Pages

Showing posts with label Padma Bridge. Show all posts
Showing posts with label Padma Bridge. Show all posts

Sunday, February 3, 2013

মার্চ মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার

মার্চ মাসেই পদ্মা সেতুর টেন্ডার


চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনিশ্চয়তায় পড়া পদ্মা সেতুর কাজ শিগগিরই শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, নিজেদের টাকায় হবে সেতু নির্মাণের কাজ। কেউ আসুক বা না আসুক, তার জন্য আর কোন অপেক্ষা নয়। কোন দাতা সংস্থা আসলে ভালো। না আসলে চলতি বছরের আগামী মার্চ মাসেই পদ্মা সেতু প্রকল্পের দরপত্রের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা এখন সরকারের চ্যালেঞ্জ। শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে ১৭তম কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট আন্তঃক্লাব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কাস্টম ক্রীড়া পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠান শেষে মুহিতকে ঘিরে ধরেন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পত্রিকার সাংবাদিকরা। এই সময় তাদের কাছে পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনার কথা জানান তিনি। মিডিয়ার কর্মীরা তার কাছে এই নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, বহু নাটকীয়তার পর গত শুক্রবার বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের প্রস্তাব ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি তাদের ওয়েবসাইটে এই নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে তারা বলেছে, এই মুহূর্তে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে তাদেরও। এর ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে দেশের আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ। পদ্মা সেতুর কাজের প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে- গতকাল এই বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন অর্থমন্ত্রী। এরপর ভেবে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য এই মাস শেষে বৈঠকে বসবো। তারপর সেখানেই সব কিছু চূড়ান্ত করবো। বলতে পারেন মার্চ মাসের মধ্যেই টেন্ডার কল করা হবে। এরপর আরও ৪৫ দিন থাকবে যারা আসতে চায়। তাদের কাগজপত্র বাছাইয়ের জন্য নিজেরা ১৫/২০ দিন সময় নেবো। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায় পদ্মা সেতুর কাজ ২/৩ মাসের মধ্যে শুরু করতে পারবো।’ ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আপত্তির পর নতুন করে কি ভাবছে সরকার-এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক নিয়ে আমাদের আর কোন ভাবনা নেই। তারা যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই আমরা কাজ করেছি। একবার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে সেটাও খতিয়ে দেখেছি। এখন তাদেরকে না জানিয়ে দেয়ার পর কেউ যদি আসতে চায় তাহলে ভালো।’ এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করার যে আগ্রহ ছিল তা আপাতত আর নেই। এই বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, আমরা ক্ষমতায় এসে এই সেতুর কাজ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যেভাবে গড়িমসি করছে তাতে নির্বাচনের আগে তা শুরু করা নিয়ে সবাইকে অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে।’
তিনি এডিবি, জাইকাসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, ‘কেউ যদি আসে তাহলে আমাদের আপত্তি থাকবে না। তবে না এলেও নিজেরাই সেতুর কাজ শুরু করবো। নিজেদের টাকা দিয়ে করবো। আগে কাজটা শুরু করা দরকার। এই সিদ্ধান্ত ভালো হলো না খারাপ তা পরে ভেবে দেখা যাবে।’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে বক্তব্য দেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। তিনি বর্তমান সরকারের আমলে রাজস্ব আদায় অতীতের চেয়ে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন।

Saturday, February 2, 2013

পদ্মায় অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াল এডিবি

পদ্মায় অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াল এডিবি


বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে থাকছে না এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে তারা জানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু এই প্রকল্পে মূল অর্থায়নকারী বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন হচ্ছে না সেজন্য সহ-অর্থায়নকারী এডিবি'র পক্ষেও প্রকল্পে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। একই সাথে এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ উঠেছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এডিবি। অবশ্য বাংলাদেশের অন্যান্য প্রকল্পে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

এডিবির বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এডিবি জানতে পেরেছে যে, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের তদন্ত নিয়ে অর্থায়নের বিষয়টি দৃশ্যত: 'অনির্দিষ্টকালের' জন্য ঝুলে যাওয়ায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ আর না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে মূল অর্থায়নকারী এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) পাশাপাশি সহযোগী অর্থায়নকারী এডিবি। যেহেতু এটি একটি যৌথ অর্থলগ্নিকারী প্রকল্প, সেহেতু সেখান থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ায় এডিবির পক্ষে আর অগ্রসর হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাংলাদেশে সবচে' তাত্পর্যপূর্ণ প্রকল্পগুলোর একটি। এটির মূল উদ্দেশ্য ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অংশের সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপন। এই কারণে প্রকল্পটির আঞ্চলিক গুরুত্ব আছে। এর মাধ্যমে অন্তত ৩ কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। এডিবি এখনো আশাবাদী যে, এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

'বিবৃতিতে বলা হয়, এডিবি সর্বোচ্চ সততা, সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানে থাকতে বদ্ধপরিকর। এ কারণে আমরা বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে এই অভিযোগের পূর্ণ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং সরকারের প্রতি পুনর্গঠনমূলক কাজগুলো চালিয়ে যাবার আহ্বান জানাচ্ছি। এসব পদক্ষেপে জনগণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রগুলো উপকৃত হবে।'

এডিবি বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। এডিবি বাংলাদেশ এবং এর জনগণের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী এবং এর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সহযোগী হিসেবে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

‘রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো’

‘রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো’


সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিকল্প উৎস থেকে পদ্মা সেতুর অর্থ সংস্থান হলে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণই ছিল এ প্রকল্পের সবচেয়ে সহজ অর্থায়ন। বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত জানানোর আগে সরকারের পক্ষ থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়াকে খুব বেশি যৌক্তিক হয়নি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পে সহায়তার আগে তারা দুর্নীতির বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মীর্জ্জা এবি আজিজুল ইসলাম মনে করেন সরকারের সিদ্ধান্ত খুব একটা যৌক্তিক হয়নি। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানিয়েছেন, বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংস্থান করে সেতু বাস্তবায়ন হলে তা সাধারণ মানুষ ও দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ ফেলতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরকার নিজে থেকেই সরে আসার বিষয়ে ড. আকবর আলি খান বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছিল সবচেয়ে উত্তম পথ। আর এটা সরকার জানে বলেই প্রথমে বিশ্বব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছিল। পরে যখন দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করে তখন তাদের খুশি করার জন্য যোগাযোগমন্ত্রী বদল করা হয়। দুর্নীতির তদন্ত করা হয়। তাদের শর্ত পালন করতে গিয়ে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু যখন সমাধান হয়নি তখনই সরকার নিজে থেকেই সরে এসেছে। এখন সরকার বিকল্প অর্থায়ন থেকে পদ্মা সেতু করার চিন্তাভাবনা করছে। বিকল্প অর্থায়ন থেকে এই সেতু করা হলে এর ব্যয় বেড়ে যাবে এবং সময় লাগবে বেশি। বিকল্প অর্থায়ন থেকে পদ্মা সেতু করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি নির্ভর করবে কোন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে, ঋণ চুক্তি কি হবে তার ওপর। এটি প্রকাশ করলে বোঝা যাবে পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ। তবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নই ছিল সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরে আসায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কোন প্রকল্পে সহায়তায় এর প্রভাব পড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পে সহায়তা করার সময় তারা দুর্নীতির বিষয়টি আগে খতিয়ে দেখবে। যদিও বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য তারা বাংলাদেশের সহায়তা বন্ধ করবেন না।
সাবেক উপদেষ্টা এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তকে খুব বেশি যৌক্তিক বলে মনে করি না। কারণ বিশ্বব্যাংক দরজা বন্ধ করেনি। আমরা নিজেরা দরজা বন্ধ করে দিয়েছি। বিশ্বব্যাংকের কিছু প্রশ্ন ছিল। যার জবাব দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই জবাবের প্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংকের মতামত আসার আগেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লাভ-লোকসান পর্যালোচনা না করে এখন নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ করা বাস্তব সম্মত নয়। নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন উচ্চাভিলাষী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ইতিবাচকভাবে দেখলে পদ্মা সেতু নিয়ে যে ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল সরকারের সিদ্ধান্তে তা শেষ হলো। সর্ববৃহৎ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার এখন ভিন্নভাবে অর্থায়নে মনোযোগী হতে পারে। আশা করি সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ সুষ্ঠুভাবেই নিতে পারবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মনোভঙ্গির কাছে অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা পরাজিত হলো। সহজ শর্তে ঋণ থেকে বঞ্চিত হলো বাংলাদেশ। কিন্তু যে কারণে বৃহৎ এ প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো সেই অপবাদ কিভাবে দূর হবে সেই দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পেলাম না, তাই নিলাম না। এমন পরিস্থিতিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর চেয়ে কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রমোট করাই সরকারের কাছে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই সরকার একটি বড় সুযোগ হারালো। দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির নাম এসেছিল মামলায় সেসব ব্যক্তিকে আসামি করা হলে বিশ্বব্যাংক অবশ্যই অর্থায়ন করতো। একই ইস্যুতে কারও বিরুদ্ধে মামলা হবে। আবার কারও বিরুদ্ধে মামলা হবে না তা হতে পারে না। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বৃহস্পতিবার এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে এ বিষয়ে যা বলেছে তা সরকার ও দেশের জন্য বিব্রতকর। এ কারণে সরকার গতকাল ঘোষণা দিয়েছে- বিশ্বব্যাংক থেকে তারা এ বিষয়ে ঋণ নেবে না। এখন দুদকের তদন্তের ফল কি দাঁড়াবে তা-ও দেখার বিষয়। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাংক-এর চ্যাপ্টার ক্লোজড হওয়ার পর সেতু নির্মাণে বিকল্প পন্থা বের করা যুক্তিযুক্ত বিষয়। এ ক্ষেত্রে সুদ কি হবে? শর্ত কি হবে? এসব বড় বিষয়। বিকল্প পন্থা থেকে বিশ্ব ব্যাংক-এর মতো কম সুদে ঋণ পাওয়া সম্ভব নয়। উচ্চ হারে ঋণ নিয়ে সেতু নির্মাণ করলে সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতির ওপর কি প্রভাব পড়বে তা বড় প্রশ্ন। ভবিষ্যতে সরকার কতটুকু দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে সেতু বাস্তবায়ন করতে পারবে সে প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে।

Thursday, January 24, 2013

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর আলটিমেটাম

বিশ্বব্যাংককে প্রধানমন্ত্রীর আলটিমেটাম


অর্থমন্ত্রীর পর এবার প্রধানমন্ত্রীও সময় বেঁধে দিলেন বিশ্বব্যাংককে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, জানুয়ারির মধ্যে বিশ্বব্যাংক সিদ্ধান্ত না জানালে বিকল্প অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, আমরা তাদের কাছ থেকে ফাইনাল কথা চাই। না হলে কাজ শুরু করে দেবো। গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সামপ্রতিক রাশিয়া সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেও প্রশ্নোত্তরে উঠে আসে পদ্মা সেতু, জাতীয় নির্বাচন, ছাত্রলীগের সামপ্রতিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক ইস্যুসহ নানা বিষয়। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় চলা সংবাদ সম্মেলনে অনেক প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একজন সিনিয়র সম্পাদকের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের মেয়াদকালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের উদাহরণ দিয়েছেন। বলেছেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সেভাবে হবে। আর নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের আলোচনা থাকলে তাদের সংসদে যেতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে। তবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
বৈশাখী টিভির সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত একজনের ফাঁসির রায় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানতে চান, রাশিয়া থেকে অস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা। এছাড়া, আওয়ামী লীগ এবং সরকারে মস্কোপন্থিদের প্রভাব বাড়ছে বলে আলোচনা আছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি একেবারে স্পষ্ট। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। পাল্টা প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যে সব দেশ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে তারা কি আমাদের বন্ধু হবে না? তিনি বলেন, আমরা কোন বলয়ে বিশ্বাস করি না। আমাদের একটি মাত্র বলয় আছে। আর সেটি বাংলাদেশ। জনগণের স্বার্থে যার যার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দরকার আমরা তা-ই করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগে আরও অনেক দেশ থেকে অস্ত্র কিনেছি। যে দেশ থেকে আমরা সহজভাবে পাই সে দেশ থেকেই তা ক্রয় করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মন্ত্রিসভায় সব পন্থি লোকই আছেন। আর আমরা সবাই তো একই পন্থার লোক। সেটি বাংলাদেশ। এপি’র প্রতিনিধি ফরিদ হোসেন প্রশ্ন করেছিলেন রাশিয়া থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় চুক্তির সুদের হার নিয়ে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্টেট ক্রেডিট নেয়ার নজির এটিই প্রথম না। এর আগেও এ ধরনের ক্রয়চুক্তি করা হয়েছে। এমন চুক্তির আওতায় চীন থেকেও অস্ত্র আনা হয়েছিল। এটিএন নিউজের মুন্নী সাহার প্রশ্ন ছিল, রাশিয়া থেকে এর আগে মিগ-২৯ কেনার কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এবার অস্ত্র ক্রয় চুক্তির আগে সব প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করি। তাই মামলা নিয়ে চিন্তা করি না। আমরা যখন মিগ কিনেছিলাম তখন সমালোচনা ছিল। আবার এই মিগ যখন আকাশে ওড়ে তখন আবার অনেকে বলে আমাদেরও মিগ আছে। এছাড়া, এই মিগ আমরা কিনেছিলাম একেবারে কম দামে। রাশিয়া কারখানায় এই বিমান তৈরিতে যে খরচ হয় তা-ই নিয়েছিল। একই সময়ে অন্য দেশের কাছে তারা আরও বেশি দামে ওই বিমান বিক্রি করেছে। তিনি বলেন, যারা এসব নিয়ে কথা বলে তারা চায় না সামরিক বাহিনী আধুনিক হোক। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উপযুক্ত বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠুক। আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী জাতিসংঘে কাজ করছে। তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও সরঞ্জাম দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার আগে চীন থেকে ট্যাংক আনা হলো। তখন তো কেউ কথা বলেনি। সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠলো না। যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তিনবার ভেটো দিলো তাদের কাছ থেকে অস্ত্র কিনলে প্রশ্ন ওঠে না কিন্তু যারা সাহায্য করেছে তাদের কাছ থেকে কিনলে প্রশ্ন ওঠে।
শেখ হাসিনা কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যেতে চাইবেন। তাদের ব্যবহার করবেন। কিন্তু তাদের শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এত অনীহা কেন?
নিউজটুডে’র সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানতে চান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ে চুক্তি করার আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কিনা। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার অস্ত্রবাজার সঙ্কুচিত হয়ে আসায় তারা বাংলাদেশের ওপর এই ঋণ চাপিয়েছে কিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতীতে কেবিনেটে আলোচনা হয়নি। তবে ক্রয় সংক্রান্ত যে কমিটি হয় সেখানে কেবিনেটের প্রতিনিধি থাকেন। ওই কমিটি আলোচনা করেই ক্রয় সংক্রান্ত বিষয় চূড়ান্ত করেন। এসব বিষয়ে অতীতে আলোচনা হয়েছে এরকম একটি দৃষ্টান্ত দেখান?
এসময় রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অতীতের খারাপ দৃষ্টান্ত দিয়ে তো লাভ নেই। অতীতে আলোচনা হয়নি, আপনি করেন।
ঋণের সুদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোটেও উচ্চ সুদ না। চীনের কাছ থেকেও এ ধরনের স্টেট ক্রেডিট নেয়া হয়েছিল। সেটির সুদও প্রায় একই রকম ছিল।
’৭১ টিভির প্রধান মোজাম্মেল বাবু বলেন, যারা ক্রয়চুক্তি নিয়ে সমালোচনা করেন তাদের অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তিনি জানতে চান পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা কি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোজাম্মেল বাবুর বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, পদ্মা সেতু- এটিও একটি ষড়যন্ত্র। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগের চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে তো কিছুই করা যাবে না। তিনি বলেন, আমরা যে দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল প্রকল্প করেছি। এর কাজ শুরুর পর কম লেখা হয়নি পত্র-পত্রিকায়।
পদ্মা সেতুর কাজ আমরা শুরু করবোই। কারণ আমরা জানি কোন অপরাধ করিনি। মাঝখানে একটি বছর সময় নষ্ট হলো।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দল দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দিলো। এই চিঠি দুদকে পৌঁছার আগেই একটি বিশেষ দৈনিকে হুবহু প্রকাশ হয়ে গেল। এর পেছনে আপনারা কোন উদ্দেশ্য দেখতে পান কিনা?
তিনি বলেন, সেতু ইনশাআল্লাহ হবে। বিকল্প ব্যবস্থাও আমাদের করা আছে। এর আগে এই সেতুর জন্য দেশবাসীর কাছে আহ্বান করেছিলাম। তখন অভূতপূর্ব সাড়াও পেয়েছিলাম।
সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া’র প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন রাশিয়া সরকারের সঙ্গে করা ঋণ চুক্তি পরিমাণে বিশাল কিনা। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে যা যা করা দরকার তা-ই করবো। আমাদের সামরিক বাহিনী থাকবে-আর তা ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার হয়ে থাকবে তা তো হয় না। প্রশ্নকর্তা ড. ইউনূসের রাজনীতিতে আসার আগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের সভানেত্রী বলেন, বাংলাদেশ বহুদলীয় গণতন্ত্রের দেশ। কে রাজনীতি করবেন আর কে করবেন না- তা তো আমার দেখার বিষয় না। আমি বলবো-শত ফুল ফুটতে দাও।
সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বিরোধী দলের নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের উদ্ধতি দিয়ে বলেন, তিনি বলেছেন-কমিশন নেয়ার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্রচুক্তি হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি অনুযায়ী স্টেট টু স্টেট লেনদেন হবে। এখানে মাঝপথে ধরার উপায় নেই। তবে যাদের কমিশন খাওয়ার অভ্যাস আছে তারা এ বিষয়ে ভাল বোঝে। সমকাল সম্পাদক গোলাম সরওয়ার প্রশ্ন করার সময় যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যার ফাঁসির রায় হয়েছে তিনি যদি কানাডা বা তুরস্কে চলে যান তাহলে তাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। তাই এই ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, যারা দেশে আছে তাদের বিচার দ্রুত করতে হবে। তারা তো পালিয়ে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেকে সন্দেহ, সংশয় প্রকাশ করেন। বিরোধী দল সংসদে যাচ্ছে না। তাদের সংসদে নেয়ার বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল সংসদে যাবে কিনা এটি তাদের বিষয়। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম তখন আমি তো কথা বলারই সুযোগ পেতাম না। উনি তো (বিরোধী নেত্রী) টানা কথা বলে যেতে পারেন। এত উদারভাবে সংসদ আগে কেউ চালায়নি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সময়ে ৫৫০৯টি নির্বাচন হয়েছে। এ নির্বাচনে ৬৩১৯২ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এত নির্বাচন হলো কিন্তু গণমাধ্যম ভাল করে একটি নিউজও করতে পারলো না। কারণ কোথাও কোন সমস্যা হয়নি। সমস্যা না হলে তো নিউজও হয় না। নির্বাচনে অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থী হেরে গেছে। আমরা কোন হস্তক্ষেপও করিনি।
সংসদীয় গণতন্ত্র যেসব দেশে আছে সেখানে যেভাবে নির্বাচন হয় আমাদের দেশেও সেভাবে হবে। আপনাদের মানসিকতা সেভাবে নিয়ে আসুন। নির্বাচনের বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্য থাকলে তারা সংসদে আসুক। তিনি বলেন, যে যা-ই বলুক যথাসময়ে নির্বাচন হবে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৫শে জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে।
ছাত্রলীগের সামপ্রতিক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছিলেন ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার কতটুকু পূরণ হয়েছে এ প্রশ্নটিও ছিল তার।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রত্যেক অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছি। ক্ষেত্রবিশেষে অঙ্গীকারের চেয়ে বেশি কাজ করেছি।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নামে যারা এসব করছে তারা ছাত্রলীগে ঢোকার জন্য আবেদন করেছে। তাদের নেয়া হয়নি। এমন ছেলেরা এসব করছে। এছাড়া, এমন না যে আমরা কোলে তুলে তাদের আদর করছি। যেখানেই যা ঘটছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের স্পষ্ট নীতি- দুষ্ট গুরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল। আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ এত দুর্বল না যে তাদের দলে নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা ২০০১ সালে যে সব ঘটনা ঘটেছে, যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে তার সব ছবি কি ছাপতে পেরেছেন? তখন তো অনেকে ছাত্রদল-শিবিরকে আহ্লাদ করেছে। আমরা গণমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিয়েছি। স্বাধীনতা ভাল। তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বও তো থাকা উচিত। মিথ্যা সংবাদের জন্য বিবিসি প্রধান পদত্যাগ করেছেন। আমাদের দেশেও তো অনেক মিথ্যা নিউজ হয়। কারও কি পদত্যাগের নজির আছে? সেই গাটস কি কারও আছে? এখন আমাদের অনেকে সবক দেন শুনি। তার আগে আয়নায় নিজেদের চেহারাও তো একটু দেখা উচিত। জনকণ্ঠের সম্পাদক আতিকুল্লাহ খানের সরাসরি প্রশ্ন ছিল আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতবে কিনা। প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, জিতবে না কেন? জনগণ ভোট দিলে জিতবে। না দিলে জিতবে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার রাশিয়া সফরকে সব দিক দিয়ে সফল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বন্ধুত্বের যে বন্ধন তৈরি হলো তাতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল ভোগ করবেন দেশবাসী। এই বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী রূপ নেবে। রাশিয়ার সমর্থনের কারণেই মুক্তিযুদ্ধে বিজয় আরও সহজ হয়েছিল। রাশিয়া আমাদের পরম বন্ধু। দুর্দিনে তারাও আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত দু’টি চুক্তি হয়েছে। এর একটি কেন্দ্র স্থাপনে প্রস্তুতিমূলক কাজের অর্থায়নের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি হয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে অনেকের ভয়ও আছে। সেই ভয় দূর করার জন্য আমরা তথ্য কেন্দ্র চালুর ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পারমাণবিক বর্জ্য রাশিয়া নিয়ে যাবে। এটিতে থাকবে ৫ স্তরের নিরাপত্তা।

Friday, January 18, 2013

দুই কারণে আসামি হচ্ছেন আবুল হোসেন

দুই কারণে আসামি হচ্ছেন আবুল হোসেন


দুই কারণে আসামি হচ্ছেন সৈয়দ আবুল হোসেন। শেষ পর্যন্ত এজাহারে আগত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন আবুল হাসান চৌধুরীও। এমন তথ্যই পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার সিঁড়ি ধরেই নাম থাকছে আবুল হাসানের। সৈয়দ আবুল হোসেনকে পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলায় আসামি করা না হলে বিশ্বব্যাংকের বিদায় অনেকটা নিশ্চিতই বলা যায়। অন্যদিকে আবুল হোসেনকে আসামি করা হলেও বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। এখন আবুল হোসেনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে দুদক। আবুল হোসেনকে আসামি করা না করা নিয়ে বিশ্বব্যাংক ফিরে গেলে পুরো দায় দুদকের ঘাড়ে পড়বে এবং চরম ভাবে দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করছেন দুদকের ঊর্ধ্বতন মহল। দুদকের ওই মহলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলায় সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলার আসামি করার ক্ষেত্রে দুদক এক ধাপ এগিয়ে আছে এজাহারে তাদের নাম উল্লেখ করে। এখন অধিকতর তদন্তে তারা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন- এমন আসামি হওয়ার নজির দুদকে অনেক আছে। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান একাধিকবার বলেছেন, মামলা দায়ের করার সময় সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণাদি হাতে ছিল না, এখন তদন্তে প্রমাণাদি পাওয়া গেলে তিনি আসামি হবেন। সূত্রমতে সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো দু’টি বড় প্রমাণ এখন দুদকের নাগালে। রমেশ সাহার ডায়েরি ও এসএনসি লাভালিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৈয়দ আবুল হোসেনের বৈঠক সংক্রান্ত বিষয়ে সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার বক্তব্য। পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার সূত্রপাত এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ সাহার ডায়েরি থেকে। ওই ডায়েরিতে মিনিস্টার ও সেক্রেটারি শব্দগুলোর পাশে ঘুষের পার্সেন্টেজ উল্লেখ করা আছে। কানাডিয়ান পুলিশের জব্দ করা ওই ডায়েরির পাশাপাশি ঘুষের প্রমাণ হিসেবে কানাডিয়ান আদালতে দেয়া রমেশ সাহার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও আছে। এতদিন রমেশ সাহার ডায়েরি দুদকের কাছে ছিল না। বিশ্বব্যাংক বা কানাডিয়ান পুলিশ সেগুলো সরবরাহ করেনি। সূত্রমতে অতি সমপ্রতি কানাডিয়ান রয়েল পুলিশ এক চিঠি মারফত দুদককে জানিয়েছে তারা রমেশ সাহার ডায়েরি সহ রমেশ সাহার আদালতের কাগজপত্র দুদকে সরবরাহ করবে। রমেশ সাহার ডায়েরিতে পরিষ্কার ভাবেই মিনিস্টার শব্দ লেখা আছে, এটা সৈয়দ আবুল হোসেনের সংশ্লিষ্টতার একটি বড় ধরনের প্রমাণ। এছাড়া, ঘুষ দিয়ে কানাডিয়ান আদালতে দেয়া রমেশ সাহার বক্তব্যও পাওয়া যাবে। অন্যদিকে ঢাকাতে সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার মধ্যস্থতায় সৈয়দ আবুল হোসেনের সঙ্গে এসএনসি লাভালিন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক প্যানেলের ভাষ্য অনুসারে ওই বৈঠকেই ঘুষ লেনদেনের ফয়সালা হয়েছিল। একটি সূত্র জানিয়েছে, মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সে সময়ের যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের অংশগ্রহণের বিষয়টি দুদককে নিশ্চিত করেছেন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া নিজেই দুদকে দেয়া তার বক্তব্যে। এসএনসি লাভালিনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিতেই ফেঁসে যাচ্ছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীও।
সূত্রমতে সৈয়দ আবুল হোসেনকে আসামি করার মতো দু’টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন প্রমাণ হিসেবে দুদকের নাগালে। এছাড়াও বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল শুরু থেকেই বলে আসছে বাংলাদেশের প্রশাসনিক পদ্ধতিতে মন্ত্রীই হচ্ছেন প্রধান। প্রধান ব্যক্তি দায় এড়াতে পারেন না।

Friday, December 21, 2012

গোয়েন্দা জালে সাবেক দুই মন্ত্রী

গোয়েন্দা জালে সাবেক দুই মন্ত্রী

 পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা তদন্তে কানাডায় টিম পাঠাচ্ছে দুদক

পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় সন্দেহভাজনদের তালিকায় নাম থাকা সাবেক দুই মন্ত্রীর গতিবিধির উপর তীক্ষ্ন নজর রাখছেন গোয়েন্দারা। আসামি না হলেও মামলার তদন্ত চলাকালে তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখবে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক কমিশনার বদিউজ্জামান সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, 'মামলার এজাহারে ঘটনার বিবরণে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাই তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবেন।'

দুদক কমিশনার আরো বলেন, মামলার অন্যতম তিন আসামি এসএনসি লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা রমেশ, ইসমাইল ও কেভিনের বক্তব্য নিতে তদন্ত টিম শিগগিরই কানাডায় যাবে। রমেশের ডায়েরিতে কেন ৫ ব্যক্তির নাম (ওই দুই মন্ত্রীসহ) লেখা রয়েছে- সেটা খুঁজে বের করা হবে। তবে কানাডায় যাওয়ার দিনক্ষণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি। দুদক কমিশনার বলেন, কিছু কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করে এটাকে ষড়যন্ত্র মামলা বলা হচ্ছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র যে হয়েছে সেটা প্রতিষ্ঠা করতে হলে তদন্ত কর্মকর্তাদের ওই ডায়েরি পেতে হবে। ডায়েরিতে যাদের নাম লেখা হয়েছে, তাদের সঙ্গে আসামিদের যোগাযোগ হয়েছে- এটা প্রতিষ্ঠা করা গেলে মামলা একটি জায়গায় দাঁড়াবে। এদিকে এজাহারভুক্ত বাংলাদেশের চার আসামিকে ধরতে গ্রেফতার অভিযান চলছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে দুদক কাজ শুরু করেছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে গত সোমবার রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করে দুদক। তবে এজাহারের বর্ণনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম থাকলেও আসামির তালিকায় তাদের নাম নেই। এই মামলায় বাংলাদেশের চার আসামি হলেন, সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দরপত্র মূল্যায়নে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ জাবের এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের (ইপিসি) উপপরিচালক মো.মোস্তফা। এছাড়া কানাডিয়ান তিন আসামি হলেন, এসএনসি লাভালিনের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও কেভিন ওয়ালেস।

Thursday, December 20, 2012

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ

কান টানলে মাথা আসে, তাই আবুলরা বাদ


কান টানলে মাথা আসে বলেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনায় আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, আপনারা সরকারের কাছে একবার জানতে চান কেন পদ্মা সেতু হলো না? কেন আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। আসলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি কারণ কান টানলে মাথা আসে। তাদের টান দিলেই মাথা চলে আসবে। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর আগেই সরকারের লোকজন বিদেশে ঘুষ আদান-প্রদান করেছে। তাই দীর্ঘদিন টালবাহানার পর সরকার বিশ্বব্যাংককে শর্ত দিয়েছে টাকা দিলে আবুলদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। সরকারের এ শর্তেই প্রমাণ হয় দুর্নীতি হয়েছে এবং সরকারই তা স্বীকার করে নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ব্যস্ত কমিশন নিয়ে ও চোরদের বাঁচাতে। সরকারের ডানে চোর, বাঁয়ে চোর। মন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, আত্মীয়-স্বজনসহ সরকার নিজেই চোর। হলমার্ক, সোনালী ব্যাংক লুটপাট করেছে সরকারের লোকজন। আওয়ামী লীগ শেয়ারবাজার লুটের মাধ্যমে দেড় কোটি মানুষকে নিঃস্ব করেছে। প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে কারাবন্দি করেছে সরকার। কিন্তু মামলা ও গ্রেপ্তার করে আন্দোলন দমানো যাবে না। একদল গ্রেপ্তার হলে আন্দোলনে আরেক দল যোগ হবে। এখন যোগ হওয়ার সময়।
বিরোধী নেতা বলেন, মানচিত্র বদলে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে। ফেলানীদের হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ করছে না। তিনি বলেন, বিদেশী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব চাই। মাথা উঁচু করে থাকতে চাই। মাথা নিচু করে, হাত জোড় করে নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে যেভাবে পদানত করে রেখেছে ঠিক তেমনি তারা বিদেশে মাথা নত করে রয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হতে চায়। খালেদা জিয়া বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম আওয়ামী লীগের অতীত ইতিহাস সম্পর্কে জানে না। মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের ইতিহাস তুলে ধরা। ’৭১-’৭৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতারা লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। আওয়ামী লীগের লোকজনই পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তি ও হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। ব্যাংক লুট করেছে। তারা তাদের নেতার কথাও শোনেননি। তাই শেখ মুজিব বলেছিলেন, সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেলাম চোরের খনি। চোর কি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়? আওয়ামী লীগ হচ্ছে সেই চোরের দল। তিনি বলেন, ’৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ কি জবাব দেবে? যুদ্ধের পর তো প্রচুর বৈদেশিক সাহায্য এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন সেগুলো বিদেশে পাচার করে পকেট ভারি করেছিল। আওয়ামী লীগ মানেই দুর্ভিক্ষ, খুন, লুটপাট ও চুরির শাসন। তিনি সরকারের কৃষিনীতির সমালোচনা করে বলেন, সরকার কৃষকদের কাছে ধান কিনছে না। তারা কমিশনের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনের নিরুৎসাহী করে তুলছে। একই ভাবে কলকারখানায় উৎপাদন নেই। সেখানে সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। বিদেশী বিনিয়োগ তো নেই-ই। কিন্তু বিদ্যুতের কথা বলে সরকার কুইক রেন্টালের নামে নিজেদের পকেট ভারি করেছে।
বিশ্বজিৎ হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী নেতা বলেন, বিশ্বজিতের মতো তরুণকে কেন রাজপথে প্রাণ দিতে হলো? তারপরও প্রধানমন্ত্রী কেন মিথ্যা বলছেন? কারণ ছাত্রলীগকে ধরলে তারা বলবে, আমাদের কি দোষ? আমরা তো ওইখান থেকে নির্দেশ পেয়ে কেবল নির্দেশ পালন করেছি। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পর ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে। যারা এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাদের আন্দোলনের দাবি সুনির্দিষ্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ দেশের কোন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ দেশে গণতন্ত্র আনেনি, তারা বারবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আপনারা দলমত নির্বিশেষে সকল মুক্তিযোদ্ধা জালিম সরকারের পতন ও দেশ রক্ষার এ সংগ্রামে শরিক হোন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ করতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে সরকার। শেষ পর্যন্ত এ হলে অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে। আমরা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করতে চাইলেও অনুমতি দেয়া হয়নি। দেখে-শুনে মনে হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে তারা পৈতৃক সম্পত্তি মনে করছে। তবে এদেশকে কারও পৈতৃক সম্পত্তি বানাতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, আপনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ শেষে আপনাদের মতোই নিজের জায়গায় ফিরে গেছেন। আপনারাই সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা। রণাঙ্গনে দেশকে স্বাধীন করেছেন। সীমান্ত পাড়ি দিলেই মুক্তিযোদ্ধা হয় না। খালেদা জিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে নাম কাটার হুমকি দিয়েছে সরকার। ভাতা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। যদি নাম কাটা হয় ভবিষ্যতে সে নাম যোগ হবে, ভাতাও দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, আমিই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলাম। ভবিষ্যতে সে মন্ত্রণালয়ে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে দায়িত্ব দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের চিকিৎসার জন্য একটি উন্নত হাসপাতাল তৈরি করবো।
মুক্তিযোদ্ধারা কোন দলের সম্পদ নয়
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের উচিত খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশরক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, জাতিসংঘ নাকি শেখ হাসিনার শান্তির মডেল গ্রহণ করেছে। তারা যদি জানতেন তিনি দেশে কি রকম অশান্তির ও দুর্নীতির মডেল বাস্তবায়ন করছেন তাহলে দুর্নীতির একটি পুরস্কার দিতো। বিএনপি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একটি চলমান প্রক্রিয়া। যখন গুমের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, খুনে রাজপথ রঞ্জিত হচ্ছে, সরকার লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তখন সে চলমান প্রক্রিয়াকে ফের যুদ্ধে পরিণত করতে হবে। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ২৫শে মার্চ রাতেই জিয়াউর রহমান তার অধীনস্থ সৈন্যদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন। সেদিন এত উন্নত গণমাধ্যম ছিল না বলেই তা ইতিহাসে লেখা নেই। তবে সেটাই সত্য। তিনি মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদ খানের উদ্দেশে বলেন, ’৯৬ সালে আপনার উল্টাপাল্টা কাজের জন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছে। এখন উল্টাপাল্টা করবেন না, জবাব দিতে হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ৭১-এর ৩রা মার্চ ঢাকায় সংসদ বসলে শেখ মুজিব হতেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনিই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক করেছেন, আপস করেছেন। আমরা ভাসানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি, দেশবাসী জিয়ার ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে রাজনীতি করেছি আমরা, যুদ্ধও করেছি। কিন্তু এখন তা সম্পদ হয়ে গেল আওয়ামী লীগের। অতীতে অনেক কোয়ার্টার-সেমিফাইনাল খেলেছি, এবার ফাইনাল খেলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জয়নাল আবেদিন এমপি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কাটার এখতিয়ার হেলাল মোর্শেদ খানদের কে দিয়েছে? ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে। সংবর্ধনা সমাবেশের আহ্বায়ক মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানাই। সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হেলাল মোর্শেদের পদত্যাগ দাবি করছি। ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালামের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মে. জেনারেল (অব.) আইনউদ্দিন বীরপ্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ সোহবারউদ্দিন, ক্যাপ্টেন (অব.) শাহজাহান মিয়া, ইশতিয়াক আহমেদ উলফাত, প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ, ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, মেজর (অব.) ড. রেজা প্রমুখ। বক্তৃতায় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি হেলাল মোর্শেদ সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের চিঠি দিয়ে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না আসার অনুরোধ জানান। তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা কোন ব্যক্তি বা দলের নয়, তারা দেশের সম্পদ। ৭১ দেশের স্বাধীনতার জন্য একবার মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এবার দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য আরেকবার মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।
এর আগে সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা মহানগর নাট্যমঞ্চের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকীতে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করার জন্য বিরোধী দল বিএনপি মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার অয়োজন করে।

Wednesday, December 19, 2012

কী আছে পদ্মা সেতুর ভাগ্যে

কী আছে পদ্মা সেতুর ভাগ্যে


পদ্মা সেতুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ওপর। তারা এখন দুদকের মামলার নথি পর্যালোচনা করবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ হয়েছে_ এ মর্মে বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক দলের ইতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের পথে অগ্রসর হবে বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুদকের মামলা করার পর গতকাল এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকাস্থ কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করেই পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এ সরকারের আমলে সেতুর কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদী তিনি। অন্যদিকে পদ্মা সেতুর ভাগ্য নিয়ে অনেকেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেছেন, পদ্মা সেতুর ভাগ্যে কী আছে, তা বিধাতাই জানেন।
জানা গেছে, পদ্মা সেতুর সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছেন। আজকালের মধ্যেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পদ্মা সেতুর দুর্নীতি মামলার একদিন পর দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের বলেন, অনুসন্ধান স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে, কারও চাপে এ মামলা করা হয়নি। অন্যদিকে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন দুদক সচিব ফয়জুর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ঘটনায় আবুল হোসেনের ভূমিকা 'ইররিগুলার হলেও ইলিগ্যাল নয়'। গতকাল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির মামলার প্রধান আসামি সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ওএসডি করেছে সরকার। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর দুর্নীতির গভীরতা অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দুদক।
এদিকে, দুদকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার এজাহার পর্যালোচনার পর একটি প্রতিবেদন দেবে। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়টি প্যানেলের ওই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে।' সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতির
মামলা বিষয়ে প্যানেল দলের পর্যালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, তাদের মূল্যায়নের ওপরই নির্ভর করছে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন।
অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজ সমকালের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তদন্ত ও মামলা নিয়ে বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্ট না হলে আবারও জটিলতায় পড়তে পারে পদ্মা সেতু প্রকল্প।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্যানেল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন খুব শিগগির বিশ্বব্যাংকের কাছে জমা দেবে। তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথক একটি বিবৃতিও দেবে প্যানেল দল। দুদক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পদ্মা সেতুর দুর্নীতির এজাহার কপি বিশ্বব্যাংক প্যানেলের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের নিযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্যানেল দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণে দুই দফা ঢাকা সফর করে। সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর প্যানেল দল ঢাকায় আসে। দুদকের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর আলোচনা এক পর্যায়ে ভেঙে যায়। মূলত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে দুর্নীতির মামলায় আসামি করা হবে, কি হবে না_ এ নিয়ে দুদকের সঙ্গে মতভেদের কারণে আলোচনা সফল হয়নি।
গত ৫ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়ে প্যানেল দল। এর পরপরই বিশ্বব্যাংক কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দেয়। ওই বিবৃতিতে সংস্থাটি সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, 'কেবল পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে অগ্রসর হবে।' বিশ্বব্যাংক আরও মনে করিয়ে দেয়, তারা দুর্নীতির বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে সাক্ষ্য-প্রমাণও দিয়েছে সরকারকে। এরপরই দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তারা মামলা করে বিশ্বব্যাংকের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠাবে। সে অনুযায়ী, সোমবার মামলা করল দুদক। তবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে মামলা করায় বিষয়টি বিশ্বব্যাংক ভালোভাবে দেখেনি বলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্রে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়ে তারা কোনো আপস করবে না। কারণ, একটি দুর্নীতিমুক্ত সেতুর বিষয়ে আগে থেকেই সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে আসছে তারা। কাজেই ভবিষ্যতে এ ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের অবস্থান একই থাকবে বলে ওই সূত্র জানায়।
কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে ২৯১ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। দুদক এরপর তদন্ত শুরু করলেও সরকার এবং তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে অনড় থাকেন। এই প্রেক্ষাপটে গত জুন মাসে ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। এরপর আবুল হোসেনের পদত্যাগ, প্রকল্পের ইন্টেগ্রিটি অ্যাডভাইজর ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমান এবং সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে ছুটিতে পাঠানোসহ সরকারের নানামুখী তৎপরতায় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দেয়। তাদের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, ওকাম্পোর নেতৃত্বে তিন সদস্যের পর্যবেক্ষক প্যানেল দুদকের তদন্ত পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসে। তারা চলে যাওয়ার ১২ দিনের মাথায় সোমবার দুদক যে মামলা করেছে তাতে প্রধান আসামি করা হয়েছে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে। তবে আলোচনায় থাকা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। তবে সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছে। এখন সব কিছু নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ওপর।

Saturday, December 15, 2012

'আবুল হোসেন কেঁচো!'

'আবুল হোসেন কেঁচো!' 

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে কেঁচোর সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা। তিনি বলেছেন, 'কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে!' গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাভিশনের টক শো 'নিউজ এন্ড ভিউজ'-এর আলোচক এবিএম মূসা এভাবেই অভিমত ব্যক্ত করেন। মোস্তফা ফিরোজের সঞ্চালনায় টক শোর অন্য আলোচক ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
আবুল হোসেন দোষী কি নির্দোষী- বিষয়টি আদালতে প্রমাণ না করে সরকার কেন তাঁকে রক্ষার ব্যাপারে গো ধরল- সঞ্চালকের এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'এ বিষয়টি অবশ্যই সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হয়নি। যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা, মামলা হওয়া তার মানে সে অপরাধী তা কিন্তু নয়। আমার যদি আত্মবিশ্বাস থাকে আমি তো অনিয়ম করিনি, তাহলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাব।'
এ সময় এবিএম মূসা বলেন, 'এটা আমার যা মনে হয়, আবুল হোসেন কেঁচো। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে যায়। এ কারণে কেঁচোটাকে (সৈয়দ আবুল হোসেন) ধরা হচ্ছে না। মাটি খুঁড়ে কেঁচো বের করা হচ্ছে না, কারণ সাপ বেরিয়ে আসতে পারে। যারা সাপুড়ে তারা ইচ্ছে করেই গর্তে হাত দিচ্ছে না। কারণ গর্তে হাত দিয়ে কেঁচো খুঁড়ে বের করতে গেলে সাপে কামড় দিতে পারে।'
পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার অস্বস্তিতে রয়েছে- এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবিএম মূসা বলেন, 'একটু অশালীন গ্রাম্য ভাষায় বলতে হয়, তাহলো সরকার ফাটা বাঁশে আটকে গেছে।'
সরকার যদি পদ্মা সেতু প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করে অন্যদিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে কী ক্ষতি হবে- মোস্তফা ফিরোজের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'এখন সরকারের জন্য এটা দুই দিকেই নেতিবাচক বা বিপদ। এটা এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, যে পর্যায় এসেছে তাতে বিশ্বব্যাংক বা অন্য দাতা সংস্থা আবার নতুন করে পদ্মা সেতুতে আসবে এটা কঠিন। কারণ এখানে মূল জায়গায় এক বা একাধিক ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যা করছে তা বিতর্কিত হচ্ছে।' তিনি আরো বলেন, 'এটা বাংলাদেশের মধ্যে একটি বড় প্রকল্প। মানুষের মধ্যে একটা আশার সৃষ্টি হয়েছিল। পদ্মা সেতু হলে শুধু দক্ষিণবঙ্গের মানুষেরই লাভ হতো না, সারা দেশের লাভ হতো। এমন একটি পর্যায়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প এসেছে এখন এটাকে ছেড়ে দিলেও বিপদ আর এভাবে ধরে রাখলেও বিপদ।'
পদ্মা সেতুর ভাগ্যে কী আছে এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবিএম মূসা বলেন, 'পদ্মা সেতুর ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। চার বছরে পদ্মা সেতুর বিষয়টির সুরাহা হলো না। এ সরকার যদি সত্যিকার অর্থে নির্বাচন করে, তাহলে আর যে সময় আছে এই সরকারের হাতে তাহলো ১০ মাস। যে কাজ চার বছরে হয়নি সে কাজ ১০ মাসে হবে তা পাগলেও বিশ্বাস করে না। এই একটি বিষয়ে এই সরকারের সব স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে একটা প্রশ্ন সবাই বারবার সামনে নিয়ে আসছে তাহলো আবুল (সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন) দোষী কি নির্দোষ? এটা সঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। সৈয়দ আবুল হোসেনের ব্যাপারে সঠিক তদন্ত হচ্ছে না।' পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে সৈয়দ আবুল হোসেনের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তাঁর নিজ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে এবিএম মূসা বলেন, 'সৈয়দ আবুল হোসেন সৎ ও দেশপ্রেমিক। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি (সৈয়দ আবুল হোসেন) পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।' তিনি আরো বলেন, 'এই পদ্মা সেতু করতে গিয়ে এই সরকার অনেক বেকায়দায় পড়েছে। এখন আমার মনে হয় না এই গ্যাঁড়াকল থেকে সরকার বেরোতে পারবে।'

Friday, December 14, 2012

শেষ মুহূর্তে আবুল হোসেনকেআসামি করার সিদ্ধান্ত

শেষ মুহূর্তে আবুল হোসেনকেআসামি করার সিদ্ধান্ত

প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, আসামি করা হচ্ছে ৯ জনকে


সবকিছু চূড়ান্ত করেও মামলায় যেতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে আসামি করা নিয়ে শেষ মুহূর্তে বিপাক বাধে দুদক কমিশনারদের মধ্যে। অবশেষে নিক্সন চৌধুরীকে বাদ দিয়ে সৈয়দ আবুল হোসেন, আবুল হাসান চৌধুরীকে মামলার আসামি করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন দুদকের দুই কমিশনার এবং চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। তাদের নাম এজাহারে সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে উপস্থাপন করা হবে বলে নির্ভরযোগ্যসূত্র জানিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের কাছে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ প্রমাণ করতেই শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একইসাথে বৃহস্পতিবার মামলার দিনক্ষণ পিছিয়ে সোমবারই এ দুজনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে দুদক।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, দুই কমিশনার মো: বদিউজ্জামান, মো. সাহাবউদ্দিন চুপ্পু ও মহাপরিচালক (আইন) কামরুল হোসেন মোল্লা মামলার বিষয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকেই সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসানকে মামলায় এজাহারভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে পদ্মা সেতুর পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার মামলা হবে বলে গত বুধবার জোর দিয়ে বলেছিলেন দুদক কমিশনার মো:সাহাবউদ্দিন চুপ্পু। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়েও তাই গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। শেষ পর্যন্ত মামলার দিনক্ষণ পেছায় দুদক।

দুদকের একটি সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে দুদককে বার বার বলা হয়েছিল পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির সঙ্গে আবুল হোসেনসহ কয়েকজনের ভূমিকা ছিল। তাকে ছাড়া ব্যবস্থা নিলে তা দুদকের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। বিশ্বব্যাংকও জানতে পেরেছে আবুলকে ছাড়া মামলা করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে দুদক। তাই গত রবিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়, সুষ্ঠু প্রতিবেদন না হলে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে না কমিশন। এ কারণে দুদকের এক কমিশনার আবুল হোসেন ও আবুল হাসানকে মামলার আসামি করার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেন। তার কারণেই বৃহস্পতিবার মামলার তারিখ পরিবর্তন করে আগামী সোমবার মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

Tuesday, December 4, 2012

নাখোশ বিশ্বব্যাংক, মামলা না হলে গুডবাই

নাখোশ বিশ্বব্যাংক, মামলা না হলে গুডবাই


নাখোশ বিশ্বব্যাংক। দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা না হলে গুডবাই জানাবেন তারা। অবশ্য আজ পদ্মা সেতুর ভাগ্যনির্ধারণী বৈঠক বসছে দুদকে। এটাই হতে পারে শেষ বৈঠক। রোববার দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন কঠোর মনোভাবই ব্যক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেল। বৈঠকে বারবার তারা দুদকের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দৃশ্যমান অগ্রগতির দিকগুলো জানতে চেয়েছেন। সেগুলো না দেখে হতাশ ও নাখোশ হয়েছেন। বিশ্বব্যাংক প্যানেলের কাছে দৃশ্যমান অগ্রগতি মানে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের। দুদক সূত্র বলছে, তাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে এখনও তারা মামলা করার মতো অবস্থানে যেতে পারেননি, তেমন কোন দালিলিক প্রমাণ পাননি। দুদকের আইন উপদেষ্টা এডভোকেট আনিসুল হকও বলেছেন, মামলা করার মতো প্রমাণাদি তাদের হাতে নেই। গত ২রা ডিসেম্বর দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেননি বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল। ওই বৈঠক সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। তিনিও পুরো সন্তোষের কথা বলতে পারেননি। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, তদন্ত ও পদ্মা সেতুর কাজ এক সঙ্গে চলবে। দুদকের মামলার দু’টি স্তর। একটি অনুসন্ধান, অন্যটি তদন্ত। এখানে অনুসন্ধান হয় মামলা দায়ের করার আগে। তদন্ত হয় মামলা করার পরে। অর্থমন্ত্রীর কথা সঠিক হলে মামলা হচ্ছে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে। গতকাল সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে দুদকের অনুসন্ধান। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আজ জমা হতে পারে অনুসন্ধানের প্রতিবেদন। প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর মামলা করার সিদ্ধান্ত হলে বা মামলা করার গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া গেলে মামলা দায়েরের অনুমতি দেবে দুদক। মামলার অনুমোদন হলে আগামী ৫ই বা ৬ই ডিসেম্বর মামলা দায়ের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। সূত্রমতে, মামলা হতে পারে ৫ জনের বিরুদ্ধে। ওই ৫ জন হচ্ছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশররাফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক রফিকুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ লিটন চৌধুরীর ভাই নিক্সন চৌধুরী ও সাবেক পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী। অন্য একটি সূত্র বলছে, মামলায় অভিযুক্তর সংখ্যা আরও দু’জন বাড়তে পারে। তাদের একজন এসএনসি লাভালিনের স্থানীয় প্রতিনিধি, তার মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের দরবার হয়েছিল। অন্যজন মূল্যায়ন কমিটির, এসএনসি লাভালিনকে কাজ দেয়ার পেপারে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলা দায়ের হলেই পদ্মা সেতুতে বিশ্ব্যাংক অর্থায়ন শুরু করবে- এমন কোন নিশ্চয়তা এখনও পাওয়া যায়নি। নাকি মামলা দায়ের করার পর আবার নতুন কোন শর্ত দেবে বিশ্বব্যাংক সেটাও নিশ্চিত বলতে পারছেন না কেউ। সে কারণে একটি মহল চিন্তা করছে- মামলাও হলো, আবার সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হলো- কিন্তু পদ্মা সেতুর অর্থ পাওয়া গেল না- এমনটা হলে সরকারের ক্ষতি দু’দিকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মামলা করে কি লাভ? মামলা দায়ের হলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে চলে আসবে। গ্রেপ্তার না হলে সরকারের সামনে আরেক বিপদ এসে দাঁড়াবে। ওইসব বিষয় চিন্তা করে দ্বিধা আছে মামলা দায়ের নিয়ে। সূত্রমতে, সরকারেরই একটি মহল মামলা দায়েরে অতি আগ্রহী- অন্যরা ততটা নয়। সূত্র জানায়, মামলা দায়ের করার আগে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখনও সেটা পরিষ্কার হয়নি। কিন্তু বিশ্বব্যাংক পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়ে মামলাসহ কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণে দুদককে অব্যাহতভাবে চাপ দিলেও এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির বিষয়ে কোন ডকুমেন্ট সরবরাহ করেনি। কানাডিয়ান রয়েল পুলিশের উদ্ধার করা ডায়েরির মালিক রমেশ সাহার সঙ্গেও এখনও কথা বলতে পারেনি দুদক। পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে নালিশ গিয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশে ব্যবহৃত একটি মেইল থেকে দুর্নীতির কাহিনী পাঠানো হয়েছিল বিশ্বব্যাংকে। এখনও দুদককে ওই ই-মেইল পাঠিয়েছিল তার সন্ধান করতে পারেনি। দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আসা বিশ্বব্যাংক গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের তিন সদস্য তাদের প্রধান
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এর সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর লুই গাব্রিয়েল ওকাম্পো ও হংকং-এর দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টং এবং যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সাবেক পরিচালক রিচার্ড অল্ডারম্যান আজ তৃতীয়বারের মতো বৈঠকে বসবেন দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে। ওই তিন জনের সঙ্গে থাকবেন বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি এ্যালেন গোল্ডস্টেইন। সূত্রমতে, আজকের বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে পদ্মা সেতুর ভাগ্য। হয়তো মামলা না হলে গুডবাই জানাবে বিশ্বব্যাংক- এমনটিই বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

Tuesday, November 20, 2012

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি অন্ধকারে ছিলাম, আলোর দেখা পেয়েছি : দুদক চেয়ারম্যান

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি

অন্ধকারে ছিলাম, আলোর দেখা পেয়েছি : দুদক চেয়ারম্যান

 


পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের প্রতিবেদন ডিসেম্বরে দাখিল করবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান টিম। আজ সন্ধ্যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগামী মাসের (ডিসেম্বর) প্রথম সপ্তাহেই দুদকের অনুসন্ধানী দল প্রতিবেদন জমা দেবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অন্ধকারে ছিলাম, আলোর দেখা পেয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলছে। ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাংকের দ্বিতীয় প্যানেল ঢাকায় আসছে বলেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপনের পর উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল জাহিদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করে দুদক। অনুসন্ধানী দলের অন্য সদস্যরা হলেন- উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদিন শিবলী, উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম।
গত ৩ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করে দুদক। পদ্মা সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজর ড. মসিউর রহমান, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ নূরে আলম চৌধুরীর ভাই নিক্সন চৌধুরী, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম, আবুল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেতু ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান আক্তার প্রমুখ।
বিশ্বব্যাংকের দেয়া শর্ত অনুসারে ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতুতে পরামর্শক নিয়োগের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। আর বিশ্বব্যাংকের গঠিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল বাংলাদেশ সফর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান আইনজীবী লুই গ্যাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে দলটি গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশে আসে। তারা দুদক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে কিছু গাইডলাইন দেন। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী দুদক আবারও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

Monday, November 5, 2012

উপদেষ্টা মসিউরকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

উপদেষ্টা মসিউরকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

 নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।
 
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আজ বেলা ৩টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে যাচ্ছেন তিনি। 
 
সকাল দশটায় দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের কাছে মসিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের  সময়সূচি নিশ্চিত করেন।
 
গত সোমবার পাঠানো দুদকের এক নোটিসে তাকে ৬ নভেম্বর হাজির হতে অনুরোধ করা হয়েছিল। পরে মসিউর রহমানের অনুরোধেই জিজ্ঞাসাবাদের তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
 
দুদক সূত্রে জানা যায়, মসিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদকের উপপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল। দলের অন্য সদস্যরা হলেন মির্জা জাহিদুল আলম, আবদুল্লাহ আল জাহিদ ও গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী।

মশিউর সস্পর্কে বিকালে জানাবে ইআরডি: অর্থমন্ত্রী

মশিউর সস্পর্কে বিকালে জানাবে ইআরডি: অর্থমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের অবস্থান সম্পর্কে আজ বিকালে বিবৃতি দিবে বলে জানিয়েন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

রোববার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভার কমিটির বেঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস  প্রেসিডেন্ট চলতি মাসেই বাংলাদেশে আসবেন। পদ্মা  সেতু প্রকল্পের যে কাজগুলো বাকি আছে, সেগুলো তিনি আসার আগেই শেষ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যে সমঝোতার হয়েছে তার কোন ব্যত্যয় ঘটেনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ বিষয়ক উপদেস্টা ড. মসিউরের বিষয় আজ বিকালে আনুষ্টানিকভাবে  ই আর ডি থেকে জানানো হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ কে  খন্দকার,  প্রবাসি কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্কান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বেসাময়িক বিমান পরিবহন ও পযটন মন্ত্রী  মুহাম্মদ ফারুক খান ও বিনিযোগ বোর্ডের নিবাহী চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক পদ্মা প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিলের পর সরকারের নানামুখী তৎপরতায় তাদের সিদ্ধামত্ম পরিবর্তন করে।।

অন্য কয়েকটি শর্তের সঙ্গে এ প্রকল্পের ইন্টিগ্রিটি অ্যাডভাইজর মসিউরকে ছুটিতে পাঠানোর কথাও বলেছিল বিশ্ব ব্যাংক।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, মসিউর রহমান ছুটিতে গেলে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নের পথ সুগম হবে।

১৭ সেপ্টেম্বর মসিউর ছুটিতে যাওয়ার পরই বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা প্রকল্পে ফিরে আসার কথা জানায়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা প্রকল্পে ফেরার ঘোষণা দিলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পদ্মা সেতুসহ অর্থ সংক্রামত্ম সরকারি সব ধরনের কর্মকান্ড থেকে মসিউরকে বাদ দেয়া হয়েছে।

এর এক মাসের মাথায় ১ নভেম্বর কাজে যোগ দিয়ে মসিউর জানান, এক মাসের ছুটি শেষে কাজে ফিরেছেন তিনি।

শনিবার তিনি বলেন, ‘‘আমি ছুটি শেষে কাজ যোগ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে যে সিদ্ধান্ত নিতে বলবেন  সেই মোতাবেক কাজ করব।’’

তবে মসিউরের এক মাস ছুটিতে থাকা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কখনোই স্পষ্ট কোনো বক্তব্য আসেনি। তাকে এক মাসের ছুটিতে পাঠানো হয় বলে সংবাদ মাধ্যমে যে কথা বলা হয়েছিল, সরকারের পক্ষ থেকে তাও স্বীকার করা হয়নি।

Wednesday, October 31, 2012

বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি টাকার দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি টাকার দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

 সুনামগঞ্জে বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয় খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবসস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন  দাসের সমন্বয়ে গঠিত  অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

জনস্বার্থে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস্ এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ রিটটি করেন।

মনজিল মোরশেদ বলেন গত ২৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কাজ না করে বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি টাকা আত্মসাত’ শিরোনামে প্রকাশিত পত্রিকার কাটিং সংযুক্ত করে রিটটি আদালতে উপস্থপন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পরিকল্পনা, অর্থ সচিব ও এলজিআরডি সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি তদন্তে পাঁচ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করতে পরিবেশ ও অর্থ সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ড. মসিউরকে ডেকেছে দুদক

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ড. মসিউরকে ডেকেছে দুদক

 পদ্মা সেতু দুর্নীতি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ডাকা হয়েছে।

আগামী ৬ নভেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হওয়ার জন্য আজ মঙ্গলবার তাকে নোটিশ পাঠিয়েছে দুদক।

দুদকের পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান দলের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক মীর মো. জয়নাল আবেদীনের স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে ৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় ড. মসিউরকে দুদকের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি কানাডার নির্মাণপ্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের স্থানীয় এজেন্ট মো. মোস্তফাকেও দুদকে হাজির হতে নোটিশ দিয়েছে অনুসন্ধান দল।