Pages

Wednesday, November 21, 2012

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারের ২৬ চ্যালেঞ্জ

তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারের ২৬ চ্যালেঞ্জ


তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে ২৬ চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশকে ডিজিটাল করার প্রত্যয়ে নানাভাবে ভাটা পড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে যোগ্য ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নকে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্যপ্রযুক্তির ২৬ চ্যালেঞ্জ
নিয়ে সমপ্রতি ব্যাখা দিয়েছেন। ওই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা তুলে ধরেছেন। গত বুধবার সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে লিখিত উত্তরও দিয়েছেন। তিনি বলেন, সমাজের সব ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশকে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সরকারের ২৬ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আইন ও বিধিমালা, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ ও ডিজিটাল কনটেন্ট, কম্পিউটার ল্যাব, ডিজিটাল স্বাক্ষর, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, ই-গভর্নেন্স, জেলা ই-সেবাকেন্দ্র, ডিজিটাল বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ড, জাতীয় ই-তথ্যকোষ, ই-বুক, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং, অনলাইন ট্যাক্স পেমেন্টে, ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ও অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন প্রস্তুত, ই-পুঁজি, মোবাইলভিত্তিক ৭ ধরনের সেবা, ই-এশিয়া, ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১২, গ্রামীণ ডাকঘরগুলোকে কমিউনিটি তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রে রূপান্তর, ইলেক্ট্রনিক মানি-অর্ডার সার্ভিস প্রবর্তন, পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের প্রচলন, অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন, ২য় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপন ও থ্রিজি সেবা প্রবর্তন। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে মোবাইল অপারেটরদের নিয়ে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে থ্রিজির লাইসেন্স নিয়ে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সরকারের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। গত অক্টোবরে সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিটককে থ্রিজি সেবার সুবিধা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য অপারেটরদের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে জানিয়েছেন, শিগগিরই তাদের ওই সুবিধা দেয়া হবে। এদিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, আগামী ২ মাসের মধ্যে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি (থ্রিজি) সেবা যাচ্ছে বেসরকারি অপারেটরে। এগুলো হচ্ছে- বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল, সিটিসেল ও ওয়ারিদ। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির নতুন চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস মানবজমিনকে বলেন, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সচিব থাকা অবস্থায় বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের থ্রিজি লাইসেন্স দেয়ার কাজ অনেক দূর এগিয়ে নেয়া হয়েছে। আশা করি আগামী বছরের প্রথম দিকে থ্রিজি লাইসেন্স প্রাইভেট সেক্টরে দেয়া যাবে। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা যাবে না। বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের ওই লাইসেন্স দেয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন বলে জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান। এদিকে তথ্যপ্রযুক্তির ২৬ চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, দেশের ৫৬টি জেলাকে এর আওতায় আনা হয়েছে। বাকি ৮টি জেলাকে (শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী ও খাগড়াছড়ি) অপটিক্যাল ফাইবার দ্বারা সংযোগের কাজ টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের শেষদিকে ২য় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এভাবে অপর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার যেভাবে দেশকে ডিজিটাল করার প্রত্যয় দেখিয়েছিল, দিন শেষে তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারা বলেন, এজন্য অনেক কারণ রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর দক্ষ ও যোগ্য লোকের অভাব অন্যতম। এ ছাড়া সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবও স্পষ্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মো. হাসানুজ্জামান সমপ্রতি মানবজমিনকে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের উচিত আরও কিছু পদক্ষেপ নেয়া। ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার, ভূমির ম্যাপ ও তথ্য ডিজিটালাইজ করা। এতে করে দেশে ভূমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে সর্বত্র যে দুর্নীতি হয়, সেটা রোধ করা সম্ভব।

No comments:

Post a Comment