Pages

Showing posts with label Humanrights. Show all posts
Showing posts with label Humanrights. Show all posts

Thursday, January 10, 2013

৯০ বছরের বরকে ১৫ বছর বয়সী স্ত্রীর ডিভোর্স

৯০ বছরের বরকে ১৫ বছর বয়সী স্ত্রীর ডিভোর্স


সৌদি আরবে ৯০ বছরের বৃদ্ধ স্বামীর সঙ্গে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দিয়েছে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি আদালত। গত সপ্তাহে এ রায় প্রদান করে আদালত। গত কয়েক মাস যাবৎ ওই বৃদ্ধের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছিল। ওই বৃদ্ধের প্রথম স্ত্রীর বয়স ৮০ বছরের বেশি। তাকে রেখেই নতুন আরেকটি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘটনার শুরু যখন হবু বর ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কনেকে পণ বাবদ ৪৫ হাজার রিয়াল দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ওই কিশোরীর পিতামাতাকে। একই সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচের ভার নেন তিনি। কনের পিতা ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধের প্রস্তাবে সম্মত হন। অনুষ্ঠানের পর কনে নিজেকে একটি ঘরে আটকে রাখে। স্বামীকে সেই ঘরে ঢুকতে দেয়নি সে। সারারাত ধরে ওই ঘরেই কান্নাকাটি করে কাটায় সে। তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় কাতর কিশোরী কনে তার বিয়ের পোশাক ছিঁড়ে ফেলেছিল। পরের দিন সকালে বর তার স্ত্রীর পরিবারকে খবর দেয়। কনের আত্মীয়-স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ঘরের দরজা খোলে সে। পরিবারের সদস্যরা কনেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। বৃদ্ধের কোন আবেদনে সাড়া দেয়নি তারা। স্ত্রীকে দাবি করতে তার বাড়িতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। সে সময় পণের অর্থ ফেরত চান বৃদ্ধ বর। কনের পরিবার জানায়, তারা পণের সব অর্থ খরচ করে ফেলেছে। তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার মতো কোন অর্থ নেই। শেষ পর্যন্ত মামলার আশ্রয় নেন ওই বৃদ্ধ। কয়েক দফা শুনানির পর আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদ ও বৃদ্ধকে তার পণের টাকা ফিরিয়ে দেয়ার রায় দেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ নিউজ। অবশ্য ৯০ বছর বয়সী বর বলছেন, মামলায় এখনও পথ খোলা আছে। কারণ, মামলাটির রায় দিয়েছেন একটি গোষ্ঠীর নেতা। তিনি সরকারি বিচারক নন। তিনি বলেন, তার কাছ থেকে পণের টাকা নেয়াটা ছিল কনের পরিবারের চক্রান্ত। তিনি চান স্ত্রী তার বাড়িতে ফিরে আসুক। এদিকে কনেকে রিয়াদে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বরের অভিযোগ, তার নাগালের বাইরে পাঠাতেই এটা করা হয়েছে।

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের রিপোর্ট- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ সরকার

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের রিপোর্ট- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ সরকার


নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২রা ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছিল। তাতে বিচার বিভাগকে কিভাবে আলাদা করা যায় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা মানতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার বাধ্য। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। ৮ই জানুয়ারি এ সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ: হোয়াই শুড জুডিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স বি ডিলেইড এনি ফারদার?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধীদের সঙ্গে আচরণ সম্পর্কিত জাতিসংঘের সপ্তম কংগ্রেসে গৃহীত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূল নীতি অনুযায়ী সমস্ত সদস্য রাষ্ট্র তার দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে লড়াই করছে। এ দেশটির জন্মের সময় থেকেই এই লড়াই চলছে। বিশেষ করে মাসদার হোসেনের নেতৃত্বে বিচারিক একটি গ্রুপ ১৯৯৫ সালে এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে হাইকোর্ট ডিভিশনে তোলেন। সেই থেকে এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মাসদার হোসেন এখন জেলা ও দায়রা জজ। ১৯৯৯ সালের ২রা ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে বিচার বিভাগকে কিভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করা যায় তা নিয়ে। তাতে একে কিভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সমর্থন দেয়া যায় তা-ও বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি আদালতের ওই ডিক্রি মানা হতো তাহলে তাতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকটাই ফিরে আসতো। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্ট আমলে নিয়েছেন। আদালত বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়িয়ে ও তাদের অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করে বিচার বিভাগের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। দৃশ্যত, নীতিনির্ধারক পর্যায়ের চাপে সরকার আদালতের সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার পথে। এতে বলা হয়, ১৯৮৫ সালে মিলানে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ওই সম্মেলনে প্রথম যে মৌলিক নীতি গৃহীত হয়েছিল তাতে বলা হয়েছে- রাষ্ট্র কর্তৃক বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হতে হবে এবং তা সংবিধান অথবা দেশের আইন দ্বারা সুরক্ষিত হতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানো ও তা রক্ষা করা সব সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উন্নয়ন প্রক্রিয়া কিভাবে এগিয়ে গেছে ইতিহাস থেকে সে বিষয়ে অনুপ্রেরণা নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার। অবশ্য যদি তারা তা মনে করে। কর্নওয়ালিস কোড অনুযায়ী, ১৭৯৩ সালে তৎকালীন বঙ্গে নির্বাহী বিভাগ থেকে জেলা জজকে স্বাধীন করা হয়। ওই বঙ্গ থেকেই আজকের এই বাংলাদেশের উৎপত্তি। কর্নওয়ালিস কোড যখন অনুসরণ করা হতো তখন জেলা কালেক্টরেট থেকে জেলা জজের কাছে বিচারিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় এনসাইক্লোপেডিয়া, যার নাম বাংলাপিডিয়া- তাতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক উত্তরাধিকার রীতিতে বেতন ও সম্মান (স্ট্যাটাস)-এর দিক দিয়ে ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের চেয়ে জেলা জজদের উঁচুতে স্থান দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গ্যারান্টি দেয় এমন বেশ কিছু ধারা আছে বর্তমান সংবিধানে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয় ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ। রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার বাধ্য তা এই ধারায় পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংবিধানের ৩৫ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকারী হইবেন।’ এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীন বিচার বিভাগ পাওয়ার মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। সংবিধানের ৯৪ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।’ এখানে চূড়ান্তভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ধারণায় অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে অখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আইনের শাসনের অধীনে সত্যিকারের গণতন্ত্রের ক্রমবিকাশ ও তার পরিপক্বতার জন্য স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রয়োজন। বাংলাদেশ গত চার দশক একটি স্বাধীন দেশ। এরই মধ্যে তাদের এই শিক্ষা পাওয়া ও তা অর্জন করা উচিত ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে বিচার বিভাগ রয়েছে ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে বিরোধী রাজনীতিকদের হয়রানি করা হয়। সুশীল সমাজের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা হয় ও দায়মুক্তিকে উৎসাহ দেয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের পুরো বিচারিক পরিমণ্ডলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠান বলতে যা হওয়ার কথা তা থেকে অনেক দূরে রয়েছে ফৌজদারী বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর ফলে নিখোঁজ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ব্যাপক নির্যাতন, নিরাপত্তা হেফাজতে অন্যান্য রকম নির্যাতন হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাহী বিভাগের শক্তিশালী অঙ্গ। এসব মানবাধিকার ও সুশীল সমাজ নিপীড়নের বিচারে নির্বাহী বিভাগ থেকে মুক্ত না হওয়ায় বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা যন্ত্র অপারগ, অপ্রস্তুত ও কম শক্তিশালী। এতে আরও বলা হয়েছে, এর ফলে দেশে ন্যায়বিচারের ধারণায় প্রচণ্ড ধস নেমেছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দেয়া না হলে অথবা বিচার বিভাগ আদর্শ মানে না এলে বিচার নিয়ে জনগণের আস্থা শক্তিশালী হবে না। কিন্তু বাংলাদেশে এ চিত্র তার ঠিক উল্টো।

Tuesday, January 8, 2013

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

৪ আসামির রিমান্ড শেষ, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গেলেন ড. মিজান ও কাদের সিদ্দিকী

 

টাঙ্গাইলে ছাত্রী নির্যাতন ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৪ আসামির রিমান্ড শেষ হয়েছে গতকাল। রিমান্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে রাখা হয়েছে। এদিকে, নির্যাতিত ছাত্রীকে দেখতে গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। ও বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ও কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে এসে মেয়েটির খোঁজ-খবর নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের ড. মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনা বলার ভাষা আমার নেই! তিনি বলেন, ছাত্রীটি মানসিক ভারসাম্যহীনভাবে জীবন-যাপন করছে। ঘুমিয়ে থাকার কারণে কিশোরীটির সঙ্গে তার কথা হয়নি উল্লেখ করে ড. মিজান বলেন, মেয়েটির মা আমাকে দুটো বাক্য বলেছেন। তা হলো- আল্লাহর ভরসায় ফেলে রাখলে বিচার হয় না। মানুষের বিচার মানুষকেই করতে হবে। এখন বিচার বিভাগকে নড়েচড়ে বসার সময় এসেছে। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, এ কথা মুখে নয় কার্যকর করতে হবে। এর আগে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এ সময় তিনি বলেন, এখন মানুষের অস্তিত্ব নেই। মানুষ অন্যায়ের বিচার পায় না। এই মেয়েটিও বিচার পাবে না। কাদের সিদ্দিকী বলেন, মেয়েটিকে নির্যাতনের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে নির্যাতন করা হয়েছে। এই সময় বীথিকে এক দিন রিমান্ড নেয়ার পর আর রিমান্ড না চাওয়ায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এই দেশে ছাত্র, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষকদের কোন অভিযোগে আটক করা হলে ৭ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার মূল বীথিকে মাত্র এক দিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছে। বীথিকে আরও কিছু দিনের রিমান্ডে নিলে হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতো।
এদিকে টাঙ্গাইলের নির্যাতিত মেয়েটির অবস্থা এখন উন্নতির দিকে বলে জানালেন ওসিসির করডিনেটর ডা. বিলকিস বেগম। তিনি বলেন, মেয়েটি মানসিকভাবে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে সে। ডা. বিলকিস আরও জানান, মেয়েটির মুখে খাবার খেতে কষ্ট হচ্ছে তাই তাকে নাক দিয়ে রাইলস টিউব দিয়ে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। এদিকে গত রোববার মেয়েটির এইচআইভি পারীক্ষা করা হয়েছে। যার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি। এদিকে সাভারে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রী গত রোববার ওসিসি ত্যাগ করেছে বলে ডা. বিলকিস বেগম জানান। তিনি বলেন, ওই মেয়েটির মেডিসিনের প্রয়োজন হয়নি তবে তাকে কাউন্সিলিং করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল থেকে জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুরে সংগঠিত গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশসহ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সংগঠন। গতকাল দুপুরে ব্র্যাক, সেবক, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, পেইস, সংযোগ, পল্লী সমাজ, পিডিএস, নিরাপদ সড়ক চাই ও আসকসহ বিভিন্ন সংগঠন শহরের নিরালা মোড় এলাকায় মানববন্ধন করে। পরে তারা মৌন মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় ব্র্যাকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গোলাম সরোয়ার, সমন্বয়কারী মুনির হোসেন খান, চিত্তরঞ্জন সরকারসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। একই দাবিতে নিজেরা করি, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, ভূমিহীন সমিতি ও গালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি প্রদানের আগে নিজেরা করি’র ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মো. শামছুল আলম, মো. আবদুল ওয়াদুদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। স্মারকলিপি দুটি গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহবুব আলম। এদিকে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় চার আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত রোববার টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান আসামিদের গত রোববার টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করেন। এ সময় জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মজিবর রহমান জানান, আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার প্রয়োজনে যা দরকার তার সবই করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২রা জানুয়ারি টাঙ্গাইলের ‘খ’ অঞ্চল আমলী আদালত আসামি হারুণ অর রশিদ, নুরুজ্জামান, মনিরুজ্জামান মনি ও শাজাহান আলীকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মামলার অপর আসামি ধর্ষিতার বান্ধবী বীথি আক্তারকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Monday, December 24, 2012

অপমান সইতে না পেরে রাজধানীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

অপমান সইতে না পেরে রাজধানীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

 বখাটে যুবক রনিকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তার পরিবারের সদস্যদের অপমান সহ্য করতে না পেরে অপহরণ থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী সাদিয়া আক্তার পিংকি আত্মহত্যা করেছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মুগদা এলাকার মান্ডায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বাসা থেকে পিংকির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।

পিংকি'র বাবা বাবুল মিয়া জানান, তার বাসা মাণ্ডা ছাতা মসজিদের পাশে। পিংকি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। পিংকি চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কয়েকমাস যাবত্ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল স্থানীয় বখাটে যুবক রনি। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় গত ২৮ নভেম্বর স্কুল থেকে ফেরার পথে পিংকিকে অপহরণ করে রনি। পরে এ বিষয়ে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা পুলিশের সহায়তায় তার মেয়েকে উদ্ধার করে। গ্রেফতার করে রনিকে। এ ঘটনার পর থেকে রনির পরিবার তাকে ও তার মেয়েকে প্রায়ই হুমকি দিতো। একইসঙ্গে মামলা তুলে না নিলে বাবা-মেয়েকে হত্যার হুমকি দিতো। অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল দুপুরে আদালতে রনির জামিন নাকচ করে দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

পিংকির পারিবারিকসূত্র জানায়, রনিকে কারাগারে পাঠানোর খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তার পরিবারের সদস্যরা। গতকাল সন্ধ্যায় রনির বোনসহ কয়েকজন স্বজন পিংকির বাসায় গিয়ে পিংকি এবং তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। রনির পরিবারের সদস্যদের এ অপমান সইতে না পেরে পিংকি নিজের ঘরে ঢুকে গলায় ফাঁস দেয়। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে পিংকির কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙ্গে পিংকিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

মুগদা থানা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে রাত ১০টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পিংকির পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা হয়নি।

যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি- শাকিল, শাওন ও নাহিদের জবানবন্দি

যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি- শাকিল, শাওন ও নাহিদের জবানবন্দি


বিশ্বজিৎ হত্যার পর ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের সহায়তায় দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলাম। কেবল আমরা তিন জনই নয় আরও কমপক্ষে ১৫ জন ছিল আমাদের সঙ্গে। ছাত্রলীগের ভাল পদ পেতে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য বেপরোয়া ছিলাম আমরা। সে যোগ্যতার প্রমাণ দিতে বিশ্বজিৎকে খুন করেছি। বিশ্বজিৎকে খুনের পরও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমনভাবেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে ৩ খুনি। স্বীকারোক্তিতে তারা বলে, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে আমরা নিজেরা সরাসরি অংশ নিয়েছি। অন্যদেরও অংশ নিতে দেখেছি। হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের হাইকমান্ডের সহায়তায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষ হওয়া ৩ আসামি পৃথকভাবে গোয়েন্দা পুলিশ এবং আদালতকে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব কথা উল্লেখ করেছে। গতকাল মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে যারা জবানবন্দি দিয়েছেন তারা হলো- ছাত্রলীগ কর্মী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র রফিকুল ইসলাম শাকিল, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মাহফুজুর রহমান নাহিদ। ৮ দিনের রিমান্ডে তারা গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সামনের কমিটিতে ভাল পদ নেয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। এ কারণে তাদের মধ্যে তাগিদ ছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজেদের পারফরম্যান্স শো করার। এ ক্ষেত্রে হরতালকেই তারা বড় অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তারা জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। ওই নেতারা তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সে অনুযায়ীই তারা কাজ করছিল। তারা বলেছে, ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতারা শাকিলকেই বেশি শেল্টার দিচ্ছিল। প্রত্যেকেই ভারত যাওয়ার চেষ্টা করছিল। শাকিল যে রাতে গ্রেপ্তার হয় সে রাতেই সে বরিশালের বেতাগী দিয়ে নৌপথে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। আদালতে জবানবন্দি দেয়া প্রত্যেকেই নিজেদের ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে বলেছে, আবেগপ্রবণ হয়েই বিশ্বজিতের ওপর হামলে পড়েছিলাম। হাইলাইটে আসতে এ ধরনের কাজ করেছি। বুঝতে পারিনি, বিশ্বজিৎ মারা যাবে। ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে শাকিল বলেছে, জীবন বাঁচাতে বিশ্বজিৎ আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। ভিক্টোরিয়া পার্কের পাশে দোতলার একটি দোকানে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছিল। আমি চাপাতি হাতে নিয়ে দ্রুত দোতলায় উঠে তাকে কোপাতে থাকি। শাওন বলেছে, আমি রড দিয়ে পিটিয়েছি বিশ্বজিৎকে। নাহিদ তার স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছে, লাঠি দিয়ে আঘাত করে আমি বিশ্বজিতের মৃত্যু নিশ্চিত করেছি।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জবানবন্দি আদায় করতে ৩ আসামিকে রোববার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি বলেন, কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, জড়িতরা কিভাবে বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছে আসামিরা। আদালতের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমানও নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় আসামিদের ৮ দিন করে রিমান্ডে নেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষ হওয়ায় আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম জবানবন্দি নেয়ার জন্য আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ই ডিসেম্বর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে দরজি দোকানি বিশ্বজিৎকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। ওইদিনই সূত্রাপুর থানায় ২৫ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন থানার এসআই জালাল আহমেদ। একই থানার এসআই মাহবুবুল আলম মামলাটি তদন্ত করছেন। ১৩ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ঢাকার সিএমএম আদালতে আরেকটি মামলা করেন। আদালতে করা মামলায় ১০ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলো মাহফুজুর রহমান নাহিদ, রফিকুল ইসলাম শাকিল, এমদাদুল হক, ওবায়দুল কাদের, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন, ইউনূছ, তাহসিন, জনি, শিপলু ও কিবরিয়া। এছাড়া মামলায় আরও অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়। আসামিরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ছাত্র। আদালতে মামলা দায়েরের পর ডিবি পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। ১২ই ডিসেম্বর বিশ্বজিৎ হত্যায় জড়িত রফিকুল ইসলাম শাকিল, মীর মোহাম্মদ নুরে আলম লিমন ও ওবায়দুল হককে স্থায়ী বহিষ্কার এবং মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও এমদাদুল হকের সনদ বাতিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২১শে ডিসেম্বর কাইয়ুম মিয়া টিপু, রাজন তালুকদার, সাইফুল ইসলাম এবং জি এম রাশেদুজ্জামান শাওনকেও বহিষ্কার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক তাজুল ইসলাম জানান, রিমান্ডে নেয়া ৬ আসামির মধ্যে ৫ জনের রিমান্ডের মেয়াদ শনিবার শেষ হয়। ৮ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পরও কিবরিয়া এবং কাইয়ুম স্বীকারোক্তিমূলক জবানন্দি না দেয়ায় গতকাল আবারও ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত তাদের আরও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। অপর আসামি সাইফুলে রিমান্ডের মেয়াদ আরও ২দিন বাকি আছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বজিৎ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরও প্রায় ১৫ জনকে তারা শনাক্ত করতে পেরেছে। তারাও একই সংগঠনের। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার সম্ভব বলে তারা জানান।

Tuesday, December 18, 2012

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন: তাজরিনে অগ্নিকাণ্ড নাশকতা অবহেলার কারণে মৃত্যু

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন: তাজরিনে অগ্নিকাণ্ড নাশকতা অবহেলার কারণে মৃত্যু


তাজরিন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড সূত্রপাতের পেছনে ছিল ‘নাশকতা’। আর অমার্জনীয় অবহেলার কারণে ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এজন্য গার্মেন্টটির মালিক দেলোয়ার হোসেন সহ ৯ জন দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তাজরিন গার্মেন্ট নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব বক্তব্য উল্লেখ করেছে। গতকাল বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রিপোর্টটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদের কাছে জমা দিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার। গার্মেন্ট ভবনটি পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে কমিটি এই প্রতিবেদন তৈরি করে। রিপোর্ট জমা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার মুঠোফোনে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ। ঘটনার কারণ চিহ্নিত করাসহ সামগ্রিক বিষয়ে একটি রিপোর্ট আজই (গতকাল) বিকালে জমা দিয়েছি। তিনি বলেন, এতগুলো মানুষের মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ জন্য আমরা তদন্ত রিপোর্টে বলেছি, অমার্জনীয় অবহেলার কারণেই ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে গার্মেন্টটিতে আগুন লাগার পেছনে নাশকতা কাজ করেছে বলে সন্দেহ পোষণ করা হয়। এজন্য গার্মেন্টটির কোন কোন কর্মকর্তা দায়ী বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে গার্মেন্টটির মালিক দেলোয়ার হোসেন, তাজরিন ফ্যাশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল উদ্দিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম, নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক আল আমিনসহ গার্মেন্টটির বিভিন্ন ফ্লোরে দায়িত্ব পালনকারী আরও ৫ কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে রিপোর্টে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকদের ভুল তথ্য দিয়ে বলেন, আগুন নেভানোর মহড়া চলছে। শ্রমিকরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাদের নির্দেশেই কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এতে শ্রমিকরা ভেতরে আটকা পড়েন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এ ধারায় দোষী প্রমাণিত হলে পাঁচ বছরের জেল ও অনাদায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। ১১১ জন শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেও ঘটনার দিন একটিও ব্যবহার করা হয়নি। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, আগুনের সতর্ক সঙ্কেত বাজার পরও কারখানার মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকেরা শ্রমিকদের কারখানা ত্যাগে বাধা দিয়েছেন। ফলে প্রাথমিকভাবে আগুন দেখার পর তা নিয়ন্ত্রণের জন্য একদিকে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। অন্যদিকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মালিকপক্ষের লোকজন শ্রমিকদের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ না দিয়ে বরং কারখানার ভেতরে কাজ করতে নির্দেশ দিয়ে শ’ শ’ শ্রমিককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এমনকি অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও কারখানার মালিকপক্ষ বা শ্রমিকরা কেউ সাধারণ অগ্নি আত্মরক্ষা ও অগ্নিনির্বাপণ কৌশল প্রয়োগ করেনি। তাজরিন ফ্যাশনের মান সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানার অবস্থান একটি পল্লীর ভেতরে। কারখানার সামনের দিকে ৮ থেকে ১০ ফুট রাস্তা। পেছনে তিনদিকে লাগোয়া বাড়িঘর। ফলে এ ধরনের স্থাপনায় স্বাভাবিকভাবেই ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়ি অভিযান চালাতে পারে না। কোন ধরনের বহির্মুখী জরুরি নির্গমন পথ অথবা বিকল্প সিঁড়ি না থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ তলার শ্রমিকরা লোহার গ্রিল, কাচ, এগ্‌জস্ট ফ্যান ভেঙে জীবন বাঁচাতে পাশের টিনের চালে লাফিয়ে পড়েন। এ কারণেই হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রিপোর্টে বলা হয়, তাজরিন গার্মেন্টটি কোনভাবেই শ্রমিকের কর্মপরিবেশ উপযোগী বা যথাযথ মান পরিপালনকারী (কমপ্লায়েন্ট) কারখানা নয়। কারখানার ভবন তৈরিতেও ন্যূনতম ‘ভবন নির্মাণ বিধিমালা’ অনুসরণ করা হয়নি। কর্মক্ষেত্রের উপযোগী ন্যূনতম শর্তগুলো মানা হলে এত বেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হতো না। নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন ফ্যাশনসে একাধিকবার সরজমিন পরিদর্শন প্রসঙ্গে তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাজরিন ফ্যাশনস কারখানার নয়তলা ভবনটির নিচতলার পুরোটাই ছিল গুদাম বা ওয়্যার হাউস। এখানে সুতা ও কাপড় গুদামজাত করা হয়। সেখানে ঢুকতেই একটি সদর দরজা, এরপর নিচতলার ওয়্যার হাউসের ভেতর থেকেই তিনটি সিঁড়ি প্রতিটি তলা স্পর্শ করে ছাদে গিয়ে মিলেছে। প্রতি তলার প্রবেশমুখেই কলাপসিবল দরজা। নিচতলার ওয়্যার হাউসে আগুন লাগায় এর অগ্নিদাহ্য সিনথেটিক জাতীয় সুতা, কাপড়ের বিশাল মজুত থাকায় আগুন লাগার পর পরই পুরো ভবনটি ইটভাটার মতো রূপ নেয় এবং সিঁড়িগুলো হয়ে ওঠে উত্তপ্ত চিমনি। নিচতলার ভয়াবহ আগুনের তাপ, শিখা ও কালো ধোঁয়া তিনটি সিঁড়ি দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়। ফলে শ’ শ’ কর্মব্যস্ত শ্রমিকরা প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার বহির্গমনের কোন পথ না পেয়ে দমবন্ধ ও পরবর্তী সময়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। এর আগে গত ২৪শে নভেম্বর রাতে তাজরিন ফ্যাশনস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা ছিলেন, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক মো. আবদুস সালাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আবদুস সালাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
ওদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে পাঁচটি চূড়ান্ত এবং ১৬টি সাধারণ সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- তাজরিনের মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহেলার জন্য শাস্তির সুপারিশ, দেশের যেসব জেলায় এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ওইসব জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালানার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। উল্লেখ্য, গত ২৪শে নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সাভারের নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের তৈরী পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনসে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১১ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক পালন করা হয়। এরই মধ্যে নিহতদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ৬ লাখ টাকা করে চেক দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের বেতন ও আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Sunday, December 16, 2012

ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশেই হামলা

ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশেই হামলা

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম শাকিলকে অবশেষে প্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বিশ্বজিৎকে যারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে, শাকিল তাদের হোতা। তাকে নিয়ে বিশ্বজিৎ হত্যায় অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করল ডিবি পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অবরোধকারীদের ব্যাপক 'সাইজ' করার নির্দেশ পেয়েই সেদিন ছাত্রলীগকর্মীরা নিরীহ বিশ্বজিৎ দাসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করে। গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগকর্মীরা পুলিশকে বলেছে, জগন্নাথ ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নির্দেশেই তারা ১৮ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধের দিন পুরান ঢাকায় বিশ্বজিৎ দাসের ওপর হামলা চালায়।
শাকিলকে বরগুনার বেতাগী থেকে গ্রেপ্তার করে এরই মধ্যে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অভিযুক্তদের সঙ্গে বিশ্বজিতের কোনো পূর্ববিরোধ থাকা বা অন্য কোনো যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র মতে, হামলাকারীদের ওপর নির্দেশ ছিল, অবরোধকারীদের ব্যাপক 'সাইজ' করতে হবে। আদালতপাড়ায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটলে ছাত্রলীগের নেতারাই হামলাকারীদের 'ব্যাপারটি দেখতে' ও 'সাইজ' করতে বলেন। এমন উসকানি পেয়ে কয়েকজন ক্রেজি হয়ে একটু বাড়াবাড়ি করে! গ্রেপ্তার হওয়ার পর এমনই দাবি করছে জগন্নাথ ছাত্রলীগের ছয় কর্মী। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গ্রেপ্তারকৃতদের ছাত্রলীগের 'কেউ না' বলে দাবি করলেও বলছে, তারা সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী। এই অভিযুক্তরা নিজেদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির অভিযোগও অস্বীকার করেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটি গতকালই গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শাকিল যেভাবে গ্রেপ্তার : ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, বরগুনার বেতাগী থেকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রফিকুল ইসলাম শাকিলকে ঢাকায় নিয়ে আসে। বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও বেতাগী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার অভিযানে ডিবিকে সহায়তা করে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুক্রবারই শাকিলের অবস্থান জানা যায়।
আমাদের বরিশাল অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদককে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি জানান, বেতাগীর দেশান্তরকাঠি গ্রামের কাঞ্চন মীরের বাড়ি থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেখানে শাকিল তার বোনের বাসায় পালিয়ে ছিল। তার বাড়ি পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কে। তার বাবা পটুয়াখালী কর কার্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আনসার আলী গতকাল সকালে মারা গেছেন।
স্বজনরা জানান, ছেলের নৃশংসতার দৃশ্য দেখার পর থেকেই লজ্জায়-গ্লানিতে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন আনসার। গতকাল ভোরে ছেলের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কিছু সময় পর তাঁর মৃত্যু হয়।
'সাইজ' করতে চাপাতি : গোয়েন্দা সূত্র মতে, শাওন জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অবরোধের সময় মিছিল করে শক্ত অবস্থান নিতে বলেছিলেন। অবরোধকারীদের ব্যাপকভাবে 'সাইজ' করতেও তাঁরা নির্দেশ দিয়েছিলেন। হামলার আগে মিছিল করে তারা জগন্নাথ ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় আদালতপাড়ায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ছাত্রলীগ নেতারা তাদের ঘটনাটি 'দেখতে' বলেন। তাই অভিযুক্ত কর্মীরা প্রথমে আইনজীবীদের ওপর হামলা চালায়। পরে ককটেল বিস্ফোরণকারী সন্দেহে বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায়। শাকিল অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সবাই বিশ্বজিৎকে মারধর করেছে।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক ছাত্রলীগকর্মী নাহিদ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছে, ককটেল নিক্ষেপকারী ভেবেই তারা বিশ্বজিতের ওপর হামলা চালায়। তার মতে, 'আঘাত বেশি হয়ে গেছে।' তবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ নাহিদ অস্বীকার করে।
শাওন ও সাইফুল রিমান্ডে : আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক মাহবুবুল আলম আকন্দ আসামি জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর হাকিম এম এ সালামের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত দুই আসামির আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে সিলেটের জাফলংয়ের 'পর্যটন' হোটেল থেকে রাশেদুজ্জামান শাওন ও উৎপল দাস নামে দুজনকে আটক করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ার কারণে গতকাল পর্যন্ত উৎপলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। এদিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক সাইফুলকে গতকাল গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ মামলায় আরো তিন আসামি নাহিদ, কিবরিয়া ও টিপুকেও আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আলোচিত এ মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তবে এক সপ্তাহেও সেই হিসাব মেলেনি। কোতোয়ালি থানায় আটক চার পিকেটারকেও বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সূত্র জানায়, ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী। বিশ্বজিৎ হত্যার পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে তাদের চারজনকে খুব ভালোভাবে দেখা গেছে। এসব কর্মী হলো শাকিল, শাওন, মাহফুজুর রহমান নাহিদ ও সাইফুল। অন্য গ্রেপ্তারকৃত কাইয়ুম মিয়া টিপু ও এইচ এম কিবরিয়াও ঘটনাস্থলে ছিল বলে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গতকাল শাকিলকে গ্রেপ্তারের পর অন্য হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ছবি দেখে শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে রাজন তালুকদার, ইমদাদুল হক ওরফে কাইল্যা ইমদাদ, মীর নুরে আলম লিমন, ওবায়দুল কাদের তাহসীন, আজিজুল হক, ইউনুছ আলী, আবদুল্লাহ আল মামুন, আল-আমিন উজ্জ্বল, আলাউদ্দিন, রিন্টু, হিসাববিজ্ঞানের মোশারফ, কালা সুমন, প্রাণিবিদ্যার ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের সজীব, সোহেল, শিপলু ও পাভেল এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
মামলা ডিবিতে : আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যার পর থেকেই ডিবি ছায়া তদন্ত করছে। মামলাটির তদন্তের স্বার্থে ডিবিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গতকাল। মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ভিডিও ফুটেজে যাদের ছবি দেখা গেছে, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। শাকিলসহ মোট ছয়জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। সব আসামিকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।'
হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি : এদিকে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাঁর পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। গতকাল বিকেলে শাঁখারীবাজারে সংগঠনটির ঢাকা মহানগর শাখা আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান। সমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত বলেন, 'নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে সহযোগিতা করতে হবে।' সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক বাবুল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিশ্বজিতের ভাই অপু দাস, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, কাজল দেবনাথ, মিলন কান্তি দত্ত, অ্যাডভোকেট তাপস পাল, নির্মল চ্যাটার্জি, বিপুল ঘোষ শঙ্কর, অ্যাডভোকেট শ্যামল রায়, রজত সুর রাজু, অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী পিন্টু, ব্রজগোপাল দেবনাথ, সজীব দে, মিন্টু দত্ত, দিলীপ ঘোষ শম্পা প্রমুখ।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে অস্ত্রধারীর তাণ্ডব শোকে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র

 যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে অস্ত্রধারীর তাণ্ডব শোকে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র

 



শোকসাগরে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্রধারী এডাম লানজা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে একটি স্কুলের ২০ শিশুসহ কমপক্ষে ২৭ জনকে হত্যা করেছে। ওই শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। এমন বেদনাবিধুর ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত কেঁদেছেন। তিনি শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, আমাদের হৃদয় আজ ভেঙে গেছে। ঘাতক যে বা যারাই হোক রাজনৈতিক বিবেচনা দূরে রেখে উচিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ সময় তার চোখে অশ্রু ছল ছল করে ওঠে। ওবামা হাত দিয়ে সেই অশ্রু মোছেন। তিনি এ ঘটনায় আগামী ১৮ই ডিসেম্বর সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এক সঙ্গে এতগুলো শিশুর প্রাণহানিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই শোকে আচ্ছন্ন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশী একমাত্র ছাত্র মামনুন আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ২০ বছর বয়সী এডাম লানজা আক্রমণ চালিয়ে রক্তের হোলি ছুটিয়ে দেয়। এর আগে বাড়িতে সে নিজের মাকেও হত্যা করে। তার মা ছিলেন ওই স্কুলের শিক্ষিকা। পরে স্কুলে হামলা চালানোর পরে সে আত্মহত্যা করে। খবরে বলা হয়, এডাম লানজা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল ও রাইফেল নিয়ে ঢুকে পড়ে ওই স্কুলে। তখন সবেমাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে। এমন সময় সে এক একটি ক্লাসে গিয়ে পাগলের মতো গুলি ছোড়ে। শিশুরা তখন যে যেভাবে পারে পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তাদের আর্তনাদে কেঁপে ওঠে ওই স্কুলের বাতাস। কিন্তু খুনির মন গলেনি। সে এই অভিযানে ওই স্কুলের কমপক্ষে ৬ জন স্টাফকেও হত্যা করে। কিন্তু কি কারণে সে এমন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে, হামলার সময় সে তার অন্য ভাই রায়ানকে সঙ্গে নিয়েছিল কিনা। ওদিকে হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলন করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন। বলেন, যেসব শিশুকে হত্যা করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ছোট্ট ছোট্ট শিশু। তাদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর। তাদের সামনে পুরোটা জীবন পড়েছিল। তাদের জন্মদিন, গ্র্যাজুয়েশন, বিয়ে, নিজের মতো করে একটি সংসার। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষকও। তারা এসব শিশুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করছিলেন। তিনি বলেন, এসব শিশু আমাদের সন্তান। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।
বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন নিরাপদ
কানেকটিকাটে বন্দুকধারীর গুলি থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলে পড়া একমাত্র বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন আহমেদ (৬)। তাকে জীবিত কাছে পেয়ে পিতামাতা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে ৬০ মাইল উত্তর-পূর্বের শহর নিউ টাউনে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে শুক্রবার সকালে যখন বন্দুকধারীর তাণ্ডব চলে, তখন বিদ্যালয়েই ছিল মামনুন। সে প্রথম গ্রেডের ছাত্র। সে বলেছে, স্কুলে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ক্লাস টিচার আমাদের ক্লোজেটে ঢুকিয়ে চুপ হয়ে থাকতে বলেন। কিছুক্ষণ পর অন্য শিক্ষিকা ও পুলিশের সাহায্যে আমরা স্কুল থেকে বেরিয়ে আসি। এরপর আর কিছু জানি না। আমার খুব ভয় লেগেছিল। এখনও ভয় পাচ্ছি। তার মা সুরাইয়া আহমেদ বলেন, স্কুলে ৯টা ৪০ মিনিটে একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। এমন সময় টেলিফোন বেজে ওঠে। বলা হলো স্কুলে না যেতে। এরপর টেলিভিশনে গুলির খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন সুরাইয়া। বলেন, ছুটে যাই স্কুলের কাছে। বেলা ১২টায় দেখতে পেলাম আরও কিছু ছেলের সঙ্গে লাইন ধরে মামনুন বের হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের বড় ছেলে পড়ে কাছেরই মিডল স্কুলে। তাদের স্কুলও নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে হামলাকারী বন্দুকধারীর নাম এডাম লানজা। তার এলোপাতাড়ি গুলিতে ২০ স্কুলশিশুসহ ২৭ জন নিহত হন। তার মা ওই স্কুলের শিক্ষিকা। তাকে হত্যার পর এডাম আত্মহত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিবির সন্দেহে কুপিয়েছি রড দিয়ে খুঁচিয়েছি

শিবির সন্দেহে কুপিয়েছি রড দিয়ে খুঁচিয়েছি


‘বড় ভাইদের নির্দেশে মিছিলে গিয়েছি। শিবির সন্দেহে বিশ্বজিৎকে কুপিয়েছি। রড দিয়ে খুঁচিয়েছি।’ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিরপরাধ পথচারী বিশ্বজিৎকে হত্যার কথা এভাবেই স্বীকার করেছে গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলাম। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে
৬টার দিকে বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বিবিচিনি এলাকার দেশান্তরকাঠি গ্রামের কাঞ্চন মিরার বাড়ি থেকে শাকিলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুরান ঢাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ সিলেটের জাফলং এলাকার একটি রেস্টহাউজ থেকে শনাক্ত হওয়া আসামি জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন (২৪) ও রাজধানীর উত্তরা থেকে সাইফুল ইসলাম (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হচ্ছে উৎপল ও রায়হান। এদের মধ্যে রাশেদুজ্জামান শাওন ও সাইফুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে উৎপলকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আজ শাকিল ও রায়হানকে আদালতে হাজির করা হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাশেদুজ্জামান শাওন সাংবাদিক পরিচয়ে সিলেটের জাফলংয়ের হোটেল পর্যটনের একটি রুম ভাড়া নিয়েছিল। সেখান থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। অন্যদিকে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি রফিকুল ইসলাম শাকিল বরগুনার বেতাগী উপজেলার নানার বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। সেখান থেকেই শাকিল ও তার খালাতো ভাই রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শাকিল সাদা রঙের চকচকে চাপাতি দিয়ে বিশ্বজিৎকে উপর্যুপরি কোপাচ্ছে। বার বার মিনতি করলেও বিশ্বজিৎকে ছাড়েনি। শোনেনি তার কথা। কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে বীরদর্পে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে ধরা পড়েছে। এদিকে পুত্রের এহেন বর্বরতার দৃশ্য দেখে শাকিলের পিতা আনসার আলী গতকাল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। এ বিষয়ে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল জানায়, পরিকল্পিতভাবে বিশ্বজিৎকে হত্যা করিনি। বড় ভাইদের নির্দেশে মিছিলে গিয়েছি। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় বিশ্বজিৎকে পিটিয়েছি। আহত বিশ্বজিৎ বাঁচার জন্য কি বলেছে সে কথাই শুনতে পাইনি। শিবির মনে করেই চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছি। কোপানোর পরে রক্তমাখা শার্ট গায়ে দিয়েই নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছি। পরে বাসায় গিয়ে চাপাতি ও শার্ট রেখে বাইরে বেরিয়েছি। দুপুরের দিকে খবর পেয়েছি, বিশ্বজিৎ মারা গেছে। তখন থেকেই মনে ভয় ঢুকেছে। ভয়-ভীতি কাটানোর জন্য ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে ফোন দিয়েছি। তারা ধমক দিয়ে বলেছে, কিছুই হবে না, চুপচাপ থাক। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে পালানোর নির্দেশ পেয়ে ঢাকা ছেড়েছি। শাকিলের খালাতো ভাই রায়হান জানায়, আমি কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ছাত্র। বাবা মানসিক বিকলাঙ্গ। ছোট একটি বোন আছে। তাই নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে বাড়িতে টাকা পাঠাই। ঘটনার পরপরই শাকিল আমাকে তার কাছে ডেকে নিয়ে যায়। বলে, আমার ভয় করছে। তুই সঙ্গে থাক। তার কথামতো দু’জনে একসঙ্গে নানা বাড়িতে অবস্থানকালে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। সূত্র জানায়, তাদের গ্রেপ্তার করার পরপরই শাকিলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম পুরান ঢাকার একটি বাড়ি থেকে চাপাতি উদ্ধার করেছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ৯ই ডিসেম্বর সূত্রাপুর থানা এলাকায় বিশ্বজিৎ দাস নামে এক যুবক দুষ্কৃতকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হলে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ ঘটনার তদন্তে থানা পুলিশকে সহায়তা করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ সহযোগিতা করছে। গণমাধ্যমে ধারণকৃত ছবি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করার একপর্যায়ে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার দেশান্তরকাঠি গ্রাম থেকে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও তার খালাতো ভাই রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে অপর অভিযানে সিলেট জেলার জাফলং থেকে রাশেদুজ্জামান শাওন, উৎপল এবং রাজধানীর উত্তরা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার এস আই মাহবুবুল আলম আকন্দ বলেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ১৩ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সূত্রমতে, শনাক্ত হওয়া আসামি সাইফুল ইসলামের পিতার নাম মো. আবদুল হাই। বাড়ি নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার চন্দনবাড়ি গ্রামে। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য উত্তরা এলাকায় তার বন্ধুর বাসায় আশ্রয় নিয়েছিল। অপর শনাক্ত হওয়া আাসামি রাশেদুজ্জামান শাওনের পিতার নাম জি এম লুৎফর রহমান। তার পিতা-মাতা উভয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। বাড়ি খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার নাসিরপুর গ্রামে। সে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
নেতারা গোয়েন্দা নজরদারিতে: বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত একাধিক ছাত্রলীগ নেতার তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঘটনার পরপরই পলাতক আসামিরা ওই নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক শনাক্ত হওয়া আসামিরা রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। একারণে ওই ছাত্রলীগ নেতাদের গতিবিধি ও কর্মকাণ্ড গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, জবি ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের গ্রুপভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম শাকিল, রাশেদুজ্জামান শাওন, তাহসিন কাদের ও ইউনুছ সভাপতি গ্রুপের। অন্যদিকে মাহফুজুর রহমান নাহিদ সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের।
পুত্রের কর্মকাণ্ডে পিতার মৃত্যু: এদিকে আমতলী প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে ঢাকার একটি গোয়েন্দা পুলিশের টিম বরিশালের বাকেরগঞ্জ ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বরগুনার বেতাগী উপজেলার দেশান্তরকাঠি গ্রামের কাঞ্চন মিয়ার বাড়ি থেকে রফিকুল ইসলাম শাকিলকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের খবর শুনে তার পিতা আনসার সিকদার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে তিনি মারা যান। শাকিলের বাড়ি পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কে। তার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রি শিবপুর গ্রামে।
বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা ডিবিতে: এদিকে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা সূত্রাপুর থানা পুলিশ থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার মহানগর পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এবং গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলা তদন্তের ভার গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার বাদী সূত্রাপুর থানার এসআই জালাল উদ্দিন। তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন একই থানার এসআই মাহবুবুল আলম আকন্দ।
জাফলংয়ে রুম ভাড়া নেয় উৎপল ও শাওন
ওয়েছ খছরু ও মিনহাজ উদ্দিন, সিলেট থেকে জানান, জাফলংয়ের হোটেল পর্যটনে সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে রুম ভাড়া নিয়েছিল উৎপল ও শাওন। এরপর তারা ঘুরে বেড়িয়েছে জাফলংয়ের পর্যটন স্পট পিয়াইন নদীতে। ঘুরেছে আদিবাসী পল্লীতে। বেশ ফুরফুরে মেজাজে তাদের ঘুরতে দেখেছেন স্থানীয় লোকজন। আর রাতে যখন তারা হোটেল কক্ষে অবস্থান করছিল তখনই ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করে। পুলিশের অভিযানে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাদের দেখতে ভিড় জমান পর্যটন হোটেলের সামনে। জাফলংয়ের মামার দোকান এলাকায় হোটেল পর্যটনের অবস্থান। পর্যটন স্পট বল্লাঘাটে যাওয়ার মূল রাস্তার পাশেই এ হোটেল। এর বিপরীত পাশে হোটেল প্যারিস। স্থানীয় লোকজন জানান, রাত সাড়ে এগারোটার দিকে হোটেল প্যারিসের সামনে এসে দাঁড়ায় একটি নোয়া মাইক্রোবাস। ওই মাইক্রোবাসে ছিল ৬ থেকে ৭ জন সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশ। তারা গাড়ি থেকে নেমেই চলে যান হোটেল প্যরিসে। প্রায় ৫ মিনিট ব্যাপী তারা হোটেল প্যারিসের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালান। এ সময় সেখানে কাউকে না পেয়ে তারা চলে আসে হোটেলের নিচে। এরপর প্যারিস হোটেলে ঠিক বিপরীত পাশের হোটেল পর্যটনে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ পরিচয় দিয়ে হোটেলের এক রুম এক রুম করে তল্লাশিকালে ১২নং কক্ষে পাওয়া যায় উৎপল ও শাওনকে। গোয়েন্দা পুলিশ তাদের নাম জিজ্ঞেস করলে ছন্দনাম ব্যবহার করে দু’জনই। তবে পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্যর ভিত্তিতেই তাদের সনাক্ত করে এবং কক্ষের ভেতরেই কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে দেয়। এরপর দু’জনকে নিয়ে আসে গাড়িতে। গাড়িতে বসিয়ে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার মানিক মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। প্রায় ৫ মিনিট অবস্থানকালে সেখানে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক ছুটে এলে গোয়েন্দা পুলিশ আটক দু’জনকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন। হোটেল পর্যটনের ম্যানেজার মানিক মিয়া অভিযানের পর মানবজমিনকে জানিয়েছেন, উৎপল ও শাওন শুক্রবার দুপুর ১২টায় তাদের হোটেলে আসে। এ সময় উৎপল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হোটেল কক্ষে রুম চায়। এ কারণে তাদের হোটেলের ১২নং কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়। তিনি জানান, তারা বেশ স্বাভাবিক ছিল। ১২নং রুম নেয়ার পর তারা একাধিকবার নিচে নেমে গেছে। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেছে তাদের। তারা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভাত খেয়েছে। জাফলং বল্লাঘাট পর্যটন স্পট ঘুরে বেড়িয়েছে। এদিকে, হোটেল সূত্রে জানা গেছে, উৎপল তার নিজের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করে হোটেল কক্ষে রুম নিলেও শাওন তার ঠিকানা ভুল দেয়। এর মধ্যে উৎপল নিজেকে উৎপল দাস, পিতা চিত্তরঞ্জন দাস, থানাহাটি, রায়পুরা বলে হোটেলের রেজিস্ট্রার খাতায় নাম লেখায়। আর শাওন নিজেকে পরিচয় দেয় রাশেদ হাসান বাদল নামে। তার পিতার নাম শাহরিয়ার হাসান উল্লেখ করে ঠিকানা ব্যবহার করে ১০৪ মহসিন হল ঢাকা। এদিকে, হোটেল প্যারিসের কর্তৃপক্ষ গতকাল জানিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ তাদের হোটেলেও তল্লাশি চালিয়েছে। তবে কাউকে না পেয়ে তারা ফিরে যায়। সিলেটের পুলিশ সুপার সাখাওয়ার হোসেন অভিযানের পরপরই উৎপল ও শাওন গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ জাফলংয়ে অভিযান চালাতে জেলা পুলিশের সহায়তা চায়। এ কারণে জেলা পুলিশ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহায়তা করা হয়েছে। অভিযানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি শফিকুর রহমান ও জৈন্তাপুর থানার ওসি আবদুল জলিল। ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ উৎপল ও শাওনকে আটকের পর রাতেই তারা ঢাকা নিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি। পুলিশ সুপার জানান, আটককৃত দু’জনকে নিয়ে সিলেটের কোথাও ঢাকার গোয়েন্দারা অবস্থান করেননি।

Tuesday, December 11, 2012

ঘাতকদের উল্লাসনৃত্য

ঘাতকদের উল্লাসনৃত্য

এ দৃশ্য বড় নির্মম। একই সঙ্গে অভিনবও। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর লাশের ওপর উল্লাসনৃত্য বাংলাদেশে নতুন কিছু নয় । কিন্তু রোববার পুরান ঢাকায় যা ঘটে গেল তা একেবারেই অভিনব। রাজনীতির সঙ্গে কোন যোগ ছিল না বিশ্বজিৎ দাসের। তিনি ছাত্রশিবির করতেন না, ছাত্রদলও করতেন না। ছিলেন নিরীহ এক দর্জি দোকানি। ছাত্রলীগের সঙ্গে তার কোন শত্রুতা ছিল না। কিন্তু তারপরও ছাত্রলীগের উন্মত্ত আক্রমণের শিকার হলেন তিনি। কোন আক্রোশ না থাকলেও তার ওপর আক্রোশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। চাপাতি দিয়ে কোপানো হলো তাকে। যাদের হাতে চাপাতি ছিল না তারা এগিয়ে এলো লাঠি হাতে। পিটিয়ে হত্যা করা হলো নিরপরাধ এক যুবককে। খুনিদের হাত থেকে বাঁচতে বিশ্বজিতের আকুতি হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে সবার। নিজের ধর্ম পরিচয় দিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। কারা সেই ঘাতক পত্রিকায় পরিচয়সহ তাদের ছবি ছাপা হয়েছে। টিভি পর্দায়ও দিনভর দেখা গেছে তাদের। কিন্তু মামলা দায়েরের সময় পুলিশ কোন আসামির নাম খুঁজে পায়নি। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের। এ রিপোর্ট যখন লেখা হচ্ছে তখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি কাউকে। বিশ্বজিৎ দাসের খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। শিবির দমনে কঠোর তিনি। পুলিশের ওপর নির্ভর না করে যুবলীগ, ছাত্রলীগকে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন শিবির দমনের। কার নির্দেশে বেপরোয়া ছাত্রলীগ সে প্রশ্নও আবার উঠেছে। আইন ও বিচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ প্রায়ই কিছু কমন কথা বলেন। ক্ষমার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ডাক দেন তিনি। অথচ ক্ষমার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সময় ইতিহাসে সবচেয়ে বিরল। ৪০ বছরে সর্বমোট ২৫ ফাঁসির আসামি ক্ষমা পেয়েছেন। এর ২১ জনই ক্ষমা পেয়েছেন বর্তমান সরকারের আমলে। সংবিধান প্রেসিডেন্টকে এ ক্ষমার অধিকার দিয়েছে। তবে এ ক্ষমার পেছনে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ যে প্রধান ভূমিকা রেখেছে তাতে সন্দেহ সামান্যই। বিশ্বজিতের খুনিরাও কি তবে ক্ষমা পেয়ে যাবেন। বাংলাদেশে দলভিত্তিক ক্যাডারদের নির্মমতার বিচারের নজির খুবই কম। লাশের ওপর উল্লাসনৃত্যের দৃশ্য সম্ভবত সর্বপ্রথম দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর। সেদিন রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার নির্মমতার শিকার হয়েছিলেন জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মী। লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাসনৃত্য করেছিল হত্যাকারীরা। সে ঘটনা নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। অক্টোবরের খুনিদের বিচার তো দূরের কথা, সে ঘটনায় দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করে নিয়েছে বর্তমান সরকার। বর্তমান মহাজোট জমানাতেই নাটোর উপজেলা চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ বাবুকে পিটিয়ে হত্যা করেও উল্লাস প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রবিনাশী এ উল্লাসনৃত্য চলছেই। রাজনৈতিক শিকার ছেড়ে এখন অরাজনৈতিক শিকারে মন দিয়েছে খুনিরা। সব ধরনের যুক্তি ত্যাগ করেছে তারা। ক্ষোভ নয়, প্রতিশোধ নয়, শুধুমাত্র সন্দেহের বশেই মানুষ হত্যা করছে তারা। তবে বিশ্বজিৎ দাসের হত্যা একটি পুরনো প্রশ্ন নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে, আমরা কোথায় যাচ্ছি?

Tuesday, November 13, 2012

আসামে মুসলমানদের হয়রান না করার আহ্বান

আসামে মুসলমানদের হয়রান না করার আহ্বান


আসামের মুসলমানরা এবার বাংলাদেশী অভিবাসী সনাক্তের নামে তাদের হয়রান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। বোরোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (বিটিসি)-এর মুসলমানদের রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা সন্দেহের চোখে দেখে। সেখানে ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশী অভিবাসীরা অবস্থান করছে বলে অভিযোগ আছে। এর ফলে সেখানে বাংলাদেশী চিহ্নিত করার নামে মুসলমানদের হয়রান করা হচ্ছে। গতকাল এ খবর দিয়েছে অনলাইন রেডিফ। এতে বলা হয়, এর ফলে সেখানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বার বার বোরো বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে দাঙ্গা সৃষ্টি হচ্ছে। এ বছর জুলাইতে বিটিসি ও ধুবরি জেলার আশপাশের এলাকায় দাঙ্গা হয়। ওদিকে গতকাল গোয়াহাটিতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিষদের কয়েক হাজার সদস্য বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা তাদের দাবির পক্ষে একটি বিবৃতি জমা দেয় আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ-এর কাছে। এ সংগঠনের এক মুখপাত্র বি আলী আহমেদ বলেছেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গায় যত জন মুসলমান নিহত হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের জন্য ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহত প্রতিজনের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ৭ লাখ রুপি। তারা আরও দাবি করেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের পর যেসব বাংলাদেশী আসামে গিয়েছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে কোন শর্ত ব্যতিরেকেই ফেরত পাঠাতে হবে।

Wednesday, October 31, 2012

সোনারগাঁয়ে গলিত লাশ উদ্ধার

সোনারগাঁয়ে গলিত লাশ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জে সেলিম মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির ভাসমান গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর শীতলক্ষা নদী থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেলিম মিয়া গত শনিবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে দোকানে চা খেতে গিয়ে আর ফেরেনি। পরে তার আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুঁজি করেও সন্ধান না পাওয়ায় সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

মঙ্গলবার সকালে কাঁচপুর এলাকায় শীতলক্ষা নদীতে তার ভাসমান গলিত লাশ দেখতে পেয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দুপুরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, নিহত সেলিম মিয়া মাদকাসক্ত ছিলো। ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলেই তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
 

Monday, October 29, 2012

মিয়ানমারে মত প্রকাশের অধিকার

মিয়ানমারে মত প্রকাশের অধিকার

 

মিয়ানমারে এখন অনেকেই প্রার্থনার সময় বলেন, ‘‘এমন মুক্ত হাওয়া ভবিষ্যতেও যেন থাকে৷’’ তাদের এই প্রার্থনা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে৷

ইয়াঙ্গুনের ঐতিহ্যবাহী শোয়েদগাও বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে কোথায় তারা সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাবেন, তা নয়,  অনেকেই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন মিয়ানমারের বর্তমান সরকারের প্রতি! কারণ তারা যে এখন কিছুটা হলেও প্রাণ খুলে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারছেন, যেটি কিছুদিন আগেও সম্ভব ছিল না। দাবি আদায়ের জন্য মিছিল দূরের কথা, একটু জোরে কোনো সমস্যার কথা কোথাও বলেছেন তো পাকড়াও করবে এসে পুলিশ– এমনই ছিল অবস্থা৷

সে তুলনায় এখন পরিস্থিতি যে অনেক ভালো সে কথা মিয়ানমারের এক নারী চিকিৎসকও মানেন৷ তবে এখনো নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েই তিনি বলেন বদলে যাওয়া অবস্থার কথা৷ এখন যে সাংবাদিকরা অনেক স্বাধীন, কৃষকরা তাদের সমস্যার কথা সম্মিলিতভাবে প্রকাশ্যে জানাতে পারছেন – এর পেছনে ইন্টারনেট, রেডিও, ইউটিউবকে কৃতিত্ব দিলেন তিনি৷

তার মতে, ‘‘আমার মনে হয় লোকজন ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের বাইরে বিশ্বের কোথায় কী কী হচ্ছে তা বিস্তারিতভাবে জানতে পারেন৷ ওভাবে বাইরের খবর জেনে এবং নিজ দেশের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে বুঝতে পারেন যে নিজেরা কেমন আছেন৷ তখন অবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগও আসে৷''

মিয়ানমারে অবশ্য আরব বসন্তের মতো প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কোনো গণজোয়ার আসেনি৷ তারপরও সেখানে সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে উদারতা দেখিয়েছে৷ আগে সাংবাদিকরা স্পর্শকাতর কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করলে প্রচারের আগে সরকারের অনুমতি নিতে হতো ৷ সম্প্রতি সরকার জানিয়েছে,  তার আর দরকার নেই৷
দ্য মিয়ানমার টাইমস-এর এক সাংবাদিক জানালেন, এ ঘোষণার পরও সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর ঠিকই কড়া নজর রাখছে৷ আগে রিপোর্ট জমা দিতে হতো, আপত্তি থাকলে প্রচার করা যেত না৷ কিন্তু এখন প্রচারের পর যদি দেখা যায় যে আপত্তিকর কিছু আছে, তাহলে মামলা ঠুকে দেয়া হয়৷
এ অবস্থাকেও বড় উন্নতি হিসেবেই দেখছেন ওই সাংবাদিক৷ কয়েক বছর আগে সাংবাদিকরা চায়ের দোকানে সরকারের সমালোচনা করলেও ধরে নিয়ে যেত পুলিশ৷ এখন সেখানে তুমুল আড্ডা জমে, সরকারের তীব্র সমালোচনা করলেও গ্রেপ্তার হতে হয় না– এটাই বা কম কিসে! সূত্র: ডয়েচে ভেলে