Pages

Showing posts with label BCB. Show all posts
Showing posts with label BCB. Show all posts

Friday, March 8, 2013

নতুনদিনের আশায় বাংলাদেশ

নতুনদিনের আশায় বাংলাদেশ


আজ গলে যে সূর্য উঠবে; অনেক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হবে সে। এই স্টেডিয়ামে আজ প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ, এই স্টেডিয়াম থেকে আজ যাত্রা শুরু হবে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের যুগ, এই স্টেডিয়ামে আজ অভিষেক হবে দু'দলের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের। তবে এসব 'নতুন' নিয়ে খুব ভাবনায় থাকার কথা নয় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। আজ তাদের একটাই ভাবনা থাকার কথা—গল স্টেডিয়ামের নতুন এই পর্বে শ্রীলঙ্কা দলটির বিপক্ষে সব অবমাননার স্মৃতি ভুলে আজ নতুন করে শুরু করতে হবে।

এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের স্মৃতি একটু হলেও ইতিহাস বদলানোর অনুপ্রেরণা যোগাবে বাংলাদেশকে। সেই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সেরা বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিও সাহস যোগাবে বাংলাদেশকে। আর শ্রীলঙ্কার জন্য চ্যালেঞ্জ—বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রবল প্রতাপের ইতিহাস ধরে রেখে নতুন যুগের শুরু করা।

বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছে। অন্তত ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত দলের অধিনায়ক পরিষ্কার বলছেন, এবার তাদের লক্ষ্য অতীত রেকর্ডের পরিবর্তন ঘটানো। সেটা শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বলে নয়; টেস্টে ক্রিকেটে নিজেদের সামগ্রিক যে রেকর্ড সেটাই উন্নত করার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলছিলেন, ম্যাচের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখার পর শেষ দু'দিন এসে লড়াই থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারটাই বদলাতে চান তারা। বদলাটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খুবই জরুরি। বড় টেস্ট দল বলতে যাদের বোঝায়; তাদের কারোরই পূর্ণ শক্তির দলের বিপক্ষে জয় নেই বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খর্ব শক্তির দলের বিপক্ষে জয় আছে; ড্র আছে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে। বাকি দলগুলোর বিপক্ষেও আর কিছু না হোক, লড়াই করে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে হারের সান্ত্বনাটা অন্তত আছে। শুধু এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই বাংলাদেশের দুঃখ আর অবমাননা ছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে আর কোনো স্মৃতি নেই।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ পর্যন্ত ১২টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। বলাই বাহুল্য যে, সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৭টি ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হার। বাকি ৫টি ম্যাচে যথাক্রমে ২৮৮ রান, ৮ উইকেট, ১০ উইকেট, ১০৭ রান এবং ৪৬৫ রানের পরাজয়! এই পরিসংখ্যানই বোঝাতে পারে যে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কেমন অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় বাংলাদেশকে। এবার সেই চিত্রটাই বদলাতে চায় বাংলাদেশ।

এই চিত্র বদলানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ইনজুরির সঙ্গে লড়াই। ইনজুরি আগেই দল থেকে কেড়ে নিয়েছে সাবেক অধিনায়ক, দেশের সেরা ক্রিকেটার এবং পৃথিবীর অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। এ ছাড়া ইনফর্ম ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম, শাহরিয়ার নাফীস, এনামুল হক জুনিয়রও আগেই ছিটকে গেছেন ইনজুরিতে। সমস্যা চলছে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পরও। তামিম ইকবালের ইনজুরির ফলে তার খেলা নিয়ে সংশয় আছে। সংশয় আছে পেসার আবুল হোসেনের খেলা নিয়েও।

এসব অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে বাংলাদেশের তারুণ্যনির্ভর দল প্রায় 'কিশোর দল'-এ পরিণত হতে যাচ্ছে। দলে মোমিনুল হকের টেস্ট অভিষেক এক রকম নিশ্চিত। শ্রীলঙ্কা থেকে দলের একটা সূত্র জানালো, প্রায় নিশ্চিত মোহাম্মদ আশরাফুলেরও দলে ফেরা। একটু অনিশ্চয়তা আছে এনামুল হক বিজয়ের টেস্ট অভিষেক নিয়ে। বিজয় নাকি জহুরুল; কে ইনিংস শুরু করবেন তামিমের সঙ্গে এ নিয়ে সংশয় আছে। সংশয় আছে আসলে তিন ওপেনারকে নিয়েই।

এসব সংশয় নিয়ে অবশ্য বেশি একটা ভাবতে রাজি নন অধিনায়ক মুশফিক। তার মতে, এখন যে দল তিনি হাতে পাচ্ছেন; সেটিও পিছিয়ে নেই। ইনফর্ম খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দল নিয়ে টানা পাঁচদিন লড়াই ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি, 'আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও চারদিন খুব ভালো খেলে শেষ দিনে ম্যাচ হেরেছি। ফলে শুধু ভালো শুরু বা একটা-দুটো সেশন ভালো করাটা লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য পাঁচদিন ধরে ভালো খেলা ধরে রাখা। সে ক্ষেত্রে আমরা ভালো ফল আশা করতেই পারি।'

স্বপ্ন পূরণের পথে বিজয়

স্বপ্ন পূরণের পথে বিজয়


দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই অভিষেক। শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতোই। পাঁচ ম্যাচে এক সেঞ্চুরিসহ করেছেন ১৯৫ রান। তবে আনামুল হক বিজয়ের আসল লক্ষ্য টেস্ট ক্রিকেট। আজ শুরু হতে যাওয়া গল টেস্টের আগে এমনটাই জানালেন এই বাংলাদেশি ওপেনার। আর সব ঠিক থাকলে বাংলাদেশের হয়ে আজ টেস্ট অভিষেক হতে যাচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের এই সাবেক অধিনায়কের; স্বপ্ন পূরণ হবে বিজয়ের।

'আমি বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছি। তবে এর পরেও টেস্ট ক্রিকেটই আমার প্রধান লক্ষ্য। যদি সুযোগ পাই তাহলে টেস্ট ক্রিকেট হবে আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।'—বিজয় জানিয়ে দিলেন নিজের স্বপ্নের কথা।

শ্রীলংকার মাটিটাও খুব অপরিচিত নয় বিজয়ের। এর আগে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে খেলে গেছেন এই দেশে; খেলেছেন তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও। তাই কন্ডিশনটা বেশ পরিচিত এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের। তাই আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়লো তার কণ্ঠে, 'অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে আমি এখানে খেলে গেছি। কয়েকটি হাফ সেঞ্চুরিও ছিল। এখানে আমি যতোটুকু খেলার সুযোগ পেয়েছি তার সবটাই ছিল স্পোর্টিং পিচে। প্র্যাকটিস উইকেটও খুব ভালো ছিল। এখানকার আবহাওয়া কিছুটা গরম হলেও আমি সময়টা বেশ উপভোগ করছি।' দলের প্রস্তুতির ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে বিজয় শোনালেন নিজের সন্তোষের কথা, 'আমার মতে শ্রীলংকা ইমার্জিং স্কোয়াডের বিপক্ষে দলের প্রস্তুতি বেশ ভালোই হয়েছে। তবে আমার পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। এরপর নেটে আমি অনেক সময় দিয়েছি এবং নিজের সমস্যা কাটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছি। কয়েকটা ব্যাপার নিয়ে আমি কাজ করেছি এবং এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী।' অভিষেক ম্যাচ; নার্ভাসনেস কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এনামুল জানালেন ভিন্ন কথা। দলের সবাই সাহায্য করছেন বিজয়কে নির্ভার রাখতে। বিজয় বলেন, 'মমিনুল হক, রাজু'র (আবুল হাসান) সাথে আমি অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলেছি। সোহাগ গাজী আর আমরা তিনজন একসাথে খেলেছি একাডেমি দলে। তাই তাদের সাথে সম্পর্কটা আগে থেকেই ভালো। আর দলের সিনিয়ররা, টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই অনেক সহযোগিতা করে। সব মিলিয়ে আমি নির্ভার আছি।'

বিজয়ের নির্ভার থাকাটা আজ বাংলাদেশের জন্যও খুব দরকার!

Friday, March 1, 2013

সিরিজ জিততে প্রত্যয়ী মাহমুদুল্লাহ

সিরিজ জিততে প্রত্যয়ী মাহমুদুল্লাহ


শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২ টেস্টে বাংলাদেশের সমান ১২ হার। আর তাদের বিপক্ষেই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশ ছাড়ার আগে এমই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। তবে প্রত্যাশার পেছনে যুক্তিও দেখাচ্ছেন মাহমুদুল্লাহ। প্রতিপক্ষ দলে লঙ্কান তারকা ব্যাটসম্যানদের অনুপস্থিতি দেখে বাড়তি আশাবাদ বাংলাদেশ দলের সেকেন্ড চিফ-এর। বলেন, ‘লঙ্কান দলের কয়েক জন তারকা ব্যাটসম্যান এবার দলে নেই। দলটিতে অনেক নতুন ক্রিকেটার। তাই সিরিজ জয়ের আশা করতে পারি।’ তবে বাস্তবতা ভিন্ন এখানেও। বাংলাদেশ দলেও বয়ে চলেছে ইনজুরি ঝড়। এতে এরই মধ্যে ঝরে পড়েছেন চার সেরা ক্রিকেটার সাকিব, নাইম, এনামুল ও নাফীস। এছাড়াও ইনজুরির ভোগান্তিতে আছেন দলের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালও। মাহমুদুল্লাহর স্বপ্ন পূরণ আপাতত দেখার বিষয়। গতকাল দুপুর ১২টায় হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে রওনা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিহিন লঙ্কান এয়ারলাইন্সে বাংলাদেশ দল সরাসরি কলম্বো পৌঁছে বিকাল ৪টায়। ইনজুরি নিয়ে কোচ ও অধিনায়ক চিন্তিত হলেও আশা করছেন শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ খেলা উপহার দেবে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এ সফরে একটি অনুশীলন ম্যাচ, ২টি টেস্ট, ৩টি ওয়ানডে ও এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। ৩রা মার্চ অনুশীলন ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা মিশন। এরপর ৮ই মার্চ শুরু হবে টেস্ট সিরিজ। এই মিশনে দলের প্রধান কোচ হিসেবে বড় চ্যালেঞ্জ শেন জার্গেনসনের। তবে ইনজুরি সমস্যা থাকলেও দল নিয়ে আশাবাদী কোচ বিমানে ওড়ার আগে শিষ্যদের শুনিয়েছেন আলাদা মন্ত্র। এর আগে শিষ্যদের জার্গেনসন বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে বিমানে চড়ে বসার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মধ্যে একটি দল হিসেবে পারফরম করার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে।’ শাহরিয়ার নাফিসের দুর্ঘটনায় দলে সুযোগ হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের। আর অধিনায়াক মুশফিকের নেতৃত্বে অভিজ্ঞদের সঙ্গে আছেন তরুণ ক্রিকেটার, সোহাগ গাজী ও আনামুল হক বিজয়। এছাড়াও আছেন টেস্ট দলে একেবারে নতুন মুখ তরুণ ক্রিকেটার মমিনুল হক সৌরভ ও মার্শাল আইউব। তবে দলের সহ-অধিনায়কও তরুণদের ওপর ভীষণ আস্থা রাখেন। তার বিশ্বাস তাদের অভিজ্ঞতা আর তরুণদের চেষ্টায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কঠিন লড়াই দেখাবে বাংলাদেশ দল। সহ-অধিনায়কের মতো আত্মবিশ্বাসী দলের তরুণরাও। দেশ ছাড়ার আগে আনামুল হক বিজয় বলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন সবার থাকে। এখন সুযোগ হয়েছে। আর এই সুযোগে নিজের সেরা খেলাটাই খেলতে চাই।’ আর মার্শাল আইউব বলেন, ‘দলে অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ এসেছে আমার। তবে প্রাথমিক স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আমার। যদি মাঠে নামার সুযোগ পাই তাহলে নিজের সেরাটা দিয়েই পূরণ করতে চাইবো বাকিটা। গতকাল এয়ারপোর্টে যথারীতি ছেলেকে বিদায় দিতে এসেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমের বাবা। তিনি শুধু বিদায় বেলা ছেলেকেই আশীর্বাদ দেননি, তিনি আদরে জড়িয়ে ধরে বিদায় দেন দলের বাকিদেরও। আর রওনার আগে অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমও বললেন, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেটই খেলবে।

Wednesday, February 20, 2013

দ্বিতীয় শিরোপাও ঢাকার

দ্বিতীয় শিরোপাও ঢাকার


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) এর দ্বিতীয় আসরেও শিরোপা জিতলো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। ফাইনালে তারা চিটাগং কিংসকে হারিয়েছে ৪৩ রানে। সাকলাইন সজীবের অসাধারন ক্যাচ ৪৪ করেই সাজঘরে ফেরত গিয়েছিলেণ চিটাগং কিংসের অধিনায়ক মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। পরের বলেই তাসকিনকে বোল্ড করেন থমাস। এতেই দ্বিতীয় শিরোপার পথে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। পরের ওভারে ১২৭ রানের মাথায় রুবেল হোসেন রান আউট হলে টানা দ্বিতীয় বারের মতো মাশরাফির হাতে উঠে বিপিএলের শিরোপা। রিয়াদ ২৮ বলে চিটাগং কিংসের পক্ষে সর্বাধিক ৪৪ রান করেন। এছাড়া জেশন রয় করেন ৪০ রান। ঢাকার মোশারফ হোসেন রুবেল ও থমাস ৩ তিনটি কওে উইকেট দখল করেন। এর আগে এন ামুলের ৫৮ ও সাকিবের ৪১ রানে ১৭২ রানের স্কোর করে ঢাকা।

Tuesday, February 19, 2013

চ্যাম্পিয়ন হতেই ঢাকা আজ মাঠে নামবে

চ্যাম্পিয়ন হতেই ঢাকা আজ মাঠে নামবে


বিপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। দ্বিতীয় আসরেও চ্যাম্পিয়ন মাঠে নামবে। আজ গ্ল্যাডিয়েটর্স চ্যম্পিয়ন হবে বলে বিশ্বাস করেন দলটির মালিক সেলিম চৌধুরী। দ্বিতীয় আসরে প্রথম ম্যাচ তারা মুখোমুখি হয় খুলনা রয়েল বেঙ্গলের। আর প্রথম ম্যাচেই তারা জয় দিয়ে শুরু করেছিল। এরপর লীগ পর্বে তারা ১২টি ম্যাচে ৯টিতে জয় তুলে নিয়েছে। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে শেষ করে লীগপর্ব। এরপর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা গেইল ঝড়ে নাটকীয় জয় তুলে নেয়। আর দ্বিতীয় আসরে নিশ্চিত করে ফাইনাল। আজ তাদের শেষ অগ্নিপরীক্ষা। আজ প্রতিপক্ষ যেই হোক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই তাদের লড়াই। ফাইনালের লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে দল নিয়ে সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘দলে কোন ইনজুরি সমস্যা নেই। সবাই শতভাগ ফিট আছেন। আর আমি দলের ক্রিকেটারদের উপর বেশ বিশ্বাস রাখি যে তারা মাঠে নিজেদের শত ভাগ উজাড় করে দিবে। তবে ম্যাচের ফলাফল যাই হোক আমি আশা করবো ম্যাচটি যেন উপভোগ্য হয়।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই তারকা ক্রিকেটার ক্রিস গেইল ও কাইরণ পোলার্ড দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন রেস-টু ফাইনালে। সেখানে গেইল ঝড়ো সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলের জন্য জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। তবে গেইল একটি ম্যাচ খেলে চলে গেছেন, আছেন পোলার্ড। ঢাকার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে যুক্ত হয়েছিলেন লুক রাইট। তিনি তিনটি ম্যাচে একটি ফিফটি হাঁকিয়ে ৭৮ রান করে চলে যান নিজ দেশে। তিনি আজ আবারও দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন শেষ ম্যাচে। বিদেশী ব্যাটিং শক্তির মধ্যে আরও আছেন স্টিভেন্স ও দিলসান। স্টিভেন্স ব্যাট হাতে ৯ ম্যাচে করেছেন ৩০৩ রান। ব্যাটিংয়ে ঢাকার দেশীয় ভরসা বলতে মো. আশরাফুল, আনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান। এর মধ্যে একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আশরাফুল এখনও ৩৫৭ রান করে ঢাকার সেরা ব্যাটসম্যান। এছাড়াও আনামুলও ১২ ম্যাচে করেছেন ২৯৮ রান। ঢাকার অন্যতম দেশী তারকার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও আছেন ফর্মে। ১১ ম্যাচে করেছেন ২৮৮ রান। হাঁকিয়েছেন ২টি ফিফটি। আর বল হাতে নিয়েছেন ১৫টি উইকেট। ঢাকার পেস বোলিংয়ে আছেন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার সঙ্গে আছেন আলফানসো থমাস। তিনি ১১ ম্যাচে ১৭টি উইকেট নিয়ে ঢাকার সেরা বোলার। আর বোলিংয়ে আরেক শক্তি দেশী ক্রিকেটার মোশারফ রুবেল। তিনি নিয়েছেন ১৪টি উইকেট। ক্রিস গেইল চলে গেছেন। তাকে ছাড়া বলা চলে সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে যে দলটি রেস-টু ফাইনালে লড়াই করেছে সেখানে তেমন কোন পরিবর্তন হবে না। দলের অধিনায়ক নিয়ে সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘মাশরাফির উপরই আমরা আস্থা রেখেছি। তাকে দল গঠনে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। সব কিছুতেই তার মতামতই আগে থাকবে।’

Saturday, February 16, 2013

চিটাগাং-রাজশাহীর ফাইনাল আজ

চিটাগাং-রাজশাহীর ফাইনাল আজ


অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে সেমিতে এসেছে চিটাগাং কিংস। গত আসরে শেষ মুহূর্তে সেমিফাইনালে খেলতে না পারা চিটাগাং কিংস আজ ফাইনালে ওঠার প্রথম ধাপ টপকাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুরন্ত রাজশাহীর। দুরন্ত রাজশাহীর এটি দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল। কাগজে-কলমে অনেক শক্তিশালী দল নিয়েও চট্টগ্রাম হোঁচট খেতে খেতেই আগায়। তবে ১২ ম্যাচে ছয়টি জিতেছে আর ছয়টি হেরেছে। তবে দুরন্ত রাজশাহীর কপালটা ভাল-মন্দের মিশেল। একেবারে দুর্বল দল না হলেও তারা প্রায় বাদ পড়ে যাচ্ছিল আসর থেকে। কিন্তু শেষ দুই দিনে বরিশালের হার আর জিতের কারণে ভাগ্য বদলে যায় তাদের। পয়েন্ট ১২ ম্যাচে ১০। বরিশাল আর রংপুরের পয়েন্টও সমান ছিল। কিন্তু বাইলজ অনুসারে তিন দলের নিজেদের লড়াইয়ে বেশি জেতার সুবাদে দুরন্ত রাজশাহী সেমিতে খেলার সুযোগ পায়। কে না চায় ফাইনালে খেলতে। এই দু’দলও মরিয়া। কিন্তু আজই তার ফয়সালা নয়। হারলে বিদায়টা নিশ্চিত, তবে ফাইনালে খেলাটা নিশ্চিত করতে, খেলতে হবে আরেক ম্যাচ। গতকালের পরাজিত দল সিলেটের বিরুদ্ধে তাদের মাঠে নামতে হবে আগামীকাল। আজ সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। দুরন্ত রাজশাহীর সফল ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক জহুরুল নিজেও মানছেন এটা তাদের ভাগ্যে পাওয়া সুযোগ। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের হারানোর কিছুই নেই। তাই এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।’ মজার ব্যাপার হলো- দ্বিতীয় আসরে এ দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল তাদের প্রথম ম্যাচে। কম রানের সেই ম্যাচে দুই রানে জয় পেয়েছিল রাজশাহী। তবে দ্বিতীয় দেখায় দুরন্ত রাজশাহীকে ৩৩ রানে হারিয়ে চিটাগাং কিংস প্রতিশোধ নিয়ে সমান হয়।
চিটাগাং কিংসের জন্য একটি ধাক্কাও আছে আজ। তাদের জয়ের পথ দেখানো অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর চলে গেছেন দেশে। তাই এই জায়গাটাকে শূন্যস্থান বলে মানছেন দলের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। তিনি বলেন, ‘আসলে টেইলরের চলে যাওয়া আমাদের জন্য শূন্যস্থানই। এটা পূরণ হওয়ার না। তবে জ্যাকব ওরাম তার কাজটা করবে। আমরা ক্রিকেটারদের উপর ভরসা আছে। তারা চাইলে সবই সম্ভব।’ টেইলর চলে যাওয়ায় এখন আবার মাহমুদুল্লাহই দলের নেতৃত্বে ফিরতে পারেন বলে দলের পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে দুরন্ত রাজশাহীর অধিনায়ক শ্রীলঙ্কার কাপুগেদারাকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা। অসুস্থ থাকায় গতকাল তিনি মাঠেই আসেননি। তবে তিনি খেলতে পারবেন কিনা আজ মাঠে নামার আগে চূড়ান্ত হবে। তবে অন্যতম তারকা তামিম ইকবালও দলে থাকছেন না। হাতের ইনজুরির কারণে তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে দুই সপ্তাহ। তবে তারা এ ম্যাচের জন্য নতুন কোন বিদেশী ক্রিকেটারও আনছে না। পুরনো দলের উপরই ভরসা আছে বলে জানিয়েছেন দলের মালিক মুশফিকুর রহমান মোহন।
খেলা শুরু সন্ধ্যা ৬টায়
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে

Thursday, February 14, 2013

সেমিতে চিটাগং বিপদে রাজশাহী

সেমিতে চিটাগং বিপদে রাজশাহী

 


শেষ ম্যাচে চিটাগং কিংসের সঙ্গে ৩৩ রানে হেরে গেল দুরন্ত রাজশাহী। আর এতেই দুরন্ত পড়ে যায় ঝুলন্ত সমীকরণে। তবে ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে নিশ্চিন্তে শেষ চার নিশ্চিত করেছে চিটাগং কিংস। গতকাল দুরন্তকে দিনের শেষ ম্যাচে বরিশালের জয়-পরাজয়ে ওপর তাকিয়ে থাকতে হয়েছে। সিলেটের সঙ্গে শেষ ম্যাচে বরিশাল হারলে দুরন্তর জন্য শেষ চারে উঠার সুযোগ বেঁচে থাকবে। আর বরিশাল জিতে গেলে বাদ পড়ে যাবে রাজশাহী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরিশাল-সিলেটের ম্যাচ চলছিল। এই পর্যন্ত ১২টি ম্যাচে ৫ জয়ে দুরন্ত রাজশাহীর পয়েন্ট ১০। বরিশালের হাতে আছে দুটি ম্যাচ। তাদের ৯ ম্যাচে ৪ জয়ে পয়েন্ট ৮। আজ তারা মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্সের। যদি রংপুরের সঙ্গে বরিশাল হারলেও রাজশাহী বাদ পড়ছে। আর যদি জিতে সেই ক্ষেত্রে রাজশাহীর জন্য থাকছে সুযোগ। রংপুরের পয়েন্ট এখনও ১১ ম্যাচে ১০ যদি। তাই আজ বরিশাল হেরে গেলে তিন দলের পয়েন্ট সমান হবে। তখন রানরেটে সুযোগ থাকছে দুরন্ত রাজশাহীর। তবে গতকালের ম্যাচে বরিশাল জয় পেলে তখন শেষ দল হিসেবে আজ সেমির লড়াইয়ে নামবে রংপুর-বরিশাল।
দুরন্ত রাজশাহী ১৯৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ১৬০ রান তুলতে সক্ষম হয়। দুই ওপেনার চালর্স কভেন্ট্রি ও সাইমন ক্যাটিচ ২৯ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যে দ্রুতই ১৫ বলে ২৪ রান তুলে আউট হন কভেন্ট্রি। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন শ্রীলঙ্কার দিলশান মুনাভিরা ও ক্যাটিচ। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৫ রানে মুনাভীরার বিদায়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী। এর পর উইকেটে এসেই মারমুখী ব্যাট চালান জিয়াউর রহমান। ২টি করে চার ও ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করা জিয়াউরকে বোল্ড করে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার শন টেইট। শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন ক্যাটিচ। সে সুবাদে ২০ ওভারে তাদের ইনিংস থামে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬০ রানে। কিংসের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন টেইট ও রুবেল হোসেন।
এর আগে টস জিতেই ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেন রাজশাহীর অধিনায়ক চামারা কাপুগেদেরা। শুরুতেই নাঈম ইসলামকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিয়ে রাজশাহীকে প্রথম সাফল্য এনে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার মনির হোসেন। তবে রাজশাহীর সাফল্যকে ম্লান করার জন্য জুটি বাঁধেন ইংল্যান্ডের জেসন রয় ও জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেইলর। দলকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন তারা। তবে দলীয় ৭৬ রানে টেইলরকে ফিরিয়ে দিয়ে চিটাগং কিংসের রানের গতি থামান রাজশাহীর মুক্তার আলী। ২টি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে ৩০ রান করে থামেন টেইলর। টেইলরের বিদায়ের পর রয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধতে ক্রিজে আসেন নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডেসকাট। দ্রুত উইকেটে সেট হয়ে রাজশাহীর মারমুখী মেজাজে দু’জনই পেয়ে যান ফিফটির স্বাদ। রয় ৩৫ বলে এবং ডেসকাট ৩২ বলে রাখেন ফিফটি করেন। তবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ৮টি চার ও ৪টি ছক্কার মারে ৫৫ বলে ৯২ রানে অপরাজিত থাকেন জেসন। আর শেষ বলে রান আউট হওয়ার আগে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৯ বলে ৬৫ রান করেন ডেসকাট। রাজশাহীর পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মনির হোসেন ও মুক্তার আলি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: রাজশাহী (ফিল্ডিং)
চিটাগং কিংস: ২০ ওভারে ১৯৩/৩; (রয় ৯২*, ডেসকাট ৬৫, টেইলর ৩০; মনির ১/৩০)।
দুরন্ত রাজশাহী: ২০ ওভারে ১৬০/৮; (ক্যাটিচ ৫৩, মুনাভিরা ৩৫, জিয়াউর ২৬; রুবেল ২/২৩, টেইট ২/৩৫)।
ফল: চিটাগং ৩৩ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: জেসন রয়
আজকের খেলা

ম্যাচ: বরিশাল-রংপুর
সময়: দুরপুর সাড়ে তিনটা
ম্যাচ:ঢাকা-চিটাগং
সময়: সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা
ভেন্যু: মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়াম

Saturday, February 9, 2013

খেলোয়াড় বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়

বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো রাজশাহী: খুলনার সাত উইকেটের জয়


ক্রিকেটারদের বিদ্রোহের প্রায়শ্চিত্ত করলো দুরন্ত রাজশাহী গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত খেলায় পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে থাকা খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের কাছে ৭ উইকেটে হেরে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এ খেলায় হার জিতকে ছাপিয়ে যায় দুরন্ত রাজশাহীর বিদেশিদের খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা।

রাজশাহী শেষ পর্যন্ত পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে সক্ষম হলেও খেলা শুরুর ২০ মিনিট আগে বিদেশিরা খেলতে রাজি হচ্ছিল না। বিদেশি ক্রিকেটাররা পাওনা অর্থ অনাদায়ে খেলতে অসম্মতি জানালেও পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপে মাঠে নামে। এ ঘটনা পুরো বিপিএলের উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কেননা বিপিএল শেষের পথে অথচ এখনো বিদেশিরা প্রথম কিস্তির টাকাই পায়নি। তাই কাল রাজশাহী সাত বিদেশি এক প্রকার বেঁকেই বসে। খেলা শেষে দলের নিয়মিত অধিনায়ক চামারা কাপুগেদারা এর ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, 'বিপিএল শেষের পথে অথচ আমরা যারা বিদেশি আছি তারা কোন টাকা-পয়সাই পায়নি। তাই আজ (কাল) আমরা সিদ্ধান্ত নেই টাকা না পেলে মাঠে নামবো না। পরে বিসিবি চেয়ারম্যান আমাদেরকে মূল বিষয়টি জানিয়েছেন। তাই পরে মাঠে নেমেছি'।

খেলোয়াড়দের কিস্তির প্রথম অংশের টাকা বিপিএল শুরুর সময় দেয়ার কথা থাকলেও ফ্রাঞ্চাইজিরা সময়মত বিসিবির কাছে সেই টাকা জমা দেয়নি। ফলে খেলোয়াড়রাও সময়মত টাকা পায়নি। তবে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে- এই আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত বিদেশিরা মাঠে নামে। কিন্তু আধ ঘন্টার এই নাটকের জন্য দলের পারফর্মেন্সও খারাপ হয়েছে। যদিও কাপুগেদারা সেটি মানতে নারাজ, 'আমি মনে করি না এই ঘটনা ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। আশা করছি পরের ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড়রা দুর্দান্তভাবে ফিরে আসবে'। ঘটনাবহুল এ খেলায় খুলনার অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিসও উঠে আসেন আলোচনায়। কেননা কাল তিনি নিয়মিত অধিনায়ক হিসেবে খুলনাকে নেতৃত্ব দেননি। বরং রিকি ওয়েসেলসকে দায়িত্ব দিয়ে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান নাফিস এবং ভারমুক্ত এই ব্যাটসম্যান এবারের বিপিএলের তৃতীয় ফিফটি করেন। কাল খেলা শেষে নাফিস বলেন, 'আমি মাঠে আসার সময় টিম ম্যানেজম্যান্টকে ফোনে বলেছি আর অধিনায়কত্ব করতে চাই না। ম্যাচ জিততে হলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত নৈপুণ্য অনেক বেশি দরকার। আমি অধিনায়কত্ব ছেড়ে নিজের মত খেলার চেষ্টা করবো'। এবারের বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান নাফিসের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে তোলা ৭৭ রানের ইনিংস। ফলে রাজশাহীর ১৩৮ রানের জবাবে নাফিস, শ্রীলংকান জিহান মুবারক (২৭ বলে ৩০) ও ট্রেভিস ব্রিট (২৬ বলে ২৩) মিলে চার বল বাকি থাকতে খুলনাকে জিতিয়ে দেন সাত উইকেটে। নাফিস নিজের ব্যাটিং নিয়ে বলেন, 'আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) প্রথম পর্ব খেলিনি। তখন নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্যারের কাছে অনেক কিছু শিখেছি। ওটাই আমার কাজে দিয়েছে। মূলত তখন থেকে আমার ব্যাটিং অনেক উন্নত হয়েছে'।

কালকের এ জয়ের পর খুলনার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে দশ খেলায় ৬ পয়েন্ট। শেষ চারের স্বপ্ন নষ্ট হয়েছে গত ম্যাচেই। তাই বিপিএলটা জয় দিয়ে শেষ করতে চান নাফিস। এদিকে খুলনার আশা না থাকলেও শেষ চারে যাওয়ার ভালো সুযোগ অপেক্ষা করছে দশ খেলা শেষে সমানসংখ্যক পয়েন্ট পাওয়া রাজশাহীর সামনে। মুক্তার আলির ৩০ বলে ৪১ রান, শেষ পর্যন্ত দলকে ১৩৮ রানের সম্মানজনক স্কোর এনে দিয়েছে। নইলে দলটি এক পর্যায়ে ৮৪ রানে ছয় উইকেট খুইয়ে বসেছিল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দুরন্ত রাজশাহী- ২০ ওভারে ১৩৮/৯ (মুক্তার অপ: ৪১, আরভিন ২৩, কাপুগদোরা ১৮, সান্তোকি ৩/১৮, সাঞ্জামুল ২/১৫, নুর ২/২১)।

খুলনা রয়েল বেঙ্গলস- ১৯.২ ওভারে ১৪০/৩ (নাফিস ৭১, মুবারক অপ: ৩০, ব্রিট ২৩, এডমন্ডসন ২/২৯)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহরিয়ার নাফিস।

ফল: খুলনা রয়েল বেঙ্গলস জয়ী ৭ উইকেটে।

Tuesday, February 5, 2013

বিপিএলে লড়াইয়ে টিকে থাকল বরিশাল

বিপিএলে লড়াইয়ে টিকে থাকল বরিশাল


পয়েন্ট তালিকার সবচেয়ে নিচের দুইটি দল বরিশাল বার্নার্স ও খুলনা রয়েল বেঙ্গলস আজ মুখোমুখি হয়েছিল একেবারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে। শেষ চারে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়টা খুবই প্রয়োজন ছিল দুই দলেরই। আর এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন বরিশালের ক্রিকেটারেরা। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আজহার মেহমুদের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরমেন্সের ওপর ভর করে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় বরিশাল। বল হাতে ৩ উইকেট শিকারের পর ব্যাট হাতেও ৫২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন আজহার। বরিশালের অধিনায়ক ব্রাড হজ করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৩ রান।
আজকের এই হারের ফলে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের সেমিফাইনালে যাওয়ার সমীকরণটা জটিল হয়ে গেল খুলনার। ৮ ম্যাচ শেষে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে আছে শাহরীয়ার নাফীসের দল। নিজেদের বাকি চারটি ম্যাচে তো জিততেই হবে, সেই সঙ্গে নির্ভর করতে হবে অনেক রকম যদি-কিন্তুর উপর। অন্যদিকে ৮ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে এখনো লড়াইয়ে টিকে থাকার আশা টিকিয়ে রাখল বরিশাল।
জয়ের জন্য ১৪৬ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোভাবে করতে পারেননি খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের ব্যাটসম্যানেরা। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৫ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরেছেন জো ডেনলি ও সাব্বির রহমান। তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান আজহার ও ব্রাড হজ। ১৪তম ওভারের শেষ বলে হজ যখন আউট হন তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ১৮ রান। ৪৭ বলে ৬৩ রানের চমৎকার এক অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেছেন হজ।

Friday, January 25, 2013

দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী: শাহরিয়ার

দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী: শাহরিয়ার


৫০ বলে ৫৩ রান। আর আগের ম্যাচে ১০২ রানে অপরাজিত। শাহরিয়ার নাফীসকে এখন বিপিএলের আইডল বলা যেতেই পারে। নাফীসের ব্যাটে ভর দিয়ে আজ খুলনা নিজেদের ৫ম মাচে ৯ রানে জয় তুলেছে। পর পর দুই ম্যাচে নাফীসের ব্যাটে
চড়ে খুলনা জয়ের ধারায়।

ম্যাচ শেষে তাই নাফীসকে ঘীরেই সকলের আগ্রহ। যাকে কিনা জাতী দল থেকে বাদ রাখা হয়েছে। সেই নাফীস আজ তার খুলনা দল সম্পকে বলেন, “তিন ম্যাচে হেরে যাবার পর টানা দুই ম্যাচে জিতে আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। দল এখন অনেক
আত্মবিশ্বাসী। তিন ম্যাচে হারের পর জয় নিয়ে তো রীতিমতো সন্দেহ ছিল। এখন আমরা জানি আমরা কি পারি। আরো সাতটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করছি জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে সেমি ফাইনাল খেলতে পারব।”

বিপিএলে হারের স্বাদ পেল ঢাকা

বিপিএলে হারের স্বাদ পেল ঢাকা


ঘড়িতে সময় তখন পাঁচটা চার মিনিট। সিলেটের ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন মিলন ঢাকার অলরাউন্ডার সাকিবের বলে ছক্কা মারলে ঢাকার হার নিশ্চিত হয়ে যায়।

খুলনা স্টেডিয়ামের দক্ষিণ দিকে মুল ভবনের দিকে মাঠে বসা সিলেটের অন্য ক্রিকেটাররা মুহূর্তেই মাঠে দৌঁড়ে প্রবেশ করল। তাদের শারিরীক ভঙ্গি বলে দিচ্ছিল ঢাকাকে হারানোটা সিলেটের জন্য কত বড় প্রাপ্তি। ১৫৩ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে আট বল হাতে রেখে সাত উইকেটে জয়! তারও আবার ঢাকার মতো দলের বিপক্ষে! আনন্দতো হবে।

প্রথম তিন ম্যাচে টানা টস জিতেছে ঢাকার মাশরাফি। তিন ম্যাচে জিতে আজ ৪র্থ ম্যাচে মুশফিকের সিলেটের বিপক্ষে খুলনার উইকেটে জয়ের দেখা পেল না ঢাকা।
বিপিএলে এই প্রথম ঢাকা হারের স্বাদ গ্রহণ করেছে।

আর জয়টা অভ্যাসে পরিণত করল মুশফিকের সিলেট রয়েলস। যৌথভাবে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকার পর্ব শেষ হল আজ। বোলার-ব্যাটিং কোনো বিভাগেই তারকা সমৃদ্ধ কাগজে কলমে শক্তিশালী দল
ঢাকাকে পাত্তা দেয়নি সিলেট রয়েলস।

পয়েন্ট টেবিলের কথা চিন্তা করলে আর পারফরমেন্স আমলে আনলে, প্রশ্ন উঠতে বাধ্য শক্তির বিচারে আসলে কোন দল এগিয়ে আছে? মাশারাফির ঢাকা নাকি মুশফিকুরের সিলেট? সেই প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্য অবশ্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না ক্রিকেটপ্রেমিদের। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের ১৩তম ম্যাচেই দেখা হয়ে গেল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলের।

যতোটা কঠিন লড়াই হবে মনে হয়েছে ততোটা হল না। টস জিতে ঢাকা গ্লাডিয়েটরস আগেই ব্যাট হাতে তুলে নিলেও সিলেটের বোলারদের বিপক্ষে আহামরি কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। যে কারণে ২০ ওভারে তারকা সমৃদ্ধ ঢাকার নামের পাশে জমা হয়েছে আট উইকেটে ১৫২ রান! সাকিব, মাশরাফি, মোশারফ রুবেল, আশরাফুল, সাকলাইন সজিব কেউ সিলেটের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। বিশেষ করে সাকিব ৩.৪ ওভারে দেন ৪৩ রান!

নিজেদের সেরা প্রমাণের মিশনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নিয়ে ঢাকারঅধিনায়ক মাশরাফি খুব একটা সুবিধা করতে পারলেন না। টস-এর সাফল্যটা ঢাকার ভাগ্যে জুটলেও বল হাতে উইকেট শিকারের আনন্দটা খুব দ্রুতই আদায় করেছে সিলেট। ইংল্যান্ডের ওপেনার লুক রাইটকে দ্রুত সাঁজঘরের পথ দেখিয়ে সিলেটের সাফল্যের পর্বটা শুরু করেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডার্ক ন্যানেস। আগের
ম্যাচে ৫১ রান করা রাইট এই ম্যাচে যোগ করলেন মাত্র পাঁচ রান।

শুরুতে উইকেট হারানোর ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে দ্বিতীয় উইকেটে মারমুখি স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও এনামুল হক বিজয়। খুব বেশি মারমুখী না হলেও স্কোর বোর্ডে ঠিকই রান জমা করতে থাকেন দুই জনেই। কিন্তু রান তোলার গতিটা বাড়াতে গিয়ে এই জুটির অপমৃত্যু ডেকে আনলেন এনামুল। ক্যাচ তুলে বিদায় নেবার আগে করলেন ২৩ বলে ৩০ রান।

এনামুল ফিরে গেলেও অন্যপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন আশরাফুল। সঙ্গী হিসেবে পেলেন ইংল্যান্ডের ওয়াইজ শাহকে। তবে শাহ’র সঙ্গে জুটি জমাতে পারলেন না আশরাফুল। বাঁহাতি স্পিনার মমিনুল হককে ছক্কার হাঁকানোর পরের বলেই বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে জায়গা করে নেন অ্যাশ।

আশরাফুলকে হারানোর পর পরই ঢাকা হারিয়েছে ওয়াউজ শাহকে। এবার মাত্র ১০ রান করে আউট হন তিনি। দুই সেরা ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে যখন ঘুড়ে দাঁড়ানোর টার্গেট নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল ঢাকা ঠিক তখনই প্রতিপক্ষের পথে বাধা হয়ে দাড়ান আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী। ইংল্যান্ডের জোসুয়া কব ও বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন নবী। আর তাতেই ঢাকার বড় সংগ্রহের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকার তখন স্কোর ছয় উইকেটে ১১৩ রান। তবে শেষদিকে ইংল্যান্ডের ড্যারেন স্টিভেন মাঝারি আকারের বিধ্বংসী ইনিংসে আট উইকেটে ১৫৩ রান করতে সমর্থ হয় ঢাকা। কটি চার ও দুটিটি ছক্কায় ১৩ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন স্টিভেনস। সিলেটের পক্ষে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন ডার্ক ন্যানেস ও মোহাম্মদ নবী।

১৫৩ রানের টার্গেট নিয়ে যে সিলেট খুব একটা চিন্তা করেনি তা তো সিলেটের ব্যাটিং দেখেই বোঝা গেছে। তবে ওপেনার মাসাকাদজা দলের দুই রানে থমাসের বলে ক্যাচ দিলে শুরুতে একটা ধাক্কা খায় সিলেট। আর দ্বিতীয় উইকেটে দলীয় ১২৩ রানে আরন নিজের ১৮ রানে ওয়ান ডাউনে নামা স্টির্লিং সেই থমাসের বলে বোল্ড হলে মনে হয়েছিল আজ বুঝি ঢাকা টানা ৪র্থ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে।

কিন্তু তৃতীয় উইকেটে জুটিতে মমিনুল আর মুশফিক জুটি দলের স্কোর ১০২ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যোগ করলেন ৭৯ রান। তাতেই মূলত ঢাকার জয়ের প্রদীপ নিভে গেল। সাকলাইন সজিবের বলে ৩৫ বলে ৩৭ রানে মমিনুল ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন। তখন সিলেটের টানা ৪র্থ জয় পেতে ৪৩ বলে সাত উইকেটে দরকার ৫১ রান। টি-২০ ম্যাচে যা কিনা ডাল-ভাতের মতোই বিষয়।

অন্য কোনো পরিস্থিতি হতে দেননি মুশফিক আর নাজমুল হোসেন মিলন। মুশফিক যখন ফিফটি পূরন করার পর সিলেট ১৭ ওভার শেষে ১৩১ রানে পা রেখেছে। ৭ উইকেটে ১৮ বলে ২২ রান দরকার। মামুলি একটি হিসাব যাকে বলে। ১৮.৪ ওভারে তিন উইকেটই জমা হয় ১৫৭ রান।

Sunday, January 20, 2013

আইসিসির সভায় মাথা উচু করে কথা বলতে পারব: পাপন

আইসিসির সভায় মাথা উচু করে কথা বলতে পারব: পাপন


বাংলাদেশ ক্রিকেট রোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, “পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা না আসলেও বিপিএল সফলভাবে এগিয়ে চলছে।তাই আইসিসি মিটিংয়ে মাথা উচু করে কথা বলতে পারব।”

রোববার বিকেলে বরিশাল আর খুলনার ম্যাচ চলাকালে প্রেস বক্সে এসে বিসিবি সভাপতি একথা বলেন।

এদিকে বিপিএলের আয়োজক স্বত্ব কেনা গেম অন স্পোটর্সের চেয়ারম্যান এনায়েতুর রহমান বাপ্পি বলেলেন বিপিএলের টিকিটের দাম কমানোর কথা।

পাপন বলেন, “৮-১০ বছর হল আমরা ভারতের খেলতে যাই না। এটা তো হতে পারে না। এক তরফা কিছু হতে পারে না। এ বছরের মধ্যেই আমি ভারতের খেলতে যাবার বিষয়টিচ চূড়ান্ত করব। এভাবে চলতে পারে না।”

তিনি বলেন, “২৭,২৮ ও ২৯ জানুয়ারি দুবাইতে আইসিসির মিটিংয় আছে। তাতে আমি এবার অনেক কিছুই বলব। পাকিস্তানের সামনে মাথা নিচু করে কথা বলার সময় শেষ। আর তাছাড়া আমরা তো আগের জায়গাতে নেই। আমাদের ক্রিকেট তো এখন একটা লেভেলে অবস্থান করছি। বিপিএল নিয়ে চিন্তা ছিল সেটা আর নেই। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলতে এখন বিসিবি চিন্তা করবে না।”

বাপ্পি বলেন, “আমি তো টিকেট বিক্রি করে দিয়েছি। তারপরও বিশেষ বিবেচনায় বিপিএলকে সফল করতে দাম আরো কমানো ঘোষণা আজই দেব। বিপিএল যে পাকিস্তানি ক্রিকেটার ছাড়া এতোটা সফল হবে আমি ভাবতে পারিনি।”

Wednesday, January 2, 2013

ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড


যতোটা ভাবা গিয়েছিল, তার চেয়েও ভয়ানক প্রতিক্রিয়া হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তান সফর বাতিল করায় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিসিবি। সেই সঙ্গে পিসিবির চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের এই পদক্ষেপের ফলে দু'দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক যে হুমকির মধ্যে পড়েছে, সেটা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন।

দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর নিয়ে চলছে নানা নাটকীয় ঘটনাবলী। দফায় দফায় এই সফরের প্রতিশ্রুতি ও নানা কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি বাস্তবায়ন না হওয়ার পালা চলছিল। অবশেষে এই জানুয়ারিতে বিপিএলকে সামনে রেখে পাকিস্তান সফর এক রকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এরই মধ্যে বিদায়ী বছরের শেষ দিনে, চতুর্মুখী প্রতিবাদের মুখে বিসিবির নতুন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়ে দেন, আপাতত পাকিস্তান সফর হচ্ছে না। কারণ, নিরাপত্তাহীনতা। আর এই কারণকেই 'অনুপযুক্ত' বলে অভিহিত করেছে পিসিবির বিবৃতি। তারা বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এরকম প্রশ্ন তোলার আগে বিসিবি সভাপতির যথেষ্ট খোঁজ-খবর নিয়ে নেয়া উচিত ছিল, 'এখনও পর্যন্ত আমরা বিসিবির কাছ থেকে অফিসিয়াল কোনো ঘোষণা পাইনি। তবে সংবাদ মাধ্যমে যেমন এসেছে, তেমনভাবে নিরাত্তার প্রশ্ন তোলাটা একেবারেই অনুপযুক্ত কাজ হয়েছে। গত বেশ কিছুদিনে করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিতে অত্যন্ত সফলভাবে বেশ কিছু ক্রিকেট ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যাপার হয়েছে, সেখানে অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন। সেখানে কোনো সমস্যা হয়নি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকারের একটি যৌথ দল পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখে গিয়ে সন্তোষজনক রিপোর্ট দিয়েছে। বিসিবি সভাপতির পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে রিপোর্টটা একবার পড়ে নেয়া উচিত ছিল।' এমন কঠোর ভাষায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েই ক্ষ্যান্ত হচ্ছে না পিসিবি। বোর্ডের চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বলার সময়ে আরও কঠোর হয়েছেন। তিনি বলেছেন, জোর করে বাংলাদেশকে সফরে আনা সম্ভব না। তবে এই সফর বাতিল করে বিসিবি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে অবনতি ঘটিয়েছে, তার ফলও 'একইরকম' হবে বলেও বলছেন জাকা আশরাফ, 'তারা আসতে না চাইলে না আসতে পারে, এটা তাদের সিদ্ধান্ত। আমরা তো ওদের জোর করে আনতে পারবো না। তিন তিনবার তারা কথা দিল; এখন আবার পিছিয়ে গেল। এখন তো ওদের নিজেদেরই ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তারা যদি কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সম্মান করতে না পারে; আমরাও সেভাবেই এখন থেকে জবাব দেব।'

এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং প্রতিশ্রুত ব্যাপারটা বার বার ঘুরে-ফিরে আসছে আলোচনায়। ব্যাপার বীজ বুনে রেখে গেছেন সাবেক বিসিবি সভাপতি ও বর্তমান আইসিসি সহ-সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। তিনি আইসিসির পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ার শর্তে এই সফরের জন্য লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই দিকে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দাবি করেছে পিসিবির বিবৃতি, 'বিসিবি আগেরবার যখন সফরে আসতে চাইল, তখন ঢাকার উচ্চ আদালত সফর স্থগিত করলেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে এমন ঘটনা এর আগে কখনোই ঘটেনি। তারপরও আমরা কিন্তু বিপিএলের জন্য খেলোয়াড়দের ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপর আইসিসি নির্বাচনে আমরা মোস্তফা কামালকে সমর্থন দিয়েছিলাম। এসবই করেছি আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম বলে। প্রতিশ্রুতি আমাদের পক্ষ থেকে যেই দিক; আমরা সেটা রক্ষা করি; বাংলাদেশ করছে না।'

এইসব প্রতিশ্রুত ভঙ্গের অভিযোগে পাকিস্তান ঠিক কি করতে পারে বা করবে; তা পরিষ্কার নয়। তবে এটা ঠিক যে, পিসিবির বিবৃতি ও জাকা আশরাফের কথায় ইঙ্গিত আছে, তারা বিপিএলে পাকিস্তানী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ আটকে দিতে পারে। তবে এসব বিষয় নয় পাকিস্তান আসলে বাংলাদেশকে জবাব দিতে চায়, নিজেরা আরও ভালো আয়োজন করে। জবাব দেয়ার প্রসঙ্গে আশরাফ বললেন. 'আমরা খুব দ্রুতই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক ভালো কোনো একটা দলের পাকিস্তান সফরের ব্যবস্থা করবো।'

Saturday, December 15, 2012

বিজয়ের পুনর্পাঠ

বিজয়ের পুনর্পাঠ হারলে হাহাকার করো। জিতলে জোয়ারে ভেসে যাও। আমাদের ক্রীড়া-সংস্কৃতির হাওয়াটা মোটামুটি এ রকম। গত কয়েক বছরে চিন্তায় একটু আধুনিকতা এসেছে, এখন হারলে আমরা এর মধ্যে শিক্ষা খুঁজি। কেন হলো না! ভবিষ্যতে তাহলে এমন করা উচিত! অমুকের জায়গায় তমুককে চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে- ইত্যাদি। কিন্তু জয়ের ক্ষেত্রে এখনো সেই মধ্যযুগেই পড়ে। আবেগী জোয়ারে সব ভেসে গিয়ে বিষয়টা এমন দাঁড়ায় যে যা হয়েছে সব ঠিক হয়েছে। যিনি জেতা ম্যাচে শূন্য রান করেছেন তিনিও ঠিক করেছেন। বেদম ঠ্যাঙানি খাওয়া বোলারও এখানে নির্দোষ। কোনো কিছুই আর ভুল নয়। এবং ভুলটা আসলে এখানেই। জয়ের মধ্যেও শিক্ষা থাকে। সেই শিক্ষা নিতে হয়। নিলে ছোট জয় বড় জয়ের পথ তৈরি করে। এখন যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয়ের গরমটা একটু কমে এসেছে, যখন স্বপ্নে ওড়াউড়ি থেমেছে তখন একটু ফিরে গিয়ে দেখি আসলে এই বিজয় আমাদের কী শিক্ষা দিল! চলুন একটু পুনর্পাঠ হয়ে যাক।
ছোটখাটো অনেক শিক্ষা আছে। সেগুলোকে এক পাশে সরিয়ে একটু বড় করে চিন্তা করলে দেখছি শিক্ষা হচ্ছে তিনটি।
১. সাকিব-তামিম ছাড়াও বাংলাদেশ পরাক্রমশালী দলকে সিরিজে হারাতে পারে।
২. অধিনায়ক-সহঅধিনায়ক পারফরম করলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।
৩. সাফল্যের জন্য কোচের আসলে দরকারই নেই কোনো। ভারপ্রাপ্ত কোচ দিয়েই তো চলে।
প্রত্যেকটা ব্যাপার একটু সরলীকৃত। টীকা বা ব্যাখ্যা আবশ্যক। এক-এক করে একটু ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি।
সাকিব-তামিম ছাড়াও হয়
এই উপশিরোনামের সঙ্গে অনেকেই দ্বিমত করবেন। তথ্যগত ভ্রান্তিই তো আছে। সাকিব ছিলেন না, তামিম তো ছিলেন। ছিলেন কিন্তু না থাকার মতোই তো। আমাদের আলোচ্য ওয়ানডে সিরিজে একটি বাদ দিলে বাকি চার ইনিংসে তাঁর সেই অর্থে রান নেই, তিনি ব্যর্থ, তবু দল চারটির দুটোতেই জিতেছে। মোটের ওপর সাকিবের পাঁচ ম্যাচে না থাকা এবং তামিমের প্রায় না থাকার মতো থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে। জিতে দিয়েছে বড় একটা স্বস্তি। বাংলাদেশ এখন আর শুধু দুই খেলোয়াড়ের দল নয়। এর বাইরের বাংলাদেশ তৈরি হয়ে গেছে। এতটাই যে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও সিরিজ হারিয়ে দিতে পারে।
কোনোরকম ভণিতায় না গিয়ে স্পষ্ট বলে ফেলা যাক, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলেছেন সাকিব-তামিম। এর আগেও বিচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশ কিছু ভালো করছিল, হাবিবুল বাশার দীর্ঘদিন একা লড়াই করে বাংলাদেশকে টেস্টে টিকিয়ে রেখেছিলেন, আশরাফুল-মাশরাফিরাও নিজেদের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে আগমনী ধ্বনি শুনিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলো আগমনী ধ্বনিই। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে ওয়ানডেতে সত্যিকারের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা সাকিব-তামিমের মাধ্যমেই। বিশ্ব পর্যায়ের প্রতিভা তাঁরা, কিন্তু শুধু প্রতিভা বোধ হয় নয়, সঙ্গে এর যথাযথ প্রয়োগ এবং প্রতিপক্ষকে সুপার পাওয়ার না ভেবে স্রেফ প্রতিপক্ষ ধরে খেলে যাওয়ার মানসিকতা ঘটিয়েছে আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলটি। সাকিব পারফরম্যান্সের বিস্ময়কর ধারাবাহিকতায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হয়েছেন, তামিম অবিশ্বাস্য সামর্থ্যে বিশ্বের অনেক বোলিংকে তুলোধুনো করেছেন। বাংলাদেশের মূল যে সমস্যা ছিল, প্রতিভার পারফরম্যান্সে অনূদিত না হওয়া, সেই আফসোসও দূর হয়েছে ওদের সামর্থ্যে ভর করে। আর তাতে পরের প্রজন্মে ছড়িয়েছে এই শিক্ষা। আমাদের এখানে যে বা যাঁরা সেরা তাঁরা বিশ্ব-ক্রিকেটেও সেরাদের কাতারে যেতে পারেন, যখন প্রাক সাকিব-তামিম যুগে ধরেই নেওয়া হতো আমাদের সেরারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেছনের বেঞ্চের ছাত্রই থাকবেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব-তামিম এতটাই আর এতটা যখন তখন তাঁদের ছাড়া সিরিজ জেতার মূল্য কতটা! তাঁদের ছাড়া সিরিজ জিতে বাকিদের মধ্যে এই বিশ্বাসটা তৈরি হলো যে, আমরাও পারি। ব্যক্তিগতভাবে ওদের মতো বিশ্বসেরাদের কাতারে না যেতে পারলেও মিলিত শক্তিতে আমরাও আন্তর্জাতিক স্তরের। যে কাউকে হারাতে পারি। ব্যক্তিই দলের প্রতীক হয়, দলকে উঁচু থেকে উঁচুতে নেয়, কিন্তু ব্যক্তিসর্বস্ব হয়ে থাকলে সামগ্রিক উন্নতি ঘটে না। ব্যক্তির অবর্তমানেই তো সব শেষ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় জানিয়ে গেল, সাকিব-তামিমের বাইরেও বাংলাদেশের ক্রিকেট আছে। ক্রিকেটার আছে। এই সিরিজ দিয়ে চিন্তার, বিশ্বাসের একটা পথবদলও বোধ হয় ঘটল।
অধিনায়ক-সহঅধিনায়ক যদি সামনে থাকেন
যে সাকিব-তামিম বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে ছিলেন, তাঁরাই আবার আরেক দোষে দুষ্ট ছিলেন। পারফরম্যান্সগত পার্থক্যের কারণে দলের দুজন হয়েও তাঁরা ছিলেন একটু আলাদা। একটু ওপরে। সেটা প্রায় সব দলেই কেউ না কেউ থাকেন। এবং তাঁদের পারফরম করার পাশাপাশি আরেকটা দায়িত্বও থাকে। এই ব্যবধানটা স্পষ্ট হতে না দেওয়া। এমন কিছু না করা যাতে করে দলের বাকিদের মধ্যে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়। বিশ্বকাপের সময় এবং জিম্বাবুয়ে সফরে সেটা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে, অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দিতে হয় দায়িত্ব থেকে। অপ্রিয় এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। অনেকেরই তখন সন্দেহ ছিল, দলের এত বড় দুজন তারকাকে দলে রেখে কে নেতৃত্ব দেবে? আদৌ সাফল্যের সঙ্গে সেটা সম্ভব হবে কি না! এশিয়া কাপে বাংলাদেশের উজ্জীবিত ছবিতে সন্দেহটা দূর হয়েছিল। মুশফিকের বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল সত্যিকারের এক দলের ছবি। তবু যেন কিছু বাকি ছিল। সেবার ফাইনালে উঠেও অল্পের জন্য হেরে চূড়ান্ত বিজয়টা হয়নি। অধিনায়কও সাফল্যের মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন না। এবার হলো, দল জিতল আর একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন মুশফিক। ঠিক তাঁর পাশে পাশেই চললেন আরেকজন। সহঅধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ। যত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলুক ক্রিকেট খেলাটা আজও শেষ পর্যন্ত অধিনায়কের খেলা, সেখানে অধিনায়ক-সহঅধিনায়ক লড়াইয়ে সামনে থাকলে দল উজ্জীবিত হবেই। হতে বাধ্য। নিজে পারফরম করলে বাকিদের তাগিদ দিতে সুবিধা হয়, বলার মতো গলাও থাকে, পারফরম্যান্স না থাকলে যে শক্তিটা হারিয়ে যায়। নেতার নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং অভিভাবকত্ব মিলেই তৈরি হয় ক্রিকেট দলের গতিপথ। মুশফিক-মাহমুদের ব্যক্তিত্বে সংকট নেই, সতীর্থদের মধ্যে তাঁরা প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয়। এখন দেখছি সংকট নেই তাঁদের পারফরম্যান্সেও। কাজেই আশার উজ্জ্বল আলো।
কোচ নিয়ে অকারণ বাড়াবাড়ি
রিচার্ড পাইবাসকে আনতে গিয়ে যেভাবে প্রায় নাকে খত দেওয়া হয়েছিল এবং যেভাবে প্রায় বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তিনি গেলেন, সেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য খুব ভালো উদাহরণ হয়নি। কয়েক সপ্তাহ আগেই এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রশ্ন তুলেছিলাম এই নিয়ে আমরা যতটা বাড়াবাড়ি করি অতটা বাড়াবাড়ির আসলে কি দরকার আছে? এই সিরিজের শিক্ষা- দরকার নেই আসলে। কারণ, এবার তো এক অর্থে বাংলাদেশ কোচ ছাড়াই খেলল। শন জার্গেনসেন দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু তিনি তো ভারপ্রাপ্ত কোচ। কেউ ছিলেন না বলে তাঁকেই...। এমন অগতির গতি দিয়ে যখন সিরিজ জিতেছি, যখন অনেক নামকরা কোচ নিয়েও লজ্জাজনক হার হয়েছে। তাতে প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে না যে কোচ লাগবে না কিন্তু অন্তত এটা বোঝা যাচ্ছে, কোচই সব করে দেন না। করে খেলোয়াড়রা। করে দল। সেই দলীয় সংহতি ঠিক রেখে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমন্বয়টা যিনি ঠিক রাখতে পারবেন তাঁকেই আসলে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এখন যাঁরা বিখ্যাত কোচ তাঁদের কেউই বিশ্বসেরা খেলোয়াড় ছিলেন না, তাঁদের নামটা হয়েছে ট্যাকটিকসের সূত্রে। সেই ট্যাকটিকস ঠিকঠাকমতো প্রয়োগ করা আবার মাঠের অধিনায়কের হাতে। সেখানেই সাফল্যের ফর্মুলাটা ঠিকঠাক তৈরি হয় যেখানে কোচ-অধিনায়কের রসায়নটা ঠিক জমে। ভাষা আর সংস্কৃতিগত ঘাটতি, তারকাখ্যাতিসূত্রে কোচের উন্নাসিকতা ক্ষেত্রবিশেষে সেই জুটি তৈরির পথে বাধা। নতুন কোচ নেওয়ার আগে এসব ভাবা উচিত। তা ভাবার জন্য যথেষ্ট সময় দিয়ে গেল সিরিজ। আর এর চেয়ে বড় শিক্ষাটা হলো আমাদের জন্য ট্যাকটিশিয়ান হেড কোচের চেয়েও বেশি জরুরি হলো স্পেশালিস্ট কোচ বা এই জাতীয় কিছু। নিশ্চিতভাবেই সাকলায়েন মুশতাকের কারণে আমাদের স্পিনারদের এমন ধারালো আর বিষাক্ত দেখিয়েছে, জরুরি মুহূর্তে তাঁর দেওয়া টোটকা টনিকের মতো কাজ করেছে নিশ্চয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এ রকম বিশেষজ্ঞ কোচই বোধ হয় এখন দরকার, যেমন একজন বিখ্যাত ব্যাটসম্যান এসে ব্যাটসম্যানদের ভুলের সূক্ষ্ম জায়গাগুলো ধরিয়ে দিতে পারেন। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে হেড কোচ হিসেবে ট্যাকটিকস জানা লোকই আদর্শ, কিন্তু মনে রাখতে হবে আমাদের খেলোয়াড়রা খুব ভালো কোচিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উঠে আসেন না। মূল দলে এসেও তাই কিছু শিক্ষা, টেকনিকের কিছু বিন্যাস তাঁদের দরকার পড়ে। দরকার পড়ে ম্যাচ সিচুয়েশনের কিছু মনস্তাত্ত্বিক চাপ জেতার কৌশলও। কাজেই হেড কোচের মতো একজন ব্যাটিং কোচও বোধ হয় খুব তাড়াতাড়িই দরকার।
এর বাইরেও শিক্ষা আছে কিছু। টেস্টসহ পুরো সিরিজটাকে ধরলে আরেকটা বড় ব্যাপার হলো, আমাদের পরের প্রজন্ম খুব ভালো তৈরি হয়ে গেছে। যতই আমরা জাতীয় লিগকে হেলাফেলা করি না কেন, সেখানকার পারফরমাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত। নির্বাচকদের মাঠটা তাই বড় হয়ে গেল। সোহাগ-এনামুল-মমিনুলদের দেখে তাঁরা বিশ্বাসের সঙ্গেই জাতীয় লিগের যেকোনো পারফরমারকে দলে নিতে পারেন। চিন্তার বিষয় শুধু এটাই, এই পারফরমাররা শুরুর চমকটা ঠিক ধরে রাখতে পারেন না। কেন? দিকভ্রান্তিটা ঘটে ঠিক কী কারণে?
এই জয়োৎসবেও এসব নিয়ে কি একটু ভাবব! ভয় কিন্তু ওটাই। জিতলে যে আমাদের মনে হয় সবই ঠিক আছে। আমাদের কাছে জয় মানে তো জোয়ারে ভেসে যাওয়া। প্রাণঢালা সংবর্ধনা, আন্তরিক অভিনন্দন, হৃদয় নিংড়ানো আবেগ, লম্বা বক্তৃতা, বিস্তর পুরস্কার ইত্যাদি ইত্যাদি।

Wednesday, December 5, 2012

বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের লড়াই আজ

বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের লড়াই আজ

২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। এই পরিসংখ্যানটা বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মত। কাল আরেকবার সিরিজের এই পরিসংখ্যানের কথা মনে করিয়ে দিতে নিজেই যেন একটু থমকে গেলেন মোমিনুল হক। বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে যাচ্ছেন আজ বুধবার। আর এমন একটা সময় তিনি দলের এগারজনের একজন যখন সিরিজ জেতা থেকে বাংলাদেশ মাত্র একটি ম্যাচ পেছনে। তাই আগের দুই ম্যাচ নিয়ে ভাবতে চান না তরুণ এই ক্রিকেটার। শুধু আজকের ম্যাচ জিততে চান তিনি। তবে এই চাওয়া তার একার নয়, পুরো জাতি আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকবে। দিবা-রাত্রি এই ম্যাচে অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা নিয়ে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে মুশফিকরা। তাদের সাথে থাকবে কোটি কোটি দর্শকের প্রার্থনা।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের একদিকে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের হাতছানি অন্যদিকে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের জন্য অস্থিত্ব রক্ষার লড়াই। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে তারা। ১৯৯৩ সালের পর একসাথে চারটি টেস্ট ম্যাচও জিতেছে তারা এ বছর। আর এরপরই ঘটেছে অঘটন। প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে তাদের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। এসব হিসাব-নিকাশ করতে গিয়ে ড্যারেন স্যামিকেও কঠিন ভাবনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সমীকরণ অনেক কঠিন তবে এই সমীকরণের কথা প্রতিপক্ষকে জানাবেন না বলেই কাল হরতালের কারণে অনুশীলনে আসেননি তারা। হোটেল বন্দি হয়ে নিজেদের মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আসলেই কি মানসিক চাপ কমেছে?

এই দিক থেকে নির্ভার থাকার চেষ্টা করছে স্বাগতিকরা। এখনো তিনটি ম্যাচ আছে, সিরিজ জেতার ভালো সম্ভাবনাও রয়েছে তাদের। তবে সাকিব আল হাসানের মত ওয়ানডে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে মুশফিকরা পাচ্ছে না পেসার আবুল হাসানকে। ইনজুরির কারণে তিনি দলের বাইরে, তার জায়গায় আজ খেলতে পারেন অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান। সেরা একাদশে ঠাঁই হলে বাংলাদেশের আরেক খেলোয়াড়ের ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যাবে আজ। সাকিবের অনুপস্থিতি যেমন দলকে বুঝতে দেয়নি, আবুলের অনুপস্থিতিও কোন সমস্যা হবে না এমনটি মনে করছে টিম ম্যানেজম্যান্ট। কাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মুশফিকুরের কণ্ঠে তাই দৃঢ় শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে, 'আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে'। অর্থাত্ বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের পারদটা এখন অনেক উঁচুতে।

খুলনার জয় থেকে মুশফিকদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে ঠিকই তবে আড়ালে দুশ্চিন্তাও ভর করছে স্বাগতিকদের। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম যদি বাংলাদেশের জন্য 'পয়মন্ত' ভেন্যু ঠিক বিপরীত হবে মিরপুর স্টেডিয়াম। হোম অব ক্রিকেট যাকে ধরা হয়, সেই মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৫১টি ম্যাচ খেলেছে। মাত্র ২১টি জয় পেয়েছে তারা বাকি ৩০টি ম্যাচে হারতে হয়েছে তাদের। আরো ভয়ংকর পরিসংখ্যানও রয়েছে বাংলাদেশের জন্য। এই মাঠে সর্বশেষ ১৫টি ম্যাচে মাত্র তিনটি জয় পেয়েছে তারা। সঙ্গে যোগ হয়েছে সন্ধ্যার কুয়াশার যন্ত্রণা। কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা তো কাল বলেই ফেলেছেন, যেভাবে কুয়াশা পড়ছে তাতে পরে বল করা দলের বেশ সমস্যা হতে পারে। অর্থাত্ টসে জিতে বাংলাদেশকে আগে বল করতে হবে। আশার কথা হচ্ছে, কিউরেটর জানিয়েছেন এই মাঠে তিনশ রানও অসম্ভব নয়।

আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে প্রস্তুত তামিম ইকবালও। দায়িত্বটা তার উপরই বেশি তবে এনামুল হক বিজয়ের মত একজন যোগ্য ওপেনারকে পেয়ে আড়ালে নিশ্চয়ই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বাঁ-হাতি এই ওপেনার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া এনামুলের সামনে আজও নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ। তরুণ ক্রিকেটার মোমিনুলের সামনেও দারুণ সুযোগ। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে বাংলাদেশ আজ পাড়ি দিতে চায় স্বপ্নের দেশে। যেখানে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি রয়েছে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে উপরে যাওয়ার সুযোগ। আর দুটি ম্যাচ জিতলে র্যাংকিংয়ে সাত নম্বর জায়গায় উঠে আসবে তারা।

বাংলাদেশ দলে এখন তিন পেসার। সঙ্গে যোগ হয়েছে পেস নির্ভর অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান জিয়া। টিমের কম্বিনেশন কি হবে তা বলতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিক, আজ দুপুরে উইকেট দেখে কম্বিনেশন ঠিক করা হবে বলে জানালেন তিনি। বাংলাদেশের ১৫তম সিরিজ জয়ের সুযোগ, ২০১০ সালের অক্টোবর ও ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর আর কোন সুযোগ আসেনি বাংলাদেশের। তাই সেই সুযোগের অপেক্ষায় স্বাগতিকরা।

Saturday, December 1, 2012

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের মতো জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নের মতো জয়

ক্রিস গেইল যেন তামিম ইকবালে ভর করলেন! বাংলাদেশের ওপেনার বল মারলেন একদিকে কিন্তু গেল অন্যদিকে। তবে এমন জোরে মারলেন যে সেটি শেষ পর্যন্ত ছক্কাই হয়ে গেল। আইপিএল কিংবা বিপিএলে গেইলের ব্যাটে এমন কত ছক্কা হতে দেখেছেন নিশ্চয়ই! গায়ের জোরে মিস হিটেও বল বাতাসে ভেসে সীমানাছাড়া হওয়ার ঘটনা গেইলের ব্যাটেই রচিত হতে দেখবেন বলে প্রস্তুতি ছিল পরম বাংলাদেশ-ভক্তেরও। আর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শারীরিক শক্তির অভাব নিয়ে হাহাকারের মধ্যে গেইলের জোরটা কিনা উল্টো ক্ষণিকের জন্য চলে এলো তামিমেই!
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওলট-পালটের বিশাল ও বিস্তৃত ছবির এটি একটি সামান্য খণ্ডচিত্র মাত্র। বাংলাদেশের বিপক্ষেই যেসব ঘটবে বলে অনুমান ছিল, এর বেশির ভাগই ঘটল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে। এই যেমন টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসার ঘটনায় সমালোচনা হয়েছে খুব। পরিস্থিতির দাবি বুঝে ব্যাটিং করার অক্ষমতার জন্য তাঁদের শূলে চড়ানোই বাকি ছিল কেবল। অথচ কাল ম্যাচের শেষে ঠিক এ কাজটাই করার জন্য নিজ দলের ব্যাটসম্যানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহ-অধিনায়ক কিয়েরন পোলার্ড। উল্টো ঘটনার শেষ এখানেই নয়, আরো আছে।
নতুন নিয়মে ওয়ানডের ফিল্ডিং বাধ্যবাধকতার খৰ বাংলাদেশের ওপরই বেশি পড়বে বলেই মত ছিল সর্বাধিক। বাংলাদেশ যেহেতু স্পিন-নির্ভর দল, কাজেই তাদের স্পিনারদের ওপর দিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা ঝড় বইয়ে দেবেন বলেও মনে করেছিলেন অনেকে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল ঠিক বিপরীত। আশঙ্কার 'নন-পাওয়ার প্লে' ওভারেই বরং বাংলাদেশ শেষ করে দিল ক্যারিবীয়দের। দিলেন স্পিনাররাই। প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটের আটটিই তো তুলে নিয়েছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে অলআউট হওয়ার আগে ক্যারিবীয়রা ১৯৯ রান করেছেন বটে, কিন্তু তাঁদের সব উইকেটই পড়েছে নন-পাওয়ার প্লের ৩১.৫ ওভারে। তাও আবার মাত্র ১১২ রানে। এত কিছু উল্টে-পাল্টে যখন যায়, তখন অনুমানের ফলটাও ওল্টাতে বাধ্য। বাংলাদেশও তাই ৭ উইকেটের অনায়াস জয় দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আনন্দে ডুবল না শুধু, নিউজিল্যান্ডকে টপকে এই প্রথমবারের মতো আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের আট নম্বরেও উঠে গেল!
সাতসকালে ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন সামি টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর আশঙ্কার মেঘ জমছিল আরো। তাঁরা না আবার সাড়ে তিন শ-চার শ করে ফেলে! কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই দেখা মিলতে লাগল ভিন্ন সব চিত্রের। ম্যাচ শেষে যে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম জয়ের ভিত্তি গড়ে দেওয়ার কৃতিত্বটা দলের দুই পেসারকে দিচ্ছিলেন, সেটা তো আর এমনি এমনি দেননি। সকালে মাশরাফি বিন মর্তুজা আর অভিষিক্ত আবুল হাসান মিলে কেমন বোলিং করছিলেন, সেটি প্রথম ৩ ওভারে স্কোরবোর্ডে ক্যারিবীয়দের ৩ রান জমা হওয়াতেই পরিষ্কার। প্রথম পাওয়ার প্লেতে অবশ্য তাঁদের দুজনের খরুচে ওভারও আছে। মাশরাফির ১ ওভার থেকে দুটো বাউন্ডারি আর ছক্কায় গেইল তুলেছিলেন ১৪ রান। হাসানের আরেক ওভার থেকে ১৬। এ দুটো বাদ দিলে প্রথম পাওয়ার প্লের বাকি ৮ ওভারে তাঁরা দিয়েছেন মোটে ১৭ রান!
এ সময়ের মধ্যে হাসানের বলে ওপেনার লেন্ডল সিমন্স জীবন ফিরে পেয়েছেন একাধিকবার। পরাস্ত হয়েছেন আরো বহুবার। সেই সিমন্সকে (১৩) এলবিডাবি্লউ করে ক্যারিবীয়দের প্রতি প্রথম আঘাতটা হানেন মাশরাফিই, যাঁর প্রথম স্পেলটা এখানে না তুলে দিলে হচ্ছেই না : ৭-২-২৪-১!
আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন সোহাগ গাজীও। টেস্টে দুবার এ অফ স্পিনারের বলে আউট হওয়া গেইল (৩৫) এবারও তাঁর শিকার। লং অনের ওপর দিয়ে তুলে মারতে যাওয়া মারকাটারি ব্যাটসম্যান সীমানা দড়ির ঠিক আগে তামিমের অসাধারণ এক ক্যাচ হয়েছেন। যে ধরনের ক্যাচ নেওয়ার সুখ্যাতি তামিমের নেই বললেই চলে। পরের ওভারে মারলন স্যামুয়েলসকে (০) স্লিপে মাহমুদ উল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে সোহাগ ক্যারিবীয়দের ওপর চেপে বসার পথ খুলে দেন আরো। ১৬ বলের মধ্যে ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ক্যারিবীয়দের বিপদ আরো বাড়তে থাকে বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক আক্রমণে আসতেই। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতেই থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর গেইল-স্যামুয়েলসদের ব্যর্থতার দিনে দলের ত্রাতা হতে ব্যর্থ পোলার্ড-আন্দ্রে রাসেলরাও। তাঁদের দুজনকে ফেরানো রাজ্জাক ৩৯ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। তবে টেস্টের পর ওয়ানডে অভিষেকেও সবাইকে ছাড়ানো পারফরম্যান্স সোহাগ গাজীর। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রুবেল হোসেনের ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেওয়াই এত দিন ওয়ানডে অভিষেকে কোনো বাংলাদেশির সেরা বোলিং ছিল। কাল ২৯ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পথে সোহাগ ফিরিয়েছেন 'পথের কাঁটা' হয়ে থাকা সুনীল নারিনকেও (৩৬); ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংসে যিনি দলকে প্রায় ২০০ ছোঁয়া স্কোরে নিয়ে যেতে রেখেছেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা। না হলে ১৩৩ রানে ৮ উইকেট খুইয়ে বসা ক্যারিবীয়দের তো আরো আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।
লক্ষ্য যখন সাধ্যের মধ্যে, তখন একটু উচ্চাভিলাষী হতেও খুব একটা বাধা নেই। তামিম তাই চালাতে শুরু করলেন। কেমার রোচের বলে যেমন একদিকে মেরে অন্যদিকে ছক্কা পেলেন। ৪৬ বলে ফিফটিতে পেঁৗছে যাওয়া এ বাঁহাতি ওপেনার শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে ৫৮ করে আউট হওয়ার সময় বাংলাদেশের সহজ জয়ের ভিত গড়া হয়ে গেছে। বিসিবি একাদশের হয়ে জাতীয় দল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটো প্রস্তুতি ম্যাচে বড্ড নড়বড়ে দেখানো এনামুল হকও (৪১) অভিষেকে দারুণ সঙ্গ দিলেন তামিমকে। ওপেনিংয়েই তাই ৮৮ উঠে যাওয়ার পর অন্যদের কাজটা ছিল সাবধানে বাকি পথটা পেরোনোর। নাসির হোসেনের (২৮) বিদায়ের পর তিন নম্বরে ব্যাট করা নাঈম ইসলাম (৫০*) আর অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (১৬*) মিলে নিরাপদেই গন্তব্যে পেঁৗছে দিয়েছেন দলকে।
এরপর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ম্যাচ সেরার প্রতীকী চেক হাতে সোহাগ গাজী! ওলট-পালটের সবচেয়ে বড় ছবিও বোধ হয় দিনের শেষে এটাই!

অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের জয় উৎসর্গ

অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের জয় উৎসর্গ


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দুটি ম্যাচে হারের মুখ দেখলেও ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা চমত্কারভাবে করেছে বাংলাদেশ। খুলনায় আজ সফরকারীদের ৭ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। টেস্টে ব্যর্থতার পর আত্মবিশ্বাস ফেরানো এ জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা উত্সর্গ করেছেন ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানা ও আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া পোশাকশ্রমিকদের উদ্দেশে। স্মরণকালের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১১ জন শ্রমিক।
ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ চমৎকার দলীয় পারফরমেন্স উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। দলের অন্যতম প্রধান ভরসা সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতেও ৭ উইকেটের জয়টা সত্যিই খুব আশাব্যঞ্জক। প্রথমে বল হাতে সোহাগ গাজী ও আবদুর রাজ্জাকের দারুণ পারফরমেন্সে ভর করে উইন্ডিজকে মাত্র ১৯৯ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ। পরে ব্যাট হাতেও দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছেন টাইগাররা। তামিম ইকবাল, নাঈম ইসলাম, অভিষিক্ত ওপেনার এনামুল হকের বিবেচনাপ্রসূত ব্যাটিংয়ের ফলে ১০ ওভার হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচ শেষে দলের পারফরমেন্স নিয়ে কিছু বলার আগে মুশফিক বলেছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে ২০০৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন মানজারুল ইসলাম রানা। বিসিবি তাঁর স্মৃতি স্মরণে রেখে একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করেছে বলে আমরা খুবই খুশি। আমরা আজকের এই জয়টা উত্সর্গ করছি তাঁর ও ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্দেশে।’
টেস্ট সিরিজে দুটি ম্যাচেই হারের পর ওয়ানডে সিরিজটা জয় দিয়ে শুরু করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুশফিকুর রহিম। সেই সঙ্গে চমৎকার বোলিং করার জন্য স্পিনারদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে, সেটা মাথায় রেখে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘টেস্টে আমরা বেশ কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য দেখেছি। কিন্তু দলগতভাবে সমন্বিত পারফরমেন্স সেভাবে ছিল না। আজ আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত পারফরমেন্সটাই দেখাতে পেরেছি। সেটার জন্য আমি খুবই খুশি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর জোর চেষ্টা করবে। ফলে আমাদেরও সেটা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ ২ ডিসেম্বর খুলনায় সিরিজের দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচ হবে।

Sunday, November 25, 2012

টেস্টে সাকিবের ১০০ উইকেট

টেস্টে সাকিবের ১০০ উইকেট

 


হঠাৎ গোটা স্টেডিয়াম নীরব, নিস্তব্ধ। সাকিবের সকালের আনন্দ, বিকালে দেখা দেয় দুঃখে। অথচ একটু সাবধানী হলেই সাকিব হতে পারতো ১০০-তে ১০০। টেস্ট ক্যারিয়ারে গতকালই সকালে ১০০ উইকেট শিকারীর খাতায় নাম লিখিয়েছেন সাকিব। আর বিকালে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র তিন রান দূরে পারমলের বলে সজোরে শট হাঁকালেন। মিডঅফে বল উড়ে গেল আকাশে। সেখানে ফিল্ডার টিনো বেস্ট ভুল করলেন না। ক্যাচ লুফে নিয়ে সাকিবকে দেখালেন সাজঘরের পথ। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ চতুর্থদিন মাঠ ছাড়লো ৩৫ রানে পিছিয়ে থেকে। এর আগে দুপুরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে একশ’ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব নিজের দখলে নেন সাকিব। ৩৩ ম্যাচে ৪০.৭৬ গড়ে ১০০ উইকেট নিয়ে এতোদিন সবার উপরে ছিলেন রফিক। আর তার সেরা ৬/৭৭। নিজের ২৮তম টেস্টেই রফিককে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন সাকিব। সাকিব রফিকের এই রেকর্ড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ায় অনেক খুশি।
বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন। দিনের নায়ক হয়ে উঠলেন সাকিব আল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ৪টি উইকেট নিয়ে ছুঁয়ে ফেললেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১০০টি উইকেট দখলের ল্যান্ডমার্ক। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চতুর্থদিন ব্যাট করতে নেমে ভারতকে ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে এক ইনিংসে দলগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এতদিন ছিল ভারতের। ২০০৭ সালে ঢাকায় ভারত ৩ উইকেটে ৬১০ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছিল। গতকাল খুলনা টেস্টের চতুর্থ দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯ উইকেটে ৬৪৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। এই রান স্কোর আরও বড় হতে পারতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খুলনায় দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন এক ওভারে দীনেশ রামদিন ও ড্যারেন স্যামিকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে রফিকের পাশে দাঁড়ান সাকিব। পরে পরপর দুই বলে বীরাসামি পারমল ও সুনীল নারাইনকে বিদায় করা এই অলরাউন্ডার টেস্ট উইকেট এখন ১০২টি। দ্বিতীয় টেস্টের মধ্যাহ্ন-বিরতি পর্যন্ত ৩২.৫১ গড়ে এই উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর আগে তার ম্যাচ সেরা শিকার ৯/১১৫ উইকেট। এই নিয়ে সাকিব ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে নিয়েছেন সর্বোচ্চ ২৯টি উইকেট। তার ১০২টি উইকেটের মধ্যে বাংলাদেশের মাটিতে নিয়েছেন ৬৩টি উইকেট।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৬১ রানের লিড তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল টপ অপর্ডার ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় পড়ে চরম ব্যাটিং বিপর্য়য়ে। মাত্র ৬২ রানেই হারায় ৫ উইকেট। সেখান থেকে ৫ম উইকেটে দলের হাল ধরেন সাকিব ও নাসির হোসেন। গড়ে তোলেন ১৪৪ রানের জুটি। দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে নিয়ে যান এই দু’জন। শেষ বিকালে এক প্রান্ত আগলে রেখে সাকিব তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১ তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন। এর পর তিনি সেঞ্চুরি থেকে ৩ রান থেকে আউট হন। এর আগে তিনি টেস্টে আরও চারবার ৯০-এর ঘর পার করেছেন। কিন্ত ভাগ্য তাকে সেঞ্চুরি উপহার দেয়নি। ২০০৮ সালে ঢাকাতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৬ রান করেন তিনি। এরপর ২০০৯ সালে দ্বিতীয় বার ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। আর ২০১০ সালে ঢাকাতেই তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ৯৬ রান। আর গতকাল তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০টি চার ও একটি ছয়ের মারে ১১৭ বল খেলে ৯৭ রান করে আউট হন। তিনি বাংলাদেশের দলের ক্রিকেটার যিনি সর্বোচ্চ ৪ বার নার্ভাস নাইনটিজের শিকার। তার আগে ছিলেন হাবিবুল বাসার ২ বার। তার আউটের পর ৬৪ রান নিয়ে আপরাজিত আছেন নাসির হোসেন।
সাকিব আল হাসানের এই শেষ মুহূর্তে আউট হওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার মো. রফিক বলেন, ‘আসলে এমন সময় ওর আউট হওয়াটা কারো জন্যই সুখকর হয়নি। নিজের জন্যও না, দলের জন্যও না। ওর শেষ মুহূর্তে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তাহলে কাল (আজ) দল আরও ভাল অবস্থানে থাকতো। এই ১০০ উইকেটের চেয়ে এই ১০০ রান ওকে নিয়ে যেতো আরও উচ্চতায়।

Thursday, November 22, 2012

অনন্য আবুল হাসান

 অনন্য আবুল হাসান



অভিষেক টেস্টে ১০ নম্বরে ব্যাট করে সেঞ্চুরি। সর্বশেষ এই কীর্তিটা গড়েছিলেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান রেগি ডাফ, ১৯০২ সালে। দীর্ঘ ১১০ বছর পর খুলনায় আজ বুধবার একই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার আবুল হাসান।
অভিষেকে ১০ নম্বরে ব্যাট করা সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকায় আবুল হাসান দ্বিতীয়। টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৫ বছরের ইতিহাসে ১০ নম্বরে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান তিনি। এবার এই ১০ নম্বর স্থানের আলোচনাটা বাদ দেওয়া যাক। অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে সেঞ্চুরি পেয়েছেন কেবল দুজন—আমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আশরাফুল। এ দিক থেকে অভিষেকে সেঞ্চুরি পাওয়া বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হলেন আবুল হাসান।
খুলনা টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে আবুল ব্যক্তিগত ১০০ রানে অপরাজিত আছেন। কাল আরও বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবেন, এটা প্রত্যাশিত। অবশ্য শুধু সেঞ্চুরি দিয়ে তাঁর অবদান মূল্যায়ন করতে গেলে ভুল হবে। দুঃসাহসী এক ইনিংস খেলে তিনিই তো খুলনায় বাংলাদেশের নায়ক।
বাংলাদেশের ইনিংসটা এবার দেখুন। দলীয় ৫ রানে প্রথম উইকেটের পতন। একপর্যায়ে ১৯৩ রানে অষ্টম উইকেট হারিয়ে বসে মুশফিকুর রহিমের দল। আক্ষরিক অর্থেই খেলা থেকে ছিটকে পড়ার অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছেন ২০ বছর বয়সী আবুল হাসান।
১০৮ বলে ১০০ রান। অবিস্মরণীয় এই ইনিংসে রয়েছে ১৩টি চার ও তিনটি ছয়ের মার। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তো বটেই, গোটা ক্রিকেট-বিশ্বই আজ চমকে গেছে এই তরুণের ব্যাটিংয়ে।
আবুলকে যথার্থ সঙ্গ দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। দিন শেষে তিনি অপরাজিত আছেন ব্যক্তিগত ৭২ রানে। আবুল-মাহমুদউল্লাহর অবিচ্ছিন্ন ১৭২ রানের জুটিতে দুর্দান্তভাবে খেলায় ফিরেছে বাংলাদেশ। ৮ উইকেটে ১৯৩ রান থেকে দিনশেষে বাংলাদেশ সেই ৮ উইকেটেই ৩৬৫। নিজেদের এক যুগ পুরোনো টেস্ট ইতিহাসে এমন ঘটনা আর কতবার ঘটাতে পেরেছে বাংলাদেশ?

শত বছরের সেরা রেকর্ড

শত বছরের সেরা রেকর্ড


ইতিহাসগড়া দিনে ইতিহাসই গড়লেন আবুল হাসান রাজু। মৌলভীবাজারের ছেলে এই বোলার পুরো জাতিকে মাতালেন ব্যাট হাতে। দলকে উদ্ধার করলেন চরম বিপর্যয়ের হাত থেকে। তার সাবলীল ব্যাটিংয়েই খুলনা তথা গোটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে হাসি ফুটেছে। না হয়, মাত্র তিন আগে শেষ হওয়া মিরপুর টেস্টে অর্জিত সব কৃতিত্বই ম্লান হয়ে যাচ্ছিল। তবে পড়ন্ত বেলায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর আবুল হাসান দারুণভাবে বাংলাদেশকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন।। খুলনায় অভিষেক টেস্টের প্রথম দিনটি এর চেয়ে স্মরণীয়ভাবে বোধহয় শেষ হতে পারতো না। নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে অনেক আশা আর আনন্দ নিয়ে মাঠ আর বাইরে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী নারী আর পুরুষ। কিন্তু রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের আকাশ ভারি হয়ে উঠেছিল হতাশার কালো মেঘে। তবে দিনের আলো নিভে গেলেও স্টেডিয়ামে আলো কমতে দেননি আবুল হাসান রাজু। বাংলাদেশে যখন ‘আবুল’ নামটি রীতিমতো খলনায়কে পরিণত হচ্ছিল ঠিক তখন আবুল হাসান দেশের গর্ব হয়ে এলেন। গড়লেন শত বছরের রেকর্ড। পড়ন্ত বিকালে নবম উইকেটে ব্যাট করতে নেমে হাঁকালেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি। সঙ্গে সঙ্গে ছুঁয়ে ফেললেন ১১০ বছরের ইতিহাসও। ক্রিকেট ইতিহাসে টেস্ট অভিষেকে ১০ নাম্বারে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকানোর কৃতিত্ব তার আগে মাত্র একজনেরই ছিল। ১৯০২ সালে মেলবোর্নে আস্ট্রেলিয়ার র‌্যাগি ডাফ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেই ১০৪ রান করেছিলেন। তবে তার সেটি ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে। আর আবুল হাসান করেছেন ১০৮ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেছেন প্রথম ইনিংসে। সেদিক থেকে আবুল হাসানকে অনন্যই বলতে হবে। আর চার রান হলে তিনি ১১০ বছরের রেকর্ড ভেঙে এই তালিকায় থাকবেন সবার উপরেই। বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক টেস্টে আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর মোহাম্মদ আশরাফুলের পর হাসান তৃতীয় ব্যটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকালেন। দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৮ উইকেটে ৩৬৫ রান। ১৯৩ রানে অষ্টম উইকেট পতনের পর যোগ হয়েছে আরও ১৭২ রান। ৭২ রানের ইনিংস খেলে হাসানকে যোগ্য সাহচর্য দেন সহঅধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। টেস্ট ইতিহাসে নবম উইকেটে এটি চতুর্থ সেরা জুটি।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে আবুল হাসান বলেন, আমি আসলে সেঞ্চুরি বা রেকর্ডের জন্য খেলিনি। দলের জন্য সেই মুহূর্তে এমন একটা ইনিংস খেলা প্রয়োজন ছিল, তা-ই করেছি। অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি করা আমিনুল ইসলাম বুলবুল এখন দেশের বাইরে। তবে দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান আশরাফুল টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ায় ঘরে বসেই দেখেছেন আবুল হাসানের অসাধারণ এই ইনিংস। তিনি বলেন, আমি এক কথায় বলবো অসাধারণ ইনিংস। আমরা দু’জন অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছি ব্যাটসম্যান হিসেবে আর ও তো বোলার। সেই হিসেবে ওর সেঞ্চুরিটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের। বলতে পারেন ওর জন্য এমন একটি ইনিংস আমাদের চেয়েও দ্বিগুণ খুশির। আর দলের জন্যও বিশেষ উপকারে এসেছে ওর সেঞ্চুরিটি। নয়তো বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে দিন শেষে এত রান জমা পড়তো না।’
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯৮ রানেই ৫ উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। এমন বিপর্যয় ভাবতেই পারেননি খুলনায় শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকরা। তবে তাদের হতাশা দূর করেছেন জাতীয় দলে সিলেটের নতুন সংযোজন আবুল হাসান রাজু। তাই খুলনার দর্শকরা তার নাম নিয়ে মিছিল করতে করতে স্টেডিয়াম ছাড়েন। তবে আবুল হাসানের কাছে তার ইনিংসটা হলো নিজের সাধারণ খেলার ফল। তিনি বলেন, আসলে বাজে বল যখন এসেছে তখন আমি মেরেছি।
টস জেতার আনন্দ ম্লান হতে সময় লাগেনি বেশি। দলীয় মাত্র ৫ রানে নাজিমুদ্দিনের আউট দিয়ে হতাশার দিন শুরু। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে প্রথম সেশনে ৮৮ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এর পর দলীয় ৯৮ রানে ৫ম উইকেটের পতন। নাজিমের বিদায়ের পর তামিম ইকবাল ৩২, শাহরিয়ার নাফিসের ২৬ রানের কল্যাণে একটু ধাক্কা সামলে ওঠে দল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের জুটি ভাঙ্গে শাহরিয়ার নাফিস আউট হলে। দলের স্কোর তখন ৬৪। দলীয় ৭৭ রানের সময় তামিম, ৯৩ রানে নাঈম ইসলাম (১৬) ও ৯৮ রানের সময় সাকিব আল হাসান ১৭ রানে আউট হলে দল চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। তবে সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন। মুশফিক ৩৮ ও নাসির হোসেন তার তৃতীয় টেস্ট ফিফটি তুলে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। দলীয় ১৮৫ রানের সময় ৬৮ বলে ৮টি চার ও ১ টি ছয়ের মারে ৫২ রান করা নাসির আউট হন। এরপর ১৯৩ রানে আবারো ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে। মুশফিকের আউটের পর সোহাগ গাজীও ফিরে যান ০ রানে। ৮ উইকেটে স্কোর ১৯৩। আর এই আশঙ্কা আর সংশয়ের ওপর দাঁড়িয়েই শুরু হয় মাহমুদুল্লাহ ও আবুল হাসানের সংগ্রাম। রবি রামপাল ইনজুরিতে খেলতে না পারায় দলে জায়গ হয়েছিল ফিদেল এডওয়ার্ডসের। কিন্তু তিনিও কম নন। দূর্দান্ত বোলিংয়ে নিয়েছেন ১৬ ওভারে ৮১ রানের খরচায় বাংলাদেশের ৫টি উইকেট। স্যামি নিয়েছেন দু’টি আর পারমল একটি। হতাশায় কেটেছে বিশ্ব কাঁপানো সুনীল নারাইনের।