Pages

Showing posts with label Cricket. Show all posts
Showing posts with label Cricket. Show all posts

Friday, March 8, 2013

নতুনদিনের আশায় বাংলাদেশ

নতুনদিনের আশায় বাংলাদেশ


আজ গলে যে সূর্য উঠবে; অনেক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হবে সে। এই স্টেডিয়ামে আজ প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ, এই স্টেডিয়াম থেকে আজ যাত্রা শুরু হবে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের যুগ, এই স্টেডিয়ামে আজ অভিষেক হবে দু'দলের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের। তবে এসব 'নতুন' নিয়ে খুব ভাবনায় থাকার কথা নয় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। আজ তাদের একটাই ভাবনা থাকার কথা—গল স্টেডিয়ামের নতুন এই পর্বে শ্রীলঙ্কা দলটির বিপক্ষে সব অবমাননার স্মৃতি ভুলে আজ নতুন করে শুরু করতে হবে।

এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের স্মৃতি একটু হলেও ইতিহাস বদলানোর অনুপ্রেরণা যোগাবে বাংলাদেশকে। সেই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সেরা বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিও সাহস যোগাবে বাংলাদেশকে। আর শ্রীলঙ্কার জন্য চ্যালেঞ্জ—বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রবল প্রতাপের ইতিহাস ধরে রেখে নতুন যুগের শুরু করা।

বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছে। অন্তত ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত দলের অধিনায়ক পরিষ্কার বলছেন, এবার তাদের লক্ষ্য অতীত রেকর্ডের পরিবর্তন ঘটানো। সেটা শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বলে নয়; টেস্টে ক্রিকেটে নিজেদের সামগ্রিক যে রেকর্ড সেটাই উন্নত করার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলছিলেন, ম্যাচের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখার পর শেষ দু'দিন এসে লড়াই থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারটাই বদলাতে চান তারা। বদলাটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খুবই জরুরি। বড় টেস্ট দল বলতে যাদের বোঝায়; তাদের কারোরই পূর্ণ শক্তির দলের বিপক্ষে জয় নেই বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খর্ব শক্তির দলের বিপক্ষে জয় আছে; ড্র আছে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে। বাকি দলগুলোর বিপক্ষেও আর কিছু না হোক, লড়াই করে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে হারের সান্ত্বনাটা অন্তত আছে। শুধু এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই বাংলাদেশের দুঃখ আর অবমাননা ছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে আর কোনো স্মৃতি নেই।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ পর্যন্ত ১২টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। বলাই বাহুল্য যে, সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৭টি ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হার। বাকি ৫টি ম্যাচে যথাক্রমে ২৮৮ রান, ৮ উইকেট, ১০ উইকেট, ১০৭ রান এবং ৪৬৫ রানের পরাজয়! এই পরিসংখ্যানই বোঝাতে পারে যে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কেমন অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় বাংলাদেশকে। এবার সেই চিত্রটাই বদলাতে চায় বাংলাদেশ।

এই চিত্র বদলানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ইনজুরির সঙ্গে লড়াই। ইনজুরি আগেই দল থেকে কেড়ে নিয়েছে সাবেক অধিনায়ক, দেশের সেরা ক্রিকেটার এবং পৃথিবীর অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। এ ছাড়া ইনফর্ম ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম, শাহরিয়ার নাফীস, এনামুল হক জুনিয়রও আগেই ছিটকে গেছেন ইনজুরিতে। সমস্যা চলছে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পরও। তামিম ইকবালের ইনজুরির ফলে তার খেলা নিয়ে সংশয় আছে। সংশয় আছে পেসার আবুল হোসেনের খেলা নিয়েও।

এসব অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে বাংলাদেশের তারুণ্যনির্ভর দল প্রায় 'কিশোর দল'-এ পরিণত হতে যাচ্ছে। দলে মোমিনুল হকের টেস্ট অভিষেক এক রকম নিশ্চিত। শ্রীলঙ্কা থেকে দলের একটা সূত্র জানালো, প্রায় নিশ্চিত মোহাম্মদ আশরাফুলেরও দলে ফেরা। একটু অনিশ্চয়তা আছে এনামুল হক বিজয়ের টেস্ট অভিষেক নিয়ে। বিজয় নাকি জহুরুল; কে ইনিংস শুরু করবেন তামিমের সঙ্গে এ নিয়ে সংশয় আছে। সংশয় আছে আসলে তিন ওপেনারকে নিয়েই।

এসব সংশয় নিয়ে অবশ্য বেশি একটা ভাবতে রাজি নন অধিনায়ক মুশফিক। তার মতে, এখন যে দল তিনি হাতে পাচ্ছেন; সেটিও পিছিয়ে নেই। ইনফর্ম খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দল নিয়ে টানা পাঁচদিন লড়াই ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি, 'আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও চারদিন খুব ভালো খেলে শেষ দিনে ম্যাচ হেরেছি। ফলে শুধু ভালো শুরু বা একটা-দুটো সেশন ভালো করাটা লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য পাঁচদিন ধরে ভালো খেলা ধরে রাখা। সে ক্ষেত্রে আমরা ভালো ফল আশা করতেই পারি।'

স্বপ্ন পূরণের পথে বিজয়

স্বপ্ন পূরণের পথে বিজয়


দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই অভিষেক। শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতোই। পাঁচ ম্যাচে এক সেঞ্চুরিসহ করেছেন ১৯৫ রান। তবে আনামুল হক বিজয়ের আসল লক্ষ্য টেস্ট ক্রিকেট। আজ শুরু হতে যাওয়া গল টেস্টের আগে এমনটাই জানালেন এই বাংলাদেশি ওপেনার। আর সব ঠিক থাকলে বাংলাদেশের হয়ে আজ টেস্ট অভিষেক হতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের এই সাবেক অধিনায়কের; স্বপ্ন পূরণ হবে বিজয়ের।

'আমি বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছি। তবে এর পরেও টেস্ট ক্রিকেটই আমার প্রধান লক্ষ্য। যদি সুযোগ পাই তাহলে টেস্ট ক্রিকেট হবে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।'—বিজয় জানিয়ে দিলেন নিজের স্বপ্নের কথা।

শ্রীলংকার মাটিটাও খুব অপরিচিত নয় বিজয়ের। এর আগে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে খেলে গেছেন এই দেশে; খেলেছেন তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও। তাই কন্ডিশনটা বেশ পরিচিত এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের। তাই আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়লো তার কণ্ঠে, 'অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে আমি এখানে খেলে গেছি। কয়েকটি হাফ সেঞ্চুরিও ছিল। এখানে আমি যতোটুকু খেলার সুযোগ পেয়েছি তার সবটাই ছিল স্পোর্টিং পিচে। প্র্যাকটিস উইকেটও খুব ভালো ছিল। এখানকার আবহাওয়া কিছুটা গরম হলেও আমি সময়টা বেশ উপভোগ করছি।' দলের প্রস্তুতির ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে বিজয় শোনালেন নিজের সন্তোষের কথা, 'আমার মতে শ্রীলংকা ইমার্জিং স্কোয়াডের বিপক্ষে দলের প্রস্তুতি বেশ ভালোই হয়েছে। তবে আমার পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। এরপর নেটে আমি অনেক সময় দিয়েছি এবং নিজের সমস্যা কাটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েকটা ব্যাপার নিয়ে আমি কাজ করেছি এবং এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী।' অভিষেক ম্যাচ; নার্ভাসনেস কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এনামুল জানালেন ভিন্ন কথা। দলের সবাই সাহায্য করছেন বিজয়কে নির্ভার রাখতে। বিজয় বলেন, 'মমিনুল হক, রাজু'র (আবুল হাসান) সাথে আমি অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলেছি। সোহাগ গাজী আর আমরা তিনজন একসাথে খেলেছি একাডেমি দলে। তাই তাদের সাথে সম্পর্কটা আগে থেকেই ভালো। আর দলের সিনিয়ররা, টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই অনেক সহযোগিতা করে। সব মিলিয়ে আমি নির্ভার আছি।'

বিজয়ের নির্ভার থাকাটা আজ বাংলাদেশের জন্যও খুব দরকার!

Friday, March 1, 2013

সিরিজ জিততে প্রত্যয়ী মাহমুদুল্লাহ

সিরিজ জিততে প্রত্যয়ী মাহমুদুল্লাহ


শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২ টেস্টে বাংলাদেশের সমান ১২ হার। আর তাদের বিপক্ষেই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশ ছাড়ার আগে এমই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। তবে প্রত্যাশার পেছনে যুক্তিও দেখাচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ। প্রতিপক্ষ দলে লঙ্কান তারকা ব্যাটসম্যানদের অনুপস্থিতি দেখে বাড়তি আশাবাদ বাংলাদেশ দলের সেকেন্ড চিফ-এর। বলেন, ‘লঙ্কান দলের কয়েক জন তারকা ব্যাটসম্যান এবার দলে নেই। দলটিতে অনেক নতুন ক্রিকেটার। তাই সিরিজ জয়ের আশা করতে পারি।’ তবে বাস্তবতা ভিন্ন এখানেও। বাংলাদেশ দলেও বয়ে চলেছে ইনজুরি ঝড়। এতে এরই মধ্যে ঝরে পড়েছেন চার সেরা ক্রিকেটার সাকিব, নাইম, এনামুল ও নাফীস। এছাড়াও ইনজুরির ভোগান্তিতে আছেন দলের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালও। মাহমুদুল্লাহর স্বপ্ন পূরণ আপাতত দেখার বিষয়। গতকাল দুপুর ১২টায় হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিহিন লঙ্কান এয়ারলাইন্সে বাংলাদেশ দল সরাসরি কলম্বো পৌঁছে বিকাল ৪টায়। ইনজুরি নিয়ে কোচ ও অধিনায়ক চিন্তিত হলেও আশা করছেন শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ খেলা উপহার দেবে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এ সফরে একটি অনুশীলন ম্যাচ, ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। ৩রা মার্চ অনুশীলন ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা মিশন। এরপর ৮ই মার্চ শুরু হবে টেস্ট সিরিজ। এই মিশনে দলের প্রধান কোচ হিসেবে বড় চ্যালেঞ্জ শেন জার্গেনসনের। তবে ইনজুরি সমস্যা থাকলেও দল নিয়ে আশাবাদী কোচ বিমানে ওড়ার আগে শিষ্যদের শুনিয়েছেন আলাদা মন্ত্র। এর আগে শিষ্যদের জার্গেনসন বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে বিমানে চড়ে বসার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মধ্যে একটি দল হিসেবে পারফরম করার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে।’ শাহরিয়ার নাফিসের দুর্ঘটনায় দলে সুযোগ হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের। আর অধিনায়াক মুশফিকের নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের সঙ্গে আছেন তরুণ ক্রিকেটার, সোহাগ গাজী ও আনামুল হক বিজয়। এছাড়াও আছেন টেস্ট দলে একেবারে নতুন মুখ তরুণ ক্রিকেটার মমিনুল হক সৌরভ ও মার্শাল আইউব। তবে দলের সহ-অধিনায়কও তরুণদের ওপর ভীষণ আস্থা রাখেন। তার বিশ্বাস তাদের অভিজ্ঞতা আর তরুণদের চেষ্টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কঠিন লড়াই দেখাবে বাংলাদেশ দল। সহ-অধিনায়কের মতো আত্মবিশ্বাসী দলের তরুণরাও। দেশ ছাড়ার আগে আনামুল হক বিজয় বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন সবার থাকে। এখন সুযোগ হয়েছে। আর এই সুযোগে নিজের সেরা খেলাটাই খেলতে চাই।’ আর মার্শাল আইউব বলেন, ‘দলে অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ এসেছে আমার। তবে প্রাথমিক স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আমার। যদি মাঠে নামার সুযোগ পাই তাহলে নিজের সেরাটা দিয়েই পূরণ করতে চাইবো বাকিটা। গতকাল এয়ারপোর্টে যথারীতি ছেলেকে বিদায় দিতে এসেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের বাবা। তিনি শুধু বিদায় বেলা ছেলেকেই আশীর্বাদ দেননি, তিনি আদরে জড়িয়ে ধরে বিদায় দেন দলের বাকিদেরও। আর রওনার আগে অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমও বললেন, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটই খেলবে।

Wednesday, February 20, 2013

দ্বিতীয় শিরোপাও ঢাকার

দ্বিতীয় শিরোপাও ঢাকার


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এর দ্বিতীয় আসরেও শিরোপা জিতলো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। ফাইনালে তারা চিটাগং কিংসকে হারিয়েছে ৪৩ রানে। সাকলাইন সজীবের অসাধারন ক্যাচ ৪৪ করেই সাজঘরে ফেরত গিয়েছিলেণ চিটাগং কিংসের অধিনায়ক মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। পরের বলেই তাসকিনকে বোল্ড করেন থমাস। এতেই দ্বিতীয় শিরোপার পথে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। পরের ওভারে ১২৭ রানের মাথায় রুবেল হোসেন রান আউট হলে টানা দ্বিতীয় বারের মতো মাশরাফির হাতে উঠে বিপিএলের শিরোপা। রিয়াদ ২৮ বলে চিটাগং কিংসের পক্ষে সর্বাধিক ৪৪ রান করেন। এছাড়া জেশন রয় করেন ৪০ রান। ঢাকার মোশারফ হোসেন রুবেল ও থমাস ৩ তিনটি কওে উইকেট দখল করেন। এর আগে এন ামুলের ৫৮ ও সাকিবের ৪১ রানে ১৭২ রানের স্কোর করে ঢাকা।

Tuesday, February 19, 2013

চ্যাম্পিয়ন হতেই ঢাকা আজ মাঠে নামবে

চ্যাম্পিয়ন হতেই ঢাকা আজ মাঠে নামবে


বিপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। দ্বিতীয় আসরেও চ্যাম্পিয়ন মাঠে নামবে। আজ গ্ল্যাডিয়েটর্স চ্যম্পিয়ন হবে বলে বিশ্বাস করেন দলটির মালিক সেলিম চৌধুরী। দ্বিতীয় আসরে প্রথম ম্যাচ তারা মুখোমুখি হয় খুলনা রয়েল বেঙ্গলের। আর প্রথম ম্যাচেই তারা জয় দিয়ে শুরু করেছিল। এরপর লীগ পর্বে তারা ১২টি ম্যাচে ৯টিতে জয় তুলে নিয়েছে। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে শেষ করে লীগপর্ব। এরপর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা গেইল ঝড়ে নাটকীয় জয় তুলে নেয়। আর দ্বিতীয় আসরে নিশ্চিত করে ফাইনাল। আজ তাদের শেষ অগ্নিপরীক্ষা। আজ প্রতিপক্ষ যেই হোক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই তাদের লড়াই। ফাইনালের লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে দল নিয়ে সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘দলে কোন ইনজুরি সমস্যা নেই। সবাই শতভাগ ফিট আছেন। আর আমি দলের ক্রিকেটারদের উপর বেশ বিশ্বাস রাখি যে তারা মাঠে নিজেদের শত ভাগ উজাড় করে দিবে। তবে ম্যাচের ফলাফল যাই হোক আমি আশা করবো ম্যাচটি যেন উপভোগ্য হয়।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই তারকা ক্রিকেটার ক্রিস গেইল ও কাইরণ পোলার্ড দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন রেস-টু ফাইনালে। সেখানে গেইল ঝড়ো সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের জন্য জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। তবে গেইল একটি ম্যাচ খেলে চলে গেছেন, আছেন পোলার্ড। ঢাকার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে যুক্ত হয়েছিলেন লুক রাইট। তিনি তিনটি ম্যাচে একটি ফিফটি হাঁকিয়ে ৭৮ রান করে চলে যান নিজ দেশে। তিনি আজ আবারও দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন শেষ ম্যাচে। বিদেশী ব্যাটিং শক্তির মধ্যে আরও আছেন স্টিভেন্স ও দিলসান। স্টিভেন্স ব্যাট হাতে ৯ ম্যাচে করেছেন ৩০৩ রান। ব্যাটিংয়ে ঢাকার দেশীয় ভরসা বলতে মো. আশরাফুল, আনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান। এর মধ্যে একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আশরাফুল এখনও ৩৫৭ রান করে ঢাকার সেরা ব্যাটসম্যান। এছাড়াও আনামুলও ১২ ম্যাচে করেছেন ২৯৮ রান। ঢাকার অন্যতম দেশী তারকার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও আছেন ফর্মে। ১১ ম্যাচে করেছেন ২৮৮ রান। হাঁকিয়েছেন ২টি ফিফটি। আর বল হাতে নিয়েছেন ১৫টি উইকেট। ঢাকার পেস বোলিংয়ে আছেন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার সঙ্গে আছেন আলফানসো থমাস। তিনি ১১ ম্যাচে ১৭টি উইকেট নিয়ে ঢাকার সেরা বোলার। আর বোলিংয়ে আরেক শক্তি দেশী ক্রিকেটার মোশারফ রুবেল। তিনি নিয়েছেন ১৪টি উইকেট। ক্রিস গেইল চলে গেছেন। তাকে ছাড়া বলা চলে সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে যে দলটি রেস-টু ফাইনালে লড়াই করেছে সেখানে তেমন কোন পরিবর্তন হবে না। দলের অধিনায়ক নিয়ে সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘মাশরাফির উপরই আমরা আস্থা রেখেছি। তাকে দল গঠনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। সব কিছুতেই তার মতামতই আগে থাকবে।’

Saturday, February 16, 2013

চিটাগাং-রাজশাহীর ফাইনাল আজ

চিটাগাং-রাজশাহীর ফাইনাল আজ


অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সেমিতে এসেছে চিটাগাং কিংস। গত আসরে শেষ মুহূর্তে সেমিফাইনালে খেলতে না পারা চিটাগাং কিংস আজ ফাইনালে ওঠার প্রথম ধাপ টপকাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুরন্ত রাজশাহীর। দুরন্ত রাজশাহীর এটি দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল। কাগজে-কলমে অনেক শক্তিশালী দল নিয়েও চট্টগ্রাম হোঁচট খেতে খেতেই আগায়। তবে ১২ ম্যাচে ছয়টি জিতেছে আর ছয়টি হেরেছে। তবে দুরন্ত রাজশাহীর কপালটা ভাল-মন্দের মিশেল। একেবারে দুর্বল দল না হলেও তারা প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিল আসর থেকে। কিন্তু শেষ দুই দিনে বরিশালের হার আর জিতের কারণে ভাগ্য বদলে যায় তাদের। পয়েন্ট ১২ ম্যাচে ১০। বরিশাল আর রংপুরের পয়েন্টও সমান ছিল। কিন্তু বাইলজ অনুসারে তিন দলের নিজেদের লড়াইয়ে বেশি জেতার সুবাদে দুরন্ত রাজশাহী সেমিতে খেলার সুযোগ পায়। কে না চায় ফাইনালে খেলতে। এই দু’দলও মরিয়া। কিন্তু আজই তার ফয়সালা নয়। হারলে বিদায়টা নিশ্চিত, তবে ফাইনালে খেলাটা নিশ্চিত করতে, খেলতে হবে আরেক ম্যাচ। গতকালের পরাজিত দল সিলেটের বিরুদ্ধে তাদের মাঠে নামতে হবে আগামীকাল। আজ সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। দুরন্ত রাজশাহীর সফল ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক জহুরুল নিজেও মানছেন এটা তাদের ভাগ্যে পাওয়া সুযোগ। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের হারানোর কিছুই নেই। তাই এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।’ মজার ব্যাপার হলো- দ্বিতীয় আসরে এ দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল তাদের প্রথম ম্যাচে। কম রানের সেই ম্যাচে দুই রানে জয় পেয়েছিল রাজশাহী। তবে দ্বিতীয় দেখায় দুরন্ত রাজশাহীকে ৩৩ রানে হারিয়ে চিটাগাং কিংস প্রতিশোধ নিয়ে সমান হয়।
চিটাগাং কিংসের জন্য একটি ধাক্কাও আছে আজ। তাদের জয়ের পথ দেখানো অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর চলে গেছেন দেশে। তাই এই জায়গাটাকে শূন্যস্থান বলে মানছেন দলের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি বলেন, ‘আসলে টেইলরের চলে যাওয়া আমাদের জন্য শূন্যস্থানই। এটা পূরণ হওয়ার না। তবে জ্যাকব ওরাম তার কাজটা করবে। আমরা ক্রিকেটারদের উপর ভরসা আছে। তারা চাইলে সবই সম্ভব।’ টেইলর চলে যাওয়ায় এখন আবার মাহমুদুল্লাহই দলের নেতৃত্বে ফিরতে পারেন বলে দলের পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে দুরন্ত রাজশাহীর অধিনায়ক শ্রীলঙ্কার কাপুগেদারাকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা। অসুস্থ থাকায় গতকাল তিনি মাঠেই আসেননি। তবে তিনি খেলতে পারবেন কিনা আজ মাঠে নামার আগে চূড়ান্ত হবে। তবে অন্যতম তারকা তামিম ইকবালও দলে থাকছেন না। হাতের ইনজুরির কারণে তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে দুই সপ্তাহ। তবে তারা এ ম্যাচের জন্য নতুন কোন বিদেশী ক্রিকেটারও আনছে না। পুরনো দলের উপরই ভরসা আছে বলে জানিয়েছেন দলের মালিক মুশফিকুর রহমান মোহন।
খেলা শুরু সন্ধ্যা ৬টায়
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে

Thursday, February 14, 2013

সেমিতে চিটাগং বিপদে রাজশাহী

সেমিতে চিটাগং বিপদে রাজশাহী

 


শেষ ম্যাচে চিটাগং কিংসের সঙ্গে ৩৩ রানে হেরে গেল দুরন্ত রাজশাহী। আর এতেই দুরন্ত পড়ে যায় ঝুলন্ত সমীকরণে। তবে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে নিশ্চিন্তে শেষ চার নিশ্চিত করেছে চিটাগং কিংস। গতকাল দুরন্তকে দিনের শেষ ম্যাচে বরিশালের জয়-পরাজয়ে ওপর তাকিয়ে থাকতে হয়েছে। সিলেটের সঙ্গে শেষ ম্যাচে বরিশাল হারলে দুরন্তর জন্য শেষ চারে উঠার সুযোগ বেঁচে থাকবে। আর বরিশাল জিতে গেলে বাদ পড়ে যাবে রাজশাহী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরিশাল-সিলেটের ম্যাচ চলছিল। এই পর্যন্ত ১২টি ম্যাচে ৫ জয়ে দুরন্ত রাজশাহীর পয়েন্ট ১০। বরিশালের হাতে আছে দুটি ম্যাচ। তাদের ৯ ম্যাচে ৪ জয়ে পয়েন্ট ৮। আজ তারা মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্সের। যদি রংপুরের সঙ্গে বরিশাল হারলেও রাজশাহী বাদ পড়ছে। আর যদি জিতে সেই ক্ষেত্রে রাজশাহীর জন্য থাকছে সুযোগ। রংপুরের পয়েন্ট এখনও ১১ ম্যাচে ১০ যদি। তাই আজ বরিশাল হেরে গেলে তিন দলের পয়েন্ট সমান হবে। তখন রানরেটে সুযোগ থাকছে দুরন্ত রাজশাহীর। তবে গতকালের ম্যাচে বরিশাল জয় পেলে তখন শেষ দল হিসেবে আজ সেমির লড়াইয়ে নামবে রংপুর-বরিশাল।
দুরন্ত রাজশাহী ১৯৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ১৬০ রান তুলতে সক্ষম হয়। দুই ওপেনার চালর্স কভেন্ট্রি ও সাইমন ক্যাটিচ ২৯ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যে দ্রুতই ১৫ বলে ২৪ রান তুলে আউট হন কভেন্ট্রি। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন শ্রীলঙ্কার দিলশান মুনাভিরা ও ক্যাটিচ। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৫ রানে মুনাভীরার বিদায়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী। এর পর উইকেটে এসেই মারমুখী ব্যাট চালান জিয়াউর রহমান। ২টি করে চার ও ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করা জিয়াউরকে বোল্ড করে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার শন টেইট। শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন ক্যাটিচ। সে সুবাদে ২০ ওভারে তাদের ইনিংস থামে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানে। কিংসের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন টেইট ও রুবেল হোসেন।
এর আগে টস জিতেই ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন রাজশাহীর অধিনায়ক চামারা কাপুগেদেরা। শুরুতেই নাঈম ইসলামকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিয়ে রাজশাহীকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার মনির হোসেন। তবে রাজশাহীর সাফল্যকে ম্লান করার জন্য জুটি বাঁধেন ইংল্যান্ডের জেসন রয় ও জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর। দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন তারা। তবে দলীয় ৭৬ রানে টেইলরকে ফিরিয়ে দিয়ে চিটাগং কিংসের রানের গতি থামান রাজশাহীর মুক্তার আলী। ২টি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে ৩০ রান করে থামেন টেইলর। টেইলরের বিদায়ের পর রয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধতে ক্রিজে আসেন নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডেসকাট। দ্রুত উইকেটে সেট হয়ে রাজশাহীর মারমুখী মেজাজে দু’জনই পেয়ে যান ফিফটির স্বাদ। রয় ৩৫ বলে এবং ডেসকাট ৩২ বলে রাখেন ফিফটি করেন। তবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার মারে ৫৫ বলে ৯২ রানে অপরাজিত থাকেন জেসন। আর শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৯ বলে ৬৫ রান করেন ডেসকাট। রাজশাহীর পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মনির হোসেন ও মুক্তার আলি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: রাজশাহী (ফিল্ডিং)
চিটাগং কিংস: ২০ ওভারে ১৯৩/৩; (রয় ৯২*, ডেসকাট ৬৫, টেইলর ৩০; মনির ১/৩০)।
দুরন্ত রাজশাহী: ২০ ওভারে ১৬০/৮; (ক্যাটিচ ৫৩, মুনাভিরা ৩৫, জিয়াউর ২৬; রুবেল ২/২৩, টেইট ২/৩৫)।
ফল: চিটাগং ৩৩ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: জেসন রয়
আজকের খেলা

ম্যাচ: বরিশাল-রংপুর
সময়: দুরপুর সাড়ে তিনটা
ম্যাচ:ঢাকা-চিটাগং
সময়: সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
ভেন্যু: মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়াম

Sunday, February 10, 2013

দুর্দশা কাটছে না বরিশালের

দুর্দশা কাটছে না বরিশালের


বিপিএলে নিজেদের আগের আট ম্যাচে জয় মাত্র তিনটিতে। মিরপুরে আজ শনিবার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে ম্যাচেও দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি বরিশাল বার্নার্স।
ঢাকার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রান তুলতে সক্ষম হয় বরিশাল। সংগ্রহটাই বলে দেয়, নাটকীয় কিছু না ঘটলে আরেকটি হার সইতে হবে ব্রাড হজের দলকে।
ব্যাট হাতে বরিশালের হয়ে সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন আজহার মাহমুদ। তাঁর সংগ্রহ ৩০ রান। এ ছাড়া সাব্বির রহমান ১৮, ফারভিজ মাহারুফ ১৫, ব্রাড হজ ১২ ও অলক কাপালি ১০ রান করেন। ঢাকার হয়ে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আলফনসো টমাস ও ক্রিস লিডল প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
দলের রান ১০১। জিততে আর চাই আর মাত্র ১৪ রান। এ সময় বল হাতে এলেন শুভাগত হোম চৌধুরী। সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং-ঝড় থামাতে বরিশাল বার্নার্সের দলনায়ক আনলেন তাঁকে। শুভাগত অধিনায়কের সিদ্ধান্তের প্রতিদান দিলেন সাকিবকে নাজমুল ইসলামের দুর্দান্ত এক ক্যাচে আউট করে। কিন্তু সাকিব সাজঘরে ফিরলেন বটে, ততক্ষণেই ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। ৩১ বলে সাত চার ও এক ছয়ে সাকিব করেছেন ৫৪ রান। ওপেনার দিলশান ৩৯ বলে সাত চারে ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে ৯ উইকেটে ১১৪ রান তোলে বরিশাল।
সাকিব-দিলশানের ৯২ রানে জুটির ওপর ভর করে আট উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে ঢাকা। এ জয়ে নয় খেলায় ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে উঠল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সমান পয়েন্ট হলে রানরেটে দুয়ে সিলেট রয়্যালস।
বিপিএলে বরিশাল নিজেদের আগের আট ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। মিরপুরে আজ শনিবার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে ম্যাচেও দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।
ঢাকার বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রান তুলতে সক্ষম হয় বরিশাল। সংগ্রহটাই বলে দেয়, নাটকীয় কিছু না ঘটলে আরেকটি হার সইতে হবে ব্রাড হজের দলকে।
ব্যাট হাতে বরিশালের হয়ে সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন আজহার মাহমুদ। তাঁর সংগ্রহ ৩০ রান। এ ছাড়া সাব্বির রহমান ১৮, ফারভিজ মাহারুফ ১৫, ব্রাড হজ ১২ ও অলক কাপালি ১০ রান করেন। ঢাকার হয়ে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আলফনসো টমাস ও ক্রিস লিডল প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান।

Saturday, February 9, 2013

খেলোয়াড় বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়

বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়


ক্রিকেটারদের বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো দুরন্ত রাজশাহী গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত খেলায় পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে থাকা খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের কাছে ৭ উইকেটে হেরে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এ খেলায় হার জিতকে ছাপিয়ে যায় দুরন্ত রাজশাহীর বিদেশিদের খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা।

রাজশাহী শেষ পর্যন্ত পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে সক্ষম হলেও খেলা শুরুর ২০ মিনিট আগে বিদেশিরা খেলতে রাজি হচ্ছিল না। বিদেশি ক্রিকেটাররা পাওনা অর্থ অনাদায়ে খেলতে অসম্মতি জানালেও পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপে মাঠে নামে। এ ঘটনা পুরো বিপিএলের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কেননা বিপিএল শেষের পথে অথচ এখনো বিদেশিরা প্রথম কিস্তির টাকাই পায়নি। তাই কাল রাজশাহী সাত বিদেশি এক প্রকার বেঁকেই বসে। খেলা শেষে দলের নিয়মিত অধিনায়ক চামারা কাপুগেদারা এর ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, 'বিপিএল শেষের পথে অথচ আমরা যারা বিদেশি আছি তারা কোন টাকা-পয়সাই পায়নি। তাই আজ (কাল) আমরা সিদ্ধান্ত নেই টাকা না পেলে মাঠে নামবো না। পরে বিসিবি চেয়ারম্যান আমাদেরকে মূল বিষয়টি জানিয়েছেন। তাই পরে মাঠে নেমেছি'।

খেলোয়াড়দের কিস্তির প্রথম অংশের টাকা বিপিএল শুরুর সময় দেয়ার কথা থাকলেও ফ্রাঞ্চাইজিরা সময়মত বিসিবির কাছে সেই টাকা জমা দেয়নি। ফলে খেলোয়াড়রাও সময়মত টাকা পায়নি। তবে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে- এই আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত বিদেশিরা মাঠে নামে। কিন্তু আধ ঘন্টার এই নাটকের জন্য দলের পারফর্মেন্সও খারাপ হয়েছে। যদিও কাপুগেদারা সেটি মানতে নারাজ, 'আমি মনে করি না এই ঘটনা ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। আশা করছি পরের ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা দুর্দান্তভাবে ফিরে আসবে'। ঘটনাবহুল এ খেলায় খুলনার অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিসও উঠে আসেন আলোচনায়। কেননা কাল তিনি নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে খুলনাকে নেতৃত্ব দেননি। বরং রিকি ওয়েসেলসকে দায়িত্ব দিয়ে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান নাফিস এবং ভারমুক্ত এই ব্যাটসম্যান এবারের বিপিএলের তৃতীয় ফিফটি করেন। কাল খেলা শেষে নাফিস বলেন, 'আমি মাঠে আসার সময় টিম ম্যানেজম্যান্টকে ফোনে বলেছি আর অধিনায়কত্ব করতে চাই না। ম্যাচ জিততে হলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত নৈপুণ্য অনেক বেশি দরকার। আমি অধিনায়কত্ব ছেড়ে নিজের মত খেলার চেষ্টা করবো'। এবারের বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান নাফিসের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে তোলা ৭৭ রানের ইনিংস। ফলে রাজশাহীর ১৩৮ রানের জবাবে নাফিস, শ্রীলংকান জিহান মুবারক (২৭ বলে ৩০) ও ট্রেভিস ব্রিট (২৬ বলে ২৩) মিলে চার বল বাকি থাকতে খুলনাকে জিতিয়ে দেন সাত উইকেটে। নাফিস নিজের ব্যাটিং নিয়ে বলেন, 'আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম পর্ব খেলিনি। তখন নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্যারের কাছে অনেক কিছু শিখেছি। ওটাই আমার কাজে দিয়েছে। মূলত তখন থেকে আমার ব্যাটিং অনেক উন্নত হয়েছে'।

কালকের এ জয়ের পর খুলনার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে দশ খেলায় ৬ পয়েন্ট। শেষ চারের স্বপ্ন নষ্ট হয়েছে গত ম্যাচেই। তাই বিপিএলটা জয় দিয়ে শেষ করতে চান নাফিস। এদিকে খুলনার আশা না থাকলেও শেষ চারে যাওয়ার ভালো সুযোগ অপেক্ষা করছে দশ খেলা শেষে সমানসংখ্যক পয়েন্ট পাওয়া রাজশাহীর সামনে। মুক্তার আলির ৩০ বলে ৪১ রান, শেষ পর্যন্ত দলকে ১৩৮ রানের সম্মানজনক স্কোর এনে দিয়েছে। নইলে দলটি এক পর্যায়ে ৮৪ রানে ছয় উইকেট খুইয়ে বসেছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দুরন্ত রাজশাহী- ২০ ওভারে ১৩৮/৯ (মুক্তার অপ: ৪১, আরভিন ২৩, কাপুগদোরা ১৮, সান্তোকি ৩/১৮, সাঞ্জামুল ২/১৫, নুর ২/২১)।

খুলনা রয়েল বেঙ্গলস- ১৯.২ ওভারে ১৪০/৩ (নাফিস ৭১, মুবারক অপ: ৩০, ব্রিট ২৩, এডমন্ডসন ২/২৯)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহরিয়ার নাফিস।

ফল: খুলনা রয়েল বেঙ্গলস জয়ী ৭ উইকেটে।

Friday, February 8, 2013

আবারও রংপুর রাইডার্সকে হারাল সিলেট রয়্যালস

আবারও রংপুর রাইডার্সকে হারাল সিলেট রয়্যালস


বিপিএলের ১৯তম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল সিলেট রয়্যালস। আজ দ্বিতীয়বারের মতো এই নবাগত দলটিকে হারের স্বাদ দিয়েছে মুশফিকুর রহিমের দল। ১৯৮ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ১ ওভার হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় সিলেট। এই জয় দিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানটা বেশ ভালোমতোই ধরে রাখল তারা।
জয়ের জন্য ১৯৮ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ঝড়োগতিতেই শুরু করেছিলেন সিলেটের দুই বিদেশী ওপেনার শিবনারায়ন চন্দরপল ও পল স্টার্লিং। প্রথম ২৬ বলে তাঁরা যোগ করেছিলেন ৪৮ রান। পঞ্চম ওভারে ২০ রান করে আউট হন স্টার্লিং। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে ঝড়ো ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন চন্দরপল। মাত্র ২৩ বলে তাঁরা সংগ্রহ করেন ৪৫ রান। নবম ওভারের প্রথম বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান চন্দরপল যখন সাজঘরে ফেরেন তখন দলীয় স্কোরবোর্ডে জমা হয়ে গিয়েছিল ৯৩ রান। ২৯ বলে ৫১ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলে আউট হন চন্দরপল। দুই ওভার পরে নাজমুল হক মিলনও সাজঘরে ফিরলে জয়ের আশা খানিকটা কমে যায় সিলেটের। তবে তারপরও দারুণ ব্যাটিং করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ১৬তম ওভারে মুশফিক সাজঘরের পথ ধরলে তীরে এসে তরী ডোবার আশঙ্কায় দুলতে থাকে সিলেট শিবির। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছেন অধিনায়ক মুশফিক। তবে শেষপর্যায়ে মমিনুল হক ও এলটন চিগুম্বুরার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সিলেট। মমিনুল ২৩ ও চিগুম্বুরা ২৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

Wednesday, February 6, 2013

বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ঢাকার

বিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ঢাকার


বিপিএলে প্রথম আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের করা ২০৮ রান ছিল সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। দ্বিতীয় আসরে গ্ল্যাডিয়েটর্সের ব্যাটিং আরও দূর্দান্ত। এরই মধ্যে তারা তিনবার ২’শ ছাড়িয়েছে। গতকাল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স রেকর্ডটাই বদলে দিয়েছে। তাদের চার উইকেটে করা ২১৭ রান শুধু এই আসরে নয়, দুই আসরেরই দলীয় সর্বোচ্চ। এবার খুলনার বিপক্ষে ২০৪/৪ রান, এরপর এই রংপুর বিপক্ষেই তারা করে ২০২/৫ রান। তবে এ আসরে ঢাকার রেকর্ড ভেঙ্গে ২১৩ রান করে দুরন্ত রাজশাহী। ওই ম্যাচে ২০৯ রান করে বরিশাল বার্নার্স। গতকাল ক্রিকেটার আনামুল হক বিজয়ের দ্বিতীয় ফিফটিতে ভর করে ঢাকা ২’শ ছাড়ানো স্কোর গড়ে। বিজয় ৬টি চার ও ৫টি ছয়ের মারে ৮৩ রানে আউট হন। তার সঙ্গে ইনজুরি থেকে ফেরা সাকিব করেন ৪২ রান। সাকিব ২৪ বলে ৪২ রান করে আউট হলেও ২২ বলে ৪২ করে অপরাজিত থাকেন স্টিভেন্স। দু’জনই দু’টি করে ছক্কা হাঁকান।

Tuesday, February 5, 2013

বিপিএলে লড়াইয়ে টিকে থাকল বরিশাল

বিপিএলে লড়াইয়ে টিকে থাকল বরিশাল


পয়েন্ট তালিকার সবচেয়ে নিচের দুইটি দল বরিশাল বার্নার্স ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস আজ মুখোমুখি হয়েছিল একেবারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে। শেষ চারে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়টা খুবই প্রয়োজন ছিল দুই দলেরই। আর এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন বরিশালের ক্রিকেটারেরা। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আজহার মেহমুদের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরমেন্সের ওপর ভর করে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় বরিশাল। বল হাতে ৩ উইকেট শিকারের পর ব্যাট হাতেও ৫২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন আজহার। বরিশালের অধিনায়ক ব্রাড হজ করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান।
আজকের এই হারের ফলে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণটা জটিল হয়ে গেল খুলনার। ৮ ম্যাচ শেষে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে আছে শাহরীয়ার নাফীসের দল। নিজেদের বাকি চারটি ম্যাচে তো জিততেই হবে, সেই সঙ্গে নির্ভর করতে হবে অনেক রকম যদি-কিন্তুর উপর। অন্যদিকে ৮ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনো লড়াইয়ে টিকে থাকার আশা টিকিয়ে রাখল বরিশাল।
জয়ের জন্য ১৪৬ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোভাবে করতে পারেননি খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের ব্যাটসম্যানেরা। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৫ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেছেন জো ডেনলি ও সাব্বির রহমান। তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান আজহার ও ব্রাড হজ। ১৪তম ওভারের শেষ বলে হজ যখন আউট হন তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ১৮ রান। ৪৭ বলে ৬৩ রানের চমৎকার এক অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেছেন হজ।

Thursday, January 31, 2013

রংপুরের প্রতিশোধ

রংপুরের প্রতিশোধ




মাত্র ১২২ রান করেও ৩৩ রানের বড় জয় তুলে নিলো রংপুর রাইডার্স। গতকাল চট্টগ্রামে দিনের দ্বিতীয় খেলায় রংপুর ১২২ রানে গুটিয়ে গেলেও খুলনাকে অলআউট করে দেয় মাত্র ৮৯ রানে। চলতি আসরে এটি সর্বনিম্ন দলীয় রান। অথচ এর আগে এক ম্যাচে খুলনা বিনা উইকেটে ১৯৭ রান তুলে রেকর্ড গড়েছিল। খুলনাকে ধসিয়ে দেয়ার পেছনে রংপুরের ক্যারিবীয় পেসার ফিডের এডওয়ার্ডস মূল ভূমিকা রাখেন। তিনি নেন ১১ রানে চার উইকেট। আর তাকে যোগ্য সহায়তা দেন অধিনায়ক দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। তিনি ৩ উইকেট নেন ২১ রানে। খুলনার শেষ ৬ উইকেট পড়ে ৭৯ থেকে ৮৯ রানে। সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন আসিফ। ১৫ রান করেন ডেভ হ্যারিস ও মিজান। এর আগে রংপুরের পক্ষে কেভিন ও’ব্রায়েন সর্বোচ্চ ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৩ রান করেন ডেভ হায়াত, ২১ রান করে করেন নাসির ও বরগাস। গত শুক্রবার খুলনায় রংপুর রাইডার্স খুলনার ১৫০ রানের জবাবে ১৪১ রান করে হেরে গিয়েছিল। কাল যেন সেই হারের প্রতিশোধ নিলো তারা। পাঁচ খেলায় রংপুরের এটি তৃতীয় জয় আর ৬ খেলায় খুলনার চতুর্থ হার। ম্যাচসেরা হন চার উইকেট নেয়া এডওয়ার্ডস। পুরো ম্যাচে চক্কা হয় দুটি। একটি মারেন রংপুরের বরগাস আর অপরটি খুলনার ওয়েসেলস।

Sunday, January 27, 2013

স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ রংপুর রাইডার্সের

স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ রংপুর রাইডার্সের


নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএলে)’র দ্বিতীয় আসর। তবে প্রথম আসরে শুরু থেকে ফিক্সিং শব্দটি উঠে এসেছিল এবার আড়ালে ছিল এই ভয়াবহ শব্দটি। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। রংপুর রাইডার্সের মালিক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন স্পট ফিক্সিংয়ের। ২৫শে জানুয়ারি খুলনার বিপক্ষে রংপুরের পরাজয়কে তিনি দেখছেন স্পট ফিক্সিং হিসেবেই। ২৫ তারিখ দিবাগত রাতে প্রথম গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান তিনি। আর গতকাল রফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ‘খুলনার বিপক্ষে রংপুর স্পট ফিক্সিংয়ের শিকার হয়েছে। ১২.২ ওভারের সময় ক্যামেরন বরগ্যাসের যে রান আউটটি ছিল সেটি হতে পারে না। কারণ সেই সময় তাকে একজন ফিল্ডার আটকে দিয়েছিলেন। আর আম্পায়ার সেই আউটটি কিভাবে দিয়েছে বোঝাই যায়। শুধু তাই না, ম্যাচ চলাকালে স্কোর বোর্ড অচল হওয়া, কম্পিউটার নষ্ট হওয়া সর্বোপরি চ্যানেল-৯ ম্যাচটি রাতে পুনঃপ্রচার না করায় আমার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। আমি মনে করি এই ফিক্সিংয়ের সঙ্গে আম্পায়ার ও খুলনার কর্মকর্তারা জড়িত। আমি এর মধ্যে বিসিবিকে জানিয়েছি। এখন আইসিসিকেও জানাবো।’ এই বিষয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। এখানে আইসিসির অ্যান্টিকরাপশন টিম (আকসু) আছে তারাও বিষয়টা দেখবেন। আর চ্যানেল নাইন কেন ম্যাচ রিপ্লে করেনি তা ওদের কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।’ শুক্রবার রংপুরের বিপক্ষে আবারও শাহরিয়ার নাফীসের ফিফটিতে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় রংপুরকে। জবাবে নাসির হোসেনের অপরাজিত ৭০ রানও বাঁচাতে পারেনি রংপুর রাইডার্সের দ্বিতীয় হার। আর এখানেই অভিযোগ তুলেছেন রংপুরের মালিক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তিন ম্যাচ হারার পর খুলনা এমন একটি দুর্বল দলকে নিয়ে পর পর দুই ম্যাচ জিতে যায় কিভাবে? আমার সেখানেও সন্দেহ আছে। আমরা ঢাকার বিপক্ষে চেজ করে ১৬৭ করেছি। চিটাগাং কিংস ও বরিশালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছি। আর সেখানে এভাবে হেরে যাওয়া মানতে পারি না। আমি মনে করি এটা প্ল্যান করেই আমাদের হারানো হয়েছে।’
এছাড়াও তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ধামি ভোর পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। কিন্তু চ্যানেল নাইন ঢাকার ম্যাচটি পুনঃপ্রচার করলেও আমাদের ম্যাচটি করেনি। আমার সেখানে কিছুটা ‘কিন্তু’ মনে হয়েছে। কি কারণে তারা এমন করলেন?’ তবে ম্যাচের পুনঃপ্রচারের বিষয়টিকে চ্যানেল-৯ এর একান্ত নিজস্ব বিষয় বলেই উল্লেখ করেন মল্লিক। তিনি বলেন, ‘ধামরা তো ব্রডকাস্টার না। তারা কোন ম্যাচ কখন দেখাবেন সেটা তাদের বিষয়।’ এছাড়াও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে মল্লিক বলেন, ‘আমরা ফিক্সিং রোধে আইসিসির এন্টি করাপশন টিম আকসুকে ৩ কোটি টাকা খরচ করে বিপিএলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছি। আশা করি বিষয়টি আকসু ভালভাবে অনুসন্ধান করবে। আর তাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে, ইচ্ছা করলে তারা যত বার ইচ্ছা সেই ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আর রংপুর রাইডর্সের মালিকপক্ষও যে কোন সময় সেই ম্যাচের ফুটেজ সংগ্রহ করতে পারবেন।’ রংপুর রাইডার্সের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি জানি এই অভিযোগের কারণে আমি ও আমার দল আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারে। যদি ভুল প্রমাণ হয়। তবুও আমি চাই বিপিএল হোক স্বচ্ছ একটি আসর। কারণ আমার দেশকে আমি ভালবাসি। আর দেশের সবকিছু ভাল হোক তা আমি চাই। অন্যদিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খুলনা রয়েল বেঙ্গলের ম্যানেজারকে অনেকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। আর তাই বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনার কোন প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি।

Friday, January 25, 2013

দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী: শাহরিয়ার

দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী: শাহরিয়ার


৫০ বলে ৫৩ রান। আর আগের ম্যাচে ১০২ রানে অপরাজিত। শাহরিয়ার নাফীসকে এখন বিপিএলের আইডল বলা যেতেই পারে। নাফীসের ব্যাটে ভর দিয়ে আজ খুলনা নিজেদের ৫ম মাচে ৯ রানে জয় তুলেছে। পর পর দুই ম্যাচে নাফীসের ব্যাটে
চড়ে খুলনা জয়ের ধারায়।

ম্যাচ শেষে তাই নাফীসকে ঘীরেই সকলের আগ্রহ। যাকে কিনা জাতী দল থেকে বাদ রাখা হয়েছে। সেই নাফীস আজ তার খুলনা দল সম্পকে বলেন, “তিন ম্যাচে হেরে যাবার পর টানা দুই ম্যাচে জিতে আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। দল এখন অনেক
আত্মবিশ্বাসী। তিন ম্যাচে হারের পর জয় নিয়ে তো রীতিমতো সন্দেহ ছিল। এখন আমরা জানি আমরা কি পারি। আরো সাতটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করছি জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে সেমি ফাইনাল খেলতে পারব।”

বিপিএলে হারের স্বাদ পেল ঢাকা

বিপিএলে হারের স্বাদ পেল ঢাকা


ঘড়িতে সময় তখন পাঁচটা চার মিনিট। সিলেটের ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন মিলন ঢাকার অলরাউন্ডার সাকিবের বলে ছক্কা মারলে ঢাকার হার নিশ্চিত হয়ে যায়।

খুলনা স্টেডিয়ামের দক্ষিণ দিকে মুল ভবনের দিকে মাঠে বসা সিলেটের অন্য ক্রিকেটাররা মুহূর্তেই মাঠে দৌঁড়ে প্রবেশ করল। তাদের শারিরীক ভঙ্গি বলে দিচ্ছিল ঢাকাকে হারানোটা সিলেটের জন্য কত বড় প্রাপ্তি। ১৫৩ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে আট বল হাতে রেখে সাত উইকেটে জয়! তারও আবার ঢাকার মতো দলের বিপক্ষে! আনন্দতো হবে।

প্রথম তিন ম্যাচে টানা টস জিতেছে ঢাকার মাশরাফি। তিন ম্যাচে জিতে আজ ৪র্থ ম্যাচে মুশফিকের সিলেটের বিপক্ষে খুলনার উইকেটে জয়ের দেখা পেল না ঢাকা।
বিপিএলে এই প্রথম ঢাকা হারের স্বাদ গ্রহণ করেছে।

আর জয়টা অভ্যাসে পরিণত করল মুশফিকের সিলেট রয়েলস। যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকার পর্ব শেষ হল আজ। বোলার-ব্যাটিং কোনো বিভাগেই তারকা সমৃদ্ধ কাগজে কলমে শক্তিশালী দল
ঢাকাকে পাত্তা দেয়নি সিলেট রয়েলস।

পয়েন্ট টেবিলের কথা চিন্তা করলে আর পারফরমেন্স আমলে আনলে, প্রশ্ন উঠতে বাধ্য শক্তির বিচারে আসলে কোন দল এগিয়ে আছে? মাশারাফির ঢাকা নাকি মুশফিকুরের সিলেট? সেই প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্য অবশ্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না ক্রিকেটপ্রেমিদের। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের ১৩তম ম্যাচেই দেখা হয়ে গেল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলের।

যতোটা কঠিন লড়াই হবে মনে হয়েছে ততোটা হল না। টস জিতে ঢাকা গ্লাডিয়েটরস আগেই ব্যাট হাতে তুলে নিলেও সিলেটের বোলারদের বিপক্ষে আহামরি কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। যে কারণে ২০ ওভারে তারকা সমৃদ্ধ ঢাকার নামের পাশে জমা হয়েছে আট উইকেটে ১৫২ রান! সাকিব, মাশরাফি, মোশারফ রুবেল, আশরাফুল, সাকলাইন সজিব কেউ সিলেটের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। বিশেষ করে সাকিব ৩.৪ ওভারে দেন ৪৩ রান!

নিজেদের সেরা প্রমাণের মিশনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নিয়ে ঢাকারঅধিনায়ক মাশরাফি খুব একটা সুবিধা করতে পারলেন না। টস-এর সাফল্যটা ঢাকার ভাগ্যে জুটলেও বল হাতে উইকেট শিকারের আনন্দটা খুব দ্রুতই আদায় করেছে সিলেট। ইংল্যান্ডের ওপেনার লুক রাইটকে দ্রুত সাঁজঘরের পথ দেখিয়ে সিলেটের সাফল্যের পর্বটা শুরু করেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডার্ক ন্যানেস। আগের
ম্যাচে ৫১ রান করা রাইট এই ম্যাচে যোগ করলেন মাত্র পাঁচ রান।

শুরুতে উইকেট হারানোর ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে দ্বিতীয় উইকেটে মারমুখি স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও এনামুল হক বিজয়। খুব বেশি মারমুখী না হলেও স্কোর বোর্ডে ঠিকই রান জমা করতে থাকেন দুই জনেই। কিন্তু রান তোলার গতিটা বাড়াতে গিয়ে এই জুটির অপমৃত্যু ডেকে আনলেন এনামুল। ক্যাচ তুলে বিদায় নেবার আগে করলেন ২৩ বলে ৩০ রান।

এনামুল ফিরে গেলেও অন্যপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন আশরাফুল। সঙ্গী হিসেবে পেলেন ইংল্যান্ডের ওয়াইজ শাহকে। তবে শাহ’র সঙ্গে জুটি জমাতে পারলেন না আশরাফুল। বাঁহাতি স্পিনার মমিনুল হককে ছক্কার হাঁকানোর পরের বলেই বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে জায়গা করে নেন অ্যাশ।

আশরাফুলকে হারানোর পর পরই ঢাকা হারিয়েছে ওয়াউজ শাহকে। এবার মাত্র ১০ রান করে আউট হন তিনি। দুই সেরা ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে যখন ঘুড়ে দাঁড়ানোর টার্গেট নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঢাকা ঠিক তখনই প্রতিপক্ষের পথে বাধা হয়ে দাড়ান আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। ইংল্যান্ডের জোসুয়া কব ও বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন নবী। আর তাতেই ঢাকার বড় সংগ্রহের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকার তখন স্কোর ছয় উইকেটে ১১৩ রান। তবে শেষদিকে ইংল্যান্ডের ড্যারেন স্টিভেন মাঝারি আকারের বিধ্বংসী ইনিংসে আট উইকেটে ১৫৩ রান করতে সমর্থ হয় ঢাকা। কটি চার ও দুটিটি ছক্কায় ১৩ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন স্টিভেনস। সিলেটের পক্ষে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন ডার্ক ন্যানেস ও মোহাম্মদ নবী।

১৫৩ রানের টার্গেট নিয়ে যে সিলেট খুব একটা চিন্তা করেনি তা তো সিলেটের ব্যাটিং দেখেই বোঝা গেছে। তবে ওপেনার মাসাকাদজা দলের দুই রানে থমাসের বলে ক্যাচ দিলে শুরুতে একটা ধাক্কা খায় সিলেট। আর দ্বিতীয় উইকেটে দলীয় ১২৩ রানে আরন নিজের ১৮ রানে ওয়ান ডাউনে নামা স্টির্লিং সেই থমাসের বলে বোল্ড হলে মনে হয়েছিল আজ বুঝি ঢাকা টানা ৪র্থ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে।

কিন্তু তৃতীয় উইকেটে জুটিতে মমিনুল আর মুশফিক জুটি দলের স্কোর ১০২ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যোগ করলেন ৭৯ রান। তাতেই মূলত ঢাকার জয়ের প্রদীপ নিভে গেল। সাকলাইন সজিবের বলে ৩৫ বলে ৩৭ রানে মমিনুল ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন। তখন সিলেটের টানা ৪র্থ জয় পেতে ৪৩ বলে সাত উইকেটে দরকার ৫১ রান। টি-২০ ম্যাচে যা কিনা ডাল-ভাতের মতোই বিষয়।

অন্য কোনো পরিস্থিতি হতে দেননি মুশফিক আর নাজমুল হোসেন মিলন। মুশফিক যখন ফিফটি পূরন করার পর সিলেট ১৭ ওভার শেষে ১৩১ রানে পা রেখেছে। ৭ উইকেটে ১৮ বলে ২২ রান দরকার। মামুলি একটি হিসাব যাকে বলে। ১৮.৪ ওভারে তিন উইকেটই জমা হয় ১৫৭ রান।

Monday, January 21, 2013

ওডিআই র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠল ভারত

ওডিআই র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠল ভারত


মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে আবারো র্যাং কিংয়ের শীর্ষে ফিরল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তার নেতৃত্বেই টেস্ট র্যাং কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল ভারত। একই নেতার হাত ধরে এবার ওডিআই র্যাং কিংয়েরও শীর্ষে উঠল তারা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি ওডিআই সিরিজের তৃতীয়টিতে ধোনির নিজের শহর রাঁচিতে সাত উইকেটের জয়ের আগে কোচিতে ১২৭ রানের জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ওডিআই র্যাং কিংয়ে ১১৯ পয়েন্ট অর্জন করে। র্যাং কিংয়ের দুই নম্বর স্থানে নেমে যাওয়া ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ১১৮।

সিরিজ শুরুর আগেও দুই দলের মধ্যে র্যাং কিংয়ের শীর্ষে ওঠার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিল। ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ শুরুর আগে দক্ষিণ আফ্রিকানরা ছিল শীর্ষে। দুই নম্বর স্থানে থাকা বৃটিশদের পেছনে তিন নম্বরে ছিল ভারত।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে রাজকোটে ভারতকে হারিয়ে ওডিআই র্যাং কিংয়ের শীর্ষে ওঠে ইংল্যান্ড। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকানদের পরাজয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুটো জয়ে ভারত উঠে যায় শীর্ষে।

উল্লেখ্য যে, শ্রীলংকার মাটিতে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত তিনজাতি টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে কিছুদিনের জন্য ওডিআই রর্যাং কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল ভারত। ধোনিদের সমর্থকরা চাইছেন, এবার যেন এই স্থানটা কিছুদিনের জন্য তাদের দখলে থাকে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Sunday, January 20, 2013

আইসিসির সভায় মাথা উচু করে কথা বলতে পারব: পাপন

আইসিসির সভায় মাথা উচু করে কথা বলতে পারব: পাপন


বাংলাদেশ ক্রিকেট রোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, “পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা না আসলেও বিপিএল সফলভাবে এগিয়ে চলছে।তাই আইসিসি মিটিংয়ে মাথা উচু করে কথা বলতে পারব।”

রোববার বিকেলে বরিশাল আর খুলনার ম্যাচ চলাকালে প্রেস বক্সে এসে বিসিবি সভাপতি একথা বলেন।

এদিকে বিপিএলের আয়োজক স্বত্ব কেনা গেম অন স্পোটর্সের চেয়ারম্যান এনায়েতুর রহমান বাপ্পি বলেলেন বিপিএলের টিকিটের দাম কমানোর কথা।

পাপন বলেন, “৮-১০ বছর হল আমরা ভারতের খেলতে যাই না। এটা তো হতে পারে না। এক তরফা কিছু হতে পারে না। এ বছরের মধ্যেই আমি ভারতের খেলতে যাবার বিষয়টিচ চূড়ান্ত করব। এভাবে চলতে পারে না।”

তিনি বলেন, “২৭,২৮ ও ২৯ জানুয়ারি দুবাইতে আইসিসির মিটিংয় আছে। তাতে আমি এবার অনেক কিছুই বলব। পাকিস্তানের সামনে মাথা নিচু করে কথা বলার সময় শেষ। আর তাছাড়া আমরা তো আগের জায়গাতে নেই। আমাদের ক্রিকেট তো এখন একটা লেভেলে অবস্থান করছি। বিপিএল নিয়ে চিন্তা ছিল সেটা আর নেই। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলতে এখন বিসিবি চিন্তা করবে না।”

বাপ্পি বলেন, “আমি তো টিকেট বিক্রি করে দিয়েছি। তারপরও বিশেষ বিবেচনায় বিপিএলকে সফল করতে দাম আরো কমানো ঘোষণা আজই দেব। বিপিএল যে পাকিস্তানি ক্রিকেটার ছাড়া এতোটা সফল হবে আমি ভাবতে পারিনি।”

Saturday, January 19, 2013

সহজ জয়ে এগিয়ে গেল ভারত

সহজ জয়ে এগিয়ে গেল ভারত


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে স্বাগতিক ভারত। মাত্র ১৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বিরাট কোহলির দুর্দান্ত ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে ২২ ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ধোনি বাহিনী। অনায়াস এই জয় দিয়ে এখন পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ভারত।
জয়ের জন্য ১৫৬ রানের লক্ষ্যে পৌছাতে তেমন কোন কষ্টই করতে হয়নি ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। তৃতীয় ওভারে ওপেনার আজিনকা রেহানের উইকেট হারিয়ে শুরুটা ভালোভাবে করতে না পারলেও চমত্কার ব্যাটিং করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে গেছেন বিরাট কোহলি। দ্বিতীয় উইকেটে গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়ে জয়টা নাগালের মধ্যে নিয়ে আসেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দলীয় ৭৮ রানের মাথায় গম্ভীর সাজঘরে ফেরার পর যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন কোহলি। তৃতীয় উইকেটের এই জুটি থেকে আসে ৬৬ রান। জয়ের জন্য যখন আর ১২ রান প্রয়োজন, সেসময় সাজঘরমুখী হন যুবরাজ সিং। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। ৭৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন কোহলি।
এর আগে আজকের ম্যাচ টস জিতেছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিই। টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়ার অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সম্মান দিতেই যেন যার যার মতো জ্বলে উঠলেন ভারতীয় বোলাররা। ভুবনেশ্বর কুমার, সামি আহমেদ, ইশান্ত শর্মা, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, সুরেশ রায়না—ব্যবহূত ছয় বোলারই ত্রাস হয়ে উঠলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের জন্য। সবাইকে ছাপিয়ে অবশ্য ইংলিশদের জন্য একটু বেশিই ভয়ংকর হয়ে উঠলেন রবীন্দ্র জাদেজা। অসাধারণ বোলিংয়ে ১৯ রানের বিনিময়ে জাদেজার তুলে নেওয়া ৩টি উইকেটই মূলত ইংলিশদের মেরুদণ্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। জাদেজার ৩ উইকেটের পাশাপাশি ইশান্ত শর্মা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন—উভয়ের দুটি করে উইকেট ইংলিশদের আর মাথা তুলতে দেয়নি। নিজেদের মধ্যে এই তিন বোলার ভাগাভাগি করেন সাতটি উࢇে। ঠকী তিনটর উঃকেट ঝুলিতে पো৐ࣇন বࣁবনেশ্বর কুমার, সাঢ আমেআ ও সুরেশ ࠰া৓নাत0/div>
ব্যাটিয়ে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয়েছিল বেশ ধীরগতির। দলীয় ২৪ রানে প্রথম উইকেটের পতনের পর কেভিন পিটারসেন ও ইয়ান বেল ইনিংস মেরামত শুরু করেছিলেন। কিন্তু ইশান্ত শর্মার বলে উইকেটের পেছনে ধোনির বিতর্কিত এক ক্যাচে পরিণত হন তিনি। পিটারসেন আউট হওয়ার পর ইয়ান বেলও প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন স্কোরবোর্ডকে ওই চেহারায় রেখেই।
কুক, পিটারসেন ও বেলের বিদায়ের পরপরই আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয় ইংলিশ শিবিরে। জো রুটের ব্যাট থেকে এসময় ৩৯ রান আর টিম ব্রেসনান ২৫ রানের এক ইনিংস না খেললে ইংলিশদের স্কোর শতরানের কোটাও পার হয় না। মিডল অর্ডারে ক্রেইগ কিসওয়েটার ও সামিত প্যাটেল শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে আরও বেড়ে যায় ইংলিশদের দুঃস্বপ্নের মাত্রা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড ১৫৫ (৪২.২ ওভার)
জো রুট ৩৯, পিটারসেন ২৫, ব্রেসনান ২৫
রবীন্দ্র জাদেজা ৩/১৯, ইশান্ত শর্মা ২/২৯. অশ্বিন ২/৩৭
ভারত ১৫৭/৩ (২৮.১ ওভার)
বিরাট কোহলি ৭৭*, যুবরাজ সিং ৩০, গৌতম গম্ভীর ৩৩
জেমস ট্রেডওয়েল ২/২৯, স্টিভেন ফিন ১/৫০

Friday, January 11, 2013

শচীন পুত্রের উত্থান!

শচীন পুত্রের উত্থান!

ভারতের ক্রিকেট দেবতা শচীন টেন্ডুলকারের ছেলে অর্জুন টেন্ডুলকার পশ্চিমাঞ্চলের অনূর্ধ্ব ১৪ ক্রিকেট লিগের জন্য মুম্বাই দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই লিগটি জানুয়ারির মাসের ২০ তারিখে শুরু হয়ে চলবে ফেব্রুয়ারির এক তারিখ পর্যন্ত।

গত ২০১২ সালের জুনে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির পরেই তিনি মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি কাড়েন। এবং মৌসুম বিরতির সময়ে ট্রেনিং ক্যাম্পের জন্য নির্বাচিত খেলোয়াড়দের মধ্যে দলভুক্ত হন। বিখ্যাত পিতার সন্তান অর্জুন তার বাবার মত ডানহাতি খেলোয়াড় না হলেও এরই মধ্যে শুরু করেছেন আলো ছড়াতে। ২০১১ সালের জুনে পুনেতে অনুষ্ঠিত ক্যাডেন্স কাপে অভিসিক্ত অর্জুন তখন থেকেই আসতে থাকেন খবরে। এই টুর্নামেন্টের এবারের আসরে পিসিএমসি ভেংসরকার সি'র বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ৩৯ বলে করেন ৬৫।