Pages

Showing posts with label USA. Show all posts
Showing posts with label USA. Show all posts

Wednesday, March 6, 2013

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র


বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন উপাসনালয় ও বাড়িতে হামলার খবরে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল। ৪ঠা মার্চ সাংবাদিকদের সামনে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আশা প্রকাশ করেন সরকার সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেবে। সাংবাদিকরা তার কাছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। তাদের একজন বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। এ নিয়ে কি আপনার কোন মন্তব্য আছে? জবাবে ভেনট্রেল বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশজুড়ে সহিংসতায় ৭০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আমরা মর্মাহত। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার খবরেও আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করা মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি যে, সহিংসতা সমস্যার সমাধান নয়। তিনি বলেন, তাই আমরা সব বাংলাদেশীকে উৎসাহিত করছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটাতে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান- বাংলাদেশ সরকার যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে তা আপনি কিভাবে দেখছেন? জবাবে প্যাট্রিক ভেনট্রেল বলেন, আমরা দেখছি পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া এ বিষয়টিকে আমি অন্য কোনভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই না। পাশাপাশি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্বুদ্ধ করছি।
তাদের কথোপকথন ছিল এ রকম-
প্রশ্ন- বাংলাদেশ প্রসঙ্গে-
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, বলুন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আপনার কাছে হালনাগাদ তথ্য আছে...
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, আছে।
প্রশ্ন: সেখানে তো বিক্ষোভ চলছে? ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। এ নিয়ে কোন মন্তব্য আছে আপনার?
ভেনট্রেল: প্রশ্নের পরের অংশটা কি-
প্রশ্ন: ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন-
ভেনট্রেল: ঠিক আছে। আমরা যখন আশান্বিত হয়েছি যে বাংলাদেশে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে তখন দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হওয়ায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায়ও আমরা উদ্বিগ্ন। যেহেতু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সহিংসতা কোন সমস্যার সমাধান নয়। কাজেই আমরা সব বাংলাদেশীকে তাদের দাবিদাওয়ার প্রকাশ ঘটাতে শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনে এবং একই সঙ্গে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবিলা করছে তা কিভাবে দেখছেন?
ভেনট্রেল: দেখুন, আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। এর বাইরে অন্য কিছু ব্যাখ্যা করতে চাই না। একই সঙ্গে অব্যাহতভাবে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

Friday, February 1, 2013

নারী বসের লালসার শিকার...পুরুষ ‍নির্যাতন

নারী বসের লালসার শিকার...“পুরুষ ‍নির্যাতন”


নিউ ইয়র্ক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তার যৌন লালসার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন তার অধঃস্তন পুরুষ কর্মকর্তা ম্যাথিউ শিন্ডলার (৩৯)। এ বিষয়ে গতকাল মামলা হয়েছে। মামলা করেছেন ম্যাথিউ শিন্ডলারের বিধবা স্ত্রী গিনা শিন্ডলার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়, গত বছর ১৩ই ফেব্রুয়ারি ম্যাথিউ অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ে’তে আত্মহত্যা করেন ম্যাথিউ। তার স্ত্রী মামলায় দাবি করেছেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তা সার্জেন্ট ক্রিস্টিন হার্টজেল তার স্বামীকে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়তে বাধ্য করেন। এই চাপ থেকে ম্যাথিউ কোনভাবেই মুক্তি পাচ্ছিলেন না। ম্যাথিউ তিন সন্তানের জনক। কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে করা মামলা অনুযায়ী, যদি ক্রিস্টিনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ন করে, তার চাহিদা ম্যাথিউ পূরণ না করেন তাহলে তার চাকরির এসাইমেন্ট, কাজের পরিবেশ ও পদোন্নতি কোনটিই শুভ হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। এতে এক পর্যায়ে কোন উপায় না পেয়ে ম্যাথিউ আত্মহত্যা করেন। এ মামলায় গিনা সুনির্দিষ্ট কোন অংকের ক্ষতিপূরণ চান নি।

Monday, January 14, 2013

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মজিনা-শরণ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মজিনা-শরণ


একই দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। রুটিন বৈঠক হলেও সময়ের কারণে তা বেশ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কাকতালীয় কিংবা পরিকল্পিত যা-ই হোক, ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ভারতীয় হাই কমিশনার একই দিনে কাছাকাছি সময়ে এর আগে কখনও পররাষ্ট্র দপ্তরে যাননি। অন্তত নিকট অতীতে তো নয়ই। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সিডিউলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার সাক্ষাতের সময় ছিল ১১টায় আর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণের বৈঠকের সময় নির্ধারিত ছিল ১২টায়। মন্ত্রী ডা. দীপু মনি মন্ত্রণালয়ের বাইরে জনশক্তি সংক্রান্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেমিনারে আটকে যাওয়ায় দপ্তরে ফিরতে দেরি হওয়ায় তার আগেই বৈঠকের জন্য সেখানে পৌঁছে যান দুই মিশন প্রধান ও তাদের টিম। সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান এবং আলাদা অতিথি কক্ষে সঙ্গ দেন। দীপু-মজিনা বৈঠকের পুরো সময়ই ভারতীয় হাই কমিশনের কূটনীতিকরা মন্ত্রণালয়ের মূল ভবনের নিচতলার অতিথি কক্ষে অপেক্ষায় ছিলেন। এক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে মার্কিন দূত বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে মানবজমিন সহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামপ্রতিক বিষয়াদি তো ছিলই, নতুন বছরের কার্যক্রম ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ওবামা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের রদবদলের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মন্ত্রীকে জানিয়েছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির দায়িত্ব পাওয়া ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ কোন পরিবর্তন আসবে না। তবে তার নেতৃত্ব বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও গতিশীল করবে বলে আশা করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা চলমান থাকার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ড্যান মজিনা। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে প্রশ্ন ছিল- আগামী নির্বাচনে সৃষ্ট সঙ্কটের সমাধানে তিনি মধ্যস্থতা করছেন বলে তার দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে যে খবর বেরিয়েছে তার সত্যতা কতটুকু? রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই চায় বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। এখানে সবদলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন হোক। তবে এ নির্বাচনের পদ্ধতি কি হবে তা এখানকার জনগণই নির্ধারণ করবেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের পর ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ মন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠকে ডেপুটি হাই কমিশনার ও রাজনীতি বিভাগের প্রথম সচিবও উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক নিয়ে ভারতীয় হাই কমিশনার কোন কথা বলেননি। পরে পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত পূর্ব নির্ধারিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বলেন, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল শিনদে’র ঢাকা সফরসহ ভারতের বেশ ক’জন মন্ত্রী-সচিবের সফর এবং জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন ও জয়েন্ট রিভার কমিশনের পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা বা ল্যান্ড বাউন্ডারির বিষয়ে নতুন কোন আলোচনা বা অগ্রগতি নেই। তবে সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধে দু’দেশ কিভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌজন্য এ বৈঠকে টিকফা’র প্রসঙ্গ আসেনি, জিএসপি’র বিষয়টি এসেছে। বাংলাদেশের জন্য কেন এই সুবিধাটি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন তা যৌক্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Friday, December 28, 2012

অস্ত্রের বিনিময়ে চাল-ডাল

অস্ত্রের বিনিময়ে চাল-ডাল

মধ্যযুগে যখন মুদ্রার প্রচলন ছিল না, তখন প্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহের একমাত্র উপায় ছিল 'বিনিময় প্রথা'। চাল দিয়ে মাছ মিলত, কিংবা ভুট্টার বিনিময়ে রেশম। অস্ত্র-সন্ত্রাস বন্ধে এবার সেই ধরনের প্রাচীন পদ্ধতির শরণাপন্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ। সেখানকার বাসিন্দারা এখন অস্ত্র জমা দিয়ে ১০০ থেকে ২০০ ডলারের খাবার বিনা মূল্যে নিতে পারছে।
কানেকটিকাটের একটি স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অস্ত্রের ব্যবহারে ঐতিহ্যগতভাবে উদার মনোভাবের শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই অস্ত্র ফেরত দেওয়ার সময় কোনো প্রশ্ন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জমাকৃত অস্ত্রের নথি পরীক্ষা করে দেখবে তারা। চুরি কিংবা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো এভাবে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেছে তারা। এরপর প্রকৃত মালিককেই তার অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
প্রথম দিনে ৪১টি রাইফেলসহ মোট এক হাজার ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েছে। জমা পড়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে একটি সেমি অটোমেটিক হ্যান্ডগান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের একটি শটগানও রয়েছে। জমাকারীদের প্রত্যেককে নূ্যনতম ১০০ ডলার এবং স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য ২০০ ডলারের গিফট কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের সার্জেন্ট রুডি লোপেজ জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর অনুষ্ঠানটি বেশ ভালোই হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক লোক অস্ত্র জমা দিয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়ার পর বাকি অস্ত্রগুলো গলিয়ে ফেলা হবে।

Sunday, December 16, 2012

বাংলাদেশের কাছে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন রবার্ট ও’ব্লেক

বাংলাদেশের কাছে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন রবার্ট ও’ব্লেক

বাংলাদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অর্থনৈতিক দিক দিয়েও খারাপ অবস্থায় আছে। দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক এসব বিষয় তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের কাছে। ১৪ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। তার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান- বর্তমানে বাংলাদেশ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সেখানকার অর্থনীতিও খারাপ অবস্থায়। তারা এখন ওয়াল-মার্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য ক্রেতাদের কাছে তৈরী পোশাক রপ্তানি করতে পারে না। সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন। তার সফরের সর্বশেষ খবর কি? বাংলাদেশের এখন খুব বেশি কি প্রয়োজন- এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বা যুক্তরাষ্ট্র কি প্রস্তাব দিয়েছে? জবাবে প্যাট্রিক ভেনট্রেল বলেন, আমি নিশ্চিত আপনার এ বিষয়গুলো রবার্ট ব্লেক তার সফরের সময় বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে অস্ত্রধারীর তাণ্ডব শোকে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র

 যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে অস্ত্রধারীর তাণ্ডব শোকে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র

 



শোকসাগরে ভাসছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্রধারী এডাম লানজা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে একটি স্কুলের ২০ শিশুসহ কমপক্ষে ২৭ জনকে হত্যা করেছে। ওই শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। এমন বেদনাবিধুর ঘটনায় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত কেঁদেছেন। তিনি শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, আমাদের হৃদয় আজ ভেঙে গেছে। ঘাতক যে বা যারাই হোক রাজনৈতিক বিবেচনা দূরে রেখে উচিত পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ সময় তার চোখে অশ্রু ছল ছল করে ওঠে। ওবামা হাত দিয়ে সেই অশ্রু মোছেন। তিনি এ ঘটনায় আগামী ১৮ই ডিসেম্বর সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এক সঙ্গে এতগুলো শিশুর প্রাণহানিতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই শোকে আচ্ছন্ন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। শোক প্রকাশ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশী একমাত্র ছাত্র মামনুন আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে ২০ বছর বয়সী এডাম লানজা আক্রমণ চালিয়ে রক্তের হোলি ছুটিয়ে দেয়। এর আগে বাড়িতে সে নিজের মাকেও হত্যা করে। তার মা ছিলেন ওই স্কুলের শিক্ষিকা। পরে স্কুলে হামলা চালানোর পরে সে আত্মহত্যা করে। খবরে বলা হয়, এডাম লানজা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল ও রাইফেল নিয়ে ঢুকে পড়ে ওই স্কুলে। তখন সবেমাত্র ক্লাস শুরু হয়েছে। এমন সময় সে এক একটি ক্লাসে গিয়ে পাগলের মতো গুলি ছোড়ে। শিশুরা তখন যে যেভাবে পারে পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। তাদের আর্তনাদে কেঁপে ওঠে ওই স্কুলের বাতাস। কিন্তু খুনির মন গলেনি। সে এই অভিযানে ওই স্কুলের কমপক্ষে ৬ জন স্টাফকেও হত্যা করে। কিন্তু কি কারণে সে এমন হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে, হামলার সময় সে তার অন্য ভাই রায়ানকে সঙ্গে নিয়েছিল কিনা। ওদিকে হোয়াইট হাউজে সংক্ষিপ্ত এক সংবাদ সম্মেলন করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন। বলেন, যেসব শিশুকে হত্যা করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ছোট্ট ছোট্ট শিশু। তাদের বয়স ৫ থেকে ১০ বছর। তাদের সামনে পুরোটা জীবন পড়েছিল। তাদের জন্মদিন, গ্র্যাজুয়েশন, বিয়ে, নিজের মতো করে একটি সংসার। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষকও। তারা এসব শিশুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে সাহায্য করছিলেন। তিনি বলেন, এসব শিশু আমাদের সন্তান। তাই আমরা সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।
বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন নিরাপদ
কানেকটিকাটে বন্দুকধারীর গুলি থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলে পড়া একমাত্র বাংলাদেশী ছাত্র মামনুন আহমেদ (৬)। তাকে জীবিত কাছে পেয়ে পিতামাতা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে ৬০ মাইল উত্তর-পূর্বের শহর নিউ টাউনে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে শুক্রবার সকালে যখন বন্দুকধারীর তাণ্ডব চলে, তখন বিদ্যালয়েই ছিল মামনুন। সে প্রথম গ্রেডের ছাত্র। সে বলেছে, স্কুলে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ক্লাস টিচার আমাদের ক্লোজেটে ঢুকিয়ে চুপ হয়ে থাকতে বলেন। কিছুক্ষণ পর অন্য শিক্ষিকা ও পুলিশের সাহায্যে আমরা স্কুল থেকে বেরিয়ে আসি। এরপর আর কিছু জানি না। আমার খুব ভয় লেগেছিল। এখনও ভয় পাচ্ছি। তার মা সুরাইয়া আহমেদ বলেন, স্কুলে ৯টা ৪০ মিনিটে একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। এমন সময় টেলিফোন বেজে ওঠে। বলা হলো স্কুলে না যেতে। এরপর টেলিভিশনে গুলির খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন সুরাইয়া। বলেন, ছুটে যাই স্কুলের কাছে। বেলা ১২টায় দেখতে পেলাম আরও কিছু ছেলের সঙ্গে লাইন ধরে মামনুন বের হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের বড় ছেলে পড়ে কাছেরই মিডল স্কুলে। তাদের স্কুলও নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে হামলাকারী বন্দুকধারীর নাম এডাম লানজা। তার এলোপাতাড়ি গুলিতে ২০ স্কুলশিশুসহ ২৭ জন নিহত হন। তার মা ওই স্কুলের শিক্ষিকা। তাকে হত্যার পর এডাম আত্মহত্যা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Wednesday, December 5, 2012

উন্নত প্রযুক্তির প্লাস্টিক বাল্ব উদ্ভাবন

উন্নত প্রযুক্তির প্লাস্টিক বাল্ব উদ্ভাবন


যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ড. ডেভিড ক্যারোল বর্তমানে প্রচলিত ইলেকট্রিক বাল্বের চেয়ে উন্নত প্রযুক্তির বাল্ব উদ্ভাবনের কথা জানিয়েছেন। প্লাস্টিকের কয়েকটি লেয়ারের সমন্বয়ে তৈরি নতুন বাল্বটি ফ্লুরোসেন্ট বাল্বের চেয়ে দ্বিগুণ কার্যক্ষম বলে দাবি করেছেন উদ্ভাবকরা। খবর বিবিসির।

প্লাস্টিক বাল্বটির আবিষ্কারক ড. ক্যারোল ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। তিনি বলেন, বাল্বটি যে কোনো আকারে বানানো সম্ভব এবং বর্তমানে জনপ্রিয় কম্প্যাক্ট ফ্লুরোসেন্ট বাল্ব (সিইউএফএ)-এর তুলনায় এটি বেশি উজ্জ্বল ও কম্পন বিহীন। সিইউএফএল বাল্ব মানুষের চোখের উপযোগী নয়। এর কম্পনের কারণে অনেকে মাথাব্যথায় ভোগেন।

নতুন আবিষ্কৃত ফিল্ড-ইনডিউস্ড পলিমার ইলেক্ট্রোলিউমিনেসেন্ট (ফিপেল) টেকনোলজিতে তৈরি বাল্বটির হোয়াইট-এমিটিং পলিমারের তিনটি স্তরের ভেতরের ন্যানোম্যাটেরিয়াল দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তা আলো উৎপাদন করে।

বর্তমানে আলো উৎপাদনে ব্যবহৃত আরেকটি উন্নত প্রযুক্তি হচ্ছে, লাইট এমিটিং ডায়োড (এলইডি) ও অর্গানিক এলইডি (ওএলইডি)। এ প্রযুক্তির বাল্বের আলো কম হয় এবং এগুলোর উজ্জ্বলতা বেশিদিন থাকে না। তবে নতুন উদ্ভাবিত ফিপেল বাল্ব এসব অসুবিধা দূর করবে, বলেন ড. ক্যারোল। এ প্রযুক্তির বাল্ব তাপ উৎপাদন না করেই আলো দেবে এবং এগুলো আগের বাল্বের তুলনায় সস্তা ও প্রায় ১০ বছর স্থায়ী হবে বলে দাবি করেন আবিষ্কারক। ২০১৩ সালেই এ প্রযুক্তির বাল্ব উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ড. ক্যারোল।

পৃথিবীর বিদ্যুৎ শক্তির প্রায় ১৯ ভাগ আলো জ্বালাতে ব্যবহার হয়। অল্প শক্তিসম্পন্ন বাল্ব ব্যবহার করলে পৃথিবীর প্রায় ৬শ’ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমান পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব।

একুশ ডিসেম্বর মহাপ্রলয়ঘটবে না বলে জানিয়েছেযুক্তরাষ্ট্র সরকার

একুশ ডিসেম্বর মহাপ্রলয়ঘটবে না বলে জানিয়েছেযুক্তরাষ্ট্র সরকার


২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের এমন একটি আশঙ্কাকে নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। গত সোমবার ইন্টারনেট ব্লগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই বক্তব্য পোস্ট করা হয়।

এতে বলা হয় নাসার বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই মর্মে লাখ লাখ চিঠি পেয়েছে যে আগামী ২১ ডিসেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। একটি প্রাচীন মায়ান ক্যালেন্ডারকে ভিত্তি করে ভুল বুঝাবুঝির কারণে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

এই ক্যালেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে অনেকেই মনে করেন, বিরাট একটা ধূমকেতু ওইদিন পৃথিবীতে আঘাত আনবে। অন্য একটা গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে কেউ কেউ। নাসার এক বিজ্ঞানী বলেন, তিনি তরুণদের কাছ থেকে বহু চিঠি পেয়েছেন, যেগুলোতে তারা ভয়ানক কোন বিপর্যয় ঘটার আগেই আত্মহত্যার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে।

এ বছরের গোড়ার দিকে নাসা এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, মায়ান ক্যালেন্ডারে প্রকৃত পক্ষে ২১ ডিসেম্বর পৃথিবীতে মহাপ্রলয় ঘটার কথা বলা হয়নি এবং নিবিরু নামে একটি গ্রহ পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বলে যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তাও সত্যি নয়। এমন কোন গ্রহের অস্তিত্ব বিজ্ঞানীরা দেখতে পাননি। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়াও তাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে এদিন মহাপ্রলয় ঘটার কোনো আশংকা নেই।

Friday, November 23, 2012

লাদেনের লাশ যেভাবে সমাহিত হলো

লাদেনের লাশ যেভাবে সমাহিত হলো


পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে গত বছর মার্কিন অভিযানে নিহত আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের লাশ কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সাগরে সমাহিত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়েছে ইসলামি রীতি অনুসরণ করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রকাশ করা ই-মেইল বার্তা থেকে এই প্রথম লাদেনের লাশ দাফনের ব্যাপারটি জানা গেছে বলে রয়টার্সের খবরে জানানো হয়।
২০১১ সালের ১ মে মার্কিন বিশেষ বাহিনী নেভি সিলের অভিযানে নিহত হন লাদেন। তাঁর লাশ তখন তারা নিয়ে যায়। এর পর থেকে লাদেনের লাশ সমাহিত করার বিষয়টি সবার কাছে অজানা ছিল।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত বুধবার তথ্য জানার স্বাধীনতাবিষয়ক আইনের বলে বার্তা সংস্থা এপি এসব ই-মেইল বার্তা হস্তগত করে। এর মধ্যে ‘অতিগোপনীয়’ সিলমোহর মারা একটি ই-মেইল বার্তা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এতে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা লাদেনের লাশ সমাহিত করার ঘটনা বর্ণনা করেন। লাশ কীভাবে গোসল করিয়ে ও সাদা কাফনে মুড়িয়ে ভারী একটি ব্যাগে ভরা হয়, ওই বার্তায় এর বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
আর এক বার্তায় মার্কিন জাহাজ ইউএসএস কার্ল ভিনসনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, জাহাজের শীর্ষপর্যায়ের কজন কর্মকর্তা কেবল লাদেনের লাশ সমাহিত হওয়ার বিষয়টি জানেন। ২ মে রিয়ার অ্যাডমিরাল চার্লস গাউয়েটের বার্তায় বলা হয়, লাদেনের লাশ সমাহিত করার বেলায় ইসলামি রীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, লাদেনের লাশ গোসল করানোর পর কাফনে জড়িয়ে একটি ব্যাগে ভরা হয়। একজন সেনা কর্মকর্তা দোয়া পাঠ করেন। পরে লাশটি একটি ভারী ব্যাগে ভরে কাঠের তক্তার সঙ্গে বেঁধে সাগরে নামিয়ে দেওয়া হয়।

Wednesday, November 21, 2012

স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য ম্যাডোনা

স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য ম্যাডোনা


নিউ ইয়র্কে বেশ খোলামেলাভাবে নেচে স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য ৬০ হাজার ডলার আয় করলেন ম্যাডোনা। সেখানে নিজের পশ্চাৎদেশ প্রদর্শন করে ওই অর্থ উঠাতে সক্ষম হন তিনি। একটি গণমাধ্যম জানায়, ৫৮ বছর বয়সী এ পপ তারকা সবাইকে স্যান্ডিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং গৃহহারাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বলেন। স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য সবাই মঞ্চে টাকা ছুঁড়ে দেন। ম্যাডোনা ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে সবার উদ্দেশ্যে বলেন, আমি স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য আমার বিবসনা পশ্চাৎদেশ প্রদর্শন করছি। সেখানে উপস্থিত একজন জানান, এক ব্যক্তি বিশ ডলার ছুঁড়ে মারলে ম্যাডোনা সেটি ফেরত দিয়ে বলেন, ১০০ ডলার চাই। তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘আমার পশ্চাৎদেশের মূল্য কি এতোই কম’! তবে শেষে সব মিলিয়ে স্যান্ডি দুর্গতদের জন্য ষাট হাজার ডলার একত্র করতে সক্ষম হন এই পপ তারকা।

Saturday, November 17, 2012

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপ দেবেন ওবামা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে চাপ দেবেন ওবামা


পূর্ব এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে মিয়ানমার সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সিয়েন এবং বিরোধী দলের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে কোন আলোচনা হবে কি-না সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও প্রেসিডেন্টের আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক মিডিয়া মুখপাত্র ম্যারেন পাইন হোমস। বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোন অনুরোধ আছে কি-না এবং থাকলে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের আসন্ন সফরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা আছে কি-না জানতে চাইলে মুখপাত্র ‘যুক্তরাষ্ট্র সব সময় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগকে প্রাধান্য দেয়’ বলে মন্তব্য করে জানান প্রেসিডেন্টের আলোচনার বিষয়টি আমার এখতিয়ার বহির্ভূত, তবে এ বিষয়ে আপনার প্রশ্নটি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের সফর সংশ্লিষ্ট আমার সহকর্মীর কাছে পাঠানো হয়েছে। গতকালের কার্যদিবসের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কিছু জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে গত বুধবার অস্ট্রেলিয়ার পার্থে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার ঐতিহাসিক মিয়ানমার সফরে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে মুসলিম ও বৌদ্ধদের মধ্যে চলমান জীবনঘাতী সামপ্রদায়িক সংঘাতের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সব সময় এ সংঘাতের নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে সমস্যার মূল কারণের একটি আইনসঙ্গত সমাধানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছি। ধারণা করা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের বার্মার নাগরিক স্বীকার করার পক্ষে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের বিষয়টি প্রেসিডেন্টের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রথম পরীক্ষাটি হয়েছে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্নির্বাচনে। এ নির্বাচনে পশ্চিম ইউরোপ এ অন্যান্য গ্রুপের তিনটি আসনের জন্য জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, গ্রিস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এবং নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হেরে যেতে পারে বলেও নির্বাচনের আগের দিন বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব মিডিয়ায় সংবাদ পরিবেশিত হয়। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির ব্যক্তিগত নজরদারি, সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকা এবং জাতিসংঘ কূটনীতিতে ওবামার পরম নির্ভরতার প্রতীক সুসান রাইসের দক্ষতায় শেষ পর্যন্ত অনেকটা ওবামা স্টাইলে যুক্তরাষ্ট্র এ গ্রুপে সর্বোচ্চ ১৩১ ভোটে প্রথম স্থান পেয়ে নির্বাচিত হয়। নির্বাচনোত্তর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নিবাচনে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনকারী সব সদস্যরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান এবং মানবাধিকার পরিষদের ভবিষ্যৎ কাজকর্মে ইসরাইলের প্রতি অতিমাত্রিক নেতিবাচক মনোযোগ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের ফলে পররাষ্ট্রনীতিতে মূলত জয় দিয়েই ওবামা তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করলেন। আর এ রকমই আরেকটি জয়ের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সর্বপ্রথম ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী সপ্তাহে মিয়ানমার সফর করছেন ওবামা। ইতিপূর্বে বিশ শতকের প্রথম দশকে প্রেসিডেন্ট হার্ভার্ট হুভার ও প্রেসিডেন্ট ইউলায়সেস গ্রান্ট যখন মিয়ানমার সফর করেন তখন তারা ক্ষমতাসীন ছিলেন না। এছাড়া প্রেসিডেন্ট নিক্সনও ১৯৫৩ সালে প্রথমবার এবং ১৯৮৫ সালে শেষবারের মতো মিয়ানমার সফর করেন। সমগ্র এশিয়াজুড়ে এমনকি এশিয়া থেকে পশ্চিমের দেশগুলোতে মানুষ ও পণ্যের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই মিয়ানমারের সুখ্যাতি। তদুপরি ভারত মহাসাগরের কোলজুড়ে আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারত ও উঠতি বিশ্বশক্তি চীনের মাঝখানে কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রেসিডেন্ট ওবামার পররাষ্ট্রনীতির মূল চালিকাশক্তি ‘এশিয়া পিভট’ এর অপরিহার্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে মিয়ানমার। সমপ্রতি মিয়ানমার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে যথেষ্ট ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা গ্রহণ করেছে। ফলে এতদিন অব্যবহৃত বাণিজ্য সম্ভাবনার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পেপসি, কোকাকোলা, ভিসা কার্ড, মাস্টার কার্ড, জেনারেল ইলেকট্রিকের মতো মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। দেশটিতে ওবামার জনপ্রিয়তা তার নিজদেশ আমেরিকার চেয়েও অনেক বেশি।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনির মতে, ‘প্রেসিডেন্টের এশিয়া সফরে অনেক ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় বর্ধিত অংশীদারিত্ব, মানবাধিকার, সমমূল্যবোধ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়ে সম-অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হবে।’
পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুরনো সামরিক মিত্র থাইল্যান্ড থেকে সফর শুরু করবেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্র-থাইল্যান্ড কূটনৈতিক সম্পর্কের ১৮০ বছর উদযাপন উপলক্ষে থাই প্রধানমন্ত্রী ইন্‌গ্লাক সিনাওয়াত্রার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং ট্রান্স-প্যাসিফিক স্ট্রেটেজিক ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করার জন্য থাইল্যান্ডকে অনুরোধ জানাবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হবে।
এরপর মিয়ানমার সফর করে শেষ ধাপে কম্বোডিয়া যাবেন ওবামা। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে ওবামা মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংগঠন ‘আশিয়ান’-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন। এই সুযোগে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এদিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো বলছে, ওবামার মিয়ানমার সফর নিয়ে প্রথম থেকেই অং সান সু চির নীরবতা ছিল। মাসখানেক আগে কর্মকর্তারা এ সফর বিষয়ে সুচির মতামত জানতে চাইলে সুচি কর্মকর্তাদের কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে চান। বার্মায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বাস্তবায়নের ধীরগতি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় এখনই বার্মা সফরকে ‘অনেক তাড়াতাড়ি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কূটনীতিবিদরা বলছেন সুচির মন্তব্যে কখনও মনে হয়নি যে তিনি এ সফরের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে সুচি ওবামার সফরকে বার্মায় গণতন্ত্রের পক্ষে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর দিকে নজর দেন। সফরে প্রেসিডেন্ট ওবামা যেন মিয়ানমারের নয়া রাজধানী ন্যায়পায়ডো ভ্রমণে না যান সে বিষয়েও সুচি ওবামা প্রশাসনকে অনুরোধ করেন এবং মিয়ানমারে গণতন্ত্রের উত্তরণ বিষয়ে এখনই খুব বেশি আশাবাদী না হতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে পরামর্শ দেন। এদিকে হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা রেঙ্গুন সফর করবেন। কিন্তু তিনি নয়া রাজধানী ন্যায়পায়ডো সফর করবেন কি-না তা জানা যায়নি। অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ওবামা মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট থেন সিয়েন এবং বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি উভয়ের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করবেন। আবার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ওবামার মিয়ানমার সফর বাতিলও হতে পারে। মিয়ানমার পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ওবামার সফরকালীন মিয়ানমারে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমার সরকার তাই মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্পণ করেছে। মিয়ানমার মার্কিন দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রেসিডেন্ট ওবামা ১৯শে নভেম্বর সোমবার সকালে রেঙ্গুনে অবতরণ করছেন বলা হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি কোথায় উঠছেন তা জানানো হয়নি। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৮৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট চুন দো হুয়ানের মিয়ানমার সরকারি সফরে উত্তর কোরিয়ার পরিকল্পনায় ও নির্দেশে এক বোমা হামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাসহ ২১ জন নিহত হন।

Thursday, November 15, 2012

নিজ রাজ্যকে দেশ থেকে পৃথক করতে আড়াই লাখ মার্কিনীর সই!

নিজ রাজ্যকে দেশ থেকে পৃথক করতে আড়াই লাখ মার্কিনীর সই! 

রিপাবলিকান মিট রমনিকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন বারাক ওবামা। তার বিজয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ছে ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা। আর মিট রমনি তাকে জানিয়েছেন অভিনন্দন। কিন্তু সবাই ওবামাকে অভিনন্দন জানাতে  পারেননি। লাখ লাখ মার্কিনি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ওবামার শাসন থেকে নিজ নিজ রাজ্যকে পৃথক করতে চাইছেন! এই দাবিতে দিয়েছেন গণস্বাক্ষরও। হোয়াইট হাউসের ‘উই দ্য পিপল’ ওয়েবসাইটে এ নিয়ে ২০টিরও বেশি রাজ্য থেকে আবেদন জমা পড়েছে, যাতে সমর্থন দিচ্ছেন ‘স্বাধীন’ রাজ্য পেতে ইচ্ছুক এই নাগরিকরা। স্বাক্ষর দিয়েছে আড়াই লাখের বেশি লোক। তারা ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ দেশ থেকে পৃথক হতে চান। কেবল টেক্সাস থেকেই স্বাক্ষর পড়েছে ২৩ হাজার লোকের। মার্কিন আইন অনুযায়ী, যেকোনো আবেদনে ২৫ হাজার লোকের স্বাক্ষর পড়লে তা প্রশাসনের বিশেষজ্ঞ কমিটিতে বিবেচনার জন্য পাঠানো যেতে পারে। ডেইলি মেইল এক রিপোর্টে একথা জানায়।
হোয়াইট হাউসের এই ওয়েবসাইটে মার্কিন নাগরিকেরা দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে পারে। কোনো প্রস্তাব ২৫ হাজারের বেশি সমর্থন পেলে তা গোচরে নিয়ে নীতি নির্ধারকদের কাছে পাঠানো হবে বলে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে। টেক্সাসের আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে সবচে বেশি মার্কিনি সমর্থন দিয়েছেন। বিচ্ছিন্ন হতে চাওয়ার বেশিরভাগ আবেদনেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার একটি অংশের উদাহরন টানা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে নাগরিকদের সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন করা বা তা ভেঙে দিয়ে নতুন সরকার গঠন করার অধিকার আছে। এছাড়াও পৃথক হওয়ার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছে রাজ্যগুলো। সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া টেক্সাসের আবেদনে বলা হয়েছে, সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ব্যয় ব্যবস্থার সংস্কার না করায় যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ছে। টেক্সাস বিশ্বের পঞ্চদশ বৃহত্তম অর্থনীতি। আলাদা হয়ে দিব্যি চলতে পারবে রাজ্যটি। আর এর মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনযাপনের মানও রক্ষা করা যাবে। তবে টেক্সাসের গর্ভনর রিক পেরি জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এ আবেদনকে সমর্থন করেন না।
ওরেগন বলছে, ফেডারেল সরকারের আকার এত বড় হয়ে গেছে যে এটি রাজ্যের সংবিধান লঙ্ঘন করছে এবং অসংবিধানিক আইন নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। একই বক্তব্য ইউসকনসিনকে পৃথক করার আবেদনেও রয়েছে। ওহাইওকে পৃথক করার জন্য দুটি আবেদনের একটিতে বলা হয়েছে, রাজ্যটির জনসংখ্যা আর অর্থনীতি সুইজারল্যান্ডের চেয়েও বড়। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক রেখে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চলতে পারবে! উল্লেখ্য, নাগরিকদের আবেদনের এই অধিকার মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেয়া হয়েছে। এ অধিকার নিশ্চিত করতেই ওয়েবসাইটটি খোলা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ধরনের আবেদনের এই ঘটনাও নতুন কিছু না।

 

Sunday, November 11, 2012

বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে দায়ী করা ঠিক নয়:মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা

বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে দায়ী করা ঠিক নয়: ড্যান ডব্লিউ মজীনা

 



বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক একটি চমত্কার প্রতিষ্ঠান। এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। গ্রামীণ ব্যাংকের এবং ড. ইউনূসের দর্শন আমি সমর্থন করি। বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ড. ইউনূসকে দায়ী করা ঠিক নয়।’
দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আজ শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পেছনে ড. ইউনূসকে দায়ী করে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে অভিযোগ করেছেন, এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে মজীনা এসব কথা বলেন।
মজীনা আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংক বিশাল ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ দরিদ্র নারীরা যেভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন, তা অভাবনীয়। ভালো কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংকের অবদান স্বীকৃতি লাভ করেছে। আর এ কারণে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর জামায়াত-শিবিরের হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মতপ্রকাশের অধিকার সবার আছে। কিন্তু এর নামে কোনো প্রকার সহিংসতাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কখনোই সমর্থন করে না।
মতবিনিময়কালে বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা (পলিটিক্যাল অফিসার) আন্দ্রেই কোটন, ফিরোজ আহমেদ, ইনফরমেশন অফিসার মেরিনা ইয়াসমিন এবং রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী মিসেস গ্রেস মজীনা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে দুপুর একটায় দিনাজপুর সার্কিট হাউসে এলে জেলা প্রশাসক শামীম আল রাজী তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর দিনাজপুর বিশপ হাউসে মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজী মন্দির পরিদর্শন করেন।

Saturday, November 3, 2012

আমেরিকায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রেজওয়ানের ১৭ বছর জেল

আমেরিকায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রেজওয়ানের ১৭ বছর জেল

 

 বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকান যুবক রেজওয়ান ফেরদৌসকে (২৭) ১৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

আমেরিকার সেনা সদর দফতর পেন্টাগন এবং ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবন উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে বোস্টনের ফেডারেল আদালত এ রায় দেয়।

গত বছর সেপ্টেম্বরে রেজওয়ানকে গ্রেফতার করে এফবিআই। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালানোর লক্ষ্যে আল কায়েদাকে রসদ সরবরাহেরও অভিযোগ আনা হয়।

দূর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরকভর্তি বিমান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ওই দুই স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগে বস্টন আদালত চলতি বছর ২০ জুলাই মাসে রেজওয়ানকে দোষী সাব্যস্ত করে।

ম্যাসাচুসেটসের অধিবাসী রেজোয়ান বোস্টনের নর্থ ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক।

Wednesday, October 31, 2012

তাণ্ডব শেষে দুর্বল স্যান্ডি

তাণ্ডব শেষে দুর্বল স্যান্ডি

 যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী হারিকেন স্যান্ডি আমেরিকার পূর্বাঞ্চলে আরো অভ্যন্তরে অগ্রসর হওয়ার পথে মঙ্গলবার সকালে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এখনো ঝড়টির প্রভাবে প্রবল বাতাস ও বন্যা দেখা দেওয়ার শংকা রয়েছে।

গ্রিনিচ সময় ০৯০০টায় মায়ামিভিত্তিক জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র জানায়, ঘণ্টায় ৬৫ মাইল (১০৫ কিলোমিটার) বেগে দক্ষিণাঞ্চলীয় পেনসিলভেনিয়ার ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্ব উপকূলের বেশ কটি এলাকার ওপর দিয়ে এখনো দমকা বাতাস বইছে।

সোমবার সন্ধ্যায় নিউ জার্সিতে আঘাত হানার কিছু আগে দুর্বল হয়ে মৌসুমী ঝড়ে পরিণত হলেও ব্যাপক তাণ্ডব চালায় স্যান্ডি ।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঘনবসতিপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বর্ষণ ও বাতাসের সৃষ্টি হয়। ম্যানহাটানের নিম্নাঞ্চলের একটি বড় এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে গণপরিবহনগুলো স্থবির হয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ মানুষকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হয়।

এ ঘটনায় নিউ ইয়র্ককে দুর্যোগ-আক্রান্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এএফপি।

Tuesday, October 30, 2012

নাফিস ইস্যু: দিস ইস নট আওয়ার ফেস

নাফিস ইস্যু: দিস ইস নট আওয়ার ফেস 
 সপ্তাহ তিনেক আগে এক ভারতীয় বন্ধুকে নিয়ে আয়ারল্যান্ডের একটি দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে পঞ্চাশোর্ধ্ব এক আমেরিকান পর্যটকের সঙ্গে পরিচয়। কথায় কথায় ভদ্রলোক আমাদের আদি নিবাস জানতে চেয়ে উত্তরের অপেক্ষা না করেই অনেকটা হিউমার সেন্স মিশিয়ে বললেন, “পাকিস্তানি নও তো!”

দুজনেই একসঙ্গে মাথা নেড়ে না-সূচক উত্তর দিয়ে আমাদের পরিচয় তুলে ধরে আমি তাকে বললাম, পাকিস্তানি হলেই বা ক্ষতি কী! সব পাকিস্তানি তো জঙ্গি নয় কিংবা সব জঙ্গিই তো আর পাকিস্তানি নয়।

‘ভেরি স্মার্ট!’ বলেই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমাদের বাংলাদেশ তো এখনো বেশ ভালো। আল কায়েদা বা জঙ্গিসম্পৃক্ত কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর আমার নজরে পড়েছে কিনা তা মনে করতে পারছি না।”

ভদ্রলোক আয়ারল্যান্ডে এসেছিলেন নিছক বেড়ানোর জন্য। কথা বলে বোঝা গেল তিনি হাই প্রোফাইল কেউ নন। সাধারণ আমেরিকান নাগরিক। বহু বছর বিদেশযাপনের অভিজ্ঞতা থেকে অন্তত এটা উপলব্ধি করতে পেরেছি, শুধু ওই একজন আমেরিকানই নন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই বাংলাদেশকে ধর্মপ্রিয় ও শান্তি অন্বেষণকারী দেশ হিসেবেই জানতেন। দেশের ভেতরে মাঝে মধ্যে জঙ্গি কার্যক্রম মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ ছিল এ বদনাম থেকে অনেকটাই মুক্ত। কিন্তু গত ১৭ অক্টোবরের ঘটনায় বিশ্বদরবারে দেশটির চেহারা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হলো।

একুশ বছরের বাংলাদেশী তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস  নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চাইলে এফবিআই (মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা) ও সিটি পুলিশ তাকেহাতে নাতে ধরে ফেলে এবং সারা পৃথিবীর গণমাধ্যমে তা লিড নিউজ আকারে প্রকাশ পায়। এফবিআইর দেয়া তথ্য অনুযায়ী  এ তরুণকে আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট এক সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে প্রচারমাধ্যমে খবরটা প্রকাশ পাওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব দরবারে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

নাফিস আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গি কিংবা অন্ধ জিহাদি যাই হোক না কেন সেটা বড়ো কথা নয়, একজন বাংলাদেশী হয়ে সে যে জঘন্যতম হঠকারিতার আশ্রয় নিয়েছে সেটাই সত্যি (যদিও আসলে বোকার মতো এফবিআইর পাতানো ফাঁদেই পা দিয়েছে)। ফেডারেল ব্যাংক উড়িয়ে দেয়ার মতো ঘৃণ্য প্রচেষ্টার খবর বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিটি প্রবাসী বাঙালিকে আজ চরম বিব্রতকর অবস্থার মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে।

পত্রিকায় দেখা গেল, আমেরিকান বাঙালি কমিউনিটিতে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক ও থমথমে অবস্থা। নাফিসের ঘটনার সংবাদ সম্পর্কে স্কুলের বাঙালি ছেলেমেয়েরা অবহিত কিনা সে বিষয়েও শিক্ষকরা তাদের কাছ থেকে জানতে চাচ্ছেন। এ ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশের মোকাবিলা করা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বড়ই কষ্টের। আমেরিকার বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ধিক্কার ও বিদ্রূপাত্মক শব্দপ্রয়োগের মাধ্যমে বিদেশিরা বাঙালি অস্তিত্বে আঘাত হানছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি আমেরিকাকেন্দ্রিক বলে ওখানকার বাঙালিদের ভয়ানক নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে সত্যি, কিন্তু বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সব বাঙালি অভিবাসীর উপরই এর নেতিবাচক প্রভাব কমবেশি পড়ছে। এমনকি আমাকেও সহকর্মীদের কাছে নাফিসবিষয়ক কিছু কৌতূহলী প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে।    

নাফিসের এ ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মন্দা প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবাসে চাকরির বাজারে স্বকীয় গুণের জন্য বাঙালিদের বেশ সুনাম থাকলেও বর্তমান বৈরী পরিস্থিতিতে তা মলিন হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। অভিবাসী হিসেবে যারা বর্তমানে বেকার, তাদের যেমন চাকরিবাকরি পেতে কষ্ট হবে, তেমনি নতুন করে কর্মসংস্থান নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোটাও হবে খুব কঠিন। অনেক অভিবাসী যারা যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে স্থায়ী অধিবাসী বা নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াধীন আছেন, তাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার শংকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে যে আইনের শিথিলতা বা অবৈধভাবে বসবাসরতদের বৈধকরণের যে অঘোষিত নীতিমালা সেসব থেকেও বাঙালিরা বঞ্চিত হতে পারেন বলে আপাতদৃষ্টিতে ধারণা করা যায়। নতুন করে স্টুডেন্ট ভিসাসহ ট্যুরিস্ট বা বিজনেস যে কোনো ভিসা পেতেই পোহাতে হবে হাজারো অযাচিত ঝামেলা, এতে  সন্দেহ নেই। মোট কথা, বিদেশী রেমিটেন্স বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াল নাসিফের এ ঘটনা।

একুশ বছরের নাফিস বুঝেই হোক  বা না বুঝেই হোক এফবিআইয়ের কৌশলী ফাঁদে পা দিয়ে বাঙালির মুখে যে চুনকালি দিয়েছে তা অত সহজে মুছে ফেলার নয়। তারপরও আমাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করতে হবে। সত্যি যদি সে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিবাদের পূজারি হয়ে থাকে তবে সম্প্রতি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাফিস ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার কথা বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই। এতে ভূলুণ্ঠিত ভাবমূর্তি পুরোপুরি ফিরে না পেলেও বিশ্বে অন্তত এতোটুকু প্রতীয়মান হবে যে, নাফিসদের মতো বিপথগামীরা আল-কায়েদার প্রেমে হাবুডুবু খেলেও গোটা দেশ বা জাতি তাদেরকে ধিক্কার জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করতে সক্ষম। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের একজন মধ্যম সারির নেতা নাফিসের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে একটি বিশেষ দলকে দায়ী করে যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন তা অবশ্যই পরিতাজ্য। এ ধরনের একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে রাজনীতির চোরাবালিতে গুলিয়ে ফেলা যে মোটেও শোভন নয় তা আমাদের রাজনীতিবিদদের উপলব্ধি করা উচিত।

খবরে প্রকাশ, নাফিস বড়ো ধরনের কোনো নাশকতা ঘটানোর পূর্বপরিকল্পনা  নিয়েই আমেরিকাতে পাড়ি জমায় গত জানুয়ারিতে। এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষেই যদি সে ওই হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্যই দেশ ছেড়ে যেত, তাহলে বাংলাদেশ থেকে কিংবা আমেরিকাতে বসবাসরত শক্তিশালী কোনো নিজস্ব লোকের দক্ষ ও সুপরিকল্পিত হাত তার পেছনে কাজ করত। এফবিআইর পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ইঁদুরছানার মতো তাকে ধরা পড়তে হতো না। হতে পারে, নাফিস আমেরিকাবিদ্বেষী জিহাদি মনোভাবসম্পন্ন এক তরুণ। দুনিয়া কাঁপানো কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করাও ছিল তার লক্ষ্য। কিন্তু এসব করতে গেলে যে শক্তি-সামর্থ্য, পরিপক্কতা বা মুন্সিয়ানা ও অর্থনৈতিক যোগানের প্রয়োজন তার কি আদৌ কোনোটা ছিল? আজ নিউ ইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টায় এক হাজার পাউন্ড ওজনের যে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ভ্যানের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর জোগানদাতা কারা তা আমরা সবাই জানি। পত্রিকায় যে দুজন বন্ধুবেশি বাংলা ভাষাভাষী এফবিআই এজেন্টের কথা উঠে এসেছে তারা যদি নাফিসকে নিয়ে ব্যাঙের মতো খেলা না খেলতেন তাহলে হয়তো তাকে এত দ্রুত আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ঘৃণ্য জঙ্গি অপবাদ নিয়ে বিশ্বদরবারে আত্মপ্রকাশ করতে হতো না। কিংবা চারপাশের অসংখ্য প্রতিকূলতার মুখে পরাস্ত হয়ে অপকর্মের স্পৃহা হারিয়ে আপন মনেই সঠিক পথে ফিরে আসত। আজ নাফিসের আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসের খবর বিশ্ব মিডিয়াকে আজান দিয়ে যেভাবে প্রচার করতে হচ্ছে, তখন হয়তো তার কোনো প্রয়োজনই হতো না ।         

ভারতীয় প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাসের গল্প দিয়ে লেখাটি শেষ করব। বহু বছর আগে পড়া (উপন্যাসটির নাম মনে নেই)। গ্রামের এক মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে আসে। প্রথম দিনেই সাক্ষাৎ মেলে এক নকশাল নেতার। ভর্তিসহ হোস্টেলে সিট পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে দলে টানে। সময়ে-অসময়ে মিছিল-মিটিংয়ে যাবারও তাগাদা দেয়। এভাবে এক পর্যায়ে দলীয় ক্যাডার থেকে সন্ত্রাসীতে পরিণত হয় সে। কোনো এক রাজনৈতিক দাঙ্গায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার সময় তার পা গুলিবিদ্ধ হয়। কেটে ফেলার প্রয়োজন হয় পুরো পা। পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে বারো বছর জেল খেটে অবশেষে ক্রাচে ভর দিয়ে হেঁটে আসে প্রিয়ার কাছে। লেখাপড়া দূরের কথা, বিপন্ন জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই যেন তার দায় হয়!  

গল্পের এ তরুণটির মতো নাফিসের জীবনে এরকম অন্ধকার নেমে আসুক তা আমরা কখনো চাই না। আশার কথা, যুক্তরাষ্ট্র সরকার তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। সঠিক তদন্তসাপেক্ষে যদি সে নির্দোষ প্রমাণিত হয় তবে যাদের অপব্যাখ্যা বা ভুল তথ্য পরিবেশনের ফলে তার তথা বাঙালি জাতির গায়ে জঙ্গিবাদের দুর্গন্ধ লেগেছে, তাদেরকে যেমন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি থাকবে, তেমনি দোষী সাব্যস্ত হলে তারও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক তা আমরা চাই।

আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো সংগঠন লীগ অফ আমেরিকা ‘সন্ত্রাসী হামলার’ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নাফিস আমাদের পরিচয় নয়। দিস ইস নট আওয়ার ফেস। আমি মনে করি সংগঠনটির সাথে সুর মিলিয়ে প্রবাসে বসবাসরত প্রতিটি বাঙালিরই উচিত নিজস্ব অবস্থান থেকে বিদেশীদের কাছে এ বার্তাটি পৌঁছে দেয়া– দিস ইস নট আওয়ার ফেস।    

Monday, October 29, 2012

যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্যান্ডি’ মোকাবিলায় ছয় রাজ্যে জরুরি অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্যান্ডি’ মোকাবিলায় ছয় রাজ্যে জরুরি অবস্থা

 ভয়ংকর হ্যারিকেন স্যান্ডি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতির বিষয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

এছাড়া চয়টি অঙ্গরাজ্যে মেরিল্যান্ড, নিউ ইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি ও নর্থ ক্যারোলাইনায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।


এদিকে হারিকেন স্যান্ডির সম্ভাব্য আঘাত মোকাবিলায় নিউ ইয়র্ক গভর্নর এনড্র কোয়ামো সিটির বাস, রেল বা সাবওয়েসহ সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ ঘোষণা করেছেন। রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে।

নিউ ইয়র্ক সিটির কর্মকর্তারা হারিকেন স্যান্ডির ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ সাংবাদিকদের বলেন, “এটা একটি মারাত্মক ঝড়। প্রস্তুতি নিতে হবে।” ঝড়ের প্রভাবে গত কয়েক দিন মধ্য আটলান্টিকের মার্কিন উপকূল অশান্ত ছিল। ক্যারিবিয়ানে কমপক্ষে ৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটিয়ে হারিকেন স্যান্ডি উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ায় সম্ভাব্য ঝড়ের আঘাত মোকাবিলায় শনিবার আমেরিকা সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

এ ঝড়ে প্রায় ছয় কোটি মার্কিন নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে ফেডারেল এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এ ঝড়ের সময় নানা ধরনের দুর্ঘটনায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডিকে ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টর্ম’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন আবহাওয়াবিদরা। ঝড়টি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পূর্ব দিকে এগোচ্ছে। এর আশেপাশে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার। লং আইল্যান্ডের অধিকাংশ জায়গা , আটলান্টিক সিটিসহ বেশ কটি গুরুত্বপুর্ণ স্থান থেকে বিকেল চারটার মধ্যে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিউ জার্সি, কানেক্টিকাট, বস্টনসহ প্রায় ১০০০ বর্গমাইল এলাকা এলাকা জুড়ে হারিকেন স্যান্ডি ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে বলে এই সাবধানতা নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসা স্যান্ডির কারণে আগামী ৬ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রচারাভিযানের সময়সূচি বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা, বাদ দিতে হচ্ছে আরো অনেক কর্মসূচিও।

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের কয়েকটি দেশে আঘাত হানার পর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম তীরের দিকে এগিয়েছে শীতকালীন ঝড় স্যান্ডি। বর্তমানে প্রচারণা অভিযান চলতে থাকা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আটটি অঙ্গরাজ্যের দুটি এ ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথের মধ্যে পড়েছে।

ওবামার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রোববার ভার্জিনিয়া প্রচারণা অভিযান বাতিল করেন। পরে ওহাইওর দিকে রওনা দেন তিনি।
ওদিকে, হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী বারাক ওবামা ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সোমবার ভার্জিনিয়া ও মঙ্গলবার কলোরাডোয় প্রচারণা কর্মসূচি বাতিল করেছেন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও দুর্যোগ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উপকূলীয় অঙ্গরাজ্য ভার্জিনিয়ায় প্রচারণা কর্মসূচি বাতিল করেছেন। অন্যদিকে, শনিবার আরেক উপকূলীয় অঙ্গরাজ্য মেরিল্যান্ডে আগাম ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে অনেক ভোটারকে ভিড় করতে দেখা যায়। ওহাইও, ফ্লোরিডার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঙ্গরাজ্য ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এসব এলাকায় দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি ৬ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে বলে মনে করা হচ্ছে।