Pages

Thursday, March 7, 2013

আবদুল জলিল : না ফেরার দেশে

আবদুল জলিল : না ফেরার দেশে


আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবদুল জলিল আর নেই। গতকাল সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয় আবদুল জলিলকে। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। গত সোমবার বাইপাস সার্জারির পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। গতকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ, বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী,এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। সদা অমায়িক দরাজ হৃদয়ের অধিকারী আবদুল জলিল দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আন্তরিকতাপূর্ণ ব্যবহারের জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় নেতা। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান জলিল। তার আগে আওয়ামী লীগের বিগত সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর একটি চিঠিতে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন জলিল। ওই সময়ের পর দলের একটি অংশের কাছে বিরাগভাজন হয়ে পড়েন প্রবীণ এ নেতা। মুক্তি পাওয়ার পর তাকে আর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। গত নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৪১ সালের ২১শে জানুয়ারি নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন। নওগাঁ কে.ডি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। সেখানে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৬৩ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন এবং ১৯৬৪ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য লন্ডনে যান। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আবদুল জলিল স্ত্রী, দুই পুত্র ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জলিল একটানা ১৬ বছর নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদে শোক
আবদুল জলিলের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ সংসদে আবদুল জলিলের মৃত্যুর খবরটি জানিয়ে সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। স্পিকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। এরপর শোক প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।

No comments:

Post a Comment