‘মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন হলে মানুষ শিক্ষা নিতো
নয়াদিল্লির গণধর্ষণ ভিকটিমের বেদনাদায়ক মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এক সময়ের আলোচিত গণধর্ষণ ভিকটিম পাকিস্তানের মুখতারান মাই তার ভুক্তভোগী হিসেবে এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। গালফ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন নৃশংস দুর্ঘটনা বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি। ভারতে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মৃত্যুতে তিনি নির্বাক বলে জানান মুখতারান। তিনি বলেন, নারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ ও নিপীড়নের জন্য সরকার ও আইনি ব্যবস্থা দায়ী। আইন বইতে পরিবর্তন হয় কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ হয় না। অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টিও বাস্তবায়ন করা হয় না। ফলে কেউই শিক্ষা নেয় না। যদি একটি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেয়া হতো তবে মানুষ শিক্ষা নিতো। যদি একশ’ মানুষ জানতো বিষয়টি অপরাধ তবে তারা এমন কাজ করতো না। কেন আমাদের সরকার, বিচার বিভাগ এমনটি করে না। পুলিশ থেকে আদালত, সরকার থেকে পার্লামেন্ট কেউই এ বিষয়ে যথার্থ উদ্যোগ নেয় না। তার মতে, এক সময় নারীরা চুপ করে থাকতো। তারা ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতো না। মুখ খুলতো না। এখন তেমন অবস্থা নেই। নারীরা এগিয়ে এসেছেন। তারা মুখ খুলতে শুরু করছেন। ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছেন। তবে তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। মুখতারান মাই প্রশ্ন তুলে বলেন, কোথায় একজন নারী চারজন সাক্ষী পাবেন। আমি ৭০ সাক্ষী হাজির করেছিলাম। কিন্তু কেন আমাকে তখন ন্যায়বিচার দেয়া হয়নি। আইন যেহেতু ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন করতে পারছে না তাই কিভাবে ধর্ষণ নিপীড়নের মতো সমস্যার সমাধান হবে। তিনি বলেন, কেবল কিছু নারীই পারে এসব সমস্যার সমাধান করতে। আদালত, পুলিশ ও সরকার- সব স্থানে পুরুষের আধিক্য। নারীরা নেই বললেই চলে। এসব স্থানে যদি নারীরা বেশি বেশি থাকতেন তবে নিপীড়ন-নির্যাতন কমে আসতো বলে মনে করেন মুখতারান। ভারতের নৃশংস ওই ঘটনায় ভারতের বিচার ব্যবস্থা ও সরকারের প্রতি তার আহ্বান- মেয়েটি মারা গেলেও তার শোকার্ত পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এতে অন্য অপরাধীরা ভয় পাবে এবং অন্য ভিকটিম নারীরা ন্যায়বিচারের জন্য এগিয়ে আসার সাহস পাবেন। নিজে গণধর্ষণের শিকার হয়ে প্রচণ্ড রকমের কষ্ট ও বেদনা সয়েছিলেন। ফলে দিল্লির মেয়েটির কথা শুনে অনেক রাগ হচ্ছিল বলে জানান তিনি। নিজের ওপর আক্রমণকারীদের প্রাপ্ত সাজার বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন বলে আপিল করেছেন। তবে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী নন বলে শেষ বিচারের দিনে আল্লাহর সাজার অপেক্ষার কথা বলেন মুখতারান।
No comments:
Post a Comment