Pages

Saturday, November 24, 2012

সৌদি আরবের নারীরা প্রযুক্তির নজরদারিতে

সৌদি আরবের নারীরা প্রযুক্তির নজরদারিতে

পুরুষ অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ করার অনুমতি নেই সৌদি আরবের নারীদের, গাড়ি চালানোও তাঁদের জন্য নিষিদ্ধ। এবার আরও এক ধাপ নিরাপত্তার জালে আবদ্ধ হয়েছেন ইসলামী শরিয়াভিত্তিক দেশটির নারীরা। নারীদের চলাফেরা নজরদারিতে (মনিটর) রাখার জন্য নতুন এক ইলেকট্রনিক সিস্টেম চালু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এর ফলে গত সপ্তাহ থেকে সৌদি নারীদের পুরুষ অভিভাবকরা মোবাইলফোনে এসএমএস পাচ্ছেন তাঁদের নারীদের চলাফেরার ব্যাপারে। মেসেজে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা নারীরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন কিনা। এমনকি সঙ্গে অভিভাবক থাকলেও তার মোবাইলে এ মেসেজ আসবে।
এক দম্পতির কাছ থেকে এসব তথ্য জানতে পেরে টুইটারে দ্রুত ছড়িয়ে দেন মানাল আল-শেরিফ, যিনি ২০১১ সালে সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
ঐ স্বামী তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বামীর মোবাইলে একটি এসএমএস আসে, যাতে জানানো হয়, তাঁর স্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।
সৌদি আরবের নিয়মানুযায়ী, পুরুষ অভিভাবকের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌদি নারীরা দেশত্যাগ করতে পারেন না।
প্রখ্যাত কলামিস্ট বদ্রিয়া আল-বিশর এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষ নারীদের মনিটর করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।’ তিনি রক্ষণশীল দেশটিতে নারীদের পরিস্থিতিকে দাসত্বের সঙ্গে তুলনা করে এর তীব্র প্রতিবাদ করেন।
নারীদের ওপর নজরদারি করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ নিন্দার ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ সাইট টুইটারে। এই সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করে আসছে একের পর এক টুইট।
একটি টুইটে লেখা হয়েছে, ‘হ্যালো তালেবান, এখানে তোমরা সৌদি ই-সরকারের কাছ থেকে কিছু টিপস পেতে পারো!’
আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘তোমরা তোমাদের নারীদের পায়ে বেড়ি পরাচ্ছো না কেন?’
হিশাম নামে অপর ব্যক্তি টুইট করেছেন, ‘আমার স্ত্রী সৌদি আরব ছাড়ছে কিনা সেটা জানার জন্য যদি আমার এসএমএস দরকার হয়, তাহলে হয় আমি ভুল নারীকে বিয়ে করেছি কিংবা আমাকে পাগলের ডাক্তার দেখানো দরকার।’
কলামিস্ট বিশর তাঁর টুইটে বলেন, ‘নারীদের বন্দী করে রেখে পেছনে ফিরে যাওয়ার জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, কঠোরভাবে শরিয়ত আইনের অনুসারী সৌদি আরবই পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে নারীদের গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ।
২০১১ সালে সক্রিয় নারী কর্মীরা এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য সভা-সমাবেশ করেছিলেন, যার ফলে অনেক নারীকে গ্রেফতার করে তাদের দিয়ে ‘আর কখনও গাড়ি চালাব না’ মর্মে একটি প্রার্থনায় সই নেয়া হয়। যদিও নারীদের গাড়ি চালানোর বিষয়ক সরাসরি কোন নিষেধাজ্ঞা সৌদি আইনে নেই, তারপরও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে ১৯৯০ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হয়।
২০১১ সালে সৌদি বাদশা আব্দুল্লাহ প্রথমবারের মতো সৌদি নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করেন ও ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটির শরিয়া আইন কার্যকরী করার প্রধান মাধ্যম পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় শেখ আব্দুল্লাতিফ আব্দেল আজিজ আল-শেখকে। তিনি পুলিশ বাহিনীর সৌদি নারীদের হয়রানি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এরকম কঠোর বাধা-নিষেধের কারণে দেশটিতে ক্রমে নারী বেকারত্ব বাড়ছে, যা বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

No comments:

Post a Comment