Pages

Saturday, December 15, 2012

'আবুল হোসেন কেঁচো!'

'আবুল হোসেন কেঁচো!' 

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে কেঁচোর সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা। তিনি বলেছেন, 'কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে!' গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাভিশনের টক শো 'নিউজ এন্ড ভিউজ'-এর আলোচক এবিএম মূসা এভাবেই অভিমত ব্যক্ত করেন। মোস্তফা ফিরোজের সঞ্চালনায় টক শোর অন্য আলোচক ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি অব বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
আবুল হোসেন দোষী কি নির্দোষী- বিষয়টি আদালতে প্রমাণ না করে সরকার কেন তাঁকে রক্ষার ব্যাপারে গো ধরল- সঞ্চালকের এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'এ বিষয়টি অবশ্যই সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হয়নি। যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা, মামলা হওয়া তার মানে সে অপরাধী তা কিন্তু নয়। আমার যদি আত্মবিশ্বাস থাকে আমি তো অনিয়ম করিনি, তাহলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাব।'
এ সময় এবিএম মূসা বলেন, 'এটা আমার যা মনে হয়, আবুল হোসেন কেঁচো। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে যায়। এ কারণে কেঁচোটাকে (সৈয়দ আবুল হোসেন) ধরা হচ্ছে না। মাটি খুঁড়ে কেঁচো বের করা হচ্ছে না, কারণ সাপ বেরিয়ে আসতে পারে। যারা সাপুড়ে তারা ইচ্ছে করেই গর্তে হাত দিচ্ছে না। কারণ গর্তে হাত দিয়ে কেঁচো খুঁড়ে বের করতে গেলে সাপে কামড় দিতে পারে।'
পদ্মা সেতু নিয়ে সরকার অস্বস্তিতে রয়েছে- এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবিএম মূসা বলেন, 'একটু অশালীন গ্রাম্য ভাষায় বলতে হয়, তাহলো সরকার ফাটা বাঁশে আটকে গেছে।'
সরকার যদি পদ্মা সেতু প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করে অন্যদিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে কী ক্ষতি হবে- মোস্তফা ফিরোজের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'এখন সরকারের জন্য এটা দুই দিকেই নেতিবাচক বা বিপদ। এটা এখন পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, যে পর্যায় এসেছে তাতে বিশ্বব্যাংক বা অন্য দাতা সংস্থা আবার নতুন করে পদ্মা সেতুতে আসবে এটা কঠিন। কারণ এখানে মূল জায়গায় এক বা একাধিক ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যা করছে তা বিতর্কিত হচ্ছে।' তিনি আরো বলেন, 'এটা বাংলাদেশের মধ্যে একটি বড় প্রকল্প। মানুষের মধ্যে একটা আশার সৃষ্টি হয়েছিল। পদ্মা সেতু হলে শুধু দক্ষিণবঙ্গের মানুষেরই লাভ হতো না, সারা দেশের লাভ হতো। এমন একটি পর্যায়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প এসেছে এখন এটাকে ছেড়ে দিলেও বিপদ আর এভাবে ধরে রাখলেও বিপদ।'
পদ্মা সেতুর ভাগ্যে কী আছে এমন আলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবিএম মূসা বলেন, 'পদ্মা সেতুর ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। চার বছরে পদ্মা সেতুর বিষয়টির সুরাহা হলো না। এ সরকার যদি সত্যিকার অর্থে নির্বাচন করে, তাহলে আর যে সময় আছে এই সরকারের হাতে তাহলো ১০ মাস। যে কাজ চার বছরে হয়নি সে কাজ ১০ মাসে হবে তা পাগলেও বিশ্বাস করে না। এই একটি বিষয়ে এই সরকারের সব স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে একটা প্রশ্ন সবাই বারবার সামনে নিয়ে আসছে তাহলো আবুল (সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন) দোষী কি নির্দোষ? এটা সঠিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে না। সৈয়দ আবুল হোসেনের ব্যাপারে সঠিক তদন্ত হচ্ছে না।' পদ্মা সেতুর দুর্নীতিতে সৈয়দ আবুল হোসেনের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তাঁর নিজ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে এবিএম মূসা বলেন, 'সৈয়দ আবুল হোসেন সৎ ও দেশপ্রেমিক। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি (সৈয়দ আবুল হোসেন) পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।' তিনি আরো বলেন, 'এই পদ্মা সেতু করতে গিয়ে এই সরকার অনেক বেকায়দায় পড়েছে। এখন আমার মনে হয় না এই গ্যাঁড়াকল থেকে সরকার বেরোতে পারবে।'

No comments:

Post a Comment