ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেনি বাংলাদেশ
পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেনি। ক্ষমা চাওয়ার ইস্যুতে নয়, নিজের অসুস্থতার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তান সফরে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এ দাবি করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানী খার। কয়েক দিন আগে তিনি বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু হিনা রব্বানী খার তাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে অনুরোধ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, পাকিস্তান ক্ষমা না চাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা পাকিস্তানের ওই সম্মেলনে যাওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ধরনের খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন হিনা রব্বানী খার। তবে তিনি কোথায় এসব কথা বলেছেন তা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় নি। গতকাল এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। এতে বলা হয়, আগামীকাল থেকে ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে ডি-৮ সম্মেলন। এ সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন হিনা রব্বানী খার। তখন বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেনি। হিনা রব্বানীর গত ৯ই নভেম্বরের সফরের সময় বাংলাদেশের নেতারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার যেসব দাবির কথা বলা হচ্ছে তা পুরোপুরি ভুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চোখে কিছুটা সমস্যা ছিল। তাই তার চিকিৎসকরা তাকে সফরে না যেতে পরামর্শ দিয়েছেন। ওদিকে পাকিস্তানের মিডিয়ায় খবর প্রচারিত হয়েছে যে, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ) পাকিস্তানি বেসামরিক কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তারা যে যুদ্ধাপরাধ করেছেন তার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু পাকিস্তান তাতে অস্বীকৃতি জানানোয় শেখ হাসিনা ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ না দেয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে হিনা রব্বানী খার বলেন, ওই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইয়োধইয়োনো, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক ইবেলি জোনাথান, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগান। এতে মালয়েশিয়া তার উপ-প্রধানমন্ত্রীকে এবং বাংলাদেশ থেকে একজন বিশেষ প্রতিনিধি যোগ দিতে পারেন। এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। সভাপতিত্বও করবেন তিনি। এ সম্মেলন থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য ডি-৮-এর চেয়ারম্যান করা হবে পাকিস্তানকে।
No comments:
Post a Comment