অভিনব ছিনতাই
ছোরা নয়, পিস্তল নয়, এবার ছিনতাইকারীদের হাতে সেপ্র মেশিন। ময়লা ছিটিয়ে অভিনব কৌশলে ছিনতাই করছে। ঘটনাটি গত রোববারের। সকালে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা শাহবাগ বারডেমের সামনে গাড়ি থেকে নামেন এক ভদ্রমহিলা। হাসপাতালে ঢুকতেই কে বা কারা তার চোখে-মুখে দুর্গন্ধযুক্ত মল সেপ্র করে। উৎকট গন্ধে বিব্রত হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ছদ্মবেশী কয়েকজন মহিলা তার সহায়তায় এগিয়ে আসেন। হাতে থাকা তার ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা কৌশলে নিজেদের হেফাজতে রেখে বারডেমের বাথরুমে নিয়ে যান। ময়লা ধুয়ে মুছে বের হয়েই মহিলা দেখতে পান-ওরা আসলে সাহায্যকারী নয়, ছিনতাইকারী। সবকিছু নিয়ে চম্পট দিয়েছে। বারডেমের সিকিউরিটি বিভাগের সিনিয়র সুপারভাইজার মো. মানিক মোল্লা বলেন, এটি ছিনতাইকারীদের কৌশল। যাকে যেভাবে কাবু করতে পারে, সেভাবেই মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে পকেটমার, প্রতারক ও ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রোগীদের বাঁচাতে প্রতিদিনই মাইকিং করা হচ্ছে। যাতে অপরিচিত কারও সহায়তা নিয়ে মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা না খোয়ান। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রমতে, শাহবাগের ৫টি পয়েন্টে নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এগুলো হচ্ছে- শাহবাগ থানার বিপরীত পাশে জাদুঘরের সামনে, বিএসএমএমইউ হাসপাতাল, বারডেম, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ও শাহবাগ মোড়ে। প্রতিদিনই এসব পয়েন্টে পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের টার্গেটে পড়ছেন পথচারী, যাত্রী ও রোগীরা। এমনকি হাসাপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরাও ছিনতাইকারীদের দাপটে কোনঠাসা। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, শাহবাগের ছিনতাই ও পকেটমার চক্র পুলিশের চেনা। এরা রাত কাটায় বিভিন্ন পার্কে। ঘুরে বেড়ায় পুলিশের গাড়িতে। ভোর হওয়ার আগ থেকেই ওঁতপেতে অপেক্ষা করে বিভিন্ন পয়েন্টে। কাউকে একা পেলেই ছুরি কিংবা পিস্তলের মুখে মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বারডেমের কর্মচারীরা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বারডেমের ক্যাশ কালেক্টর মৌসুমী আজিমপুর থেকে রিকশাযোগে হাসপাতালে আসছিলেন। পথে জাদুঘরের সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে পেছন দিক থেকে একটি প্রাইভেটকার রিকশার গতিরোধ করে। ছোঁ মেরে ভ্যানিটি ব্যাগ কেড়ে নেয়। তিনি চিৎকার দেয়ার আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। শাহবাগ থানা সূত্রমতে, গত দুই সপ্তাহে শাহবাগ থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় ৩৫-৪০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে ১৮টি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা। ভুক্তভোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী সোহেল মাহমুদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে ফুলার রোডে তিন ছিনতাইকারী আমার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ আমলে নেয়নি। থানা থেকে ডিউটি অফিসার বলে দেন, ভাই আপনাকে সত্য পরামর্শ দিচ্ছি। মামলা কিংবা জিডি করতে গেলে আরও এক শ’ টাকা নষ্ট হবে। কিন্তু ওগুলো কখনই উদ্ধার হবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। ময়লা সেপ্র করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। তবে গত সপ্তাহে দু-একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এখন ঘটছে না। শাহবাগের এক ফুল ব্যবসায়ী বলেন, বেশির ভাগ ছিনতাইকারী নেশাখোর। তারা পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে সারা রাত কাটায় ছবির হাট ও রমনা পার্কে। ভোর বেলায় ছিনতাই করতে নামে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে ছিনতাই করতে নামে। এদের সঙ্গে প্রভাবশালী লোকজনের যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া একাধিক প্রতারক চক্র রয়েছে, যারা ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয়পত্র পকেটে রেখে চুরি করতে নামে। ধরা পড়লেই ওই পরিচয়পত্র বের করে সাধু সেজে বাঁচার চেষ্টা করে। গতকাল দুপুরে সেগুন বাগিচা রিপোর্টার্স ইউনিটি সংলগ্ন এলাকায় এমন কৌশলে পার্কিং করা গাড়ির গ্লাস চুরি করতে গিয়ে জনতার গণপিটুনি খেয়েছে সুমন ও রকিব নামে দু’জন। পরে পল্টন থানা ছাত্রলীগের কুপন দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে যায় তারা।

No comments:
Post a Comment