Pages

Saturday, November 24, 2012

১৫ কোটি মানুষ জন্ম নিবন্ধনের আওতায়

১৫ কোটি মানুষ জন্ম নিবন্ধনের আওতায়

সরকারের জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সাফল্যের পথে। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ জন্মনিবন্ধনের আওতায় চলে এসেছে। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দেশের সকল নাগরিক জন্মনিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে বলে আশা করছে সরকার।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত দেশে ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৭ জন জন্মনিবন্ধনের আওতায় এসেছে। ইতিমধ্যে ১১ কোটি ৫৭ লাখেরও বেশি নাগরিককে জন্মসনদ প্রদান করা হয়েছে। আর আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দেশের সকল নাগরিক জন্মনিবন্ধনের আওতায় চলে আসবে।
সূত্র মতে, ২০০৫ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০০৬ সালে ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৪৯ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০০৯ সালে ৯২ দশমিক ৪১ শতাংশ, ২০১০ সালে ৯৪ দশমিক ১১ শতাংশ, ২০১১ সালে ৯৭ দশমিক ৩১ শতাংশ ও ২০১২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৯৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ লোক জন্মনিবন্ধনের আওতায় এসেছে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী দেশে মোট ১৬টি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এ সনদ জরুরি। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি, পাসপোর্ট, বিবাহনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি, নিয়োগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব খোলা, আমদানি ও রফতানির লাইসেন্স, গ্যাস-পানি-টেলিফোন ও বিদ্যুত সংযোগ, বাড়ির নকশা অনুমোদন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এ সনদ কাজে লাগবে।
২০০৪ সালে দেশে জš§ ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন প্রণীত হয় ২০০৬ সালের জুলাই থেকে তা কার্যকর হয়। কিন্তু জনসচেতনতার অভাবে এখনও অনেকেই নিয়মানুসারে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মনিবন্ধন করেন না। জন্মনিবন্ধন আইন অনুযায়ী কোন শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই জন্মনিবন্ধন করতে হবে। এ ছাড়া ১৮ বছরের নিচে বয়সীদের ক্ষেত্রে বিনা ফি’তে জন্মনিবন্ধন করা যাবে। তবে ১৮ বছরের উর্ধে জন্মনিবন্ধন করতে হলে ৫০ টাকা ফি দিতে হবে। দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নেয়া যাবে।
বর্তমানে সারাদেশে সরাসরি জন্মনিবন্ধনের পাশাপাশি অনলাইনেও জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। দেশের ৫৫টি জেলা ও বিদেশে ১৭টি দূতাবাসের মাধ্যমে অনলাইনে জš§নিবন্ধন চলছে। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে জন্মনিবন্ধন করা হচ্ছে। অনলাইন জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম চলমান এলাকাগুলো দেশের ৫৫টি জেলার খুলনা, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, কক্সবাজার, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, গাজীপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজবাড়ী, চাঁদপুর, ফেনী, মৌলভীবাজার, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, নরসিংদী, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, মেহেরপুর ও বগুড়ার সব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা। অবশিষ্ট ৯ জেলার সব পৌরসভা, দেশের সব কয়টি ক্যান্টনমেন্ট ও সিটি কর্পোরেশনে অনলাইন জš§নিবন্ধন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
অপরদিকে বাংলাদেশের বাইরে কানাডার অটোয়া, গ্রীসের এথেন্স, কুয়েতের কুয়েত সিটি, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর, ওমানের মাস্কাট, কাতারের দোহা, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা, সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম, লন্ডন ও ম্যানচেস্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়শিংটন ডিসি ইত্যাদি শহরে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে।
সূত্র মতে, ১৮৭৩ সালের ২ জুলাই তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার অবিভক্ত বাংলায় জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত আইন জারি করে। কালের পরিক্রমায় ১১৮ বছরে ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও আইনের নানা পরিবর্তন সত্ত্বেও দেশের সব মানুষ জন্মনিবন্ধনের আওতায় আসেনি। সে কারণে ২০০১-২০০৬ সালে ইউনিসেফ-বাংলাদেশ এর সহায়তায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২৮টি জেলায় ও ৪টি সিটি কর্পোরেশনে জন্মনিবন্ধনের কাজ নতুনভাবে আরম্ভ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৭৩ সালের আইন রোধ করে সরকার ২০০৪ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ প্রবর্তন করে। আইনটি ২০০৬ সালের ৩ জুলাই হতে কার্যকর হয়। ২০০১-২০০৬ সালের পাইলট প্রকল্পের শেষে বর্তমান প্রকল্পটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) নামে ২০০৭ সালে শুরু হয়। জানুয়ারি ২০০৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ মেয়াদি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তাকারী ইউনসেফ-বাংলাদেশ যার মোট বরাদ্দ ৫৮৬৩ দশমিক ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ ২৯৬ দশমিক ৩ লাখ টাকা ও প্রকল্প সাহায্য ৫৫৬৭ দশমিক শূন্য লাখ টাকা। প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরে গত ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।

No comments:

Post a Comment