Pages

Friday, January 25, 2013

বিপিএলে হারের স্বাদ পেল ঢাকা

বিপিএলে হারের স্বাদ পেল ঢাকা


ঘড়িতে সময় তখন পাঁচটা চার মিনিট। সিলেটের ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন মিলন ঢাকার অলরাউন্ডার সাকিবের বলে ছক্কা মারলে ঢাকার হার নিশ্চিত হয়ে যায়।

খুলনা স্টেডিয়ামের দক্ষিণ দিকে মুল ভবনের দিকে মাঠে বসা সিলেটের অন্য ক্রিকেটাররা মুহূর্তেই মাঠে দৌঁড়ে প্রবেশ করল। তাদের শারিরীক ভঙ্গি বলে দিচ্ছিল ঢাকাকে হারানোটা সিলেটের জন্য কত বড় প্রাপ্তি। ১৫৩ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে আট বল হাতে রেখে সাত উইকেটে জয়! তারও আবার ঢাকার মতো দলের বিপক্ষে! আনন্দতো হবে।

প্রথম তিন ম্যাচে টানা টস জিতেছে ঢাকার মাশরাফি। তিন ম্যাচে জিতে আজ ৪র্থ ম্যাচে মুশফিকের সিলেটের বিপক্ষে খুলনার উইকেটে জয়ের দেখা পেল না ঢাকা।
বিপিএলে এই প্রথম ঢাকা হারের স্বাদ গ্রহণ করেছে।

আর জয়টা অভ্যাসে পরিণত করল মুশফিকের সিলেট রয়েলস। যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকার পর্ব শেষ হল আজ। বোলার-ব্যাটিং কোনো বিভাগেই তারকা সমৃদ্ধ কাগজে কলমে শক্তিশালী দল
ঢাকাকে পাত্তা দেয়নি সিলেট রয়েলস।

পয়েন্ট টেবিলের কথা চিন্তা করলে আর পারফরমেন্স আমলে আনলে, প্রশ্ন উঠতে বাধ্য শক্তির বিচারে আসলে কোন দল এগিয়ে আছে? মাশারাফির ঢাকা নাকি মুশফিকুরের সিলেট? সেই প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্য অবশ্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না ক্রিকেটপ্রেমিদের। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের ১৩তম ম্যাচেই দেখা হয়ে গেল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলের।

যতোটা কঠিন লড়াই হবে মনে হয়েছে ততোটা হল না। টস জিতে ঢাকা গ্লাডিয়েটরস আগেই ব্যাট হাতে তুলে নিলেও সিলেটের বোলারদের বিপক্ষে আহামরি কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। যে কারণে ২০ ওভারে তারকা সমৃদ্ধ ঢাকার নামের পাশে জমা হয়েছে আট উইকেটে ১৫২ রান! সাকিব, মাশরাফি, মোশারফ রুবেল, আশরাফুল, সাকলাইন সজিব কেউ সিলেটের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। বিশেষ করে সাকিব ৩.৪ ওভারে দেন ৪৩ রান!

নিজেদের সেরা প্রমাণের মিশনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নিয়ে ঢাকারঅধিনায়ক মাশরাফি খুব একটা সুবিধা করতে পারলেন না। টস-এর সাফল্যটা ঢাকার ভাগ্যে জুটলেও বল হাতে উইকেট শিকারের আনন্দটা খুব দ্রুতই আদায় করেছে সিলেট। ইংল্যান্ডের ওপেনার লুক রাইটকে দ্রুত সাঁজঘরের পথ দেখিয়ে সিলেটের সাফল্যের পর্বটা শুরু করেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডার্ক ন্যানেস। আগের
ম্যাচে ৫১ রান করা রাইট এই ম্যাচে যোগ করলেন মাত্র পাঁচ রান।

শুরুতে উইকেট হারানোর ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে দ্বিতীয় উইকেটে মারমুখি স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও এনামুল হক বিজয়। খুব বেশি মারমুখী না হলেও স্কোর বোর্ডে ঠিকই রান জমা করতে থাকেন দুই জনেই। কিন্তু রান তোলার গতিটা বাড়াতে গিয়ে এই জুটির অপমৃত্যু ডেকে আনলেন এনামুল। ক্যাচ তুলে বিদায় নেবার আগে করলেন ২৩ বলে ৩০ রান।

এনামুল ফিরে গেলেও অন্যপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন আশরাফুল। সঙ্গী হিসেবে পেলেন ইংল্যান্ডের ওয়াইজ শাহকে। তবে শাহ’র সঙ্গে জুটি জমাতে পারলেন না আশরাফুল। বাঁহাতি স্পিনার মমিনুল হককে ছক্কার হাঁকানোর পরের বলেই বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে জায়গা করে নেন অ্যাশ।

আশরাফুলকে হারানোর পর পরই ঢাকা হারিয়েছে ওয়াউজ শাহকে। এবার মাত্র ১০ রান করে আউট হন তিনি। দুই সেরা ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে যখন ঘুড়ে দাঁড়ানোর টার্গেট নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঢাকা ঠিক তখনই প্রতিপক্ষের পথে বাধা হয়ে দাড়ান আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। ইংল্যান্ডের জোসুয়া কব ও বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন নবী। আর তাতেই ঢাকার বড় সংগ্রহের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকার তখন স্কোর ছয় উইকেটে ১১৩ রান। তবে শেষদিকে ইংল্যান্ডের ড্যারেন স্টিভেন মাঝারি আকারের বিধ্বংসী ইনিংসে আট উইকেটে ১৫৩ রান করতে সমর্থ হয় ঢাকা। কটি চার ও দুটিটি ছক্কায় ১৩ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন স্টিভেনস। সিলেটের পক্ষে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন ডার্ক ন্যানেস ও মোহাম্মদ নবী।

১৫৩ রানের টার্গেট নিয়ে যে সিলেট খুব একটা চিন্তা করেনি তা তো সিলেটের ব্যাটিং দেখেই বোঝা গেছে। তবে ওপেনার মাসাকাদজা দলের দুই রানে থমাসের বলে ক্যাচ দিলে শুরুতে একটা ধাক্কা খায় সিলেট। আর দ্বিতীয় উইকেটে দলীয় ১২৩ রানে আরন নিজের ১৮ রানে ওয়ান ডাউনে নামা স্টির্লিং সেই থমাসের বলে বোল্ড হলে মনে হয়েছিল আজ বুঝি ঢাকা টানা ৪র্থ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে।

কিন্তু তৃতীয় উইকেটে জুটিতে মমিনুল আর মুশফিক জুটি দলের স্কোর ১০২ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যোগ করলেন ৭৯ রান। তাতেই মূলত ঢাকার জয়ের প্রদীপ নিভে গেল। সাকলাইন সজিবের বলে ৩৫ বলে ৩৭ রানে মমিনুল ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন। তখন সিলেটের টানা ৪র্থ জয় পেতে ৪৩ বলে সাত উইকেটে দরকার ৫১ রান। টি-২০ ম্যাচে যা কিনা ডাল-ভাতের মতোই বিষয়।

অন্য কোনো পরিস্থিতি হতে দেননি মুশফিক আর নাজমুল হোসেন মিলন। মুশফিক যখন ফিফটি পূরন করার পর সিলেট ১৭ ওভার শেষে ১৩১ রানে পা রেখেছে। ৭ উইকেটে ১৮ বলে ২২ রান দরকার। মামুলি একটি হিসাব যাকে বলে। ১৮.৪ ওভারে তিন উইকেটই জমা হয় ১৫৭ রান।

No comments:

Post a Comment