রুদ্ধশ্বাস ৪০ মিনিট
অপহরণকারীদের চাহিদামত মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে দেয়া হয়েছে টাকা।
কিন্তু ফেরত পাওয়া যায়নি আদরের নিধিকে। শেষ পর্যন্ত ১২টা ২০ মিনিটে ছেলে
পরাগকে ফিরে পান বিমল মন্ডল। টাকা দেয়া থেকে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার এই ৪০
মিনিট ছিল বিমলের কাছে এক শ্বাসরুদ্ধকর সময়। এর আগের এক ঘন্টা কঠিন সময় পার
করেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ছেলেকে যে ফিরে পেয়েছেন তাতেই সন্তুষ্ট
কেরানি-গঞ্জের এই ব্যবসায়ী।
গত রবিবার সকালে বিমলের স্ত্রী, মেয়ে ও
গাড়ি চালককে গুলি করে ছেলে পরাগকে অপহরণ করে সন্ত্রাসী গ্রুপটি। পুরো
দুইদিন অন্ধকারে ছিলেন বিমল। মঙ্গলবার সকালে প্রথম বিমলকে ফোন করে
অপহরণকারীরা। দাবি করে ২ কোটি টাকা। দিনব্যাপী চলে দেনদরবার। শেষ পর্যন্ত
রফা হয় ‘৫০ লাখ টাকায়’।
অপহরণকারীদের কথামতো মঙ্গলবার রাতেই ‘৫০ লাখ
টাকা’ নিয়ে বিমল প্রথমে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় আমিনবাজার পার হয়ে তুরাগ
সেতুর কাছে যান। সেখান থেকে তাকে মুগরার বাজারের আওয়াল মার্কেটের কাছে যেতে
বলা হয়। ওই সময় তিনি একটি ব্যাগে করে টাকা নিয়ে একটি কাঁচা রাস্তায় ঢুকে
পড়েন। এরপর রাস্তায় মোবাইল ফোনের আলো ফেলে কিছুদূর যাওয়ার পর দু’জন
সন্ত্রাসী এসে পেছন থেকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগটি নিয়ে যায়।
তখন তিনি ছেলেকে ফেরত চাইলে তারা বলেন, সময়মত জানানো হবে।
তখন ঠিক
রাত ১১টা ৪০ মিনিট। টাকা দেয়ার পর পুরোটাই অন্ধকারে ছিলেন বিমল। টাকা গেল
এবার যদি ছেলেকে না পান তাহলে সব শেষ। ঠিক ২০ মিনিট পরে বিমলকে ফোন করে
অপহরণকারীরা বছিলা সেতু পার হয়ে আঁটি নয়াবাজারে যেতে বলে। আরো ২০ মিনিট পর
সেখানেই রাত ১২টা ২০ মিনিটে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেল পরাগ মন্ডলকে। অবশ্য
এক নৈশ্যপ্রহরী পরাগকে আবিষ্কার করে বিমলকে ফোন করেন। ডিবি পুলিশের সঙ্গে
বিমল সেখানে গিয়ে ছেলেকে পান। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যান স্কয়ার হাসপাতালে। এখনও
যেখানে চিকিত্সাধীন আছে পরাগ।
No comments:
Post a Comment