Pages

Friday, January 4, 2013

হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট নিয়ে দিশাহারা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড

হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট নিয়ে দিশাহারা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড


হাজার কোটি টাকার গ্যাসভিত্তিক ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট প্রজেক্ট নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালীদের চাপে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে । পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ কোন প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দু’টি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার চাপে রয়েছেন তারা। আর ওই দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা। যদিও দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে টেন্ডার শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঘোড়াশাল ৩০০-৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রজেক্ট নিয়ে চলছে রশি টানাটানি। গত বছরের ২৬শে ডিসেম্বর ওই প্রজেক্টের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। চলতি বছরের ২১শে জুন পর্যন্ত ৬টি কোম্পানি টেন্ডার জমা দেয়। এগুলো হচ্ছে শাংহাই ইলেকট্রিক গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড, পি আর চায়না, চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএনটিআইসি), চায়না অ্যান্ড সিএমসি চায়না কনসোর্টিয়াম, সেপকো থ্রি ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন, চায়না, আলস্টম (সুইজারল্যান্ড) লিমিটেড অ্যান্ড আলস্টোম ইন্ডিয়া লিমিটেড কনসোর্টিয়াম, মারুবেনি কর্পোরেশন অ্যান্ড হুন্দাই ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড কনসোর্টিয়াম ও সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন চায়না। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা ও উন্নয়নের সদস্য আবদুহু রুহু্‌ল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যর টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সিএনটিআইসিকে কাজ দেয়ার সুপারিশ করে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৪ কোটি ৯৩ লাখ ৭৯৯৪ টাকা দর ডাকে। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন প্রতিষ্ঠান হচ্ছে শাংহাই ইলেকট্রিক গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এসইসি)। তাদের দর ১৯৯১ কোটি ৪৮ লাখ ২৭ হাজার ১৩১ টাকা। সংসদীয় কমিটিকে দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যায়ন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর এসইসি বেশকিছু শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ আনে সিএনটিআইসির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কিছু কারিগরি ও কিছু বাণিজ্যিক শর্ত ভঙ্গের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, টেন্ডার শর্তে রয়েছে, প্রজেক্টের অন্তত ৮৫ ভাগ অর্থায়ন করবে কাজ পাওয়া কোম্পানি। এর বিপরীতে ব্যাংকের কনফার্মেশন চিঠি থাকতে হবে। বাকি ১৫ ভাগ ব্যয় করবে সরকার। টেন্ডার জমা দেয়ার সময় ব্যাংকের কাগজ জমা দেয়া হলেও তাতে ৮৫ ভাগ অর্থায়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এটা বড় ধরনের শর্ত ভঙ্গ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চায়না ভিত্তিক ক্রেডিট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সাইনোসরের কাছ থেকে ঋণ নিশ্চয়তা সার্টিফিকেট দেয়ার শর্ত থাকলেও টেন্ডার ডকুমেন্টে তা দেয়া হয়নি। এছাড়া অভিযোগে টেন্ডার শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য নয় এমন বেশ কয়েকটি কারিগরি ত্রুটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- শর্তে আছে, নেট হিটের আউটপুট হবে ১৫০ ভাগ। অথচ টেন্ডার ডকুমেন্ট সিএনটিআইসি দিয়েছে ১৪১ দশমিক ১২ ভাগ। এটা স্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘন। এদিকে সিএনটিআইসির বিরুদ্ধে এসইসির এসব অভিযোগ আমলে নেয় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এ প্রেক্ষিতে গত ৩০শে অক্টোবর অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। পরে বোর্ড এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি মন্ত্রণালয়। তারা চলতি মাসের ১১ই ডিসেম্বর আবারও বোর্ডের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠায়। এখন পর্যন্ত ওই চিঠির কোন উত্তর দেয়নি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে টেন্ডারে অংশ নেয়া দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা এসইসির বিরুদ্ধেও শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডার শর্তে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কস্ট্রাকশনে (ইপিসি) বলা আছে টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানকে ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ প্লান্টের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথচ এসইসির সে অভিজ্ঞতা নেই। ইপিসির শর্ত পূরণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এটা বড় ধরনের শর্ত ভঙ্গ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ইপিসি নিয়ে তারা যে সার্টিফিকেট দিয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। সর্বনিম্ন এ দুই দরদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠার পর সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সংসদীয় কমিটিকে দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, দু’টি কোম্পানির সঙ্গে জড়িত আছেন সরকার দলীয় প্রভাবশালী তিন নেতা। তারা বোর্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন কাজ পাইয়ে দেয়ার। এতে বলা হয়েছে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও যদি কাজ দেয়া হয় তাহলে বিদ্যুৎ প্লান্টের প্রজেক্ট হয়তো মুখ থুবড়ে পড়বে। এদিকে সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। প্রয়োজনে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

No comments:

Post a Comment