Pages

Friday, March 8, 2013

নতুনদিনের আশায় বাংলাদেশ

নতুনদিনের আশায় বাংলাদেশ


আজ গলে যে সূর্য উঠবে; অনেক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হবে সে। এই স্টেডিয়ামে আজ প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ, এই স্টেডিয়াম থেকে আজ যাত্রা শুরু হবে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের যুগ, এই স্টেডিয়ামে আজ অভিষেক হবে দু'দলের বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের। তবে এসব 'নতুন' নিয়ে খুব ভাবনায় থাকার কথা নয় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। আজ তাদের একটাই ভাবনা থাকার কথা—গল স্টেডিয়ামের নতুন এই পর্বে শ্রীলঙ্কা দলটির বিপক্ষে সব অবমাননার স্মৃতি ভুলে আজ নতুন করে শুরু করতে হবে।

এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের স্মৃতি একটু হলেও ইতিহাস বদলানোর অনুপ্রেরণা যোগাবে বাংলাদেশকে। সেই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সেরা বেশ কয়েক জন ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিও সাহস যোগাবে বাংলাদেশকে। আর শ্রীলঙ্কার জন্য চ্যালেঞ্জ—বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রবল প্রতাপের ইতিহাস ধরে রেখে নতুন যুগের শুরু করা।

বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছে। অন্তত ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত দলের অধিনায়ক পরিষ্কার বলছেন, এবার তাদের লক্ষ্য অতীত রেকর্ডের পরিবর্তন ঘটানো। সেটা শুধু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বলে নয়; টেস্টে ক্রিকেটে নিজেদের সামগ্রিক যে রেকর্ড সেটাই উন্নত করার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলছিলেন, ম্যাচের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ ধরে রাখার পর শেষ দু'দিন এসে লড়াই থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারটাই বদলাতে চান তারা। বদলাটা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খুবই জরুরি। বড় টেস্ট দল বলতে যাদের বোঝায়; তাদের কারোরই পূর্ণ শক্তির দলের বিপক্ষে জয় নেই বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের খর্ব শক্তির দলের বিপক্ষে জয় আছে; ড্র আছে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে। বাকি দলগুলোর বিপক্ষেও আর কিছু না হোক, লড়াই করে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে হারের সান্ত্বনাটা অন্তত আছে। শুধু এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই বাংলাদেশের দুঃখ আর অবমাননা ছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে আর কোনো স্মৃতি নেই।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ পর্যন্ত ১২টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। বলাই বাহুল্য যে, সবগুলোতেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৭টি ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হার। বাকি ৫টি ম্যাচে যথাক্রমে ২৮৮ রান, ৮ উইকেট, ১০ উইকেট, ১০৭ রান এবং ৪৬৫ রানের পরাজয়! এই পরিসংখ্যানই বোঝাতে পারে যে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কেমন অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয় বাংলাদেশকে। এবার সেই চিত্রটাই বদলাতে চায় বাংলাদেশ।

এই চিত্র বদলানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ ইনজুরির সঙ্গে লড়াই। ইনজুরি আগেই দল থেকে কেড়ে নিয়েছে সাবেক অধিনায়ক, দেশের সেরা ক্রিকেটার এবং পৃথিবীর অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। এ ছাড়া ইনফর্ম ক্রিকেটার নাঈম ইসলাম, শাহরিয়ার নাফীস, এনামুল হক জুনিয়রও আগেই ছিটকে গেছেন ইনজুরিতে। সমস্যা চলছে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর পরও। তামিম ইকবালের ইনজুরির ফলে তার খেলা নিয়ে সংশয় আছে। সংশয় আছে পেসার আবুল হোসেনের খেলা নিয়েও।

এসব অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে বাংলাদেশের তারুণ্যনির্ভর দল প্রায় 'কিশোর দল'-এ পরিণত হতে যাচ্ছে। দলে মোমিনুল হকের টেস্ট অভিষেক এক রকম নিশ্চিত। শ্রীলঙ্কা থেকে দলের একটা সূত্র জানালো, প্রায় নিশ্চিত মোহাম্মদ আশরাফুলেরও দলে ফেরা। একটু অনিশ্চয়তা আছে এনামুল হক বিজয়ের টেস্ট অভিষেক নিয়ে। বিজয় নাকি জহুরুল; কে ইনিংস শুরু করবেন তামিমের সঙ্গে এ নিয়ে সংশয় আছে। সংশয় আছে আসলে তিন ওপেনারকে নিয়েই।

এসব সংশয় নিয়ে অবশ্য বেশি একটা ভাবতে রাজি নন অধিনায়ক মুশফিক। তার মতে, এখন যে দল তিনি হাতে পাচ্ছেন; সেটিও পিছিয়ে নেই। ইনফর্ম খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দল নিয়ে টানা পাঁচদিন লড়াই ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামতে চান তিনি, 'আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও চারদিন খুব ভালো খেলে শেষ দিনে ম্যাচ হেরেছি। ফলে শুধু ভালো শুরু বা একটা-দুটো সেশন ভালো করাটা লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য পাঁচদিন ধরে ভালো খেলা ধরে রাখা। সে ক্ষেত্রে আমরা ভালো ফল আশা করতেই পারি।'

No comments:

Post a Comment