Pages

Showing posts with label AWAMILEAG. Show all posts
Showing posts with label AWAMILEAG. Show all posts

Friday, March 8, 2013

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে


যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। গতকাল বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে এ শপথ পাঠ করান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। সমাবেশ থেকে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণজাগরণ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তিনি। আজকের শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের নারী জাগরণ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ৭ই মার্চের চেতনায় সারা দেশের প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের সহিংসতার জন্য গণস্বাক্ষর কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ফলে আগামী ২২শে মার্চ পর্যন্ত এ কর্মসূচির সময় বাড়ানো হয়। বিকাল সাড়ে চারটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতসহ অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। দুপুরের পর থেকে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্রোতের মতো আসতে থাকে মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, থানা, ওয়ার্ডের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক, চিকিৎসক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে প্রবেশ করেন। পূর্ব ও পশ্চিম দিকের গেট দিয়ে আসতে থাকেন নানা শ্রেণী-পেশার লোকজন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে লোক সমাগম। একসময় পুরো এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। গণসংগীত, প্রতিবাদী কবিতা আর নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশ এলাকা। বিকাল চারটার দিকে সমাবেশে গান পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আবদুল জব্বার। তিনি মাইক হাতে নিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন ৭১ সালের ৭ই মার্চের সমাবেশে ভাষণ দিয়েছিলেন তখন আমি তার পাশে বসে গান পরিবেশন করে জনতাকে উজ্জীবিত করেছিলাম। তিনি পরপর দু’টি গান পরিবেশন করেন। তার গানে উদ্বেল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সমাবেশকে ঘিরে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের গেটের প্রবেশপথে বসানো হয় আর্চওয়ে। শতাধিক র‌্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক নজরদারি করেন। অপূর্ব নামের এক ক্ষুদে শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো করে ৭ই মার্চের ভাষণ দেয়। তার ভাষণ শুনে সমবেত জনতা অভিভূত হয়ে যান। এ সময় উপস্থিত সবাই সেই দিনের মতো বারবার আওয়াজ তোলেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিণত হয় ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে। মুক্তিযুদ্ধ না দেখা তরুণ প্রজন্ম ফিরে যায় একাত্তরে। এরপর ৭১ সালে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার হাতে নির্যাতিত সখিনা খাতুনের হাতে পূর্বঘোষিত ১০ হাজার টাকা তুলে দেয়া হয়। গতকাল ছিল শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের ৩১তম দিন। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় শাহবাগের বাইরে ষষ্ঠ সমাবেশ। এর আগে রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর, মতিঝিলের শাপলা চত্বর, বাহাদুর শাহ পার্ক ও যাত্রাবাড়ীতে গণজাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আজ বিকালে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে নারী জাগরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশ পরিচালনা ও বক্তব্য রাখবেন নারীরা। এর জন্য গার্মেন্ট শ্রমিক ও অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বিকাল ৩টা থেকে ছুটি দিতে মালিকদের আহ্বান জানানো হয়। এরপর ছাত্রনেতারা বক্তব্য রাখেন। ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, ৫ই মার্চ আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম তা আজ তীব্র গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমরা যে ৬ দফা দাবি উত্তোলন করেছি তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। ইতিমধ্যে আমাদের দাবি পূরণে সংসদে আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকে জামায়াত-শিবির সারা দেশে সহিংসতা চালিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তারা সামপ্রদায়িক হামলা চালিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা অহিংস আন্দোলন করছি। মনে রাখবেন যাতে কোন ধরনের সহিংস পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আমরা জনগণের জানমালের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবো না। ৭ই মার্চের চেতনা নিয়ে আমাদের ৬ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো। তিনি বলেন, আজ আমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তেই উপনীত হয়েছি। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেদিন তার ভাষণ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের রক্তকণিকায় মূর্ছনা তুলেছিল। ৭ই মার্চ আমাদের অনুপ্রেরণা। ইমরান বলেন, আমরা ৭ই মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর থেকে জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের কারণে সারা দেশে কার্যক্রম চালাতে পারিনি। তাই আগামী ২২শে মার্চে পর্যন্ত এই কর্মসূচির সময় বাড়ানো হলো। মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে আপনারা সবাই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। এরপর তিনি সমবেত জনতাকে শপথ পাঠ করান। শপথে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্র্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ এবং তাদের সকল অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যম বয়কট করবো। সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি হোসাইন আহমেদ তাফসির, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এসএম শুভ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তমাল, ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুর হোসেন মিঠু, ছাত্রঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক সোহান সোবহান, বিপ্লবী ছাত্র সংহতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ ও ছাত্র সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান খান বক্তব্য রাখেন।

Thursday, March 7, 2013

আবদুল জলিল : না ফেরার দেশে

আবদুল জলিল : না ফেরার দেশে


আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আবদুল জলিল আর নেই। গতকাল সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয় আবদুল জলিলকে। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। গত সোমবার বাইপাস সার্জারির পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। গতকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ, বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী,এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। সদা অমায়িক দরাজ হৃদয়ের অধিকারী আবদুল জলিল দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আন্তরিকতাপূর্ণ ব্যবহারের জন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় নেতা। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান জলিল। তার আগে আওয়ামী লীগের বিগত সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়ার পর একটি চিঠিতে রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন জলিল। ওই সময়ের পর দলের একটি অংশের কাছে বিরাগভাজন হয়ে পড়েন প্রবীণ এ নেতা। মুক্তি পাওয়ার পর তাকে আর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। গত নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৪১ সালের ২১শে জানুয়ারি নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন। নওগাঁ কে.ডি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। সেখানে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৬৩ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন এবং ১৯৬৪ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য লন্ডনে যান। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আবদুল জলিল স্ত্রী, দুই পুত্র ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জলিল একটানা ১৬ বছর নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদে শোক
আবদুল জলিলের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদ সংসদে আবদুল জলিলের মৃত্যুর খবরটি জানিয়ে সংসদের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। স্পিকার জানান, নিয়ম অনুযায়ী সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। এরপর শোক প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।

Wednesday, March 6, 2013

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র


বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানিতে মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন উপাসনালয় ও বাড়িতে হামলার খবরে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল। ৪ঠা মার্চ সাংবাদিকদের সামনে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আশা প্রকাশ করেন সরকার সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেবে। সাংবাদিকরা তার কাছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চান। তাদের একজন বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। এ নিয়ে কি আপনার কোন মন্তব্য আছে? জবাবে ভেনট্রেল বলেন, আমরা জানতে পেরেছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশজুড়ে সহিংসতায় ৭০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে আমরা মর্মাহত। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার খবরেও আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা বিশ্বাস করি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করা মৌলিক অধিকার। একই সঙ্গে আমরা বিশ্বাস করি যে, সহিংসতা সমস্যার সমাধান নয়। তিনি বলেন, তাই আমরা সব বাংলাদেশীকে উৎসাহিত করছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটাতে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান- বাংলাদেশ সরকার যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে তা আপনি কিভাবে দেখছেন? জবাবে প্যাট্রিক ভেনট্রেল বলেন, আমরা দেখছি পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া এ বিষয়টিকে আমি অন্য কোনভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই না। পাশাপাশি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্বুদ্ধ করছি।
তাদের কথোপকথন ছিল এ রকম-
প্রশ্ন- বাংলাদেশ প্রসঙ্গে-
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, বলুন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে আপনার কাছে হালনাগাদ তথ্য আছে...
ভেনট্রেল: হ্যাঁ, আছে।
প্রশ্ন: সেখানে তো বিক্ষোভ চলছে? ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। এ নিয়ে কোন মন্তব্য আছে আপনার?
ভেনট্রেল: প্রশ্নের পরের অংশটা কি-
প্রশ্ন: ভারতের প্রেসিডেন্ট-ও বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন-
ভেনট্রেল: ঠিক আছে। আমরা যখন আশান্বিত হয়েছি যে বাংলাদেশে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে তখন দেশজুড়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হওয়ায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায়ও আমরা উদ্বিগ্ন। যেহেতু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সহিংসতা কোন সমস্যার সমাধান নয়। কাজেই আমরা সব বাংলাদেশীকে তাদের দাবিদাওয়ার প্রকাশ ঘটাতে শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনে এবং একই সঙ্গে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবিলা করছে তা কিভাবে দেখছেন?
ভেনট্রেল: দেখুন, আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসছে। এর বাইরে অন্য কিছু ব্যাখ্যা করতে চাই না। একই সঙ্গে অব্যাহতভাবে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করছি সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

কুমিল্লায় সংঘর্ষ, গুলি আহত অর্ধশতাধিক আজ হরতাল

কুমিল্লায় সংঘর্ষ, গুলি আহত অর্ধশতাধিক আজ হরতাল


কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হরতাল পৃষ্ঠা
পালন ও বর্জনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা মহানগর ও জেলার মুরাদনগরে এ ঘটনা ঘটে। হরতাল চলাকালে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির একাংশ ও আওয়ামী লীগের একাংশের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে মহানগরীতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ অন্তত ১৫টি দোকানপাট ভাঙচুর ও ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার জেলা সদরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল চলাকালে গতকাল বেলা ১২টার দিকে নগরীর কান্দিরপাড়ে স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন সমর্থিত আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিন সমর্থিত বিএনপির একটি গ্রুপ হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। বিকালে জেলা দক্ষিণ বিএনপি’র সভানেত্রী বেগম রাবেয়া চৌধুরী নগরীর বাদুরতলাস্থ তার বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার জন্য স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিনসহ তার সমর্থিত কর্মীদের দায়ী করেন এবং এ ‘অতর্কিত হামলা’র প্রতিবাদে আজ বুধবার জেলা সদরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফজলুল হক ফজলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, যুবদল সভাপতি আমিরুজ্জামান আমীর, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, ছাত্রদল সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুল, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। এদিকে, গুলিবিদ্ধ নগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনজুরুল আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহতরা হচ্ছেন যুবদল নেতা মাকছুদুল আলম মাছুদ, আবদুর রশীদ, আকরাম হোসেন এরশাদ, মহসিন, আউয়াল, সুমন, ছাত্রদল নেতা তুহিন, জনি পাটোয়ারী, মহসিন খন্দকার কাকনসহ ২০ জন এবং অপরপক্ষের যুবলীগ নেতা রাসেল, সানি, তুহিন, সবুজ, ছাত্রলীগ নেতা শরীফ, রাজীবসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে বলে বিএনপি দাবি করেছে।
এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লা বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে দু’গ্রুপে বিরোধ চলে আসছে। দুপুরে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষের সময় বিএনপি নেত্রী রাবেয়া চৌধুরী আতঙ্কে একটি দোকানে আশ্রয় নেন। এসময় খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়ার কারণে তিনি আমাকে অভিযুক্ত করেছেন।
এছাড়া, জেলার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর-শ্রীকাইল সড়কের বিষ্ণুপুরে হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে বিএনপি সমর্থক মোস্তফা খান, ঝন্টু মিয়া, আওয়ামী লীগ কর্মী আবু কাউছার, মাহমুদ সরকার, আলাউদ্দিনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

Friday, March 1, 2013

গণজাগরণ মঞ্চে উল্লাস আজ মহাসমাবেশ

গণজাগরণ মঞ্চে উল্লাস আজ মহাসমাবেশ

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের খবর পেয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। সমস্বরে বলে উঠেন ‘জয় বাংলা’। মোবাইল ফোনে গ্রুপ মেসেজ চলে যায় শুধু ‘জয় বাংলা’ লিখে। আনন্দে আত্মহারা হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আলীঙ্গন করেন অনেকে। বিজয়ের আনন্দে কেঁদে ফেলেন কেউ কেউ। এদিকে আজ বিকাল তিনটায় মহাসমাবেশের ঘোষণাসহ আরও কিছু নতুন কর্মসূচি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গতকাল সন্ধ্যায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা এক বৈঠক শেষে এ কর্মসূচি দেন। আজ জুমার নামাজের পর সারা দেশে দোয়া পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। শনিবার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচিও নেয়া হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আহ্বান করা হয়েছে।
আনন্দ মিছিল: গতকাল দুপুর পৌনে দুইটায় গণজাগরণ মঞ্চে সাঈদীর ফাঁসির রায়ের খবর আসার পরই উত্তাল আনন্দ মিছিলে স্লোগান শুরু হয়, ‘এই মাত্র খবর এলো, সাঈদীর ফাঁসি হলো’। প্রাণোচ্ছল শাহবাগে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে উৎসবের আমেজ আনে তরুণরা। নাচতে শুরু করে ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ, সবাই। মঞ্চ থেকে আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার ঘোষণা করেন, সবাইকে অভিনন্দন যে, আপনারা রাজপথে থেকে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নিরপেক্ষ রায় প্রদানের সহযোগিতা করেছেন। সারা দেশে যে যেখানে আছেন রাজপথে নেমে আসেন। জামায়াত-শিবিরকে যেখানে পাবেন ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করুন। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। এই বিচার বাংলার বিজয়। আমরা কাঙিক্ষত রায় পেয়েছি। সর্বত্র আনন্দ মিছিল করুন। সারা দেশে অহিংস, শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিলের আহ্বান জানিয়ে শাহবাগ চত্বর থেকে মিছিল শুরু করেন ডা. ইমরান। জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ট্রাইব্যুনালকে স্বাগত জানায় জনতা। মিছিলটি শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে শহীদ মিনারে যায়। সেখান থেকে আবার শাহবাগে ফিরে আসে। মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের আন্দোলনের ২৪তম দিনে এই রায় পেলো তারা। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে গতকাল বেলা পৌনে দুইটায় রায় ঘোষণার পরপরই সমবেত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে।
মিষ্টি বিতরণ: সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর মিছিল শেষে শাহবাগে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন ব্যক্তি নিজ দায়িত্বে মিষ্টি কিনে আন্দোলনকারীদের মাঝে বণ্টন করেছেন।
হরতালবিরোধী মিছিল: শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে গতকাল সকালে হরতালবিরোধী মিছিল হয়েছে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে শাহবাগ থেকে দু’টি মিছিল শুরু হয়। একটি মিছিল শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব ও পল্টন হয়ে আবার শাহবাগে ফিরে আসে। আরেকটি মিছিল শাহবাগ থেকে বাংলামোটর, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ হয়ে শাহবাগে ফিরে আসে। এর আগে সকাল থেকেই লোক সমাগম বাড়তে থাকে শাহবাগে। সকাল আটটা থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি ও হরতালবিরোধী স্লোগান শুরু হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনালের সামনে অবস্থানরত মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যরা গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সংহতি জানান।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অব্যাহত: যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগের আন্দোলন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী চলবে বলে জানিয়েছেন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা। আমিনুল হক পলাশ জানান, আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ চলবে। আজকের সমাবেশ ছাড়াও ৫ই মার্চ যাত্রাবাড়ীতে মহাসমাবেশ হবে। ৭ই মার্চ শিখা চিরন্তনে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, এই রায়ের মাধ্যমে আমরা বিজয়ের দিকে আরেক ধাপ এগিয়েছি। তবে চূড়ান্ত বিজয় এখনও হয়নি। তাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে গণজাগরণ মঞ্চের কার্যক্রম চলবে।

Wednesday, February 27, 2013

সাঁকোতে সাবধান

সাঁকোতে সাবধান


প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জোটের নেতাদের অতিকথনে। তাদের নির্দেশ দিয়েছেন মিডিয়া ও দলীয় নেতাদের সামনে সংযত হয়ে বক্তব্য দিতে। বলেছেন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অতিকথা অনেক সময় বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে সরকারকে। তাই যে কোন বিষয়ে কথা বলতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে এমন উস্কানিমূলক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকতে হবে তাই। ২৫শে ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি আরও বলেছেন, আমাদের পক্ষে আগ বাড়িয়ে কিছু করা বা বলা ঠিক হবে না। আপনাদের আগ বাড়ানো বক্তব্যকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতিপক্ষরা। দয়া করে ওই ধরনের বক্তব্য দিয়ে সাহায্য করবেন না উস্কানিতে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর সজাগ দৃষ্টি, রাজনৈতিক মনোভাব ও সরকারি অবস্থান স্পষ্ট। তিনি চাইছেন উদ্ভূত অবস্থার শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্থাৎ পরিস্থিতি যেন ঘোলাটে না হয়ে ওঠে, সরকারকে যেন বিব্রত না হতে হয়। শাহবাগ চত্বরের তরুণ-যুব সমাজের মৌলবাদমুক্ত অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জাগরণ-আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে সরকার, সংসদ, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, বেশির ভাগ বিরোধী দল ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সবাই। আন্দোলনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের দিকে যথোচিত উদ্যোগ-কার্যক্রমও নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢুকে পড়ে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং একটি অকথ্য ব্লগ। দ্রুত পালটে যেতে থাকে পরিস্থিতি। তারপর ইস্যু হয়ে ওঠে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ বনাম নাস্তিক্যবাদ। তারপর মহানবীর অবমাননা বনাম জাতীয় পতাকা ও শহীদ মিনারের অবমাননা। দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে এখন। এ অবস্থান মরিয়া। ঘৃণা-বিদ্বেষ-আক্রোশ-আক্রমণ এখন স্থান করে নিয়েছে মুখের ভাষায়। সমবেত হামলায়। স্থান অদল বদল করে নিচ্ছে রাজনীতি ও নাশকতা। রক্ত ঝরছে, স্বজনহারাদের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে আকাশ। হিন্দুস্থান টাইমস লিখেছে, গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে।
শান্তিভূমি পুণ্যভূমি বাংলাদেশ আবার যুদ্ধভূমি? তাহলে কোথায় সেই শুভবুদ্ধি? সোমবারের ওই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদকে। তিনি জানেন, এই আলোচনার পথই একমাত্র পথ। এ পথেই সমাধান ঘটতে পারে বিরোধ, বিবাদ, বিভ্রান্তির।
কিন্তু সবাই কি তা জানেন? বা সবাই কি তা চান?
বিভাজিত জাতির উন্নতি কঠিন জেনেও আমরা বিভাজিত। এ বিভাজন এখন তীব্র। সবাই জানেন বিচারক, শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিকরা যদি দলীয় হয়ে যান তাহলে দেশের মানুষের দাঁড়াবার আর জায়গা থাকে না, তারপরও আমাদের অনেকের চলন বলন কাজকর্ম তো দলীয় কর্মীদের চেয়েও উগ্র আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। এর অবসান কোথায়?
প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের খবর ‘মন্ত্রীদের অতিকথনে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে ছাপা হয়েছে মানবজমিন-এ। খবরটির লিঙ্ক ফেসবুক-এ দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই মন্তব্য আসে এক স্নেহভাজন কবি-সাংবাদিকের, ‘চ্যানেলগুলোর... বন্ধ হবে এতে? মন্ত্রীদের ক্যামেরা-প্রীতি থাকবে না... বলেন কি?’
প্রশ্নটি মিডিয়ার প্রতি। কারণ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সে। কিন্তু এ সঙ্কটকালে কি হতাশার কারণ হয়ে উঠছে তার ভূমিকা? আসলে আমাদের দেশে কি ভূমিকা নেয় মিডিয়া? স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নিজের যে ভূমিকা বেছে নেয় মিডিয়া আসলে তার ওপরই নির্ভর করে সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা। সে কি সমাজের নেতা? নাকি সংস্কারক? পরিবর্তনের অনুঘটক? নাকি খবর ও মতামতের বাহক মাত্র? বার্তাবাহক হিসেবেও কি সে স্বাধীন নাকি অভ্যন্তরীণ বা বহিঃস্থ চাপ বা শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?
যা-ই হোন, দয়া করে সাঁকো নাড়তে বলবেন না কাউকে।

Sunday, February 17, 2013

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার

নাশকতা ঠেকাতে রাস্তায় সিসি ক্যামেরা আর্চওয়ে ওয়াচ টাওয়ার


জামায়াত-শিবিরের নাশকতা ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। শাহবাগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীজুড়ে বিস্তার করা হয়েছে নিরাপত্তার জাল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, ওয়াচ টাওয়ার। রায়ট কার ও টিয়ারশেল গান নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ। প্রস্তুত রাখা
হয়েছে এলিট ফোর্স সোয়াত টিম। বসানো হয়েছে অতিরিক্ত কন্ট্রোল রুম। ঢাকা মোট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের বাঁচাতে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা এখন মরিয়া। অব্যাহতভাবে তারা চালিয়ে যাচ্ছে চোরাগোপ্তা হামলা। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে। তারা শাহবাগ স্কয়ারেও হামলা চালাতে পারে বলে আগাম তথ্য পেয়েছি। এ কারণে শাহবাগসহ রাজধানীজুড়ে নতুন ছক অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
ডিএমপি হেড কোয়ার্টার সূত্র জানায়, সম্ভাব্য অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে রাজধানীতে ১০ হাজার পোশাকধারী এবং ১ হাজার রিজার্ভ ফোর্সসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় ১৫ হাজার সদস্য কাজ করছে। টহলে রয়েছে র‌্যাবের প্রায় ২ হাজার সদস্য। দাঙ্গা পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন, ডিবি পুলিশ এবং বোম ডিস্পোজাল টিম রাস্তায় ওয়ার্মআপ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে দেখা যায়- নয়া পল্টন, মতিঝিল, কাওরানবাজার, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মহাখালী, মিরপুর-১০, ফকিরাপুল, শাহজাহানপুর মোড়, যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাসহ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অধিকতর তৎপর র‌্যাব-পুলিশের সদস্যদের। স্পটে স্পটে কাজ করছে থাকবে গোয়েন্দা ওয়াচম্যান, ডিবির ভিডিও ও স্টিল ক্যামেরাম্যানরা।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জামায়াত-শিবিরের প্রধান টার্গেট পুলিশ। তবে নিজ দলের নেতাদের বাঁচাতে তারা যে কোন ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। শাহবাগে হামলার আশঙ্কাকে আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তাই সেখানে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো রাজধানীকেই আমরা ওয়াচের মধ্যে রেখেছি। চোরাগোপ্তা হামলার কারণে কখনও কখনও আমরা আগে থেকে হামলার বিষয়ে ধারণা পাচ্ছি না। তবে হামলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, জামায়াতের যে কোন নাশকতা মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত। তারা যাতে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং শাহবাগে আন্দোলনকারীদের কোন ধরনের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে পুলিশের বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে।
পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করেছি। বাড়তি ফোর্স নিয়োজিত করেছি। শাহবাগ কেন্দ্রিক পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে কন্ট্রোল রুম। টহল বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ৩২টি সিসি ক্যামেরা। প্রবেশপথগুলোতে দেয়া হয়েছে আর্চওয়ে। বড় বড় ভবনগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে। শাহবাগ ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ডিবি ও সোয়াতকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় লেখা স্টিকার থাকছে না

নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় লেখা স্টিকার থাকছে না


জামায়াত-শিবিরের সম্ভাব্য আক্রমণ বা তাণ্ডব থেকে নিরাপদ থাকতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে সচিবালয়ের বাইরে অবস্থিত সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। তাদের চিঠি পেয়ে নিরাপত্তা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা। ওদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের গাড়িতে সচিবালয়ের ‘যানবাহন প্রবেশপত্র’ রাখলেও ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ লেখা স্টিকার খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজকালের মধ্যে তারা গাড়িতে থাকা ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ লেখা স্টিকার খুলে ফেলবেন। এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ বিষয়ে সতর্ক করে চিঠি দিতে যাচ্ছেন তারা। সচিবালয়ে প্রবেশ করা গাড়িগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। সচিবালয়ে প্রবেশকারী গাড়ি নিচে কোন বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করছে কিনা তা কম্পিউটারের মাধ্যমে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অফিস করেন এমন দিনে বা অন্যান্য দিনেও থাকছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ নিজেদের নিরাপত্তা দুর্বলতার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দেশের জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে এর অফিসটি ইস্কাটনের প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অবস্থিত। সরকারি পর্যায়ে মালয়েশিয়াতে জনশক্তি পাঠানোর জন্য তৈরী কেন্দ্রীয় ডাটাবেজের কার্যক্রম এ ভবন থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণসহ জনশক্তি বিষয়ক নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদি এ ভবন থেকে করা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররাফ হোসেন প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অফিস করে সব কাজ দেখভাল করছেন। তিনি সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রীও বটে। এমন অবস্থায় প্রবাসী কল্যাণ ভবন অনেকটা অরক্ষিত। অন্য আর দুই মন্ত্রণালয়ও সচিবালয়ের বাইরে থাকায় তাদের নিরাপত্তা দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছে। তারা বলেছেন, সহসাই এসব ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যেসব অধ্যাদেশ অবৈধ হয়ে গেছে ওই সব অধ্যাদেশ পুনরায় আইনে পরিণত করার বিষয়ে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমেদের সভাপতিত্বে আইন সংশোধন সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্টিকার তুলে ফেলা সংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখার এক সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জামায়াত শিবিরের আক্রমণের প্রধান টার্গেট পুলিশ এবং সরকারি গাড়ি। এরই মধ্যে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর এবং কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ কারণে এখনই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। এরপরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোন গাড়িতে মন্ত্রণালয়ের নাম লেখা সংবলিত স্টিকার রাখা যাবে না। যেসব গাড়িতে ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ লেখা স্টিকার রয়েছে তা তুলে ফেলতে হবে। একই সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কোথাও আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচয় গোপন রাখার জন্য বলা হয়েছে। ওদিকে সতর্ক বার্তা যাচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে। এ সপ্তাহেই সতর্ক বার্তাটি পাঠাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই জামায়াত শিবিরের তাণ্ডব থেকে সরকারি গাড়ি রক্ষা করতে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গাড়িও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি তৈরির প্রক্রিয়া করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা (কেপিআই) বিবেচনায় সচিবালয়ের নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন এনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ম্যানুয়াল নিরাপত্তার বদলে অটোমেটিক (স্বয়ংক্রিয়) হয়েছে। সচিবালয়ের নিরাপত্তা সরঞ্জামের তালিকায় যোগ হয়েছে আন্ডার ভেহিক্যাল সার্ভিলেন্স সিস্টেম, এক্সপ্লোসিভ ডিটেক্টরসহ অনেক আধুনিক মানের যন্ত্রপাতি। গাড়ির মধ্যে কোন আগ্নেয়ান্ত্র বা বোমা থাকলে এসব যন্ত্রপাতি দিয়ে তা সহজেই ধরা যাবে। গাড়ি ছাড়া যেসব দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করছেন তাদের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র অটোমেটিক সিস্টেমে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এজন্য বিপুল সংখ্যক ব্যাগ স্ক্যানার, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও এক্সপ্লোসিভ ডিটেক্টর কেনা হয়েছে। এখন নতুন পথে দর্শনার্থী প্রবেশসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রবেশ করছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশে ঝামেলা পোহাতে হলেও নিরাপত্তা নিয়ে কোন ছাড় দিচ্ছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

Sunday, February 10, 2013

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা হলে আমি সাক্ষ্য দেবো’

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা হলে আমি সাক্ষ্য দেবো’


সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, এ বিচারের দাবিতে গণজাগরণ শুরু হয়েছে শাহবাগের প্রতিবাদের মাধ্যমে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রেখে রাজাকারদের ফাঁসি দেয়া যায় না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজাকার উল্লেখ করে আগামীকালের (আজকের) মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বর্তমান স্বরাষ্টমন্ত্রী যুদ্ধের সময় পাকিস্তান প্রশাসনের পক্ষে কাজ করেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিচার হলে আমি নিজে সাক্ষ্য দেবো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয় উল্লেখ করে বীরউত্তম খেতাব পাওয়া এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, একজনের অপরাধ কম তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে আর আরেকজনের অপরাধ বেশি, তাকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন। এটা আপস হয়েছে।
গতকাল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলে উদ্বোধনী ও সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চত্বরে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, বঙ্গবীরের স্ত্রী বেগম নাসরিন সিদ্দিকী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি (জেপি)’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতীয় পার্টি (জাপা)’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগকে দাওয়াত দিলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে কোন প্রতিনিধি উপস্থিত হননি বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, জামায়াতে ইসলাম যদি মনে করে তারা পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলাম, তাহলে বাংলাদেশে তাদের ঠাঁই নাই। তারা ঘাতক। আর যদি দলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হয় তাহলে তাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য মাঠে নামতে হবে। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সব ইসলামী দলই জামায়াত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাহবাগের সমাবেশ যদি নিরপেক্ষ হয় আমি সঙ্গে আছি। আর যদি আওয়ামী লীগের হয়, আমি এ সমাবেশকে ঘৃণা করি। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজাকাদের ফাঁসি আমিও চাই। কিন্তু এক রাজাকারের ফাঁসি আরেক রাজাকার দিতে পারে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে কেউ যোগদান করলে হয় মুক্তিযোদ্ধা আর অন্য দলে যোগ দিলে হয় রাজাকার। বড় দুটি দল দেশের রাজনীতি ধ্বংস করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের যুবকরা শাহবাগে প্রতিবাদ করতে নেমেছে। তাদেরকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সরকার প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এটাকে আওয়ামীকরণ করার চেষ্টা চলছে। দলীয়করণ করলে ভবিষ্যতে মুশকিলে পড়তে হবে। ভুল করবেন। তিনি বলেন, যে রায় হয়েছে তাতে জনগণ সন্তুষ্ট নয়। দলীয় সরকারে অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবেন না। জাতীয় নেতৃবৃন্দকে এক সঙ্গে বসে একটা সমাধান করতে হবে।
কাউন্সিলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মহাজোট সরকারকে বিতাড়িত করতে এখন একটি জাতীয় ঐক্যের দরকার। বৃহৎ জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাতে হবে। বুলেটে নয়, ব্যালটে এ সরকারকে পরাজিত করতে হবে। আ স ম আবদুর রব বলেন, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত হচ্ছে। বিশেষ একটা গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের শক্তি কুক্ষিগত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শাহবাগের আন্দোলনের ফসল কেউ নিজের ঘরে নেয়ার চেষ্টা করছেন। এজন্য সচেতন থাকতে হবে ব্যক্তি ও দলের প্রতি। চোরাবালিতে যেন এ আন্দোলন হারিয়ে না যায়। যারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদের বাংলাদেশের ঠাঁই নাই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে করতে হবে। তিনি বলেন, বৃটিশ আইন দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে না। নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও আইন পরিবর্তন করতে হবে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি আমাদের মুক্তি দিতে পারে না। দুটি দল বাদে বাকি সব দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাদের নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি খুব হিসাবি দল। হিসাব করে চলে। তারা সাপও মারে না লাঠিও ছাড়ে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগও এদেশে কোন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল নয়। যদি পক্ষের দল হতো তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে হাস্যকর রায় আসতো না।

Sunday, February 3, 2013

মার্চ মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার

মার্চ মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার


চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনিশ্চয়তায় পড়া পদ্মা সেতুর কাজ শিগগিরই শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, নিজেদের টাকায় হবে সেতু নির্মাণের কাজ। কেউ আসুক বা না আসুক, তার জন্য আর কোন অপেক্ষা নয়। কোন দাতা সংস্থা আসলে ভালো। না আসলে চলতি বছরের আগামী মার্চ মাসেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের দরপত্রের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা এখন সরকারের চ্যালেঞ্জ। শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে ১৭তম কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট আন্তঃক্লাব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কাস্টম ক্রীড়া পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠান শেষে মুহিতকে ঘিরে ধরেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পত্রিকার সাংবাদিকরা। এই সময় তাদের কাছে পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনার কথা জানান তিনি। মিডিয়ার কর্মীরা তার কাছে এই নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, বহু নাটকীয়তার পর গত শুক্রবার বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি তাদের ওয়েবসাইটে এই নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা বলেছে, এই মুহূর্তে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে তাদেরও। এর ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে দেশের আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ। পদ্মা সেতুর কাজের প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে- গতকাল এই বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন অর্থমন্ত্রী। এরপর ভেবে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য এই মাস শেষে বৈঠকে বসবো। তারপর সেখানেই সব কিছু চূড়ান্ত করবো। বলতে পারেন মার্চ মাসের মধ্যেই টেন্ডার কল করা হবে। এরপর আরও ৪৫ দিন থাকবে যারা আসতে চায়। তাদের কাগজপত্র বাছাইয়ের জন্য নিজেরা ১৫/২০ দিন সময় নেবো। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায় পদ্মা সেতুর কাজ ২/৩ মাসের মধ্যে শুরু করতে পারবো।’ ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আপত্তির পর নতুন করে কি ভাবছে সরকার-এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক নিয়ে আমাদের আর কোন ভাবনা নেই। তারা যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই আমরা কাজ করেছি। একবার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে সেটাও খতিয়ে দেখেছি। এখন তাদেরকে না জানিয়ে দেয়ার পর কেউ যদি আসতে চায় তাহলে ভালো।’ এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করার যে আগ্রহ ছিল তা আপাতত আর নেই। এই বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, আমরা ক্ষমতায় এসে এই সেতুর কাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যেভাবে গড়িমসি করছে তাতে নির্বাচনের আগে তা শুরু করা নিয়ে সবাইকে অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে।’
তিনি এডিবি, জাইকাসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘কেউ যদি আসে তাহলে আমাদের আপত্তি থাকবে না। তবে না এলেও নিজেরাই সেতুর কাজ শুরু করবো। নিজেদের টাকা দিয়ে করবো। আগে কাজটা শুরু করা দরকার। এই সিদ্ধান্ত ভালো হলো না খারাপ তা পরে ভেবে দেখা যাবে।’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে বক্তব্য দেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। তিনি বর্তমান সরকারের আমলে রাজস্ব আদায় অতীতের চেয়ে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন।

Sunday, January 27, 2013

ছাত্রলীগ-সহিংসতা: ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি, জীবন এখন লাইফ সাপোর্টে

ছাত্রলীগ-সহিংসতা: ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি, জীবন এখন লাইফ সাপোর্টে

কুপিয়ে আহত করার ২৪ ঘণ্টা পরও জ্ঞান ফেরেনি জীবনের। শুক্রবার রাতে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের ক্যাডাররা জীবনকে এলোপাতাড়ি কোপায়। জীবনকে বর্তমানে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ফুয়াদ হাসান পল্লব এবং সাধারণ সম্পাদক সাকিব আল হাসান সুইম ’কোপানোর ঘটনাটিকে তুচ্ছ এবং সামান্য’ বললেও শনিবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ১০ কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জীবন কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেন। এ সময় সভাপতি গ্রুপের সাউথ হোস্টেল ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে জীবনের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে সাউথ হোস্টেলের কর্মীরা সংগঠিত হয়ে জীবনকে খুঁজতে থাকে। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা জীবনকে ক্যাম্পাসে একা পেয়ে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। জীবন মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও কোপানো অব্যাহত থাকে। জীবনকে কোপানোর সংবাদ শুনে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুইম এবং কলেজ শাখার সহ-সভাপতি রণির কর্মীরা তাকে কলেজের মূল ভবনের সামনে থেকে উদ্ধার করে। পরে তাকে শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

তবে আহত জীবনকে নিয়ে চলে নানা নাটক। প্রথমদিকে তাকে কোপানোর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলে। জীবনের অবস্থা খারাপ দেখে এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিতে না পারায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপরও চলে নাটক। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্যামলীর কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু জীবনের জ্ঞান না ফেরায় তাকে পরে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়। আবার ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এটিকে একটি ‘তুচ্ছ ঘটনা’ বলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও আশঙ্কা করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক কর্মী জানান, ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিদিন অস্ত্রের মহড়া চলে। প্রত্যেক গ্রুপই নিজ নিজ শক্তি বজায় রাখতে এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রের মজুদ করছে এবং সাধারণ কর্মীদের ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে মিডিয়ায় কয়েক দফায় সংবাদ প্রকাশের পরে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আর বলির শিকার হচ্ছে সাধারণ কর্মীরা।

শনিবার ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃতরা হলেন, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ থেকে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সুমন(ব্রেট লি), রাজন, মনির, কাওসার, দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস থেকে জেমস, কামাল, মাহাবুব, আবদুল্লাহ, প্রশান্ত এবং আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছাত্রাবাস থেকে রনি।

আদর (৩য় বর্ষ), অভি (২য় বর্ষ), রাহাত (২য় বর্ষ), কিরন (২য় বর্ষ), পলাশ (২য় বর্ষ), রাকিব (২য় বর্ষ), শুভ (২য় বর্ষ), পিয়ারুলের (২য় বর্ষ) সঙ্গে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সম্প্রতি ঢাকা কলেজের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সংগঠন থেকে এদের বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ‘উদাত্ত আহ্বান’ জানানো হয়, বহিষ্কৃত এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা নেই তাদের গ্রেফতার করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার।

Thursday, January 24, 2013

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর আলটিমেটাম

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর আলটিমেটাম


অর্থমন্ত্রীর পর এবার প্রধানমন্ত্রীও সময় বেঁধে দিলেন বিশ্বব্যাংককে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, জানুয়ারির মধ্যে বিশ্বব্যাংক সিদ্ধান্ত না জানালে বিকল্প অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, আমরা তাদের কাছ থেকে ফাইনাল কথা চাই। না হলে কাজ শুরু করে দেবো। গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সামপ্রতিক রাশিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেও প্রশ্নোত্তরে উঠে আসে পদ্মা সেতু, জাতীয় নির্বাচন, ছাত্রলীগের সামপ্রতিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক ইস্যুসহ নানা বিষয়। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় চলা সংবাদ সম্মেলনে অনেক প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একজন সিনিয়র সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের মেয়াদকালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের উদাহরণ দিয়েছেন। বলেছেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সেভাবে হবে। আর নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের আলোচনা থাকলে তাদের সংসদে যেতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে। তবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
বৈশাখী টিভির সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত একজনের ফাঁসির রায় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানতে চান, রাশিয়া থেকে অস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা। এছাড়া, আওয়ামী লীগ এবং সরকারে মস্কোপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে বলে আলোচনা আছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি একেবারে স্পষ্ট। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। পাল্টা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যে সব দেশ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে তারা কি আমাদের বন্ধু হবে না? তিনি বলেন, আমরা কোন বলয়ে বিশ্বাস করি না। আমাদের একটি মাত্র বলয় আছে। আর সেটি বাংলাদেশ। জনগণের স্বার্থে যার যার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দরকার আমরা তা-ই করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগে আরও অনেক দেশ থেকে অস্ত্র কিনেছি। যে দেশ থেকে আমরা সহজভাবে পাই সে দেশ থেকেই তা ক্রয় করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মন্ত্রিসভায় সব পন্থি লোকই আছেন। আর আমরা সবাই তো একই পন্থার লোক। সেটি বাংলাদেশ। এপি’র প্রতিনিধি ফরিদ হোসেন প্রশ্ন করেছিলেন রাশিয়া থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় চুক্তির সুদের হার নিয়ে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্টেট ক্রেডিট নেয়ার নজির এটিই প্রথম না। এর আগেও এ ধরনের ক্রয়চুক্তি করা হয়েছে। এমন চুক্তির আওতায় চীন থেকেও অস্ত্র আনা হয়েছিল। এটিএন নিউজের মুন্নী সাহার প্রশ্ন ছিল, রাশিয়া থেকে এর আগে মিগ-২৯ কেনার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এবার অস্ত্র ক্রয় চুক্তির আগে সব প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করি। তাই মামলা নিয়ে চিন্তা করি না। আমরা যখন মিগ কিনেছিলাম তখন সমালোচনা ছিল। আবার এই মিগ যখন আকাশে ওড়ে তখন আবার অনেকে বলে আমাদেরও মিগ আছে। এছাড়া, এই মিগ আমরা কিনেছিলাম একেবারে কম দামে। রাশিয়া কারখানায় এই বিমান তৈরিতে যে খরচ হয় তা-ই নিয়েছিল। একই সময়ে অন্য দেশের কাছে তারা আরও বেশি দামে ওই বিমান বিক্রি করেছে। তিনি বলেন, যারা এসব নিয়ে কথা বলে তারা চায় না সামরিক বাহিনী আধুনিক হোক। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উপযুক্ত বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠুক। আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী জাতিসংঘে কাজ করছে। তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও সরঞ্জাম দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার আগে চীন থেকে ট্যাংক আনা হলো। তখন তো কেউ কথা বলেনি। সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠলো না। যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তিনবার ভেটো দিলো তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনলে প্রশ্ন ওঠে না কিন্তু যারা সাহায্য করেছে তাদের কাছ থেকে কিনলে প্রশ্ন ওঠে।
শেখ হাসিনা কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যেতে চাইবেন। তাদের ব্যবহার করবেন। কিন্তু তাদের শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এত অনীহা কেন?
নিউজটুডে’র সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানতে চান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ে চুক্তি করার আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কিনা। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার অস্ত্রবাজার সঙ্কুচিত হয়ে আসায় তারা বাংলাদেশের ওপর এই ঋণ চাপিয়েছে কিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতীতে কেবিনেটে আলোচনা হয়নি। তবে ক্রয় সংক্রান্ত যে কমিটি হয় সেখানে কেবিনেটের প্রতিনিধি থাকেন। ওই কমিটি আলোচনা করেই ক্রয় সংক্রান্ত বিষয় চূড়ান্ত করেন। এসব বিষয়ে অতীতে আলোচনা হয়েছে এরকম একটি দৃষ্টান্ত দেখান?
এসময় রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতীতের খারাপ দৃষ্টান্ত দিয়ে তো লাভ নেই। অতীতে আলোচনা হয়নি, আপনি করেন।
ঋণের সুদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোটেও উচ্চ সুদ না। চীনের কাছ থেকেও এ ধরনের স্টেট ক্রেডিট নেয়া হয়েছিল। সেটির সুদও প্রায় একই রকম ছিল।
’৭১ টিভির প্রধান মোজাম্মেল বাবু বলেন, যারা ক্রয়চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করেন তাদের অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তিনি জানতে চান পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোজাম্মেল বাবুর বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, পদ্মা সেতু- এটিও একটি ষড়যন্ত্র। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে তো কিছুই করা যাবে না। তিনি বলেন, আমরা যে দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল প্রকল্প করেছি। এর কাজ শুরুর পর কম লেখা হয়নি পত্র-পত্রিকায়।
পদ্মা সেতুর কাজ আমরা শুরু করবোই। কারণ আমরা জানি কোন অপরাধ করিনি। মাঝখানে একটি বছর সময় নষ্ট হলো।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দল দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দিলো। এই চিঠি দুদকে পৌঁছার আগেই একটি বিশেষ দৈনিকে হুবহু প্রকাশ হয়ে গেল। এর পেছনে আপনারা কোন উদ্দেশ্য দেখতে পান কিনা?
তিনি বলেন, সেতু ইনশাআল্লাহ হবে। বিকল্প ব্যবস্থাও আমাদের করা আছে। এর আগে এই সেতুর জন্য দেশবাসীর কাছে আহ্বান করেছিলাম। তখন অভূতপূর্ব সাড়াও পেয়েছিলাম।
সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া’র প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন রাশিয়া সরকারের সঙ্গে করা ঋণ চুক্তি পরিমাণে বিশাল কিনা। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে যা যা করা দরকার তা-ই করবো। আমাদের সামরিক বাহিনী থাকবে-আর তা ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার হয়ে থাকবে তা তো হয় না। প্রশ্নকর্তা ড. ইউনূসের রাজনীতিতে আসার আগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশ। কে রাজনীতি করবেন আর কে করবেন না- তা তো আমার দেখার বিষয় না। আমি বলবো-শত ফুল ফুটতে দাও।
সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বিরোধী দলের নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের উদ্ধতি দিয়ে বলেন, তিনি বলেছেন-কমিশন নেয়ার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্রচুক্তি হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি অনুযায়ী স্টেট টু স্টেট লেনদেন হবে। এখানে মাঝপথে ধরার উপায় নেই। তবে যাদের কমিশন খাওয়ার অভ্যাস আছে তারা এ বিষয়ে ভাল বোঝে। সমকাল সম্পাদক গোলাম সরওয়ার প্রশ্ন করার সময় যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যার ফাঁসির রায় হয়েছে তিনি যদি কানাডা বা তুরস্কে চলে যান তাহলে তাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। তাই এই ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, যারা দেশে আছে তাদের বিচার দ্রুত করতে হবে। তারা তো পালিয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেকে সন্দেহ, সংশয় প্রকাশ করেন। বিরোধী দল সংসদে যাচ্ছে না। তাদের সংসদে নেয়ার বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল সংসদে যাবে কিনা এটি তাদের বিষয়। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখন আমি তো কথা বলারই সুযোগ পেতাম না। উনি তো (বিরোধী নেত্রী) টানা কথা বলে যেতে পারেন। এত উদারভাবে সংসদ আগে কেউ চালায়নি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সময়ে ৫৫০৯টি নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচনে ৬৩১৯২ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এত নির্বাচন হলো কিন্তু গণমাধ্যম ভাল করে একটি নিউজও করতে পারলো না। কারণ কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। সমস্যা না হলে তো নিউজও হয় না। নির্বাচনে অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থী হেরে গেছে। আমরা কোন হস্তক্ষেপও করিনি।
সংসদীয় গণতন্ত্র যেসব দেশে আছে সেখানে যেভাবে নির্বাচন হয় আমাদের দেশেও সেভাবে হবে। আপনাদের মানসিকতা সেভাবে নিয়ে আসুন। নির্বাচনের বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্য থাকলে তারা সংসদে আসুক। তিনি বলেন, যে যা-ই বলুক যথাসময়ে নির্বাচন হবে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৫শে জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে।
ছাত্রলীগের সামপ্রতিক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার কতটুকু পূরণ হয়েছে এ প্রশ্নটিও ছিল তার।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রত্যেক অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছি। ক্ষেত্রবিশেষে অঙ্গীকারের চেয়ে বেশি কাজ করেছি।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নামে যারা এসব করছে তারা ছাত্রলীগে ঢোকার জন্য আবেদন করেছে। তাদের নেয়া হয়নি। এমন ছেলেরা এসব করছে। এছাড়া, এমন না যে আমরা কোলে তুলে তাদের আদর করছি। যেখানেই যা ঘটছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের স্পষ্ট নীতি- দুষ্ট গুরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল। আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ এত দুর্বল না যে তাদের দলে নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা ২০০১ সালে যে সব ঘটনা ঘটেছে, যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে তার সব ছবি কি ছাপতে পেরেছেন? তখন তো অনেকে ছাত্রদল-শিবিরকে আহ্লাদ করেছে। আমরা গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিয়েছি। স্বাধীনতা ভাল। তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বও তো থাকা উচিত। মিথ্যা সংবাদের জন্য বিবিসি প্রধান পদত্যাগ করেছেন। আমাদের দেশেও তো অনেক মিথ্যা নিউজ হয়। কারও কি পদত্যাগের নজির আছে? সেই গাটস কি কারও আছে? এখন আমাদের অনেকে সবক দেন শুনি। তার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারাও তো একটু দেখা উচিত। জনকণ্ঠের সম্পাদক আতিকুল্লাহ খানের সরাসরি প্রশ্ন ছিল আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতবে কিনা। প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, জিতবে না কেন? জনগণ ভোট দিলে জিতবে। না দিলে জিতবে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার রাশিয়া সফরকে সব দিক দিয়ে সফল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বন্ধুত্বের যে বন্ধন তৈরি হলো তাতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল ভোগ করবেন দেশবাসী। এই বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী রূপ নেবে। রাশিয়ার সমর্থনের কারণেই মুক্তিযুদ্ধে বিজয় আরও সহজ হয়েছিল। রাশিয়া আমাদের পরম বন্ধু। দুর্দিনে তারাও আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত দু’টি চুক্তি হয়েছে। এর একটি কেন্দ্র স্থাপনে প্রস্তুতিমূলক কাজের অর্থায়নের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি হয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকের ভয়ও আছে। সেই ভয় দূর করার জন্য আমরা তথ্য কেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পারমাণবিক বর্জ্য রাশিয়া নিয়ে যাবে। এটিতে থাকবে ৫ স্তরের নিরাপত্তা।

Wednesday, January 23, 2013

‘ফারুককে পেটানোর কারণেই হারুনকে পদক দেয়া হয়েছে’

‘ফারুককে পেটানোর কারণেই হারুনকে পদক দেয়া হয়েছে’

 


বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে পেটানোর কারণেই লালবাগের উপ-কমিশনার হারুন-অর-রশীদকে ২০১৩ সালের পুলিশ পদকে ভূষিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। গতকাল দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ টেলিকম ভবন অডিটরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওইদিন পুলিশের ওপর নির্দেশ ছিল রাজপথে কোন ধরনের জনসমাবেশ যেন না করতে দেয়া হয়। কারণ তারা সমাবেশের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছিল। ডিসি হারুন নিজের জীবন বাজি রেখে সেদিন ফারুকের নেতৃত্বে রাজপথের বিশৃঙ্খলা রুখে দিয়েছিলেন। চিফ হুইপ ফারুককে পেটানোর ঘটনা ২০১১ সালের। তবে তাকে ২০১২ সালের কার্যক্রম বিবেচনায় ২০১৩ সালে পুলিশ পদক দেয়া হলো এমন জবাবে কোন সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ২০১২ সালে তার অনেক উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম রয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শামসুল হক টুকু, পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ও ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Monday, January 21, 2013

আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ

আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ


স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটি প্রমাণিত হওয়ায় এ আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। মাওলানা আযাদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার রায় পাঠ শুরু হয়। ১১২ পৃষ্ঠার ৩৩টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত রায়টির সারসংক্ষেপ পাঠ করেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহিন।

স্বাধীনতার ৪১ বছর পর কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এই প্রথম রায় ঘোষণা হলো।

সোমবার সকাল পৌনে ১১টায় কোর্ট বসে। ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন আদালত শুরুর আগেই সবার সহযোগিতা কামনা করেন। জনাকীর্ণ আদালতকক্ষে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান রায় পাঠ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন অপর দুই সদস্য। ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থান সংকুলান না হওয়ায় আজকের আদালত বসে ট্রাইব্যুনাল-১ এ।

২৬ ডিসেম্বর এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। মামলায় আইনি পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। এরপর আসামিরপক্ষের আইনজীবী আবদুশ শুকুর খান তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় যেকোনো দিন দেয়া হবে মর্মে বিএভি’তে রেখে দেন।

মাওলানা আযাদের পরিচয়: নাম মাওলানা আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু, পিতার নাম মৃত আবদুস সালাম মিয়া, মায়ের নাম মৃত মাগফুরা খাতুন।
স্থায় ঠিকানা: বড়খাড়দিয়া (ছয়আনি), থানা সালথা, জেলা ফরিদপুর। বর্তমান ঠিকানা: আযাদ ভিলা ২৭৯/৬ চানপাড়া, উত্তরখান, ঢাকা।

১৯৪৭ সালের ৫ মার্চ ফরিদপুরের বড়খাড়দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবুল কালাম আযাদ। তিনি ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজে লেখাপড়া করেছেন।

গত বছরের ৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে তিনি পলাতক।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো: আযাদের বিরুদ্ধে ছয় ধরনের আটটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী গঠনের আগ পর্যন্ত আযাদ পাকিস্তানি সেনাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন।

পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে মিলে আযাদ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও স্বাধীনতাপক্ষের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তার বিরুদ্ধে আনা আট অভিযোগের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও অষ্টম অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধকালে অপহরণ, আটকে রাখা ও নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও ষষ্ঠ অভিযোগ হত্যার, পঞ্চমটি ধর্ষণ আর সপ্তম অভিযোগ হলো গণহত্যার।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সকাল ১০টার দিকে আযাদ ও তার সহযোগীরা ফরিদপুর শহরের খাবাশপুরের রণজিৎনাথ ওরফে বাবুনাথকে ধরে নির্যাতন করা হয়।
তবে গভীর রাতে রণজিৎ জানালা ভেঙে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই সকাল ১১টার দিকে আলফাডাঙ্গা থেকে ধরে আনা আবু ইউসুফকে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে আটকে রেখে আযাদ অমানবিক নির্যাতন করেন।

অষ্টম অভিযোগ, ১৯৭১ সালের ১৮ মে সকাল ১০টার দিকে আযাদ সাত-আটজন রাজাকার সদস্যকে নিয়ে সালথা থানার উজিরপুর বাজারপাড়া গ্রাম থেকে হিন্দু এক তরুণীকে অপহরণ করে খাড়দিয়া গ্রামের চান কাজীর বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করেন। সাত-আট দিন পর মুক্তি পান ওই তরুণী।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৪ মে আযাদ ১০-১২ জন রাজাকার সদস্যসহ বোয়ালমারী থানার কলারন গ্রামের সুধাংশু মোহন রায়কে গুলি করে হত্যা করেন। এ সময় সুধাংশুর বড় ছেলে মনিময় রায় গুলিতে গুরুতর আহত হন।

চতুর্থ অভিযোগ হচ্ছে, ১৬ মে বেলা ৩টার দিকে আযাদ ১০-১২ জন রাজাকার সদস্যকে নিয়ে সালথা থানার (সাবেক নগরকান্দা) পুরুরা নমপাড়া গ্রামে যান এবং মাধবচন্দ্র বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা করেন।

৩ জুন আযাদের নেতৃত্বে ১০-১২ জন রাজাকার সদস্য সালথার ফুলবাড়িয়া গ্রামে হিন্দুপাড়ায় লুটপাট চালায়। সেখানে তারা চিত্তরঞ্জন দাসকে গুলি করে হত্যা করে বলে ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়।

পঞ্চম অভিযোগ হচ্ছে, একাত্তরের ৮ জুন দুপুর ১২টার দিকে আযাদ রাজাকার সদস্যদের নিয়ে বোয়ালমারী থানার নতিবদিয়া গ্রামের এক হিন্দু বাড়িতে হামলা চালান। আযাদ ও তার সহযোগীরা ওই বাড়ির দুই নারীকে ধর্ষণ করেন।

সপ্তম অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ১৭ মে রাজাকার বাহিনীর ৩০-৩৫ সদস্যকে নিয়ে আযাদ বোয়ালমারী থানার হাসামদিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় লুটপাট চালান এবং ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন।

পরে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শরৎচন্দ্র পোদ্দার, সুরেশ পোদ্দার, শ্যামাপদ পোদ্দার, যতীন্দ্র মোহন সাহা, নীল রতন সমাদ্দার, সুবল কয়াল ও মল্লিক চক্রবর্তীকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় আযাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এসব সাক্ষীকে রাষ্ট্র নিয়োগ দেয়া আইনজীবী আবদুশ শুকুর খান জেরা করেছেন।

আসামিপক্ষে কোনো সাক্ষী না থাকায় এ মামলার কার্যক্রম অতিদ্রুত শেষ হয়েছে।

গত বছরের ২২ মার্চ চিফ প্রসিকিউটরের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারের আবেদন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ৩ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তখন থেকে তিনি পলাতক।

গত ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে সরকারের খরচে মো. আবদুশ শুকুর খানকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এরপর তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কয়েকদফা শুনানি শেষে গত বছরের ৪ নভেম্বর আযাদের বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে ১০টি ঘটনায় ২২টি অভিযোগের ভিত্তিতে মোট ৪৪৮ পৃষ্ঠার অভিযোগ দাখিল করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন, “আমারা গভীর প্রত্যাশা নিয়ে অধীর আগ্রহ ভরে বসেছিলাম। আমাদের প্রত্যয়দীপ্ত বিশ্বাস আগামীকাল মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত রায় ঘোষণা করা হবে।”

এ বিষয়ে মামলার দায়িত্বেরত প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান বলে, “মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কুখ্যাত রাজাকার মাওলানা আবুল কালাম আযাদের রায় ঘোষণা করা হবে।”

২২ ডিসেম্বর থেকে আবুল কালাম আযাদের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে এ মামলার রায়ের জন্য নির্দিষ্ট দিন ধার্য না করে সিএভিতে রেখে দেন।

৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরুর আদেশ দিয়ে তার পক্ষে আইনি লড়াই করতে সরকারের খরচে মো. আবদুশ শুকুর খানকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়।

গত ১১ অক্টোবর এ মামলার নথিপত্র (ডকুমেন্ট) ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বুঝে নেন। ৯ সেপ্টেম্বর বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৬ জুলাই তদন্ত সংস্থা বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ শেষ করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়। এর আগে গত ৩ এপ্রিল বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর থেকে তিনি পলাতক। পরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ডেইলি স্টার ও জনকণ্ঠ পত্রিকায় তাকে আদালতে হাজির হওয়ার হুলিয়া জারি করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনাল।

Sunday, January 20, 2013

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে পেশাদার অপরাধীরা

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে পেশাদার অপরাধীরা

সরকারের শেষ সময়ে এসে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় শতাধিক পেশাদার অপরাধী কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় মাস ধরে কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পর্কে ভাটা পড়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে নজরদারি।

গত তিন বছর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসীদের তালিকা ধরে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় কারাবন্দি পেশাদার অপরাধীদের মুক্তির বিষয়টি মনিটর করছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে এমনটি হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রক্রিয়ায় গত ছয় মাসে মাদারীপুরের পেশাদার অপহরণকারী ও খুনি হাকিম, পুলিশ শাহীন গ্রুপের মজিবর পেশাদার অপহরণকারী টিঅ্যান্ডটি কলোনির শাওন, ছিনতাইকারী রমজান ও সুমন,যাত্রাবাড়ীর সানডে গ্রুপের ছিনতাইকারী আলী, ধোলাইপাড়ের ছোট হান্নু, কারা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক কার্যালয় সূত্র বলছেন, পুরান ঢাকার বাণিজ্যিক এলাকায় সানডে গ্রুপের ছিনতাইকারীদের বিচরণ, এদের হোতা আলী। এই দলটি মূলত রোববারে ছিনতাই করে। শুক্র ও শনিবার ব্যংক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা রোববার সকালে দুইদিনের ব্যবসার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যায়। এ সময়ই তাদের শিকার বানায় এই দলটি। আলীর গ্রেফতারের পর এই ধরনের ছিনতাই প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। এখন আলীসহ আরো ডজনখানেক পেশাদার ছিনতাইকারী মুক্তি পেয়েছেন। এরাই পরে বিভিন্ন বড় সন্ত্রাসীর দলে যোগ দিয়ে চুক্তিতে খুন, চাঁদাবাজি করে থাকে।

জানা গেছে, সরকারের একজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী জামিন পেতে সন্ত্রাসীদের জন্য সুপারিশ করছেন। আরেকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী কারা কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে ত্বরান্বিত মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। আবার কিছু সন্ত্রাসী ডিবির চোখ ফাঁকি দিতে কারাগার বদল করে ঢাকার বাইরের কারাগারে চলে যাচ্ছেন।

কারাবিধি অনুযায়ী কারাবন্দিদের নিজ জেলার কারাগারে স্থানান্তরের সুযোগ রয়েছে।সন্ত্রাসীরা সেই বিধির সুযোগ নিয়ে কারাবাস শেষে ঢাকার বাইরের কারাগার থেকে নির্বিঘে বের হয়ে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন কারা মহাপরিদর্শকও।

Saturday, January 19, 2013

পিপার স্প্রে নিয়ে কথা বলার অধিকার কারো নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পিপার স্প্রে নিয়ে কথা বলার অধিকার কারো নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর দাবি করেছেন, “অবৈধ সমাবেশ দমনে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক কনভেশনে অনুমোদিত যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে, পিপার স্প্রে সেগুলোর একটি। কাজেই এ উপকরণ সম্পর্কে কারো কোনো মত দেয়ার অধিকার নেই।”

শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে পিপার স্প্রে ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “যখন নৈরাজ্য বন্ধ করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে তখন তারা ফুলের মালা নিয়ে যাবে না, নৈরাজ্য দমন করার উদ্দেশ্যেই যাবে।”

মন্ত্রী দাবি করেন, “মনে রাখতে হবে, ভাঙচুর ও নৈরাজ্য বন্ধ করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।”

মন্ত্রী কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের একাদশ ও স্নাতক প্রথম বর্ষ শিক্ষার্থীর নবীনবরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, বৃত্তি প্রদান এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করেন। পরে মন্ত্রী চাঁদপুর শহরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারীর বাবার স্মরণে আয়োজিত এক মিলাদ মাহফিলে যোগ দেন। এছাড়া তিনি আশ্রাফপুর স্কুল মাঠ ও জগতপুর বাজারে শীতার্ত লোকজনের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন পিপার স্প্রে ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এতে বলা হচ্ছে, ক্ষতিকর পিপার স্প্রে বিশ্বের অনেক দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই বাংলাদেশেও পিপার স্প্রে বন্ধের জোরালো দাবি উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

গোয়েন্দা জালে...

গোয়েন্দা জালে...

 গোয়েন্দা নজরদারিতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। গত কয়েক দিন ধরে তাকে ঘিরে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। তার গতিবিধি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাসা থেকে অফিস অথবা অন্য কোন কর্মস্থলে গেলেও তাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অনুসরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক। ডাকসু’র সাবেক ভিপি মান্না বর্তমানে আওয়ামী লীগের কোন পদে নেই। কথিত সংস্কারবাদী বলে পরিচিত এ নেতা স্পষ্ট ভাষায় দল এবং সরকারের সমালোচনা করছেন বিভিন্ন সভা-সেমিনারে। টিভি টকশো এবং লেখনীতেও তিনি সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় মুখর। সরকারের সমালোচনা করার কারণেই তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে মান্নার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রনেতা দলীয় পদ হারালেও সামপ্রতিক সময়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে আলোচনায় আসেন। আলোচনা ছিল দলীয় সমর্থন না পেলেও নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে ডিসিসি’র মেয়র পদে তিনি নির্বাচন করবেন। সমপ্রতি সারা দেশে নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক এই ছাত্রনেতা। এক অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনে নাগরিক ঐক্য সব আসনে প্রার্থী দেয়ার চিন্তা করছে।
২০০২ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে মাহমুদুর রহমান মান্না দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে মান্নাসহ সংস্কারপন্থি বলে খ্যাত নেতারা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়েন। অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা তাদের জায়গা দখল করেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়ার পর সুশীল সমাজের প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন তিনি। বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে গড়া নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্না এই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছেন। এসব কর্মসূচিতে সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করছেন অতিথিরা। মাহমুদুর রহমান মান্না এর আগে স্যাটেলাইট টিভি বাংলাভিশন ও এটিএন নিউজের দুটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। সরকার বিরোধী বক্তব্য আসায় এটিএন নিউজ কর্তৃপক্ষ মান্নার ওই টকশো বন্ধ করে দেয়। সামপ্রতিক সময়ে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের একটি টকশো উপস্থাপনা করছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। একই সঙ্গে বিভিন্ন পত্রিকায় সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে কলামও লিখছেন তিনি।

একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে মন্ত্রী-এমপিরা

একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে মন্ত্রী-এমপিরা


মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন এমপি-মন্ত্রীরা।শুধু প্রতিপক্ষ নয়, নিজ দলের মন্ত্রী-এমপিদের এ ধরনের অঘটন সরকারকে চরমভাবে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। মহাজোট সরকারের মেয়াদকালেই অন্তত অর্ধডজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নানাভাবে বির্তকিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।এছাড়াও বহু সংসদ সদস্য লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, তাদের এ বির্তকিত কর্মকাণ্ডের জন্য মহাজোট তথা আওয়ামী লীগকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে মাশুল দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা এ ধরনের যে সব কাজ করছেন তা বেআইনি। এজন্য সরকারি দলকে অবশ্যই আগামী নির্বাচনে মাশুল দিতে হবে। কারণ এ সকল কর্মকাণ্ড জনগণ ভালো ভাবে নেয় না, কখনো নেবেও না।”

২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর মহাজোট সরকার শপথ নেয়ার পর থেকেই এমপি-মন্ত্রীরা নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তারমধ্য অর্থ কেলেঙ্কারি, ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ, অস্ত্র উঁচিয়ে জনতার ওপর গুলি, এবং নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা নিজ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার পাইয়ে দেয়াসহ নানা অভিযোগ।

সর্বশেষ গত বৃহ্পতিবার ময়মনসিংহ-১০ আসনের এমপি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং তাদের গালিগালাজ করেছেন।পরে তিনি কর্মকতাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর কাছে নালিশ করেন। এক পর্যায়ে এমপি গিয়াস মন্ত্রীকে বলেন, “আপনি জানেন আমি মেজর জিয়াকে হত্যা করেছি, আমি ফাঁসির আসামি, কাউকে ভয় পাই না। আমি আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার কাজ করে দিতে হবে।”

এমপি গিয়াস উদ্দিনের ক্ষেত্রে এটাই প্রথম ঘটনা নয়, এর আগেও তিনি তার নিজ এলাকায় লাইসেন্স করা পিস্তল উঁচিয়ে জনগণের ওপর গুলিও করেন।

বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান ইসলামী রাজনীতি নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেয়ায় মুসল্লিরা মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন।

‘ইসলামে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কোনো স্থান নেই, কোরআনে এ সম্পর্কে কোনো আয়াত নেই, রাসূল (সা.) ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পছন্দ করতেন না, তিনি এ কাজ কখনো করেননি’- মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর মঞ্চের সামনে বসা মুসল্লিদের মধ্য থেকে একজন হঠাৎ দাঁড়িয়ে চিৎকার করে জানতে চান, মুসলমান হিসেবে মন্ত্রী কেন তাহলে রাজনীতি করছেন? এক পর্যায়ে কয়েকজন মুসল্লি দাঁড়িয়ে যান এবং মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরে নিরাপত্তা কর্মীরা মন্ত্রীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যান।

এর আগেও একটি বেসরকারি টিভি চ্যালেনের টকশোতে আওয়ামী লীগের ওই মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে চোখ তুলে নেয়ার হুমকি দেন।

এছাড়া সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এবং রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের বিরুদ্ধে রেলে নিয়োগের নামে অবৈধ অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে সরকারকে।

অন্যদিকে, মহাজোট সরকারের চার বছরে নির্বাচিত এলাকাতেই অবাঞ্ছিত হয়েছেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি। বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বাসা-বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগি্নসংযোগ করা হয়েছে। অবাঞ্ছিত হয়ে কোনো কোনো মন্ত্রী আবার নিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ঢুকতেও পারেননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্ষমতায় থাকাকালে দলের অনেক মন্ত্রীই নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজ দলীয় নেতাকর্মীরাও তাদের সাক্ষাৎ পান না। ফলে অনেকেই নিজেদের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিচ্ছিন্ন হামলার শিকার হচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের বাড়িতে জনতা হামলা চালায়। গত ১৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নকে বিভক্ত করে নতুন করে গেজেট সংশোধন করার প্রতিবাদে এ হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা রাস্তায় কাঠ ও টায়ার জ্বালিয়ে দুই ঘণ্টা বিক্ষোভও করে।

নিজ এলাকা নরসিংদীতে অবাঞ্ছিত হন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। দলীয় লোকেরাই মন্ত্রীকে নিজ এলাকায় প্রবেশে বাধা দেয়। দীর্ঘ ১১ মাস এলাকা ছাড়া থাকার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর নিজ এলাকায় কড়া নিরাপত্তায় প্রবেশ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র লোকমান হত্যার ঘটনাকে ঘিরে এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হন রাজিউদ্দিন আহম্মেদ রাজু। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন নিজ এলাকায় লাঞ্ছিত হন দলীয় লোকজনের হাতে।

টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের কারণে নির্বাচিত এলাকার বহু এমপি হামলার শিকার হয়েছেন।বর্তমান সরকারের মেয়াদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রথম ২০১০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আক্রমণের শিকার হন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের এমপি মনিরুল ইসলাম মনি। একই বছরের ১৪ নভেম্বর নিজ বাড়িতে হামলার শিকার হন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের এমপি আফাজউদ্দিন আহম্মেদ। এছাড়া লাঞ্ছিত হন সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির রংপুরের গঙ্গাচরার এমপি, এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ননী গোপাল মণ্ডলকে অতিথি না করায় তার হাতে দাকোপ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়ন্তী রানী সরদার লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী সংসদ সদস্যকে লাঞ্ছিত করেন।

Friday, January 18, 2013

এবার মন্ত্রীর দপ্তরে এমপি গিয়াসের গুলির হুমকি

এবার মন্ত্রীর দপ্তরে এমপি গিয়াসের গুলির হুমকি


ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকার সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং তার একান্ত সচিবের কম্পিউটার অপারেটরকে গালাগাল ও গুলি করার হুমকি দিয়েছেন। গতকাল দুপুরে মন্ত্রণালয়ে একটি কাগজের ফটোকপি দিতে দেরি হওয়ায় এমপি তাদের গালাগাল ও হুমকি দেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা। বিষয়টি অস্বীকার করেছেন গিয়াস উদ্দিন। মন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে দপ্তরি নিয়োগের তদবির নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিনের দপ্তরে যান ময়মনসিংহ-১০ আসনের এমপি গিয়াস উদ্দিন। ওই সময় মন্ত্রীকে না পেয়ে ফিরে যান তিনি। এরপর দুপুর দেড়টায় আবার মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটারটি নিয়ে যান। এতে সুপারিশ করে দেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেরিয়ে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু ইউসুফকে ডিও লেটারের কপিটির ফটোকপি দিতে বলেন। তখন বলা হয়, এখানে কোন ফটোকপি মেশিন নেই। তাই ফটোকপি করা যাচ্ছে না। পরে তিনি মন্ত্রীর পিএস রূপন কান্তির রুমে যান। সেখানে কম্পিউটার অপারেটর মাইনুদ্দিন ভূঁইয়াকে বলেন ফটোকপি করে দেয়ার জন্য। এসময় ফটোকপি করতে দেরি হওয়ায় গিয়াস উদ্দিন রেগে যান এবং কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দুর্নীতিবাজও বলেন। শেষ পর্যায়ে সবাইকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এরপর মন্ত্রীর রুমে কম্পিউটার অপারেটর মাইনুদ্দিনকে নিয়ে ঢোকেন তিনি। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করেন মন্ত্রীর কাছে। এক পর্যায়ে বলেন, আপনি জানেন আমি মেজর জিয়াকে হত্যা করেছি, আমি ফাঁসির আসামি, কাউকে ভয় পাই না। আমি আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার কাজ করে দিতে হবে। এ কথা বলে চলে যান এমপি। ঘটনার বিবরণ এমপি’র কাছ থেকে মন্ত্রী শুনতে চাইলে তিনি কিছু জানাতে রাজি হননি। পরে মন্ত্রী তার দপ্তরে কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটর মাইনুলের কাছ থেকে সব বিষয় জানেন। তবে মন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে গুলি করার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এক কর্মকর্তা আমার সঙ্গে বেয়াদবি করেছে, আমি মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছি, আমি তাকে হুমকি দেইনি। মন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে আমি হুমকি দেবো, আমি কি পাগল? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফসারুল আমিন জানিয়েছেন, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, মিটমাট হয়ে গেছে। এর আগে নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ জনগণকে গুলি করার জন্য পিস্তল তাক করে সারা দেশে আলোচনার ঝড় তোলেন এমপি গিয়াস। গতকালের ঘটনার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেন এই এমপি। এর আগে ২০১২ সালের ১৯শে মে গফরগাঁওয়ে স্থানীয় জনতাকে লক্ষ্য করে সরকার দলীয় এই এমপি গুলিবর্ষণ করেন। ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হয়েছিলেন তখন। সর্বত্র আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন।

দুই কারণে আসামি হচ্ছেন আবুল হোসেন

দুই কারণে আসামি হচ্ছেন আবুল হোসেন


দুই কারণে আসামি হচ্ছেন সৈয়দ আবুল হোসেন। শেষ পর্যন্ত এজাহারে আগত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন আবুল হাসান চৌধুরীও। এমন তথ্যই পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার সিঁড়ি ধরেই নাম থাকছে আবুল হাসানের। সৈয়দ আবুল হোসেনকে পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় আসামি করা না হলে বিশ্বব্যাংকের বিদায় অনেকটা নিশ্চিতই বলা যায়। অন্যদিকে আবুল হোসেনকে আসামি করা হলেও বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। এখন আবুল হোসেনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে দুদক। আবুল হোসেনকে আসামি করা না করা নিয়ে বিশ্বব্যাংক ফিরে গেলে পুরো দায় দুদকের ঘাড়ে পড়বে এবং চরম ভাবে দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করছেন দুদকের ঊর্ধ্বতন মহল। দুদকের ওই মহলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলায় সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলার আসামি করার ক্ষেত্রে দুদক এক ধাপ এগিয়ে আছে এজাহারে তাদের নাম উল্লেখ করে। এখন অধিকতর তদন্তে তারা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন- এমন আসামি হওয়ার নজির দুদকে অনেক আছে। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান একাধিকবার বলেছেন, মামলা দায়ের করার সময় সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণাদি হাতে ছিল না, এখন তদন্তে প্রমাণাদি পাওয়া গেলে তিনি আসামি হবেন। সূত্রমতে সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো দু’টি বড় প্রমাণ এখন দুদকের নাগালে। রমেশ সাহার ডায়েরি ও এসএনসি লাভালিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৈয়দ আবুল হোসেনের বৈঠক সংক্রান্ত বিষয়ে সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার বক্তব্য। পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার সূত্রপাত এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ সাহার ডায়েরি থেকে। ওই ডায়েরিতে মিনিস্টার ও সেক্রেটারি শব্দগুলোর পাশে ঘুষের পার্সেন্টেজ উল্লেখ করা আছে। কানাডিয়ান পুলিশের জব্দ করা ওই ডায়েরির পাশাপাশি ঘুষের প্রমাণ হিসেবে কানাডিয়ান আদালতে দেয়া রমেশ সাহার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আছে। এতদিন রমেশ সাহার ডায়েরি দুদকের কাছে ছিল না। বিশ্বব্যাংক বা কানাডিয়ান পুলিশ সেগুলো সরবরাহ করেনি। সূত্রমতে অতি সমপ্রতি কানাডিয়ান রয়েল পুলিশ এক চিঠি মারফত দুদককে জানিয়েছে তারা রমেশ সাহার ডায়েরি সহ রমেশ সাহার আদালতের কাগজপত্র দুদকে সরবরাহ করবে। রমেশ সাহার ডায়েরিতে পরিষ্কার ভাবেই মিনিস্টার শব্দ লেখা আছে, এটা সৈয়দ আবুল হোসেনের সংশ্লিষ্টতার একটি বড় ধরনের প্রমাণ। এছাড়া, ঘুষ দিয়ে কানাডিয়ান আদালতে দেয়া রমেশ সাহার বক্তব্যও পাওয়া যাবে। অন্যদিকে ঢাকাতে সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার মধ্যস্থতায় সৈয়দ আবুল হোসেনের সঙ্গে এসএনসি লাভালিন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক প্যানেলের ভাষ্য অনুসারে ওই বৈঠকেই ঘুষ লেনদেনের ফয়সালা হয়েছিল। একটি সূত্র জানিয়েছে, মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সে সময়ের যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের অংশগ্রহণের বিষয়টি দুদককে নিশ্চিত করেছেন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া নিজেই দুদকে দেয়া তার বক্তব্যে। এসএনসি লাভালিনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিতেই ফেঁসে যাচ্ছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীও।
সূত্রমতে সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন প্রমাণ হিসেবে দুদকের নাগালে। এছাড়াও বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল শুরু থেকেই বলে আসছে বাংলাদেশের প্রশাসনিক পদ্ধতিতে মন্ত্রীই হচ্ছেন প্রধান। প্রধান ব্যক্তি দায় এড়াতে পারেন না।