Pages

Thursday, November 29, 2012

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের রিপোর্ট: সিভিল জাস্টিসে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক

ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের রিপোর্ট: সিভিল জাস্টিসে বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক

 


সিভিল জাস্টিসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নাজুক। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ বছর বেশ ভাল করেছে। গত বছর বাংলাদেশের (সিভিল জাস্টিস সিস্টেমে) অবস্থান ছিল ৬২-তে। গত বছরের পর্যালোচনা ছিল ৬৬ দেশের মধ্যে। এবার সে সংখ্যা বেড়ে ৯৭ হয়েছে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে সিভিল জাস্টিসের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক স্বাধীন ও অলাভজনক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দ্য ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট’র ‘আইনের শাসন ইনডেক্স-১২’র বার্ষিক রিপোর্টে এ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি হচ্ছে সংস্থাটির তৃতীয় বার্ষিক রিপোর্ট। ৯৭ দেশে আইন-বিচার-মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছেন এমন ২৫ সহস্রাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং ৯৭ সহস্রাধিক সচেতন নাগরিকের সাক্ষাৎকার/মতামতের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে এবং তা গতকাল ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রকাশ হয়। এ রিপোর্টে আইনের শাসনের ইনডেক্স নির্র্ধারণে ৮টি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে সরকারের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতি, নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, মুক্ত শাসন ব্যবস্থা, আইনের প্রয়োগ, সিভিল জাস্টিস এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস। এ রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে নিম্নে অর্থাৎ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এক্ষেত্রে ৮৩ এবং স্বল্প আয়ের দেশের মধ্যে দ্বাদশ। গতবার এ ইনডেক্স ছিল ৪৭ এবং স্বল্প আয়ের দেশের মধ্যে তৃতীয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রেও কোন উন্নতি ঘটেনি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সরকারের প্রশাসনিক সংস্থা এবং বিচার ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সিভিল জাস্টিসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে সারাবিশ্বে সর্বনিম্নে অর্থাৎ এর চেয়ে বাজে অবস্থায় আর কোন দেশ নেই। মোকদ্দমা বছরের পর বছর ধরে আদালতে ঝুলে থাকা এবং বিচার ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় এহেন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয় ওই রিপোর্টে। মানবাধিকার লংঘন এবং পুলিশি নির্যাতনের ঘটনাবলিও বাংলাদেশের অন্যতম একটি সমস্যা বলে মন্তব্য করা হয়েছে এই রিপোর্টে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ তুলনামূলক ভাল করেছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২ এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে নবম। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অপরাধের হার অনেক কম। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় আইনের শাসনের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। সিভিল জাস্টিসের ক্ষেত্রে ভারতের র‌্যাঙ্ক হচ্ছে ৭৮। ভারতে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। আইনের শাসনের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান হচ্ছে ৩৭ নম্বরে এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। স্বাধীন বিচার বিভাগ, বাক-স্বাধীনতা রক্ষা এবং সরকারের উদারনীতির সূচকে ভারতের অবস্থান সারাবিশ্বে পঞ্চম এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে চতুর্থ। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে কতটা সজাগ এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ভারতের অবস্থান হচ্ছে ৭৯। পাকিস্তানে আইনের শাসন বলতে তেমন কিছু নেই বলে মন্তব্য করা হয়েছে এ রিপোর্টে। আইনের শাসনের যে ৮টি ক্যাটিগরি চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বাজে অবস্থানের ৩ দেশের একটি হচ্ছে পাকিস্তান। নাগরিকের নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকারের ব্যাপারেও পাকিস্তানের অবস্থা নাজুক। দক্ষিণ এশিয়ার অপর যে কোন দেশের চেয়ে পাকিস্তানে আইনের শাসন ব্যবস্থা দুর্বল এবং জবাবদিহি-স্বচ্ছতার কোন বালাই নেই বলে মন্তব্য করা হয়েছে এ রিপোর্টে। শ্রীলঙ্কায় আইনের শাসন খুবই কার্যকর। তবে নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে এখনও দুর্বলতা রয়েছে। ক্রিমিনাল জাস্টিসে শ্রীলঙ্কার অবস্থান দ্বিতীয়, মুক্ত সরকার ব্যবস্থায় তৃতীয়, আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। তবে দুর্নীতি অনেক কম বলে মন্তব্য করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা অব্যাহত থাকায় মানবাধিকার প্রশ্নে দেশটির অবস্থানে কোন হেরফের হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম এইচ নিউকম বলেছেন, ‘আইনের শাসনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সফলতা অর্জনের বিষয়টি সবার জন্যই বড় একটি চ্যালেঞ্জ। তবে আশার কথা হচ্ছে, সব দেশেই কিছু না কিছু অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। আমরা কোন দেশের কী অবস্থা তার ইনডেক্স প্রকাশ করছি দেশগুলোকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য নয়, ‘এটি করা হচ্ছে দেশগুলোর সংশোধনের পথ সুগম করার অভিপ্রায়ে।’

No comments:

Post a Comment