Pages

Sunday, November 18, 2012

অপহরণকারীদের আস্তানা ছিল 'মামুনের গ্যারেজ

অপহরণকারীদের আস্তানা ছিল 'মামুনের গ্যারেজ

 


পরাগ অপহরণকারী চক্রের অন্যতম আস্তানা ছিল রাজধানীর জুরাইনের একটি গ্যারেজ। ওই গ্যারেজে বিভিন্ন অপরাধীর মোটরসাইকেল রাখা হতো। এসব দেখভাল করত মামুন। অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে শিশু পরাগ অপহরণে দুটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো- ল-১০০৮১২) জুরাইনের ওই গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরাগ অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরাগ সুস্থ হয়ে উঠছে। পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে জানান, দু'একদিনের মধ্যে পরাগকে বাসায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, পরাগ অপহরণে জড়িত সন্দেহে পুলিশ যে মামুনকে গ্রেফতার করেছে, ওই মামুন ও জুরাইনে গ্যারেজের তত্ত্বাবধায়ক
মামুন এক ব্যক্তি নয়।
র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান সমকালকে বলেন, জুরাইনের যে গ্যারেজ থেকে পরাগ অপহরণে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছিল। ওই গ্যারেজের ব্যাপারে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
পরাগ অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিশুটি অপহরণের পর কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। এমনকি আমিরের অবস্থান সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, রাজধানীতে শত শত রিকশা, ভ্যান ও প্রাইভেট কারের গ্যারেজ রয়েছে। মোটরসাইকেলের এ ধরনের ব্যতিক্রমী গ্যারেজ খুব কম চোখে পড়েছে। যেখান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে অপরাধীরা ছিনতাই-ডাকাতিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেছে। অপারেশন সম্পন্ন করে রাতেই ওই গ্যারেজে মোটরসাইকেল রাখা হতো। ওই গ্যারেজের মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অধিকাংশ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র। শিশু পরাগকে যে মোটরসাইকেলে কেরানীগঞ্জে পেঁৗছে দেওয়া হয়েছে, সেটিও ছিল মামুনের গ্যারেজের। ওই গ্যারেজে আরও সাত-আটটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র সমকালকে জানায়, শিশু পরাগ অপহরণের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার মো. আলী রিফাত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। রিফাত তার বাবাকে একটি ট্যাক্সিক্যাবও কিনে দেয়। তার সঙ্গে দনিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাহিদুলের ভালো সম্পর্ক ছিল। পরাগ অপহরণের ঘটনায় জাহিদুলকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব। উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র হলেও জাহিদুল বেশ চাকচিক্যময় জীবন-যাপন করত। ঘটনার দিন জাহিদুল ও রিফাত একই মোটরসাইকেলে ছিল। পরাগ অপহরণ ছাড়াও তারা বিভিন্ন সময় নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এদিকে পরাগ অপহরণের মূল হোতা আমিরকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে ধরতে র‌্যাব-পুলিশের অভিযান চলছে। আমির যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে এ ব্যাপারে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তার ছবি পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই আমির বিদেশে পালিয়েছে কি-না এ ব্যাপারেও স্পষ্ট কিছু বলছেন না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গতকাল কেরানীগঞ্জের হিজলতলা এলাকায় আমিরকে দেখা গেছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আমিরকে দেখা যাওয়ার ব্যাপারটি নাকচ করেছে স্থানীয় পুলিশ।
পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল সমকালকে জানান, পরাগ সুস্থ হয়ে উঠছে। অপহরণের পর কী ঘটেছিল তা এখনও বলতে পারছে না পরাগ। অপহরণের পরপরই তাকে ইনজেকশন দেওয়ায় তার চেতনা ছিল না। তাই কিছুই তার মনে নেই। সবার সহায়তায় তাকে ফিরে পেয়েছি_ এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

No comments:

Post a Comment