Pages

Thursday, January 10, 2013

স্ত্রী ও তিন সন্তান আছে, প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে শিকলবন্দি

স্ত্রী ও তিন সন্তান আছে, প্রতিবাদ করায় দ্বিতীয় স্ত্রীকে শিকলবন্দি


স্বামী আগে বিয়ে করেছেন। আছে স্ত্রী ও তিন সন্তান। পরে আবার বিয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রী জেনে ফেলেন আগের বিয়ের খবর। দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রতিবাদ। প্রতিবাদের শাস্তি ১০ দিন ধরে স্ত্রীকে শিকলবন্দি ও নির্যাতন। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মানিকসার গ্রামে ঘটেছে এ অমানবিক ঘটনাটি। দ্বিতীয় স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করে তার মায়ের হেফাজতে দিয়েছে পুলিশ। আর স্বামী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে বিষয়টির 'সুরাহা' করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

রাবেয়ার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মানিকসার গ্রামের ছায়েদ আলীর ছেলে নাসির উদ্দিন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে-এ তথ্য গোপন রেখে প্রায় এক বছর আগে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আবদুল হান্নানের মেয়ে রাবেয়া বেগমকে (২০) প্রেমের জালে আটকে বিয়ে করে। বিয়ের পর রাবেয়া স্বামী নাসিরের স্ত্রী-সন্তান থাকার বিষয়টি জেনে গেলে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে নাসির উদ্দিন রাবেয়াকে যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিল। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় নাসির প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন চালাতো রাবেয়ার ওপর। বাধ্য হয়ে রাবেয়া তার বাবার বাড়ি চলে যায় এবং স্বামীর বিরুদ্ধে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। পরে রাবেয়া বাবার বাড়িতে থাকা ও ভরণ-পোষণ দেয়াসহ কিছু শর্তে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে স্বামী নাসিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তুলে নেয়।

গত ডিসেম্বরের শেষদিকে রাবেয়া তার মামার বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে বেড়াতে যায়। খবর পেয়ে নাসির উদ্দিন ওই বাড়িতে গিয়ে কৌশলে রাবেয়াকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। শুরু হয় আবারো রাবেয়ার উপর নির্যাতন। কনকনে শীতের মধ্যে ঘরের মাটির মেঝেতে খড় বিছিয়ে রাবেয়াকে থাকতে দেয় নাসির। এ সময় পায়ে শিকল বেঁধে ঘরের খুঁটির সাথে আটকে নির্যাতন চালাতো রাবেয়ার উপর। নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে গত সোমবার দুপুরে বরুড়া থানা পুলিশ রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে তার মা রহিমা বেগমের হাতে তুলে দেয়।

বরুড়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গতকাল বুধবার বিকালে জানান, বিষয়টি একেবারে পারিবারিক ও স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার, তাই এ বিষয়ে মামলা না হওয়ায় রাবেয়ার স্বামী নাসিরকে গ্রেফতার করা যায়নি এবং গৃহবধূকে তার মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার (আজ) পয়ালগাছা ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন মজুমদার বাবুলসহ স্থানীয়রা বসে বিষয়টির সুরাহা করার কথা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment