আশুলিয়ায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত
পুলিশ বলছে, আগুনে নিহত ১১১
ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আজ রোববার এ পর্যন্ত ১১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রত্যেক নিহত ব্যক্তির পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত করা হয়। এ ঘটনা তদন্তে সরকারের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহতের সংখ্যা আসলে কত?
আগুনে পুড়ে এ পর্যন্ত কতজন পোশাককর্মী নিহত হয়েছেন, এ নিয়ে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদরুল আলম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ১১১টি লাশ পাওয়া গেছে। গতকাল রাত একটা পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। আর গতকাল গভীর রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ১০১টি লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ১০১টি লাশের মধ্যে ৪৩ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকার জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফের তত্ত্বাবধানে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। তাঁরা হলেন: কাকলি, নয়ন, আজিমুদ্দিন, রূপসা, তোফাজ্জেল, দুলাল, ফরিদা, রাশেদা, নাসরিন, মনজুরা, পলাশ, বিউটি, সুমন, মিতু, মালা, ফারুক, সাদ্দাম, দুলালি, মৌসুমী, শাহ আলম, সুমাইয়া, বুলবুলি, শিউলি, ফায়জুল, জান্নাতুল ফেরদৌস, রেহানা, রানা, আনোয়ারা, মাসুদ, রহিমা, মনিরা, করিব, মাহমুদা, মালেক, আদুরি, শিরিন, হালিমা, গোলাপী রানী, সাথী, মাহমুদ, মুন্নি, বিভাস ও রেহানা।
আর যে ৫৮টি লাশ চিহ্নিত করা যায়নি সেগুলো দাফনের জন্য বেসরকারি সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম নিয়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সকালে জানিয়েছিল, এ দুর্ঘটনায় মোট ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহবুবুর রহমান দুপুরে জানান, কারখানার তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে ১১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লাশ পাওয়া যায় তৃতীয় তলায়।
তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকারকে আহ্বায়ক করে সরকার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ঢাকা উত্তর শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহাপরিচালক মো. আবদুস সালাম, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (ঢাকা) মো. আবদুস সালাম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অগ্নি) সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার এই কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আর্থিক সহায়তার আশ্বাস
তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির আশুলিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী জাহানারা আকতার।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ হাজার করে টাকা পরে দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পর্যাপ্ত সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
উদ্ধারকাজ সমাপ্ত
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনে আগুন লাগে। তখন থেকেই ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর দলও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহবুবুর রহমান।
স্বজনের অভিযোগ
সকালে লাশ বের করতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করে নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় তারা পুলিশ ও কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার শোক
শতাধিক পোশাককর্মীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিত্সা এবং নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুচিকিত্সা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

No comments:
Post a Comment