Pages

Showing posts with label RAB. Show all posts
Showing posts with label RAB. Show all posts

Wednesday, January 9, 2013

নারায়ণগঞ্জে জাপা নেতার নারী কেলেঙ্কারি, তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জে জাপা নেতার নারী কেলেঙ্কারি, তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জাপা নেতা বজলুর রহমান ওরফে হাজী রিপনকে গণপিটুনি দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। ছেলের যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে সদস্য পদ বাতিলের রেশ কাটতে না কাটতে তার এই ঘটনা আলোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র। হাজী রিপন জেলা জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক। সোমবার বিকালে শহরের পাইকপাড়া ভুঁইয়াপাড়া এলাকায় একটি বিউটি পার্লারে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে হাজী রিপনকে এক তরুণীসহ আটক করে এলাকাবাসী। পরে জনতার রোষানল থেকে পুলিশ ও র‌্যাব তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ হাজী রিপন ও লিন্ডা আক্তার বৃষ্টি নামে ওই তরুণীকে ২৯০ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল সকালে আদালতে পাঠায়। বিকালে নারায়ণগঞ্জের চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেন শুনানি শেষে তাদের উভয়ের জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে এলাকাবাসীর রোষানলের শিকার বজলুর রহমান রিপন আদালতে নিজের দোষ স্বীকার না করে বলেন, তিনি নির্দোষ। তার সঙ্গে আটককৃত তরুণীকে আদালতে নিজের পারিবারিক আত্মীয় পরিচয় দেন হাজী রিপন। শুনানিকালে আটককৃত তরুণী লিন্ডা আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার স্বামী বিদেশে থাকে। আত্মীয়তার সুবাদে রিপন বিভিন্ন প্রয়োজনে তার বাড়িতে যেতো। রিপন ও লিন্ডার পক্ষে আদালতে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট বিদ্যুৎ কুমার সাহা।
ঘটনার সূত্রপাত: সূত্রমতে, সোমবার বিকালে পাইকপাড়া ভূঁইয়াপাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিনের বাড়ির দোতলায় ড্রিম ওয়ার্ল্ড নামে পার্লারে ঢুকে বজলুর রহমান রিপন ওরফে হাজী রিপন। পার্লারটির মালিক লিন্ডা আক্তার বৃষ্টি। মহিলাদের পার্লারে একজন পুরুষ প্রবেশ করায় বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। আধা ঘণ্টা পরেও রিপন ওই পার্লার থেকে বের না হওয়ায় স্থানীয়রা পার্লারের বাইরের দরজায় তালা বদ্ধ করে দেয়। পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ওই পার্লার থেকে রিপনকে বের করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার এসআই আজিজ লস্কর ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার রোষানল থেকে রিপনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে লিন্ডাকে বাঁচানোর জন্য স্থানীয় একটি পক্ষ তৎপরতা শুরু করে। কিন্তু অপর পক্ষ তাকেও পুলিশের কাছে সোপর্দের জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে একপর্যায়ে স্থানীয়রা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে র‌্যাব-১১’র একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে র‌্যাবের সহায়তায় সদর থানা পুলিশ অভিযুক্ত পার্লার ব্যবসায়ী লিন্ডাকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরিবহন সেক্টরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত হাজী রিপন ও তার সহযোগীরা প্রায় সময়েই লিন্ডার পার্লারে যাতায়াত করতো। রিপনের মদদে ওই পার্লারটিতে নারী ও মাদক ব্যবসা হতো। এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর (সিটি করপোরেশনের ১৭নং) আলমগীর ইসলামেরও নেপথ্য মদদ রয়েছে বলেও তারা জানান। হাজী রিপন ও আলমগীর দুজনই ঘনিষ্ট বন্ধু। সম্প্রতি জামায়াত ও শিবিরের আটক নেতাদের থানায় তদবির করে ছাড়াতে এসে ফেঁসে গিয়েছিল আলমগীর ইসলাম। তার বিরুদ্ধে ১৭টি প্রতারণা মামলা ছিল। এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, রিপনের সঙ্গে সোমবার বিকালে আটককৃত লিন্ডা আক্তার বৃষ্টিকে রিপন বেশ কিছু দিন আগে বিয়ে করেছে। এটি রিপনের দ্বিতীয় বিয়ে। লিন্ডাকে বিয়ের পর রিপন তাকে ফতুল্লার আফাজ নগরের ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ দিপুর বাড়িতে বাসা ভাড়া করে রাখে। ঘটনাটি জানতে পারলে কয়েক মাস আগে বাড়িওয়ালা দিপু তাদের নোটিশ দিয়ে উঠিয়ে দেয়। এরপর রিপন লিন্ডাকে শহরের পাইকপাড়ার ভূঁইয়াপাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রাখে। ওই ফ্ল্যাটেই লিন্ডা ড্রিম ওয়ার্ল্ড নামে বিউটি পার্লার চালু করে। ওই পার্লারের ভেতর থেকেই সোমবার বিকালে এলাকাবাসী রিপন ও লিন্ডাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। উল্লেখ্য, গত ২৩শে ডিসেম্বর এলিট শ্রেণীর ক্লাব হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের (সাবেক ইউরোপিয়ান ক্লাব) স্টাফদের বাথরুম থেকে অহনা নামে এক তরুণীসহ রিপনের ছেলে সীমান্তকে আটক করে ক্লাবের সদস্য ও স্টাফরা। এ অভিযোগে বজলুর রহমান রিপনের ক্লাবের সদস্য পদ বাতিল করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার ১৬ দিনের মাথায় বজলুর রহমান রিপন একই অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হলেন।

Tuesday, January 1, 2013

বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ

বছরের আলোচিত ঘটনা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ


সিলেটের রাজনীতির ইতিহাসে আলোচিত ২০১২ সাল। বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বছর। ইলিয়াস ফিরবেন নাকি ফিরবেন না- এ অনিশ্চয়তায় কেটে গেছে বছর। তিনি জীবিত না মৃত- তা-ও জানে না কেউ। ২০১২ সালে সিলেটের আলোচিত ঘটনা কোনটি-সিলেটে এসে কাউকে প্রশ্ন করা হলে এক বাক্যে বলবে ইলিয়াস নিখোঁজের ঘটনা। তিনি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর ইলিয়াস আলী ছিলেন সিলেট বিএনপি’র একচ্ছত্র অধিপতি। তার নেতৃত্বেই চলতো সিলেট বিএনপি’র কার্যক্রম। নিখোঁজের আগে ইলিয়াস আলী সিলেটে টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সিলেটের রাজপথে আন্দোলন চাঙ্গা করেন। তার আহ্বানে সিলেটে হরতালও পালিত হয়েছে। এরপর রোড মার্চের মাধ্যমে সিলেটে বিশাল জনসভা হয়েছে। ইলিয়াসের নেতৃত্বে সিলেট বিভাগে স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি সাফল্য পেয়েছিল। এই অবস্থা যখন চলছিল তখন ১৭ই এপ্রিল ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। তার সঙ্গে নিখোঁজ হন গাড়িচালক আনসার আলীও। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও ছাত্রদল নেতা জুনায়েদ আহমদ। ছাত্রদলকর্মী খুনের ঘটনায় ফেরারি আসামি হয়ে ঢাকায় অবস্থানকালে তারা নিখোঁজ হন। এখন পর্যন্তই দিনার ও জুনায়েদ নিখোঁজ রয়েছে। তাদেরও কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ইফতেখার আহমদ দিনার নিখোঁজের পর ইলিয়াস আলী সিলেটের ফর্চুন গার্ডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, সরকারের একটি বাহিনী দিনারকে গুম করেছে। তিনি দিনার ও জুনায়েদকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। ইলিয়াস আলীর দাবির পর সরকারের ভেতরে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। ৩রা এপ্রিল দিনার নিখোঁজ হওয়ার পর ১৭ই এপ্রিল গাড়িচালকসহ এম. ইলিয়াস আলী গুম হন। এ ঘটনার পর সিলেটের মাঠে আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। ১৮ই এপ্রিল গোটা বিভাগকে অচল করে দেয় বিএনপি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি’র আহ্বানে ৫ দিন হরতাল আহ্বান করা হয়। সিলেটের বিশ্বনাথে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি’র সংঘর্ষে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতা নিহত হন। এ ঘটনায় আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি’র শ’ শ’ নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। এখনও ইলিয়াসের অপেক্ষায় বিশ্বনাথের রামধানা গ্রামের অবস্থানরত মা সূর্যবান বিবি। অবুঝ শিশু নাওয়াল পথ চেয়ে আছে প্রিয় পিতার। অপেক্ষায় স্বজনরা। বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মী ইলিয়াসের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এভাবে কেটে গেছে ২০১২। বছরের প্রথম দিকে যে ঝড় এসে ইলিয়াসকে উড়িয়ে নিয়ে গেল সেই ঝড় থেমে গেলেও ইলিয়াস ফেরার কোন লক্ষণই নেই। ৮ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা এম. ইলিয়াস আলীকে নিয়ে এখনও আশাবাদী তার পরিবার। তারা প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রেখে পথ চেয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী মানবিক। তিনিও স্বজন হারানোর ব্যথা তিনি বোঝেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর কথায় ভরসা করেই ইলিয়াসের পথপানে আশায় বুক বেঁধে আছেন পরিবারের সদস্যরা। ইলিয়াস আলীর মায়ের দাবি, তার ছেলেকে তিনি যে কোন মূল্যে চান। সুস্থভাবে ছেলেকে ফিরে চান। তিনি আর কিছু চান না। ছেলের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সূর্যবান বিবি কাতর হয়ে পড়েছেন। কাঁদছে কাঁদতে শুকিয়ে গেছে তার চোখের পানি। গলার স্বর কমে এসেছে। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে অশীতিপর সূর্যবান ছেলে ইলিয়াসকে একবার দেখতে চান। ইলিয়াসের ভাই আছকির আলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মানবতার দিকে পথ চেয়ে আছেন তারা। তারা ইলিয়াসকে ফিরে পেতে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতির চেয়ে মানবতাকে ঊর্ধ্বে তুলে প্রধানমন্ত্রী ইলিয়াসকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন। এদিকে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে সরকারই ইলিয়াস আলীকে গুম করে রেখেছে। বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন, ইলিয়াস আলী সরকারের হেফাজতে রয়েছে। গুম নামক সেলে ইলিয়াস আলী, ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনায়েদ আহমদ, আনছার আলীকে আটকে রাখা হয়েছে। সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুল গফ্‌ফার জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত চান তারা। সরকার ইলিয়াসসহ নিখোঁজ দিনার, জুনায়েদ ও আছকির আলীকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে জানান তিনি।

Friday, December 28, 2012

হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ

হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ৮টি স্থাপনা উচ্ছেদ


সাভারে হলমার্কের দখলে থাকা প্রায় ১০ একর সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ একর ৬৫ শতাংশ সম্পত্তিতে থাকা বহুতল ভবনসহ ৮টি আধাপাকা ভবন ভেঙে দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম হোসেনের নেতৃত্ব এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবির হোসেন সরদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর রাশেদ, হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হক, হলমার্ক ডেইরি ফার্মের ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন এবং শিল্প ও থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম হোসেন জানান, হলমার্কের কম্পাউন্ডের মধ্যে প্রায় ১০ একর সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে এক একর ৬৫ শতাংশের ওপর একটি চারতলা ভবন ও সাতটি আধাপাকা ঘর করে সেখানে বিশাল আকৃতির কারখানা ও গুদাম করা হয়েছে। এসব স্থাপনা ধ্বংস করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্যই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রায় ৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে স্টাইল ফ্যাশন ও একটি গুদাম ঘর বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়া হয়। স্মার্ট স্টাইল ফ্যাশন নামের চার তলা ভবনটি ভেকুর সাহায্যে জানালা ও দেয়ালের সামান্য অংশ এবং অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে। তাদের দখলে থাকা সরকারি সড়ক থেকে গেটে ভেঙে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া হলমার্কের মূল ফটকে সরকারি জমি দখল করে নিরাপত্তারক্ষীদের একটি কক্ষ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
হলমার্কের দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি আরও আগে উদ্ধার কেন করেননি- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আগে হলমার্কের ভেতরে প্রবেশ অনেক কঠিন ছিল। গত ২৪শে জানুয়ারি সরকারি জমি উদ্ধার করতে এসে এসি (ল্যান্ড)সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা লাঞ্ছিত হয়েছিলেন।
এদিকে পুলিশের উপস্থিতিতে মাথায় লাল ফিতা বাধা প্রায় ৫০ জনের মতো শ্রমিক স্থাপনা উচ্ছেদে কাজ করেছে। তবে অভিযানে কেউ বাধা দেয়নি বা আপত্তি তোলেনি।
অনিয়মের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপ আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী জেসমিন ইসলাম ও ভায়রা তুষার আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক একেএম আজিজুর রহমানসহ চার কর্মকর্তাকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
হলমার্কে লুটপাট: হলমার্ক কারখানার নিরাপত্তার জন্য সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাভার থানাকে অনেক আগেই চিঠি দিলেও ভেতরে ভেতরে রাতের আঁধারে লুটপাট চলছে- এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারখানার কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে রাতের আঁধারে গরু বের করে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি চারটি গরু বের করে বিক্রি করাকালে স্থানীয় জনতা একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া কারখানার ভেতরে বিভিন্ন কক্ষে থাকা কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান হলমার্ক গ্রুপের জন্য ‘যথেষ্ট’ নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন। তবে বিভিন্ন মালামাল লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বড় প্রতিষ্ঠানে নজরদারি করা কঠিন কাজ। তাছাড়া লুটপাট হয়েছে বলে তার জানা নেই বলে জানান।
এদিকে হলমার্কের মালিক তানভীর মাহমুদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় ১৫টি মামলা ২৪টি সাধারন ডায়েরি রয়েছে। এর আগে ৩রা নভেম্বর হলমার্কের কম্পাউন্ডের ভেতরে ৩৮ শতাংশ সম্পত্তি মেজর জেনারেল (অব.) সাফায়েতুল ইসলাম, মেজর (অব.) খলিল-বিন-ওয়াহিদ ও উইং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান দাবি করে স্থানীয় ভূমিদস্যু ওহাব মিয়ার নেতৃত্বে ২৫-৩০ যুবক সীমানা প্রাচীর ভেঙে দখলে নেয়ার চেষ্টা চালায়। তখন পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা চলে যায়।
ওই সম্পত্তির মালিক দাবিদার উইং কমান্ডার (অব.) মো. হাসান জানান, গত দুই বছর আগে তারা তিনজনে মিলে স্থানীয় লাল মিয়ার কাছ থেকে কান্দিবলিয়ারপুর মৌজার এসএ-৩২, আরএস-১২, খতিয়ান এসএ-১০৮ ও আরএস-৭৭ দাগে ৩৮ শতাংশ জমি বায়নানামা করেন। জমিটি এতদিন হলমার্কের কম্পাউন্ডের ভেতরে হলমার্কের দখলে ছিল। ছয় মাস আগে সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে তা রেজিস্ট্রি করা হয়।
ভূমি ও সাব রেজিস্ট্রার অফিস জড়িত: হলমার্ক দুর্নীতির সঙ্গে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিস, ফুলবাড়ীয়া ভূমি অফিস জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলোচিত হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে স্থানীয় ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের যোগসাজশ থাকার প্রমাণ পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র বদলি করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, এর আগেও সিরাজুল ইসলাম বদলি হলে তা ঠেকাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করেছে হলমার্ক কর্তৃপক্ষ। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি এর আগে বলেছিলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার সঙ্গে হলমার্কের মালিকের কখনও দেখা হয়নি। তার সঙ্গে কোন রকম সম্পর্কও আমার নেই। আবার উল্টো হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে জমির খাজনা না দেয়ার কথাও বলেন। তবে হলমার্কের কতটুকু জমি রয়েছে তা-ও তিনি কাগজপত্রে দেখাতে না পারলেও কমপক্ষে ২০০ একর জমি রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, শুধু ৪ শতাংশ জমি হলমার্কের নামে খারিজ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক আমজাদ হোসেন সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগসাজশ করে জাল কাগজপত্র তৈরি করে দিতেন হলমার্কের মালিককে। দুদকের মামলায় হলমার্কের মালিক তানভীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দলিল লেখক আমজাদ হোসেন আত্মগোপনে রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।
যে ভাবে উত্থান সাভারে: গত ৩০ বছর আগে হেমায়েতপুরের নন্দখালী এলাকায় প্রায় সোয়া ৬শ’ পাখি জমির ওপর জনতা হাউজিং লিমিটেড নামে একটি আবাসিক প্রকল্প গড়ে ওঠে। হাউজিংয়র নকশা বা লে-আউট প্ল্যান অনুসারে ৩, ৫ ও ৮ কাঠার ২১৮৪টি প্লট বিভিন্ন পেশার লোকজনের কাছে বিক্রি করলেও প্রায় সব প্লটই খালি পড়েছিল।
২০০৬ সালে হলমার্র্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ প্রকল্প এলাকার পাশে দু’টি প্লট কিনে একটিতে তৈরি পোশাক কারখানা এবং অন্যটিতে গরুর খামার প্রতিষ্ঠা করেন। জনতা হাউজিং প্রকল্পের ভেতরে ৮ পাখি জমিতে একটি লেক, দু’টি বড় পুকুর, কিছু জলাভূমি, বহু গাছপালা ও খোলা জমি ছিল। সম্প্রতি হলমার্ক গ্রুপ ওই প্রকল্প এলাকায় কয়েকটি প্লট কিনে এবং আশপাশের প্রায় শতাধিক প্লট নানাভাবে প্রভাব সৃষ্টি করে এবং ভয় দেখিয়ে দখল করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বছর হলমার্ক গ্রুপ পোশাক রপ্তানিতে জাতীয় পদক পাওয়ার পর থেকেই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর পরেই হলমার্ক গ্রুপ সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে নিমন্ত্রণ করে এবং প্রায় ২০ হাজার শ্রমিককে ভূরিভোজ করায়। তখন ওই অতিথিদের বরণ করতে ৮-১০টি তোরণ নির্মাণও করা হয়েছিল।

Wednesday, December 26, 2012

রক্তাক্ত বিশ্বজিৎকে রড দিয়ে পিটিয়েছি

রক্তাক্ত বিশ্বজিৎকে রড দিয়ে পিটিয়েছি


দলীয় নেতাদের মন যোগাতেই হাতে রড তুলে নিয়েছিলাম। আঘাত করেছিলাম রক্তাক্ত বিশ্বজিতের শরীরে। যাতে কোনভাবেই চাকরিটা মিস না হয়ে যায়। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে বিশ্বজিতের ওপর হামলাকারী হিসেবে শনাক্ত হওয়া আসামি এমদাদুল হক (২৬)। এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার টিম (দক্ষিণ) এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের টিম ইনচার্জ মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম চাঁপাই নবাবগঞ্জের সদর উপজেলার আরামবাগ এলাকার স্বপ্নপুরী রেস্টহাউজ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে গতকাল দুপুরে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। গোয়েন্দা দলের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমদাদ জানায়, সে দরিদ্র পরিবারের ছেলে। তার বাবা আকবর আলী মারা গেছেন। মা বেঁচে আছেন। দুই ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে সে ষষ্ঠ। ছেলে হিসেবে পরিবারের বড় সন্তান। বাড়ি যশোর জেলার শার্শা থানার পাঁচকাইবা গ্রামে। ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে। দীর্ঘদিন বেকার থাকার পরও ভাল কোন চাকরি পাচ্ছিল না। এজন্য একটি চাকরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে নেতাদের পিছে পিছে ঘুরছিল। এরই মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে দরখাস্ত করেছে। ওই পদের চাকরিটা যাতে কোনভাবেই মিস হয়ে না যায়- এজন্য নেতাদের মন যুগিয়ে চলার চেষ্টা করেছে। যখন যে কাজ করতে বলেছে, তা-ই করেছে। বড় ভাইদের ফুট-ফরমাশ খেটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৯ই ডিসেম্বরের মিছিলে অংশ নিয়েছে। এক পর্যায়ে রড হাতে বিশ্বজিৎকে ধাওয়া করেছে। এমদাদ আরও জানায়, ঘটনাস্থলে দোতলায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও চাপাতির কোপে বিশ্বজিতের শরীর যখন রক্তাক্ত, তখন আমি ছিলাম রড হাতে নিচে দাঁড়িয়ে। আশপাশে অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের নজর কাড়তেই দৌড়ে পলায়নরত বিশ্বজিতের শরীরে রড দিয়ে ২-৩টা আঘাত করি। এ সময় বিশ্বজিৎ বারবার বলছিল, আমি কোন দোষ করি নাই। কিছুই করি নাই। আমারে মাফ কইরা দ্যান। কিন্তু বড় ভাইরা সামনে থাকায় বিনা আঘাতে ছেড়ে দিতে সাহস পাই নাই। সূত্র জানায়, বিশ্বজিতের মৃত্যুর খবর শুনে এমদাদ রাজধানীর বাইরে পালিয়ে যায়। পালানোর আগে বিভিন্ন নেতার কাছে আশ্রয়ের জন্য ফোন করেছিল। কিন্তু কোন সহযোগিতা না পেয়ে নিরাশ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা করে। পরে জবি ছাত্রলীগের এক নেতার পরামর্শে ঘনিষ্ঠ আরেক নেতার তত্ত্বাবধানে চাঁপাই নবাবগঞ্জের স্বপ্নপুরী রেস্ট হাউজে ওঠে। সেখান থেকে গোদাগাড়ী সীমান্তপথ দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছিল। কিন্তু তার আগেই গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে এমদাদ জানায়, স্বপ্নপুরী রেস্টহাউজের রুম ভাড়া নিয়েছিল বস্ত্র ব্যবসায়ী পরিচয়ে। তবে রেস্ট হাউজের রেজিস্টার বুকে তার নাম ছিল না। রেস্ট হাউজ কর্র্তৃপক্ষকে বলেছিল, শীতের গরম কাপড় সংগ্রহের জন্য সে এসেছে। কাপড়ের চালান আসার পর ফিরে যাবে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ছদ্ম পরিচয়ে এমদাদ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
৭ দিনের রিমান্ডে: গ্রেপ্তারের পরপরই এমদাদুল হককে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এর আগে গতকাল দুপুরে মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তিনি। মহানগর হাকিম তানভীর আহমেদ সাত দিন মঞ্জুর করেন।
২১ জন শনাক্ত: গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২০-২১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পত্রপত্রিকা ও ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এমদাদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিশ্বজিৎ হত্যার কথা সে স্বীকার করেছে। রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল, জিএম রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন ও মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মনিরুল ইসলাম জানায়, এ মামলায় ফারুক হোসেন, কাজী নাহিদুজ্জামান তুহিন, মোসলেহ উদ্দিন ও মামুনুর রশীদকে গ্রেপ্তার দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট) হয়েছে। তদন্তে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। যেহেতু সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তাই এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলা সমীচীন হবে না। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। সাতজনের মধ্যে পাঁচজনকে বহিষ্কার এবং দু’জনের সনদ বাতিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যে দু’জনের সনদ বাতিল করা হয়েছে, তাদের একজন এমদাদুল। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ছাত্রলীগের কর্মী নয় এমন চারজন এখন কারাগারে। ঘটনার দু’দিন পর এক ব্যক্তির জামিনের ব্যাপারে আদালতে গেলে পুলিশ ‘সন্দেহজনক ঘোরাঘুরি’র অভিযোগে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
স্বপ্নগুলো ওলটপালট হয়ে গেল: গ্রেপ্তারকৃত শাকিল, শাওন, কিবরিয়া, টিপু, সাইফুল ও এমদাদ গোয়েন্দাদের কাছে আক্ষেপ করে বলেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রলীগের বড় ভাই, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা, হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বোকামির কারণেই আমাদের স্বপ্নগুলো ওলটপালট হয়ে গেল। আমরা না হয় ভুল করেই ফেলেছি- তাই বলে হত্যার উদ্দেশ্যে মারিনি। মনে করেছি, হাসপাতালে নেয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পর এক রিকশাচালক হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা ঠিকমতো চিকিৎসা দেয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে সঠিক চিকিৎসায় হয়তো সে সুস্থ হয়ে উঠতো। অন্তত বেঁচে থাকলে আমাদের এমন দশা হতো না।

Monday, December 24, 2012

যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি- শাকিল, শাওন ও নাহিদের জবানবন্দি

যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি- শাকিল, শাওন ও নাহিদের জবানবন্দি


বিশ্বজিৎ হত্যার পর ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের সহায়তায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলাম। কেবল আমরা তিন জনই নয় আরও কমপক্ষে ১৫ জন ছিল আমাদের সঙ্গে। ছাত্রলীগের ভাল পদ পেতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য বেপরোয়া ছিলাম আমরা। সে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি। বিশ্বজিৎকে খুনের পরও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমনভাবেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে ৩ খুনি। স্বীকারোক্তিতে তারা বলে, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে আমরা নিজেরা সরাসরি অংশ নিয়েছি। অন্যদেরও অংশ নিতে দেখেছি। হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের সহায়তায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষ হওয়া ৩ আসামি পৃথকভাবে গোয়েন্দা পুলিশ এবং আদালতকে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা উল্লেখ করেছে। গতকাল মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে যারা জবানবন্দি দিয়েছেন তারা হলো- ছাত্রলীগ কর্মী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র রফিকুল ইসলাম শাকিল, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মাহফুজুর রহমান নাহিদ। ৮ দিনের রিমান্ডে তারা গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সামনের কমিটিতে ভাল পদ নেয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। এ কারণে তাদের মধ্যে তাগিদ ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজেদের পারফরম্যান্স শো করার। এ ক্ষেত্রে হরতালকেই তারা বড় অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তারা জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। ওই নেতারা তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সে অনুযায়ীই তারা কাজ করছিল। তারা বলেছে, ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতারা শাকিলকেই বেশি শেল্টার দিচ্ছিল। প্রত্যেকেই ভারত যাওয়ার চেষ্টা করছিল। শাকিল যে রাতে গ্রেপ্তার হয় সে রাতেই সে বরিশালের বেতাগী দিয়ে নৌপথে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। আদালতে জবানবন্দি দেয়া প্রত্যেকেই নিজেদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে বলেছে, আবেগপ্রবণ হয়েই বিশ্বজিতের ওপর হামলে পড়েছিলাম। হাইলাইটে আসতে এ ধরনের কাজ করেছি। বুঝতে পারিনি, বিশ্বজিৎ মারা যাবে। ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে শাকিল বলেছে, জীবন বাঁচাতে বিশ্বজিৎ আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে দোতলার একটি দোকানে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছিল। আমি চাপাতি হাতে নিয়ে দ্রুত দোতলায় উঠে তাকে কোপাতে থাকি। শাওন বলেছে, আমি রড দিয়ে পিটিয়েছি বিশ্বজিৎকে। নাহিদ তার স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছে, লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমি বিশ্বজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করেছি।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জবানবন্দি আদায় করতে ৩ আসামিকে রোববার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি বলেন, কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, জড়িতরা কিভাবে বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছে আসামিরা। আদালতের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমানও নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় আসামিদের ৮ দিন করে রিমান্ডে নেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষ হওয়ায় আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম জবানবন্দি নেয়ার জন্য আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ই ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে দরজি দোকানি বিশ্বজিৎকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। ওইদিনই সূত্রাপুর থানায় ২৫ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন থানার এসআই জালাল আহমেদ। একই থানার এসআই মাহবুবুল আলম মামলাটি তদন্ত করছেন। ১৩ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ঢাকার সিএমএম আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালতে করা মামলায় ১০ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলো মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রফিকুল ইসলাম শাকিল, এমদাদুল হক, ওবায়দুল কাদের, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন, ইউনূছ, তাহসিন, জনি, শিপলু ও কিবরিয়া। এছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়। আসামিরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ছাত্র। আদালতে মামলা দায়েরের পর ডিবি পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। ১২ই ডিসেম্বর বিশ্বজিৎ হত্যায় জড়িত রফিকুল ইসলাম শাকিল, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন ও ওবায়দুল হককে স্থায়ী বহিষ্কার এবং মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও এমদাদুল হকের সনদ বাতিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২১শে ডিসেম্বর কাইয়ুম মিয়া টিপু, রাজন তালুকদার, সাইফুল ইসলাম এবং জি এম রাশেদুজ্জামান শাওনকেও বহিষ্কার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে নেয়া ৬ আসামির মধ্যে ৫ জনের রিমান্ডের মেয়াদ শনিবার শেষ হয়। ৮ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পরও কিবরিয়া এবং কাইয়ুম স্বীকারোক্তিমূলক জবানন্দি না দেয়ায় গতকাল আবারও ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত তাদের আরও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। অপর আসামি সাইফুলে রিমান্ডের মেয়াদ আরও ২দিন বাকি আছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বজিৎ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরও প্রায় ১৫ জনকে তারা শনাক্ত করতে পেরেছে। তারাও একই সংগঠনের। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার সম্ভব বলে তারা জানান।

Friday, December 21, 2012

বন্দুকযুদ্ধে নিহত নোয়াখালীর নিজাম ডাকাত

বন্দুকযুদ্ধে নিহত নোয়াখালীর নিজাম ডাকাত


র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নোয়াখালীর আলোচিত নিজাম ডাকাত নিহত হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৩টায় সুবর্ণচরের সেন্টার বাজারের মানিকের বাড়ির পাশে একটি বাগানে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশী বন্দুক, ইতালির তৈরী পিস্তল ও ছয়টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে ৮ জনকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে জয়নুল বাহিনী (৩৮), ফয়েজ কেরানী (৫০), সিরাজ বাহিনী (৪০), আকবর খাঁ (৪৫)। বাকিদের নাম পাওয়া যায়নি। চর জব্বার থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার ও হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন তরফদার বলেন, নিজাম ডাকাত শুধু হাতিয়া নয়, সে পুরো উপকূলের ত্রাস। তার বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর, মনপুরা, সন্দ্বীপ, ভোলা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় ৫০টির মতো মামলা আছে। ১৩টি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ১১-এর লে. কর্নেল নওরোজ এহসানের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় তাদের উদ্দেশ্য করে পাল্টা গুলি ছোড়ে নিজাম ডাকাত। গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে বন ও জলদস্যু সম্রাট নিজাম ডাকাত নিহত হয়। পরে র‌্যাব সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানায় নিয়ে আসে। সেখানে তার সুরতহাল তৈরি করা হয়। এরপর তার লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় তার এক স্ত্রী উপস্থিত ছিল। হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তার হোসেন বলেন, নিজাম ডাকাত হাতিয়ার চরাঞ্চল ও মেঘনার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। সে নদীতে ডাকাতি, চরাঞ্চলের ভূমিহীনদের ভূমি দখল, ধর্ষণ, লুটপাট, অপহরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করে আসছিল দীর্ঘ চার বছর ধরে। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল একদল সুসংগঠিত জল ও বনদস্যু বাহিনী। তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বেও তার আস্তানায় র‌্যাব-পুলিশ-কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে হাতিয়ার মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, নদীতে মাছ শিকারে গেলে তাদের নিজাম ডাকাত বাহিনীর আতঙ্কে থাকতে হতো। এ বাহিনীর হামলা, লুটপাট, অপহরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন তারা। নিজাম ডাকাত লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে।
ভূমিহীনদের স্বস্তি, আনন্দ মিছিল: এদিকে নিজাম ডাকাতের মৃত্যুতে চরাঞ্চলে স্বস্তি নেমে এসেছে। স্থানীয় ভূমিহীনরা একত্রিত হয়ে নিজাম ডাকাতের দলের লোকজনকে ধাওয়া করে গণধোলাই দিচ্ছে। এ সময় ভূমিহীনরা চরের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করেছে।
নিজাম ডাকাতের স্থলাভিষিক্ত বাহার কেরানী: অপরদিকে নিজাম ডাকাত নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দলের সদস্যরা নিজাম ডাকাতের সেকেন্ড-ইন কমান্ড বাহার কেরানীকে নির্বাচিত করেছে। চরাঞ্চলের শীর্ষ জলদস্যু বাশার মাঝি নিহত হওয়ার পর তার স্থান দখল করে নেয় নাসির কেরানী। কিন্তু তার সঙ্গে হাতিয়ার স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরে ওই নেতার ছত্রচ্ছায়ায় নাসির কেরানীকে হটিয়ে সেই স্থান দখল করে নেয় নিজাম ডাকাত। পরবর্তীকালে নিজাম ডাকাতের রাজত্ব চলাকালে তার একান্ত কর্মকাণ্ডে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে বাহার কেরানী। নিজামের অনুপস্থিতিতে তার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করতো সে। চাঁদাবজি, অপহরণ, মুক্তিপণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল কাজের নেতৃত্ব দিতো। নিজাম বাহিনী মেঘনা থেকে জেলেদের নৌকাসহ অপহরণ করে তার আস্তানায় নিয়ে গেলে সমঝোতার দায়িত্ব ছিল বাহার কেরানীর ওপর। এসব অপরাধে তার বিরুদ্ধে হাতিয়া, মনপুরা, সুবর্ণচরসহ কয়েকটি থানায় হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ ৬ ডজন মামলা হয়েছে।
কে এই বাহার কেরানী? হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭নং পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের মৃত পাটোয়ারী সরদারের ছেলে বাহার কেরানী। বর্তমানে ক্যারিংচরের বাথানখালী গ্রামে তার বাড়ি। সে কখনও লোকালয়ে আসে না। এমনকি নিজ বাড়ি হাতিয়াতেও প্রকাশ্যে তাকে দেখা যায়নি। বাহার কেরানী বাশার মাঝির হিসাব রক্ষকের (কেরানী) দায়িত্ব পালন করতো। একাধিক মামলার পলাতক এ আসামি পরবর্তীকালে চরাঞ্চলের নিজাম ডাকাতের সেকেন্ড ইন-কমান্ড হিসেবে কাজ করে। নিজাম ডাকাতের রেখে যাওয়া ভারি অস্ত্রও তার কাছে রয়েছে। এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, নিজাম ডাকাত নিহত হয়েছে। এতে এমন কোন সুসংবাদের কিছুই নেই- যতক্ষণ পর্যন্ত না তার গড়ফাদারকে চিহ্নিত না করে বিচারের আওতায় আনা হবে। এটা না করতে পারলে আরেক নিজামের উত্থান ঘটবে। একই ধরনের কথা বললেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। তিনি বলেন, নিজাম ডাকাত দেশের উপকূলের ত্রাস। বহুবার র‌্যাব-পুলিশ পাঠিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সে স্থানীয় এক নামধারী নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এত দিন দ্বীপের মানুষের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে আসছিল। ফজলুল আজিম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি নিজাম ডাকাতের গড়ফাদারকে গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে আরেক নিজামের সৃষ্টি হবে।

Wednesday, December 19, 2012

অভিনব হরতাল

অভিনব হরতাল


এ এক অভিনব হরতাল হয়ে গেল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। হঠাৎই বদলে গেলেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি হরতালে যাদের ব্যস্ত দেখা যেতো পিকেটার দমনে গতকাল ইউটার্ন নিলেন তারা। স্বল্প সংখ্যক পিকেটারকে কোন বাধাই দেয়া হলো না। উল্টো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পিকেটারের ভূমিকায় দেখা গেল পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের। রাস্তায় ব্যারিকেড আর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে হরতাল পালন করলেন তারা। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন হরতাল আর কোন দিন দেখা যায়নি। হরতালের আহ্বায়ক ছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। যাদের সংসদে আসন নেই, কোনকালে ছিলও না। তাদের পিকেটারদের গানবাজনা করতে দেখা গেছে হরতালের সময়। এ হরতালের প্রধান দাবি দু’টো। যুদ্ধাপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। হরতাল সফলে আগের রাতেই প্রস্তুতি নেয়া হয় সরকারের তরফে। মালিকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছিল রাস্তায় বাস নামানো যাবে না। সরকারি সিদ্ধান্তে বিআরটিসির কোন বাসও রাস্তায় নামেনি। যদিও আগের হরতালগুলোতে বিআরটিসির বাসই দেখা যেতো সবচেয়ে বেশি। রাস্তায় নিজের প্রাইভেট গাড়ি চালাতে গিয়েও অনেকে পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। কারণ জানতে চাওয়া হলে অজুহাত দেখানো হয়েছে নিরাপত্তার। পরিবহন না পেয়ে পায়ে হেঁটে চলতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। মজার ব্যাপার হলো এতে নাকি তাদের কোন কষ্টই হয়নি। দিন শেষে হরতাল আয়োজনকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। অভিযুক্ত পক্ষ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কেউই কোন আপত্তি জানায়নি। দেশের প্রায় সব মানুষই এ বিচার চান। এ বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে পালিত হরতালে সরকারের সমর্থনে একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে, তাহলে কি যুদ্ধাপরাধের দ্রুত বিচার নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মনে কোন সংশয় আছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকরা। এমন এক সময়ে এ দাবি উত্থাপিত হলো যখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামের কথা বলা আছে। এমনকি পঞ্চদশ সংশোধনীতে এটিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবেও গণ্য করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি চালু আছে সেখানে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। হরতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ নষ্ট করে দেয়ার জন্যই সরকারি আয়োজনে এমন হরতাল পালনের গুঞ্জন এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
হরতালে পুলিশের সহায়তা!
বাম রাজনৈতিক দলগুলোর ডাকা হরতাল চলাকালে হরতালকারীদের সহায়ক হিসেবে দেখা গেছে পুলিশকে। শান্তিপূর্ণ হরতাল চলাকালে রাজধানীতে যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। বিআরটিসিসহ অন্যান্য পরিবহনের বাস রাস্তায় না নামায় ছোট যানবাহনই ছিল যাত্রীদের ভরসা। কিন্তু রাস্তার মোড়ে মোড়ে এসব যানবাহনও আটকে দিতে দেখা গেছে পুলিশকে। কোন কোন রাস্তায় অস্থায়ী ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখে পুলিশ। রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক বাংলামোটরে পুলিশকে দেখা যায় যানবাহন আটকে দিতে। দুপুর দেড়টায় দু’টো অ্যাম্বুলেন্স শাহবাগের দিকে যেতে চাইলে তাতেও বাধা দেয়া হয়। পুলিশ যানবাচনকে বিকল্প পথে মগবাজার হয়ে গন্তব্যে যেতে বলে।
শাহবাগ পয়েন্টকে কেন্দ্র করে পুলিশ বাংলামোটর, এলিফ্যান্ট রোড, মৎস্য ভবন এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পল্টন পয়েন্টকে কেন্দ্র করে প্রেস ক্লাব, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা, গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট দিয়ে পল্টনমুখী রাস্তায় যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়। মতিঝিল পয়েন্টে যানবাহন বন্ধ করার প্রবেশমুখগুলোতে বাধা দেয়া হয়। কোথাও কোথাও রাস্তা বন্ধ করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এদিকে রাজধানী ডিআরএইউতে একটি অনুষ্ঠানে আজ আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম হরতালে সরকারের সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, অহিংস হরতালে সরকার বাধা দেবে না। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। নৈরাজ্য না হলে সরকার হরতাল পালনে সহযোগিতা করবে।
পল্টনে অবস্থান
হরতাল চলাকালে সকাল থেকেই পল্টন মোড়ে সিপিবি ও বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতা-কর্মীরা অবস্থান করেন। তারা সেখানে রাস্তায় মিছিল ও সংগীত পরিবেশন করেন। এ সময় পুলিশ আশপাশের রাস্তায় অবস্থান করে। সকাল থেকেই দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাম মোর্চার সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও সেখানে জড়ো হয়ে মিছিল এবং সমাবেশ করেন। তাদের হাতে ছিল লাল পতাকা। জাতীয় পতাকাও বহন করেন কর্মীরা।
প্রেস ক্লাব এলাকায় দিনভর গণসংগীত
হরতালে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট এলাকায় সকাল থেকে গাড়ি চলাচল ছিল বন্ধ। প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল থেকেই নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। বন্ধ করে দেয়া হয় উভয় পাশের রাস্তা। কোন যানবাহনই চলতে দেয়া হয়নি প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন যাওয়ার রাস্তা দিয়ে। এই এলাকায় হরতাল পালিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ। নিরাপত্তায় ব্যাপক পুলিশ র‌্যাব নিয়োজিত থাকলেও রাস্তায় বসে দাঁড়িয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট ও সচিবালয় এলাকায় সিপিবি, বাসদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, প্রগতিশীল ছাত্র জোট, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ব্যানারে খণ্ড খণ্ড মিছিল হয়েছে সকাল থেকেই। প্রেস ক্লাবের উল্টো পাশের সামনের রাস্তায় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে হরতালের সমর্থনে সংগীত পরিবেশন করে। দুপুর দুইটার পর হাইকোর্ট মৎস্যভবন এলাকা দিয়ে কিছু গণপরিবহন চললেও যাত্রী ছিল কম।
শাহবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মিছিল সমাবেশ
সকাল থেকে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হরতাল পালিত হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। ভোর ছ’টা থেকে বাম ঘরানার ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মীরা টিএসসি ও আশপাশ এলাকায় জড়ো হয়। কিছুক্ষণ পর টিএসসি এলাকায় মিছিল শেষে তারা শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে তারা পুলিশের ব্যবহার করা কাঁটাতারের ব্যারিকেড, বাঁশ-কাঠ দিয়ে পথ আটকে চারপাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তারপর প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে এ এলাকায় দফায় দফায় মিছিল করে কর্মীরা। বাস, সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহন এ এলাকায় চলাচল না করলেও রাস্তাঘাটে যথেষ্ট পরিমাণ রিকশা চলাচল করে। শাহবাগ মোড়ের অস্থায়ী মঞ্চে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন ও ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
ঢাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি
হরতালের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। এর আগে সব হরতালে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল না। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগের অফিসগুলো বন্ধ। বিভাগে শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল না। তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রতিদিনের মতো সচল ছিল। এদিকে বামদলগুলোর ছাত্র সংগঠন প্রগতিশীল ছাত্র জোট হরতাল উপলক্ষে শাহবাগ মোড়ে সমাবেশ করেছে।
হরতাল সফল: সিপিবি-বাসদ
বিকালে হরতাল সফল বলে দাবি করেন সিপিবি ও বাসদ নেতারা। হরতালকে সফল উল্লেখ করে একে নতুন মাত্রার গণতন্ত্রের রাজনীতি হিসেবে বর্ণনা করেন তারা বলেন, এ হরতালে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ফিরে এসেছে। জনগণের ন্যায্য দাবি উত্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। বিকাল ৪টায় রাজধানীর মুক্তিভবনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম অভিযোগ করে বলেন, হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশ হরতাল সমর্থনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ১৫ জন নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। পুলিশ আটক করেছে ২০ জন নেতা-কর্মীকে। বিশেষ করে বরিশাল, সুনামগঞ্জ, যশোর, গাজীপুর, নরসিংদী, মৌলভীবাজারে মিছিলে হামলা করেছে শাসক গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী ও পুলিশ বাহিনী। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই হরতাল ব্যতিক্রম ছিল। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিয়েছে। মানুষ দেশে এখন একটা বিকল্প পথ খুঁজছে। আর এই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে নিতে প্রতিটি জাতীয় ইস্যুতে রাজপথে থাকবে তাদের সংগঠন। সরকারের মন্ত্রীরা যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের বিষয়ে আগেই মন্তব্য করছেন। তারিখ উল্লেখ করছেন। এটা ঠিক নয়। দেশে বিদেশে এই বিচার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অহেতুক কালবিলম্ব করে বিচার ঠেকাতে মদতদাতাদের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এই বিচার বানচাল করতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচের অভিযোগ করেন সিপিবির সভাপতি। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের ‘কার স্বার্থে হরতাল’ এ বক্তব্যের জবাবে সেলিম বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা হরতাল করেননি। একই দাবিতে আগামী ২৮শে ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিছিল-সমাবেশ, ৩রা থেকে ৭ই জানুয়ারি জাগরণ অভিযান নামে দেশব্যাপী ঝটিকা সফর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে ২৬টি জনসভা, ৫১টি সমাবেশ ও বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, বাসদের বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ।

Thursday, December 13, 2012

বিশ্বজিত্ হত্যা :ছাত্রলীগ নেতার বাসা থেকে নাহিদ গ্রেফতার

বিশ্বজিত্ হত্যা :ছাত্রলীগ নেতার বাসা থেকে নাহিদ গ্রেফতার


বিশ্বজিত্ দাস হত্যায় জড়িত মাহফুজুর রহমান নাহিদকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে গ্রেফতার করেছে। সিঙ্গাইর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রমিজউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি পৌর এলাকার আজিমপুরে লুকিয়ে ছিল নাহিদ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো চারজনকে গ্রেফতারে পুলিশ রাজধানী ও তাদের গ্রামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে। এদিকে গতকাল বুধবার ভোরে ডিবি আশুলিয়া থেকে শাকিল নামে একজনকে আটক করে। তবে বিশ্বজিত্ হত্যায় এই শাকিল জড়িত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ গ্রেফতারকৃত আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে পুলিশ জানায়।

অন্যদিকে বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল কোতয়ালী ও সূত্রাপুর থানা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহী উদ্দীন খান আলমগীর গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগ জড়িত নয়। ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীরা এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত যেই হউক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে ডিবির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মনিরুল ইসলামের নির্দেশে একাধিক টীমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ও র্যাব গত মঙ্গলবার রাতে সিঙ্গাইর উপজেলার আজিমপুর গ্রাম ঘেরাও করে। রাত ১২টা পর্যন্ত গ্রামের অধিকাংশ ঘরে তল্লাশি চালিয়েও নাহিদকে পাওয়া যায়নি। পরে ডিবি ও র্যাব জানতে পারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রমিজউদ্দিন এবং তার ভাই সিঙ্গাইর সরকারি কলেজের ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা সমিজের বাসায় নাহিদ লুকিয়ে আছে। রমিজ ও সমিজকে পুলিশ আটক করে সিঙ্গাইর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করে, নাহিদ তাদের ঘরে লুকিয়ে ছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নাহিদকে আরেক ছাত্রলীগ নেতা মোহসীনের বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। দুইভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোহসীনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রাত ১টায় পুলিশ নাহিদকে গ্রেফতার করে। নাহিদকে ঢাকায় ডিবি অফিসে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা জানান তিনি ডিবিকে। ৯ ডিসেম্বর ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের নাম ঠিকানা বলে দেন তিনি। তাদের কেউ কেউ নাহিদের সঙ্গে সিঙ্গাইরে আশ্রয় নিতে চাইলে নাহিদ তাদের সঙ্গে করে আনেননি। নাহিদের গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর রহমান।

আমাদের সিঙ্গাইর প্রতিনিধি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দলীয় সূত্রে নাহিদের সঙ্গে রমিজের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। আর এ কারণেই রমিজের গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।

হাতিয়া সংবাদদাতা জানান, বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওবাইদুল কাদের তাওসীনের বাবা মাওলানা মহিউদ্দীন ইত্তেফাককে নিজের ছেলের আসল পরিচয় না দিয়ে বলেছেন, তার ছেলের নাম মাহফুজুর রহমান নাহিদ। মাওলানা মহিউদ্দিন আজহারুল হক সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও স্থানীয় জামায়াত নেতা। তাওসীনের বড় ভাই তাফসীর উদ্দিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল শাখা শিবিরের সভাপতি। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি। তিনি সেই থেকে পলাতক।

জানা যায়, উত্তেজিত কর্মীদের তাওসীনই বোমা নিক্ষেপকারী হিসাবে দেখিয়ে দেয়। তাওসীন হাতিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে আলীম পাস করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে ভর্তি হয়। হাতিয়া থাকাকালে তাওসীন শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাওসীনের ছোট বোন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের মহিলা কর্মী বলে পুলিশ নিশ্চিত।

গতকাল ইমদাদুল হকের গ্রামের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচকাঘরায় পুলিশ তল্লাশি চালায়। এএসআই রেজাউল হক মুন্সীকে ইমদাদুল হকের ছোট ভাই জাকির হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার তার ভাই দুইবার বাড়িতে ফোন করেছে। জাকির জানায়, ইমদাদ বাড়িতে নিজেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দিতো। টিভি দেখে ইমদাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জাকির কৃষিকাজ করেন। তাদের বাবা আকরাম আলী বেঁচে নেই। মা জোহরা বেগমকে নিয়ে জাকির গ্রামের বাড়িতে থাকে। তার ভাই দ্রুত বড় লোক হওয়ার কারণে ছাত্রলীগ করে বলে জাকির পুলিশকে জানায়।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত রফিকুল ইসলাম শাকিলের পটুয়াখালীর ফায়ার সার্ভিস রোডস্থ বাসায় তল্লাশী চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল বেলা ১১টায় পটুয়াখালী সদর সার্কেল এএসপি আনছার উদ্দিনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ এই তল্লাশী অভিযান চালানো হয়। এসময় বাসায় শাকিলের বড় ভাবী ও গৃহপরিচালিকা ছাড়া কোন পুরুষ সদস্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মিডিয়ায় শাকিলের পরিচয় প্রকাশিত হওয়ার পর তার বাবা ও ভাই গা ঢাকা দিয়েছে। তার পিতা আনসার আলী আয়কর বিভাগের একজন চতুর্থ শ্রেণীর (এমএলএসএস) অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। শাকিল ৩ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার বড় ভাই সফিকুল ইসলাম শাহিন ওরফে ট্যাক্স শাহিন পটুয়াখালী শহর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ।

আনসার মিয়া আয়কর বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হলেও তার রয়েছে পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস রোডে চারতলা বিশিষ্ট সুরম্য অট্টালিকা। তার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জেও রয়েছে বিশাল সানসৈকত সম্পন্ন বাড়ি। সে চার বছর আগে আয়কর বিভাগের চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

রংপুর থেকে ওয়াদুদ আলী এবং আমিনুল ইসলাম জুয়েল জানান, দরিদ্র পরিবারের ছেলে মীর মোঃ নূরে আলম লিমন ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে বড় নেতা ও ধন-সম্পদের মালিক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলো। এ কারণে একের পর এক অপরাধ এবং অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলো। তার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের শুল্লিপাড়া।

গতকাল বুধবার এলাকায় গিয়ে জানা যায়, শুল্লিপাড়া গ্রামের মীর মোঃ নুরুল ইসলামের পুত্র মীর মোঃ নূরে আলম লিমন গত ১২/১৩ বছর আগে মা নূরবানুর সঙ্গে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ায় মা নূরবানু ঢাকায় গিয়ে আশ্রয় নেন আগারগাঁও এলাকায়। পরে লিমনের বাবা মীর মোঃ নুরুল ইসলাম ঢাকায় গিয়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেন। রংপুরের পীরগাছা থেকে ঢাকা যাওয়ার আগে লিমন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তো। পরে সে ঢাকায় গিয়ে আবার স্কুলে ভর্তি হয়। মাঝে-মধ্যে এলেও রংপুর মহানগরে নেতাকর্মীদের সঙ্গ দিতেন। গ্রামে তাদের কোন বাড়ি-ঘর নেই। মাত্র ৫ কাঠা পৈত্রিক ভিটা রয়েছে। অথচ রংপুর এলে সে একাধিক দামি মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ রাজকীয় হালে চলাফেরা করতো। ২ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে লিমন সবার ছোট। স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় লিমনের পিতা মীর মোঃ নূরুল ইসলাম গত ৮ মাস আগে ঢাকা ছেড়ে আবার এলাকায় এসে হাট-বাজারে মসলা বিক্রি শুরু করেন।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটি ও প্রক্টোরিয়াল বডির জরুরি সভায় বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন ছাত্রকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং দুইজনের সনদ বাতিল করা হয়। প্রাথমিকভাবে মাহফুজুর রহমান নাহিদ, ইমদাদুল হক, রফিকুল ইসলাম শাকিল, মীর মো. নূরে আলম ও মো. ওবাইদুল কাদের তাওসীনের বিরুদ্ধে বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় প্রমাণ পায় প্রক্টোরিয়াল বডি। ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও একই শিক্ষাবর্ষে দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করে ইমদাদুল হকের সনদ বাতিল করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে ইসলামের ইতিহাসের চতুর্থ ব্যাচের ছাত্র রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রথম ব্যাচের ছাত্র নূরে আলম লিমন ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র মো. ওবাইদুল কাদের তাওসীনকে বহিষ্কার করা হয়

Wednesday, October 31, 2012

র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে লিমনের মাকে ডিসির প্রস্তাব!

র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে লিমনের মাকে ডিসির প্রস্তাব!

র‌্যাবের গুলিতে পঙ্গু ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়ার কলেজছাত্র লিমনের মাকে র্যাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাস।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগমের সঙ্গে দেখা করে এ প্রস্তাব দেন।

জানা গেছে, গত বুধবার বেলা ১২টায় কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলামের অফিস কক্ষে লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগমকে ডেকে নিয়ে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক এ প্রস্তাব করলেও গণমাধ্যমসহ কাউকে বৈঠকের কথা জানানো নিষেধ ছিল।

কিন্তু সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বৈঠকের ব্যাপারে সোমবার এ তথ্য বেরিয়ে এলে লিমন, কাউখালী নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এ বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করেন। কিন্তু প্রস্তাবের কথা অস্বীকার করেন।

লিমন ও তার মা হেনোয়ারা বেগম জানান, জেলা প্রশাসক এ কথা কাউকে বলতে নিষেধ করায় তারা কাউকে জানাননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বুধবার সকাল ১২টায় কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম লিমন ও তা মা হেনোয়ারা বেগমকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান।

তারা সেখানে উপস্থিত হলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ ব্যাপারে লিমন হোসেন বলেন, “আমাদের ডাকার পর ইউএনও সাহেব একজন বড় মেহমান আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান। পরে ডিসি সাহেব আমাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন।”

লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম বলেন, “ডিসি সাহেব আমাকে মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেন। আমরা মামলা প্রত্যাহার করলে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলাও প্রত্যাহার করা হবে বলে জানান তিনি। এ সময় ইউএনও সাহেবও মামলা প্রত্যাহারের করার অনুরোধ করেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মামলা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করার কথা অস্বীকার করে বলেন, “ওই দিন ছুটি ছিল বলে ডিসি স্যার এখানে এসেছিলেন। লিমনদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার জন্যই তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।”

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি কাউখালি ইউএনওর একটি দাওয়াতে ওই দিন সেখানে গিয়েছিলেন। লিমন ও তার মায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তবে মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাব বা ওই সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে কথা হয়নি বলে তিনি জানান।