না'গঞ্জ বগুড়ায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র মিছিল
গতকাল মঙ্গলবার ১৮ দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে বগুড়া শহর ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সশস্ত্র মিছিল করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের সামনেই রামদা, ছুরি ও লাঠি হাতে নিয়ে তারা মহড়া দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। হরতালে ফতুল্লায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও বগুড়ায় হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সংর্ঘষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানো গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় তিন পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে হরতাল চলাকালে সকালের দিকে নারায়ণগঞ্জ শহর ও সিদ্ধিরগঞ্জে পিকেটাররা কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। এ সময় ইটের আঘাতে পথচারী এনামুলসহ অন্তত ৩ জন আহত হন। পুলিশ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ৮ জনকে আটক করেছে। এছাড়া দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে পিকেটিংয়ের ছবি তুলতে গেলে দুইজন সিনিয়র ফটো সাংবাদিককে মারধর করে পুলিশ এবং তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখে। পরে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ করলে অভিযুক্ত এসআইকে ক্লোজ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ একটি হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলে ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। এসময় অনেকের হাতে ধারালো রাম দা, ছুরিসহ বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্র দেখা গেছে। হরতালবিরোধী শ্লোগান দিয়ে মিছিলটি সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়লেও কোন ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হরতালের সমর্থনে শহর বিএনপির নেতাকর্মীরা উকিলপাড়া এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি চাষাঢ়া নূর মসজিদের সামনে এলে পুলিশ মিছিল থেকে শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালসহ ৮ জনকে আটক করে।
অন্যদিকে সকাল পৌনে ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করে। এসময় তারা ইটপাটকেল ছুঁড়ে ৭-৮টি যানবাহন ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে পুলিশ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ও নিউএজের দুই ফটো সাংবাদিক এমরান হোসেন ও সৌরভ লস্করকে পেটানো শুরু করে। পরে তাদের থানায় নিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে শতাধিক সাংবাদিক সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় এবং অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এস আই) মামুনকে ক্লোজ করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্যদিয়ে বগুড়ায় হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সকালে শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া বাজারে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া করে। এসময় হরতাল সমর্থকদের হামলায় ওয়াজেদ ও জাহিদসহ তিন পুলিশ আহত হন। পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দেড় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও অর্ধশতাধিক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে।
অন্যদিকে বেলা ১২টার দিকে শহরের সাতমাথা থেকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি ও চেলাকাঠ হাতে নিয়ে হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলটি ফতেহ আলী মোড়ে পৌঁছলে হরতাল সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় মিছিলকারীরা পিছু হটলে ধাওয়াকারীরা কবি নজরুল ইসলাম সড়কে এসে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। পুলিশ তাদের পিছন থেকে ধাওয়া করলে তারা সামতাথা চত্বরে গিয়ে উপর্যুপুরি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সেখানেও রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে।
অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, ট্রেনে হামলা
হরতাল সমর্থকরা বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের নওদাপাড়ায় পিকেটিং করার সময় রংপুর থেকে বগুড়া অভিমুখী একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলা চালায়। রোগী ও তার স্বজনদের নামিয়ে দিয়ে পিকেটাররা তা ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পিকেটাররা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এসময় পুলিশ তিন শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও অর্ধশতাধিক কাঁদানে গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বগুড়া রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার বেনজুরুল ইসলাম জানান, সকালে শহরের কড়িতলা এলাকায় বোনারপাড়া অভিমুখী একটি ট্রেনের যাত্রীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া সান্তাহার অভিমুখী একটি ট্রেন বগুড়া স্টেশন ছেড়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের তিনমাথা এলাকা অতিক্রম করার সময় পিকেটাররা লাইনের ওপরে আগুন ধরিয়ে দিলে ট্রেনটি বেশকিছু সময় আটকে থাকে। এছাড়া হরতাল চলাকালে শেরপুর ও শাজাহানপুরে বেশ কয়েকটি পত্রিকার গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
No comments:
Post a Comment