Pages

Saturday, January 12, 2013

সিন্ডিকেটের কবলে চালের বাজার

সিন্ডিকেটের কবলে চালের বাজার


সিন্ডিকেটের কবলে চালের বাজার। হু হু করে বাড়ছে চালের দাম। বছরের শুরুতেই বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বাজার বেসামাল হয়ে পড়েছে। দু’সপ্তাহের ব্যবধানে চালের প্রকার ভেদে কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি বাজারে ব্যবসায়ীরা বেশি বেশি করে চাল মজুদ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কুয়াশার জন্য ধান শুকাতে দেরি লাগে। ফলে উৎপাদন কম। তাছাড়া ধানের দামও বাড়তির দিকে। ক্রেতাদের অভিযোগ চালের ভরা মওসুমেও সরকার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাদের প্রশ্ন- কে বড় সরকার না ব্যবসায়ীরা। থেমে নেই সবজি, ডিম ও আদার দাম বৃদ্ধির গতিও। এক কেজি নতুন আলুতে ১৬ টাকা বেড়ে ৩৫-৩৬ টাকা। যা দু সপ্তাহ আগেও ২০ থেকে ২২ টাকায় কিনা গেছে। আর গত বছর এ সময়ে নতুন আলু কেজি ১০-১২ টাকা ছিল। কাওরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী তারা মিয়া বলেন, পুরান আলুর সময় শেষ। তাই ক্রেতারা নতুন আলু বেশি কিনছেন। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে শীতের কারণে চাষিরা ক্ষেত থেকে আলু তুলছেন না। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেশি পড়ছে। প্রায় সব প্রকার সবজিতে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৭ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। ২০ টাকা বেড়ে কাঁচা মরিচ আবারও ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম নয়। কিন্তু দাম কমেনি খুচরা বাজারে। পিয়াজ কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে। ডাল জাতীয় পণ্যের দাম কমেনি। খুচরা বাজারে এক কেজি মসুর ডাল উন্নত (ক্যাঙ্গারু) ১৫০ টাকা। দেশী ১৪০ টাকা। পাইকারি বাজারে নেপালী ১৩৫-১৩৬ টাকা, দেশি ১৩০- ১৩১ টাকা, মোটা তুরস্ক থেকে আমদানিকৃক ৫৯-৬৮ টাকা, মুগ ডাল ৭৫-১০০ টাকা, ছোলা (আস্ত) ৭৫-৭৮ টাকা, খেশারি ৭০-৭১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজার আমদানিকৃত তুরস্ক ৭০-৮০ টাকা, মুগ (সরু) ১১০-১২০ টাকা, মোটা ৯০-১০০ টাকা, ছোলা (আস্ত) ৯০-১০০ টাকা, খেশারি ৭৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে চকবাজার রহমতগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী জাহিদ অ্যান্ড বাদ্রার্সের মালিক সাহিদ বলেন, নেপাল ও ভারতে ডালের সিজন শেষ। রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এই তথ্য জানা গেছে। শিমের প্রকার ভেদে কেজি ১৮ থেকে ২৮ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ী আলী। তিনি জানান, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। হাতিরপুল বাজারে এক পিচ ফুলকপি দোকানিরা বিক্রি করছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কাওরান বাজারের ৫০ টাকার পটোল খুচরা বাজারে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০-৬০ টাকার কাঁচা মরিচ ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়তে বেগুনের প্রকার ভেদে প্রতি কেজি ১৮-২৮ টাকা বিক্রি হলেও তা খুচরা বাজারে ৪৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিংগা ৪০ টাকা তা খুচরা বাজারে ৬০-৭০ টাকা , বরবটি ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাধা কপি ২০ টাকা, ফুলকপি ২৫-৩৫ টাকা, পেঁপে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাতিরপুল সবজি ব্যবসায়ী মামুন বলেন, করলা ৮০ টাকা, বেগুন ৪৫-৬০ টাকায়, টমেটো ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকায়, নতুন আলু ৩৫-৩৬ টাকা, গাঁজর ৩৫ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা দরে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে। লেবুর হালি ২০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহে ১০০ লাল ডিমে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৮৭০ টাকা। প্রতিটির দাম গড়ে ৮ টাকা ৭০ পয়সা। সাদা একশ ডিমে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে গড়ে ৮ টাকা ৪০ পয়সা। হাঁসের ডিম ৯ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম একই দামে বিক্রি হচ্ছে। বললেন তেজগাঁও রেল স্টেশনের পাইকারি ডিমের আড়ৎ সমতা ট্রেডার্সের ম্যানেজার শরিফ। কিন্তু পাড়া-মহল্লায় হালিতে এক সপ্তাহে ৩-৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮-৪০ টাকা বিক্রি করছে। হাঁসের ডিমের হালি ৪৮ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ী ফারুক জানান, রুই কেজি ৩০০-৪০০ টাকা, কৈ চাষের ২৩০-২৬০ টাকা, শিং ৬০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম দু’সপ্তাহে ২০ টাকা বেড়ে ১৫৫ টাকা, গরুর মাংস ২৭০-২৮০ টাকা, খাসি ৪৫০ টাকা। শ্যামবাজারে বিদেশী রসুন ৭৫-৮০ এবং দেশি ২০-২২ টাকা, আমদানিকৃত আদা গত এক সপ্তাহে ১০ টাকা বেড়ে ৫৮-৫৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে মেসার্স সুরমা বাণিজ্যালয়ের কর্ণধার ঝুটন সাহা জানান। বললেন আদা চায়নায় শতকরা ৩০ ভাগ উৎপাদন কম হয়েছে। এজন্য দর বাড়ছে। মালিবাগ কাঁচাবাজার রেলগেটের মেসার্স সামাদ স্টোরের ম্যানেজার সাকিব বলেন, ক্যাঙ্গারো মসুর ডাল ১৪৮-১৫০ টাকা,দেশিটা ১৪০ টাকা, আটা ৭৪ টাকা প্যাকেট, চিনি ৪৮-৫০ টাকা, খেশারি ৮০ টাকা, ছোলা বুট ১০০ টাকা , সোয়াবিন তৈল খোলা ১২৫-১২৭ টাকা, সুপার ৯০-৯২ টাকা, পামওয়েল ৮৫ টাকা, তীর ৫ লিটার ৬৬০ টাকা, রূপচাদা ৬৬৫ টাকা দরে আদা ৭৫ টাকা, চায়না রসুর ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত দু’সপ্তাহে ভোক্তা পর্যায়ে প্রায় সব প্রকারের চালে প্রতিকেজিতে ৫-৭ টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহে বেড়েছে ২-৩ টাকা। মিনিকেট ৪০-৪২ টাকা, মোটা চাল ২৬-২৮ টাকা, নাজিরশাইল (নতুন) ৪০-৪২ টাকা, লতা ৩৫-৩৬ টাকা, বাঁশফুল ৪৪ টাকা, বিআর (২৮) ৩২-৩৪ টাকা, হাসকি ৩৪-৩৬ টাকা, স্বর্ণা ২৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বাবু বাজারের মেসার্স প্রত্যাশা রাইস এজেন্সির ব্যবসায়ী আলমগীর জানান, মিনিকেট ৪১-৪৫ টাকা, মোটা চাল ২৩-২৪ টাকা, নাজিরশাইল (নতুন) ৩৮-৪১ টাকা, পুরান ৪৪ টাকা, লতা ৩৩-৩৭ টাকা,বাশফুল ৪০-৪১ টাকা, বিআর (২৮) ৩১-৩৩ টাকা, হাসকি ৩০-৩৪ টাকা, স্বর্ণা ২৪-২৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পোলাওর চালে গত দু’সপ্তাহে ১০ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা পাইকারি এবং তা খুচরা বাজারে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঘনকুয়াশা ও ধানের দাম বাড়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পলাশী বাজারে ক্রেতা কামরুজ্জামান বলেন,নিত্যপণ্যের বেড়েই যাচ্ছে। চালের ভরা মৌসমেও সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সবজির দামও বেশি।

No comments:

Post a Comment