Pages

Wednesday, November 21, 2012

পটিয়ায় বায়োগ্যাসে রান্না জ্বলছে বাতিও

পটিয়ায় বায়োগ্যাসে রান্না জ্বলছে বাতিও

চট্টগ্রামের পটিয়ায় দু'ভাই সেলিম ও জসিমের বায়োগ্যাসে এখন পাড়াগাঁ আলোকিত হচ্ছে। তাদের প্লান্টের গ্যাসের ওপর নির্ভর করে পশ্চিম হাইদগাঁও গ্রামে রান্নাবান্না চলছে। জ্বলছে বাতিও। দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট উত্তরণে বায়োগ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। উপজেলার পশ্চিম হাইদগাঁও গ্রামের প্রয়াত সামছুদ্দীন মাস্টারের দুছেলে সেলিম ও জসিমের উদ্যোগে বায়োগ্যাসের দুটি প্লান্ট স্থাপন হয়েছে। প্লান্ট থেকে বাঁধা নলের সাহায্যে পাড়া থেকে পাড়ায় গ্যাস চলে গেছে। বায়োগ্যাসের কারণে এখন গ্রামগুলোয় রান্নাবান্নায় কাঠ পুড়তে হচ্ছে না। ২০০৯ সালে ছোট ভাই জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে পটিয়া পূবালী ব্যাংকের অর্থায়নে ২৪ একর জায়গাজুড়ে দৈনিক আড়াই হাজার ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়। দু'বছরের মাথায় বড় ভাই সেলিম উদ্দিনও জুট মিলের মহাব্যবস্থাপকের চাকরি ছেড়ে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে যোগ দিয়ে ২০১১ সালে ৫ হাজার ঘনফুট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি গ্যাস প্লান্ট স্থাপন করেন। এখানেও পূবালী ব্যাংক অর্থায়ন করেছে। তারা দুই প্লান্টে এ পর্যন্ত ৭৫ পরিবারে গ্যাস সংযোগ দিয়েছেন। যা থেকে মাসিক ৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। গ্যাস প্লান্ট সংলগ্ন তাদেরই মালিকানাধীন পোল্ট্রি ফার্ম। মুরগির বিষ্ঠা বায়োগ্যাস প্লান্টের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়। প্লান্টের গ্যাস থেকেই তাদের পোল্ট্রি খামার লোডশেডিং মুক্ত থাকে। স্থানীয় মোহাম্মদ ফয়সাল ও শহীদুল ইসলাম জুলু নামের দু'যুবক তাদের বিপণন কাজে সহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের 'ফিক্সড ডোম' প্রযুক্তির সাহায্যে বায়োগ্যাস প্লান্ট দু'টি স্থাপন করা হয়েছে। এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন বগুড়ার মাসুদ বায়োগ্যাস কনসালট্যান্ট ফার্ম। বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী রোজিনা আকতার জানান, প্রাকৃতিক গ্যাসের চেয়ে এ গ্যাসের চাপ একটু কম হলেও স্বাভাবিক সব রান্নাবান্না করা যায়। লাকড়ির (জ্বালানি কাঠ) চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী। স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম নামের আরেক গ্রাহক জানান, পাড়াগাঁয়ে গ্যাস পাওয়া দুরূহ হলেও জসিম ও সেলিমের বায়োগ্যাস অনেকের উপকারে আসছে। লিজা পোল্ট্রি ফার্ম অ্যান্ড বায়োগ্যাস প্লান্টের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন জানান, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে আরো অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন প্লান্ট বসিয়ে পুরো গ্রামে গ্যাস সংযোগ দেয়া যাবে। এসএসপোল্ট্রি অ্যান্ড বায়োগ্যাস প্লান্টের পরিচালক সেলিম উদ্দিন জানান, গ্রামের চাহিদা মিটিয়ে তাদের বায়োগ্যাস দিয়ে বেকারির ওভেন স্থাপন করবেন। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ঋণ দিয়ে গ্রাম পর্যায়ে বায়োগ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সরকার পদক্ষেপ নিলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুবকরা এ ধরনের প্লান্ট স্থাপনে উৎসাহী হবে।

No comments:

Post a Comment