Pages

Sunday, December 16, 2012

বিকাশের ফোন নিরাপদে আছি

বিকাশের ফোন নিরাপদে আছি


একটি অপরিচিত সিটিসেল নাম্বার থেকে বিকাশের ফোন, নিরাপদে আছি। তবে সীমান্তের কাছাকাছি, অবস্থা বুঝছি, সম্ভবত দেশেই থাকবো। পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে পাড়ি দেবো। শুক্রবার বিকাল ৫টায় বিকাশের ওই ফোনটি
আসে মিরপুর এলাকার তার এক ক্যাডারের কাছে। বিকাশের নিকট আত্মীয় ওই ক্যাডার নিজেও ছিল কাশিমপুর কারাগারের গেটে। বিকাশকে বহনকারী গাড়িটি নিরাপদে চলে গেলে ওই ক্যাডার ফিরে আসে ঢাকায়। বিকাশের জামিনে মুক্তির বিষয়টি বৃহস্পতিবারই জানাজানি হয়েছিল কাশিমপুর কারাগারে। কারাগারের সিপাহিরাও জানতো বিষয়টি, কিন্তু নিষেধ ছিল কারাগারের বাইরে কাউকে জানাতে। এর আগে ঢাকার দায়রা জজ আদালতের সংশ্লিষ্টরা জেনেছিল তার জামিনের বিষয়টি, সেখানেও কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় উপরের নির্দেশে। জেল থেকে মুক্তির জন্য বেছে নেয়া হয় সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবারকে। সময় ঠিক করা হয় সকালে। সকাল ৭টায় জামিনের কাগজপত্র পৌঁছে যায় জেল গেটে। অতি দ্রুত কাগজপত্র ঠিকঠাক করে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে জেলগেট থেকে বেরিয়ে যায় বিকাশ। সূত্রমতে সকাল ৭টার আগেই অফিসে হাজির হয় কারা কর্তৃপক্ষ। একটি সূত্র জানায়, অত সকালে অফিসারদের অফিসে দেখে হতবাক হয়েছিলাম। সাধারণত ওনারা ওই সময়ে অফিসে আসেন না। একাধিক সূত্রে জানা গেছে বিকাশের জামিনের সঙ্গে জড়িত দুই ক্ষমতাধর রাজনীতিক। একজন আদালত থেকে গোপনে জামিনের ব্যবস্থা করেছেন, অন্যজন ম্যানেজ করেছেন পুলিশ সহ কারাকর্তৃপক্ষকে, সহায়তা করেছেন গোপনে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যেতে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে দু’জন জেলগেটের অদূরে অবস্থান করছিলেন। জেল গেটে ছিল দু’টি গাড়ি। দু’টি গাড়ির একটি ছিল পাজেরো, অন্যটি নোয়া মাইক্রোবাস। একটু দূরে ছিল সাদা রঙের দু’টি প্রাইভেট কার। জেল থেকে বেরিয়ে বিকাশ দ্রুত উঠে পড়ে দামি গাড়িটিতে। ওই গাড়িতে তার সঙ্গে ওঠে কালো চশমা পরা এক যুবক। সানগ্লাস পরা যুবক নিজেকে এক মন্ত্রীর ভাগনে বলে পরিচয় দেয়। এক কারারক্ষী জানান, গাড়িগুলো চলে যাওয়ার পর পুলিশ পরিচয়ের দু’জন চলে যায় রিকশায়। বিকাশের অন্য একটি সূত্র জানায়, মুক্তির সময় মিরপুর এলাকার তার ঘনিষ্ঠ লোকজন ও পরিবারের লোকেরাই ছিল, তারাই মন্ত্রীর ভাগনের পরিচয় দিয়েছে। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সমঝোতার পরই বিকাশ মুক্তি পেয়েছে। সে ভারতে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেও আপাতত যাচ্ছে না, তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে গ্রেপ্তার করা হবে না। সে দেশের ভেতরেই থাকবে। বর্তমানে বিকাশের নামে কোন মামলা নেই, সে সব মামলা থেকে জামিন পেয়েছে। তাদের মতে এখন বিকাশের শত্রু মিডিয়া।
বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের উত্থান হয় ’৮৭ সালে কল্যাণপুর পুড়াবাড়ি বস্তিতে চাঁদাবাজির মাধ্যমে। তবে এক বছর পর তাকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয় মুগদা এলাকায়। আবার এক বছর পর ফিরে আসে মিরপুরে। সে সময় বাসা নেয় আগারগাঁও তালতলা এলাকায়। সে সময় এলজিইডি অফিসের টেন্ডার নিয়ে জোড়া খুনের পর আবার চলে যায় মিরপুর এক নম্বর সেকশনের পাইকপাড়া এলাকায়। আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার নিয়ন্ত্রণে যুবলীগের রাজনীতিতে যোগ দেয় বিকাশ ও তার ভাই প্রকাশ। ছাত্রলীগের নেতা জরিপকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের কর্মীদের রোষানলে পড়ে তারা। বর্তমানে আওয়ামী লীগের ওই সময়ের প্রভাবশালী যুবনেতার আশীর্বাদের কারণে ছাত্রলীগ নেতা হত্যার পর তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা যায়নি বলে একটি সুত্র জানায়। বিকাশ জামিনে মুক্তি পাওয়ায় মিরপুর এলাকার সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠলেও বিকাশ-প্রকাশের বিরোধীরা চরম মাত্রায় নাখোশ বলে জানা গেছে।

No comments:

Post a Comment