Pages

Tuesday, November 13, 2012

চল্লিশার টাকা কেড়ে নিলো পুলিশ!

চল্লিশার টাকা কেড়ে নিলো পুলিশ!

সাভার থেকে: হত্যা মামলায় ঢুকিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে পিতার চল্লিশার খরচের জন্য জমানো ৭০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটকে রাখলেও পরে ছেড়ে দেয়। গত ৪ঠা নভেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার সলমাশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী জিন্নাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সাভার থানার এসআই এমদাদুল হক বাড়িতে হানা দিয়ে আমাকে ও আমার ছেলে রিপন (২০)কে ঘুম থেকে উঠিয়ে ঘরে ফেনসিডিল রয়েছে বলে তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে আমাকে ও আমার ছেলেকে বাইরে রাখা ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা। টাকা না দিলে পিতা-পুত্রকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়।
জিন্নাহ মিয়া আরও বলেন, পুলিশের মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে কিছু টাকা দিতে রাজি হলে আমাদের দুজনকে পুনরায় বাড়িতে নিয়ে আসে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ৯ই নভেম্বর মরহুম পিতা কিতাব আলীর চল্লিশা। এলাকায় দাওয়াত দেয়াও শেষ হয়েছে। পিতার খরচের জন্য রাখা ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা এসআই এমদাদকে দিলে সে আমাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু আমার ছেলে রিপনকে আটকে রেখে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে ওই ২০ হাজার টাকাও দিতে হয়েছে পুলিশকে। এ ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় প্রকাশ পেলে তার স্বজনরা এসআই এমদাদসহ তার গাড়ি আটকে রাখলেও পরে ছেড়ে দিয়েছে। অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হককে জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন। কিন্তু পরে বিভিন্ন তথ্যাদির কথা জানালে তিনি তা স্বীকার করে এ প্রতিবেদককে রিপোর্টটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এ প্রসঙ্গে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এমদাদকে বলছি আপনার সঙ্গে দেখা করবে। তবে বাবার চল্লিশার টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে বলেন, আমাকেও সে কিছু টাকা দিয়েছে। তবে সে টাকা যে তার বাবার চল্লিশার জন্য রেখেছিল তা জানা ছিল না। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

No comments:

Post a Comment