বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল ছাড়ছেন আহতরা
চিকিৎসার টাকা নেই। ঘরে খাবার নেই। প্রতিদিন হাসপাতালের খরচ দেড় হাজার টাকা। কিভাবে দেবে? স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করতো তানজীর গার্মেন্টে। স্বামী কম আহত, স্ত্রী শম্পা বেশি। দুজনই তিন তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন। আহত শম্পার আইডি নম্বর ৩৯৬৩। আহত হওয়ার পর শম্পাকে ভর্তি করা হয় পলাশবাড়ী এলাকার হাবিব ক্লিনিকে। টাকার অভাবে গতকাল দুপুরের পর হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় তাকে। শম্পা বেগম অভিযোগ করেন তাকে চিকিৎসার কোন টাকা দেয়া হয়নি। এখন বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাকে। তিনি জানান, তার আরেক আত্মীয় নাজমা বর্তমানে ভর্তি আছে সাভারের সুপার ক্লিনিকে। সেখানে স্যালাইন দিতে হচ্ছে তাকে কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা দিতে পারছে না। চার তলা থেকে লাফ দিয়ে আহত হওয়া রংপুর মিঠাপুকুর এলাকার আনজুমা বেগম গতকাল পর্যন্ত আছে বিনা চিকিৎসায়। দেখা গেল গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটায় নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে একটি ভ্যানের ওপর শুয়ে রাখা হয়েছে তাকে। আনজুমার কোন নিকট আত্মীয় আসেনি তাকে দেখতে। তাকে হাসপাতালে নেয়ার কেউ নেই। স্কুল মাঠে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলছিলেন- সবাই বলে সরকার চিকিৎসার টাকা দেবে কিন্তু এই শ্রমিকটি তো বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে এখন কে তাকে হাসপাতালে নেবে? নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে দেখা গেল এমনই অনেক চিকিৎসা বঞ্চিত আহত শ্রমিকরা ছটফট করছে সেখানে। এমন শ্রমিকদের মধ্যে গুরুতর আহত দেখা গেল নাজমুল, আলামিন, সফিক সহ অনেককে। তাদের অভিযোগ চিকিৎসার কোন টাকা পাচ্ছে না তারা। মালিক পক্ষের কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না।
No comments:
Post a Comment