নিজ রাজ্যকে দেশ থেকে পৃথক করতে আড়াই লাখ মার্কিনীর সই!
রিপাবলিকান মিট রমনিকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন বারাক
ওবামা। তার বিজয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ছে ডেমোক্র্যাট সমর্থকরা। আর মিট রমনি
তাকে জানিয়েছেন অভিনন্দন। কিন্তু সবাই ওবামাকে অভিনন্দন জানাতে পারেননি।
লাখ লাখ মার্কিনি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ওবামার শাসন থেকে নিজ নিজ রাজ্যকে
পৃথক করতে চাইছেন! এই দাবিতে দিয়েছেন গণস্বাক্ষরও। হোয়াইট হাউসের ‘উই দ্য
পিপল’ ওয়েবসাইটে এ নিয়ে ২০টিরও বেশি রাজ্য থেকে আবেদন জমা পড়েছে, যাতে
সমর্থন দিচ্ছেন ‘স্বাধীন’ রাজ্য পেতে ইচ্ছুক এই নাগরিকরা। স্বাক্ষর দিয়েছে
আড়াই লাখের বেশি লোক। তারা ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ দেশ থেকে পৃথক হতে চান। কেবল
টেক্সাস থেকেই স্বাক্ষর পড়েছে ২৩ হাজার লোকের। মার্কিন আইন অনুযায়ী, যেকোনো
আবেদনে ২৫ হাজার লোকের স্বাক্ষর পড়লে তা প্রশাসনের বিশেষজ্ঞ কমিটিতে
বিবেচনার জন্য পাঠানো যেতে পারে। ডেইলি মেইল এক রিপোর্টে একথা জানায়।
হোয়াইট
হাউসের এই ওয়েবসাইটে মার্কিন নাগরিকেরা দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যবস্থা
নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করতে পারে। কোনো প্রস্তাব ২৫ হাজারের বেশি
সমর্থন পেলে তা গোচরে নিয়ে নীতি নির্ধারকদের কাছে পাঠানো হবে বলে ওয়েবসাইটে
বলা হয়েছে। টেক্সাসের আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে সবচে বেশি মার্কিনি সমর্থন
দিয়েছেন। বিচ্ছিন্ন হতে চাওয়ার বেশিরভাগ আবেদনেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার
ঘোষণার একটি অংশের উদাহরন টানা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে নাগরিকদের সরকার
ব্যবস্থার পরিবর্তন করা বা তা ভেঙে দিয়ে নতুন সরকার গঠন করার অধিকার আছে।
এছাড়াও পৃথক হওয়ার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছে রাজ্যগুলো। সবচেয়ে বেশি
সমর্থন পাওয়া টেক্সাসের আবেদনে বলা হয়েছে, সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ব্যয়
ব্যবস্থার সংস্কার না করায় যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ছে। টেক্সাস
বিশ্বের পঞ্চদশ বৃহত্তম অর্থনীতি। আলাদা হয়ে দিব্যি চলতে পারবে রাজ্যটি। আর
এর মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনযাপনের মানও রক্ষা করা যাবে। তবে টেক্সাসের
গর্ভনর রিক পেরি জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এ আবেদনকে সমর্থন করেন না।
ওরেগন
বলছে, ফেডারেল সরকারের আকার এত বড় হয়ে গেছে যে এটি রাজ্যের সংবিধান লঙ্ঘন
করছে এবং অসংবিধানিক আইন নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। একই বক্তব্য
ইউসকনসিনকে পৃথক করার আবেদনেও রয়েছে। ওহাইওকে পৃথক করার জন্য দুটি আবেদনের
একটিতে বলা হয়েছে, রাজ্যটির জনসংখ্যা আর অর্থনীতি সুইজারল্যান্ডের চেয়েও
বড়। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক রেখে একটি
স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চলতে পারবে! উল্লেখ্য, নাগরিকদের আবেদনের এই অধিকার
মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেয়া হয়েছে। এ অধিকার নিশ্চিত করতেই
ওয়েবসাইটটি খোলা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ধরনের
আবেদনের এই ঘটনাও নতুন কিছু না।
No comments:
Post a Comment