Pages

Tuesday, December 11, 2012

আবর্জনা থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ও ৯ লাখ টন সার উৎপাদন হবে

আবর্জনা থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ও ৯ লাখ টন সার উৎপাদন হবে


আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ ও জৈব সার উৎপাদন প্রকল্প নির্মাণকাজ আগামী মার্চের মধ্যে শুরু হবে। ঢাকা শহরের মাতুয়াইল ও আমিনবাজারে দুটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ জন্য প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টন আবর্জনা প্রয়োজন হবে। বিদ্যুতের পাশাপাশি আবর্জনা থেকে জৈব সারও উৎপাদিত হবে। জৈব সার হবে বছরে ৯ লাখ টন। শাক-সবজি, ধানসহ কৃষি উৎপাদনে এই জৈব সার ব্যবহৃত হবে। ইতালির একটি কোম্পানির সঙ্গে ডিসেম্বরেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। পৃথক চুক্তি হবে ঢাকা সিটি করপোরেশন এবং ডিপিডিসি, ডেসকো’র সঙ্গে। এই সংস্থা দুটো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ইতালির কোম্পানির কাছ থেকে ইউনিট প্রতি ৮ টাকা করে বিদ্যুৎ কিনে নেবে। এই বিদ্যুৎ তারা সিটি করপোরেশনের কাছে বিক্রি করবে। সিটি করপোরেশন এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে রাজধানীর সড়কগুলোতে আলোকবাতি জ্বালাতে। দু’টি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনে ব্যয় হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চারশ’ কোটি টাকা ব্যয় হবে আবর্জনা ফেলার স্থান প্ল্যান্ট স্থাপন উপযোগী করতে। মাটির নিচে একশ’ ফুট গভীর থেকে প্ল্যান্টের গাঁথুনি দেয়া হবে। নির্মাণ ব্যয়ের পুরোটাই তারা ব্যবহার করবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করে তারা বিশ বছরে মুনাফাসহ বিনিয়োজিত অর্থ তুলে নেবে। বিশ বছর পর্যন্ত উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে তারাই থাকবে। বিশ বছর পর প্ল্যান্ট সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। ঢাকা শহরে দৈনিক সাত হাজার টন ময়লা আবর্জনা জমে। জাইকা ডিসিসিকে একশ’টি ট্রাক দিয়েছে। এগুলো দিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ দৈনিক চার হাজার টন আবর্জনা অপসারণ করা হয়। বাকি তিন হাজার টন থেকে যায়। দুটি প্ল্যান্টের প্রতিটির দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও প্রথম পর্যায়ে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে প্রতিটি প্ল্যান্ট থেকে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। সরকার প্রথম পর্যায়ে মাতুয়াইলে একটি প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে। একটি প্ল্যান্ট স্থাপনে সময় লাগবে আঠার মাস। সরকার চেয়েছিল তার মেয়াদকালেই অন্তত বিশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। কিন্তু তা সম্ভব হচ্ছে না। প্ল্যান্ট দুটো পুরো ক্ষমতায় উৎপাদনে গেলে দৈনিক সাত হাজার টন আবর্জনা লাগবে। এতে বছরে উৎপাদিত নয় লাখ টন জৈব সার ডিসিসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে বিক্রি করবে। এ প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। রাজধানীর পথশিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে মাসিক মজুরির ভিত্তিতে।

No comments:

Post a Comment