Pages

Thursday, January 31, 2013

আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!

আ. লীগ নেতা ধর্ষণ করলেন ভাতিজার বিধবা স্ত্রীকে!

এক বিধবা ধর্ষণের শিকার হয়ে নালিশ করেছিলেন ধর্ষকের চাচার কাছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার তিন দিন পর ওই চাচাই আবির্ভূত হন ধর্ষকের ভূমিকায়। ওই নারীর অভিযোগ, এবার তাঁকে ধর্ষণ করা হয় তাঁর শিশুসন্তানের সামনেই। ভয়ে তিনি ১০ দিন পালিয়ে ছিলেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ওই নারীকে নিয়ে থানায় অবস্থান করছেন একটি নারী সংগঠনের এক নেত্রী এবং একজন জনপ্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে সাংবাদিকরা ওই এলাকায় গিয়ে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর নাম আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া (৬০)। তিনি শরীফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার শরীফপুর গ্রামের ওই নারীর স্বামী মারা যান প্রায় আট বছর আগে। তখন পরিবারটির দায়িত্ব নেন ওই নারীর চাচাশ্বশুর তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া। এরপর থেকে ওই নারী সন্তানদের নিয়ে চাচাশ্বশুরের বাড়িতেই থাকেন। এরই মধ্যে তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে ঢাকায়
চাকরি করেন। ছোট দুই ছেলে ও এক মেয়ে তাঁর সঙ্গে থাকে।
ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাল মিয়া ও তাঁর ভাতিজা আমীর দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে আমীর তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। ওই সময় তাঁর ঘরে থাকা ছয়-সাত বছরের ছেলেসন্তান ঘুমিয়ে ছিল। বিষয়টি কাউকে জানালে ঢাকায় কর্মরত ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় আমীর। এর পরও ঘটনাটি লাল মিয়াকে অবহিত করেন ওই নারী। তিনি জানান, গত ২০ জানুয়ারি রাতে লাল মিয়া কাজ আছে বলে তাঁকে দরজা খুলতে বলেন। দরজা খোলামাত্রই তিনি তাঁকে জাপটে ধরে ধর্ষণ করেন। ধস্তাধস্তির কারণে দরজায় ধাক্কা লেগে তিনি পিঠে ব্যথাও পান। ওই নারীর অভিযোগ, ১০-১২ বছর বয়সী মেয়ের সামনেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। ওই রাতেই তিনি মেয়েকে নিয়ে অন্য বাড়িতে চলে যান। সকালে স্থানীয় কয়েকজনকে জানালে তাঁরা বিষয়টি কেউ বিশ্বাস করবে না বলে বিচার চাইতে কিংবা মামলা করতে নিষেধ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, 'ঘটনার রাতেই ওই মহিলা আমাদের বাড়িতে আসেন। এসেই তিনি পানি পান করেন। এরপর থেকে ভয়ে এ-বাড়ি ও-বাড়ি অবস্থান করছিলেন। ভয়ে মামলা করতেও যেতে পারছিলেন না তিনি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, 'এলাকার অনেকেই ঘটনা সম্পর্কে জানেন। কিন্তু ওই মহিলার কাছের কোনো আত্মীয় না থাকায় কেউ সাহস করে এগিয়ে আসছেন না। এ ছাড়া লাল মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী। তাই কেউ মুখ খুলছে না। আমি মহিলার জন্য এগিয়ে এলে আমাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।'
এদিকে আমীর হোসেনের ভাই তকদির হোসেন জানান, এসব কথা একেবারেই মিথ্যা। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে এসব কথা বলে বেড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাই এখন বাড়িতে নেই। তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না।
আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ ওরফে লাল মিয়া মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমীরের বিষয়ে ওই মহিলা আমাকে কিছু বলেনি। আমার মনে হয় সে গ্রাম্য রাজনীতির শিকার। আমিও অনেক দিন চট্টগ্রামে ছিলাম। বাড়িতে এসে শুনি আমার নামে এসব বলা হচ্ছে। যা বলা হচ্ছে সবই মিথ্যা। মেয়েটি আমাকে আব্বা বলে ডাকে। এখন সে বাড়িতে নেই। তাকে পেলে আমি জিজ্ঞেস করব, সে কেন এমন করছে। আমার মনে হয়, আমাকে নিয়েও রাজনীতি হচ্ছে। কেউ আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। তবে কে বা কারা এমন করছে সেটা এখনো বুঝতে পারছি না।'
এ ব্যাপারে শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুদ্দিন চৌধুরী সাফি মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ওই মহিলা আমাকে ঘটনা খুলে বলেছেন। ওনাকে থানায় নিয়ে এসেছি। আমি অভিযুক্তদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলছে বিষয়টি ষড়যন্ত্র। এখন সবকিছু না জেনে, খোঁজ না নিয়ে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।'
দুর্বার নারী নেটওয়ার্ক কুমিল্লা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক শাহানা খায়ের বলেন, 'সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি ওই গ্রামে যাই। ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনে বিচার পাওয়ার জন্য তাঁকে থানায় নিয়ে এসেছি।'
আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. গোলাম ফারুক বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমরা ওই মহিলার কাছ থেকে ঘটনা শুনছি। এলাকায় অফিসার পাঠিয়েও খবর নিয়েছি। ঘটনা পুরোপুরি সত্য কি মিথ্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি যেহেতু ওই মহিলার চাচাশ্বশুর ও একজন বয়স্ক লোক, তাই এটি খতিয়ে দেখা হবে। ওই মহিলা মামলা দিলে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

রংপুরের প্রতিশোধ

রংপুরের প্রতিশোধ




মাত্র ১২২ রান করেও ৩৩ রানের বড় জয় তুলে নিলো রংপুর রাইডার্স। গতকাল চট্টগ্রামে দিনের দ্বিতীয় খেলায় রংপুর ১২২ রানে গুটিয়ে গেলেও খুলনাকে অলআউট করে দেয় মাত্র ৮৯ রানে। চলতি আসরে এটি সর্বনিম্ন দলীয় রান। অথচ এর আগে এক ম্যাচে খুলনা বিনা উইকেটে ১৯৭ রান তুলে রেকর্ড গড়েছিল। খুলনাকে ধসিয়ে দেয়ার পেছনে রংপুরের ক্যারিবীয় পেসার ফিডের এডওয়ার্ডস মূল ভূমিকা রাখেন। তিনি নেন ১১ রানে চার উইকেট। আর তাকে যোগ্য সহায়তা দেন অধিনায়ক দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। তিনি ৩ উইকেট নেন ২১ রানে। খুলনার শেষ ৬ উইকেট পড়ে ৭৯ থেকে ৮৯ রানে। সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন আসিফ। ১৫ রান করেন ডেভ হ্যারিস ও মিজান। এর আগে রংপুরের পক্ষে কেভিন ও’ব্রায়েন সর্বোচ্চ ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২৩ রান করেন ডেভ হায়াত, ২১ রান করে করেন নাসির ও বরগাস। গত শুক্রবার খুলনায় রংপুর রাইডার্স খুলনার ১৫০ রানের জবাবে ১৪১ রান করে হেরে গিয়েছিল। কাল যেন সেই হারের প্রতিশোধ নিলো তারা। পাঁচ খেলায় রংপুরের এটি তৃতীয় জয় আর ৬ খেলায় খুলনার চতুর্থ হার। ম্যাচসেরা হন চার উইকেট নেয়া এডওয়ার্ডস। পুরো ম্যাচে চক্কা হয় দুটি। একটি মারেন রংপুরের বরগাস আর অপরটি খুলনার ওয়েসেলস।

ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি

ভাগ্যবশত আমি সেলিব্রেটি


নিজেকে নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাকযুদ্ধে ভীষণ বিরক্ত বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান। তাই তিনি এবার নিজেই মুখ খুললেন। নিঃসংকোচে বললেন, আমি একজন ভারতীয়। আমার পিতা ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। ভারতে আমার নিরাপত্তায় কোন সমস্যা নেই। সমপ্রতি একটি ম্যাগাজিনকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারের পর পাকিস্তান ও ভারতের রাজনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়। নেতাদের মধ্যে চলতে থাকে বাকযুদ্ধ। তাতে জড়িয়ে পড়েন দু’ দেশের মন্ত্রীরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এমনকি পাকিস্তানের জামায়াতুত দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাঈদ পর্যন্ত শাহরুখ খানকে ভারতে নিরাপত্তায় সমস্যা হলে পাকিস্তান চলে যেতে আমন্ত্রণ জানান। এর পরেই শাহরুখ খানকে নিরাপত্তা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক। এর কড়া জবাব দেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব আর কে সিং। তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানোর কোন অধিকার নেই। তারা যেন তাদের নিজেদের নিয়ে ভাবেন। একই রকম বক্তব্য উঠে আসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে। দু’দেশের নেতাদের মধ্যে যখন এমন বাকযুদ্ধ চলছে তখন ফের মুখ খুললেন শাহরুখ খান। তিনি বললেন, ওই ম্যাগাজিনকে এমন কিছু আমি বলি নি যে, আমি ভারতে নিরাপত্তাহীন। তিনি বলেন, আমি ভারতীয় হয়ে এবং আমার পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে গর্বিত। এখানে আমার কোনই সমস্যা হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, আমাদের সবারই তিনটি সুনির্দিষ্ট পরিচয় আছে। এর মধ্যে দু’টি পরিচয় আমরা জন্মসূত্রে অর্জন করি। প্রথমটি হলো- জন্মস্থান। যা আমার মাতৃভূমি। এটাই আমাদের পরিচয়। তাই আমি ভারতীয় পরিচয় দিয়ে গর্ব বোধ করি এ জন্য অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন। দ্বিতীয়টি হলো পারিবারিক নাম। যা আমাদের পিতা-মাতা দিয়ে থাকেন। আমার জন্য সেই নাম হলো খান। আমি আমার পিতা-মাতাকে নিয়ে খুব গর্বিত। এখানকার অন্যরাও তাদের পিতা-মাতাকে নিয়ে গর্ব বোধ করেন। শর্তহীনভাবে আমি তাদেরকে ভালবাসি। তৃতীয় পরিচয় হলো- আমাদের পেশা। কোন এক ভাগ্যবশত আমি একজন সেলিব্রিটি হয়ে গিয়েছি। এটি আর্ট ও মিডিয়ার একটি ফিগার। আমার মতো অনেকেই আছেন। তৃতীয় এই পরিচয়টি আমাকে মাঝে মধ্যেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। কখনো তা ভাল। কখনও তা শুভ নয়। কখনও আমাকে নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ আমার নামকে ব্যবহার করেন। তাতে কেউ ইতিবাচক, কেউ নেতিবাচক ফল পান। আমি এসবই মেনে নিই। কারণ এইতো জীবন। আমাকে যারা স্টার বা তারকা বানিয়ে দিয়েছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এখন আসি আমাকে নিয়ে যে বিতর্ক তাতে। আমাকে নিয়ে (ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে) যে বিতর্কের সূচনা তার কোন ভিত্তি আমি দেখি না। ওই বিবৃতিতে শাহরুখ খান আরও বলেন, আমি যে প্রতিবেদনটি লিখেছি তাতে আমি বলতে চেয়েছি, আমি একজন ভারতীয় মুসলিম তারকা হিসেবে কি সব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমি মনে করি (যারা এই বিতর্কে জড়িয়েছেন) তারা এই লেখাটি ঠিকমতো পড়েননি। তাই আমি সবাইকে বলবো- আপনারা আগে লেখাটি পড়ুন। দ্বিতীয়ত বলবো- যদি পড়ে থাকেন তাহলে এতে কোথাও এমন কোন কথা পাবেন না যেখানে আমি প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বলেছি যে, আমি ভারতে নিরাপদ নই। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে, তা-ও বলিনি। এমনকি আমি গত ২০ বছরের ক্যারিয়ারে যাদের ভালবাসায় আজকের শাহরুখ খান হয়েছি তাদের প্রতি কোন অশ্রদ্ধা প্রকাশ করিনি। আমাকে আমার দেশবাসী ও নারীরা খুবই ভালবাসেন। তাই আমি আজকের খান। আমার মধ্যে কোন অহমিকার ধারণা আসে নি। তার পরিবর্তে আমার জীবন লাখ লাখ ভারতীয়ের ভালবাসায় সিক্ত। গত ২০ বছরে আমি যে ভালবাসা পেয়েছি তা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোন সমপ্রদায়ের নয়, সবার। আমি শুধু দেশেই নয়, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভালবাসা পেয়েছি। ওই বিবৃতিতে তিনি হাফিজ সাঈদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা আমাকে অনাকাঙিক্ষত পরামর্শ দিয়েছেন বা দিচ্ছেন তারা যেন বুঝতে পারেন যে, আমরা ভারতীয়রা ভীষণভাবে নিরাপদ ও সুখী। আমাদের চমৎকার গণতন্ত্র আছে। জীবনে রয়েছে মুক্ত ও ধর্মনিরপেক্ষ পথ বেছে নেয়ার সুযোগ। আমরা ভারতে যে পরিবেশে বাস করি এখানে কোন নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান নয় এমন ইস্যু নিয়ে কথা বলা অমূলক। তারপরও যারা আমার দৃষ্টিভঙ্গি অন্যভাবে দেখছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন তাদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা আমার ওই লেখাটি দয়া করে একবার পড়ে দেখুন। বিবৃতির শেষের দিকে তিনি লিখেছেন, আমরা সবাই শিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক। আমার নিজের পরিবার ও বন্ধুরা যারা আমার কাছে একটি মিনি ভারত- এই আমাদের সঙ্গে সবার রয়েছে সহনশীলতা, সমঝোতা, ভালবাসা। আমি লাখ লাখ ভারতীয় ও ভারতের বাইরে যেসব দর্শক-ভক্তের ভালবাসা পেয়েছি সেই ভালবাসাই আমার পুঁজি। এটা আমার প্রমাণ করার কিছুই নেই।

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান

ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়া- বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাঁচান


যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে ২০১৩ সাল কি একটি সন্ধিক্ষণ হবে? আমার দেশ ১৫ কোটি মানুষের। ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী অংশে এর অবস্থান। ১৯৭১ সাল থেকে এ দেশটি স্বাধীন। আমাদের নিজেদের গন্তব্য নির্ধারণের জন্য যেসব দেশ প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। কিন্তু সামপ্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে খাটো করে দেখা হচ্ছে, এর অর্থনৈতিক আনুগত্য বিশ্বের ক্রমবর্ধমান শক্তিগুলোর দিকে ধাবিত তখন যুক্তরাষ্ট্র অলস অবস্থানে আছে বলে অভিযোগ আনা যেতে পারে। এ সময়ে দু’দেশের সম্পর্কে চলে টানাপড়েন।
এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, কংগ্রেস বা বিভিন্ন সংস্থা সহায়তার ক্ষেত্রে যে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে তার কিছুই করেনি তা নয়। এখন থেকে ৬ মাস আগে, বিশ্বব্যাংক চার মাইল দীর্ঘ একটি সেতু প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রত্যাহার করে নেয়। গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় কোন একক অবকাঠামোর প্রকল্প। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুর্নীতি ও তহবিল তছরূপ নিয়ে তদন্ত দাবি করে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের বাংলাদেশ ককাসের সদস্যরা গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিন্দা জানান। গ্রামীণ ব্যাংকও ওই পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। এই ব্যাংক লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে। তাকে অপসারণের কারণ? এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ভুল ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়েছে: ‘যদি বাংলাদেশে কেউ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখেন, তাহলে তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কারের কোন দাবি করেছেন এ বিষয়ে বেশির ভাগ বাংলাদেশী একমত হবেন না। বাংলাদেশের আধাসামরিক বাহিনী, শেখ হাসিনার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের হাতে ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৩০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের এ সংখ্যা নিবন্ধিত। তাদের পরিবারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করুন। অথবা শ্রমিক অধিকার বিষয়ক নেতা খুন হওয়া আমিনুল ইসলামের পরিবারের কথাই বিবেচনা করুন। তাকে হত্যা করার পর এএফএল-সিআইও যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৃশংসতার অভিযোগে স্থানীয় পর্যায়ে যেসব রাজনৈতিক নেতা ও তার সমর্থকদের স্থানীয় যুদ্ধ অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত করা হচ্ছে তারাও শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
শুধু বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে এ বিচার করার জন্য যুদ্ধ অপরাধ বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের দূত শেখ হাসিনা সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন। ডিসেম্বরে দি ইকোনমিস্ট ফাঁস করে দেয় ই-মেইল ও ফোন রেকর্ডিং। তাতে প্রকাশ হয়ে পড়ে হাসিনা প্রশাসন কিভাবে এ বিচার নিয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং কিভাবে তারা হাসিনার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য বিচারকদের করছে।
সহজ কথা হলো- গত ৫ বছর ধরে, এশিয়ার অন্যতম উজ্জ্বল গণতন্ত্রের দেশ থেকে কিভাবে দ্রুতগতিতে সরতে সরতে বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে এক পরিবারকেন্দ্রিক ক্ষমতার কেন্দ্রে। এখন নির্বাচনের আগে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রয়োজন মুছে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বাস্তবে, তিনি নিজেই এই শাসন ব্যবস্থা প্রচলনে সহায়তা করেছিলেন। এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখভালের জন্য গঠন করা হয় নির্দলীয় সরকার- যাতে ক্ষমতাসীন সরকার কোন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে না পারে।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা এক রকম নিশ্চয়তা। যদি ভোটাররা নতুন একটি সরকারের জন্য ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাহলেই ক্ষমতা হাতবদল হয়। এ বছরের শেষের দিকে সাধারণ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে প্রতিবাদে সমবেত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও দৃশ্যত, শেখ হাসিনা সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করছেন, জনপ্রিয় বিরোধী দল তার শাসনের বিরোধিতা করলেও এতে তিনি পুনঃনির্বাচিত হবেন।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পরই মিয়ানমার সফর করেন। বাংলাদেশের প্রতিবেশী এই মিয়ানমার ছিল একঘরে। সে অবস্থা থেকে তারা বেরিয়ে আসছে। বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের ক্রমবিকাশ হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি এক পরিবারের শাসনে হাল ছেড়ে দেয় তাহলে এ অঞ্চলের জন্য তা হবে এক বড় পশ্চাৎ যাত্রা। এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আশায় ভরা একটি অঞ্চল। কারণ, আমেরিকা স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে তাদের মতামত দেয়ার সুযোগ পান।
যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের, যেমন গ্রেট বৃটেন, আছে ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করানোর জন্য প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা। এটাকে নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ থেকে পিছলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে তাদের বক্তব্য ও পদক্ষেপ আরও শক্তিশালী হওয়া দরকার। তাই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ব্যক্তিরা যারা দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য স্বীকৃতি লাভ করেছেন তাদের অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে কংগ্রেস ও বৃটিশ পার্লামেন্টের। অন্যদিকে শেখ হাসিনা কেবলমাত্র স্বীকৃতির লোভ করে যান।
শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বোঝাতে হবে যে, যারা শ্রমিক অধিকারকে সমর্থন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিরোধিতা যারা করেন তাদেরকে যদি মত প্রকাশ করতে দেয়া না হয় তাহলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে তা প্রত্যাহার করা হবে। এই শাসক গোষ্ঠীর যারা গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে খাটো করে দেখে- পশ্চিমা শক্তিগুলোর তাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অবরোধ বিবেচনা করা উচিত। আমাদের জনগণের সামনে এসব কথা তাদের প্রকাশ্যে বলা ও করা উচিত যাতে আমাদের নাগরিকরা তা দেখতে ও শুনতে পান। এভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে গণতান্ত্রিক মিশন প্রতিষ্ঠায় রত আছে তা নিশ্চিত করতে পারে।
কথায় আছে, আইনের আদালতের চেয়েও বড় আদালত হলো মানুষের বিবেক। পূর্ণ বিবেকবোধ দিয়ে এটা বলা অসম্ভব যে, শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও দারিদ্র্য দূরীকরণ নিরাপদ নয়। এসবই রয়েছে ভয়ানক বিপদের মুখে। এখন আমেরিকার নেতৃত্বে বিশ্বের সামনে সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ও তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়ার।

Wednesday, January 30, 2013

মোবাইল হ্যাকিং থেকে সাবধান!

মোবাইল হ্যাকিং থেকে সাবধান!



মোবাইলে টাকা রিচার্জ করার পর ব্যালান্স শূন্য। কোন ফোন করা হয়নি এসএমএস দেয়া হয়নি। তাহলে টাকা কোথায় গেল! কাস্টমার কেয়ারে ফোন করায় জানা গেল আপনার মোবাইল হ্যাকিং করা হয়েছে। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আপনার মোবাইলের টাকা অন্য মোবাইলে নেয়া হয়েছে। কোন মোবাইলে নেয়া হয়েছে কিভাবে করা হয়েছে এর কোন প্রমাণ কাস্টমার কেয়ারে নেই। গতকাল ওয়ান ব্যাংক কর্মকর্তা হাসিব খান এভাবেই বর্ণনা করেন তার মোবাইল হ্যাকিংয়ের কথা। মোবাইল ফোন অপারেটর ও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্যমতে, কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের ইতিহাস পুরনো। এটা প্রায় সকলের জানা। কিন্তু মোবাইল হ্যাক একেবারেই নতুন একটি আতঙ্ক। নিজের মোবাইল কখন হ্যাকাররা হ্যাক করছে তা টেরও পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের মোবাইলে ইন্টারনেট ও ব্লুটুথ ব্যবহার হচ্ছে- তাদের মোবাইল হ্যাক করতে হ্যাকারদের খুব বেশি বেগ পেতে হচ্ছে না। যারা ইন্টারনেট ও ব্লুটুথ ব্যবহার করছেন না- তাদের মোবাইলও হ্যাক করছে হ্যাকাররা। এতে ব্যক্তিগত সব তথ্য কপি করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। এমনকি আপনার নিজের নাম্বারটি ব্যবহার করে হ্যাকাররা অনায়াসে কথা বলে যাবে আপনি টেরও পাবেন না। সরজমিনে বিভিন্ন মোবাইলের কাস্টমার কেয়ার ঘুরে দেখা যায় প্রায় হরহামেশায় এই ধরনের অভিযোগ আসে। ফার্মগেটের গ্রামীণফোন কাস্টমার সেন্টারের এক কর্মকর্তা বলেন, মাঝে মাঝে আমাদের কাছে কাস্টমাররা অভিযোগ করে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করার পর তা শূন্য হয়ে যায়। আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমরা হেড অফিসে জানাই। পরে অভিযোগটি যাচাই করে দেখা যায়, কখনও গ্রাহকের অজান্তেই বিভিন্ন প্যাকেজ চালু করার জন্য টাকা কাটা হয়। আবার অনেক সময় ক্লোনিং -এর মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়া হয়। বিটিআরসির সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোন হ্যাকিংয়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অপরিচিত কোড(+৯) দিয়ে ফোন কল আসার বহু নজির রয়েছে। বাংলাদেশেও মোবাইল ফোন সিম ক্লোনিং -এর ঝুঁকি খুবই বেশি। এমন হতেই পারে ক্লোনিং কিংবা হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু বিষয়টি যাচাই না হওয়া এবং সচেতনতার অভাবের কারণে জানা যাচ্ছে না। আগে থেকে সতর্কতা মহল ব্যবস্থা নিলে দেশের কোটি কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্যামল বলেন, আমার নিজের মোবাইল থেকে একবার টাকা রিচার্জ করার পর ব্যালেন্স শূন্য হয়েগিয়েছিল। পরে কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেয়ার পর সেখান থেকে কোন সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। বিটিআরসির এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে একই নাম্বারের সিম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করছে। ক্লোন পদ্ধতিতে এই কাজটি করা হচ্ছে। এটা ধরা কঠিন কাজ না হলেও যন্ত্রপাতির অভাবে কাজটি করা যাচ্ছে না মোবাইল অপারেটরদের কাছে একাধিক অভিযোগ আসে। হ্যাকাররা মোবাইল ফোন সিমকার্ড ক্লোনিংয়ের জন্য ব্যবহার করছেন একটি ইউনিকোড। এই ইউনিকোডটি প্রথমে কলারের হ্যান্ডসেট কিংবা পিসি অথবা সার্ভারে মাদার ফাইল হিসাবে অ্যাকটিভ করা হয়। পরে ওই কোড নাম্বার যে কোন মোবাইল ফোন নাম্বারে প্রবেশ করালেই মোবাইল ফোন নাম্বারটি কপি হয়ে যাচ্ছে। অপরিচিত কোন নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে হ্যাকার নিজের পরিচয় দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট ফোন অপারেটরের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের কর্মী হিসেবে এবং ফোন ব্যবহারকারীকে নেটওয়ার্ক নির্বিঘ্ন আছে কিনা তা যাচাই করতে বিশেষ কোডটি চাপতে অনুরোধ করছে। যিনি কলটি রিসিভ করেছেন তিনি কলারের কথামতো কোড চাপার সঙ্গে তার ফোন নম্বর ক্লোনিং হবে তেমনি তার ফোনের ডাটা কপি হতে শুরু করবে। এমনকি কলটি কেটে দিলেও কপি চলবে। ফোনের পাওয়ার সুইচ বন্ধ করা ছাড়া এই কপি বন্ধ করা সম্ভব না।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেন, মোবাইল নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। বহুদিন থেকে মোবাইল হ্যাকিং নিয়ে মানুষ ভোগান্তির মধ্যে থাকলেও বিটিআরসির কোন পদক্ষেপ নেই। শুধুমাত্র মোবাইল হ্যাকিংয়ের বিষয় নয় মোবাইল কোম্পানির আরও অনেক অভিযোগ থাকলেও বিটিআরসির পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেই। মোবাইল অপারেটররা দানবের মতো আচরণ করছে আর বিটিআরসি নীরবে তা সহ্য করছে। তিনি আরও বলেন, আমার কাছে একজন ব্যক্তির অভিযোগ ছিল যার গ্রামীণফোনের সিমের মাধ্যমে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ ডলার সমপরিমাণ টাকা তুলে নিয়েছিল। গ্রামীণফোনের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করলেও গ্রামীণফোনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নাকচ করে দেন।
হ্যাকররা শুধু ফোন করে গ্রাহকদের কোড নাম্বার চাপতে অনুরোধ করছে তাই নয়, তারা ওই কোড নাম্বার ব্যবহার করে কলও করছে। এক্ষেত্রে বিপদ আরও বেশি। এ ধরনের কল রিসিভ করার সঙ্গে সঙ্গে রিসিভারের হ্যান্ডসেটেরে সব তথ্য চলে যাবে হ্যাকারের কাছে। এ সংক্রান্ত একাধিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী “#, + কিংবা *” দিয়েই ইউনিকোডের শুরু হয়। এ কারণে এ ধরনের প্রতীক দিয়ে শুরু যে কোন ধরনের কল গ্রহণ না করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। এছাড়া কেউ ফোন করে গ্রাহকসেবা কর্মী পরিচয় দিলেই তার কথা অনুযায়ী কাজ না করা। সম্প্রতি দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জাতি সংঘের প্রতিষ্ঠান আইটিইউ (ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন)-র কাছে দাবি জানিয়েছে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিতে অনুরোধ জানিয়ে ছিল। বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশ বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এই দাবির সঙ্গে একমত ছিল। কিন্তু আইটিইউ ২০১৫ সাল পর্যন্ত ইন্টারনেটের ওপর নিজ নিজ দেশের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে।

দেলোয়ারের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন ‘ইউ উইল বি কিল্‌ড’

দেলোয়ারের বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন ‘ইউ উইল বি কিল্‌ড’


ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের সংস্কারপন্থিদের স্বীকৃতি দেয়ার বৈঠকে অংশ নিতে মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয়েছিল খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে। সামরিক বাহিনীর তৎকালীন ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আমিন ও ব্রিগেডিয়ার বারী ২০০৭ সালের ২৮শে অক্টোবর তাকে ডেকেছিলেন ধানমণ্ডির একটি বাসায়। পরদিন সাইফুর রহমানের বাসায় অনুষ্ঠেয় বৈঠকে অংশ নিতে চাপ দিয়েছিলেন। তাদের প্রস্তাব ও হুমকিতে ভাবলেশহীন খোন্দকার দেলোয়ারকে একপর্যায়ে মারতে গিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার আমিন। বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছিলেন- ‘ইউ উইল বি কিলড, ইউর ফ্যামিলি উইল বি ডেস্ট্রয়েড’। এমনভাবেই সে দুঃসহ দিনের বর্ণনা করেছেন তার মেয়ে ডা. লুনা খোন্দকার। সেদিন ছেলেকে গ্রেপ্তার করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ও বিশ্বস্ত দেলোয়ার চিকিৎসার জন্য বারডেমে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে কৌশলে করেছিলেন আত্মগোপন। তার এ অনমনীয় ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে অনিবার্য বিপর্যয় থেকে বেঁচে গিয়েছিল বিএনপি। তার এ সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হয়েছে তাকে নিয়ে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিচারণে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেলোয়ার হোসেনের ভূমিকার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন, বিপরীত ধারার রাজনীতি করেও তারা ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে পরস্পরের বাড়িতে ছুটে গেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর হোসনে আরা হোসেন লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় খোন্দকার দেলোয়ার কিভাবে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে ছুটে গিয়েছিলেন বড় ভাইয়ের কর্মস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। খোন্দকার দেলোয়ারের মজলিসি চরিত্রের বর্ণনা করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া। তার অনাড়ম্বর জীবন, চলাফেরা ও খাদ্যাভাসের স্মৃতি তুলে ধরেছেন সাংবাদিক আতাউস সামাদ, নূরুল কবীর, সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার প্রফেসর ড. আবদুল করিম। ওয়ান ইলেভেনের সময় পরিবারের ওপর চাপ ও ২৯শে অক্টোবরের আত্মগোপন নিয়ে লিখেছেন তার অনুজ রাজনৈতিক সহকর্মী মহিউদ্দিন খান মোহন, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ছেলে খোন্দকার আকতার হামিদ পবন ও মেয়ে ডা. লুনা খোন্দকার। জরুরি সরকারের আমলে রাজনৈতিক দুঃসময়ে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের একনিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বাণী দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম তার স্মৃতিচারণে লিখেছেন- ‘এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তেজনাকর মুহূর্তগুলোতে আমার ধানমণ্ডির বাসায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলের লিয়াজোঁ কমিটির অনেক গোপন বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সব সময় খোন্দকার দেলোয়ার সাহেব উপস্থিত থাকতেন। আন্দোলনকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিতে কর্মসূচি নির্ধারণে তার বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা ও আন্তরিকতা ছিলো লক্ষণীয়। ...জাতীয় সংসদে প্রকাশ্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে ’৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিল পাস হলেও এর পেছনে অনেকের অবদান ছিল। এদের একজন ছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সাহেব। যা অবশ্যই আজ আমাকে বলতে হবে। ... ’৯২ সালে গোলাম আযমসহ অন্যদের গ্রেপ্তার ও বিচারের ব্যাপারে বিরোধী দল হিসেবে আমরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করি। পরে লাগাতার বর্জন শুরু করি। দীর্ঘ বর্জনের এক পর্যায়ে খোন্দকার দেলোয়ার সাহেব আমার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে সংসদের একটি কক্ষে আলোচনায় বসেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমি তাকে আমার ধানমণ্ডির বাসায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনার আমন্ত্রণ জানালে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অচলাবস্থা নিরসনে আমার বাসায় আসেন। আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তদানীন্তন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কক্ষে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রেক্ষিতে সরকারি দলের তদানীন্তন উপনেতা ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী গোলাম আযমের বিচারসহ চারটি বিষয়ে সংসদের উন্মুক্ত অধিবেশনে ঘোষণা দান করেন। আর এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের দীর্ঘদিনের সংসদ বর্জনের অবসান ঘটে।’ কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম লিখেছেন- ‘খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর এত প্রশংসা যারা করলেন, তারা তার জীবিতকালে অমন সীমাহীন জঘন্য সমালোচনা না করলেই কি পারতেন না? আজ যারা গলা ফাটিয়ে কথা বলেন তারা কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের জরুরি অবস্থার সময় ইঁদুরের গর্তে লুকিয়েছিলেন। সেদিন এই খোন্দকার দেলোয়ারই একজন নির্ভীক রাজনীতিবিদের মতো সিংহের তেজে মাঠে-ময়দানে ছিলেন। তার নিজের দল বিএনপিতেও তিনি কম অপমানিত-লাঞ্ছিত হননি।’
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন লিখেছেন- ‘রাজনীতির বাইরেও তার সাথে আমার একটা আলাদা সম্পর্ক ছিল উভয়ের নামের শুরুতে ‘খোন্দকার’ থাকার কারণে। আমি তাকে সব সময় ‘সিনিয়র খোন্দকার সাহেব’ বলে সম্বোধন করতাম। তিনি সব সময় মিষ্টি হেসে তা উপভোগ করতেন। ... প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর স্বৈরাচারী এরশাদ যখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে শামসুল হুদা ও ডা. মতিনের মাধ্যমে ঢাকা মিরপুরের বিউটি সিনেমা হলে বিএনপি নামে একটি সম্মেলন করে বিভক্ত করতে অপচেষ্টা করেছিল, তখন যে কয়জন নেতা বিএনপি’র মূলধারা শহীদ জিয়ার রাজনীতিকে সমুন্নত রেখেছিলেন তাদের মধ্যে খোন্দকার দেলোয়ারের নাম উল্লেখযোগ্য। ... বিভিন্ন সংস্থা ও মহল তাকে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার জন্য হেন চেষ্টা নেই যা করেনি। এমন চাপের মুখে তিনি সেদিন এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে, তার মৃত্যু হতে পারে তবুও তাকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে সরানো যাবে না। সেদিন আমরা কারাগারে থেকে উৎসাহিত হয়েছিলাম এবং আশ্বস্ত হয়েছিলাম।’ স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস লিখেছেন- ‘সারাজীবন খোন্দকার দেলোয়ার যেসব বন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন, চিন্তা-ভাবনা ও মতবিনিময় করেছেন, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন রাজনৈতিক আলাপচারিতায়- ১/১১ পর সেই বন্ধুরা চক্রান্তকারীদের এজেন্ট হয়ে দলের চেয়ারপারসনের গলায় ছুরি বসাতে তৎপর হয়ে ওঠে সংস্কারপন্থির খোলস পরে। দেলোয়ার ভাই তখন সেই বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছিলেন অসীম সাহসিকতায়, আদর্শিক চেতনায়, কৃতজ্ঞতাবোধের ঈমানি দায়িত্বে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন- ‘এই পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকেন যাদের স্বরূপটা সুস্পষ্ট হয় অসময়ে, সঙ্কটকালে, অনিশ্চিত মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত ক্ষণে। তিনি যে আপাদমস্তক রাজনীতিক ছিলেন, তার নিজের দলের প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন, দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে দলীয় আদর্শকে প্রাণপণে ভালবাসতেন তার প্রকাশ অন্য সময়ে যেমন ছিলো, তার হাজার গুণ বেশি প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চরম সঙ্কটকালে।... ওই সময়ে তার সাহস, তার আত্মবিশ্বাস, তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিলো তুলনাহীন। তিনি ওই সঙ্কটকালে শক্তভাবে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এবং দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে জাতীয়তাবাদী দলের বিপর্যয় ঘটে যাওয়া অসম্ভব ছিলো না।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন- ‘জাতীয়তাবাদী ঘরানার মধ্যপন্থি, উদার, বাম ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল তার নিত্যসঙ্গী। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের যে মৌলিক শিক্ষা, শহীদ জিয়ার যে আদর্শিক অনুপ্রেরণা, বেগম খালেদা জিয়ার যে দিক নির্দেশনা-তা ছিল খোন্দকার দেলোয়ারের মূল শক্তি ও প্রেরণা। এই প্রেরণার পথে তিনি চলেছেন সারাজীবন, আমৃত্যু। ... যখন ১/১১ পর একটি বিতর্কিত ও ক্ষতিকর সরকার রাষ্ট্র দখল করে এবং বেগম জিয়া, তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের সর্বাত্মক আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র চালায়- তখনও খোন্দকার দেলোয়ার ছিলেন আপসহীন, অটল। দল ও নেতৃত্বের প্রতি এমন শর্তহীন বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য বর্তমান সময়ে এক বিরল ও অনুকরণীয় উদাহরণ।’ আতাউস সামাদ লিখেছেন- ‘খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন রাজনীতিতে নমনীয়তা এবং সহাবস্থানের পক্ষে ছিলেন। চিফ হুইপ হিসেবেও তিনি সমঝোতার পক্ষে কাজ করতেন বলে শুনেছি। অতি আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নমনীয় খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনই অত্যন্ত দৃঢ়তা ও দুঃসাহসের সঙ্গে ১/১১’র জরুরি আইনের সরকারের পেছনের সেনাশাসকরা বিএনপি ভাঙার জন্য যে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল, যাতে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন সরাসরি সহায়তা দিয়েছিল, তা প্রতিহত করেছিলেন। আর তা করেছিলেন বৃদ্ধ বয়সে এবং ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে।’ সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া লিখেছেন- ‘বিচিত্র এই জীবনের চলার পথে চলতে চলতে কত মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, আবার হঠাৎ কেউ হারিয়ে যায়। কিন্তু আবার কেউ কেউ হারিয়ে গেলেও তাদের কথা ভোলা যায় না। তেমনি দেলোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় আমার স্বামী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে। বিয়ের পর থেকে আমার স্বামীর কাছ থেকে দেলোয়ার ভাইয়ের এত কথা, এত গল্প শুনেছি, তাই উনার সঙ্গে আমার স্বামী যখন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন তখন মনে হয়েছে উনি আমার বহু পরিচিত। প্রথম দেখাতেই পরিচয় পেয়েছি তার উদার ও অমায়িক ব্যবহারের। মুখে তার হাসি লেগেই থাকতো এবং শুনেছি ওরা দু’জন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। ইউনিভার্সিটিতে একই সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। তারা দু’জন ছাত্রজীবনে একই সঙ্গে গল্প করতেন, ঘুরে বেড়াতেন। আমার স্বামী প্রায়ই বলতেন আমাকে- ‘দেলোয়ারের মনটা খুব পরিষ্কার। দেলোয়ার ভাই খুব ভাল গল্প বলতে পারতেন। আর বন্ধু-বান্ধবের সান্নিধ্য তার খুব প্রিয় ছিল। ... ২৭শে জানুয়ারি সেই কালরাত্রিতে আমার স্বামীকে যখন গ্রেনেডের আঘাতে মৃত্যুবরণ করতে হলো সেদিন দেলোয়ার ভাই ও তার পরিবার ছুটে এসেছিলেন আমাদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য।’ সাংবাদিক শফিক রেহমান ‘জিরো আওয়ার’ অনুষ্ঠানে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি ছিলেন একজন ক্লাসিক্যাল পলিটিশিয়ান।’ ...বেগম খালেদা জিয়া খুব স্বল্পভাষী ও মৃদুভাষী। তবুও আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, খোন্দকার দেলোয়ার যে সাহসী এটা আপনি বুঝলেন কি করে? তিনি (খালেদা জিয়া) আমাকে বললেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি জেনেছিলেন যে খোন্দকার দেলোয়ার একজন সাহসী লোক। আমি বায়তুল মোকাররমে তাকে দেখেছি পুলিশ যখন লাঠিপেটা করছিল তখন তিনি পালিয়ে না গিয়ে পুলিশের সামনে গিয়েছিলেন এবং লাঠির বাড়িও খেয়েছিলেন।’ নূরুল কবীর লিখেছেন- ‘এমন মানুষকে, রাজনৈতিক-দার্শনিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও, পছন্দ না করেও পারা যায় না। আমিও দেলোয়ার ভাইকে পছন্দ করতাম। তার সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবন-যাপনের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করতাম।’ কণ্ঠশিল্পী আপেল মাহমুদ লিখেছেন- ‘দেশের জন্য, মানুষের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। আজ দলের যে অবস্থান এই বিশাল ব্যাপ্তির জন্য সিংহভাগ কৃতিত্ব আমাদের শ্রদ্ধেয় মরহুম দেলোয়ার ভাইয়ের।’ যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল লিখেছেন- ‘কি এক জাদুকরী ব্যক্তিত্ব! তার সাথে রাগ করা যায় কিন্তু অশ্রদ্ধা করা যাবেই না। ঘৃণার তো প্রশ্নই আসে না। নীতি এবং বিশ্বাসবোধ এর ভিত্তি কতটা দুঃসাহসী এবং অনমনীয় করতে পারে একজন মানুষকে, তার বিরল দৃষ্টান্ত তিনি। যথার্থই এক সংশপ্তক। ... তিনি যেন একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞানাগার। কেউ ছাত্র হতে চাইলে সে পরম মমতাময় একজন শিক্ষক পেতেন, রাজনীতি শিখতে চাইলে সে অকৃপণ হাতের ভাণ্ডার নিতে পারতেন, হতাশায় নুয়ে পড়া কেউ কাছে গিয়ে নিষ্কলুষ স্বীকারোক্তি দিলে আশার সঞ্জীবনী সুধা নিয়ে ফিরতে পারতেন।’
খোন্দকার দেলোয়ারের বড় ছেলে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলুর সম্পাদনায় স্মারকগ্রন্থে স্মৃতিচারণ লিখেছেন- দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ড. মাহফুজ পারভেজ, বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেল, নুরে আরা সাফা, কবীর মুরাদ, মীর সরফত আলী সপু, আরিফুর রহমান নাদিম, এডভোকেট জিল্লুর রহমান, শাকিল ওয়াহেদ, আবুল কালাম আজাদ, ড. খাজা নাজিমউদ্দীন, খোন্দকার দেলোয়ারের ছেলে এএইচ খোন্দকার জগলু, ডা. আকতারা খাতুন লুনা, খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু, ডা. দেলোয়ারা বেগম পান্না, ডা. লুনা খন্দকার প্রমুখ। এছাড়াও স্মারকগ্রন্থে দেশে-বিদেশে খোন্দকার দেলোয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তোলা ও পারিবারিক ছবি, তার মৃত্যুতে বিদেশী দূতাবাসের শোকবার্তা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কাটিং রয়েছে।

Tuesday, January 29, 2013

সিলেট সীমান্ত থেকে ৪ বাংলাদেশীকে অপহরণ করেছে বিএসএফ

সিলেট সীমান্ত থেকে ৪ বাংলাদেশীকে অপহরণ করেছে বিএসএফ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত থেকে চার বাংলাদেশীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বিএসএফ। গতকাল বিকালে সীমান্ত এলাকায় পায়চারী করার সময় তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় বিজিবি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। বিএসএফ পতাকা বৈঠকে সাড়া দিলেও গতকাল রাত পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় লোকজন জানান, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আলেম মাওলানা হাবিব আল জালাল ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিতে সোনারহাট সীমান্তের ভাদেশ্বর গ্রামে আসেন। গতকাল বিকালে স্থানীয় ভাদেশ্বর গ্রামের যুবক সোহেল আহমদ, নাজমুল ইসলাম, মাওলানা হাবিব আল জালালসহ চারজন সোনার হাট ও কলুমছড়া সীমান্ত ফাঁড়ির মধ্যবর্তী স্থানে পায়চারী করছিলেন। এ সময় সীমান্তের ওপার থেকে বিএসএফ জওয়ানরা এসে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিজিবির ৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল শফিউল আযম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আজ বৈঠক হবে। স্থানীয় লোকজন জানান, মাওলানা হাবিব সহ চার জন পায়চারী করার সময় ভুলক্রমে জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঢুকে পড়লে তাদের ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

জ্যাকুলিন আবারও রগরগে দৃশ্যে

জ্যাকুলিন আবারও রগরগে দৃশ্যে


‘রেস-২’ ছবিতে ‘লাট লাগ গ্যয়ি’ গানটির মাধ্যমে তুমুল আলোচনায় অবস্থান করছেন বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। ‘মার্ডার-২’-এর পর এই গানটি জ্যাকুলিনের ক্যারিয়ারের মোড়ই ঘুরিয়ে দিয়েছে। যার কারণে হঠাৎ করেই দারুণ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। যেখানে প্রেমিক চলচ্চিত্র পরিচালক সাজিদ খানের নির্দেশনা অনুযায়ী খুব কম সংখ্যক ছবিতে অভিনয় করছিলেন জ্যাকুলিন, সেখানে ‘রেস-২’-এর প্রমো প্রচার হওয়ার ক’দিনের মধ্যেই সাত সাতটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। এই সাতটি ছবি থেকে তিনটি ছবির কাজ শুরু করেছেন জ্যাকুলিন। এর মধ্যে দুটি ছবিতে জন আব্রাহামের বিপরীতে কাজ করছেন। আর অন্য ছবিটিতে কাজ করেছেন রণবীর সিংয়ের বিপরীতে। এই প্রথম জ্যাকুলিন রণবীরের সঙ্গে কাজ করছেন। ছবিতে রগরগে কিছু দৃশ্যেও দেখা যাবে তাকে। তবে জানা গেছে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা জ্যাকুলিনের ওপর থেকে তুলে নিয়েছেন সাজিদ। আর সে কারণেই নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী এখন কাজ করছেন জ্যাকুলিন। অনেকেই বলছেন সাজিদের সঙ্গে সম্পর্ক ধীরে ধীরে চুকিয়ে ফেলতে চাচ্ছেন জ্যাকুলিন। তবে এই বিষয়টিতে তাদের দু’জনের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে রণবীরের সঙ্গে জুটি হয়ে করা ছবিটিতে ব্যাপক খোলামেলাভাবে উপস্থাপিত হচ্ছেন জ্যাকুলিন। ছবিটি চলতি বছরের শেষের দিকে মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন আশ্বিন পাটেল।

‘শিবির দেখলেই গুলি’

‘শিবির দেখলেই গুলি’


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শিবির কর্মীদের দেখা মাত্র পুলিশকে গুলির নির্দেশ দিয়েছেন। আইজিপির সামনেই তিনি এ নির্দেশ দেন। গতকাল দুপুরে শিবিরের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে দেখতে যান পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার। তার সঙ্গে ছিলেন ডিএমপির কমিশনার বেনজির আহমেদ। তিনি হাসপাতালের তিন নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কনস্টেবল মোকলেছুর রহমানের খোঁজখবর নেয়ার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘অস্ত্র ছিল না, গুলি করতে পারোনি? এখন থেকে শিবির দেখামাত্র গুলি করবা।’
এরপর চার নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পায়ে আঘাত পাওয়া কনস্টেবল জিয়াউরকে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পায়ের আঘাত সুস্থ হয়ে উঠে ওদের পা ভেঙে দিবা। উল্লেখ্য, গতকাল সকালে থেকে রাজধানীর দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, স্টেডিয়াম এলাকা, জিরো পয়েন্ট ও সচিবালয় এলাকায় শিবিরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
এতে মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হায়াতুজ্জামান, পেট্রোল ইন্সপেক্টর সানোয়ার, অপারেশন অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, সার্জেন্ট গোলাম সারোয়ারসহ ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, পুলিশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কারণে শিবিরকর্মীরা তাদের বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। হামলা চালিয়ে যে নাশকতা চালানো হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ সময় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক আবু মুসা মোহম্মাদ ফকরুল ইসলাম, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

Monday, January 28, 2013

দুবাইয়ে বাংলাদেশী চক্রের অন্ধকার জগৎ

দুবাইয়ে বাংলাদেশী চক্রের অন্ধকার জগৎ


দুবাইয়ে বাংলাদেশী চক্রের অন্ধকার জগতে বন্দি হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব বাংলাদেশী এক যুবতী। অভাব-অনটনের সংসারে একটু সুখ আনার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন সুদূর প্রবাসে। কিন্তু সুখ নামের সেই স্বপ্ন তার জীবনকে করে দিয়েছে ছারখার। এখন লোকলজ্জার ভয়ে কোথাও মুখও দেখাতে পারেন না। বলেন, এ জীবন রেখে কি লাভ? মনে হয় আত্মহত্যা করি। কিন্তু পারি না। ভাবি, যারা আমার জীবনকে নিঃশেষ করে দিয়েছে তাদের বিচার দেখতে চাই। এ জন্যই মামলা করেছি। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪-এ মামলা করেন তিনি। ২৩শে জানুয়ারি আদালত মামলার আসামী ফালি বেগম, রিপন, আসমা বেগম ও জমির আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি বিচারক আরিফুল হক বলেছেন, ঘটনার সত্যতা যেহেতু আছে সেহেতু বিষয়টি আমলে নেয়া হলো।
ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার ওই যুবতী বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। দেখতে সুন্দরী হওয়ায় তার দিকে নজর পড়ে পাচারকারী চক্রের সর্দারনী নবাবগঞ্জের তেলেঙ্গা গ্রামের ফালি বেগমের। সে নানাভাবে ফুঁসলিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখিয়ে দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করে তার। ফালি বেগমের সহযোগী হিসেবে কাজ করে মো. রিপন, আসমা বেগম ও মূলবক্স গ্রামের জমির আলী। ২০০৭ সালের ৩রা মে তাকে পাঠানো হয় দুবাই। পাঠানোর আগেই আসমা বেগম চলে যায় দুবাই। দুবাই বিমানবন্দরে তাকে গ্রহণ করে আসমা বেগম ও সিলেটি সেলিম বলে একজন। বিমানবন্দর পেরুনোর পরই যুবতীর কাছ থেকে পাসপোর্টসহ সকল কাগজপত্র নিয়ে যায় আসমা। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আসমা বেগমের পতিতা পল্লীতে। প্রথম দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই যুবতী বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার চুল ধরে টেনে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে মেঝেতে ফেলে দেয়। এরপর শরীরের ওপর চলতে থাকে উন্মাদ নৃত্য। বাকি রাখেনি কিছুই। ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে খাইয়ে দেয় এক গ্লাস সবুজ শরবত। আর কিছু মনে নেই তার। সংজ্ঞা ফিরে দেখে ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে, শরীরে কোন কাপড় নেই। সম্পূর্ণ উলঙ্গ। খালি গায়ে হাফপ্যান্ট পরা এক লোক ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলছে তার। পাশেই বিবস্ত্র এক বিদেশী। মুচকি হেসে কি যেন বলছে সে। তার ভাষা বুঝতে পারেনি ২২ বছর বয়সী এই যুবতী। এরই মধ্যে অস্ত্র হাতে ৪ জন তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। ভীত-সন্ত্রস্ত যুবতী নিজেকে সামলাতে ব্যস্ত হয়ে উঠলে চারপাশে থাকা লোকগুলো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। এদের মধ্যে সেলিম নামের একজন বলে, কোন লাভ নেই। তোর কাপড়-চোপড় পাশের ঘরে। তোকে উলঙ্গ করে, এই যে বিদেশীকে দেখছিস, তাকে দিয়ে ধর্ষণের ছবি তুলে নিলাম। আমাদের প্রস্তাবে রাজি কিনা বল? রাজি না হলে এই ছবি বাংলাদেশে তোর আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীর কাছে পাঠিয়ে দেবো। দেখাবো বিদেশে এসে তুই দেহব্যবসা করে টাকা রোজগার করছিস। এতে তোর পরিবারের মান-সম্মান ধুলায় মিশবে। তোরা সমাজচ্যুত হবি, মুখ দেখাতে পারবি না কোথাও। শেষে আত্মহত্যা করতে হবে তোকে। তার চেয়ে ভাল, আমাদের কথায় রাজি হয়ে যা। দেহব্যবসাকে পেশা হিসাবে নে। প্রচুর টাকা পাবি। বাড়ি-গাড়ি কিনা হবে তোর। দেশে ফিরে রানীর হালে থাকবি।
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে দু’হাত দিয়ে মুখ ঢাকে যুবতী। কিছু লেখাপড়াও জানেন। ভূমিহীন পরিবারের সহায়-সম্বলহীন যুবতীকে বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামী তালাক দেয়। সেই থেকে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। একই এলাকায় বসবাস করার সুবাদে তেলেঙ্গা গ্রামের ফালি বেগম, রিপন, আসমা বেগম, জমির আলীর কাছে তার কোন কিছুই অজানা ছিল না।
দুবাইতে আসমার বাসায় আরও তিনটি মেয়ে ছিল। তাদের কাছে প্রতিনিয়ত বেগানা পুরুষরা আসতো। মেয়েদের সঙ্গে ওই সব পুরুষ আমোদ-ফুর্তি করতো। আসর বসতো মদের। এসব দেখে যুবতী পরে গভীর দুশ্চিন্তায়। তাকে কোথায় নিয়ে আসা হয়েছে? এরই মধ্যে আসমা বলে, ওদেরকে দেখছো? জীবন কিভাবে উপভোগ করছে, আনন্দ, ফুর্তি সঙ্গে টাকা আর টাকা। তোমাকেও এ কাজটিই করতে হবে। পুরুষদের সঙ্গে ফূর্তি করতে হবে। তাদের আনন্দ দেবে আর নিজেও আনন্দ পাবে। এটাই তোমার কাজ। তোমার বয়স কম। স্বাস্থ্য শরীর ভাল। খদ্দেররা তোমাকে লুফে নেবে। চিন্তা করো না, তোমার খাওয়া-দাওয়া, থাকা-পরা অসুস্থতা, চিকিৎসা সবই আমি করবো, দেশে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়াসহ সব খরচা আমরাই দেবো। একেবারে রাজকীয় হাল তোমার। নাও প্রস্তুতি নাও এবং কাজে লেগে পড়। পাশের রুমে বিদেশী খদ্দের অপেক্ষা করছে। আসমার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে পড়ে যুবতীটি। এ কাজ তার দ্বারা সম্ভব নয়। সারা শরীর কাঁপতে থাকে তার। এখন সে কি করবে? কার সাহায্য নেবে? এদের হাত থেকে বাঁচবে কিভাবে? অকস্মাৎ বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সে। চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে, না। এ কাজ জীবন থাকতে নয়। যুবতীটি মুখ থেকে ‘না’ শব্দটি বের হতে যত দেরি, ততক্ষণে পাশে দাঁড়ানো সিলেটি সেলিম রুমে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ক্যাসেট উচ্চ শব্দে ছেড়ে দিয়ে তাকে মারধর শুরু করে। চুল ধরে টেনে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে মারতে মেঝেতে ফেলে দেয়। সেলিম তার নেতিয়ে পড়া দেহের ওপর উন্মাদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। মারের চোটে তার প্রাণ যখন প্রায় ওষ্ঠাগত তখন আসমার সাহায্যে পাশের রুম থেকে আনা সবুজ এক গ্লাস শরবত সেলিম জোর করে তার মুখের ভিতর ঢেলে দেয়। ওই শরবত খাওয়ার পরই যুবতী সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে। যখন জ্ঞান ফিরে তখনই ঘটনার ভয়াবহতায় সে থর থর করে কাঁপতে থাকে, আর নিজকে দেখতে পায় মেঝের ওপর সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায়। এত কিছুর পরও যুবতী দেহব্যবসায় অসম্মতি জানালে ওরা তাকে দু’দিন দানা-পানি কিছুই খেতে দেয়নি। এক পর্যায়ে যুবতী আত্মহত্যা করার হুমকি দিলে ওরা তার হাত-পা বেঁধে রাখে আর তার ওপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শেষে নিরুপায় যুবতী কেবল বেঁচে থাকার জন্য ওদের প্রস্তাবে রাজি হয়। শুরু হয় অন্য জীবন। যুবতীর ভাষায়, শরীর ভাল থাকলে প্রতিদিন ১০-১৫ জনকে দেহ দিতে হতো তার। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, মদখোর, সমাজের উঁচু-নিচু সর্বস্তরের লোকদের মনোরঞ্জন করতে হতো তাকে। এ অত্যাচার চলেছে ৫ বছরেরও বেশি সময়। এ সময়ের মধ্যে কখনওই যুবতীকে ঘরের বাইরে যেতে দেয়া হয়নি। তবে খদ্দেরদের সুবিধার্থে তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় হোটেলে নিয়ে যাওয়া হতো। তা-ও রাতের অন্ধকারে। সেই ৫ বছরে যুবতীর দেহ বিক্রি বাবদ আসমারা রোজগার করে নিয়েছে ২ কেটি টাকারও বেশি। ওই টাকা থেকে যুবতীকে তারা দিয়েছে সর্বসাকুল্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এক রাতে খদ্দেরদের মনোরঞ্জনের জন্য যুবতীকে নিয়ে যখন তারা হোটেলে যাচ্ছিল, তখন সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে হোটেলের সামনে থেকে পালিয়ে যায় সে। গভীর রাতে পাসপোর্ট ও কাগজপত্র বিহীন পেয়ে সে দেশের পুলিশ তাকে আটক করে। ৩০-৩৫ দিন জেল খাটার পর পুলিশ তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। দেশে এসে পাচারকারী দলের সদস্য ফালি বেগম, রিপন, আসমা, জমির আলী গংয়ের বিরুদ্ধে বিচার চাইলে উল্টা বিপত্তি ঘটে যুবতী ও তার মায়ের। প্রাথমিক তদন্তকালে তার মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তা বাতিল হয়ে যায়। এতে পাচারকারী সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয় যুবতীকে জীবনে শেষ করে দেয়ার হুমকি দেয়। এ পর্যায়ে মান-সম্মান ও কলঙ্কের ভয় ত্যাগ করে তিনি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৪-এ ফালি বেগম, তার ছেলে মো. রিপন, মেয়ে আসমা বেগম ও একই গ্রামের মৃত রশিদ মোল্লার ছেলে সালাম মোল্লা ও মূলবর্গ গ্রামের মৃত পেয়ার আলীর পুত্র জমির আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। যুবতীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট এমদাদুল হক লাল। তিনি বলেন, ঘটে যাওয়া ঘটনার সারাংশ তুলে ধরে মামলা করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মো. আরিফুর রহমান বিষয়টি তদন্তের জন্য দিলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আর সে কারণে ফালি বেগম, রিপন, আসমা বেগম, জমির আলীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Sunday, January 27, 2013

স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ রংপুর রাইডার্সের

স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ রংপুর রাইডার্সের


নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএলে)’র দ্বিতীয় আসর। তবে প্রথম আসরে শুরু থেকে ফিক্সিং শব্দটি উঠে এসেছিল এবার আড়ালে ছিল এই ভয়াবহ শব্দটি। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। রংপুর রাইডার্সের মালিক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন স্পট ফিক্সিংয়ের। ২৫শে জানুয়ারি খুলনার বিপক্ষে রংপুরের পরাজয়কে তিনি দেখছেন স্পট ফিক্সিং হিসেবেই। ২৫ তারিখ দিবাগত রাতে প্রথম গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান তিনি। আর গতকাল রফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, ‘খুলনার বিপক্ষে রংপুর স্পট ফিক্সিংয়ের শিকার হয়েছে। ১২.২ ওভারের সময় ক্যামেরন বরগ্যাসের যে রান আউটটি ছিল সেটি হতে পারে না। কারণ সেই সময় তাকে একজন ফিল্ডার আটকে দিয়েছিলেন। আর আম্পায়ার সেই আউটটি কিভাবে দিয়েছে বোঝাই যায়। শুধু তাই না, ম্যাচ চলাকালে স্কোর বোর্ড অচল হওয়া, কম্পিউটার নষ্ট হওয়া সর্বোপরি চ্যানেল-৯ ম্যাচটি রাতে পুনঃপ্রচার না করায় আমার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। আমি মনে করি এই ফিক্সিংয়ের সঙ্গে আম্পায়ার ও খুলনার কর্মকর্তারা জড়িত। আমি এর মধ্যে বিসিবিকে জানিয়েছি। এখন আইসিসিকেও জানাবো।’ এই বিষয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। এখানে আইসিসির অ্যান্টিকরাপশন টিম (আকসু) আছে তারাও বিষয়টা দেখবেন। আর চ্যানেল নাইন কেন ম্যাচ রিপ্লে করেনি তা ওদের কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।’ শুক্রবার রংপুরের বিপক্ষে আবারও শাহরিয়ার নাফীসের ফিফটিতে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় রংপুরকে। জবাবে নাসির হোসেনের অপরাজিত ৭০ রানও বাঁচাতে পারেনি রংপুর রাইডার্সের দ্বিতীয় হার। আর এখানেই অভিযোগ তুলেছেন রংপুরের মালিক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তিন ম্যাচ হারার পর খুলনা এমন একটি দুর্বল দলকে নিয়ে পর পর দুই ম্যাচ জিতে যায় কিভাবে? আমার সেখানেও সন্দেহ আছে। আমরা ঢাকার বিপক্ষে চেজ করে ১৬৭ করেছি। চিটাগাং কিংস ও বরিশালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছি। আর সেখানে এভাবে হেরে যাওয়া মানতে পারি না। আমি মনে করি এটা প্ল্যান করেই আমাদের হারানো হয়েছে।’
এছাড়াও তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ধামি ভোর পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। কিন্তু চ্যানেল নাইন ঢাকার ম্যাচটি পুনঃপ্রচার করলেও আমাদের ম্যাচটি করেনি। আমার সেখানে কিছুটা ‘কিন্তু’ মনে হয়েছে। কি কারণে তারা এমন করলেন?’ তবে ম্যাচের পুনঃপ্রচারের বিষয়টিকে চ্যানেল-৯ এর একান্ত নিজস্ব বিষয় বলেই উল্লেখ করেন মল্লিক। তিনি বলেন, ‘ধামরা তো ব্রডকাস্টার না। তারা কোন ম্যাচ কখন দেখাবেন সেটা তাদের বিষয়।’ এছাড়াও ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে মল্লিক বলেন, ‘আমরা ফিক্সিং রোধে আইসিসির এন্টি করাপশন টিম আকসুকে ৩ কোটি টাকা খরচ করে বিপিএলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছি। আশা করি বিষয়টি আকসু ভালভাবে অনুসন্ধান করবে। আর তাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে, ইচ্ছা করলে তারা যত বার ইচ্ছা সেই ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আর রংপুর রাইডর্সের মালিকপক্ষও যে কোন সময় সেই ম্যাচের ফুটেজ সংগ্রহ করতে পারবেন।’ রংপুর রাইডার্সের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি জানি এই অভিযোগের কারণে আমি ও আমার দল আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারে। যদি ভুল প্রমাণ হয়। তবুও আমি চাই বিপিএল হোক স্বচ্ছ একটি আসর। কারণ আমার দেশকে আমি ভালবাসি। আর দেশের সবকিছু ভাল হোক তা আমি চাই। অন্যদিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খুলনা রয়েল বেঙ্গলের ম্যানেজারকে অনেকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। আর তাই বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনার কোন প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি।

‘দাসী বানাতেই আঁখির মাথায় এসিড ঢেলেছি’

‘দাসী বানাতেই আঁখির মাথায় এসিড ঢেলেছি’


পায়ে মাথা ঠুকে মাফ চেয়েছিল আঁখি। কিন্তু ক্ষমা করিনি। তার বদলে এসিড ঢেলে দিয়েছি মাথায়। সারা জীবনের জন্য দাসী বানাতে চেয়েছিলাম। ইডেন কলেজ ছাত্রী শারমিন আখতার আঁখির ওপর এসিড সন্ত্রাসের এমন বর্ণনা দিয়েছে মনির। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মনির বলে, দীর্ঘদিন প্রেম করেছে আঁখি। মালিবাগের কাজী অফিসে বিয়ে করে সংসার করেছে। কয়েক মাস পর হঠাৎ মন ঘুরে যায় তার। এক পর্যায়ে বাসা থেকে পালিয়ে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেয়। এর প্রতিশোধ নিতেই এসিড মেরে তার রূপ পুড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, মেয়েটিকে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করতেই এসিড মেরেছে মনির। তার দাবি, মেয়েটি তার সঙ্গে দীর্ঘদিন প্রেম করেছে। বিয়ে করে সংসারও করেছে। ৬-৭ মাস আগে বনিবনা না হওয়ায় তালাক দিয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই তার ওপর এসিড ঢেলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মনিরের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত সূত্র জানায়, গত ১৫ই জানুয়ারি রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় ইডেন কলেজের ছাত্রী আঁখির ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। থানা-পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম বিষয়টির ছায়া তদন্ত শুরু করে। গত ২১শে জানুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে যে, এ ঘটনার মূল আসামি মো. মনির উদ্দিন (২৭)। তার পিতার নাম আবু তাহের (মৃত)। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার বড়িশ্বর গ্রামে। সে লুকিয়ে আছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা ও বরকল উপজেলার মধ্যবর্তী কোন এক দুর্গম এলাকায় জনৈক আমলকি বিক্রেতার বাড়িতে। পরে এডিসি মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের দু’টি দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২২শে জানুয়ারি চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের আমলকি ব্যবসায়ী আফতাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বরকল এলাকার কুরকুটিছড়ি গ্রাম থেকে রংগু চৌধুরী বিক্রির জন্য আমলকি পাঠায়, কিন্তু সে তার বাড়ি চেনে না। তার বাড়ি চিনতে পারে রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার ঘাটের জনৈক বক্কর সরদার। তার সহযোগিতা চাইলে সে জানায়, তার বাড়ির সঠিক ঠিকানা জানতে পারবে রনি ও আতিক নামের দুই ব্যক্তি। রনির কাছে সহযোগিতা চাইলে সে বলে, আমি তার বাড়ি চিনি এবং আপনাদের সহযোগিতা করবো। টিমটি স্পিডবোট নিয়ে কুরকুটিছড়ির দিকে রওনা হয়। আর খাগড়াছড়ির টিমটি একই উদ্দেশে ট্রলার নিয়ে লংগদু থেকে রওনা দেয়। ওইদিন বিকাল সাড়ে চারটার দিকে কুরকুটিছড়ি গ্রামে গোয়েন্দা পুলিশের দু’টি টিম ও বরকল থানার পুলিশের একটি টিম একত্রিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি মনির টিলার পিছনে পাহাড়ে ঢুকে পড়ে। গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ গভীর রাত পর্যন্ত পাহাড়ি বনের ভিতরে আসামিকে খুঁজতে থাকে। সারারাত অভিযান চালিয়েও তাকে খুঁজে পায়নি তারা। পরের দিন সকালে স্থানীয় লোকজনের সহায়তা নিয়ে পাহাড়ি জঙ্গলে দিনভর অভিযান চালানো হয়। রাতের বেলায়ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ও স্থানীয় থানা পুলিশ আসামি যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য রাতভর লেকের চারপাশে ট্রলার নিয়ে টহল অব্যাহত রাখে। এছাড়াও শুভলং ক্যাম্প, রাঙ্গামাটি সদর, লংগদু ও মাইনীমুখে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় চেক পোস্ট বসানো হয়। রাতেই গোয়েন্দা পুলিশের দলটি নিশ্চিত হয় যে, আসামি পাহাড়ের ভিতরে লুকিয়ে আছে। এক পর্যায়ে ২৪শে জানুয়ারি স্থানীয় জনগণকে আসামি ধরিয়ে দেয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজারে টাকা পুরস্কার ঘোষণা করলে তাদের সবাই অভিযানে অংশগ্রহণ করে। তাদের একটি দল ১০-১৫টি ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে লেকের ভিতরে আসামীকে খোঁজ করতে থাকে। আসামির আশ্রয়দাতা রঙ্গু চৌধুুরী ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে কৌশলে সহযোগিতা নেয়া হয়। পরে দু’দিনের অভিযান শেষে পাহাড়ের একটি গুহা থেকে আসামি মনিরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার অপরাধের কথা স্বীকার করে। জানায়, আঁখির সঙ্গে তার ২-৩ বছরের পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে হয়। ৬-৭ মাস আগে তাদের ডিভোর্স হয়। পরে আসামি জরুরি কথা আছে বলে তাকে ডেকে কাজি অফিসে নিয়ে যায় ও আবার বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ১৫ই জানুয়ারি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজধানীর চাঁনখারপুলের কাজী অফিসের বাথরুমে নিয়ে এসিড মেরে ঝলসে দেয়। পরে ছুরিকাঘাত করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ইন্সপেক্টর তপন চন্দ্র সাহা বলেন, গ্রেপ্তারের পর মনিরকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়। পরে আদালত ৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গতকাল রিমান্ডের প্রথম দিনে মনির আরও জানায়, আঁখিকে রাস্তা থেকে তুলে কাজী অফিসের বাথরুমে নিয়েছিলাম। সেখানে ছুরি ও এসিড দেখিয়ে ফের বিয়ে করতে বলেছিলাম। কিন্তু আমার কথা মেনে নেয়নি। আঁখি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ওপর এসিড সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও ইডেন কলেজের ছাত্রীরা আন্দোলন করছে।

ছাত্রলীগ-সহিংসতা: ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি, জীবন এখন লাইফ সাপোর্টে

ছাত্রলীগ-সহিংসতা: ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি, জীবন এখন লাইফ সাপোর্টে

কুপিয়ে আহত করার ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি জীবনের। শুক্রবার রাতে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের ক্যাডাররা জীবনকে এলোপাতাড়ি কোপায়। জীবনকে বর্তমানে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফুয়াদ হাসান পল্লব এবং সাধারণ সম্পাদক সাকিব আল হাসান সুইম ’কোপানোর ঘটনাটিকে তুচ্ছ এবং সামান্য’ বললেও শনিবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ১০ কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জীবন কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেন। এ সময় সভাপতি গ্রুপের সাউথ হোস্টেল ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে জীবনের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে সাউথ হোস্টেলের কর্মীরা সংগঠিত হয়ে জীবনকে খুঁজতে থাকে। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা জীবনকে ক্যাম্পাসে একা পেয়ে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। জীবন মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও কোপানো অব্যাহত থাকে। জীবনকে কোপানোর সংবাদ শুনে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুইম এবং কলেজ শাখার সহ-সভাপতি রণির কর্মীরা তাকে কলেজের মূল ভবনের সামনে থেকে উদ্ধার করে। পরে তাকে শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

তবে আহত জীবনকে নিয়ে চলে নানা নাটক। প্রথমদিকে তাকে কোপানোর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলে। জীবনের অবস্থা খারাপ দেখে এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিতে না পারায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপরও চলে নাটক। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু জীবনের জ্ঞান না ফেরায় তাকে পরে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। আবার ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এটিকে একটি ‘তুচ্ছ ঘটনা’ বলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক কর্মী জানান, ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিদিন অস্ত্রের মহড়া চলে। প্রত্যেক গ্রুপই নিজ নিজ শক্তি বজায় রাখতে এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রের মজুদ করছে এবং সাধারণ কর্মীদের ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে মিডিয়ায় কয়েক দফায় সংবাদ প্রকাশের পরে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর বলির শিকার হচ্ছে সাধারণ কর্মীরা।

শনিবার ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃতরা হলেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ থেকে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সুমন(ব্রেট লি), রাজন, মনির, কাওসার, দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস থেকে জেমস, কামাল, মাহাবুব, আবদুল্লাহ, প্রশান্ত এবং আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছাত্রাবাস থেকে রনি।

আদর (৩য় বর্ষ), অভি (২য় বর্ষ), রাহাত (২য় বর্ষ), কিরন (২য় বর্ষ), পলাশ (২য় বর্ষ), রাকিব (২য় বর্ষ), শুভ (২য় বর্ষ), পিয়ারুলের (২য় বর্ষ) সঙ্গে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সম্প্রতি ঢাকা কলেজের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সংগঠন থেকে এদের বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ‘উদাত্ত আহ্বান’ জানানো হয়, বহিষ্কৃত এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা নেই তাদের গ্রেফতার করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার।

Friday, January 25, 2013

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ

দিল্লিতে ছাত্রী খুন,উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ


দিল্লির ফরিদাবাদে শুক্রবার এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়। তবে মৃতদেহের শারীরিক পরীক্ষার পরই ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সূত্রে এও জানা গিয়েছে, তরুণীর দেহে বেশ কয়েকটি গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় ও পেটে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সে প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ৩০ বছরের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে টিউশন পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়নি দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রীর। পুলিশ তার টিউশন ক্লাসে গিয়ে জানতে পারে, এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে শুরু করেছে পুলিশ।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির চলন্ত বাসে এক ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনার পর থেকে শহরে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের ধর্ষণের অভিযোগ উঠল রাজধানীতে। ফলে স্বভাবতই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। সূত্র: জিনিউজ।

ডায়াবেটিসে কিডনির প্রতি যত্নবান হোন

ডায়াবেটিসে কিডনির প্রতি যত্নবান হোন


ডায়াবেটিসে কিডনির প্রতি যত্নবান হলে আপনাকে দিতে পারে দীর্ঘজীবন। মার্কিন গবেষকদের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।

আমেরিকার ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের চালানো এক গবেষণার ফলাফলের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ডায়াবেটিসের কারণে কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়ে অল্প বয়সে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি।

গবেষণায় ১০ বছর ধরে ১৫ হাজারেরও বেশি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ও ডায়াবেটিসমুক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর হার পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণা-বিষয়ক নিবন্ধটি ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি অব নেফ্রোলজি’তে প্রকাশিত হয়েছে।

নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, গবেষণায় ডায়াবেটিসমুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কিডনির রোগে আক্রান্ত বলে পাওয়া গেছে। ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীদের মধ্যে কিডনিতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির হার ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, এক দশকের এই গবেষণা চলাকালে ডায়াবেটিস বা কিনডির জটিলতা নেই এমন ব্যক্তিদের মাত্র ৭ দশমিক ৭ শতাংশ মারা গেছে। এই মৃত্যুর হার ডায়াবেটিসে ভোগা (কিডনির সমস্যা নেই) ব্যক্তিদের ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। উভয় সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৩১ দশমিক ১ শতাংশ।

এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে শঙ্কিত আমেরিকা। দেশটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকার স্বাস্থ্য বিভাগ ডায়াবেটিসের কারণে সৃষ্ট কিডনির জটিলতা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিচ্ছে না।

দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী: শাহরিয়ার

দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী: শাহরিয়ার


৫০ বলে ৫৩ রান। আর আগের ম্যাচে ১০২ রানে অপরাজিত। শাহরিয়ার নাফীসকে এখন বিপিএলের আইডল বলা যেতেই পারে। নাফীসের ব্যাটে ভর দিয়ে আজ খুলনা নিজেদের ৫ম মাচে ৯ রানে জয় তুলেছে। পর পর দুই ম্যাচে নাফীসের ব্যাটে
চড়ে খুলনা জয়ের ধারায়।

ম্যাচ শেষে তাই নাফীসকে ঘীরেই সকলের আগ্রহ। যাকে কিনা জাতী দল থেকে বাদ রাখা হয়েছে। সেই নাফীস আজ তার খুলনা দল সম্পকে বলেন, “তিন ম্যাচে হেরে যাবার পর টানা দুই ম্যাচে জিতে আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। দল এখন অনেক
আত্মবিশ্বাসী। তিন ম্যাচে হারের পর জয় নিয়ে তো রীতিমতো সন্দেহ ছিল। এখন আমরা জানি আমরা কি পারি। আরো সাতটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করছি জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে সেমি ফাইনাল খেলতে পারব।”