Pages

Tuesday, January 8, 2013

হরতালবিরোধী বিল চূড়ান্ত করতে মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি

হরতালবিরোধী বিল চূড়ান্ত করতে মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি


সংসদে উত্থাপিত হরতাল বিরোধী বেসরকারি সদস্য বিল ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের মতামত নেবে সংসদীয় কমিটি। গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে ‘সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২’ আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। বৈঠকে কমিটির সদস্য আ স ম ফিরোজ ও জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. ইসরাফিল আলম ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক চুন্নু।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১০ সালের ২২শে জুলাই ‘জনস্বার্থ বিল-২০১০’ সংসদে উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু। এ বিলে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির কারণে জনগণের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হলে সে দলের প্রধানসহ সর্বোচ্চ কমিটির বিরুদ্ধে মামলার বিধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোন সংগঠনের রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় এ আইনের ধারায় অপরাধ সংঘটিত হলে ওই সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী সর্বোচ্চ কমিটির প্রত্যেক সদস্য অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং কৃত অপরাধের জন্য তারা আলাদাভাবে দণ্ডিত হবেন। বিলে নাগরিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক জেলায় একটি করে ‘জনস্বার্থ সংরক্ষণ আদালত’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়। ওই আদালত নাগরিকদের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টির অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দিতে পারবে। আর এ সংক্রান্ত অপরাধ অ-জামিনযোগ্য বলে বিবেচিত হবে বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, বিলটি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কমিটির সদস্যরা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। তবে এটি চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। দেশের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনকালে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন এবং কর্মসূচি জনস্বার্থমুখী করার লক্ষ্যে ওই বিলটি আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে সুপিরিয়র জুডিশিয়াল কমিশন বিল-২০১২ চূড়ান্ত করতে এটর্নি জেনারেল, আইন কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্ট আইনজীবীদের মত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। গত ১০ই সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এ বিলে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪২ বছরেও এ নিয়ে কোন আইন হয়নি। এ কারণে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা অগ্রাধিকার পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে একদিকে নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের যোগ্যতা, সততা, নিরপেক্ষতা, কর্মদক্ষতা ও বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই এ বিলটি আনা হয়েছে।
বৈঠকে রাশেদ খান মেনন উত্থাপিত ‘খনিজ সামগ্রী রপ্তানি নিষিদ্ধকরণ বিল-২০১০’ সংসদে উত্থাপনের জন্য প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। আর মো. ইসরাফিল আলম উত্থাপিত ‘বিদেশী নিবন্ধন বিল-২০১২’ পাস না করার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

No comments:

Post a Comment