Pages

Saturday, November 17, 2012

ঢাবি ক্যাম্পাস ময়লার ভাগাড়ে পরিণত

ঢাবি ক্যাম্পাস ময়লার ভাগাড়ে পরিণত


রাস্তার দু’পাশে ময়লার স্তূপ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রাস্তার ওপরও। তা নিয়ে কাক-কুকুরের কাড়াকাড়ি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এটি। ক্যাম্পাসের ফুলার রোড, রোকেয়া হল, জিয়া হল, বিজয় ৭১ হল, মুহসীন হল, টিএসসি, মল চত্বর, মধুর ক্যান্টিন, ভিসি চত্বরের আশপাশসহ প্রায় প্রতিটি স্থানই ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় স্তূপ জমে আছে স্থানগুলোতে। ময়লার দুর্গন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেও তাতে মাথাব্যথা নেই কর্তৃপক্ষের। উপরন্তু চরম উদাসীনতার ভূমিকা পালন করছে সিটি করপোরেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাছাড়া ময়লা ফেলার জন্য ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিনেরও স্বল্পতা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্যাম্পাসের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত নয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ময়লার ডিপো পরিষ্কার করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। তারা নিয়মিত দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে। যার ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন ময়লা-আবর্জনা বৃদ্ধির পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে। ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখার জন্য কয়েক শ’ কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। তারা নিয়মিত তাদের দায়িত্ব পালন করে কি না এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন মাথাব্যথা নেই। এ ব্যাপারে মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র আলাউদ্দিন বলেন, আবর্জনার কারণে মশার উৎপাত বেড়েছে। যার কারণে শিক্ষার্থীরা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষার্থে তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এস এম হলের ছাত্র আসাদ বলেন, দুর্গন্ধের কারণে রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারি না। তিনি হতাশ কণ্ঠে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ অব্যবস্থাপনা সত্যিই দুঃখজনক।
এদিকে সামান্য বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পাসের অধিকাংশ স্থানেই পানি জমে যায়। বৃষ্টির পানিতে ময়লা মিশে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। এতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সৌন্দর্য মারাত্মক হুমকির মুখে। অপরিচ্ছন্নতার দরুন বেড়ে গেছে মশার উৎপাত। মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ আবাসিক শিক্ষার্থীরা। কয়েল জ্বালিয়েও নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। রাত-দিন মশারি টাঙ্গিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। মশার কামড় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থান করার কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটছে। পরীক্ষার ফলাফলও খারাপ হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে অন্যদিকে দেশের উচ্চ শিক্ষার হারেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী প্রিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অপরিচ্ছন্নতা যেন আমাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে গেছে। অপরিচ্ছন্নতার কারণে মশার উৎপাত এতই বেড়ে গেছে যে, কয়েল জ্বালিয়েও এর থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছি না। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার জন্য প্রয়োজন সুন্দর পরিবেশ। ক্যাম্পাসে সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তিনি কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান। বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র জাহিদ বলেন, ক্যাম্পাসে আসতে হলে নাকে রুমাল দিতে হয়। তিনি বলেন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় বর্ষা মওসুমে অনেক বেশি কষ্ট হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ এ বিষয়ে বলেন, ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব না। নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেললে ক্যাম্পাস অপরিষ্কার হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত এর প্রতিকারে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

No comments:

Post a Comment