কম্বল বিতরণ করতে গাইবান্ধায় হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন অতিথি
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর হেলিকপ্টারে উড়ে এলেন অতিথি। তার অপেক্ষায় সকাল থেকে বসে থাকা সহস্রাধিক শীতার্ত মানুষ। আসার কথা সকালে কিন্তু এলেন বেলা আড়াইটায়। তারপর কম্বল হাতে পেয়ে ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত আর শীতার্ত মানুষের বাড়ি ফেরা। গতকাল গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালীতে গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্য যৌথভাবে শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে রহিমা খাতুন সিদ্দিকীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে আয়োজন করা হয় কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান। যারা কম্বল পাবেন তাদের হাতে স্লিপ দিয়ে বলা হয় খুব সকালে আসতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কথামতো কাজ। দরিদ্র শীতার্ত মানুষ একটি কম্বলের আশায় কাগজ হাতে নিয়ে হাজির লাইনে। সকাল থেকে অনাহার। বাড়ি থেকে কোনমতে পানি মুখে দিয়ে দৌড়। সেই থেকে বিকাল পর্যন্ত। অনেকেই ক্ষুধায় ছটফট করছিলেন। কিন্তু উপায় নেই। আগে শীতবস্ত্র। তারপর বাড়ি যাওয়া। পার্টির পক্ষে বলা হয় কম্বল বিতরণ করবেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন। সঙ্গে থাকবেন মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ও মোস্তফা মহসীন মন্টু। ৬ শ’ শীতার্তের মধ্যে কম্বল বিতরণ করতে লাখ টাকা খরচ করে অতিথিরা হেলিকপ্টারে উড়ে আসছেন। হেলিকপ্টার ঢাকা থেকে উড়ে এসে নামবে বাদিয়াখালী হাইস্কুল মাঠে। নিরাপত্তার জন্য আসে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন। শীতবস্ত্র বিতরণের এসব হুলুস্থুল কারবার দেখে হাজার মানুষ ভিড় জমায় বাদিয়াখালী হাইস্কুল মাঠে অতিথিদের দেখতে। সাংবাদিকরাও ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত। বেলা ১২টার স্থলে বিকাল আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে ঠিকই উড়ে আসে হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার থামলো। ড. কামাল হোসেনের বদলে দরজা খুলে নামলেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। নেতাকর্মীরা ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাদা গাড়িতে করে নিয়ে যান অনুষ্ঠানস্থলে। অনুষ্ঠানে মাইকে ঘোষণা করা হয় ড. কামাল হোসেন বিশ্ব ইজতেমার জন্য আসতে পারেন নি। হেলিকপ্টারের পাইলট জানান, এশিয়া এয়ার লাইন্সের এই হেলিকপ্টারের প্রতি ঘণ্টার ভাড়া ৭০ হাজার টাকা। তিনি জানান, ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় যাতায়াতের সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট। তাতে শুধু পরিবহন ব্যয় হয়েছে দেড় লাখ টাকার উপড়ে। লোকজন বলাবলি করছিল ৬শ’ কম্বল দিতে এসে এতো টাকা খরচ করে হেলিকপ্টার উড়ে এলো।
No comments:
Post a Comment