Pages

Sunday, November 18, 2012

‘ব্যাটসম্যানদের কারণে হেরেছি’

‘ব্যাটসম্যানদের কারণে হেরেছি’

 


মুশফিকের চেহারায়ই ফুটে ওঠে দলের ব্যর্থতাচ্ছন্ন পরাজয়ের প্রতিচ্ছবি। তবে লড়াইয়ে পরাজয়ের পর তো অমন হওয়ার কথা নয়! কিন্তু মুশফিকেরা তো চেয়েছিলেন জয়; না পারলে অন্তত ড্র। কিছুই যখন পেলেন না, তখন চেহারা এমন হওয়া ছাড়া আর উপায় কী। ক্যারিবীয়দের যেভাবে পাওয়া গিয়েছিল এ ম্যাচে, এতে জয় বের না করতে পারার যন্ত্রণা অনেক দিন পর্যন্তই ভোগাবে তাদের। কিন্তু কেন এমন হলো? মুশফিক জানালেন, ‘মূলত ব্যাটিংয়ে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বোলারেরা সুযোগ করে দিয়েছিলেন, কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সেটি ধরে রাখতে পারেননি।’ তিনি বলেন, টপ অর্ডারে কয়েকজন দায়িত্বহীন শট খেলে আউট হয়েছেন। একজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে আমরা এমনটি আশা করি না। সেটি না হলে অন্তত ড্র করা যেত। মুশফিক আরো বলেন, ‘ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে গেছে দ্বিতীয় সেশনে। ওই সেশনে পাঁচটি উইকেটের পতন হয়েছে, যা প্রথম ইনিংসের সাথে কখনই মেলানো যাবে না। এখানেই ম্যাচ হেরেছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আগের দিনে পরিকল্পনা ছিল সকালে যত দ্রুত সম্ভব কারিবীয়দের আউট করে দেয়া যায়। সোহাগের মারাত্মক বোলিংয়ে ওরা ১০ ওভারের বেশি খেলতে পারেনি। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭৮ ওভার পেয়েছিলাম আমরা। ওভার যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আমরা জুটি গড়তে পারিনি, এটিই পরাজয়ের কারণ। অনেক ব্যাটসম্যানই বিশের কোটায় গিয়ে আউট হয়েছেন।’ তিনি বলেন, এর আগে আমরা ধরেই নিয়েছিলাম ওরা ৩০০ রানের টার্গেট দেবে। কিন্তু সেখানে আমরা ওদের দ্রুতই আউট করে দিয়েছি। কারিবীয়রা ভেবেছিল ২৪৫ টার্গেট যথেষ্ট হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টার্গেট এটিই হলো। এখানে আমাদের পরিকল্পনা সেট হতে হবে। উইকেট হারানো চলবে না। দেখেশুনে খেলতে হবে। কিন্তু প্রথম সেশনেই তো আউট দু’টি। এরপর পাঁচ। এ সময় যদি আমরা এক বা দুই উইকেট হারাতাম, তাহলে শেষ সেশনে দেখা যেত আমাদের ৫-৬ উইকেট থাকত। ফলে ড্র বা জয়ের একটি সুযোগ নেয়া যেত অলআউট খেলে।

প্রশ্ন ছিল ম্যাচে ড্রয়ের সুযোগ ছিল কি না? মুশফিক বলেন, ২৪৫ রান খুব ট্রিকি রান। আমরা প্রথম দুই সেশনে বেশি উইকেট হারাতে চাইনি। দুই সেশন শেষে আমাদের রান ১২০ হলেও শেষ সেশনে জয়ের চেষ্টা করতে পারতাম। কিন্তু ওই সেশনে বেশি উইকেট হারানোয় আর সেই চেষ্টা করা যায়নি। ড্রয়ের আশায় ব্যাট করলে এই উইকেটে টিকে থাকা অনেক কঠিন। এ জন্যই আমরা নেচারাল ব্যাটিং করতে গেয়েছি। দলের বোলারদের ক্রেডিট দিতে গিয়ে মুশফিক বারবার টেনে আনেন সোহাগ গাজীকে। ‘দারুণ বল করেছেন তিনি। দেখবেন বেশির ভাগ ডেঞ্জার ব্যাটসম্যানদের উইকেটই তুলে নিয়েছেন তিনি। আসলে ওকে যখন দলে নেয়া হয়, তখন কথা উঠেছিল। আমরা ওকে একটি মেসেজ দিয়েছিলামÑ তুমি উইকেট পাও আর না পাও; তুমি তোমার বোলিং করবে, যাতে রান চেক দেয়া যায়। তা ছাড়া কারিবীয়দের দলে ক’জন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন, সে জন্যই সোহাগ গাজী খুবই কার্যকর হবেন ভেবেই দলে নেয়া। আল্লাহর রহমতে, আলহামদুলিল্লাহ সোহাগ খুবই ভালো করেছেন। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও দারুণ বোলিং করেছেন তিনি। তবে মুশফিক চতুর্থ ইনিংসে এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য আরো বেশি ম্যাচ খেলার ওপর জোর দেন। ‘আমরা এ পরিস্থিতিতে খুব কমই পড়েছি। বেশি ম্যাচ খেললে এটি কাভার করার কৌশল আয়ত্তে আনা সম্ভব হতো।’

পুরো ম্যাচের দলের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, শেষ দুই সেশন বাদ দিলে আমরা ভালো একটি গেম খেলেছি। প্রতিটি ইনিংসেই আমরা লড়াই করেছি পরিস্থিতি অনুসারে। এটি ভালো একটি দিক।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস : ৫২৭/৪ ডিকে. (১৪৪ ওভার)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৫৫৬/১০ (১৪৮.৩ ওভার)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস : ২৪৪/৬ (আগের দিনের)

রান বল ৪ ৬

সামি এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ১৬ ২২ ১ ১

নারিন অপ: ২২ ২৯ ২ ১

রামপাল ব সোহাগ ৫ ১৭ ০ ০

বেস্ট ব সোহাগ ০ ১ ০ ০

চন্দরপল এলবিডব্লিউ ব সোহাগ ১ ৪ ০ ০

অতি: (বা-১, লেবা-৩, নো-৪) ৮

মোট (৭৪.২ ওভার অলআউট) ২৭৩

উইকেট পতন : ১/২০, ২/২০৯, ৩/২১২, ৪-২১৮, ৫/২২৫, ৬/২৪৪, ৭/২৪৯, ৮/২৬৫, ৯/২৬৫, ১০/২৭৩।

বোলিং : সোহাগ ২৩.২-২-৭৪-৬, রুবেল ১৯-৪-৫৩-২, রিয়াদ ৩-০-১২-০, শাহাদত ৭-১-৩৪-০, সাকিব ১১-২-৫৬-২, নাঈম ৮-০-২২-০, নাসির ৩-০-১৮-০।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস

তামিম ক রামদিন ব রামপাল ৫ ১৫ ০ ০

জুনায়েদ ক রামদিন ব বেস্ট ২০ ৪২ ১ ০

নাফীস ক অ্যান্ড ব বেস্ট ২৩ ৪০ ৩ ০

নাঈম এলবিডব্লিউ ব পারমাল ২৬ ৬৫ ৩ ০

সাকিব ক রামদিন ব বেস্ট ২ ৩ ০ ০

মুশফিক এলবিডব্লিউ ব বেস্ট ১৬ ৩৩ ১ ০

নাসির ব পারমাল ২১ ৩৩ ২ ০

রিয়াদ ব বেস্ট ২৯ ৫০ ২ ১

সোহাগ ক অতি: ব পারমাল ১৯ ৩৮ ২ ১

শাহাদত ক পাওয়েল ব রামপাল ৪ ২ ১ ০

রুবেল অপ: ০ ৭ ০ ০

অতি: (বা-১, নো-১) ২

মোট (৫৪.৩ ওভার অলআউট) ১৬৭

উইকেট পতন : ১/১০, ২/৪৪, ৩/৫১, ৪/৫৫, ৫/৮৫, ৬/১০৬, ৭/১১৯, ৮/১৫৫, ৯/১৫৯, ১০/১৬৭

বোলিং : রামপাল ১১-১-৩২-২, নারিন ১৮-১-৫৬-০, বেস্ট ১২.৩-২-২৪-৫, পারমল ৮-০-৩২-৩, সামি ৩-০-১৩-০, স্যামুয়েলস ২-০-৯-০।

ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৭ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : কিরণ পাওয়েল।

সিরিজ : ১-০তে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

No comments:

Post a Comment