Pages

Sunday, January 20, 2013

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে পেশাদার অপরাধীরা

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে পেশাদার অপরাধীরা

সরকারের শেষ সময়ে এসে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় শতাধিক পেশাদার অপরাধী কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাস ধরে কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পর্কে ভাটা পড়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে নজরদারি।

গত তিন বছর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসীদের তালিকা ধরে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কারাবন্দি পেশাদার অপরাধীদের মুক্তির বিষয়টি মনিটর করছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে এমনটি হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় গত ছয় মাসে মাদারীপুরের পেশাদার অপহরণকারী ও খুনি হাকিম, পুলিশ শাহীন গ্রুপের মজিবর পেশাদার অপহরণকারী টিঅ্যান্ডটি কলোনির শাওন, ছিনতাইকারী রমজান ও সুমন,যাত্রাবাড়ীর সানডে গ্রুপের ছিনতাইকারী আলী, ধোলাইপাড়ের ছোট হান্নু, কারা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক কার্যালয় সূত্র বলছেন, পুরান ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকায় সানডে গ্রুপের ছিনতাইকারীদের বিচরণ, এদের হোতা আলী। এই দলটি মূলত রোববারে ছিনতাই করে। শুক্র ও শনিবার ব্যংক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা রোববার সকালে দুইদিনের ব্যবসার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যায়। এ সময়ই তাদের শিকার বানায় এই দলটি। আলীর গ্রেফতারের পর এই ধরনের ছিনতাই প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। এখন আলীসহ আরো ডজনখানেক পেশাদার ছিনতাইকারী মুক্তি পেয়েছেন। এরাই পরে বিভিন্ন বড় সন্ত্রাসীর দলে যোগ দিয়ে চুক্তিতে খুন, চাঁদাবাজি করে থাকে।

জানা গেছে, সরকারের একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী জামিন পেতে সন্ত্রাসীদের জন্য সুপারিশ করছেন। আরেকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী কারা কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে ত্বরান্বিত মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। আবার কিছু সন্ত্রাসী ডিবির চোখ ফাঁকি দিতে কারাগার বদল করে ঢাকার বাইরের কারাগারে চলে যাচ্ছেন।

কারাবিধি অনুযায়ী কারাবন্দিদের নিজ জেলার কারাগারে স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে।সন্ত্রাসীরা সেই বিধির সুযোগ নিয়ে কারাবাস শেষে ঢাকার বাইরের কারাগার থেকে নির্বিঘে বের হয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন কারা মহাপরিদর্শকও।

No comments:

Post a Comment