Pages

Monday, November 26, 2012

নানা প্রশ্ন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে

নানা প্রশ্ন ঘুরছে মানুষের মুখে মুখে


অগ্নিকাণ্ডের ২৪ঘন্টা পেরিয়ে গেছে। উদ্ধারকার্য শেষে তাজরীন ফ্যাশনের দগ্ধভবনটির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। দাফন সম্পন্ন হয়েছে সনাক্ত হওয়া লাশের। সনাক্তহীন লাশগুলো স্বজনের অপোয় ঢাকা মেডিকেলের হিমঘরে। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তা হস্তান্তর করা হবে স্বজনদের কাছে। এদিকে নিশ্চিন্তপুরে এখনও পোড়া লাশের গন্ধ। শোকের মাতমে ভারী পুরো পরিবেশ। তবে কমে এসেছে উৎসুক মানুষের ভীড়। কিন্তু মানুষের মুখে মুখে ফিরছে কিছু প্রশ্ন। যার কোন উত্তর মিলছে না। সেখানে কর্মরত শ্রমিক মোহাম্মদ লিপু, মিলি ও নাজমুলের ভাষ্য মতে, অগ্নিকান্ডের শুরুতেই বেজে উঠেছিল ফায়ার এলার্ম। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে শ্রমিকদের আটকে রেখেছিল সিনিয়র কর্মকর্তারা। মানুষের প্রশ্ন, ফায়ার এলার্ম বাজার পরও কেন শ্রমিকরা গার্মেন্টস ভবন ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ পেল না। ৯তলা ভবনটিতে রয়েছে তিনটি সিড়ি। সিড়ির তালাবন্ধ গ্রিলগুলো কেন খোলা হলো না দ্রুত। কেন ছুটির টাইমিংয়ে হেরফের হলো। তাজরীন ফ্যাশনে কর্মরত ও বেঁচে যাওয়া একাধিক শ্রমিকের দাবি, ঈদুল আযহার পর থেকে কাজের চাপ ছিল কম। প্রায় দিনই ৫টার মধ্যে বেশিরভাগ শ্রমিককে ছুটি দেয়া হত। গতকাল কাজের চাপ না থাকা সত্বেও কেন শ্রমিকদের ৮টা পযর্ন্ত ডিউটিতে রাখা হল। শ্রমিকদের প্রশ্ন নীচতলার আগুন কিভাবে দ্রুতততম সময়ে ছড়িয়ে পড়ল ভবনের চারতলা পর্যন্ত। প্রতিটি সিড়িতেই কিভাবে ছড়াল আগুন। এসব প্রশ্ন এখন শ্রমিক ও আশপাশের উৎসুক মানুষের মুখে। বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা বলছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার দনি-পূর্ব কোনার স্যাম্পল রুমের জানালার গ্রিল ভাঙতে না পারলে একজন শ্রমিকও জীবিত বের হতে পারতো না।
সিআইডির ফরেনসিক দলের তৎপরতা
বিকালে ঘটনাস্থলে আসেন সিআইডির ফরেনসিক টিম। তারা অগ্নিদগ্ধ ভবনের প্রতিটি ফোরের বিভিন্নস্থানের ছবি তোলেন। ধারণ করেন প্রয়োজনীয় ভিডিওচিত্র। জব্দ করেন দগ্ধ শ্রমিকদের পোড়া হাড়গোড়সহ নানা জিনিস। ভবনের মুল গেটে স্থাপিত ও দগ্ধ হয়ে যাওয়া সিসিটিভির ক্যামেরা দুটোও। কিন্তু ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর হাজার হাজার মানুষকে সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেয়া ও পরে আলামত সংগ্রহ করায় প্রশাসনের প্রতি ােভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
উৎসুক মানুষের ভীড়ে লুট: আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর প্রথমেই লাশগুলো উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারপর সবার জন্য খুলে দেয়া হয় ভবন। এ সময় সাংবাদিকসহ উৎসুক মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে সেখানে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ঘটনার ভয়াবহতায় বিচলিত ও দুঃখভারাক্রান্ত। তবে অনেকেই দগ্ধভবন থেকে এটা-ওটা সরিয়ে নেন।

No comments:

Post a Comment