Pages

Monday, November 19, 2012

ক্ষমা কার?

ক্ষমা কার?

এটা সত্য প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমানই ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ২১ আসামিকে ক্ষমা করেছেন। কিন্তু কার পরামর্শে প্রেসিডেন্ট এতটা ক্ষমাশীল হলেন সে প্রশ্ন এখন সর্বত্র। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ বলছে, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগদান ব্যতীত আর সব কাজই প্রেসিডেন্ট করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী। এ অনুচ্ছেদ বহাল থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া প্রেসিডেন্টের কাউকে ক্ষমা করার সুযোগ নেই। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষমা সম্পর্কিত পরিসংখ্যান গত বুধবার সংসদে প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। মন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১৯৭২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ২৫ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমা করা হয়েছে মাত্র চারজনকে। আর ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ক্ষমা করা হয়েছে ২১ জনকে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমা নিয়ে চারদিকে বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন শনিবার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু সংবিধান ও হাইকোর্টের অন্তত একটি রায় আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে সমর্থন করে না। ক্ষমা কি প্রেসিডেন্ট না প্রধানমন্ত্রী করেন- গতকাল আইনমন্ত্রীর কাছে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমা করেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলেননি। প্রেসিডেন্টের ক্ষমা নিয়ে গত ২৫শে এপ্রিল একটি রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় দিয়েছিল। সে রায়ে বলা হয়, সরকার বা প্রেসিডেন্ট কর্তৃক সাজা কমিয়ে দেয়া বা বাতিল করে দেয়ার ক্ষমতা চর্চার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সম-অধিকারের নীতি অবলম্বন করতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমা তাই ক্ষমতার অপব্যবহার। এ বিষয়ে একটি বিধিমালা থাকা উচিত বলেও রায়ে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে কেবল প্রধানমন্ত্রী ও ৯৫ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য সম্পাদন করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোন পরামর্শ দান করিয়াছেন কি না এবং করিয়া থাকিলে কি পরামর্শ দান করিয়াছেন, কোন আদালত সেই সম্পর্কে কোন প্রশ্নের তদন্ত করিতে পারিবেন না।’ যদিও সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ বলছে, ‘কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোন দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’ সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলাম তার কনস্টিটিউশনাল ল’ অব বাংলাদেশ গ্রন্থে লিখেছেন, শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য সংবিধানে ক্ষমার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সরকারগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় ক্ষমা করে এ বিধানের অপব্যবহার করেছে।

No comments:

Post a Comment