Pages

Tuesday, November 13, 2012

বছরে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অহেতুক পরিকল্পনা

বছরে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ের অহেতুক পরিকল্পনা

বছরে ২০০ কোটি টাকা অহেতুক ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) ইস্যু’র জন্য প্রস্তাবিত প্রয়োজনীয় জনবলের পেছনে এ ব্যয় হবে। ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কাজটিকে বাধা দিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো এক অবস্থান পত্রে তারা বলেছে, ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে অহেতুক। এছাড়া পত্রে জনবল নিয়োগে প্রতি বছর ২০০ কোটি টাকা অহেতুক ব্যয়ের নানা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র সাময়িক কাজের চাপ মোকাবিলার জন্য মিশনগুলোতে স্থায়ীভাবে ‘পাসপোর্ট ও ভিসা উইং’ খোলা হচ্ছে। এ উইংটি পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৬৬টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে। অবস্থান পত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব পদ সৃষ্টি করা হলে কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বেতন, বাড়ি ভাড়া, বৈদেশিক ভাতা, শিক্ষা ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, বদলি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা বাবদ নিয়মিতভাবে বছরে সরকারের ২০০ কোটি টাকা অহেতুক ব্যয় হবে। এছাড়া প্রস্তাবিত জনবলের কাজ শুরু করার জন্য এককালীন ও মূলধনী খরচ বাবদ অতিরিক্ত আরও ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এসব কিছু বিবেচনায় পাসপোর্ট ও ভিসা ইস্যুসহ সব কনস্যুলার কাজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনবলের মাধ্যমে করা প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারের ব্যয়ভার বাড়তেই থাকবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দূতাবাসগুলোর জন্য এদেশ থেকে পদ সৃষ্টির মাধ্যমে স্বদেশ ভিত্তিক জনবল পাঠানো হলে সরকারের ব্যয় অহেতুক বেড়ে যাবে। এজন্য সরকারের আর্থিক ব্যয় বাস্তব পর্যায়ে রাখতে এমআরপি ও এমআরভি কার্যক্রমের শুরু থেকে স্থানীয় ভিত্তিক কর্মচারী  নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এজন্য ৫৮টি পদের বিপরীতে স্থানীয় জনবলও তারা নিয়োগ দিয়েছে। দূতাবাসে কাজ করেন এমন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে পাঠানো হলে সরকারকে মাসে চার হাজার পাঁচ শ’ ডলার ব্যয় করতে হয়। এর মধ্যে তাকে বৈদেশিক ভাতা ৭০০ ডলার, চিকিৎসা ভাতা ৩০০ ডলার, শিক্ষা ভাতা ১৬০০ ডলার, বাসা ভাড়া ১৬০০ ডলার এবং পরিবারের সদস্যসহ ভ্রমণ ভাড়া ও ভাতা ৫০০ ডলার দিতে হবে। সব মিলিয়ে ৪৫০০ ডলার দিতে হবে। আউটসোর্সিংয়ের সম্ভাব্য ব্যয়ের চেয়ে তা ১২-১৫ গুণ বেশি। এর বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের ভাষাজ্ঞান জানা একজন শিক্ষিত তরুণ বাংলাদেশীকে নিয়োগ করা হলে সরকারের ৭০০ ডলার ব্যয় হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট ও ভিসা উইং স্থাপন এবং ৩৬৬টি পদ সৃষ্টির বিষয়ে গত ৩০শে আগস্ট একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের কার্য বিবরণী এখনও পাননি তারা। এজন্য গত ৮ই নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের পরিচালক (সংস্থাপন, নীতি ও সংগঠন)। ওই চিঠিতে ৩০শে আগস্ট আন্তঃ মন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের পর এমআরপি সংক্রান্ত কনস্যুলার কাজের চাপ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ওই সময় এসব পদের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এর বিপরীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি হিসাব দিয়ে বলেছে, বর্তমানে বহির্বিশ্বে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে রাষ্ট্রদূতসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মকর্তা ১৬৬ এবং পুরো বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অনুমোদিত পদসংখ্যা ২৩০। মিশনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সহায়ক কর্মচারীর সংখ্যা ৩১৫ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত উইংয়ের জনবল এককভাবে সব মিশনের বর্তমান জনবলের সমান। তাই এটা নিতান্তই বাহুল্য। 

No comments:

Post a Comment