জানা নেই বলে জানান।
এদিকে হলমার্কের মালিক তানভীর মাহমুদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় ১৫টি মামলা ২৪টি সাধারন ডায়েরি রয়েছে। এর আগে ৩রা নভেম্বর হলমার্কের কম্পাউন্ডের ভেতরে ৩৮ শতাংশ সম্পত্তি মেজর জেনারেল (অব.) সাফায়েতুল ইসলাম, মেজর (অব.) খলিল-বিন-ওয়াহিদ ও উইং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান দাবি করে স্থানীয় ভূমিদস্যু ওহাব মিয়ার নেতৃত্বে ২৫-৩০ যুবক সীমানা প্রাচীর ভেঙে দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। তখন পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা চলে যায়।
ওই সম্পত্তির মালিক দাবিদার উইং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান জানান, গত দুই বছর আগে তারা তিনজনে মিলে স্থানীয় লাল মিয়ার কাছ থেকে কান্দিবলিয়ারপুর মৌজার এসএ-৩২, আরএস-১২, খতিয়ান এসএ-১০৮ ও আরএস-৭৭ দাগে ৩৮ শতাংশ জমি বায়নানামা করেন। জমিটি এতদিন হলমার্কের কম্পাউন্ডের ভেতরে হলমার্কের দখলে ছিল। ছয় মাস আগে সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে তা রেজিস্ট্রি করা হয়।
ভূমি ও সাব রেজিস্ট্রার অফিস জড়িত: হলমার্ক দুর্নীতির সঙ্গে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিস, ফুলবাড়ীয়া ভূমি অফিস জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলোচিত হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে স্থানীয় ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের যোগসাজশ থাকার প্রমাণ পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র বদলি করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, এর আগেও সিরাজুল ইসলাম বদলি হলে তা ঠেকাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করেছে হলমার্ক কর্তৃপক্ষ। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি এর আগে বলেছিলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সঙ্গে হলমার্কের মালিকের কখনও দেখা হয়নি। তার সঙ্গে কোন রকম সম্পর্কও আমার নেই। আবার উল্টো হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে জমির খাজনা না দেয়ার কথাও বলেন। তবে হলমার্কের কতটুকু জমি রয়েছে তা-ও তিনি কাগজপত্রে দেখাতে না পারলেও কমপক্ষে ২০০ একর জমি রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, শুধু ৪ শতাংশ জমি হলমার্কের নামে খারিজ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক আমজাদ হোসেন সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগসাজশ করে জাল কাগজপত্র তৈরি করে দিতেন হলমার্কের মালিককে। দুদকের মামলায় হলমার্কের মালিক তানভীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দলিল লেখক আমজাদ হোসেন আত্মগোপনে রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।
যে ভাবে উত্থান সাভারে: গত ৩০ বছর আগে হেমায়েতপুরের নন্দখালী এলাকায় প্রায় সোয়া ৬শ’ পাখি জমির ওপর জনতা হাউজিং লিমিটেড নামে একটি আবাসিক প্রকল্প গড়ে ওঠে। হাউজিংয়র নকশা বা লে-আউট প্ল্যান অনুসারে ৩, ৫ ও ৮ কাঠার ২১৮৪টি প্লট বিভিন্ন পেশার লোকজনের কাছে বিক্রি করলেও প্রায় সব প্লটই খালি পড়েছিল।
২০০৬ সালে হলমার্র্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ প্রকল্প এলাকার পাশে দু’টি প্লট কিনে একটিতে তৈরি পোশাক কারখানা এবং অন্যটিতে গরুর খামার প্রতিষ্ঠা করেন। জনতা হাউজিং প্রকল্পের ভেতরে ৮ পাখি জমিতে একটি লেক, দু’টি বড় পুকুর, কিছু জলাভূমি, বহু গাছপালা ও খোলা জমি ছিল। সম্প্রতি হলমার্ক গ্রুপ ওই প্রকল্প এলাকায় কয়েকটি প্লট কিনে এবং আশপাশের প্রায় শতাধিক প্লট নানাভাবে প্রভাব সৃষ্টি করে এবং ভয় দেখিয়ে দখল করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর হলমার্ক গ্রুপ পোশাক রপ্তানিতে জাতীয় পদক পাওয়ার পর থেকেই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর পরেই হলমার্ক গ্রুপ সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিমন্ত্রণ করে এবং প্রায় ২০ হাজার শ্রমিককে ভূরিভোজ করায়। তখন ওই অতিথিদের বরণ করতে ৮-১০টি তোরণ নির্মাণও করা হয়েছিল।

Friday, December 21, 2012

গোয়েন্দা জালে সাবেক দুই মন্ত্রী

গোয়েন্দা জালে সাবেক দুই মন্ত্রী

 পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা তদন্তে কানাডায় টিম পাঠাচ্ছে দুদক

পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় সন্দেহভাজনদের তালিকায় নাম থাকা সাবেক দুই মন্ত্রীর গতিবিধির উপর তীক্ষ্ন নজর রাখছেন গোয়েন্দারা। আসামি না হলেও মামলার তদন্ত চলাকালে তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখবে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক কমিশনার বদিউজ্জামান সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, 'মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাই তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবেন।'

দুদক কমিশনার আরো বলেন, মামলার অন্যতম তিন আসামি এসএনসি লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা রমেশ, ইসমাইল ও কেভিনের বক্তব্য নিতে তদন্ত টিম শিগগিরই কানাডায় যাবে। রমেশের ডায়েরিতে কেন ৫ ব্যক্তির নাম (ওই দুই মন্ত্রীসহ) লেখা রয়েছে- সেটা খুঁজে বের করা হবে। তবে কানাডায় যাওয়ার দিনক্ষণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি। দুদক কমিশনার বলেন, কিছু কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করে এটাকে ষড়যন্ত্র মামলা বলা হচ্ছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র যে হয়েছে সেটা প্রতিষ্ঠা করতে হলে তদন্ত কর্মকর্তাদের ওই ডায়েরি পেতে হবে। ডায়েরিতে যাদের নাম লেখা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আসামিদের যোগাযোগ হয়েছে- এটা প্রতিষ্ঠা করা গেলে মামলা একটি জায়গায় দাঁড়াবে। এদিকে এজাহারভুক্ত বাংলাদেশের চার আসামিকে ধরতে গ্রেফতার অভিযান চলছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে দুদক কাজ শুরু করেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে গত সোমবার রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করে দুদক। তবে এজাহারের বর্ণনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম থাকলেও আসামির তালিকায় তাদের নাম নেই। এই মামলায় বাংলাদেশের চার আসামি হলেন, সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়নে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের (ইপিসি) উপপরিচালক মো.মোস্তফা। এছাড়া কানাডিয়ান তিন আসামি হলেন, এসএনসি লাভালিনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও কেভিন ওয়ালেস।

Wednesday, December 19, 2012

কী আছে পদ্মা সেতুর ভাগ্যে

কী আছে পদ্মা সেতুর ভাগ্যে


পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ওপর। তারা এখন দুদকের মামলার নথি পর্যালোচনা করবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ হয়েছে_ এ মর্মে বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক দলের ইতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের পথে অগ্রসর হবে বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুদকের মামলা করার পর গতকাল এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেই পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এ সরকারের আমলে সেতুর কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদী তিনি। অন্যদিকে পদ্মা সেতুর ভাগ্য নিয়ে অনেকেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেছেন, পদ্মা সেতুর ভাগ্যে কী আছে, তা বিধাতাই জানেন।
জানা গেছে, পদ্মা সেতুর সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছেন। আজকালের মধ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলার একদিন পর দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অনুসন্ধান স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে, কারও চাপে এ মামলা করা হয়নি। অন্যদিকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন দুদক সচিব ফয়জুর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ঘটনায় আবুল হোসেনের ভূমিকা 'ইররিগুলার হলেও ইলিগ্যাল নয়'। গতকাল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মামলার প্রধান আসামি সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ওএসডি করেছে সরকার। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর দুর্নীতির গভীরতা অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দুদক।
এদিকে, দুদকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার এজাহার পর্যালোচনার পর একটি প্রতিবেদন দেবে। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়টি প্যানেলের ওই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে।' সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতির
মামলা বিষয়ে প্যানেল দলের পর্যালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, তাদের মূল্যায়নের ওপরই নির্ভর করছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন।
অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজ সমকালের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তদন্ত ও মামলা নিয়ে বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্ট না হলে আবারও জটিলতায় পড়তে পারে পদ্মা সেতু প্রকল্প।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্যানেল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন খুব শিগগির বিশ্বব্যাংকের কাছে জমা দেবে। তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক একটি বিবৃতিও দেবে প্যানেল দল। দুদক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির এজাহার কপি বিশ্বব্যাংক প্যানেলের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের নিযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্যানেল দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণে দুই দফা ঢাকা সফর করে। সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর প্যানেল দল ঢাকায় আসে। দুদকের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর আলোচনা এক পর্যায়ে ভেঙে যায়। মূলত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে দুর্নীতির মামলায় আসামি করা হবে, কি হবে না_ এ নিয়ে দুদকের সঙ্গে মতভেদের কারণে আলোচনা সফল হয়নি।
গত ৫ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়ে প্যানেল দল। এর পরপরই বিশ্বব্যাংক কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দেয়। ওই বিবৃতিতে সংস্থাটি সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, 'কেবল পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে অগ্রসর হবে।' বিশ্বব্যাংক আরও মনে করিয়ে দেয়, তারা দুর্নীতির বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে সাক্ষ্য-প্রমাণও দিয়েছে সরকারকে। এরপরই দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তারা মামলা করে বিশ্বব্যাংকের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠাবে। সে অনুযায়ী, সোমবার মামলা করল দুদক। তবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে মামলা করায় বিষয়টি বিশ্বব্যাংক ভালোভাবে দেখেনি বলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্রে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে তারা কোনো আপস করবে না। কারণ, একটি দুর্নীতিমুক্ত সেতুর বিষয়ে আগে থেকেই সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে আসছে তারা। কাজেই ভবিষ্যতে এ ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান একই থাকবে বলে ওই সূত্র জানায়।
কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। দুদক এরপর তদন্ত শুরু করলেও সরকার এবং তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে অনড় থাকেন। এই প্রেক্ষাপটে গত জুন মাসে ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। এরপর আবুল হোসেনের পদত্যাগ, প্রকল্পের ইন্টেগ্রিটি অ্যাডভাইজর ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান এবং সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ছুটিতে পাঠানোসহ সরকারের নানামুখী তৎপরতায় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয়। তাদের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসে। তারা চলে যাওয়ার ১২ দিনের মাথায় সোমবার দুদক যে মামলা করেছে তাতে প্রধান আসামি করা হয়েছে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে। তবে আলোচনায় থাকা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। তবে সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছে। এখন সব কিছু নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ওপর।