Pages

Tuesday, December 11, 2012

বাংলাদেশের রেকর্ডগড়া হার

বাংলাদেশের রেকর্ডগড়া হার

 

 অনেক আশা জাগিয়েও হেরে গেল বাংলাদেশ। এ হার সাধারণ হার নয়। একেবারে রেকর্ডগড়া হার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে আর কখনই কোন দল পরে ব্যাট করে ৯ উইকেট হাতে রেখে হারেনি। সফরের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৯৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তারা ২০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৭৯ রান। হার মানে ১৮ রানে। মনে হলো আগের দিন ওয়ানডে সিরিজ জয় পাওয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেন ক্যারিবীয়দের শেষ ম্যাচে একটি জয় উপহার দিলো। আশ্চর্যজনকভাবে তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ উইকেট আগলে রেখে খেলতে 
গিয়ে রানের গতি একেবারে টেস্ট পর্যায়ে নিয়ে আসেন। ফলে ৯ উইকেট হাতে রেখে হারের লজ্জায় ডুবতে হলো বাংলাদেশকে। রান তাড়া করতে গিয়ে ১ উইকেটে ১৭৯ রান করে কোন দল হারেনি। ওপেনার তামিম ইকবাল ৮৮ আর মাহমুদুল্লাহ ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে দু’জনেরই সর্বোচ্চ রানের স্কোর এটি। তামিমের তৃতীয় ফিফটি হলেও ২১ ম্যাচে মাহমুদুল্লাহর এটি প্রথম। ২৩ ম্যাচে ২ ফিফটি করা তামিমের আগের সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ৬৯ রান। অনেকের মন্তব্য-বিপিএলে নিজেদের দাম বাড়ানোর জন্যই উইকেট হারাতে চাননি এ দু’জন। ১২ ওভারে ১০০ করলেও পরের ৬ ওভারে ওঠে ৪৯ রান।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষেই। জোহানেসবার্গে ১৬৫ রান তাড়া করে ৬ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯৭ রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এর আগে পাকিস্তান ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২০৩ রান করেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেয়া ১৯৮ রানের টার্গেট তাড়া করে জয় পাওয়া ছিল অনেকটাই স্বপ্নের মতো।  কিন্তু ব্যাট করতে  নেমে প্রথম ওভারে ১ ছয় ও ২ চারে ১৭ রান করে বাংলাদেশ তা সহজই মনে করিয়ে দেয়। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল ও এনামুল হক ২৬ বলে ৪৭ রানের ঝড়ো জুটি গড়লে আশান্বিত হন সবাই। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে কেমার রোচের বলে ড্যারেন স্যামির তালুবন্দি হন আনামুল। ৩ চার ও ১ ছয়ে ২২ রান করেন তিনি। এর পর সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর আরেক দফা প্রমোশন। শেষ ওয়ানডেতে ৭ নম্বর ব্যাটিং পজিশন থেকে ৫ নম্বরে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। আর গতকাল নামেন ২ নম্বর পজিশনে।  ৪০ বলে ৭ চারে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি হাঁকান তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত এই দুই ব্যাটসম্যান ১৩২ রানের অপরাজিত দেশ-সেরা জুটি গড়েন। কিন্তু তাদের এই জুটি বাংলাদেকে জয় এনে দিতে পারেনি। মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৪৮ বলে ৬৪ রানে। তামিম ২টি হলেও ৪টি ছক্কা হাঁকান মাহমুদ।
মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে ৪ উইকেটে ১৯৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্যে শেষ ওভারেই তারা সংগ্রহ করে ২৯ রান। প্রথম দুই উইকেট পাওয়া সফল বোলার রুবেল হোসেন শেষ দুই ওভারে দেন ৪৬ রান। তার  শেষ ওভারে পরপর তিনটিসহ ৪টি ছক্কা হাঁকান, চারও মারেন একটি। ১৯ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের সেরা  খেলোয়াড় স্যামুয়েলস ৪৩ বলে ৮৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। অপর অপরাজিত ব্যাটসম্যান লেন্ডন সিমন্স করেন ১২ বলে ১৮। পুরো ইনিংসে ১৪টি ছক্কার মধ্যে ৯টিই আসে স্যামুয়েলসের ব্যাট থেকে। প্রথম ২ ওভারে ১৭ রান দেয়া রুবেল শেষ ২ ওভারে দেন ৪৪ রান। ব্রাভো ৪১ ও পোলার্ড ১৫ রানে আউট হন সোহাগ গাজী ও জিয়াউর রহমানের বলে।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ-ও.ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ
শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, মিরপুর, ঢাকা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস:    রান    বল    ৪    ৬
স্মিথ ব রুবেল    ২৪    ২১    ৩    ১
গেইল ব রুবেল    ৬    ৭    ১    ০
স্যামুয়েলস অপরাজিত    ৮৫    ৪৩    ৩    ৯  
ব্রাভো ক মুশফিক ব সোহাগ    ৪১    ২৮    ৫    ২
পোলার্ড ব জিয়াউর    ১৫    ৯    ০    ২
সিমন্স অপরাজিত    ১৮    ১২    ২    ০
অতিরিক্ত: (লেব ১, ও ৭)    ৮
মোট: (৪ উইকেট; ২০ওভার) ১৯৭
উইকেট পতন: ১-২৫(গেইল, ২.৬ ওভার), ২-৩০(স্মিথ, ৪.৫ ওভার), ৩-৯৬(ব্রাভো, ১১.৫ ওভার), ৪-১২১(পোলার্ড, ১৪.৪ ওভার)।
বোলিং: সোহাগ ৪-০-৪৪-১, শফিউল ৪-০-২৬-০, রুবেল ৪-০-৬৩-২, রাজ্জাক ৩-০-৩২-০, মাহমুদুল্লাহ ১-০-১৫-০, জিয়া ৪-০-১৬-১।
বাংলাদেশ ইনিংস: (টার্গেট ১৯৮, ২০ ওভার)
তামিম অপরাজিত    ৮৮    ৬১    ১০    ২
এনামুল ক স্যামি ব রোচ    ২২    ১২    ৩    ১
মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত    ৬৪    ৪৮    ৩    ৪
অতিরিক্ত: (ব ১, লে ব ২, ও ১, ন ব ১)    ৫
মোট: (১ উইকেট; ২০ ওভার)    ১৭৯
উইকেট পতন: ১-৪৭(এনামুল, ৪.২ ওভার)। বোলিং: স্যামি ২-০-৩০-০, রোচ ৪-০-৩৬-১, রাসেল ১-০-১৭-০, স্যামুয়েলস ৪-০-৩২-০, নারাইন ৩-০-২৭-০, গেইল ৪-০-১৮-০, স্মিথ ২-০-১৬-০।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮ রানে জয়ী।
টস: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ব্যাটিং)
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: স্যামুয়েলস

No comments:

Post a Comment