Pages

Friday, November 30, 2012

জেলা পরিষদের প্রশাসকরা জীবনের নিরাপত্তা চান

জেলা পরিষদের প্রশাসকরা জীবনের নিরাপত্তা চান

রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম এবং জামায়াত-শিবিরের সহিংস আক্রমণসহ নানা কারণে জীবনের নিরাপত্তা চান জেলা পরিষদের প্রশাসকরা। এ জন্য  জেলা পরিষদের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে একজন গানম্যান, দুই জন সশস্ত্র পুলিশ এবং দুই জন সশস্ত্র আনসার সংবলিত নিরাপত্তা দল চান তারা। অনেক জেলা পরিষদের প্রশাসক দিনের আলো নেভার পর আর ঘর থেকে বেরুচ্ছেন না। ইতিমধ্যে পাঁচ জেলা পরিষদের প্রশাসক এ সংক্রান্ত চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন। এখন বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসকদের চিঠির ভিত্তিতে অক্টোবর থেকে কাজ চলছে। আশা করছি সরকার তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের প্রশাসকরা তাদের চিঠিতে নিজেদের ওপর আক্রমণের সম্ভাব্য নানা কারণের বর্ণনা দিচ্ছেন। চিঠিতে তারা বলছেন, প্রতিদিনের অফিসিয়াল কার্যক্রম, বিভিন্ন সভা বা সমাবেশে অংশ নেয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকে প্রায়ই অনেক রাত পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাফেরা করতে হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রশাসক হিসেবে নিরাপত্তা বিধানের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। ওদিকে রাজনৈতিক সহিংস ঘটনা বাড়ার পর থেকেই এসব চিঠি প্রায় প্রতিদিনই স্থানীয় সরকার বিভাগে আসছে। চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক লে. কর্নেল (অব.) মো. আবু ওসমান চৌধুরী তার চিঠিতে বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আট নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে আমাকে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। কারণ বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থির পরিস্থিতি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে সহিংস অবস্থা শুরু হয়েছে। একটি ঘটনার উল্লেখ করে চিঠিতে তিনি বলেছেন, ১৯৯০-৯১ সালে চাঁদপুর জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে কিছু দুষ্কৃতকারী শারীরিকভাবে নির্যাতনের উদ্দেশে তার অফিস ও বাসভবনে আক্রমণ করে ভাঙচুর করে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখেছিল। আবু ওসমান চৌধুরীর এ চিঠির ভিত্তিতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু ওসমান চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগে দিয়েছি। তারা ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত চেয়ে বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুর রহমান মনে করেন, গানম্যান বা কঠিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা কখনও চিন্তা করিনি। মৌলভীবাজারে জামায়াত-শিবির ছাড়া আমরা সবাই একতাবদ্ধ। তাই কোন সমস্যা হবে বলে মনে করছি না। এর আগে স্থানীয় সরকার কাঠামোকে শক্তিশালী করা ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গতিশীলতা আনার জন্য দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে একজন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও বর্তমান সরকারের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেই প্রশাসকদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে শুরু থেকেই প্রশাসকদের নিরাপত্তার জন্য কোন গানম্যান নিয়োগ দেয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের ইতিহাস ২০০ বছরের। পাকিস্তান আমলে ১০ বছর ছাড়া এ পর্যন্ত নির্বাচিত কোন প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাননি পরিষদে। এরশাদ সরকারের সময় ১৯৮৮ সালে প্রথম জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু কার্যকর করা হয়নি। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০০ সালে নতুন করে জেলা পরিষদ আইন করে। তখনও তা গেজেট দ্বারা আইনের কার্যকারিতার সময় উল্লেখ করার কথা বলা হয়। কিন্তু কার্যকর করা হয়নি। নির্বাচিত জেলা পরিষদ ছাড়াই ২২ বছর পার হয়ে গেছে। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা জেলা পরিষদ পরিচালনা করে আসছেন। এখনও দলীয় বিবেচনায় অনির্বাচিত জেলা পরিষদের প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। ওদিকে বর্তমানে বেশির ভাগ জেলা পরিষদ নিজস্ব আয় দিয়ে চলে। এমনকি বেতন-ভাতাও জেলা পরিষদের তহবিল থেকে নির্বাহ করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ গুরুত্বপূর্ণ জেলা পরিষদের বার্ষিক আয় কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া, অন্য সব জেলা পরিষদের গড়ে আয় ৫৭ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে। জমি রেজিস্ট্রির শতকরা ১ ভাগ টাকা জেলা পরিষদের বড় আয়। এর বাইরে রাস্তা-ঘাট, পুকুর ও মার্কেট ইজারা থেকে আয় হয়। জেলা পরিষদ সৃষ্টির পর এখন পর্যন্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এর দায়িত্ব নেননি। বর্তমানে উপ-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি রয়েছেন অনির্বাচিত জেলা পরিষদের প্রশাসকরা।

No comments:

Post a Comment