অনন্য আবুল হাসান
অভিষেক টেস্টে ১০ নম্বরে ব্যাট করে সেঞ্চুরি। সর্বশেষ এই কীর্তিটা গড়েছিলেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান রেগি ডাফ, ১৯০২ সালে। দীর্ঘ ১১০ বছর পর খুলনায় আজ বুধবার একই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার আবুল হাসান।
অভিষেকে ১০ নম্বরে ব্যাট করা সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় আবুল হাসান দ্বিতীয়। টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৫ বছরের ইতিহাসে ১০ নম্বরে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান তিনি। এবার এই ১০ নম্বর স্থানের আলোচনাটা বাদ দেওয়া যাক। অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে সেঞ্চুরি পেয়েছেন কেবল দুজন—আমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আশরাফুল। এ দিক থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরি পাওয়া বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হলেন আবুল হাসান।
খুলনা টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে আবুল ব্যক্তিগত ১০০ রানে অপরাজিত আছেন। কাল আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবেন, এটা প্রত্যাশিত। অবশ্য শুধু সেঞ্চুরি দিয়ে তাঁর অবদান মূল্যায়ন করতে গেলে ভুল হবে। দুঃসাহসী এক ইনিংস খেলে তিনিই তো খুলনায় বাংলাদেশের নায়ক।
বাংলাদেশের ইনিংসটা এবার দেখুন। দলীয় ৫ রানে প্রথম উইকেটের পতন। একপর্যায়ে ১৯৩ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে বসে মুশফিকুর রহিমের দল। আক্ষরিক অর্থেই খেলা থেকে ছিটকে পড়ার অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছেন ২০ বছর বয়সী আবুল হাসান।
১০৮ বলে ১০০ রান। অবিস্মরণীয় এই ইনিংসে রয়েছে ১৩টি চার ও তিনটি ছয়ের মার। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তো বটেই, গোটা ক্রিকেট-বিশ্বই আজ চমকে গেছে এই তরুণের ব্যাটিংয়ে।
আবুলকে যথার্থ সঙ্গ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। দিন শেষে তিনি অপরাজিত আছেন ব্যক্তিগত ৭২ রানে। আবুল-মাহমুদউল্লাহর অবিচ্ছিন্ন ১৭২ রানের জুটিতে দুর্দান্তভাবে খেলায় ফিরেছে বাংলাদেশ। ৮ উইকেটে ১৯৩ রান থেকে দিনশেষে বাংলাদেশ সেই ৮ উইকেটেই ৩৬৫। নিজেদের এক যুগ পুরোনো টেস্ট ইতিহাসে এমন ঘটনা আর কতবার ঘটাতে পেরেছে বাংলাদেশ?
No comments:
Post a Comment