Pages

Friday, December 21, 2012

অতিরিক্ত লবণাক্ততায় মরে যাচ্ছেটেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের গাছ

অতিরিক্ত লবণাক্ততায় মরে যাচ্ছেটেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের গাছ


দীর্ঘদিন সাগরের জোয়ার-ভাটার আওতায় থাকায় লবণাক্ততায় টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ এলাকার গাছপালা মরে যাচ্ছে। মরছে রাস্তার ধারের ও সাগর তীরের নারিকেল ও সুপারি গাছ। এভাবে গাছপালা মরে যাওয়ায় এলাকার লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। মূলত এ এলাকার বেড়িবাঁধের দুই কিলোমিটার অংশ গত জুনের জলোচ্ছ্বাসে ভেঙ্গে যায়। এখান দিয়ে পানি ঢুকে গাছপালার মৃত্যুসহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত ওই দুই কিলোমিটার অংশ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘসূত্রতা করছে। এদিকে গত মাসে শুরু হয়েছে লবণ চাষাবাদের মৌসুম। কিন্তু একটি রিং বাঁধের অভাবে ঠিক সময়ে চাষিরা লবণ চাষাবাদে নামতে পারেনি। প্রতিদিন জোয়ার-ভাটার সময় টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কে পানি উঠে। লবণ পানিতে রাস্তার পাশের গাছগুলো মরে যাচ্ছে। এছাড়া সমুদ্র তীরবর্তী শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়ার বেশকিছু সুপারি বাগানে লেগেছে মড়ক। কী কারণে মড়ক লেগেছে তা বলতে পারছে না এলাকার লোকজন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ ইছমাইল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতি বছর অসময়ে কাজ শুরু করে। যথাযথভাবে কাজ না করায় বার বার বাঁধ ভেঙ্গে যায়। আর এ সবের খেসারত দিতে হয় শাহপরীর দ্বীপবাসীকে। চলতি মাসে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করলেও মূল বাঁধ নির্মাণের কোন খবর নেই। পাউবো কর্মকর্তারা বছরের পর বছর টেকসই বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নির্মিত বাঁধগুলোও ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত দুই কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ১০৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে এটি অনুুমোদিত হলে চলতি শুষ্ক মৌসুমে টেকসই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

No comments:

Post a Comment